আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ভবিষ্যৎ শহরগুলোতে শব্দ দূষণ ঠেকাতে কিভাবে লড়াই করবেন স্থপতিরা?

মারাত্মক শব্দ দূষণের শিকার বিশ্বের দশটি বড় শহরের একটি কায়রো-ভবিষ্যতের জন্য কিভাবে ভবন নির্মাণ করবেন
মারাত্মক শব্দ দূষণের শিকার বিশ্বের দশটি বড় শহরের একটি কায়রো-ভবিষ্যতের জন্য কিভাবে ভবন নির্মাণ করবেন

যখনই শহুরে পরিবেশ এবং দূষণ নিয়ে আপনি ভাবেন, তখন কি সাথে সাথে শব্দ দূষণের নেতিবাচক বিষয়গুলোর কথা ভাবেন?

অধিকাংশ মানুষ (তাদের মধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদরাও আছেন)- তাদের শহরকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনার মধ্যে দূষণ বলতে স্থান দেন গাড়ির ধোঁয়া, ধোঁয়াশা, জমে থাকা নোংরা কাদা-পানি, যেখানে সেখানে ফেলা আবর্জনা আর প্লাস্টিক ইত্যাদি জঞ্জালের স্তূপকে।

কিন্তু বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে, শব্দ দূষণ কম গুরুত্বপূর্ণ কোন হুমকি নয়। এতদিন এই দূষণকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া না হলেও এখন এটাকে বড় হুমকি হিসাবে বিবেচনার সময় এসেছে।

কারণ শব্দ দূষণ মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত, হৃদরোগ, কাজের মানের অবনতি, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার সমস্যা, এমনকি শ্রবণশক্তি পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে।

“মানুষকে একদিন শব্দ-দূষণের মোকাবেলা করতে হবে কলেরা এবং কীটপতঙ্গ ঠেকানোর মত সমান গুরুত্বের সঙ্গে,” বলেছেন নোবেলজয়ী চিকিৎসক রবার্ট কোচ, যক্ষ্মা বিষয়ে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ১৯১০ সালে যিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

কিন্তু শব্দের বিরুদ্ধে লড়াই কিভাবে শুরু করবেন?

ইউরোপের কোলাহলপূর্ণ শহর বার্সেলোনাতে একটি নীরব শান্ত এলাকা খুঁজে বের করা রীতিমত কঠিন কাজ
ইউরোপের কোলাহলপূর্ণ শহর বার্সেলোনাতে একটি নীরব শান্ত এলাকা খুঁজে বের করা রীতিমত কঠিন কাজ

‘দারুণ অনুভূতিময়’ শহর তৈরি

কেমন সে শহর? এক্ষেত্রে স্থাপত্যবিদ্যা কি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তারা কাজটা পারেন।

ইংল্যান্ডের সলফোর্ড ইউনিভার্সিটির শব্দ বিষয়ক প্রকৌশলী ট্রেভর কক্স যেমনটা বলেছেন যে, “অর‍্যাল (Aural) আর্কিটেকচার হচ্ছে এমন একটি বিষয় যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হল ভবনগুলো কি বলতে চাইছে, ভবনগুলোর ভেতর কিধরনের শব্দ তৈরি হচ্ছে, আমরা কীভাবে তাতে সাড়া দিচ্ছি সেগুলো।

এই ভবনগুলো মানুষ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে সেটা বোঝা।

সর্বাধুনিক শব্দ প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ কেবলমাত্র উন্নত নতুন শহর তৈরি করতে শুধু সহায়তা করবে তা নয়, বরং পুরনো ধাঁচের শহরগুলোরও মান উন্নয়ন করবে।

এসব প্রযুক্তি দিয়ে বর্তমান ভবনগুলো তারা এমনভাবে বদলে দিতে পারেন যে ভবনের বাইরেটা অবাঞ্ছিত বাইরের শব্দগুলো ঠেকিয়ে রাখবে। সুনির্দিষ্ট শব্দ তরঙ্গ আর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তৈরি করে অবাঞ্ছিত শব্দকে ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না।

সাউন্ড আর্টিস্ট মাইকেল ফাওলার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, “ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের খুব কাছে বাস করা হয়তো সম্ভব হবে। আপনি যে মুহূর্তে ভবনের কয়েক মিটারের মধ্যে পৌঁছবেন, সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের সব শব্দ উধাও হয়ে যাবে এই প্রযুক্তির কল্যাণে।”

