আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিদই কী ভবিষ্যতের সুপারফুড? নাকি অস্বাভাবিক খাদ্য ফ্যাশন?

গ্লাসে গ্রিন ফ্রুট স্মুদি
গ্লাসে গ্রিন ফ্রুট স্মুদি

বাজার গবেষকরা বলছেন বহু মানুষ সুপারফুডের জন্য অগ্রিম অর্থ দিতে আগ্রহী…কিন্তু আপনি কি আসলেই শ্যাওলা খাবেন?

তবে চিন্তার কারণ নেই, আপনাকে নিজে পুকুর বা বদ্ধ পানি থেকে শ্যাওলা তুলে আনতে হবেনা।

বরং এটি আপনার কাছে আসবে উজ্জ্বল সবুজ কাপ কেক বা স্মুদি হিসেবে, যেখানে অবশ্যই ডিপ ওশ্যান ব্লু শেড থাকবে।

মনে রাখতে হবে এসব যখন ঘটবে তখন বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে আটশ কোটিতে।

কিন্তু ক্ষুদে শ্যাওলার কি বাড়ন্ত জনসংখ্যার খাবার সরবরাহে সহায়তা করতে পারবে অথবা এটি কী আরেকটি অস্বাভাবিক খাদ্য ফ্যাশনে পরিণত হবে।

মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানো ব্যাকটেরিয়া কী?

মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানো ব্যাকটেরিয়া আসলে জলজ উদ্ভিদ ও এক ধরনের ক্ষুধে শ্যাওলা।

পুকুরের শ্যাওলাই হতে পারে আকর্ষনীয় খাবার
পুকুরের শ্যাওলাই হতে পারে আকর্ষনীয় খাবার

মাইক্রো অ্যালজি এক কোষী, যা লবণাক্ত বা পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয় এবং সূর্যের আলো থেকে সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে যা তাদের জীবনীশক্তি তৈরি করে।

অন্যদিকে সায়ানোব্যাকটেরিয়াও জলজ এবং সবুজ এই চারাগুলোও সূর্যের আলো থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে।

তবে মাইক্রো অ্যালজি ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার এই আলোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জগুলোর অনেক প্রজাতি আছে, কিন্তু ক্লোরেলা ও স্পিরুলিনা এখনি উৎপাদন হয় এবং খাদ্যে ব্যবহৃত হয়।

#স্পিরুলিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত
#স্পিরুলিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত

ইনস্টাগ্রাম সেনসেশন

কয়েক বছর আগে #স্পিরুলিনা সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশনে পরিণত হয়েছিলো।

লাখ লাখ মানুষ ‘মারমেইড স্মুদি’ এবং ‘ওশ্যান বোলস’ এর ছবি শেয়ার করেছিলো।

কারো কারো কাছে এটা ছিলো নতুন সুপারফুড।

স্পিরুলিনার ট্যাবলেট ও পাউডার এবং ক্লোরেলা ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন ও প্রোটিন সহকারে প্যাকেট জাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিলো।

লন্ডনের প্যাডিংটনের কাছ ইয়েটাউন কিচেনে স্পিরুলিনা ও ক্লোরেলা রান্নায় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সেখানেই আপনি পেতে পারেন গ্রিন স্পিরুলিনা পালেও কুকি, দুগ্ধজাত দ্রব্যমুক্ত আইসক্রিম, গ্রিন স্পিরুলিনা এনার্জি বলস এবং ব্লু স্পিরুলিনা চিজকেক।

তবে এগুলো দেয়া হয় স্টার্টার হিসেবে।

স্পিরুলিনা আগে থেকেই খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দাবি গবেষকদের
স্পিরুলিনা আগে থেকেই খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দাবি গবেষকদের

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্ট সায়েন্সেসের প্রফেসর আলিসন স্মিথ। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জ বিষয়ক বিজ্ঞানী।

তিনি বলছিলেন কীভাবে আগে থেকেই জলজ উদ্ভিদ খাওয়ার প্রচলন হয়েছে।

“মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নীল সবুজ শ্যাওলা খাচ্ছে। কয়েক শত বছর আগে থেকেই দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ তাদের পুকুর থেকে নিয়ে স্পিরুলিনাকে খাবারে সংযোজন করে আসছে।”

তাহলে লাভটা কোথায়?

