আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কেন ভারতীয়রা এখনও যৌথ পরিবারে বাস করে

ভারতে যৌথ পরিবার এখনও অত্যন্ত শক্ত
ভারতে যৌথ পরিবার এখনও অত্যন্ত শক্ত

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ভিএস নাইপল লিখেছিলেন, ভারতীয় একেকটি পরিবার যেন একেকটি গোত্র যা তার সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়, পরিচিতি দেয় এবং “সমাজে অপ্রাসঙ্গিক, বাতিল হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে।“

সেই পরিবার কাঠামোতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। অন্তত সাম্প্রতিক গবেষণা তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

অনেক পর্যবেক্ষক এবং গবেষক ভাবতেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ, শিক্ষার বিস্তার, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পরিণতিতে ভারতের যৌথ পরিবার ধীরে হলেও ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।

কিন্তু ভারতীয় পরিবার কাঠামোর ওপর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বাস্তবে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নগরায়ণ পরিবার কাঠামোতে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

গবেষণাটি করেছেন মার্কিন জনতত্ববিদ এবং কর্নেল বিশ্বদ্যিালয়ের গবেষক ড. এটিয়েন ব্রেটন।

মি ব্রেটন বলছেন, যা ধারণা করা হয়েছিল বাস্তবে ভারতের তা হয়নি। ভারতে এক দম্পতি বা এক সদস্যের পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে খুব সামান্যই।

একই সাথে দেখা যাচ্ছে যে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভারতে পরিবারের গড় আকার যা ছিল এখনও তা তেমন বদলায়নি। বিয়ে একটি অবধারিত ঘটনা, বিবাহ বিচ্ছেদের হার খুবই কম, এবং বিয়ে না করা বা সন্তান না হওয়ায় এক বা দুই সদস্যের পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য।

বরঞ্চ যৌথ পরিবার এখনও ভারতে খুবই শক্তিশালী, এবং সেদেশের জনসংখ্যার যে বাস্তবতা তার পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ পরিবারই এখনও মানুষের রক্ষাকবচ।

বয়স্ক বাবা-মায়েরা অনেক সময় নাতি-নাতনিদের দেখভাল করার জন্য সন্তানদের সাথে থাকেন
বয়স্ক বাবা-মায়েরা অনেক সময় নাতি-নাতনিদের দেখভাল করার জন্য সন্তানদের সাথে থাকেন

“পরিবার কাঠামোর পরিবর্তনকে ভারত শক্তভাবে চ্যালেঞ্জ করে চলেছে,“ বিবিসিকে বলেন ড. ব্রেটন। তার সাম্প্রতিক গবেষণায় তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন কেন এখনও কেন বিশাল সংখ্যায় বাবা-মায়েরা বিবাহিত ছেলের সাথে থাকেন।

ভারতে বিবাহিত নারীরা যৌথ পরিবার ভেঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কম ভূমিকা রাখে, যদিও অনেক সময় তাদের স্বামীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কিছু প্রভাব হয়ত থাকে।

বাবার মৃত্যুর আগেই ছেলে পরিবার থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা বসবাস করছে, এমন উদাহরণ এখনও ভারতের সমাজে বিরল। যদিও বা কেউ কেউ তা করে, তারপরও বাবা বা মায়ের কেউ একজন মারা গেলে বাকি একজনের দায়িত্ব ঐ ছেলের ঘাড়ে এসে পড়ে।

ভারতের জাতীয় নমুনা সমীক্ষা (এনএসএস) থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্ব বয়সী মানুষের ৫০ শতাংশেরও বেশি বিবাহিত, এবং ৪৫ শতাংশ বিধবা বা বিপত্নীক। এবং এই বিধবা বা বিপত্নীক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশই তাদের কোনো না কোনো সন্তানের সাথে বসবাস করে।

পক্ষান্তরে, বয়স্ক দম্পতিদের মাত্র ৪০ শতাংশ হয় নিজেরা না হয় অবিবাহিত সন্তানদের সাথে থাকেন। সন্তানদের ছাড়াই থাকার এই সংখ্যা গত ২৫ বছরে মাত্র ছয় শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

