আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন : মামলায় যুক্ত হতে চেয়ে দিল্লিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলল জাতিসংঘ

 নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে তুমুল প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে গত প্রায় তিন মাস ধরে
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে তুমুল প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে গত প্রায় তিন মাস ধরে

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি মামলায় ‘আদালতের বন্ধু’ হতে চেয়ে ভারতকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।

ভারত অবশ্য দাবি করছে নাগরিকত্ব আইন পুরোপুরি তাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ এবং জাতিসংঘের ওই সংস্থার কোনও এক্তিয়ার নেই ওই আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার।

কিন্তু ভারতেই বহু বিরোধী রাজনীতিবিদ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি যে কতটা তলানিতে ঠেকেছে কমিশনের এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।

ভারতের আইন বিশেষজ্ঞরাও অনেকেই বলছেন জাতিসংঘের ওই সংস্থার চাওয়াতে কোনও আইনগত বাধা নেই।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন করেছিলেন সাবেক কূটনীতিবিদ ও ঢাকায় ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার দেব মুখার্জি।

 জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে

কিন্তু ‘দেব মুখার্জি ও অন্যান্যরা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’-র সেই মামলায় ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে চেয়ে পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয়।

বর্তমান হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে, যিনি আগে চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জেনিভায় ভারতীয় দূতাবাসকে ইতিমধ্যে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও বর্তমানে ভারতের কংগ্রেস এমপি শশী থারুর কিন্তু এতে এতটুকুও বিস্মিত নন, কারণ তার মতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি কখনওই আগে এতটা খারাপ ছিল না।

তাঁর কথায়, “গত ছমাস ধরে দুনিয়ার সর্বত্র ভারতকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলছে, এমন কী যে সব দেশ ভারতের প্রতি চিরকাল বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল তারাও বিগড়ে যাচ্ছে।”

“উঁচু সরকারি পদে থাকা আমার বিদেশি বন্ধুরা এমনও বলছেন, আমরা ভারতের সঙ্গে মিত্রতাই চাই – কিন্তু আপনাদের সরকারকে দয়া করে বলুন আমাদের সেই কাজটা এত কঠিন করে তুলবেন না।”

ভারতের কংগ্রেস এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর
ভারতের কংগ্রেস এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর

“আর এটা বেশি করে শুনতে পাচ্ছি ইসলামী দেশগুলোর কাছ থেকে।”

“এই পটভূমিতে জাতিসংঘের ওই সংস্থার বিরল পদক্ষেপটা এটাই দেখিয়ে দিচ্ছে যে দুনিয়ার চোখে ভারতের মর্যাদা কোন তলানিতে এসে ঠেকেছে – আর সেটা অতীব দু:খের!”, বলছিলেন মি থারুর।

জাতিসংঘের ওই সংস্থার সিদ্ধান্ত জানার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, নাগরিকত্ব আইন সম্পূর্ণত ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মুখপাত্র রবীশ কুমারের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউএনএইচআরসি-র কোনও এক্তিয়ার বা ‘লোকাস স্ট্যান্ডাই’-ই নেই এই বিষয়ে নাক গলানোর।

হায়দ্রাবাদের নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল-র উপাচার্য ড: ফায়জান মুস্তাফা অবশ্য এই দাবির সঙ্গে মোটেই একমত নন।

 তিনটি প্রতিবেশী দেশের অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান দিয়ে নতুন আইনটি এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার
তিনটি প্রতিবেশী দেশের অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান দিয়ে নতুন আইনটি এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার

তার কথায়, “একটা মানবাধিকারের প্রশ্নে জাতিসংঘের ওই সংস্থার লোকাস স্ট্যান্ডাই কী, এটা বলাটাই আমার মতে চূড়ান্ত হাস্যকর।”

“মনে রাখতে হবে এটা একটা জনস্বার্থ মামলা, এখানে কখনও আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করা হয় না তোমার লোকাস স্ট্যান্ডাই কী?”