মাইক্রো অ্যালজিতে উঁচু মাত্রার প্রোটিন আছে যা মাংসের বিকল্প হতে পারে।

এ মূহুর্তে এখন অল্প পরিসরে খাদ্যে সংযোজন করা হলেও এর একটি স্বাস্থ্যগত কৌশল আছে।

তবে অ্যান্ড্রু স্পাইসার, সিইও অফ আলজেনুইটি, ক্লোরেলা ভালগারিস ডিমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে চান, বিশেষ করে কেক ও পাস্তায়।

স্পিরুলিনা ব্যবহৃত হতে পারে ম্যায়োনিজের বদলে, কারণ এটি অনেকটা ডিমের কুসুমের মতো।

গন্ধটা আপত্তিকর মনে হলেও এটি দেখতে ভালো
গন্ধটা আপত্তিকর মনে হলেও এটি দেখতে ভালো

অসুবিধাগুলো কোথায়

স্পিরুলিনার গন্ধ ও স্বাদটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

শেফ সাইমন পেরেজের মতে এটায় মাছ ও লোহার মিশ্রণের মতো একটি গন্ধ আছে।

আর এটার রংয়েও কিছুটা সমস্যা আছে।

তবে মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জের স্বাস্থ্য সুবিধা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে।

স্পিরুলিনা ও ক্লোরেলায় উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন আছে।

তবে তাদের পুষ্টিগুণ নিয়ে যে দাবি করার হয় তা বিজ্ঞান দ্বারা এখনো সমর্থিত নয়।

এই তাহলে আগামী দিনের খাবার
এই তাহলে আগামী দিনের খাবার

পুষ্টিবিদ রিয়ানন ল্যামবার্ট বলছেন, “স্পিরুলিনায় ৫৫ থেকে ৭০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এটা উদ্ভিদ ভিত্তিক খাবারের চেয়ে ভালো অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল আছে।”

জলজ উদ্ভিদে ওমেগা-৩ আছে। মাছের চেয়ে এ উৎসটি অনেক বেশি সহজলভ্য।

এতে আছ ভিটামিন বি১২ যা এনার্জি মেটাবোলিজম এবং আমাদের নার্ভাস সিস্টেমের জন্য খুবই দরকারি।

তবে এই বি১২ কতটা কাজ করে তা নিয়ে সংশয় আছে রিয়ানন ল্যামবার্টের।

এটি হজম হয় কিনা বা অন্য সূত্র থেকে পাওয়া বি১২ এর মতো কাজ করে কি-না তা নিয়েও সংশয় আছে।

পুকুরে সবুজ শ্যাওলা
পুকুরে সবুজ শ্যাওলা

মাইক্রো অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিজ্জই ভবিষ্যৎ খাবার

কিছু নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর অনেক ইতিবাচক দিক আছে।

জনসংখ্যা যেহেতু বাড়ছে এবং কৃষিজমি কমছে তাই উৎপাদন বাড়ানোর নতুন দিক উন্মোচন করতে হবে।

প্রোটিনের অন্য সব উৎসগুলোর মতো জলজ উদ্ভিজ্জের জন্য বেশি কৃষি জমির দরকার হবেনা।

“এগুলো সব জায়গায় হতে পারে। পানি, সাগর, পুকুর, লেক..যে কোনো জায়গায়।”

এগুলো হতে পারে শহর ও বন্দরে।

এমনকি এটি হতে পারে মহাকাশেও, দীর্ঘ মেয়াদে মঙ্গল অভিযাত্রায় যাওয়া নভোচারীদের খাদ্য হিসেবেও এটি দেয়া যেতে পারে।

পুকুরের শ্যাওলা হতে পারে স্বাদের খাবার

আলজেনুইটি অবশ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দুর করার চেষ্টা করছে যাতে করে সুন্দর রং ও স্বাদের খাবার হয় শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিজ্জ থেকে।

এর সিইও অ্যান্ড্রু বলছেন খাদ্যের নতুন সুযোগের দিকে দৃষ্টি দেয়ার এটাই সময়।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

শৌখিন মাছে কোটিপতি মৃদুল

শৌখিন মাছে কোটিপতি মৃদুল

রংপুরে শখের বশে শৌখিন মাছের খামার গড়ে কয়েক বছরে কোটি টাকার বাণিজ্যে রূপ দিয়েছেন ব্যবসায়ী মৃদুল রহমান। তিনি বলেন, ঘরোয়া পরিবেশে ছোট পরিসরেই গড়ে তোলা সম্ভব শৌখিন মাছের পোনা উৎপাদনের খামার।