ড. ব্রেটন বলছেন, “এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে ভারতে নিউক্লিয়ার পরিবার অর্থাৎ একক বা এক দম্পতির পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে খুবই কম।“

কেন ছেলেরা বাবা-মায়ের সাথে থেকে যায়

কেন ভারতে তরুণ-যুবকরা এখনও তাদের বাবা-মায়ের সাথে থেকে যায়- তার অন্যতম কারণ মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি। ১৯৮০ সালের তুলনায় ২০২০ সালের ভারতে একজন ৩০ বছরের যুবক তার বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজনের সাথে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। কারণ তার বাবা-মায়েরা এখন বেশিদিন বেঁচে থাকছে।

আরেকটি প্রধান কারণ- ভারতে নগরায়ণের শ্লথ গতি। এখনও ভারতের জনসংখ্যার মাত্র ৩৫ শতাংশ নগরে বাস করে, যেখানে চীনে সেই সংখ্যা এখন ৬০ শতাংশ। যদিও অনেক গবেষক মনে করেন, ভারতে জনগণনার সময় অনেক নগর অঞ্চলকে ভুল করে গ্রাম হিসাবে দেখানো হয়, তারপরও বড় শহরগুলোতেও যে এক ব্যক্তি বা এক দম্পতির পরিবার খুব যে বেড়েছে তার প্রমাণ নেই।

লন্ডনে কিংস কলেজের সমাজবিজ্ঞানী অ্যালিস ইভান্স বলেন, ভারতে এখনও সিংহভাগ মানুষের যৌথ পরিবারে বসবাস করার পেছন পারিবারিক ব্যবসা এবং চাকরি বা পেশায় নারীদের অপেক্ষাকৃত কম অংশগ্রহণ বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি মনে করেন, এসব কারণে পরোক্ষভাবে পরিবারের মধ্যে শক্ত বন্ধন তৈরি হয়।

ভারতে ধনী-শিক্ষিতদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষরাই একক পরিবারে বেশি থাকে
ভারতে ধনী-শিক্ষিতদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষরাই একক পরিবারে বেশি থাকে

সেই সাথে যোগ হয়েছে জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধি যার পরিণতিতে বহু মানুষ বাধ্য হয়েই যৌথ পরিবারে আটকে থাকে।

তবে ভারতীয় পরিবারই যে একবারেই ব্যতিক্রমী তা নয়।

ড. ইভান্স বলেন ১৯০০ সালে চীন, জাপান, কোরিয়া এবং তাইওয়ানেও একই চিত্র ছিল। ঐ সব দেশেও যৌথ পরিবারের বাইরে বসবাস একসময় খুবই বিরল ঘটনা ছিল।

“পূর্ব এশিয়ায় পরিবারে শক্ত বন্ধন একসময় ভারতের মত একইরকম ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দী ধরে পরিবারের বাইরে কর্মসংস্থান, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন এবং নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ার পরে ঐ সব দেশে যৌথ পরিবার আলগা হয়ে গেছে,“ বিবিসিকে বলেন ড, ইভান্স।

পূর্ব এশিয়া কেন বদলে গেল

তবে এখনও পূর্ব এশিয়ার ছেলে-মেয়েরা বৃদ্ধ বাবা-মাকে সাহায্য করে, কিন্তু “সেটা মূলত টাকা-পয়সা দিয়ে, একসাথে বসবাস করে নয়।“

নারীদের কর্মসংস্থান যে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে পড়ার প্রধান একটি নিয়ামক, পূর্ব এশিয়া তার প্রমাণ।জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান এবং চীনে গত এক শতাব্দী ধরে নারীরা ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় ঘরের বাইরে কাজ করতে যাচ্ছে, ফলে নারী-পুরুষ দুজনেই আয় করায় যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে থাকার আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ টেনে ড. ইভান্স বলেন, সেদেশে বিশাল বিশাল কোম্পানি যখন গড়ে উঠতে শুরু করে, তখন থেকে বহু শ্রমিক একসাথে কারখানায় কাজ করছে, তারা একসাথে ডরমিটরিতে থাকছে, কাজের জায়গায় অধিকারের জন্য একসাথে আন্দোলন করছে। “ফলে তাদের মধ্যে শ্রেণী সচেতনতা জন্ম নিয়েছে এবং পরিবারের বাইরে তারা অন্যদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পরেছে।“

দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যত বেড়েছে, তাদের সন্তান ধারণের সংখ্যা কমেছে। এর ফলে, বাইরে গিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করার সুবিধাও বেড়েছে।

কেন দক্ষিণ এশিয়া তেমন বদলায়নি

কিন্তু, ড. ইভান্স বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সে ধরণের পরিবর্তন তেমন হয়নি।

নগরায়ণ বা শিক্ষার প্রসার ভারতের যৌথ পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি
নগরায়ণ বা শিক্ষার প্রসার ভারতের যৌথ পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি

“দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের প্রতি বঞ্চনার কারণে তাদের কর্মসংস্থান তেমনি হয়নি। গ্রামাঞ্চলে বাইরে কাজ করা বন্ধ করলে নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা বাড়ে, যেটা পশ্চিম ইউরোপ শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে দেখা যেত। তাছাড়া. গ্রামে নারীরা কাজ করতে ইচ্ছুক হলেও, কৃষিখাতের যান্ত্রিকী-করণে তাদের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে।“

নারীদের কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ-যুবক দম্পতিদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও কম।ড. ইভান্স বলেন, “নারীরা যদি কাজ করতে বাইরে না যায়, তাদের নেটওয়ার্ক যদি না বাড়ে, বৃহত্তর পরিবারের ভেতরেই জীবন কাটিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকেনা।“

তবে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মত একই হাল যেসব দেশে সেখানেও পরিবার কাঠামোর চরিত্র কম-বেশি একইরকম।সম্প্রতি ১৫টি উন্নয়নশীল দেশের জন-গণনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্টিভেন রাগলস্‌ এবং মিসটি হেগেনিস নামে দুজন গবেষক দেখেছেন, ঐ সব দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষজন যৌথ পরিবারে বসবাস করছে, এবং এই কাঠামোতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

তবে অনেক গবেষক দাবি করেন, ভারতে পরিবার কাঠামোর জটিলতা খুব সহজে বিশ্লেষণ করা যাবেনা।

সমাজবিজ্ঞানী ড তুলসি প্যাটেল, যিনি ভারতের পরিবার কাঠামো নিয়ে অনেক লেখালেখি করেন, বলেন ভারতে একক পরিবারকে সংজ্ঞায়িত করাও অনেক সময় জটিল একটি বিষয়।

“বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা তাদের নাতি-নাতনিদের সঙ্গ দিতে এবং তাদের দেখা-শোনা করতে এক ছেলের বাড়ি থেকে আরেক ছেলের বাড়িতে যায়। ছেলেরা যখন বিদেশে চলে যায়, তখন তারা মেয়ের বাড়িতেও থাকে। ফলে যৌথ পরিবারের কাঠামোও অদল-বদল ঘটতে থাকে। এমন সব পরিবর্তনশীল পারিবারিক কাঠামোকে আপনি কীভাবে একটি ছাঁচে ফেলবেন?” বিবিসিকে বলেন ড. প্যাটেল।

ধনী-শিক্ষিতরাই যৌথ পরিবার ছাড়েনা

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ভারতে গরীবদের চেয়ে ধনীরাই তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি যৌথ পরিবারে থাকে।ডঃ ব্রেটন তার গবেষণায় দেখেছেন, ভারতে ২০০০ সাল থেকে ৩০ এর কোটায় বয়স এমন বিবাহিত যুবকরা যারা যৌথ পরিবারে থাকে তাদের অধিকাংশই কলেজ ডিগ্রিধারী এবং চাকুরীজীবী।

