আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

বড় রোজা ছোট রোজা

আজ আপনাদের এক নতুন কথা শোনাব। যদিও কথাটি আদতে নতুন নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের শিক্ষা থেকেই নেওয়া। কোরআনই এ কথার ভিত্তি। তবুও কথাটি অনেকের জন্য নতুন ঠেকবে। যেহেতু নতুনের কদর বেশি এবং এটি মানবাত্মাকে কিছুটা হলেও জাগ্রত করে, তাই পুরোনোকেই নতুনভাবে বলা। নতুন সে বক্তব্যটি হলো: রোজা দুই ধরনের—বড় রোজা আর ছোট রোজা।

ছোট রোজাকে খাটো করছি না। এ প্রকরণ শুধুই কাল ও আয়তনের। ঋতুর তারতম্যে ছোট রোজাও লম্বা হয়। এ রোজা প্রাপ্তবয়স্ক হলেই ফরজ হয়ে যায়। সুবহে সাদেক থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ রোজার সীমা। এ রোজার যাবতীয় নিয়মকানুন আপনাদের জানা আছে। এ সময় পানাহার নিষিদ্ধ। স্বাভাবিক সময়ের বৈধ জৈবিক বহু কার্যকলাপও হারাম। এটি ২৯ বা ৩০ দিনও হতে পারে। রমজানের এ রোজার কথা সবাই জানেন। মেনে চলেন এর নিয়মকানুনও। আমি চাইছি, আপনারা চিন্তা করুন, ভাবুন, রমজানের রোজা ছাড়া আর কোন রোজা রয়েছে যেটা সময়, কাল ও মর্যাদায় এর চেয়েও বড়। আমি কি শেষ ঈদের রোজার কথা বলতে চাইছি, নাকি ১৫ শাবানের রোজার কথা। কোন রোজার কথা বলতে চাইছি।
বড় রোজা: ইসলামের রোজা। ইসলাম নিজেই একটি রোজা। এই যে রোজা, ঈদ, নামাজ এমনকি জান্নাত পর্যন্ত যা আল্লাহ আমাদের দান করবেন, সবই এই বড় রোজার দান। প্রকৃত বড় রোজা ইসলামের রোজা। এটা কখন শুরু হয়ে কখন শেষ হয়, তা-ও জেনে নিন।

যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন এবং শুরু থেকেই কালেমার যাত্রী হোন, তাঁর ওপর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ামাত্রই এই দীর্ঘ, ধারাবাহিক রোজাটি ফরজ হয়ে পড়ে। যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, কালেমার বক্তব্যকে মেনে নেন, তাঁর ওপর ইসলাম কবুল করার সঙ্গে সঙ্গে এ রোজা ফরজ হয়ে পড়ে।
এটাও জেনে নিন, এ রোজার শেষটা কখন হয়। রমজান ও অন্যান্য রোজা তো সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে খতম হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামের রোজা শেষ হয় জীবনসূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে।

রমজান বা অন্যান্য নফল রোজায় ইফতার কী, উত্তম পানীয় ও মজাদার খাবারই তো? এবার শুনুন ইসলাম নামক রোজার ইফতারের ফিরিস্তি। বেশি খাদ্য ও পানীয়ের নাম নিলে জিবে জল এসে যাবে, মনে খাদ্যের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়ে যেতে পারে তাই বেশি বলছি না। আপনারা জমজমের পানি দিয়ে রোজা ভেঙে থাকেন। ঠান্ডা পানীয় দিয়ে রোজা ভাঙেন। এক টুকরা খেজুর মুখে দিয়ে রোজা ভাঙেন। কিন্তু আজীবন রোজার ইফতার হবে পবিত্র কূপ হাউসে কাউছারের পানি দিয়ে। স্বয়ং সায়্যিদুল মুরসালিন, শ’ফিয়ুল মুসনিবিন, মাহবুবে খোদা, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে সে পানি পান করাবেন।বিজ্ঞাপন