“জনস্বার্থ মামলা ব্যাপারটা চালু হওয়ার আগে আদালত পিটিশনার-কে জিজ্ঞেস করতে পারত তোমার কোন অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? কিন্তু জনস্বার্থ মামলায় এখন একমাত্র প্রশ্ন হল, কার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে?”, জানাচ্ছেন ড: মুস্তাফা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ দর্শনা মিত্রও বিবিসিকে বলছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয় যে ইন্টারভেনশন অ্যাপ্লিকেশন বা হস্তক্ষেপের আবেদন করেছে, সেটা করার আইনগত অধিকার তাদের অবশ্যই আছে।

মিস মিত্র বলছিলেন, “অ্যামিকাস কিউরি কথাটার আক্ষরিক অর্থ হল আদালতের বন্ধু। এখন কোর্ট চাইলে এই অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যে কোনও লোক বা সংস্থাকেই নিয়োগ করা যেতে পারে।

 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভবন
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভবন

“হ্যাঁ এটা ঠিকই যে সচরাচর জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কাউকে এনে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করার নজির বিশেষ একটা নেই। কিন্তু তাই বলে এটা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা-ও নেই।”

“অনায়াসে তারা এই ধরনের কোনও আবেদন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে করতে পারেন, সেখানে আইনগতভাবে আপত্তি তোলার কোনও সুযোগ নেই।”

“আর তাদের মূল কাজটা হল আদালত যেভাবে বলবেন, সেভাবে তারা ওই মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হয়তো কোনও প্রতিবেদন বা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট দিলেন, তথ্য জোগালেন।”

“ভারতেও এনআরসি-সংক্রান্ত একটি মামলায় অ্যক্টিভিস্ট হর্ষ মান্দেরকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আসামের ফরেনার্স ডিটেনশন সেন্টারগুলো ঘুরে দেখে পরিস্থিতি রিপোর্ট করার।”

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

“তিনি সরেজমিনে ঘুরে দেখে তা করেওছিলেন, যদিও পরে তাকে ওই ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।”

“এখানেও অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জাতিসংঘের সংস্থাকে গ্রহণ করা হবে কি না, বা হলেও তাদের কী ভূমিকা হবে – সেটার পুরোটাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করছে”, জানাচ্ছেন দর্শনা মিত্র।

জাতিসংঘের সংস্থার পদক্ষেপ ভারতের জনমতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটা ভেবে অবশ্য মূল মামলাকারী দেব মুখার্জি হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলের সিদ্ধান্তে খুব একটা ‘স্বস্তি বোধ’ করছেন না।

কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যে অতীতে কখনও ওঠেনি, গোটা ঘটনায় সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মাহমুদুল ইসলাম মামুন। সবুজ প্রকৃতি গড়ার স্বপ্ন দেখা এ তরুণ কষ্টার্জিত টাকায় গাছ কিনে বিতরণ করে আসছেন দীর্ঘ ৭ বছর ধরে। এছাড়া পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো করে বই পড়ে শোনান। এ জন্য গড়ে তুলেছেন সান্ধ্য পাঠশালা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস কে দোয়েল-

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর গ্রামের সন্তান মামুন। বাবা আজহারুল ইসলাম পঞ্চগড় চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা মাহমুদা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে মামুন ছোট। তিনি রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র জীবন শেষে চাকরি না করে হয়েছেন বই ও গাছের ফেরিওয়ালা। তিনি মনে করেন, উচ্চশিক্ষা নিলেই যে চাকরি করতে হবে, তা নয়। শিক্ষিত মানেই আলোর প্রদীপ। সে আলোর প্রদীপ ছড়াতেই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারের স্কুলপড়ুয়ারা মামুনের কাছে পড়ালেখা শেখে বিনামূল্যে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেখানোর পাশাপাশি সবুজ প্রকৃতি গড়ার পদ্ধতিও শেখান। গাছ উপহার দেন সবাইকে। এ স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মাঝে গাছ বিতরণ করে আসছেন মামুন।

নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামে কয়েক হাজার গাছ লাগান মামুন। এছাড়া ঢাকা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও যখন যে শহরে যান, সে শহরেই গাছ লাগান। বই নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির কাছে গিয়েও সাহিত্যপাঠ আবশ্যক করার অনুরোধ করেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

শুধু গাছপাগলই নন, শিশু কিশোর ও তরুণদের বইও উপহার দেন তিনি। নিজেও লিখেছেন উপন্যাস। ২০১৪ সালে একুশে বইমেলায় জননী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘লাল ফিতায় অমিয়’ নামে একটি উপন্যাস। শিশু-কিশোরদের গল্প, উপন্যাস, রম্য, সায়েন্স ফিকশনসহ নানা রকম বই উপহার দেন।

নিজের টাকায় গাছের চারা ও বই বিতরণ করতে মামুন টাকা পান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, ‘এসব কাজের জন্য আমি বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলেছি। ডিম ও বাচ্চা বিক্রির টাকা দিয়ে গাছের চারা ও বই কিনি। পারিবারিক চা-বাগানেও কাজ করি। আমার এ কাজে উৎসাহ দিতে বাবা-মা সহযোগিতা করেন।’

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও গাছ উপহার দিতে চান মামুন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছেন। ফুল, ফলদ ও বনজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশবরেণ্য সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে গাছের চারা ও বই উপহার দিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াতসহ সামাজিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতেও বই ও গাছের চারা উপহার দিচ্ছেন।

মামুনের এ কাজ সম্পর্কে মা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নিজের কাজের পাশাপাশি মানুষের উপকার করছে সে। পরোপকারী এমন ছেলেকে নিয়ে সত্যিই আমি গর্বিত। টাকা ছাড়া নাকি স্বপ্ন দেখা যায় না। কিন্তু আমার ছেলেটা তেমন টাকা ছাড়াই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে গাছ। গাছের অভাবে ধ্বংসের মুখে পৃথিবী। আর সেটা রোধ করতেই এবার গাছের জরুরি সেবায় চালু হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। বিশ্বে গাছের সংখ্যা বাড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য। তাই সম্প্রতি ‘বিশ্ব জীববৈচিত্র দিবস’ উপলক্ষে ভারতের চেন্নাইয়ে শুরু হয়েছে ‘গাছের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা’!

জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক গাছ উপড়ে যায়। আবার নির্মাণ কাজের জন্য গাছ কেটে ফেলা হয়। অ্যাম্বুলেন্স সেগুলোকে তুলে নিয়ে নতুন করে মাটিতে পোঁতার ব্যবস্থা করে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে উড়িষ্যাসহ দাক্ষিণাত্যের পূর্ব উপকূলে কয়েক লাখ বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলোকে তুলে নিয়ে নতুন কোন জায়গায় লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

সূত্র জানায়, ধারণাটি প্রথম আসে পরিবেশ নেতা আবদুল গনির মাথায়। ভারতের ‘গ্রিন ম্যান অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত গনি এ পর্যন্ত ৪০ লাখ গাছ লাগিয়েছেন। আরও অনেক সামাজিক আন্দোলনে তার নাম সামনে এসেছে বারবার। একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে তিনি এ প্রস্তাব দিলে কাজ শুরু হয়।

আবদুল গনি জানান, উপড়ে যাওয়া গাছ অন্য জায়গায় লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গাছের বীজ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে অ্যাম্বুলেন্সটি। শহরের মানুষের মধ্যে গাছ লাগানো বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। কোন গাছ মারা গেলে অংশগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবে। অ্যাম্বুলেন্সেই থাকবে দক্ষ মালি ও গাছকর্মীরা। তাদের সঙ্গে থাকবে বাগান করার বিভিন্ন জিনিসপত্র, সার, পানি, ঝারি, খুরপি ইত্যাদি।

