আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন : মামলায় যুক্ত হতে চেয়ে দিল্লিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলল জাতিসংঘ

 নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে তুমুল প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে গত প্রায় তিন মাস ধরে
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে তুমুল প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে গত প্রায় তিন মাস ধরে

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি মামলায় ‘আদালতের বন্ধু’ হতে চেয়ে ভারতকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।

ভারত অবশ্য দাবি করছে নাগরিকত্ব আইন পুরোপুরি তাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ এবং জাতিসংঘের ওই সংস্থার কোনও এক্তিয়ার নেই ওই আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার।

কিন্তু ভারতেই বহু বিরোধী রাজনীতিবিদ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি যে কতটা তলানিতে ঠেকেছে কমিশনের এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।

ভারতের আইন বিশেষজ্ঞরাও অনেকেই বলছেন জাতিসংঘের ওই সংস্থার চাওয়াতে কোনও আইনগত বাধা নেই।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন করেছিলেন সাবেক কূটনীতিবিদ ও ঢাকায় ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার দেব মুখার্জি।

 জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে

কিন্তু ‘দেব মুখার্জি ও অন্যান্যরা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’-র সেই মামলায় ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে চেয়ে পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয়।

বর্তমান হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে, যিনি আগে চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জেনিভায় ভারতীয় দূতাবাসকে ইতিমধ্যে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও বর্তমানে ভারতের কংগ্রেস এমপি শশী থারুর কিন্তু এতে এতটুকুও বিস্মিত নন, কারণ তার মতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি কখনওই আগে এতটা খারাপ ছিল না।

তাঁর কথায়, “গত ছমাস ধরে দুনিয়ার সর্বত্র ভারতকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলছে, এমন কী যে সব দেশ ভারতের প্রতি চিরকাল বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল তারাও বিগড়ে যাচ্ছে।”

“উঁচু সরকারি পদে থাকা আমার বিদেশি বন্ধুরা এমনও বলছেন, আমরা ভারতের সঙ্গে মিত্রতাই চাই – কিন্তু আপনাদের সরকারকে দয়া করে বলুন আমাদের সেই কাজটা এত কঠিন করে তুলবেন না।”

ভারতের কংগ্রেস এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর
ভারতের কংগ্রেস এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর

“আর এটা বেশি করে শুনতে পাচ্ছি ইসলামী দেশগুলোর কাছ থেকে।”

“এই পটভূমিতে জাতিসংঘের ওই সংস্থার বিরল পদক্ষেপটা এটাই দেখিয়ে দিচ্ছে যে দুনিয়ার চোখে ভারতের মর্যাদা কোন তলানিতে এসে ঠেকেছে – আর সেটা অতীব দু:খের!”, বলছিলেন মি থারুর।

জাতিসংঘের ওই সংস্থার সিদ্ধান্ত জানার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, নাগরিকত্ব আইন সম্পূর্ণত ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মুখপাত্র রবীশ কুমারের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউএনএইচআরসি-র কোনও এক্তিয়ার বা ‘লোকাস স্ট্যান্ডাই’-ই নেই এই বিষয়ে নাক গলানোর।

হায়দ্রাবাদের নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল-র উপাচার্য ড: ফায়জান মুস্তাফা অবশ্য এই দাবির সঙ্গে মোটেই একমত নন।

 তিনটি প্রতিবেশী দেশের অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান দিয়ে নতুন আইনটি এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার
তিনটি প্রতিবেশী দেশের অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান দিয়ে নতুন আইনটি এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার

তার কথায়, “একটা মানবাধিকারের প্রশ্নে জাতিসংঘের ওই সংস্থার লোকাস স্ট্যান্ডাই কী, এটা বলাটাই আমার মতে চূড়ান্ত হাস্যকর।”

“মনে রাখতে হবে এটা একটা জনস্বার্থ মামলা, এখানে কখনও আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করা হয় না তোমার লোকাস স্ট্যান্ডাই কী?”