বাড়ির সামনে স্বল্প পানির এই চৌবাচ্চাগুলো দেখলে মনে হয় পরিত্যাক্ত ছোট ছোট জলাধার। এখানেই চাষ আর প্রাকৃতিক পোনা উৎপাদন হচ্ছে রঙিন সব মাছের।

ক্ষুদ্র মাছগুলোর একেকটির দামই কমপক্ষে ১ কেজি খাবার মাছের সমান।

শখের বশে শুরু করেই আজ এই শৌখিন মাছের বাণিজ্যকে কোটি টাকায় নিয়ে পৌঁছেছেন উদ্যোক্তা মৃদুল রহমান। এই ছোট্ট জায়গাতেই তিনি সংরক্ষণ করছেন অ্যাকুরিয়াম ফিসের মাতৃজাতও।

তিনি বলছেন, যে কেউ অল্প বিনিয়োগে স্বল্প পরিসরেই গড়ে তুলতে পারে রঙিন মাছের এমন খামার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিতে শিক্ষিত তরুণদের সাফল্যের নজির

কৃষিতে শিক্ষিত তরুণদের সাফল্যের নজির

কৃষিতে বিস্ময়কর সাফল্যের নজির গড়ছেন শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা। পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে তাদের সাফল্য দেশের অর্থনীতিতে যেমন ভূমিকা রাখছে একইভাবে সৃষ্টি করছে বেকার তরুণদের কর্মস্থান। নরসিংদীর শিবপুরের এমনই এক সফল খামারি কিবরিয়া গাজী।

দুই দশক আগে ছাত্রজীবনে বাড়ির একটি পুকুরে মাছ চাষ আর একটি মাত্র গাভী নিয়ে শুরু হয় কিবরিয়া গাজীর কৃষক জীবন। নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থাকার কারণেই সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে বিশাল এক সমন্বিত খামারে। একটি মাছের পুকুর থেকে হয়েছে ৬০টি মাছের পুকুর। এছাড়া খামারে যুক্ত হয়েছে ৩৫টি গাভী আর ১৮ হাজার লেয়ার মুরগী।

কিবরিয়া গাজী বলছেন, তার কৃষি উদ্যোগ ও খামার সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে টেলিভিশনের।

এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অনেক কৃষি শ্রমিকের। অন্যদিকে পরিকল্পিত চাষাবাদের কারণে প্রতিনিয়তই সম্প্রসারিত হচ্ছে কিবরিয়া গাজীর এই সমন্বিত খামার।

কিবরিয়া গাজীর সাফল্য তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে এক অনুসরণীয় মডেল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

দিনাজপুরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষে সফলতা পেয়েছেন আল আমিন খান। এখন বাণিজিক্যভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন তিনি। প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পদ্ধতিতে দেশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমবারের মতো ১২ শতক জমি নিয়ে ৬ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি খাঁচা বানিয়ে দেড় কেজি শিং মাছের পোনা ছাড়েন। প্রথম চালানে ৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করবেন। পোনা ছেড়ে বাজারজাত করা পর্যন্ত সময় লাগে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মাস। যাতে লাভ হবে অর্ধেক। একটি খাঁচা দিয়ে শুরু করলেও এ জমিতে আরও ২১টি খাঁচা স্থাপন করা যাবে।

প্রথমে বাসায় পরীক্ষামূলকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজিক্যভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। আগামীতে খাঁচা বাড়িয়ে কৈ, তেলাপিয়া, পাবদা, রুই, মাগুর, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ চাষ করবেন।

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

আল আমিন গত ৪ আগস্ট সাড়ে ৩ ফুট উঁচু ও ১৩ ফুট গোলাকৃতির খাঁচা তৈরি করেন। খাঁচাগুলো ওয়াটার প্রুফ ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেন। খাঁচা তৈরি করতে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। একটি খাঁচায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার শিং, কৈ, তেলাপিয়া, মাগুর, পাবদা ও ট্যাংরা মাছের পোনা ছাড়া যায়। যাতে ৮০-১০০ কেজি মাছ পাওয়া যায়। একটি খাঁচায় বছরে ৩ বার মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভও বেশি। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে। অসুখ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

মাছ চাষের আগে প্রতিটি খাঁচায় অরগানিকভাবে লবণ, চিটাগুড় ও প্রবাইটিক দিয়ে পানির (মিশ্রন) কালচার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে মাছের বিষ্ঠা আবারও প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়ে মাছের খাদ্যের ৭০ শতাংশ পূরণ হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবারও কম লাগে। যত বেশি পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খাঁচা তৈরি করা যায়; তত বেশি মাছ উৎপাদন হয়।