একটি ঐতিহ্যবাহী তাতামি রুম থেকে জাপানি বাগানের দৃশ্য
একটি ঐতিহ্যবাহী তাতামি রুম থেকে জাপানি বাগানের দৃশ্য

খালি জায়গাকে নয়নাভিরাম’ করে তোলা

মিস্টার ফাওলার জার্মানিতে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের অডিও কমিউনিকেশন গ্রুপের একজন সদস্য এবং অর‍্যাল আর্কিটেকচার নিয়ে তার অনন্য অবদান রয়েছে।

ফাঁকা জায়গাকে শব্দ দিয়ে সুন্দর করে সাজানোর ব্যাপারে তিনি খুব আগ্রহী। যেমন, জাপানি ধাঁচে বাগান তৈরি- যেখানে থাকবে শুকনো পাথুরে ঝর্না যা সত্যিকারের ঝর্ণার মত প্রবাহিত হবে। বুদ্ধি খরচ করে চোখের আড়ালে পানির উৎস বসালে তা বিশেষ একটা দৃশ্যপট তৈরি করবে।

তিনি বলেন, স্থপতিরা ভবন নির্মাণের সময় বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় এধরনের ফিচার বসানোর নক্সা দিতে পারেন যা সবার জন্য একটা দূষণ মুক্ত সুন্দর শব্দময় পরিবেশ তৈরি করবে।

চীনের গুয়াংঝু বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ শহর
চীনের গুয়াংঝু বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ শহর

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দ-দূষণের শিকার কোন্ কোন্ শহর?

বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা বলছে বিশ্বজুড়ে শব্দ-দূষণ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, এবং শত কোটি মানুষ বসবাস করে এমন সব এলাকায় যেখানে শব্দের তীব্রতা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

এই গবেষণা অনুসারে চীনের গুয়াংঝু শহর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দ দূষণের শহর। অন্যদিকে সবচেয়ে কম শব্দ দূষণ সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।

সবচেয়ে খারাপ মাত্রার শব্দ দূষণের তালিকায় বিশ্বের যে দশটি শহর রয়েছে তার মধ্যে এশিয়ায় গুয়াংঝুর পরেই আছে- দিল্লি, মুম্বাই এবং বেইজিং। আফ্রিকায় কায়রো, ইউরোপের শহরগুলোর মধ্যে ইস্তানবুল, বার্সেলোনা এবং প্যারিস এবং লাতিন আমেরিকাতে মেক্সিকো সিটি এবং বুয়েনস আয়ার্স।

রাস্তার সুরেলা কোলাহল

যেখানে শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে যানবাহনের শব্দকে কি সুরেলা করে তোলা সম্ভব?

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির গবেষক জর্ডান ল্যাসি এমনটাই করেছেন ২০১৬ সালে। তিনি শব্দ বদলের একটি অভিনব সরঞ্জাম তৈরি করেছেন।

তিনি একটি পার্কের পাশের রাস্তার কোলাহল, যানবাহনের তীব্র আওয়াজ মাইক্রোফোনে রেকর্ড করে তার সঙ্গে মিশিয়েছেন সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা। তারপর সেই সুরেলা শব্দ তিনি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পার্ক এলাকায় বাজাচ্ছেন। ফলে আগে যারা শব্দের অত্যাচারে ঘরের দরোজা বন্ধ করে রাখতেন বারান্দায় বেরতেন না,এখন সেইসব বাসিন্দারা তাদের বারান্দায় নিশ্চিন্তে বসছেন।

ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার গবেষকরাও বিশেষ আকারের জানালা তৈরি করেছেন যা চারপাশ থেকে আসা শব্দকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরবে এবং বাড়ির মালিক তার ঘরের ভেতর পছন্দের সঙ্গীত তার সঙ্গে মিশিয়ে একটা নতুন শব্দরাজ্য তৈরি করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্স দক্ষিণ আমেরিকার একটি কোলাহলপূর্ণ শহর
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্স দক্ষিণ আমেরিকার একটি কোলাহলপূর্ণ শহর

শব্দ কোলাহল থেকে বিরতি?