“জনস্বার্থ মামলা ব্যাপারটা চালু হওয়ার আগে আদালত পিটিশনার-কে জিজ্ঞেস করতে পারত তোমার কোন অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? কিন্তু জনস্বার্থ মামলায় এখন একমাত্র প্রশ্ন হল, কার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে?”, জানাচ্ছেন ড: মুস্তাফা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ দর্শনা মিত্রও বিবিসিকে বলছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয় যে ইন্টারভেনশন অ্যাপ্লিকেশন বা হস্তক্ষেপের আবেদন করেছে, সেটা করার আইনগত অধিকার তাদের অবশ্যই আছে।

মিস মিত্র বলছিলেন, “অ্যামিকাস কিউরি কথাটার আক্ষরিক অর্থ হল আদালতের বন্ধু। এখন কোর্ট চাইলে এই অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যে কোনও লোক বা সংস্থাকেই নিয়োগ করা যেতে পারে।

 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভবন
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভবন

“হ্যাঁ এটা ঠিকই যে সচরাচর জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কাউকে এনে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করার নজির বিশেষ একটা নেই। কিন্তু তাই বলে এটা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা-ও নেই।”

“অনায়াসে তারা এই ধরনের কোনও আবেদন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে করতে পারেন, সেখানে আইনগতভাবে আপত্তি তোলার কোনও সুযোগ নেই।”

“আর তাদের মূল কাজটা হল আদালত যেভাবে বলবেন, সেভাবে তারা ওই মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হয়তো কোনও প্রতিবেদন বা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট দিলেন, তথ্য জোগালেন।”

“ভারতেও এনআরসি-সংক্রান্ত একটি মামলায় অ্যক্টিভিস্ট হর্ষ মান্দেরকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আসামের ফরেনার্স ডিটেনশন সেন্টারগুলো ঘুরে দেখে পরিস্থিতি রিপোর্ট করার।”

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

“তিনি সরেজমিনে ঘুরে দেখে তা করেওছিলেন, যদিও পরে তাকে ওই ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।”

“এখানেও অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জাতিসংঘের সংস্থাকে গ্রহণ করা হবে কি না, বা হলেও তাদের কী ভূমিকা হবে – সেটার পুরোটাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করছে”, জানাচ্ছেন দর্শনা মিত্র।

জাতিসংঘের সংস্থার পদক্ষেপ ভারতের জনমতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটা ভেবে অবশ্য মূল মামলাকারী দেব মুখার্জি হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলের সিদ্ধান্তে খুব একটা ‘স্বস্তি বোধ’ করছেন না।

কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যে অতীতে কখনও ওঠেনি, গোটা ঘটনায় সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

স্লো স্মার্টফোন ফাস্ট করার উপায়

দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম সঙ্গী স্মার্টফোন। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মতো এই যন্ত্রও স্লো হয়ে পড়ে। করোনার মহামারিতে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের ব্যবহার উল্লেখজনক হারে বেড়েছে। এর ফলে অনেকেই এই যন্ত্র স্লো বা হ্যাং হয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়েছেন। তবে চাইলেই আপনারা এর সমাধান করতে পারে। সেজন্য প্রয়োজন কিছু কাজ। যা সম্পর্কে আজ আপনাদের জানাবো-

সিস্টেম আপডেট

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার প্রধান কারণ অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট না থাকাটা। একে সংক্ষেপে ওএস বলা হয়। এটি আপডেট রাখা স্মার্টফোনের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ কোম্পানিগুলো ওএসের আপডেটের মাধ্যমে সিস্টেমে থাকা ত্রুটি ও বিচ্যুতিগুলো দূর করে থাকে। সে কারণে ওএস আপডেট না থাকলে স্মার্টফোন স্লো হয়ে পড়ে। তাই স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট রাখার চেষ্টা করুন।

অ্যাপস আপডেট রাখা

স্মার্টফোনের গতি স্লো হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ব্যবহৃত অ্যাপস আপডেট না রাখা। যেকোনো অ্যাপস আপডেট করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেই অ্যাপস সম্মতি চায়। ব্যবহারকারীকে কেবল অ্যাপটি আপডেটের জন্য সম্মতি দিতে হবে। এতে স্মার্টফোনকে স্লো হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট

যদি অতিরিক্ত স্লো হয়ে যায় তাহলে স্মার্টফোনটি ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট করে নিতে হবে। তবে অ্যান্ড্রইড মোবাইলে ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট করতে চাইলে সব ডাটার ব্যাকআপ রেখে দেয়া উচিত। কারণ এই রিসেট করার পর স্মার্টফোনে পুরনো কোনো তথ্য থাকে না। ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট হয়ে গেলে নতুন করে সবকিছু সেট আপ করে নিতে হবে।