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

আল আমিন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার বেকার যুবকদের সহজ শর্তে ঋণসহ পৃষ্ঠপোষকতা দিলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে দেশীয় মাছ চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে হাজারও বেকারের।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. এস এম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এই প্রথম। বায়োফ্লক পদ্ধতিকে আমাদেরকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ হওয়া সম্ভব। দ্রুত সময়ে এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর

 মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর
মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশ অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যখাতের কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে আগামী দিনগুলোতে মৎস্যখাতে সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সচেতন রয়েছেন জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি পোষাতে সহায়তা করা হবে। এছাড়া মাছের ঘাটতি থেকে উত্তরণে যা যা করা দরকার আমরা তা করব। সেটা অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে হবে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, গণপরিবহনও। সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

মৎস্যখাতের সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, মৎস্যপোনা পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বাধা দেয়া হচ্ছে। মাছের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমদানিকৃত মৎস্যখাদ্য উপকরণ ছাড়করণে বন্দর ও কাস্টমস জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রয়েছে মাছের মোকাম।

তারা আরও জানিয়েছেন, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাণিজ আমিষের জোগান দেয় মাছ। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছের জোগান অব্যাহত রাখতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সব সেক্টর যেমন কঠিন সমস্যার মুখোমুখি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরও সেই একই রকম কঠিন সমস্যার মুখোমুখি।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন রকম বিষয় বিবেচনা করছি। যারা লোন নিয়ে মাছচাষ করছেন। বিভিন্ন খামার করছেন। তাদের লোনের ইন্টারেস্ট কীভাবে কমানো যায়, প্রণোদনা দেয়া যায় কিনা- এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে প্রস্তাব রেখেছি।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে এই প্রণোদনা বা অন্যান্য বিষয়ে মতামত দেবেন। আমরা আশা করি, সেখানে এই সেক্টরের ব্যাপারেও একটা মতামত আসবে’ বলেন রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বর্তমানে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চাই, এরপর পরবর্তী পদক্ষেপে যাব।’

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের যে ঘাটতি দেখা দেবে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে, সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তা করব। সেটা অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে হবে। যাতে এই ঘাটতি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি।’

শনিবার মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভায় বসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। সভায় মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিলড ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং ফিশ হ্যাচারি অ্যান্ড ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংশ্লিষ্টরা সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করোনা সংকটেও মৎস্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও রফতারি অব্যাহত রাখার জন্য মৎস্যখাতের অংশীজনদের যার যার জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এ সংক্রান্ত সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে স্থাপিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষে হটলাইনের মাধ্যমে (হটলাইন নম্বর-০২-৯১২২৫৫৭) অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।

সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় দ্রুততার সাথে উদ্যোগ নেবে বলে এ সময় জানানো হয়। সমস্যা সমাধান ও সৃষ্ট ক্ষতিপূরণে সরকার সাধ্যমত সবকিছু করবে বলেও অংশীজনদের আশ্বাস দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

মৎস্যচাষীদের ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ, কিস্তি স্থগিতকরণ ও প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থাগ্রহণ, মৎস্যখাতের সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মৎস্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মুক্তজলাশয়ের (নদী, সুন্দরবন, কাপ্তাই লেক, বিল ও প্লাবনভূমি) পরিমাণ প্রায় ৩৯ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, বদ্ধ জলাশয়ের (পুকুর, মৌসুমি চাষকৃত জলাশয়, বাঁওড় ও চিংড়ি ঘের) পরিমাণ ৭ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর, সামুদ্রিক পানিসীমার পরিমাণ ১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গ কিমি. এবং সমুদ্র উপকূল রয়েছে ৭১০ কিমি.। যেখানে কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বিপুল পরিমাণ বাড়ানো যায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম রয়েছে। প্রতি অর্থবছরেই গুণগত মানসম্পন্ন ও বিপন্ন প্রায় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এই মাছের সংকট কাটানো কিংবা উৎপাদন বাড়াতে সরকার এই কার্যক্রমটি আরও জোরদার করতে পারে।