তাহলে, কোলাহলপূর্ণ শব্দকে বিরক্তি উদ্রেককারী পর্যায় থেকে আনন্দদায়ক করে তোলা যেতে পারে, কিন্তু শব্দের অত্যাচার থেকে একেবারে পালানো কি সম্ভব?

স্থপতিরা আগামী দিনের শহরগুলো পরিকল্পনা করছেন এমনভাবে যাতে একটা শান্ত এবং প্রাকৃতিক শব্দ সম্বলিত শহর গড়ে তোলা যায়।

জর্ডান লেসি বলেন, “শহরের কোলাহল সম্পর্কে অভিযোগ করা সহজ, বলা সহজ যে আরও নিবিড়ভাবে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা উচিত। কিন্তু যে সমস্ত লোকের এর কাছাকাছি আসারও সুযোগ নেই তারা কী করবে?”

তিনি মনে করেন সেসব জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তার সাথে প্রযুক্তির মিশ্রণ ঘটিয়ে শহরে একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। যার উদ্দেশ্য হবে প্রকৃতির কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া নয়, বরং শহরের আবহে তাদের শব্দ থেকে পালানোর সুযোগ করে দেয়া।

একটি পার্কের ভেতর শান্ত পরিবেশ
একটি পার্কের ভেতর শান্ত পরিবেশ

ফ্লোর-প্ল্যান এবং ভবনের কথা ‘শোনা’

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেম এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। স্থপতিরা বুঝতে শুরু করেছেন তাদের নকশা করা ফাঁকা জায়গা কীধরনের শব্দ তৈরি করতে পারে।

এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘অর‍্যালাইজেশন’। এটা হল ফাঁকা জায়গার মধ্যে এমনভাবে শব্দ বা ধ্বনি তৈরি করা যা আপনাকে কোন বিশেষ পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেবে।

বাইরের শব্দকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি শব্দের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে যা মানুষের জন্য একটা সুখের বা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করবে। ভবনের নক্সা তৈরির কাজে বড় ভূমিকা রাখবে শব্দ সৃষ্টি বা শব্দ বিন্যাসের বিষয়।

জার্মানির হামবুর্গে এলবফিলহারমোনি কনসার্ট হল
জার্মানির হামবুর্গে এলবফিলহারমোনি কনসার্ট হল

ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম অরুপ এর কনসাল্ট্যান্ট নাওমি টেনেসি বলেন, স্থপতিরা ভবিষ্যতে তাদের নক্সার মধ্যে ধ্বনি শোনার ওপর জোর দেবেন এবং সে অনুযায়ী কোথায় উন্নতি দরকার সেটা বুঝতে পারবেন।

মিস্টার ফাওলার বলছেন, ”আমরা যদি ধ্বনি সপর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠি, বিষয়টা নিয়ে আরও কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আমাদের শহরকে, আমাদের বাসাবাড়িকে, আমাদের অফিসকে চোখ ও কানের জন্য নান্দনিক করে তুলতে পারব আর সেই সাথে শব্দ দূষণের সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

জেনে নিন মাছের খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায়

আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অনেক বেকার যুবক মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাছ চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছকে অতিরিক্ত সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে যা খরচ হয় তার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগই খরচ হয় খাদ্য ক্রয় করতে।

মাছের খাবার তৈরী:

সম্পূরক খাদ্য হিসাবে আমাদের দেশে সচরাচর যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয় তা হলো,- চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, ফিশমিল, গরু-ছাগলের রক্ত ও নাড়ি-ভুঁড়ি। এ ছাড়া জলজ উদ্ভিদ যেমন,- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা ইত্যাদি। এসব উপাদান প্রয়োজনমতো মিশিয়ে চাষিরা মাছের খাদ্য তৈরি করেন। কারখানায় তৈরি বাণিজ্যিক খাদ্যও মাছের খামারে ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের খাদ্যই মাছ চাষের পুকুরে ব্যবহার করা হোক না কেন তার গুণগতমান ভালো হওয়া আবশ্যক।

খাবারের গুণগতমান ভালো না হলে সুস্থসবল পোনা ও মাছ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হবে এবং মাছের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। আবার মাছের বৃদ্ধিও আশানুরূপ হবে না। খাদ্যের গুণগতমান ভালো রাখার জন্য যথাযথ নিয়মে খাদ্য উপকরণ বা তৈরি খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিয়ম মেনে খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