যে রোজার আহ্বায়ক স্বয়ং খোদা এবং আমরা সে রোজার শর্তাদি পালন করেছি। আল্লাহর ফজলে কালিমার মাধ্যমে আমাদের বিদায় ঘটেছে। মুখে কালেমা জপরত অবস্থায় রুহটা বেরিয়েছে আমাদের দেহ থেকে। আমরা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু (একমাত্র আল্লাহই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী) জপছিলাম। অন্তরে আমাদের ইমানের নূর ছিল। আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রবল তামান্না ছিল। এমন অবস্থায় যে রোজার সমাপ্তি ঘটেছে। ভাবুন তো, সে রোজার ইফতারিটা কেমন হবে। ভাবুন তো একবার, কেমন হবে সেটা। হ্যাঁ, এটি তেমনই এক অসাধারণ নিমন্ত্রণ হবে, যা পাওয়ার জন্য মানুষ জান দিতেও রাজি। আল্লাহর বহু বান্দা জান কোরবান করেছেনও। রাসুলের দিদার লাভের প্রত্যাশায় অগুনতি মানুষ নির্দ্বিধায় প্রাণ দিয়েছেন। বিনিময়ে চেয়েছেন রাসুল খুশি হোন। সন্তুষ্ট হোন। যুদ্ধ-জেহাদের ঘটনাগুলো পড়ুন। সাহাবাগণ হাসতে হাসতে জীবন দান করে গেছেন।

এমনও ঘটেছে, বদরের যুদ্ধে এক কিশোর মহানবীর দরবারে হাজির হয়ে বলেছে, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকেও জেহাদের অনুমতি দিন।’ মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এখনো ছোট।’ সে বলেছে, ‘না, আমি একেবারে ছোটটি নই। আমিও লড়তে জানি।’ সে ইজাজতের জন্য পীড়াপিড়ি করতে থাকল। তা দেখে কোনো কোনো সাহাবি সুপারিশও করলেন তার পক্ষে। মহানবী অনুমতি দিয়ে দিলেন। এটা দেখে অন্য আরও একজন এসে হাজির হলো মহানবীর সামনে। এও কিছুটা কমবয়সী ছিল। এ-ও বলল, ‘অমুককে ইজাজত দিয়েছেন যখন, আমাকেও অনুমতি দিন।’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘তুমি তো এখনো বাচ্চা রয়ে গেছ।’ জবাবে কিশোরের উত্তর ছিল, ‘আপনি আমাদের দুজনের মধ্যে কুস্তি লাগিয়ে দিন, শক্তির পরীক্ষা নিন, আমি যদি ওকে ধরাশায়ী করতে পারি, তবে আমাকেও অনুমতি দিন।’ এদের প্রবল আগ্রহ ছিল। মনে বল ছিল। কুস্তি হলো।

বাস্তবেই সে ইজাজতপ্রাপ্ত কিশোরকে ধরাশায়ী করে ফেলল। মহানবী (সা.) দুজনকেই শেষ পর্যন্ত ইজাজত দিলেন। আখেরে দুজন শহীদও হলো। এরা ছিল দুই ভাই। আবদুর রহমান ইবনে আউফকে বললেন, ‘চাচা, আবু জাহেল লোকটাকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা শুনেছি আবু জাহেল নাকি রাসুলে খোদার শানে বেয়াদবি করেছে।’ আবু জাহেলকে দেখানোমাত্রই দুজনই ঝাঁপিয়ে পড়েন, খতম করে দেন চিরশত্রুকে।
ছোট রোজার হুকুম ও দায়বদ্ধতার কথা সবার জানা। সব রোজাদারই উপোস থাকেন। নিষিদ্ধ খাবারে ঠোঁট ছোঁয়ান না। কিন্তু এই বড় রোজার খবর খুব কম লোকই রাখেন।

অথচ এই রোজাগুলো বড় রোজার কৃপায়ই আমরা পেয়েছি। বড় রোজার বরকতেরই ফল এসব রোজা। মনে করুন, এসব রোজা বড় রোজার পুরস্কারস্বরূপ আমাদের কাছে এসেছে। ঈদও পেয়েছি বড় রোজার জন্যই। যদি ইসলাম না হতো, তবে নামাজ-রোজা কিছুই হতো না। দেখুন, যেখানে ইসলাম নেই সেখানে না নামাজ আছে, না আছে রোজা। সেখানে কালেমাও নাই, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসও নাই। একত্ববাদ, হাশর, কেয়ামত বা পুনরুত্থান কিছুই নাই। এসবই ইসলামের বদৌলতে আমরা পেয়েছি। মনুষ্যত্ব, মানবতা, সম্মান, শক্তি, রুহানিয়্যাত সবই ইসলামের জন্য পেয়েছি। মৃত্যুর পর কেয়ামত শেষে এরই অছিলায় জান্নাত পাব। এমন জান্নাত যে জান্নাত কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো অন্তর তার যথাযথ ছবি আঁকতে পারেনি।

