আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচন

বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট।
বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট।

দেশের ছাগল নিয়ে গবেষণায় এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের কালো ছাগল বা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছেন চট্টগ্রামের একদল গবেষক। গবেষক দলটি বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতের ছাগলের যে প্রধান তিনটি দুর্বলতা ছিল, তার কারণ বের করেছেন। দুর্বলতাগুলো দূর করে আরও উন্নত জাতের ছাগল উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন তাঁরা।

গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এম এ এম জুনায়েদ ছিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে আছেন চট্টগ্রামেরই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন গবেষক।

গবেষণাটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি গবেষণার ফল বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী বিএমসি রিসার্চ নোটস–এ (‘স্প্রিনজার ন্যাচার’ কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত) প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণার আরেকটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস গ্রুপের ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-বি’ শীর্ষক প্রকাশনায়। স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (এনসিবিআই)।

পাট, মহিষ ও ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের পর ছাগল নিয়ে গবেষণাতেও এই সাফল্য এল। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে একই বিষয়ের ওপর গবেষণা করে সফলতা পান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্লা।

গবেষণার বিষয়ে জুনায়েদ ছিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে এই জাতের ছাগলের দুর্বল বৈশিষ্ট্যগুলো বের করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও উন্নত প্রজাতির ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত তৈরি করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। এ গবেষণার ফলে ছাগলের মাংসের মান উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধির মতো প্রয়োজনীয় তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ফলে আমরা যে জাতটি উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছি, তা সফল হলে দেশের ছাগলের উৎপাদন বাড়বে, সার্বিকভাবে তা দারিদ্র্য বিমোচনে আরও ভূমিকা রাখবে।’ 

অধ্যাপক জুনায়েদ ছিদ্দিকী আরও জানান, কালো ছাগলের নতুন জাত উদ্ভাবনের গবেষণায় সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি সংস্থা ইতিমধ্যে অর্থায়নের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

গবেষক দলটি ছাগলের যে তিনটি দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে, তা হচ্ছে ছাগলের পিপিআর নামে একধরনের ভাইরাসজনিত রোগ হয়। ঠান্ডা, জ্বরসহ নানা উপসর্গ দেখা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে ওই রোগে আক্রান্ত ছাগল মারা যায়। কালো ছাগলের বাচ্চাদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ এ রোগে মারা যায়। জীবনরহস্য উন্মোচনের ফলে ওই রোগ কেন ও কীভাবে ছাগলের বাচ্চাকে আক্রমণ করে, তার প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করা গেছে। এখন তা দূর করার গবেষণা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া একটি পূর্ণবয়স্ক ছাগল বছরে গড়ে আড়াইটি করে বাচ্চা দেয়। আর তিন নম্বর বাচ্চাটি মায়ের দুধ বেশি পায় না। ফলে সেটি খুব বেশি দিন বাঁচে না, বাঁচলেও দুর্বল হয়।

চট্টগ্রামের এ গবেষণায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ইউএসটিসি ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

গবেষক দলটি জানিয়েছে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিনোমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৪ গিগাবেজপেয়ার। সব মিলিয়ে ২৯ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২৬ হাজার জিনের অস্তিত্ব ধারণ করা হয়। এ গবেষণার সব তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এনসিবিআই ডেটাবেইসে সংরক্ষিত আছে। এ গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণের জন্য ১২৮ জিবি র‍্যাম ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উচ্চগতির কম্পিউটার ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি সার্ভারকেও ব্যবহার করা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, সংখ্যার দিকে থেকে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। বিশ্ববাজারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ হিসেবে পরিচিত। দেশে আড়াই কোটির বেশি ছাগল আছে। এর ৯৫ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল।

এগ্রোবিজ

দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে

দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে
দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে

গাভীর দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগতমান জাতের ওপর নির্ভর করে। দেশীয় জাতের গাভীর দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু এরা দুধ উৎপাদন করে কম। বিদেশি জাতের গাভী দেশীয় জাতের গাভী থেকে বেশি দুধ দেয়।