মাছের খাদ্যে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% এর বেশি থাকলে ছত্রাক বা পোকা-মাকড় জন্মাতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫% এর বেশি থাকলে খাদ্যে ছত্রাক বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট হয়। পোকামাকড়সমূহ ২৬-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে। সেই সঙ্গে এরা খাদ্য খেয়ে ফেলে ও তাদের মলমূত্র দ্বারা ব্যাকটোরিয়া ছড়াতে পারে।

সূর্যালোকে খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে বাতাসের অক্সিজেন খাদ্যের রেন্সিডিটি (চর্বির জারণ ক্রিয়া) ঘটাতে পারে যা খাদ্যের গুণগতমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে । অক্সিজেন ছত্রাক ও পোকা-মাকড় জন্মাতেও সহায়তা করে।

খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম:-

শুকনো খাদ্য ও খাদ্য উপাদান, খাদ্য বায়ুরোধী পলিথিনের বা চটের অথবা কোনো মুখ বন্ধ পাত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝে মাঝে এই খাদ্য পুনরায় রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পলিমালচ ব্যাবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়

বর্ষাতে উঁচু জমিতে একটু উঁচু করে মাল্চিং করে জল নিকাশী ভালোভাবে করলে চমৎকার স্মার্ট পদ্ধতিতে আগাছার সমস্যা মিটিয়ে সবজি পাবেন। বিশেষ করে এই মাল্চে কনজারভেশন হবার জন্য উৎপাদনও দেড়গুণ বেড়ে যায়। আর এর সাথে ড্রিপ ব্যবস্থা চালু থাকলে দুগুন ফলন অনায়াসে সম্ভব। পলিমাল্চ সম্ভব না হলে প্রাক গ্রীষ্মের জমিতে বাওয়া সবজি বা শীতের সবজিতে খড় বা ফসলের অবশেষ ইত্যাদি দিয়ে মাল্চেও বেশ কিছুটা লাভ পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন প্রকার জৈব (খড়, ঘাস, গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়ো, ফসলের খোসা ইত্যাদি) এবং অজৈব (প্লাস্টিক, পলিথিন,পাথর, বালি ইত্যাদি) পদার্থ দিয়ে চাষের জমির উপরিভাগকে ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে আচ্ছাদন বলা হয়।

জৈব আচ্ছাদন এর সুবিধা (Advantages of Organic Poly Munch) –

  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয় ফলে মাটির অনুকূল তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • জৈব আচ্ছাদন এর উপকরণ মাটির ভৌত-রাসায়নিক এবং জৈব চরিত্রের মান উন্নয়ন করে, মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং মাটির মধ্যে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি মাটির জৈব কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি করে যার ফলে গাছের শেকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয়।
  • আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটি থেকে বাষ্পীভবনের হার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জলের অপচয় কম হয়। সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারার জন্য এটি উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য খুবই উপযোগী।
  • আগাছা নিয়ন্ত্রণে আচ্ছাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারন চাষের জমির উপরিভাগ আচ্ছাদন উপাদান দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যালোক সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করতে পারে না।
  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষয় কম হয় এবং জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জৈব আচ্ছাদনের সীমাবদ্ধতা (Limitations of organic cover) –

  • অনেকে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জৈব আচ্ছাদন এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে; যেমন –
  • জৈব আচ্ছাদন মাটির মধ্যে খুব বেশি আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে খারাপ জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত জমিতে গাছের শেকড়ের চারপাশে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
  • যদি গাছের কাণ্ডের খুব কাছাকাছি বা সংস্পর্শে আচ্ছাদন উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে রোগ-পোকার আক্রমণ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কিছু কিছু জৈব আচ্ছাদন -এর উপকরণ এর মধ্যে আগাছার বীজ থাকে, যা চাষের জমিতে ব্যবহারের ফলে আগাছার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের ক্ষতি করে।
  • এই আচ্ছাদন ব্যবহার করে খরা প্রবণ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশেষ কলম পদ্ধতিতে ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে কাজু বাদাম চাষ