বড় রোজা ছোট রোজা

তো, এই দীর্ঘ আর ধারাবাহিক রোজার খবর রাখেন কজন। জানি না, আজকের পর আপনাদের সঙ্গে আর কবে দেখা হবে। আদৌ হবে কি না? হলেও কিছু বলার বা শোনার সুযোগ হবে কি না। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি আপনাদের বলে যেতে চাই। রমজান বা অন্যান্য নফল রোজায় পানাহার করলে ভেঙে যায়। একটি রোজার কাজা হিসেবে ৬০টি নতুন রোজা রাখতে হয়। কিন্তু সেই রোজা, যার ব্যাপারে মানুষ সজাগ নয়, ‘ইসলামের রোজার’ মধ্যে কী কী জিনিস নিষিদ্ধ, আমি আপনাদের বলে যেতে চাই। হারাম খাবার-দাবার এ রোজায় খাওয়া নিষিদ্ধ। এ রোজায় খোদার সঙ্গে শিরক করা মানা। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দের কর্মের নাম হলো শিরক। আল্লাহ বলেন:
আল্লাহ তাআলা শিরককারীকে ক্ষমা করবেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছে মাফ করে দেবেন।বিজ্ঞাপন

শুনুন, শিরক কী জিনিস। এটিকে সবাই মন্দ মনে করেন। আপনারাও এটিকে খারাপ মনে করবেন। এ জগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহ। তিনি এর পরিচালকও। এ সৃষ্টি তাঁরই কাজ। এসব পরিচালন করাও তাঁরই কর্ম। সবাই এ কথা মানেন, সবকিছুর স্রষ্টাই একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কিন্তু অনেক ভাই, মনে বা মগজে এ কথা ধারণ করতে পারেন না যে কুল-কায়েনাতের পরিচালকও তিনিই। এদের ধারণা, আল্লাহ তো স্রেফ কুন (হও) বলেছেন, ব্যস, অমনি (ফাইয়াকুন) সবকিছু হয়ে গেল। কিন্তু বিরাট এ পৃথিবীটার বিশাল যজ্ঞ পরিচালনায় অন্যান্য শক্তির হাত রয়েছে। রাজা-বাদশাহরা মরজিমাফিক কাউকে কোনো কাজ সোপর্দ করেন। খাদ্যভান্ডারের দায়িত্ব দেন কাউকে। কাউকে দেন খয়রাত বণ্টনের কাজ। কারও প্রতি নির্দেশ থাকে অসুস্থকে চিকিৎসাসেবা দানের। বিপদগ্রস্তের উদ্ধার, মামলা-মোকদ্দমায় হারজিত, একেক জনকে একেকটা কাজের ক্ষমতা দিয়ে রাখেন। একই ভাবে আল্লাহ তাআলাও যদি মকবুল বান্দাদের মধ্যে হরেক রকম কাজের ক্ষমতা ভাগ করে দেন, তাতে আল্লাহর অমর্যাদা হয় না। আল্লাহ কর্তৃক নৈকট্য লাভ এবং বুজুর্গির কারণে খোদা তাআলা নিজ ইচ্ছায় এ ক্ষমতা ওদেরকে দিয়েছেন। আবার যখন ইচ্ছা সব ক্ষমতা ছিনিয়ে নেবেন।
কিন্তু আদতে এমনটি অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘সৃষ্টি করা আমার কাজ, সৃষ্টির পরিচালনও আমারই কাজ।’

পৃথিবীটা তাজমহল নয়। শাহজাহান বানালেন, আর চলে গেলেন। তারপর কারও মর্জি হলো তো দেয়ালে কিছু লাগিয়ে দিলেন। নতুনভাবে ভাঙা-গড়ার কাজ চালালেন। তিনি কিছুই করতে পারলেন না। তাঁর হাতে কোনো ক্ষমতাই রইল না। অথচ শাহজাহান কত বড় বাদশাহ বা সম্রাট। কিন্তু এ বিশাল পৃথিবী পুরোপুরি আল্লাহর আয়ত্তাধীন। তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা। প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্ব দানকারী। তিনিই সম্রাট। সাদা-কালো, জীবন-মরণ, রুটি-রুজি, সন্তান-সন্তুষ্টির কেবল তিনিই একমাত্র দাতা।

সন্তান দেওয়া, রিজিক দেওয়া, ভাগ্যের ভালো-মন্দ, জয়-পরাজয়, মান-সম্মান, বিপদাপদ থেকে মুক্তিদান, এ সবই আল্লাহর ক্ষমতাধীন আছে এবং থাকবে। দুনিয়ার একটি পাতা কিংবা দানাও তাঁর নির্দেশের বাইরে নড়তে পারে না। ক্ষমতার বাগডোর এবং চাবিকাঠি পুরোটাই তাঁর হাতে।

