আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন জাত

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)। ইতিমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ড জাতটি অনুমোদন দিয়েছে। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’। আগামী বছর থেকে চাষের জন্য এই জাতের গমবীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

ডব্লিউএমআরআইয়ের গম গবেষকেরা বলছেন, জাতীয় বীজ বোর্ড এ পর্যন্ত গমের ‘ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী’ দুটি জাতের অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী গমের একটি জাত উদ্ভাবন করে। ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত হিসেবে ‘বারি গম-৩৩’ নামে জাতটিকে অনুমোদন দেয়। এই জাত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। আর নতুন উদ্ভাবিত ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি ৯৯ দশমিক ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী।বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় বীজ বোর্ডেরও সদস্য। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে জাতটি কৃষক পর্যায়ে আসবে।

বিডব্লিউএমআরআইয়ের গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) চারটি জাতের সঙ্গে সংকরায়ণের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল গমের এই জাত পাওয়া গেছে। এটি গমের ব্লাস্ট রোগ, পাতার দাগ রোগ ও মরিচা রোগপ্রতিরোধী এবং তাপসহিষ্ণু। জাতটি প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল। এর জীবনকাল ১০৮-১১৪ দিন। জাতটির গাছ শক্ত, শিষ লম্বা এবং প্রতি শিষে দানার সংখ্যা ৪৮-৫৪টি। দানার আকার মাঝারি, রং সাদা চকচকে এবং হাজার দানার ওজন ৪২-৪৬ গ্রাম। গাছের রং গাঢ় সবুজ। উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ফলন চার থেকে পাঁচ মেট্রিক টন।বিজ্ঞাপন

জাতটি ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্যম মাত্রার তাপ সহনশীল হওয়ায় এটি ৫ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বপন করলে অন্য জাতের তুলনায় বেশি ফলন পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে জাতটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। রবি মৌসুমে দেশের ১৩টি স্থানে জাতটির মাঠপর্যায়ে গবেষণা হয়। গমের এ জাতের চূড়ান্ত মাঠ পরীক্ষা হয় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা হয় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় দিনাজপুর এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি গাজীপুরে। এরপর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’ নামে গমের এই জাতকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

* গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’ নামের এই জাতকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। * এ বছর ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসিকে ব্রিডার সিড দেওয়া হবে। আবাদের জন্য আগামী বছর বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলায় গমে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ৭টি জেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গম এ রোগের আক্রমণের শিকার হয়। এতে গমের উৎপাদন এক–তৃতীয়াংশ কমে যায়। কৃষকেরা মূলত বারি গম-২৬ জাতটি বেশি পরিমাণে চাষ করেন। ওই জাতের গমে ব্লাস্ট ব্যাপক আকারে আক্রমণ করে।

কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। গমের শিষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকলে এ রোগের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। প্রধানত গমের শিষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শিষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পড়ে। আক্রান্ত স্থানের ওপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শিষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শিষের দানা অপুষ্ট হয় ও কুঁচকে যায়। দানা ধূসর বর্ণের হয়ে যায়। গমের পাতায়ও এ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাতায় চোখের মতো ধূসর বর্ণের ছোট ছোট দাগ পড়ে।

যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬ সালে প্রথম দেখা দেওয়ার সময় গমের ব্লাস্ট রোগটি আমাদের দেশে ছিল একেবারেই নতুন। গমে এই রোগ দেখা দেওয়ার পর গবেষণা শুরু হয়। এরপর বারি গম-৩৩ নামে নতুন ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গমের ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট দিনাজপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম বলেন, নতুন উদ্ভাবিত জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড ‘ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী’ জাত হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এ বছর ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসিকে ব্রিডার সিড দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

চৌদ্দগ্রামে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আখচাষ বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এবার ৩০ হেক্টর জমিতে একাধিক জাতের আখের চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সর্বমোট ২৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার ৫ হেক্টর বেশি আবাদি জমিতে আখ চাষ করেছে স্থানীয় আখচাষিরা। আখের বাম্পার ফলন এবং খরচের তুলনায় বাজারে আখের ভাল দাম থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আখচাষিরা। হাটবাজারগুলোতে হরদমে চলছে আখের বেচাকেনা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার সিইও-২০৮, বিএসআরআই-৪১ (অমৃত), বিএসআরআই স্থানীয় (রঙ বিলাস) ও চায়না বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। নানা জাতের দৃষ্টিনন্দন এসব আখক্ষেত দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। বাহারি রঙের আখগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। কৃষককৃল ব্যস্ত রয়েছেন আখের শেষ মুহুর্তের পরিচর্যা ও বিক্রি নিয়ে। এবার আলকরা থেকে কাশিনগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আগের তুলনায় আখ চাষ অনেকাংশে বেড়েছে। ৯০ দশক থেকে স্থানীয় কৃষকরা স্বল্প পরিসরে আখ চাষ করলেও বর্তমানে এর ফলন ভালো ও ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। গ্রীষ্ম শেষ হয়ে গেলেও তীব্র গরমের ফলে বাজারে আখের অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় আখ ক্রয়ে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর সাপ্তাহিক হাট-বাজারসহ জনবহুল স্থানে প্রান্তিক কৃষকরা মাচা তৈরী করে বিক্রি করছেন রসালো এই আখ। অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী মেশিনে চিবিয়ে বিক্রি করছেন আখের রস। প্রতি গ্লাস রস ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত  বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে আখ রসকে বোতলে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ রোগিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য।

উজিরপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের আখচাষি জাফর উল্লাহ জানান, এবার ১৮ শতক জমিতে সিও ২০৮ জাতের আখ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই তিনি ৭০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। আখ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক অলী আহম্মদ জানান, ২৫ শতক জমিতে আখ চাষ করে তিনি এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। কমপক্ষে ১ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মাটি ও জলবায়ু আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগি। আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে আখ চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আখচাষিদের সহযোগিতা করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি’।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আখের রস একটি পুষ্টিকর উপাদান। যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রেইন সার্কুলেশনে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আখরসের কোন বিকল্প নেই। এ সময় তিনি বেশি বেশি আখরস পান করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পাটের আঁশ ছাড়িয়ে গ্রামের নারীদের বাড়তি আয়

পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি টাকা উপার্জন করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা। আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে মজুরি হিসেবে তাঁরা পাটখড়ি পান। সে খড়ি বাজারে বিক্রি করেন তাঁরা। গত দুই দিন গ্রামে ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

একাধিক নারী জানান, পাট ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না। পাটগাছ থেকে পাট আলাদা করে দিয়ে তাঁরা পাটখড়ি নিয়ে যান। নিজেদের বাড়িতে সেগুলো শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি বান্ডিল পাটখড়ি ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়।বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার উপজেলার আগ্রা, হরশুয়া, সেনগাঁওসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের বেশির ভাগ গৃহিণী দল বেঁধে খোলা জায়গায় বসে কৃষকের পাটগাছ থেকে পাট ছাড়ানোর কাজ করছেন। আগ্রা গ্রামের জুলেখা বেগম (৪৭) বলেন, প্রতিদিন পাট ছিলে দিয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মূল্যের সমান পাটখড়ি পাওয়া যায়। আশ্বিনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলবে। এ বছর প্রায় আট হাজার টাকা আয় হয়েছে বলে জানান জুলেখা।বিজ্ঞাপন

তিন সপ্তাহ ধরে গ্রামের ডোবা-পুকুরে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন নারীরা। দহগাঁ গ্রামের তমা রানী (৫০) বলেন, শ্রাবণ মাসে পাট জাগ দেওয়া শেষ হয়। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করেন।

উপজেলার সিঙ্গারোল গ্রামের লোকমান আলী (৩০) ও দহগাঁ গ্রামের ইদরিশ আলী (৪৬) নারীদের কাছে থেকে পাইকারি দরে পাটখড়ি কেনেন। তাঁরা জানান, গ্রামে গিয়ে বিক্রেতার বাড়ি থেকে এক বান্ডিল আধা শুকনা পাটখড়ি ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায় কেনেন। পরে সেগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন। এখনো অনেক বাড়িতে পাটখড়ি দিয়ে রান্নার কাজ হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যশোরে লক্ষ্যমাত্রারও বেশি হয়েছে পাটের আবাদ

লেখক

 জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রারও বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। সোনালী ফসল পাট নিয়ে কর্মযজ্ঞ চলছে গ্রামীণ জনপদে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পাট ঘরে তোলার কাজে নেমেছেন কৃষক। বসে নেই কৃষাণীরাও। তারাও এই কাজে কোমর বেঁধে নেমেছে। যশোরের ফসলের মাঠসহ প্রাকৃতিক জলাধার খাল, বিল, বাওর ও নদীতে এমন দৃশ্য এখন সচরাচর। ফলে লকডাউনে স্থবির কৃষির নির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।
যশোরের বিভিন্ন ফসলের মাঠ, বিল ও বাওড়ের পাড় ঘুরে দেখা যায়, পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন কৃষক। আর যাদের জাগ দেয়ার পালা শেষ তাদের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পানিতে ধুঁয়ে আটি বাঁধা হচ্ছে। তারপর সেগুলো পাওয়ার ট্রিলারের টলিতে চাপিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। আর পাটের এই আঁশ ছাড়ানোর কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও হাত লাগাচ্ছেন। অনেকে আবার নৌকা যোগে ছাড়ানো আঁশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।    
কৃষক বলছেন, এবার পাটের যথেষ্ট ভাল ফলন হয়েছে। এখন বাজার দাম ঠিকঠাক মিললেই হলো। আর তেমনটি হলে লাভবান হবেন। 