লেখাপড়া না জানা দরিদ্র কৃষক বা শ্রমজীবীরা সেই তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় একক পরিবারে থাকে।গরীবদের মধ্যে যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকার অন্যতম কারণ তাদের বাবা-মায়ের এমন কোনা সম্পত্তি থাকেনা যা দিয়ে তারা ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

গরীব পরিবারের আয়তন বাড়ার সাথে সাথে অল্প জমিতে ভাগীদার বাড়ে, ফলে পরিবারে অভাব বাড়তে থাকে। এ কারণে, গরীব পরিবারের সন্তানদের মধ্যে যৌথ পরিবারে থাকার আকর্ষণ কম।

ডঃ ব্রেটন বলেন, ভারতে বহু দরিদ্র নিরক্ষর শ্রমজীবীরা বৃদ্ধ বয়সে একা থাকেন। বিশেষ করে কৃষকদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক বেশি। “এতেই প্রমাণিত হয় যে ভারতের আধুনিক, শহুরে এবং বিত্ত-শীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলেনি।“

তবে ভারতের পরিবার কাঠামো যে একেবারেই স্থবির হয়ে আছে তা বলা যাবেনা।ধীরে হলেও সমাজে নারীদের ক্ষমতা বাড়ছে। দেখা-শোনা করে বিয়ে হলেও, সঙ্গী নির্বাচনে নারীরা তাদের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। তাছাড়া, যেসব বয়স্ক বাবা-মা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল, তারা বিবাহিত সন্তানদের সাথে থাকতে চাইছেন না।

এছাড়া, ভারতে পরিবারে সন্তান সংখ্যা কমছে। অনেক পরিবারে একটি ছেলে বা কোনো ছেলেই এখন নেই। ড. ব্রেটন মনে করেন, কম ছেলে সন্তান এবং ছেলে সন্তান বিহীন পরিবারের মধ্যে যৌথ পরিবার গঠনের আগ্রহ কমবে।

গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে হয়ত বাবা-মায়েরা বৃদ্ধ বয়সে ছেলের সাথে না থেকে নানা সাহায্যের জন্য তাদের বিবাহিতা মেয়েদের দ্বারস্থ হবেন।

তবে ড, ব্রেটন মনে করেন ভারতে শিক্ষিত এবং সম্পন্ন মানুষদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবীরাই পরিবার কাঠামো পরিবর্তনের চালিকা শক্তি হবে।

  • নগরায়ণ বা শিক্ষার প্রসার ভারতের যৌথ পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি

    নগরায়ণ বা শিক্ষার প্রসার ভারতের যৌথ পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি

  • ভারতে ধনী-শিক্ষিতদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষরাই একক পরিবারে বেশি থাকে

    ভারতে ধনী-শিক্ষিতদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষরাই একক পরিবারে বেশি থাকে

  • বয়স্ক বাবা-মায়েরা অনেক সময় নাতি-নাতনিদের দেখভাল করার জন্য সন্তানদের সাথে থাকেন

    বয়স্ক বাবা-মায়েরা অনেক সময় নাতি-নাতনিদের দেখভাল করার জন্য সন্তানদের সাথে থাকেন

  • ভারতে যৌথ পরিবার এখনও অত্যন্ত শক্ত

    ভারতে যৌথ পরিবার এখনও অত্যন্ত শক্ত

  • নগরায়ণ বা শিক্ষার প্রসার ভারতের যৌথ পরিবার কাঠামোতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি
  • ভারতে ধনী-শিক্ষিতদের চেয়ে নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষরাই একক পরিবারে বেশি থাকে
  • বয়স্ক বাবা-মায়েরা অনেক সময় নাতি-নাতনিদের দেখভাল করার জন্য সন্তানদের সাথে থাকেন
  • ভারতে যৌথ পরিবার এখনও অত্যন্ত শক্ত
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

চট্টগ্রামের পিঠা

শীতের পিঠার মজাই আলাদা। অঞ্চলভিত্তিক কিছু পিঠা আছে, যেগুলোর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সে এলাকার বাইরেও। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু রেসিপি দিয়েছেন

