আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিদই কী ভবিষ্যতের সুপারফুড? নাকি অস্বাভাবিক খাদ্য ফ্যাশন?

গ্লাসে গ্রিন ফ্রুট স্মুদি
গ্লাসে গ্রিন ফ্রুট স্মুদি

বাজার গবেষকরা বলছেন বহু মানুষ সুপারফুডের জন্য অগ্রিম অর্থ দিতে আগ্রহী…কিন্তু আপনি কি আসলেই শ্যাওলা খাবেন?

তবে চিন্তার কারণ নেই, আপনাকে নিজে পুকুর বা বদ্ধ পানি থেকে শ্যাওলা তুলে আনতে হবেনা।

বরং এটি আপনার কাছে আসবে উজ্জ্বল সবুজ কাপ কেক বা স্মুদি হিসেবে, যেখানে অবশ্যই ডিপ ওশ্যান ব্লু শেড থাকবে।

মনে রাখতে হবে এসব যখন ঘটবে তখন বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে আটশ কোটিতে।

কিন্তু ক্ষুদে শ্যাওলার কি বাড়ন্ত জনসংখ্যার খাবার সরবরাহে সহায়তা করতে পারবে অথবা এটি কী আরেকটি অস্বাভাবিক খাদ্য ফ্যাশনে পরিণত হবে।

মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানো ব্যাকটেরিয়া কী?

মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানো ব্যাকটেরিয়া আসলে জলজ উদ্ভিদ ও এক ধরনের ক্ষুধে শ্যাওলা।

পুকুরের শ্যাওলাই হতে পারে আকর্ষনীয় খাবার
পুকুরের শ্যাওলাই হতে পারে আকর্ষনীয় খাবার

মাইক্রো অ্যালজি এক কোষী, যা লবণাক্ত বা পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয় এবং সূর্যের আলো থেকে সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে যা তাদের জীবনীশক্তি তৈরি করে।

অন্যদিকে সায়ানোব্যাকটেরিয়াও জলজ এবং সবুজ এই চারাগুলোও সূর্যের আলো থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে।

তবে মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার এই আলোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জগুলোর অনেক প্রজাতি আছে, কিন্তু ক্লোরেলা ও স্পিরুলিনা এখনি উৎপাদন হয় এবং খাদ্যে ব্যবহৃত হয়।

#স্পিরুলিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত
#স্পিরুলিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত

ইনস্টাগ্রাম সেনসেশন

কয়েক বছর আগে #স্পিরুলিনা সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশনে পরিণত হয়েছিলো।

লাখ লাখ মানুষ ‘মারমেইড স্মুদি’ এবং ‘ওশ্যান বোলস’ এর ছবি শেয়ার করেছিলো।

কারো কারো কাছে এটা ছিলো নতুন সুপারফুড।

স্পিরুলিনার ট্যাবলেট ও পাউডার এবং ক্লোরেলা ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন ও প্রোটিন সহকারে প্যাকেট জাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিলো।

লন্ডনের প্যাডিংটনের কাছ ইয়েটাউন কিচেনে স্পিরুলিনা ও ক্লোরেলা রান্নায় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সেখানেই আপনি পেতে পারেন গ্রিন স্পিরুলিনা পালেও কুকি, দুগ্ধজাত দ্রব্যমুক্ত আইসক্রিম, গ্রিন স্পিরুলিনা এনার্জি বলস এবং ব্লু স্পিরুলিনা চিজকেক।

তবে এগুলো দেয়া হয় স্টার্টার হিসেবে।

স্পিরুলিনা আগে থেকেই খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দাবি গবেষকদের
স্পিরুলিনা আগে থেকেই খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দাবি গবেষকদের

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্ট সায়েন্সেসের প্রফেসর আলিসন স্মিথ। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জ বিষয়ক বিজ্ঞানী।

তিনি বলছিলেন কীভাবে আগে থেকেই জলজ উদ্ভিদ খাওয়ার প্রচলন হয়েছে।

“মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নীল সবুজ শ্যাওলা খাচ্ছে। কয়েক শত বছর আগে থেকেই দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ তাদের পুকুর থেকে নিয়ে স্পিরুলিনাকে খাবারে সংযোজন করে আসছে।”

তাহলে লাভটা কোথায়?