মনে রাখুন, তওহিদে পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া চাই, তওহিদ কামিল হওয়া চাই। সন্তান কেবল তিনিই দিতে পারেন। রুটি-রুজি একমাত্র তিনিই দেন। ইজ্জত-সম্মান, হায়াত-মউত তিনিই দিতে পারেন। কোনো অলি-কুতুব, গাউস-আবদাল সামান্য ক্ষমতার অধিকারীও নয়। ভাবুন, নিজের ইমানকে যাচাই করুন। আল্লাহকেই একক স্রষ্টা, রিজিকদাতা তথা মুসাব্বাবুল আসবাব মনে করেন তো?
তওহিদের পর কেয়ামত ও পরকাল, মহানবী (সা.)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীদের নেতা, পাপীদের সুপারিশকারী এবং আল্লাহর প্রিয়জন মানতে হবে। এটাও মানতে হবে, শরিয়ত আজও সচল। কেয়ামত পর্যন্ত সচল থাকবে। কেয়ামত পর্যন্ত অন্য কারও শরিয়ত মানা যাবে না। এ শরিয়ত পরকালের কাজে লাগবে। যদি মহানবী (সা.)-এর পর নতুন কোনো শরিয়তের প্রবক্তা হাজির হন, তবে নিশ্চিত তিনি মিথ্যুক, দাজ্জাল, মুনাফেক এবং ধর্মদ্রোহী। তাকে কতল করা ওয়াজিব। শরিয়ত একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত। কেয়ামত পর্যন্ত এটিই চলবে এবং সর্বত্র চলবে। যে এ শরিয়তের ওপর চলবে, সে-ই সফল হবে।
মহানবী (সা.) আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয়। যে মহানবীকে ভালোবাসবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসবেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না সে আমাকে তার পিতা, সন্তান তথা সব মানুষ থেকে অধিক ভালোবাসবে।’

এ মর্যাদা অন্য কোন বুজুর্গ বা অলি তো দূরের কথা, কোনো নবী-রাসুলেরও জোটেনি। এ মর্যাদা আল্লাহ তাআলা শুধুই মহানবী (সা.)-কে দিয়েছেন।

মহানবী (সা.)-এর ওপর ইমান বা বিশ্বাস রাখলেন। তাঁকে ভালোবাসলেন। তাঁর কাছে শাফায়াতের প্রত্যাশাও করলেন। যথাযথভাবে তাঁর শরিয়তও মেনে চললেন। যদি তা-ই হয়, তবে ইমানের দাবি হলো, আপনি এবার জানতে চাইবেন বিয়েশাদির শরিয়তের নিয়ম কী? মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম কীভাবে বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ আনন্দ-বেদনার প্রকাশও শরিয়ত ও সুন্নতমতো হওয়া চাই। মাতম করা, গান-বাজনা, ধুমধামের সঙ্গে বিবাহ উদ্‌যাপন করতে গিয়ে প্রয়োজনে সুদের আশ্রয় নেওয়া, জমিজমা বিক্রি করতেও কুণ্ঠাবোধ না করা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লোকদেখানো পন্থাবলম্বন, ধুমধাম না করতে পারলে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি, এটা কোনাভাবেই রাসুলপ্রেম আর ইমানের সংস্কৃতি নয়। এ কাজ বড় ঘৃণ্য কাজ। এসবই শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড। আল্লাহ তাআলার চরম অপছন্দের কাজ এসব।

এসব কাজে শরিয়ত মেনে চলতে আমরা দায়বদ্ধ। স্রেফ নামাজ-রোজা পালনেই দায়মুক্তি নয়। জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমরা শরিয়তের কাছে দায়বদ্ধ। সব কর্মকাণ্ডে আমাদের আদর্শ মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘হে নবী! মানুষদের বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’

ইসলামি শরিয়তের ওপর আমল করুন। শরিয়তকে আপন ভাবুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন ঘটান। পুরো জীবনে এর ছায়া থাকা চাই। জীবন থাকবে শরিয়তের অধীন। এমন না যে শুধু নামাজ-রোজা শরিয়ত মোতাবেক হলো, ব্যস কেল্লা ফতে। এর জন্য মাসআলা-মাসায়িল জেনে নিন। বিয়ে-তালাক, ব্যবসা-বাণিজ্যে লাগামছাড়া স্বাধীনতা, টেলিভিশনও দিন-রাত চলছে (যা লাহওয়াল হাদিসের উত্তম দৃষ্টান্ত), বেহুদা খরচ, অপব্যয়ও চলছে, নামযশ ও বড়ত্ব প্রদর্শনীও জারি আছে। ভিন্ন জাতীয় সংস্কৃতিও জারি রাখবেন, চর্চা করবেন, এমনটি যেন না হয়।