মধু ভাত

উপকরণ: পোলাওয়ের চাল দেড় কাপ, বিন্নি চাল আধা কাপ, নারকেল ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক স্বাদমতো, গুঁড়া দুধ সিকি কাপ, জালা চালের গুঁড়া এক কাপ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি: চাল ধুয়ে ১০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এদিকে চুলায় একটি পাত্রে ৬ কাপ পানি ও ২ চা-চামচ লবণ দিয়ে ফোটাতে থাকুন। পানি ফুটে উঠলে এতে চাল (পানি ঝরিয়ে নিতে হবে) দিয়ে দিন। চুলায় মাঝারি আঁচে নরম করে ভাত রান্না করুন। ভাত যাতে হাঁড়ির গায়ে না লেগে যায়, সে জন্য কিছুক্ষণ পরপর কাঠি দিয়ে নেড়ে দিন। ভাতটা আঠালো হয়ে এলে চুলার আঁচটা আরও কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন। এবার ঢাকনা সরিয়ে ভাতটুকু নেড়ে নিন। ১০ মিনিট পর ভাতের পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে অল্প অল্প করে জালা চালের গুঁড়া ছিটিয়ে ঘুঁটনি দিয়ে ভালো করে ঘুঁটে নিন। ভাতের ওপর আধা কাপ জালা চালের গুঁড়া সুন্দর করে চেপে ঢেকে দিন। এবার ভাতের পাত্রটিকে ঘরের মধ্যে গরম কোনো জায়গায় মোটা কাপড় দিয়ে ১২ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। ১২ ঘণ্টা পর দেখুন ভাতের ওপরটা ফেটে গেছে কি না। ফেটে থাকলে পুরো ভাত বাটিতে ঢেলে নিন। এবার পরিবেশনের আগে নারকেল, গুঁড়া দুধসহ সবকিছু চামচ দিয়ে মিশিয়ে ভাতের ওপর ছিটিয়ে দিন। অনেকে এই মধু ভাত পাতলা করে খায়।

বিন্নি চালের পিঠা

উপকরণ: বিরুই চাল (বিন্নি) ১ কেজি, নারকেল ২ কাপ, চিনি আধা কাপ, পানি ৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

‌প্রণালি: প্রথমে ১ কেজি চাল নিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখব ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। এরপর উঠিয়ে ঝাঁজরিতে পানি ঝরিয়ে কাগজের ওপর চালগুলো ছড়িয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। এবার গ্রাইন্ডারে গুঁড়া করে নিন। চালের গুঁড়ার সঙ্গে পানি ও লবণ মিশিয়ে মেখে নিন। মুঠো করা যাবে, এমন অবস্থায় মিশ্রণটি আনতে হবে। যদি মুঠ হয়, তাহলে বুঝতে হবে পিঠার জন্য গুঁড়া তৈরি। ‌এবার চুলায় তাওয়া বসিয়ে গরম করে নিন। প্রথমে হাতের সাহায্যে গুঁড়া গোল করে তাওয়ার ওপর ছড়িয়ে দিন। চিনি, নারকেলকুচি দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ঢাকনা খুলে ২ ভাঁজ অথবা ৩ ভাঁজ করলে হয়ে যাবে বিন্নি চালের পিঠা। গুঁড়ার সঙ্গে রং মিশিয়ে চেলে নিয়ে রঙিন বিন্নি পিঠা বানাতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ভাসমান বীজতলা

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ধানের চারা উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ভাসমান বীজতলা তৈরির খবরটি সত্যিই আশাজাগানিয়া একটি খবর। বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের অনেক এলাকায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। অনেক জায়গাজমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ কারণে কৃষকেরা ধানের চারার বীজতলা তৈরি করা নিয়ে সংকটে পড়েন। চারার অভাবে সময়মতো ধানের আবাদ করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। এ বছর যাতে সে ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। এতে করে ধান উৎপাদন নিয়ে তাঁদের আর সমস্যায় পড়তে হবে না।

ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের ব্যয় বলতে গেলে নেই। মূলত কচুরিপানাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি ভেলার ওপর মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। ধানের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর এই ভাসমান বীজতলায় ছিটিয়ে দিতে হয়। সেখানে জমিতে রোপণের উপযোগী চারা উৎপাদন হতে ২০ থেকে ২৫ দিন লাগে। পরে চারাগুলো জমিতে রোপণ করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ একটি দেশ। প্রায় প্রতিবছরই এখানে বন্যা হয়। তখন বন্যার কারণে অনেক এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া ঝড়, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতেও বহু বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে যথাসময়ে ফসল উৎপাদনে বিলম্ব হয়। দেখা দেয় ফসলের ঘাটতি। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাসমান বীজতলা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি।

১০ মিটারের একটি ভাসমান বীজতলায় এক কেজি অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো সম্ভব। এ থেকে উৎপাদিত চারা এক বিঘা জমিতে রোপণ করা সম্ভব। পানির ওপর ভেসে থাকার কারণে এই বীজতলায় পানি সেচেরও দরকার হয় না। দেশের অনেক জেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে ধানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বীজতলায় ধানের চারা উৎপাদন ছাড়াও পেঁপে, লাউ, কুমড়া, বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন সবজির চারাও উৎপাদন সম্ভব। দেশের অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলায় সবজির চারা উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন।

ভাসমান বীজতলা ছাড়াও আরেক ধরনের বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদিত হচ্ছে, যাকে বলে ডাগোপ বীজতলা। বাড়ির উঠান, পাকা বারান্দা বা যেকোনো শুকনো জায়গায় চারদিকে মাটি, কাঠ, ইট, কলাগাছের বাকল দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সময়মতো ফসল উৎপাদনের জন্য সারা দেশে এসব বীজতলা কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

গদখালীতে ফুল আর সবজি চাষে নতুন মাত্রা

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী
• এলাকায় ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে
• পদ্ধতিতে ফুল–সবজি উৎপাদনে খরচ কম
• ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়

সৌরশক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে পাতকুয়া থেকে তোলা হচ্ছে পানি। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সেই পানি চলে যাচ্ছে ট্যাংকে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে আসছে সোজা ফুল ও সবজিখেতে। পথে পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার। ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে সারমিশ্রিত পানি।

‘ড্রিপ ইরিগেশন’ নামের এই সেচপদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে। ফুল ও সবজিচাষিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী এবং এর আশপাশের এলাকায় এই পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগ এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল ও সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে ড্রিপ ইরিগেশন কর্মসূচি’।

চাষিরা জানান, এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি উৎপাদনে খরচ অনেক কম। কীটনাশকের কোনো ব্যবহার নেই। পানি আর্সেনিকমুক্ত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও সার পায়। এতে ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

যশোর সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকা। গদখালী এবং এর আশপাশের গ্রামের একরের পর একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশি–বিদেশি নানা জাতের ফুল। এসব ফুল সারা দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

বিএডিসি সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাসে। কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে পানিসরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। কর্মসূচির আওতায় খনন করা হয়েছে সৌরচালিত ডাগ ওয়েল (পাতকূয়া), নির্মাণ করা হয়েছে পলিহাউস ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। পানিসারা গ্রামের ৩০ জন ফুল ও সবজিচাষি কোনো রকম সেচ খরচ ছাড়াই সেখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ৫৫ বিঘা জমিতে বিষমুক্ত ফুল ও সবজি চাষ করছেন। কৃষকেরা সুফল পাওয়ায় উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, শিমুলিয়া ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আরও ১৫টি সৌরশক্তিচালিত ডাগ ওয়েল ও ড্রিপ ইরিগেশন এবং সাতটি পলিহাউস (পলিথিন দিয়ে তৈরি শেড) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪৫০ জন ফুল ও সবজিচাষি সুফল পাবেন।