মেমোরি স্টোরেজ ফুল

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার আরেকটি ও অন্যতম বড় কারণ মেমোরি স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া। ছবি, ভিডিও, গান, মেসেজ বা কনট্যাক্ট মেমোরি ফুল হয়ে গেলে স্মার্টফোন অস্বাভাবিকভাবে স্লো হয়ে পড়ে। তাই কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস স্মার্টফোনে রাখা ঠিক নয়। তাই অপ্রয়োজনীয় এমন কোনো ছবি বা ভিডিও স্মার্টফোনে থাকে তবে সেসব ছবি বা ভিডিও ডিলিট করে দিন।

ক্যাশে ক্লিয়ার করুন

অনেকেই বিষয়টি জানেন না। স্মার্টফোনের ক্যাশে ডেটা ক্লিয়ার না করা স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ। এসব ফাইল ক্লিয়ার করে স্মার্টফোনের গতি আরও দ্রুত করা সম্ভব। ক্যাশে ক্লিয়ার করার জন্য- সেটিংস > স্টোরেজ > ক্যাশে-তে যেতে হবে। এরপর ক্যাশে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস রাখবেন না

স্মার্টফোনে যদি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস রাখা হয় তাহলে সেটি স্লো হয়ে যায়। অদরকারী অ্যাপস ডাউনলোড করলে স্মার্টফোন বারবার হ্যাং হতে থাকে। এতে কাজের সময়ে বিব্রত হতে হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস স্মার্টফোন ডিভাইসে না রাখাই ভালো। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অ্যাপ রাখলে স্মার্টফোনের গতিশীলতা নষ্ট হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

ইন্টারনেটের অপব্যবহার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে এখন প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ইন্টারনেটের সুবিধা পেয়ে আসছে। আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করার লক্ষ্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকার তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার পৌঁছে দিচ্ছে। জনগণও খুব দ্রুত ও সহজভাবে এর সুবিধা পাচ্ছে। এর সুফলের মাধ্যমে স্বচ্ছতাও সৃষ্টি হচ্ছে অনেকখানি। এটার কারণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইমো, ইউটিউব, জিমেইল, মেসেঞ্জার—এ সংক্রান্ত অনেক কিছুর সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি। আমাদের প্রয়োজনেই তা আবিষ্কারের উৎস।

প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ আজ বিংশ শতাব্দীতে পেয়েছে এত সব উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা। তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া একটি দিন অতিবাহিত করা অসম্ভব। সব ইন্টারনেটের আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে করেছে অগ্রসর। আমাদের জীবনকে করেছে সহজ। খুব সহজেই ঘরে বসে ব্যবসায়-বাণিজ্য, কেনাকাটা, ভ্রমণে টিকিট প্রাপ্তি, পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া, করোনা মহামারিতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাওয়া; তাছাড়া বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য সম্বন্ধে অবগত হতে পারছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পালন করছে অনেক অনেক ভূমিকা। প্রতিটি আবিষ্কারের ভালো ও খারাপ দিক আছে। বর্তমানে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু এর অপব্যবহারের কারণে দ্রুত ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ। পিতামাতার উত্সাহ বা অবহেলার কারণে শিশুরা খুব কম বয়সে বিভিন্ন গেমে আসক্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে প্রযুক্তির অপব্যবহারকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকেরা। তারা এটাও বলছেন, করোনাকালে ডিভাইস-নির্ভরতা, পারিবারিক বন্ধন কমে যাওয়া এবং সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ববোধের অভাব বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক অপরাধ। সংকট থেকে উত্তরণে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অনেকটা দায়ী।

পুলিশের সাইবার অপরাধ ডিভিশন, অর্থাৎ সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি সাইবার মামলা হয়েছে। ২৫০টি মামলার তদন্ত চলছে। বিচারাধীন আছে ৪০০ মামলা। অপরাধ তদন্তের জন্য একমাত্র সিআইডি সাইবার অপরাধ ল্যাব আছে। অপরাধ তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু অপরাধ তো থেমে নেই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ করোনার মধ্যে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ বছর প্রথম ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী। এর মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার ৭৬২ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ২০৮ জন নারী। তাছাড়া কিশোর গ্যাং তো সাইবারের সৃষ্টি। রিফাত হত্যাকাণ্ড, নয়ন বন্ড এর ফসল। নারীর চরিত্র হনন, ধর্ষণের দৃশ্য নেটে ছেড়ে দিয়ে নারীকে আত্মহত্যার পথে ধাবিত করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদিতা সাইবারের মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে। শিশুরা অল্প বয়সে চোখের সমস্যায় ভুগছে, মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খেলাধুলা না করার কারণে শিশুরা অল্প বয়সে মুটিয়ে যাচ্ছে।