সাধারণ রোজার মধ্যে যেভাবে পরনিন্দা করা মানা, তেমনি এ বড় রোজায়ও এটি করা হারাম। মিথ্যে বলা, অশ্লীল বকা, ঘুষ লেনদেন, সুদখোরি, অতিরিক্ত খরচ বা অপব্যয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা ধরে নিই, রোজার পর আমরা স্বাধীন। অসম্ভব। আমরা কখনো স্বাধীন নই। এ রোজা চলতেই থাকবে। এ রোজা এখনো জারি আছে। বরং এ রোজা তো বর্তমান রোজার সংরক্ষকও! রমজান মাসের রোজা এ বড় রোজারই অংশ মাত্র। যা আমরা রাখছি। এ রোজা চলতেই থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা আমাদের ইমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করেন। ইমানের সঙ্গে মৃত্যুই আমাদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু। যার জন্য জীবন বাজিও করা যেতে পারে। আমাদের স্বাধীনতা, দরিদ্রতা, ধনাঢ্যতা, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, সফলতা কিংবা বিফলতা—সবকিছু ছাপিয়ে যেন ‘ইমান বিল খায়ের’ হয়। আল্লাহর অলিগণ এ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। তাঁদের জীবনী পড়ুন। এঁদের নাম মুখে নিলেও ইমান তাজা হয়। তাঁরা এ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন। এমনকি শেষ ভালো হওয়ার জন্য এ অলিগণও অন্যদের দিয়ে নিজেদের জন্য দোয়া করাতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের শেষটাও ভালো করেছেন। তাঁদের আলোচনা আজও জারি রেখেছেন।

বড় রোজা ছোট রোজা

রমজান শেষ হয়ে গেলে মনে করবেন না ছুটি হয়ে গেছে। আমরা এখন মুক্ত। স্বাধীন। যা ইচ্ছা করব। আমরা কখনোই আজাদ নই। আপনার গলায় ইসলামের শৃঙ্খল-মালা ঝুলে আছে। আপনার ডায়েরি, আপনার আইডি কার্ডে লেখা আছে আপনি মুসলমান।

আল্লাহর কাছে আজকের দিনের হিসাব দিতে হবে। এ রোজারও হিসাব দিতে হবে। আমি আপনাদের সামনে যে আয়াত পড়েছি তার অনুবাদ হলো, ‘আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি।’ কেউ যদি এতে পরিবর্তন আনতে চায়, রাষ্ট্র যদি বলে, এটা করো ওটা করো, বড় থেকে বড় কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা কোন পণ্ডিতও যদি বলেন, তবু কিছু যায়-আসে না।

যা হারাম তা কেয়ামত পর্যন্ত হারামই। দুনিয়ার কারও এখতিয়ার বা সুযোগ নেই একে হালাল করে। শরিয়তে কোনো ধরনের সম্পাদন বা পুনঃ পাঠের সুযোগ নেই। হারাম হারামই।

এখান থেকেই শপথ করুন, কারও সম্পত্তি-জমিজমা বা পুঁজি আপনার দখলে থাকলে ফেরত দেবেন। এ রোজার দাবিই হচ্ছে, আপনি অন্যের অধিকার ফেরত দেবেন। আল্লাহ তাআলা এতে অত্যন্ত খুশি হবেন। আল্লাহর ভয়েই এমনটা করুন। বলুন, এই নাও তোমার জমিজমা, তোমার বেদখল সম্পত্তি। আমরা এখন থেকে তওবা করেছি।

মিথ্যে বলা, মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়া, মনের পূজা, গালিগালাজ করা, নাজায়েজ ও হারাম কাজের সব মাধ্যম আমদানি করা, ঘুষ নেওয়া, সবই নাজায়েজ। সবাই হারাম। কেয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে। এমনই ভাবে সুদও হারাম। আজকাল কিছু মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে এটি জায়েজ করতে নানান পথ আবিষ্কার করেছেন, আফসোসের বিষয়। যা কিছু দ্বীন ও শরিয়ত হারাম করে দিয়েছে, কেয়ামত এলেও তা হারামই থাকবে।