মাইক্রো অ্যালজিতে উঁচু মাত্রার প্রোটিন আছে যা মাংসের বিকল্প হতে পারে।

এ মূহুর্তে এখন অল্প পরিসরে খাদ্যে সংযোজন করা হলেও এর একটি স্বাস্থ্যগত কৌশল আছে।

তবে অ্যান্ড্রু স্পাইসার, সিইও অফ আলজেনুইটি, ক্লোরেলা ভালগারিস ডিমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে চান, বিশেষ করে কেক ও পাস্তায়।

স্পিরুলিনা ব্যবহৃত হতে পারে ম্যায়োনিজের বদলে, কারণ এটি অনেকটা ডিমের কুসুমের মতো।

গন্ধটা আপত্তিকর মনে হলেও এটি দেখতে ভালো
গন্ধটা আপত্তিকর মনে হলেও এটি দেখতে ভালো

অসুবিধাগুলো কোথায়

স্পিরুলিনার গন্ধ ও স্বাদটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

শেফ সাইমন পেরেজের মতে এটায় মাছ ও লোহার মিশ্রণের মতো একটি গন্ধ আছে।

আর এটার রংয়েও কিছুটা সমস্যা আছে।

তবে মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জের স্বাস্থ্য সুবিধা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে।

স্পিরুলিনা ও ক্লোরেলায় উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন আছে।

তবে তাদের পুষ্টিগুণ নিয়ে যে দাবি করার হয় তা বিজ্ঞান দ্বারা এখনো সমর্থিত নয়।

এই তাহলে আগামী দিনের খাবার
এই তাহলে আগামী দিনের খাবার

পুষ্টিবিদ রিয়ানন ল্যামবার্ট বলছেন, “স্পিরুলিনায় ৫৫ থেকে ৭০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এটা উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবারের চেয়ে ভালো অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল আছে।”

জলজ উদ্ভিদে ওমেগা-৩ আছে। মাছের চেয়ে এ উৎসটি অনেক বেশি সহজলভ্য।

এতে আছ ভিটামিন বি১২ যা এনার্জি মেটাবোলিজম এবং আমাদের নার্ভাস সিস্টেমের জন্য খুবই দরকারি।

তবে এই বি১২ কতটা কাজ করে তা নিয়ে সংশয় আছে রিয়ানন ল্যামবার্টের।

এটি হজম হয় কিনা বা অন্য সূত্র থেকে পাওয়া বি১২ এর মতো কাজ করে কি-না তা নিয়েও সংশয় আছে।

পুকুরে সবুজ শ্যাওলা
পুকুরে সবুজ শ্যাওলা

মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জই ভবিষ্যৎ খাবার

কিছু নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর অনেক ইতিবাচক দিক আছে।

জনসংখ্যা যেহেতু বাড়ছে এবং কৃষিজমি কমছে তাই উৎপাদন বাড়ানোর নতুন দিক উন্মোচন করতে হবে।

প্রোটিনের অন্য সব উৎসগুলোর মতো জলজ উদ্ভিজ্জের জন্য বেশি কৃষি জমির দরকার হবেনা।

“এগুলো সব জায়গায় হতে পারে। পানি, সাগর, পুকুর, লেক..যে কোনো জায়গায়।”

এগুলো হতে পারে শহর ও বন্দরে।

এমনকি এটি হতে পারে মহাকাশেও, দীর্ঘ মেয়াদে মঙ্গল অভিযাত্রায় যাওয়া নভোচারীদের খাদ্য হিসেবেও এটি দেয়া যেতে পারে।

পুকুরের শ্যাওলা হতে পারে স্বাদের খাবার

আলজেনুইটি অবশ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দুর করার চেষ্টা করছে যাতে করে সুন্দর রং ও স্বাদের খাবার হয় শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিজ্জ থেকে।

এর সিইও অ্যান্ড্রু বলছেন খাদ্যের নতুন সুযোগের দিকে দৃষ্টি দেয়ার এটাই সময়।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার
আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে এখন সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির মাধ্যমে কম দামে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এজন্য কেজি প্রতি আলুর দাম ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রোবাবর একথা জানিয়েছেন।

এর আগে গত সপ্তাহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কেজি প্রতি আলুর মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখনো বাজারে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।

কেন টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত?