দেশের তরুণ সমাজ সাহিত্যচর্চার দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন আর বাসে বা ট্রেনে উঠলে দেখা যায় না কাউকে পত্রিকা বা ম্যাগাজিন পড়তে। সবাই যেন স্মার্ট ফোন নাড়াচাড়া নিয়ে ব্যস্ত। সমাজ ও অপরাধ গবেষকেরা বলেছেন, সংস্কৃতিচর্চার অভাব, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, করোনাকালে ডিভাইস ও ইন্টারনেটের ব্যবহার আর প্রযুক্তিতে সরকারের যথেষ্ট নজরদারির অভাব বাড়িয়েছে ধর্ষণ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শৈশব থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপের প্রতি বাড়ছে আসক্তি নতুন প্রজন্মের। পরবর্তী সময়ে তারাই সহিংস হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে রাষ্ট্রকে রাখতে হবে মূল ভূমিকা।

নেগেটিভ সাইটগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রযুক্তিকে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস (গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রযুক্তির পিঠে সওয়ার করে দেশ এগিয়ে যাবে’। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ববোধের পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সজাগ থাকতে হবে। তাহলে প্রযুক্তি হবে আগামী প্রজন্মের আশীর্বাদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

মুরগি বিদায় নেবে, ডিম থাকবে

ঘোড়ার ডিম খুঁজে পেলেও পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিম চেনে না বা খায়নি—এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ আছে। মানুষের প্রিয় খাদ্যের তালিকায় ডিমের স্থান ওপরের দিকে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, ডিম হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর উন্নত মানের আমিষজাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস। মানুষ এই গ্রহে পা রাখার পরপরই ডিম নামক উপাদেয় খাদ্যের সঙ্গে পরিচিত।

এশিয়ার প্রথম ডিমের বিকল্প প্রস্তুত এবং বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইভো ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধা বানশালী ও কার্তিক দীক্ষিত
এশিয়ার প্রথম ডিমের বিকল্প প্রস্তুত এবং বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইভো ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধা বানশালী ও কার্তিক দীক্ষিত

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৮ সালে পুরো পৃথিবীর ৭৬৩ কোটি মানুষে মিলে সাবাড় করেছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টন ডিম। সে হিসাবে আমাদের রসনা মেটাতে বছরে লেগেছে মাথাপিছু ১৬১টি ডিম। আজও ডিমের জনপ্রিয়তা মোটেই কমেনি, বরং দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ১০ বছরে বিশ্বজুড়ে ডিমের চাহিদা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে এ বিপুল পরিমাণ ডিমের প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ কোটি মুরগি। এ বিস্ময়কর এক পক্ষী, জীবিত আমিষের ফ্যাক্টরি, সংখ্যায় মোটেই কম নয়।

১৯৮৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৫০০ কোটি। অথচ মাত্র ৩৩ বছরের মাথায় আজকের পৃথিবীতে ডিমখেকো মানুষের সংখ্যা ৭৮০ কোটি। প্রতিদিন যে হারে মানুষ মারা যায়, তার চেয়ে জন্মের হার বেশি বলেই পৃথিবীতে প্রতিদিন ২ লাখ ২০ হাজার নতুন মুখ যোগ হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে এমন দ্বিপদী মানুষের সংখ্যা এক হাজার কোটির ঘরে পৌঁছে যাবে। তখন বাড়তি মানুষের জন্য খাদ্য এবং সুপেয় পানির সংকট আরও বেশি প্রকট হবে। ডিমের চাহিদা তেমনি অনেক বেড়ে যাবে।