চেষ্টা করুন, আপনার রোজার যেন বিশুদ্ধভাবে ইফতার হয়। শাহ গোলাম আলি মুজাদ্দেদি দেহলভি (রহ.) নকশেবন্দিয়াহ মুজাদ্দেদিয়া ধারার বড় শায়খ ছিলেন। নবাব মীর খাঁ তাঁর মুরিদ ছিলেন। শায়খের ওখানে শত শত মানুষ থাকতেন। খায়-খরচ সবই শায়খ বহন করতেন। অথচ শায়খের সে মতে তেমন কোনো আয়ের পথ ছিল না। ছিল না পুঁজিপাট্টাও। নবাব এসব দেখে শায়খের কাছে বড় অঙ্কের হাদিয়া নিয়ে বললেন, হজরত এগুলো কবুল করে নিন। শায়েখ বললেন, এ ফকির রোজা রেখেছে। যখন সূর্য ডুবতে শুরু করেছে, তখন রোজা ভাঙা উচিত না। আমার জীবনসূর্য ডোবার সময় খুব নিকটে। এখন যে যতই বলুক না কেন, এটা নিন, ওটা খান, আমি কিছুতেই রোজা ভাঙব না। সারা দিন রোজা রেখে যখন ইফতারের সময় সন্নিকটে, তখন ভাঙব রোজা!
সবার বুঝতে হবে, এই হচ্ছে ইসলামের রোজা। আজীবন রোজা। কোনো বিরতি নেই। এখানে হারাম হারামই। এখানে গলদ গলদই। আকিদা বিশুদ্ধ হওয়া চাই। মনে রাখবেন, কেউ কারও ভাগ্য ভালো-মন্দ করে বদলে দিতে পারে না। কেউ এসে আপনাকে পতিত বিপদ থেকে টেনে তুলে ফেলতে পারবে না। কেউ সন্তানও দিতে পারবে না। কেউ চাকরি দিতে পারবে না। অন্যের কাছে কেন হাত পাতবেন। যা কিছু চাওয়ার, তাঁর কাছেই চান। তিনি শোনেন। সাড়া দেন। আল্লাহ তাআলা রাসুলকে বলছেন, ‘লোকেরা তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলে দাও, আমি তাঁর নিকটেই আছি। যখন সে প্রার্থনা করে তখন আমি তা কবুল করি।’

আপনারা এখন থেকে এই রোজার ধারণা নিয়ে যান। আনন্দিত হোন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। রমজানের রোজা তো ফুরিয়ে যাচ্ছে। আগামী রমজান পাওয়ার প্রার্থনা করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, জীবনের কোনো ভরসা নেই। সুস্থতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হ্যাঁ, ধারাবাহিক ও দীর্ঘ এ রোজা তো থাকবেই। আপনার রোজা মোবারক হোক। এ রোজার খেয়াল রাখুন। এটি যেন ভেঙে না যায়। এ রোজা ভেঙে গেলে আপনার কিছুই আস্ত থাকবে না। সবকিছু অচল হয়ে পড়বে।

এই হলো দুই রোজা। এক রোজা হলো স্বল্প সময়ের রোজা। এ হলো রমজানের রোজা। সরা দিনের রোজা। আরেক রোজা হলো, আজীবন রোজা। মুসলমানদের জন্য যখন সে বালেগ হয়, তখন থেকে নিয়ে যতক্ষণ ধরে প্রাণ থাকে; নিশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ রোজার বিস্তৃতি। যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাঁর জন্যও শরীরে রুহ-প্রাণ থাকা পর্যন্ত এ রোজা বলবৎ থাকবে।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে তৌফিক দিন; আমরা যেন এ রোজার ওপর অবিচল থাকতে পারি। যেন এ রোজার হেফাজত করি, কদর করি এবং এ রোজার ওপরই বাঁচি। এ রোজার ওপর থেকেই মরি।

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হলে যে দোয়া পড়বেন

মানুষ এখন মহামারি করোনার কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একদিকে মহামারি করোনার ভয়াল থাবা অন্যদিকে মানুষ জীবন-জীবিকার টানে না বসে থাকতে পারছে, না কাজে যেতে পারছে। মানুষের জন্য সব দিক বিবেচনায় এটি এক কঠিন পরিস্থিতি।

হ্যাঁ, মানুষের এ রকম কঠিন বিপদের মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি যে শুধু ক্ষতিকর বিপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়; বরং দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি, মহামারি, ঝড়-তুফান, বন্যা-বজ্রপাত, চাকরি-বাকরি, পড়া-শোনা, পরীক্ষা-ইন্টারভিউ, ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ কিংবা দেশ-বিদেশে যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।

তাই যদি কেউ যে কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদে পড়ে যায়; তবে তার উচিত হাদিসের অনুসরণে এ দোয়াটি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। যা পড়তেন স্বয়ং বিশ্বনবি। কারণ তিনি নিজেও এ রকম অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
اَللَّهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهُلَا وَ أَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলা ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিতা সাহলা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়; তুমি যেটিকে সহজ করে দাও; সেটি ছাড়া। তুমি যখন চাও, পেরেশানিকে সহজ করে দাও।’ (ইবনু হিব্বান)