কাজু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। কাজু বাদাম (Cashew Nut) অত্যন্ত সুস্বাদু একটি বাদাম।  ধান চাষের চেয়ে বাদাম চাষ সহজ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় এবং কম দামে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষকেরা এর চাষ করে থাকে। কাজু বাদাম গাছ ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। 

আমাদের দেশে একটি অর্থকারী ফসল (Cash crop) হিসেবে কাজু বাদাম চাষ হতে পারে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

বিবিধ পুষ্টিপদার্থ (Nutrition) –

যেমন তামা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, ফসফরাস, আয়রন, সেলেনিয়াম, থায়ামিন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিপদার্থ ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬ ইত্যাদিতে ঠাসা কাজু বাদাম।

এর ১ আউন্স বা প্রায় ২৮.৩ গ্রাম কাজু বাদাম থেকে মোটামুটিভাবে ১৫৭ গ্রাম ক্যালরি, ৫.১৭ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪৩ গ্রাম ফ্যাট, ৮.৫৬ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম ফাইবার, ১.৬৮ গ্রাম চিনি পাওয়া যায়।

কাজু বাদাম চাষ পদ্ধতি (Cultivation Process) – 

রোপন –

বীজ এবং কলম উভয় পদ্ধতিতেই কাজু বাদামের বংশ বিস্তার করা যায়। কলমের মধ্যে গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি প্রধান। বীজ থেকে পলি ব্যাগে চারা তৈরি করে কিংবা কলম প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করতে হবে। 

চারা রোপণের আগে ৭-৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ১ ঘনমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তে সবুজ সার এবং পরিমাণমত ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পর চারা লাগাতে হবে। চারা গজালে একটি সতেজ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হয়। বীজের পরিবর্তে চারা তৈরি করে নিয়েও রোপণ করা যায়। হেক্টর প্রতি প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা ২৪৫-৩৩৫ টি।

সার –

কাজু বাদাম গাছে খুব একটা সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ভাল ফলনের জন্য প্রতি ফলন্ত গাছে গোবর-৪০কেজি, ইউরিয়া-১কেজি, টি.এস.পি.-১কেজি এবং এম.পি.সার ১কেজি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাতা শোষক পোকা ও পাতা কাটা পোকা প্রভৃতি কাজু বাদামের ক্ষতি সাধন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে কীটপতঙ্গ দমন করা যায়।

পরিচর্যা:

আগাছা পরিষ্কার করা, মরা অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাটাই করা এবং সাথী ফসল চাষ করা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জয়পুরহাটে পোকায় খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ফসলের মাঠে আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও পোকাড় আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারছে না কৃষক। আশানুরূপ ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন এলাকার কৃষকরা। 

কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকের সব রকমের পরামর্শ প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার দরপাল গ্রামের কৃষক বিনয় চন্দ্র বলেন, আমরা কৃষকরা সারাদিন মাঠে ফসলের পরিচর্যা করি। ফসলে পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দমনে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এসব পরার্মশ দেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে ঠিকমত পাই না।

আগাইর গ্রামের কৃষক লিটন আরমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও কারেন্ট পোকাড় আক্রমণে অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। তারও অভিযোগ পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসের কাউকে না পেয়ে নিজেই কীটনাশক ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে আয়মারসুলপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী ফজলে রাব্বী বলেন, এত বড় ইউনিয়নে আমি একা দ্বায়িত্ব পালন করছি। যে কৃষক তার ফসলের সমস্যার কথা জানায় সঙ্গে সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দেই। 

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নওগাঁয় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেল লাইনের দু‘পাশে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। বৈচিত্রপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্রে এখন রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য আত্রাই উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। 

কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। গ্রামীন জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইটভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করতেন। যার সাধ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্যই সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হলেও বাস্তব। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। এ গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুরর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু জয়বায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় বাংলার ঐতিহ্যবাহি খেজুর গাছ এখন উপজেলাজুড়ে বিলুপ্তির পথে।নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে আসা গাছি কালাম মিঞা জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরেই আত্রাই উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর জমিতে তাবু গেড়ে ওই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৪ মাসের জন্য গাছ ভেদে ৫ থেকে ৭ কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নেই। চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পাড়ি না। তারপরও এ বছর প্রায় ২শ’টির বেশি খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এ বছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আসা করছেন গাছিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার হোসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এ জন্য মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com