খাদ্য
খাদ্য গাভীর দুধ উৎপাদন ও গুণগতমানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। বেশি খাবার দিলে বেশি দুধ পাওয়া যায়। অবশ্যই সুষম খাদ্য হতে হবে। কারণ খাদ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো ভিন্ন অবস্থায় দুধের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। খাদ্য দুধে মাখনের উপস্থিতি কম-বেশি করতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত দানাদার খাদ্য, পিলেট জাতীয় খাদ্য, অতিরিক্ত রসালো খাদ্য, মিহিভাবে গুঁড়ো করা খড়ে গাভীর দুধের মাখনের হার কম হতে পারে। মাখনের পরিমাণ কমে গেলে খাদ্য পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে। দুধে খনিজ পদার্থ ও খাদ্যপ্রাণের পরিমাণ গাভীর খাদ্যের মাধ্যমে বাড়ানো যায়। গাভীকে সুষম খাদ্য না দিলে দুধে সামান্য মাত্রায় আমিষ ও শর্করা জাতীয় উপাদান পাওয়া যায় এবং দুধ উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়।

দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে
দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে

দোহন
দুধ দোহন বিশেষ করে দোহন কাল, দোহনের সময়, দুধ দোহন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন বাঁটের প্রভাব ইত্যাদি গাভীর দুধের পরিমাণ ও মানকে প্রভাবিত করে। গাভীর দুধ দেওয়ার পরিমাণ আস্তে আস্তে ৫০ দিনে বেড়ে সর্বোচ্চ হয়। ওলানে দুধের চাপের ওপর দুধের পরিমাণ ও উপাদান নির্ভর করে। দুগ্ধদান কালের ৯০ দিন পর থেকে দুধে মাখন ও আমিষের হার আংশিক বাড়ে। একই গাভীকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দোহন করলে দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। তাই সকালের দুধের চেয়ে বিকালের দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই গাভীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২-৩ বার দোহন করা উচিত। এতে দুধ উত্পাদনের পরিমাণ বাড়তে পারে।

প্রসবকালে
প্রসবকালে গাভীর সুস্বাস্থ্য আশানুরূপ দুধ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাভী থেকে বেশি দুধ পেতে হলে গর্ভকালে সুষ্ঠু পরিচর্যা ও সুষম খাদ্য দেওয়া প্রয়োজন। প্রসবের দুই মাস আগে গাভীর দুধ দোহন অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে। মোট দুধ উৎপাদনের ৪০% ওলানের সামনের অংশের বাঁট এবং ৩০% পেছনের অংশের বাঁট থেকে পাওয়া যায়। গাভীর ওলানের বাঁট অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে।

দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে
দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে

সতর্কতা
রক্ষণাবেক্ষণ, বাসস্থান, গাভীর দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগতমানের হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী। পারিপার্শ্বিক অবস্থা গাভীর জন্য আরামদায়ক হওয়া উচিত। দোহনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে অর্থাৎ দুধ দোহন ত্রুটিপূর্ণ হলে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগতমান কমতে পারে।

মৌসুম
প্রতিকূল আবহাওয়া দুধ উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর। শীত মৌসুম দুধাল গাভীর জন্য আরামদায়ক। এ মৌসুমে দুধ উৎপাদনের এবং দুধে মাখনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, গরমকাল, বর্ষাকাল, আর্দ্র আবহাওয়ায় গাভীর দুধের উৎপাদন ও গুণগতমান হ্রাস পায়। গরমের দিকে গাভীকে ঠান্ডা অবস্থায় রাখলে উৎপাদনের কোনো ক্ষতি হয় না। গাভীর প্রজননের সময় দুধ উৎপাদন কমে যায়।

দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে
দুধের উৎপাদন বাড়াবেন যেভাবে

প্রসব বিরতি
দীর্ঘ বিরতিতে বাচ্চা প্রসব করলে গাভীর দুধ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কম বিরতিতে বাচ্চা প্রসবের কারণে দুধ উত্পাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই গাভীকে বাচ্চা প্রসবের ৬০-৯০ দিনের মধ্যে পাল দিতে হবে। কোনোক্রমেই ৬০ দিনের আগে প্রজনন করানো উচিত নয়। গাভীর শরীরে ৫০% এবং দুধে প্রায় ৮৭% পানি থাকে। তাই গাভীকে ইচ্ছামত পানি পান করার ব্যবস্থা করলে দুধ উৎপাদন বেশি হয় এবং দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব

আমাদের গৃহপালিত বা খামারের গবাদি পশুর মাঝে মাঝে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। এতে গবাদি পশুর উৎপাদন কমে যায়। এসব বিষয়ে সবারই প্রাথমিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আসুন জেনে নেই গবাদি পশুর রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব-