 জিরো এগের ডিমের বার্গার
জিরো এগের ডিমের বার্গার

এদিকে হাজার হাজার কোটির সুবিশাল মুরগির বহর পোষার জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্য, পানি এবং জমির প্রয়োজন। আর একটি মুরগি যে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে, তার মাত্র ৩ শতাংশ শুধু ডিমের আমিষ তৈরিতে কাজে আসে। বাকিটুকু ডিমের অন্যান্য উপাদান এবং মুরগি নিজের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয়, বিপাকীয় কাজে খরচ করে। আর নির্দিষ্ট একটা সময় (৬০/৬৫ সপ্তাহ) ডিম পাড়ার পর সেসব মুরগি মানুষের খাবার উপযোগী থাকে না এবং এই বিপুল পরিমাণ মুরগি বর্জ্যে পরিণত হয়। পরিবেশের জন্য এটি খুবই ক্ষতিকর। আর সে কারণেই খাদ্যপ্রযুক্তিবিদেরা ডিমের বিকল্প খুঁজছেন।
বিশেষ করে খাবার মেনুতে ডিম আগে, নাকি মুরগি আগে—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে না গিয়ে সবাই এক বাক্যে ডিমের পক্ষেই যুক্তি দেখাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, মুরগি না হলেও চলবে, তবে ডিম চাই। কারণ কেক, রুটি, বিস্কুট, স্প্যাগেটি ইত্যাদি হাজার রকমের রকমারি খাবারের কোনটিতে ডিম নেই? তাই মুরগি না থাকলেও অসুবিধা নেই, কিন্তু ডিমবিহীন পৃথিবী কল্পনাই করা যায় না।বিজ্ঞাপন

ডিমের বাড়তি চাহিদা ও জনপ্রিয়তার কথা ভেবেই খাদ্যপ্রযুক্তিবিদেরা ইতিমধ্যে ডিমের বিকল্প উদ্ভাবনে মনোযোগী হয়েছেন। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিম নিয়ে বাজারে হাজির হয়েছে। তাদের ডিম ১. শতভাগ উদ্ভিজ্জ, ২. স্বাদে–গন্ধে আপসহীন আর ৩.খারাপ কোলেস্টেরল এবং অ্যালার্জেনমুক্ত।

জাস্ট এগ ডিমের উদ্ভিজ্জ বিকল্প
জাস্ট এগ ডিমের উদ্ভিজ্জ বিকল্প 

পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ ডিম প্রস্তুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্ট এগ বেছে নিয়েছে মুগ ডাল এবং জিরো এগ ব্যবহার করছে সয়া, আলু, ছোলা এবং হলুদ মটর প্রোটিন। এদিকে ভারতের ইভো ফুডস মসুর ডালে প্রস্তুত ডিমে ঝুড়ি সাজাচ্ছে। পুরো এশিয়ায় এই প্রথম। যুক্তরাজ্যের ওগের পছন্দ চানা ডাল। ফ্রান্সের ইউমগো আলুর সঙ্গে বাবলা নির্যাস মিশিয়ে স্বাদে, গন্ধে, গুণে ডিমের বিকল্প বাজারজাত করছে। ফ্রান্সের একটি স্টার্টআপ মেরভ্যাইওফ তাদের ডিম অ্যালার্জেনমুক্ত পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ বলে দাবি করছে। ভোক্তা ও ক্রেতার সুবিধার কথা চিন্তা করে, আস্ত ডিম, সুদৃশ্য মোড়ক বা বোতলে ডিমের গুঁড়া কিংবা তরল—সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আস্ত ডিমের খোসা পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি।

এদিকে জৈবপ্রযুক্তিবিদেরা ইতিমধ্যে যেমন আণুবীক্ষণিক অণুজীব এককোষী ইস্ট থেকে চকলেট, সুগন্ধি, দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি জিনতত্ত্ব প্রকৌশল প্রয়োগ করে ডিমের সাদা অংশ উৎপাদনে অনেকখানি এগিয়ে আছেন।

ফ্রান্সের ইউমগো বিকল্প ডিম প্রস্তুত এবং বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান
ফ্রান্সের ইউমগো বিকল্প ডিম প্রস্তুত এবং বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান

মুরগি ছাড়া এসব ডিম সময়সাশ্রয়ী ও সস্তা। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক মুরগির জন্য পানি, খাদ্য, জমি জোগান, মাত্রাতিরিক্ত বর্জ্য উৎপাদন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহার পরিবেশদূষণ এবং স্বাস্থ্য–বিপত্তির কারণ। সে কারণেই প্রায় ১০ হাজার বছর পর এই প্রথমবারের মতো অচিরেই মানুষের হাত থেকে মুরগিরা মুক্তি পেতে যাচ্ছে এবং সেদিন আর বেশি দূরে নয় যে তারা মনের আনন্দে বনে-জঙ্গলে ফিরে যাবে। আর স্বাদে, গন্ধে, পুষ্টিতে অতুলনীয় ডিম চমৎকার বিকল্প আমিষ এবং নিরামিষভোজী উভয়ের জন্য হবে এক উপাদেয় খাদ্য। বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে মুরগি বিদায় নেবে, ডিম থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসায়েও লাগবে ট্রেড লাইসেন্স