বাংলাদেশে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরেই আলুর দাম ক্রমাগত বাড়ছিল।

২০-২২ টাকা কেজি দরের আলুর দাম বাড়তে বাড়তে ৫০-৫৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে।

যে কারণে সরকার প্রথমবারের মত আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয় কেজিতে ৩০ টাকা।

বাংলাদেশে সাধারণত চাল, ডাল বা তেলের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেয়, বিশেষত রমজানের সময় যখন বাজারে চাহিদা ব্যাপক থাকে।

কিন্তু এর আগে আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার কথা শোনা যায়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যখন আজ টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির ঘোষণা দেন, তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ঠিক করে দেয়া দাম আসলে কার্যকর করা যায়নি।

যে কারণে এখন এই টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে আলু বিক্রি করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে কীনা সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‍্যাব মনিটর করবে।

কেন আলুর সংকট?

সরকার বলছে বাজারে আলুর কোন সংকট নেই, এবং চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে সরকারের দাবি।

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার
আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৭৭ লাখ টন, ফলে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে মনে করে সরকার।

কিন্তু তারপরেও দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকার মনে করে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকেরা বলছেন এ বছর মহামারি এবং বন্যার কারণে সরকারি ও অন্যান্য সংস্থার ত্রাণ হিসেবে দেয়া পণ্যের তালিকায় আলু ছিল, যে কারণে মজুদ আলুর একটি বড় অংশ খরচ হয়ে গেছে।

ফলে সরবারহে ঘাটতি হয়েছে। এছাড়া এবছর আলুর রপ্তানিও বেড়েছে, সেটিও বাজারে আলুর মজুদ কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ বলে মনে করেন তারা।

কেন আলুর দাম এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো?

আলু বাংলাদেশে সব শ্রেণীর মানুষের খাদ্য তালিকায় সবচাইতে কমন ও জনপ্রিয় একটি সবজি।

বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।

বিশেষ করে বাজারে যখন অন্য সবজির দাম বেড়ে যায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে তখন এটি অনেক সময়ই অন্য সবজির বিকল্প হয়ে ওঠে।

ভাতের সঙ্গে একটু আলুভর্তা বা ভাজি তখন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিকল্প খাবার হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া আলুর পুষ্টিগুণের কারণে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা বলে থাকেন যে, শিশুদের জন্য আলু একটি অত্যাবশ্যক খাবার।

আলুতে একদিকে যেমন ভাতের মতো শর্করা আছে, তেমনি সবজির মতো আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে।

ফলে সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আলু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিঋণ বিতরণের সঙ্গে বেড়েছে আদায়

করোনাকালেও থেমে নেই কৃষকের উৎপাদন। ফলে মহামারির মধ্যে এ খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ করেছে চার হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এ অংক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। গতবছর একই সময়ে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছিল তিন হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে মহামারির কারণে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার সুবিধা থাকলেও উল্টো চিত্র কৃষিখাতে। করোনার সময়ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন কৃষকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তিন মাসে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ছয় হাজার ২৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আদায় হয়েছিল ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। টাকার অংকে যার পরিমাণ ছিল চার কোটি ৩৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। করোনার মধ্যেও কৃষিখাতের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল থাকায় কৃষক সময়মতো কিস্তি ফেরত দিতেছেন। আলোচিত সময়ে কৃষিখাতে ব্যাংকগুলোর পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ চার হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

করোনার সময়েও কৃষিখাতের উৎপাদন সচল ছিল। তাই এ খাতে ঋণের প্রয়োজনও বেশি ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলো তাদের সঠিক সময় ঋণসহায়তা দেয়নি। ফলে প্রথমবারের মতো গেল অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। গেল (২০১৯-২০) অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছিল ব্যাংকগুলো। কিন্তু অর্থবছরে শেষে এ খাতের ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গেল অর্থবছরে লক্ষ্যের চেয়ে পাঁচ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা এক হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ কম হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিখাতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

চলতি (২০২০-২০২১) অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লীঋণ বিতর‌ণের লক্ষ্য ঠিক ক‌রে‌ছে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় আট দশ‌মিক ৯৯ শতাংশ বেশি। করোনা মহামারির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্যবিমোচন, ক্ষুধামুক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্দেশে পল্লী অঞ্চলে ব্যাপকহারে কৃষিঋণ প্রবাহ বাড়া‌নোর ল‌ক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে‌ছে।

কৃষি ও পল্লীঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে ঘো‌ষিত লক্ষ্যমাত্র‌ার ম‌ধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ঋণ বিতরণ কর‌বে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগু‌লো ঋণ দেয়ার লক্ষ্য ঠিক ক‌রে‌ছে ১৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে এক হাজার ৭৮২ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবমিলিয়ে তিন মাসে ঋণ বিতরণ করেছে চার হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এদিকে মহামারির সংকটে কৃষিখাতকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ প্রণোদনায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। কৃষিখাতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জন্য আগামী একবছর সুদভর্তুকি দেবে সরকার।