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

এ কাজে সহায়তা দেওয়া বেসরকারি সংস্থা সাগার কর্মকর্তা সুরেশকুমার যাদব বলেন, ‘কোন গাছ যাতে প্রাকৃতিক বা মানুষের কারণে মরে না যায়। তাই সেগুলোকে রক্ষা করার এ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য যন্ত্রপাতি বা ওষুধপত্র যা দরকার, সে সবই আমরা রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের হেল্পলাইনে ফোন করামাত্র আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছে যাব। বিনামূল্যে গাছটিকে সরিয়ে আনব। যত্ন করে তাদের সরিয়ে অন্যত্র বসাব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইরান

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

মুসলিম উম্মাহর স্মৃতি বিজড়িত স্থান ইরাকের নাজাফ ও কারবালা। কারবালায় শাহাদাত বরণ করেন ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু। প্রত্যেক বছর ইরাকের নাজাফ থেকে কারবালার পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন অনেক শিয়া-সুন্নি মুসলমান ও দর্শনার্থীরা। নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথ আরামে ভ্রমণ করার জন্য রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানোর ব্যয় বহুল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মোহাম্মাদী দরবার।

পাকিস্তানের করাচিতে বসবাসরত সাবেক শিল্পপতি ব্যবসায়ী মোহাম্মদী দরবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইমাম হুসাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহির স্মৃতির স্মরণে অনেক শিয়া-সুন্নি মুসলমান নাজাফ থেকে কারবালার পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

তিনি জানান, ‘আমার স্ত্রী ও নাতনি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথের এ যাত্রায় অংশগ্রহণ করে। যাত্রাপথে মরুভূমি উষ্ণ বায়ু ও রোদের তাপে তাদের মখু ঝলসে যায়। তাদের দেখেই বুঝতে পারি যে এ পথে যে বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কতটা উষ্ণ।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী গাছ লাগানো ব্যবস্থা করবো।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

কেননা এ পথে প্রত্যেক বছর লাখ লাখ শিয়া-সুন্নি জিয়ারতকারী নাজাফ থেকে কারাবালায় পায়ে হেঁটে যায়। দীর্ঘ এ পথের দুই পাশে তেমন কোনো ছায়াদানকারী গাছ নেই বললেই চলে।

তার আত্মীয়-স্বজনকে দেখেই তার এ বিষয়টি নজরে আসে। তা থেকেই তিনি দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথে ছায়াদানকারী গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যাতে অন্ততঃ দর্শনার্থীদের গরমের কষ্ট দূর হয়।

নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি ইরাক সফর করেন। ইতিমধ্যে তিনি এ অঞ্চলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ লাগানোর অনুমতিও পেয়েছেন।

ব্যবসায়ী মোহাম্মাদি দরবার এ দীর্ঘ পথে শুধু গাছ লাগিয়ে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করবেন না, বরং তা রক্ষণাবেক্ষণেরও দায়িত্ব নেবেন তিনি। যাতে গাছগুলো বেঁচে থাকে।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

ইতিমধ্যে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে নাজাফে কিছু চারা রোপন করেছেন এবং এগুলোর পরিচর্যাও গ্রহণ করেছেন। নাজাফের বাগানে ও রাস্তার পাশে চারাগুলো সুন্দরভাবেই বেড়ে ওঠছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রথম চালানে ৮ প্রজাতির ৯ হাজার ৮০০ চারা পাঠানো হয়। এসব চারা গাছের কোনো কোনোটির বয় প্রায় ৮ মাস। ইরাকের অভ্যন্তরীন চলমান পরিস্থিতির জন্য গাছের প্রথম চালান পাঠাতে প্রায় একমাস দেরি হয়।

উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের করাচি থেকে এসব চারা ইরান হয়ে সড়ক পথে ইরাক নেয়া হবে। পুরো শীতকাল ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি নার্সারিতে রাখা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে চারা রোপনের কাজ। গাছের চারাগুলোর সঙ্গে ১২ জনের একটি প্রশিক্ষিত কর্মীদলও পাঠানো হয়েছে ইরাকে। যারা চারা গাছগুলো দেখাশোনা করবে।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে চারা গাছ রোপনে প্রায় ৩ বছর সময় লাগবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপী বা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হবে।