ট্রেড লাইসেন্স ফি দিতে হবে ১১০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এর বাইরে ভ্যাট, সাইনবোর্ড ট্যাক্স, ফিজিক্যাল ভিজিট ট্যাক্সসহ প্রায় চার হাজার টাকার মতো খরচ হবে

অনলাইনে ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধ ও ক্রেতাদের আস্থা তৈরি জন্য “ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১” শীর্ষক একটি খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফেসবুকে ব্যবসা করতে গেলেও ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে। একই সঙ্গে রয়েছে পণ্যের অর্ডার থেকে শুরু করে গ্রাহকের হাত অবধি পৌঁছাতে বিভিন্ন নিয়মকানুন যা ভোক্তার স্বার্থকে সংরক্ষণ করে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। আগামী মাসেই এ বিষয়ক একটি নির্দেশনা জারি হতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান।  

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ই-ক্যাবের ১৩০০ সদস্য ছাড়াও আরও ৫ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র ই-কমার্স ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন। এসব ব্যবসায়ীদের প্রত্যেক্যের তথ্যপ্রাপ্তি, ভ্যাট নিবন্ধন, কর আদায়ের পাশাপাশি ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।  

যেহেতু ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে এখনও ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু শুরু হয়নি তাই ফেসবুকভিত্তিক পাঁচ লাখ ই-কমার্স ট্রেড লাইসেন্স নিতে হলে তাদের আইটি বা সফটওয়্যার ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এ জন্য ফি দিতে হবে ১১০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তবে এলাকা ও ব্যবসার ধরনভেদে ট্রেড লাইসেন্স ফি ভিন্ন হতে পারে। 

এর বাইরে ভ্যাট, সাইনবোর্ড ট্যাক্স, ফিজিক্যাল ভিজিট ট্যাক্সসহ প্রায় চার হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এতে সরকারের আয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া, প্রতিবছর ট্রেড লাইসেন্স আবার নবায়ন করতে হবে। 

নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি ম্যানের কাছে, সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে একই শহরে এবং ১০ দিনের মধ্যে ভিন্ন শহরে বা গ্রামে পণ্য ডেলিভারি করতে হবে। অন্যথায় ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা অন্য যে কোন আদালতে মামলা করতে পারবেন।

এই নির্দেশিকার বিধান প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে কর্তৃপক্ষ বিক্রেতা বা মার্কেটপ্লেসের ট্রেড লাইসেন্স বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করা এবং সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেস নিষিদ্ধ করাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ দেশে প্রচলিত সংশ্লিষ্ট সব আইন এই নির্দেশিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। নতুন এই সেক্টরকে এখনই কঠোর নীতিমালার বেড়াজালে আটকে দিলে এর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

করোনা ভাইরাসের টিকা: ‘রমজানে রোজা থাকলেও টিকা নিতে বাধা নেই’

সলামী শিক্ষাবিদ এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বলছে, রমজানের সময়ে রোজা থাকলেও মুসলমানদের টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত হবে না।

বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনও গত ১৪ই মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে দেশের জ্যেষ্ঠ আলেমদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের পর জানিয়েছে, রোজা রেখে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে কোন সমস্যা নেই।

”আলোচনায় উপস্থিত আলেম সমাজ একমত পোষণ করেছেন যে, যেহেতু করোনাভাইরাসের টিকা মাংসপেশিতে গ্রহণ করা হয় এবং তা সরাসরি খাদ্যনালী বা পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না, সেহেতু রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি দিনের বেলায় শরীরে টিকা গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হবে না,” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রমজানের সময় দিনের বেলায় মুসলমানরা খাবার ও পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

ইসলামিক শিক্ষায় বলা হয়, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শরীরের ভেতরে কিছু প্রবেশ করানো থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিত।