সুতরাং পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই। মানুষ যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন; মহান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কিছুই নয়; আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো ক্ষমতা বা সাহায্যও নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কঠিন পরিস্থিতি ও বিষয়ে তাঁর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ভাষায় সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে আমল-ইসতেগফারে আসবে না অভাব

ইসতেগফার বা ক্ষমা জীবিকা অর্জনের অন্যতম উপায়। এটি উত্তম রিজিক লাভের দুর্দান্ত কার্যকরী আমল হিসেবেও বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে জীবিকা বা রিজিক লাভে ইসতেগফারের বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً
অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

হাদিসে পাকে এসেছে, ‘অভাব মানুষকে কখনও কখনও কুফরের কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ অনেক সময় এ অভাব মানুষের ঈমান-আকিদাকেও দুর্বল করে দেয়। শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয় বরং উত্তম রিজিক দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা ফর্মুলা ও আমল বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাহলো-
১. বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করা
তাওবাহ-ইসতেগফারে বান্দার অভাব মোচন হয়। গোনাহ মাফ হয়। সন্তান-সন্তুতির অভাব যেমন থাকে না তেমিন রিজিকেও আসে পরিপূর্ণ বরকত। অভাবমুক্ত থাকতে কুরআনুল কারিমে বেশি বেশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করার এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে উত্তম রিজিকসহ অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অতপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

> أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

> أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

> رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

> أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

> رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

২. যথা সময়ে জাকাত আদায়
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে জাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তাই অভাবমুক্ত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে যথা সময়ে নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় তথা নির্ভরযোগ্য জাকাত ফাণ্ডে জাকাতের টাকা জমা দেওয়া। জাকাতের অর্থ সুষম বণ্টনের জন্য কারা এ অর্থ পাবে তার সুস্পষ্ট বর্ণনাও এসেছে কুরআনে।
যাদের সম্পদ অর্জনের কোনো যোগ্যতা বা সামর্থ্য নেই। জীবন পরিচালনায় উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনো সম্পদ পায়নি। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য ধনী-সম্পদশালীর অর্থে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। এসব লোক সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
’জাকাত হল কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন (নব মুসলিম) তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত বিধান গরিবের অধিকার জাকাত আদায়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা যারা জাকাত আদায় করবে না তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,(কিছু কথপোকথনের পর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন! যে ব্যক্তি এ ধরনের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করল, যার জাকাত সে দেয়নি, কেয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা থেকে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার কাছে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুরা দ্বারা তাকে দলিত (আঘাত) করবে এবং শিং দ্বারা গুঁতা মারবে। (এভাবে) শেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকবে।’ (তিরমিজি)

আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। আর সে কারণেই ইসলামি খেলাফতের সফল খলিফা দ্বিতীয় ওমর খ্যাত হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়ে এসে জাকাতের অর্থ গ্রহণের জন্য কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৩. সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াও অন্যতম একটি। মদিনায় হিজরতকালীন সময়ে মহাজিরদের আর্থিক সংকটে আনসারদের সহযোগিতাই এর অন্যতম উদাহরণ। সর্ব কালের সর্ব যুগের জন্য এ সহযোগিতার উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হাদিসে সে সময়ের একটি ঘটনা এভাবে উঠে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার আনসার সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাদের ও আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ’না’। তখন তাঁরা (মুহাজিরদের) বললেন, আপনারা আমাদের (আনসারদের) বাগানে (আমাদের সঙ্গে) কাজ করুন, আমরা আপনাদের (মুহাজিরদের) ফল-ফলাদির অংশীদার করব। তাঁরা বলল, আমরা শুনলাম এবং মানলাম।’ (বুখারি)

৪. আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়তার বন্ধ ঠিক রাখা কুরআনুল কারিমের নির্দেশও বটে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তিদের রিজিক বেড়ে যাবে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (বুখারি)

৫. দোয়ার আমল
অভাব থেকে মুক্তি ও উত্তম রিজিকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার বিকল্প নেই। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে অভাবমুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিশেষ আবেদন শিখিয়েছেন। যাতে তাঁর উম্মত অভাবের কারণে কুফরির দিকে চলে না যায়। হাদিসে এসেছে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফিকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনা আজিবল ক্বাবরি লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (আবু দাউদ)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা হতে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আজাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।’

অভাবমুক্ত থাকতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনা মুমিন মুসলমানসহ সবার জন্য খুবই জরুরি। আর তা পালনে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র হবে নিঃসন্দেহে অভাবমুক্ত।