শস্য ও ফসলচাষে কৃষক পর্যায়ে গত এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সুদহার চার শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পাঁচ শতাংশ ভর্তুকি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতসব প্রণোদনা ঘোষণার পরও এ খাতে আশানুরূপ বাড়ছে না কৃষিঋণ বিতরণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজে ভারতনির্ভরতা কমাতে চায় বাংলাদেশ

পেঁয়াজে ভারতনির্ভরতা কমাতে চায় বাংলাদেশ

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের আগে অন্তত এক মাসের নোটিশ দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পাশাপাশি ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের আগে অন্তত এক মাসের নোটিশ দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আলুর দাম কিছুটা কমে এসেছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা তুরস্ক, মিসর, চীন ও মিয়ানমার থেকে তা আমদানি করছি। তবে, আমদানি করা পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ হয় প্রতিকেজি ৪৫ টাকা। পরে সেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে খুচরা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। আগামী বছর পর্যন্ত পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজির নিচে দাম হবে না বলেও জানান তিনি।

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধে বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। আমাদের ও ভারতের একই সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। প্রতি বছর আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ টন। ভারত গত বছর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, এবারও বন্ধ করেছে। গত বছর আমাদের এখানে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা তখন ভারতে ১৫০ রুপি। যেটা ভারতের জন্য বিরল ঘটনা। এতে করে আমাদের শিক্ষা হয়েছে যে, ভারত যেকোনো সময় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। আমরা এটা শিখেছি যে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। আমাদের সকল চেষ্টা গতবছর থেকে শুরু করেছি, যাতে ভারত বা কোনো দেশের ওপরে নিত্যপণ্যের নির্ভরশীল হতে না হয়।

তিনি আরও বলেন, ভারত ও আমাদের দেশের আবহাওয়া একই রকম। ভারতের যে অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসে, সে অঞ্চলে বৃষ্টির জন্য উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে। ভারতের বন্যা আমাদের বন্যা একই রকম। তাই আমরা ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হতে চাই না, বিশেষ করে পেঁয়াজের জন্য। তারপরও যখন আমরা সুবিধাজনক দামে পাই, আমরা নিই।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আগামী তিন বছরের মধ্যে যেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হই। ভারত তাদের লোককে না খাইয়ে আমাদের দেবে না। তারপরও ভারতের কাছে আমাদের যেটা দাবি, রফতানি বন্ধের নোটিশ যদি আমরা এক মাস আগে পাই, তাহলে আমরা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করার সুযোগটা পাই। হঠাৎ বন্ধ করে দেয়াটা সমস্যা তৈরি করে। তাই আমি রাষ্ট্রদূতের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, রফতানি বন্ধের এক মাস আগে যেন আমাদের নোটিশ দেয়া হয়।

পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ টন ঘাটতি থাকে। সেটা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসে। ভারতের পেঁয়াজের বড় অংশ এ সময় আসে। ভারত বন্ধ তাই আমরা মিসর, তুরস্ক, ইরান, চীন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি খরচ পড়ে ৪৫ টাকা কেজি। এরপর ৫ থেকে ৬ টাকা ভ্যাট রয়েছে। ফলে পাইকারিতে ৫০ টাকা পড়ে। তাই ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারজাত করা যাবে না। আমরা চেষ্টা করছি ৬০ টাকার নিচে রাখতে, যাতে ন্যূনতম লাভ করা যায়। আমদানি করা পেঁয়াজ কোনো অবস্থাতে ৫৫ টাকার নিচে খরচ ফেলা যাবে না। এর ওপরেই আমাদের বাঁচতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, এটা খারাপ দিক। তবে ভালো দিক হলো, আমাদের কৃষকরা কিন্তু টাকা পাচ্ছে। তারা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পাচ্ছে, যা সামনে আরও বেশি করে উৎপাদন করতে উৎসাহী হবে। এতে করে আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারব। আমরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ কীভাবে উৎপাদন করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আশা করছি বছরের মাঝামাঝি যদি আমরা নতুন এই পেঁয়াজটা আনতে পারি, তাহলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ভারতে কিছু মিডিয়ায় বাংলাদেশকে ‘তিরষ্কার’ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন মিডিয়া কী করলো কী বললো তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের দেশে যত পজেটিভ নিউজ হয় তার থেকে বেশি হয় নেগেটিভ নিউজ। ভারতের সাথে আমাদের বাজার খোলা আছে। আরও কিছু সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হলো। ঝগড়া-ঝাটি করে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কেজিতে ১০ টাকা কমে‌ছে আলুর দাম