তবে এ প্রকল্প গ্রহণকারী ৮৫ বছরের ব্যবসায়ী মোহাম্মাদি দরবার জানান, ‘রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী গাছের সুন্দর দৃশ্য আমি দেখে যেতে পারবো কিনা তা অনিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা তাকে এ বিশাল কাজ হাতে নেয়ার সৌভাগ্য দান করায় তিনি আল্লাহ পাকের লাখো শোকরিয়া আদায় করেন।’

তিনি আরও জানান, ‘ প্রকৃতি ও মানুষের উপকারে গাছ লাগানোর মহতি কাজে নিজেকে শামিল করার চেয়ে ভালো কাজ আর কি হতে পারে!’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শ্রীমঙ্গলে ধরা পড়ল ‘বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’

কাঠবিড়ালির অনেক জাত-উপজাতের মধ্যে দুর্লভ এবং বিপন্ন প্রজাতির একটি জাত ‘বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’। এরা এক লাফে ২০০ ফুট দূরত্বে যেতে পারে। বিরল এই প্রাণীর একটি বাচ্চাকে অসুস্থ অবস্থায় বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে এটিকে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, বিপন্ন ও বিরল এই প্রাণীকে কেউ কেউ ‘উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি’ কেউবা ‘উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’ বলে থাকেন। এদের দেহ মাথাসহ দৈর্ঘ্য ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। কান তুলনামূলকভাবে বড়, চ্যাপ্টা লেজ, দেহের পার্শ্বে কালচে-বাদামি এবং নিচের অংশ সাদা। লেজ ধূসর থেকে ধূসর বাদামি, লেজের গোড়া ফ্যাকাশে, আগা গাঢ় রঙের। পা গাঢ় বাদামি।

উড়ন্ত কাঠবিড়ালি সম্পর্কে বন্যপ্রাণী সেবক ও সংরক্ষক তানিয়া খান জাগো নিউজকে জানান, গাছে এদের বসবাস। গাছে খায় গাছেই ঘুমায়। দিনের বেলা চলাচল করে না, এরা নিশাচর। মাটিতে তেমন নামে না। গাছের ফল, বিভিন্ন গাছের আঠালো রস, শিকড়, কুঁড়ি, পাতা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া, কুরমা বনবিটে এদের দেখা যায়। বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এক গাছ থেকে অন্য গাছে ১৫০ থেকে ২০০ ফুট দূরত্বে লাফাতে পারে। এর ইংরেজি নাম ‘Particolored Flying Squirrel’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ‘Hylopetes alboniger’।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, কাজল হাজরা নামের এক যুবকক গত ১৪ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে দুধ, পানি, ফল খাইয়ে কয়েক দিন রেখে কিছুটা সুস্থ করে আজ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে দিয়েছে। সুস্থ হলেই প্রাণীটি অবমুক্ত করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

লোকালয়ে অজগর

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সদর ইউনিয়নের ইছবপুরের লোকালয় থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইছবপুর এলাকার আফতাব মিয়ার বাড়ি থেকে ওই অজগরটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অজগরটিকে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, অনেকদিন ধরে এই অজগরটি আফতাব মিয়ার বাড়িতে এসে তার বাড়িতে থাকা মুরগীগুলো খেয়ে ফেলতো। একইভাবে মঙ্গলবার সকালে মুরগী খাওয়ার জন্য সাপটি আসলে বাড়ির লোকেরা অজগর সাপটিকে দেখে, মেরে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য লাঠি দিয়ে তার শরীরে আঘাত করতে থাকে। লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে অজগরটি মাটিতে পড়ে থাকে। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনের লোকেরা অজগরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, অজগরটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এটিকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাণিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা এটিকে লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দিয়ে আসবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com