জেলার কৃষি বিভাগ সূত্র বলছে, যশোরে এবার লক্ষ্যমাত্রারও বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আট উপজেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে তার চেয়েও বেশি। এবার মোট ২৬ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষাবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে পাটের আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৫৬৫ হেক্টর। ফলে তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, লাভজনক হয়ে ওঠায় যশোরে পাটের চাষাবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
যশোর সদরের চাঁচড়ার রূপদিয়া গ্রামের কৃষক আদিত্য বিশ^াস জানান, এবার আড়াই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ মণ মত পাটের ফলন পাবেন বলে মনে করছেন তিনি। 


কৃষক সঞ্জয় সরকার জানান, ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে পাট বিক্রি করেছেন তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, ছোট থাকতে কাটা পাটের মণ প্রতি দাম মিলেছে ১ হাজার ৭শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৮শ’ টাকা। আর এখন যেসব পাট উঠছে সেগুলোর সর্বনি¤œ দাম ২ হাজার ৪শ’ টাকা। তিনি দাবি করেন, দামের পতন না হলে মোটামুটি লাভবান হবেন। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ^াস জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে লাভবান হয়েছেন যশোরের কৃষক। বর্তমানে পাটের বাজার দর ভালো যাচ্ছে। এখন আরো ভালো পাট উঠছে। তাই দামও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। 

যশোরে সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, জেলার হাট-বাজারে ইতিমধ্যে পাট কেনাবেচা শুরু হয়েছে গেছে। বর্তমানে মানভেদে পাটের দাম ২ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকার মধ্যে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

রংপুরের পীরগঞ্জে কফি ও কাজুবাদাম চাষের প্রশিক্ষণ

লেখক

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় আজ কফি ও কাজুবাদাম চাষের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে আগ্রহী চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
আজ বুধবার উপজেলা কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে কৃষি অফিসের হলরুমে ৬০জন কৃষককে দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। 


অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক ছিলেন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল, কৃষিবিদ ড. আশিস কুৃমার সাহা প্রমুখ।
একই সাথে আটজন কৃষককে ‘রোবাস্টা’ জাতের কফির চারা ও সার-সহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পিরোজপুরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম

লেখক

জেলায় চলতি আমন চাষ মৌসুমে ৬১ হাজার ৬৩৫ হেক্টরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ শেষে দেখা গেছে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৬৩ হাজার ৮৬৩ হেক্টরে আমন চাষ করা হয়েছে। একই সাথে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৮ হাজার ১২১ মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হলেও চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য উৎপাদন ১ লক্ষ ৭৩ মেট্রিক টন চাল হতে পারে। 


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ৭ উপজেলার প্রতিটির আমন চাষের ও আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও জেলার ৫২টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় একযোগে বীজতলা তৈরির কাজ এবং আমন চারা রোপণের কাজ একযোগে চাষিরা সম্পন্ন করেছে । অনেক পৌর এলাকা ও উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অধিক হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ পর্যন্ত সবকিছুই চাষিদের অনুকূলে  রয়েছে বলে পিরোজপুর পৌর এলাকার লখাকাঠী গ্রামের আমন ধান চাষি ইউসুফ আলী জানান। পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো: নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ৫ একর আয়তনের ২১টি প্রদশর্নী প্লট তৈরি করা হয়েছে। সরকার এসব প্রদশর্নী প্লটের জন্য বীজ, সার, ওষুধ বিনামূল্যে চাষিদের সহায়তা করছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৭টি কৃষক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আমনের বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত এসব স্কুলের প্রত্যেকটিতে ৫০জন কৃষাণ কৃষাণী হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার ট্রেইনার এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কৃষাণ কৃষানীদের সুবিধামত সময় এসমস্ত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এদের প্রতিদিন ৭০ টাকা প্রশিক্ষণ গ্রহণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান, এ জেলায় ইতিমধ্যেই চাষে ৯৯ ভাগ এবং ধান মাড়াইতে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। খুব দ্রুতই শতভাগ কৃষক এসব পদ্ধতি ব্যবহার করবে। জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আমন চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার বীজ সহজলভ্য হওয়ায় এবং এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com