সরেজমিনে পানিসারা গ্রামে দেখা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় এক বিঘা জমির ওপর সাদা পলিথিন দিয়ে লোহার কাঠামোর ওপর ১০০৮ বর্গফুটের একটি পলিহাউস। তার সামনে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২২ ফুট প্রস্থ এবং ৭ ফুট গভীর একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। কিছুটা দূরে ১৪২ ফুট গভীর একটি পাতকূয়া। পাতকূয়ার ৭৫ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে পাম্প। ওপরে তৈরি করা হয়েছে গোলাকৃতির টিন দিয়ে সোলার প্যানেল। তার ওপর ৩ হাজার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক। সৌরশক্তির মাধ্যমে ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাম্প চালানোর পর ১০ মিনিটের মধ্যে ট্যাংক পানিতে পূর্ণ হচ্ছে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে যাচ্ছে পলিহাউস এবং আশপাশের ৫৫ বিঘা জমির ফুল ও সবজিখেতে। সরবরাহ লাইনের মধ্যে চাষি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। ফোঁটায় ফোঁটায় সারমিশ্রিত পানি গিয়ে পড়ছে ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায়। ১৮টি ফসেট (টিপকল) দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পলিহাউসের মধ্যে চাষ করা হচ্ছে জারবেরা ও গোলাপ ফুল এবং তরমুজ ও স্কোয়াশ। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

২০ বছর ধরে ফুলের চাষ করছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি ১৬ বিঘা জমিতে পালাক্রমে সারা বছর ফুল ও সবজির চাষ করছেন। তিনি বলেন, সৌরচালিত পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগারের কারণে কোনো সেচ খরচ নেই। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসের তাপমাত্রা এবং ফসেট দিয়ে পানির ফোঁটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই। কীটনাশক লাগে না। এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি চাষ লাভজনক।

ফুলচাষি আবদুল হক ঢালী বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ঝাও এবং পাতাবাহারের চারা তৈরি করছি। বিনা মূল্যে আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছি। এতে খুব সুবিধা হচ্ছে।’

ফুলচাষি আবদুল হামিদ গাজী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা এবং গ্লডিওলাস ফুলের চাষ করছি। এই পদ্ধতিতে কোনো সেচ খরচ নেই। গাছে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যায়। ফলনও খুব ভালো।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, এই কর্মসূচিতে চাষি উপকৃত হচ্ছেন। ফুল ও সবজি চাষে খরচ এবং ঝুঁকি কমছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ জন চাষি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে গদখালী এলাকার আরও ৪২০ জন ফুল ও সবজিচাষি এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজির চাষ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পেয়ারার পর এবার মাল্টায় মার

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জামদহ গ্রামের কৃষক মেরাজুল ইসলামকে (৫৫) তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। ১৫ কাঠা জমিতে তিনি ৭০টি গাছ লাগিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একটি গাছও নেই। বাগানের জমিতে কপি চাষ করা হয়েছে। মেরাজুলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম বললেন, এক বছর পর গাছগুলোতে ফল এসেছিল। কিন্তু পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরে যেতে লাগল। আরও ক্ষতির আশঙ্কায় তাঁর বাবা বাগান ভেঙে দিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাল্টার বিশেষ যত্ন নিতে হয়। আমগাছের মতো মাটিতে পুঁতে দিলেই ফল ধরে না। যাঁরা সেই যত্ন নিচ্ছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে। রাজশাহীর বাজারে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে এই মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। খুব বেশি মিষ্টি না হলেও টক নয়। বাজারে এর বেশ চাহিদা আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মেরাজুলের মতো জেলার ৩০০ চাষিকে প্রদর্শনী খেত করার জন্য ২০১৭ সালে বারি মাল্টা-১ জাতের চারা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কারও বাগানের গাছ আছে, কারও বাগানে নেই। তবে আরও ভয়ের ব্যাপার, ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় চাষিরা ঝাঁপিয়ে পড়েন এই মাল্টা চাষে। জেলায় বর্তমানে প্রায় এক হাজার চাষি মাল্টা চাষ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেননি, কারও সর্বনাশের শুরু, আর কারও সর্বনাশ হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে একসময় ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ দিয়ে ধান চাষ করা হতো। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যেতে থাকে। যে পরিমাণ পানি তোলা হয়, বৃষ্টিপাত সেই পরিমাণ না হওয়ার কারণে পানির স্তর আর আগের জায়গায় ওঠে না। এ জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শস্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়। পানি কম লাগে এমন ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। শুরু হয় নতুন জাতের ফসল চাষের আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় টমেটো, আপেলকুল, বাউকুল, পেয়ারা, পাম, কমলা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম, রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভোকাডো, কফি, বিচিবিহীন কুল, বলসুন্দরী কুল, বিচিবিহীন লেবু, চায়না লেবু ও মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। এর আগে শুরু হওয়া কুল চাষ থেমে গেছে। তিন–চার বছরের মাথায় মড়কে গাছ মরে যাওয়ায় পেয়ারাবাগান কমে এসেছে। ভালো বাজার না পেয়ে প্রতিবছর টমেটো রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা যায়। ২০১৭ সালে নকল বীজে প্রতারিত হয়ে বীজ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে আজও ক্ষতিপূরণ পাননি টমেটোচাষিরা। বাণিজ্যিকভাবে বাজার না পাওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ বন্ধের পথে। অন্য ফলগুলো নিয়ে চাষিরা অস্বস্তির মধ্যে আছেন। আর এবার মাল্টা চাষে মার খেয়েছেন চাষিরা।

রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় মাল্টার বাগান করেছেন অভিজিৎ গুহ (৫২)। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরের কেদুর মোড় এলাকায়। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। ইউটিউব দেখে তিনি মাল্টা চাষে উৎসাহিত হন। তিনি আরও কয়েকজন অংশীদার নিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল ও তানোরের চান্দুড়িয়া এলাকায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাল্টাবাগান করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১ বছর ৮ মাস। এই পর্যায়ে এসে তিনি দেখছেন তাঁর বাগানের ২৫ শতাংশ গাছের পাতা হুলুদ হয়ে যাচ্ছে। হলুদ পাতার গাছটি কিছুদিন পরেই মারা যাচ্ছে। মাল্টা চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মাল্টাবাগান দেখতে ছুটে বেড়ান। তাঁর তথ্যমতে, শুধু চুয়াডাঙ্গার একটি বাগানের গাছ সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। অভিজিৎ বলেন, তিনি ফল গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে গেছেন, যে যা পরামর্শ দিয়েছেন, তাই করে দেখেছেন। কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজশাহীর পবা উপজেলার রনহাট এলাকার চাষি নূরুজ্জামানকে কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। দেড় বিঘা জমিতে তিনি ১৯৪টি গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১৪০টি গাছই রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে গাছের ডাল মরে যাচ্ছে। আক্রান্ত গাছের ফলগুলো আকারে ছোট হয়ে আসছে। কয়েক দিন আগে তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ৫০টি গাছ মোটামুটি সুস্থ আছে। নূরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে যে ৫৫টি চারা দিয়েছিল, সেগুলোই আগে আক্রান্ত হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল এলাকার চাষি মঞ্জুর রহমান ১২ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাগান ভালো আছে। ৫ শতাংশ গাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ গাছের পাতাই হলুদ হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোদাগাড়ীর কমলাপুর এলাকায় সারিকুল নামের একজন চাষি তাঁর মাল্টাবাগান পুড়িয়ে দিয়েছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পাতা হলুদ হওয়ার পরেও চিকিৎসা আছে। তাঁরা চাষিদের সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। যাঁরা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামছুল হক বলেন, মাল্টাগাছের পাতা হলুদ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত। বিষয়টি তিনি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, সেখানেও এই রোগ দেখা দিয়েছে। মাল্টা ধান, পাট আমের মতো নয়। বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তা ছাড়া হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সবুজ পাহাড়ে কমলা

বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ের কমলা বাজারে আসতে শুরু করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এই কমলা। খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের কমলা ১ কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা নিয়ে এবারের ছবির গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com