মৎস্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রবাহমান নদী, উন্মুক্ত জলাশয়, লেক বা বৃহৎ জলাশয়ে খাঁচায় মাছচাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় যেমন চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলে খাঁচায় মাছচাষ ক্রমান্বয়ে প্রসার লাভ করছে।

অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, দারিদ্র্যবিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে খাঁচায় মাছচাষ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই নয় খাঁচায় মাছচাষে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে। কিন্তু প্রবাহমান নদী, উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা স্থাপনের মাধ্যমে মাছচাষের জন্য বৈধ মালিকানার কোনো ভিত্তি না থাকায় ব্যবহারের আইনগত অধিকার বা বৈধতা বা নীতিমালা না থাকায় খাঁচায় মাছচাষের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপভাবে বিকশিত হচ্ছে না। এ জন্য একটি নীতিমালা করা হয়েছে।

এই নীতিমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিলে মৎস্যখাত আরও এগিয়ে যাবে বলেও মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

প্রণোদনার কথা শুনে খুশি পোল্ট্রি-ডেইরি খামারিরা

প্রণোদনার কথা শুনে খুশি পোল্ট্রি-ডেইরি খামারিরা
প্রণোদনার কথা শুনে খুশি পোল্ট্রি-ডেইরি খামারিরা

করোনার প্রভাবে দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে যে ক্ষতিসাধন হয়েছে সে ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে এ শিল্পের মালিকদের প্রণোদনা দেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় এ শিল্পের মালিকরা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তারা বলছেন, এটা ভালো একটা খবর। করোনায় ব্যাপকহারে ক্ষতি হওয়ার পর ডেইরি এবং পোল্ট্রি শিল্পের মালিকরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে করোনার প্রভাবের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা প্রণোদনা পারেন। ভবিষ্যতে ব্যবসা চালাতে তাদের কোনো অসুবিধা হবে না। ৯ ভাগ হারে ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদ ৪.৫ ভাগ সরকার এবং ৪.৫ ভাগ মালিকপক্ষ বহন করবে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের ডেইরি ও দুগ্ধখামারি পরিচালক আবদুস সামাদ ফকির বলেন, সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে বা সাড়ে ৪ ভাগ হারে যে ঋণ দেয়ার কথা বলছে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হলে খামারিরা খুশি হবে। এছাড়া আমরা যে পণ্য উৎপাদন করছি তা ঠিকমতো বাজারজাতকরণ করতে পারলে খামারিরা লাভবান হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য এবং মানুষের পুষ্টির অভাব দূর করার জন্য মিল্কভিটা স্থাপন করেছিলেন। তার যে উদ্দেশ্য ছিল সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ।

শেরপুর জেলার ডেইরি খামারি তৌহিদুর রহমান পাপ্পু জাগো নিউজকে বলেন, খামারিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী খামারিদের যে সুযোগ দিতে চেয়েছেন সে সুযোগ পেলে খামারিরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ চাই না। ন্যূনতমভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ চাই। সরকারিভাবেই যদি কিছু দুধ বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়, কিছু মিষ্টির দোকান পর্যায়ক্রমে খোলা রাখা, গো-খাদ্যের দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা করলে আমরা বেঁচে থাকতে পারব, ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

প্রণোদনার কথা শুনে খুশি পোল্ট্রি-ডেইরি খামারিরা
প্রণোদনার কথা শুনে খুশি পোল্ট্রি-ডেইরি খামারিরা

বগুড়ার খামারি হবিবর রহমান (হবি) জাগো নিউজকে বলেন, গরু কেনার জন্য কম সুদে ঋণ দিলে খুশি হবে খামারিরা। কারণ করোনার কারণে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না।

শেরপুর জেলার তুষার পোল্ট্রির মালিক সেলিনা পারভিন জাগো নিউজকে বলেন, ঋণ ছাড়া আর ব্যবসা চালু করার মতো কোনো শক্তি নেই। সরকার যদি আমাদের কম সুদে ঋণ দেয় বা প্রণোদনা দেয় তাহলে আমরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারব।

সেলিনা বলেন, এবার প্রায় ১৫ লাখ টাকা লস হয়েছে। এর আগেও একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে সব মুরগি মারা গেছে। তখন লস হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এখন আর ব্যবসা করার মতো কোনো পয়সা নেই।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে প্রায় দুই হাজার ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং ডেইরি শিল্পে ৯১২ কোটি টাকা।

পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাব অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। ফলে দেশের অনেক খামারির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। গত ১৬ দিনের একটি হিসাব ধরে এই ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com