রক্ত আমাশয়
গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ককসিডিয়া বা আইমেরিয়া নামে এক প্রকার প্রোটোজোয়া কৃমির সংক্রমণের ফলে এই রোগ দেখা যায়।

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব

লক্ষণ
১. হঠাৎ করে দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা হয়।
২. ডায়রিয়া সহজে কমতে চায় না।
৩. কয়েকদিন পর পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস দেখা যায়।
৪. আমাশয়ের মত লক্ষণ দেখা দেয়।
৫. লেজের গোড়ায় রক্ত মিশ্রিত মল লেগে থাকে।
৬. তীব্র কোথ দেওয়ার ফলে অন্ত্র থেকে মল বেরিয়ে আসে।
৭. রেকটাল প্রলাপস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৮. পশু দুর্বল হয়ে যায়।
৯. পশুর খাদ্যে অরুচি দেখা যায় এবং শুকিয়ে যায়।
১০. পশুর শরীরে খিঁচুনি দেখা দেয়।

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- প্রথম পর্ব

চিকিৎসা
প্রথম দিন প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২৫-৩০ মিলিলিটার করে মাংসে বা চামড়ার নিচে বা শিরায় ডিমিডিন ইনজেকশন দিতে হবে। দ্বিতীয় দিন থেকে ওই মাত্রার অর্ধেক হিসেবে পরপর ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে। অথবা প্রতি ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি সালকাট্রিম বোলাস দৈনিক একবার বা দুইটি বিভক্ত মাত্রায় ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

প্রতিরোধ
• স্বাস্থ্যসম্মত পালন ব্যবস্থা।
• বাচ্চা প্রসবের ঘর বা স্থান পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকা আবশ্যক।
• ঠাসাঠাসিভাবে পালন করা উচিত নয়।
• পশুর সব খাদ্য ও পানীয়তে যাতে মল লেগে দূষিত না হয়, সে ব্যবস্থা করা।
• নির্দিষ্ট সময় ওষুধ খাওয়ালে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস

 গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস
গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস

দেশে নেপিয়ার নামে উন্নত জাতের ঘাস রয়েছে। প্রায় সব অঞ্চলে এ ঘাস চাষ করা সম্ভব। এ ঘাস থেকে গবাদি পশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা পূরণসহ অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়া যায়।

নেপিয়ার
নেপিয়ার এক প্রকার স্থায়ী ঘাস। দেখতে আখের মতো, লম্বা ৬-১২ ফুট বা তার চেয়েও বেশি হয়। এ ঘাস দ্রুত বাড়ে, সহজে জন্মে, পুষ্টিকর, সহজপাচ্য ও খরা সহিষ্ণু। একবার রোপণ করলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

জমি
বৃষ্টি বা বর্ষার পানি জমে থাকে না এমন জমিতে নেপিয়ার চাষ করতে হয়। সব ধরনের মাটিতে এ ঘাস রোপণ করা যায়, তবে বেলে-দোআঁশ মাটি বেশি উপযোগী।

গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস
গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস

সময়
বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা ভালো। বর্ষার শুরুতে এ ঘাসের কাটিং বা চারা রোপণ করা হয়। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে প্রথম বৃষ্টির পর জমিতে চারা বা কাটিং লাগালে প্রথম বছরেই ৩-৪ বার পর্যন্ত ঘাস কাটা যেতে পারে। চারা বা কাটিং লাগানোর পর যদি রোদ হয় বা মাটিতে রস কম থাকে তাহলে চারার গোড়ায় পানি দিতে হয়।

রোপণ
এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব দুই-তিন ফুট। এক চারা থেকে অন্য চারার দূরত্ব দেড় ফুট হবে। মাটিতে রস না থাকলে চারা লাগানোর পর পানি সেচ দিতে হবে। সাধারণত প্রতি একর জমি রোপণের জন্য সাত-আট হাজার চারা বা কাটিংয়ের প্রয়োজন হয়।

সার ও পানি
ভালো ফলন ও গাছের বৃদ্ধির জন্য সার এবং পানি প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রয়োজন না হলেও অন্য সময়ে পানির প্রয়োজন হয়।

 গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস
গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস

জমি তৈরি
দেড় থেকে দুই টন গোবর প্রতি একরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া ১৫০ কেজি, টিএসপি ৮০ কেজি ও এমওপি ৭০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়।