কিন্তু লিডসের একজন ইমাম, কারী আসিম বলছেন, টিকা যেহেতু পেশীতে দেয়া হয়, রক্তের শিরায় যায় না, এটি পুষ্টিকর কিছু নয়, সুতরাং টিকা নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

”ইসলামী চিন্তাবিদদের বেশিরভাগের দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে, রমজানের সময় টিকা নেয়া হলে সেটা রোজা ভঙ্গ হয় না, ” বিবিসিকে বলছেন মি. আসিম, যিনি যুক্তরাজ্যের মসজিদ এবং ইমামদের জাতীয় উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

মুসলমান কম্যুনিটির জন্য তাঁর বার্তা হলো: ”আপনি যদি টিকা নেয়ার উপযুক্ত হন এবং টিকা নেয়ার আমন্ত্রণ পান, তাহলে আপনার নিজেকেই জিজ্ঞেস করতে হবে, আপনি কি টিকা নেবেন যা এর মধ্যেই কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে, নাকি কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেবেন, যা আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে এবং যার ফলে হয়তো পুরো রমজানই হারাতে পারে, হয়তো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকারও হতে পারে।”

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য সেবা নটিংহ্যাম এবং ব্রাইটনের মতো অনেক কেন্দ্র তাদের কার্যক্রমের সময় বাড়িয়েছে, যাতে মুসলমানরা তাদের রোজা ভঙ্গের পর সেখানে টিকা নিতে আসতে পারেন।

. শেহলা ইমতিয়াজ-উমর
ছবির ক্যাপশান,রমজানে নিরাপদ থাকার জন্য টিকা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ড. শেহলা ইমতিয়াজ-উমর

তবে পূর্ব লন্ডনের সার্জারি প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ড. ফারজানা হুসেইন বলছেন, দিনের বেলায় টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকার আসলে কোন প্রয়োজন নেই।

”আমরা জানি, রমজানের সময় কোভিডের টিকা নেয়া নিয়ে অনেক মুসলমানের মধ্যে সংশয় রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, এই সময় ইনজেকশন নিলে তাদের রোজা ভেঙ্গে যাবে,” তিনি বলছেন, ”কিন্তু এটা একেবারেই তা নয়, কারণ এর মাধ্যমে আসলে শরীরে কোন খাবার প্রবেশ করছে না।”

তিনি বলেন, ”কোরানে বলা আছে, তোমার জীবন রক্ষা করা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ‘একটা জীবন বাঁচানো মানে হলো পুরো মানব জগতকে বাঁচানো।’ সুতরাং একজন মুসলমান হিসাবে টিকা নেয়া একটা দায়িত্ব।”

যুক্তরাজ্যের মুসলমানদের মধ্যে টিকা নেয়ার হার বৃদ্ধি করার জন্য অনেক মসজিদেও টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ইপসোস মোরির একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে টিকা গ্রহণের হার জানুয়ারি যা ছিল ৭৭ শতাংশ, মার্চ নাগাদ তা বেড়ে হয়েছে ৯২ শতাংশ।

আগামী বুধবার থেকে রমজান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যখন মসজিদে একত্রে নামাজ পড়া, অথবা একত্রে ইফতার করার চল রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে যদিও সম্প্রদায়গত প্রার্থনায় কোন বাধা নেই, তবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করার বিষয়টি সবাইকে মেনে চলতে হবে এবং কোন একটি ঘরে একাধিক বাসার লোকজনের মেলামেশায় নিষেধ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইসলামিক মেডিকেল এসোসিয়েশন রমজানের সময় মসজিদগুলোর জন্য একটা নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে তারা তারাবীহ নামাজ সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ার পরামর্শ দিয়েছে, সেই সঙ্গে যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছে। তারা বলছে, ইমামদের অবশ্যই সঠিকভাবে ডাবল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

ডার্বির একজন চিকিৎসক এবং এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ড. শেহলা ইমতিয়াজ-উমর বিবিসিকে বলেছেন, ”কোভিড মহামারির কারণে আমাদের কম্যুনিটির ভেতর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখেছি। সুতরাং আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এবারের রমজানে যেন কোনভাবেই মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

”দুঃখজনক ব্যাপার হলো, গত বছর আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকের ক্ষতি হয়েছে, এবারও হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি টিকা গ্রহণ করতে থাকি এবং নিজেদের সুরক্ষার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করি, আমরা এই রমজানে কিছু স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করতে পারবো।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com