আল্লাহ তাআলা কুরআন-সুন্নাহর এসব দিকনির্দেশনা মেনে অভাবমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের তাওফিক দিন। অভাবের কারণে মুমিন মুসলমানকে কুফরির দিকে ধাবিত হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিদেশিদের ওমরাহ শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞায় থাকবে ৯ দেশ

সৌদি আরব আগামী ১ মুহাররম (১০ আগস্ট) থেকে বিদেশিদের জন্য ওমরাহ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ৯টি দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবারও ৯ দেশের উপর ওমরাহ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

আল আরাবিয়া সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ সংস্থা ও ঠিকাদারকে আগামী মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে বিদেশিদের ওমরাহ পালনের সুবিধার্থে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে যারা মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়া সম্পন্ন করেছে তারাই কেবল ওমরাহ করার অনুমতি পাবে।

তবে এবারও ওমরাহ করতে বিশ্বের ৯টি দেশের ওপর থাকছে নিষেধাজ্ঞা। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং লেবানন থেকে কোনো ওমরাহ পালনকারী ওমরাহ পালনে যেতে পারবে না।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ করার সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়ম-কানুন নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য সফলভাবে ১৪৪২ হিজরির পবিত্র হজ সম্পন্ন হওয়ার পর যথারীতি গত ২৫ জুলাই মোতাবেক ১৫ জিলহজ (সৌদিতে) রোববার শুরু হয়েছে পবিত্র ওমরাহ। এ ধারাবাহিকতায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১ মহররম ১৪৪৩ হিজরি মোতাবেক সম্ভাব্য ১০ আগস্ট থেকে মুসলিমরা করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ ও শর্তসাপেক্ষে ওমরাহ পালন করতে পারবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিশ্বনবির সুপারিশ ও সাক্ষাৎ পাওয়ার উপায়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য সুসংবাদদাতা, সাক্ষী ও সতর্ককারী। তাঁকে মহান আল্লাহর প্রেরিত নবি ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করাই ঈমানের অন্যতম শর্ত। তার প্রতি দরূদ পড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নির্দেশ। এ সবের বিনিময়ে রয়েছে মহাপুরস্কার। কী সেই পুরস্কার?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তাঁকে সুসংবাদদাতা, সাক্ষী ও সতর্ককারী হিসেবে জানা, বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর প্রতি দরূদ পড়ার মহাপুরস্কার হচ্ছে- তাঁর সাক্ষাৎ ও সুপারিশ পাওয়া। এটি মুমিন মুসলমানের একান্ত চাওয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পাওয়ার, পরকালের সুপারিশ পাওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ শরিফ পড়া। আর যে দরূদটি পড়তে সহজ এবং ছোট তাহলো-
صَلِّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم
উচ্চারণ : ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’

বিশ্বনবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের, তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানোসহ তাঁর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ এসেছে একাধিক আয়াতে। তাহলো-
১ .‘আমি আপনাকে (নবি করে) পাঠিয়েছি (বিশ্ববাসীর জন্য) সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। যাতে তোমরা (মানুষ) আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তোমরা রাসুলকে শক্তি যোগাও, তাঁকে সম্মান কর।’ (সুরা ফাতাহ : আয়াত ৮ ও ৯)

২. ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবির প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশতারাও নবির জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবির জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠানো হলো মুমিন মুসলমানের জন্য ইবাদত ও অনেক ফজিলতপূর্ণ কাজ। এতে একদিকে যেমন তাঁর সাক্ষাৎ লাভ হয় তেমনি পরকালে তার জন্য সুপারিশও সুনিশ্চিত। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা সুস্পষ্ট-
১. যে ব্যক্তি হাশরের ময়দানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে থাকতে চায়, সে যেন বেশি বেশি দরূদ পড়ে।
২. যে ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বতে বেশি বেশি দরূদ পড়বে, তাঁর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ আবশ্যক হয়ে যায়।
৩. যে ব্যক্তি মহব্বতের সঙ্গে বেশি বেশি দরূদ পড়বে, দরূদের বরকতে ওই ব্যক্তি স্বপ্নযোগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করবেন।
৪. বেশি বেশি দরূদ পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।

মনে রাখা জরুরি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম না পড়ায় রয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। হাদিসে এসেছে-
‘তিন শ্রেণির ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ধ্বংসের অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একশ্রেণি হলো- যারা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম শোনার পরও তার প্রতি দরূদ পড়ে না।’ (নাউজুবিল্লাহ)

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পড়া ক্ষতিকর কোনো কাজ নয় বরং দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে ছোট কিংবা বড় দরূদ বেশি বেশি পড়ায় দুনিয়া ও পরকালের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়ার তাওফিক দান করুন। দরূদের যথাযথ ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com