ঘাস কাটা
কাটিং বা মোথা লাগানোর ৬০-৭০ দিন পর প্রথমবার ঘাস সংগ্রহ করা যায়। এরপর প্রতি ৬-৮ সপ্তাহ পরপর ঘাস সংগ্রহ করা যায়। মাটির ৫-৬ ইঞ্চি উপর থেকে ঘাস কাটতে হয়। প্রথম কাটিংয়ে ফলন একটু কম হলেও দ্বিতীয় কাটিং থেকে পরবর্তী ২-৩ বছর পর্যন্ত বাড়তে থাকে।

পুনরায় চাষ
চার বছর পর আবার কাটিং বা মোথা লাগাতে হয়। প্রত্যেকবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৬০-৭০ কেজি ইউরিয়া, ৪০-৫০ কেজি টিএসপি, ৪০-৫০ কেজি এমওপি এবং ২-৩ টন গোবর বা কম্পোস্ট সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়।

 গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস
গবাদি পশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস

ফলন
বছরে প্রতি হেক্টরে ১৪০-১৮০ টনের মতো ঘাস উৎপাদিত হয়। সাইলেজ করার ক্ষেত্রে ঘাসে ফুল ফোটার আগে বা পরপরই কাটা ভালো।

সতর্কতা
নেপিয়ারের জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগের পর অনেক দিন খরা হলে ইউরিয়া থেকে নাইট্রেট বা নাইট্রাইট ঘাসের মধ্যে উৎপন্ন হতে পারে। পরবর্তীতে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার পর দ্রুত বেড়ে ওঠা এ ঘাস কেটে খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বিষক্রিয়া হতে পারে।

মনে রাখা ভালো
১. জমিতে সার ছিটানোর ২ সপ্তাহের মধ্যে ঘাস কাটা উচিত নয়।
২. দীর্ঘদিন খরার পর হঠাৎ বেশি বৃষ্টিপাতে দ্রুত বেড়ে ওঠা ঘাস খাওয়ানো ঠিক নয়।
৩. ঘাস কাটার একমাস আগে সার ছিটানো উচিত।

সংরক্ষণ
নেপিয়ার ঘাস শুকিয়ে সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক নয়। তবে কাঁচা ঘাস সাইলেজ করে শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষণ করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

আকাশজুড়ে শান্তির পায়রা উড়ছে

শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পায়রা উড়িয়ে দেয়া হয়। এবারের অ্যালবাম শান্তির পায়রা নিয়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন

কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন
কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন

হাঁসকে প্রধানত মুক্ত অবস্থায়, আধাছাড়া অবস্থায় এবং ফার্মে আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায়। গ্রামাঞ্চলে প্রধানত মুক্ত অবস্থায় হাঁস পালন করা হয়। মূলত পুরুষ হাঁসের চেয়ে ডিম পাড়া হাঁসের কদর অনেক বেশি। তাই জেনে নিন ডিম পাড়া হাঁস পালনের নিয়ম-

হাঁসের ঘর
হাঁস সারা দিন পুকুর, নালা, ডোবার পানিতে সাঁতার কাটে। রাতে বাসায় ফিরে আসে। সে জন্য হাঁসের ঘর প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে ১২ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট প্রস্থ ঘরে ৫০-৬০টি হাঁস পালন সম্ভব।

কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন
কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন

হাঁসের খাবার
হাঁস মোটামুটি সব খাবারই হজম করতে পারে। তাই এর খাদ্য নিয়ে তেমন সমস্যা হয় না। উপাদান হিসেবে প্রতিটি হাঁসের জন্য গম বা ভুট্টা ভাঙা ৪৫ গ্রাম, চাউলের কুঁড়া ১২ গ্রাম, খৈল ( চিনাবাদাম, তিল) ১২ গ্রাম, শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১০ গ্রাম, গমের ভূষি ১৫ গ্রাম, হাড়ের গুঁড়া ৫ গ্রাম, লবণ ০.৫ গ্রাম এবং খনিজ মিশ্রণ ০.৫ গ্রাম।

কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন
কিভাবে ডিম পাড়া হাঁস পালন করবেন

উল্লেখিত খাবারের উপাদান পরিমাণমতো নিয়মিত খাওয়ালে ডিম পাড়া হাঁস পালন আপনার জন্য লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com