সরকারের হস্তক্ষেপে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আলুর দাম এখন কমতে শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ কমসহ নানা অজুহাত দেখিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তিন দিনের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে এ পণ্যের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র।

আলু ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ আলুর দাম দ্বিগুণ বেড়ে ৬০ টাকায় ওঠে। পরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেঁধে দেয়। তা কার্যকর করতে পারেনি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আবারো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। এবার দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৫ টাকা। এরপর থেকে বাজারে আলুর সরবরাহ বাড়তে থাকায় দামও কমছে। এখন পর্যন্ত খুচরা বাজারে সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকা‌রি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিন-চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কমেছে। এখন সরবরাহ ভালো, এটা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে।

রাজধানী কারওয়ান বাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী মো. হাফিজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ বাজারের একের মালের (সবচেয়ে ভালো মান) আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। এছাড়া মান অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোল্ডস্টোরেজগুলো এখন আলু ছাড়ছে। গতকাল থেকে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এটা অব্যাহত থাকলে সামনে দাম আরও কমবে।’

এদিকে মুগদার খুচরা ব্যবসায়ী আল-আমিন জানান, আলুর দাম কমেছে। তবে মিডিয়ায় যেভাবে শুনছি আলুর দাম ৩৫ টাকায় নেমে যাবে। বাস্তবে দাম এত কমেনি।

তিনি বলেন, ‘আজ আলু বিক্রি করছি ৪২ টাকায়। বাছাই আলু বিক্রি করছে হচ্ছে ৪৪ টাকায়। যেহেতু পাইকারি বাজারে দাম কমছে দু-একদিনে খুচরা বাজারে দাম আরও কমবে।’

মুগদা কাঁচাবাজারে আসা আবুল বাশার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আলু প্রতিদিনই লাগে। প্রতি বছরই এ সময় আলুর দাম একটু বাড়ে কিন্তু ৬০ টাকা জীবনে কখনও দেখিনি, শুনিওনি। গত পরশু খবরে দেখলাম, সরকার আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু আজও বাজারে এক কেজি আলু কিনলাম ৪৪ টাকায়। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো মুনাফা লুটে, যার বলি সবসময় হয় ক্রেতা। ৬০ টাকা আলু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে‌ছে। তা‌দের কিছুই হয়নি।’

এদি‌কে গত মঙ্গলবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। ওইদিন খামারবাড়িতে কৃষি বিপণন অধিদফতরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, কারওয়ান বাজার এবং শ্যামবাজারের আলুর পাইকার ও আড়তদাররা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রতি কেজি আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেঁধে দেয় কৃষি বিপণন অধিদফতর। এই দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু এই দামের বিষয়ে আপত্তি জানান ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তারা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন।

মঙ্গলবার সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি ২৭ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে কেজি ৩০ এবং খুচরা পর্যায়ে কেজি ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত মূল্যে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা যেন আলু বিক্রি করেন সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৩০ টাকায় পেঁয়াজ কিনতে ভিড়

চট্টগ্রাম নগরের আটটি স্পটে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেলের সঙ্গে ৩০ টাকা দরে পেঁয়াজও বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এসব জায়গায় অন্যান্য পণ্যের চাইতে পেঁয়াজ কিনতেই বেশি ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ভারতীয় ও দেশি পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। নগরের আটটি স্পটে টিসিবি পেঁয়াজের সঙ্গে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল বিক্রি করলেও ক্রেতাদের মধ্যে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে টাইগার পাস এলাকায় ট্রাকে করে খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে দেখা যায় টিসিবির কর্মীদের। এ সময় নিম্নআয়ের অর্ধশতাধিক মানুষকে কমদামে এসব খাদ্যপণ্য ক্রয়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

জেসমিন আরা নামের এক গৃহকর্মী জানান, তাদের পক্ষে বাজার থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়, তাই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৩০ টাকায়।

টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জামাল উদ্দিন আহমদ জাগো নিউজকে জানান, চট্টগ্রাম শহরে আটটি ট্রাকে পেঁয়াজসহ টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আনোয়ারা, মিরসরাই ও খাগড়াছড়িতে তিনটি ট্রাক পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩০ টাকায় ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ এক কেজি করে কিনতে পারবেন। এছাড়া মশুর ডাল ও চিনি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com