আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

ব্রোকলি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

 সাতক্ষীরার তালায় এ বছরও নতুন জাতের শীতকালীন সবজি ব্রোকলি। আকারে ফুলকপির মত হলেও ফুলগুলো সাদার পরিবর্তে পাতার রঙের মত সবুজ। স্বাদে ও গুণে অসাধারণ।জাগো নিউজ

[৩] ব্রোকলি ওজনে ৭শ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

[৪] এ বছর ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা, নগরঘাটা, মিঠাবাড়ী, আলিপুর, ধানদিয়া, কৃষ্ণনগর, কাটাখালী ও ফুলবাড়ি গ্রামে এ বছর কৃষকরা এই সবজির চাষ করেছে।
[৫] সাধারণ ফুলকপির চেয়ে আবাদে খরচ কম আবার বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় এ নতুন সবজি চাষে ঝুঁকছেন এলাকার কৃষকরা।

[৬] আলিপুর গ্রামের কৃষক বিজন কুমার জানান, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্রোকলি বীজ সংগ্রহ করে ৮ শতক জমিতে ব্রোকলি রোপণ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকার ব্রোকলি বিক্রি হয়েছে। প্রতি পিচ ৩ থেকে ৪শ গ্রামের ব্রোকলি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

[৭] তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, ইউরোপিয়ান ফসল বারবারা জাতের ব্রোকলি সাতক্ষীরা জেলায় এবার তৃতীয়বার চাষ হচ্ছে। এ সবজি চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

[৮] এছাড়া এতে অধিক পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে পাওয়া যায়।

শাকসবজি

গরমের সবজি ঝিঙের যত গুন

আমাদের দেশে গরমের সবজির মধ্যে অন্যতম একটি উপকারী সবজি হলো ঝিঙে। কিন্তু অনেকই আছেন যারা এই সবজি খেতে মোটেই পছন্দ করেন না।  অথচ এই সবজির বেশ গুনাগুন রয়েছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য দৈনিক খাদ্য তালিকায় শাকসবজি রাখা বাধ্যতামূলক। ইতোমধ্যেই ডাক্তার এবং পুষ্টিবিদেরা পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন সবুজ শাক সবজি খাদ্য তালিকায় রাখার জন্য। সবুজ শাক সবজির মধ্যে অন্যতম একটি সবজি হলো ঝিঙে। তাছাড়া এই গরমে ঝিঙের মতো উপকারী খাবার কিন্তু আর হয় না।

গরমের সবজি ঝিঙের যত গুন

পোস্ত ছাড়া ছোট মাছ দিয়ে ঝিঙের ঝোল, ঝিঙে-চিংড়ি বা ঝিঙের ভর্তা অনেকভাবেই মুখরোচক খাবার এই সবজি দিয়ে করা হয়। তবে তা শুধু মুখের স্বাদের জন্য নয়, বরং শরীরের কথা ভেবেই।

আমরা ঘরোয়াভাবেই জানি, ঝিঙেতে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে। ফলে গরমের দিনে এই সবজি আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে, শরীরে পানির জোগান দেয়। 

এ ছাড়া পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, ঝিঙেতে খুব কম ক্যালোরি থাকে। ফলে, ঝিঙে ওজন কমায়। কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

ঝিঙে সুগার কমায়, রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ঝিঙে খুবই উপকারী।

ঝিঙে রক্তের দূষণ নষ্ট করে। লিভারের জন্যও উপকারী।  তাই জন্ডিসের আদর্শ পথ্য হচ্ছে ঝিঙে।

গরমের সবজি ঝিঙের যত গুন

ঝিঙে ফাইবারে ভরপুর। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে খাবার হজম করতেও সাহায্য করে।

রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝিঙে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকে ভরা। নিয়মিত ঝিঙে খেলে ত্বক ভালো থাকে। শরীরের ইমিউনিটিও বাড়ায় ঝিঙে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

পুইশাক চাষ পদ্ধতি

পুঁইশাক চাষে কিভাবে চারা তৈরি করবেনঃ
সারিতে বুনলে
প্রতি শতকে ৮-১০ গ্রাম বীজ লাগবে।
আর ছিটিয়ে বুনলে বীজের পরিমাণ বেশী লাগবে। পুঁইশাকের বীজ বপনের জন্য ১৮ থেকে ২০ সেন্টিগ্রেড তামপাত্রা প্রয়োজন। তাই শীতে সময় যখন তাপমাত্রা কম থাকে সেই সময় বীজ বপনকরা ভাল। সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে বর্ষায় এর চাষ ভাল হয়। বীজ ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরে জমিতে বুনতে হয়। কখনও কখনও বেডে চারা তৈরি করা হয়। ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত চারা তৈরির জন্য বেডে বা পলিব্যাগে বীজ বোনা হয়। চারা দু সপ্তাহের হলে সেগুলো তুলে মূল জমিতে লাগানো যায় বা ফাঁকা জায়গা পূরণ করা যায়। সারিতে বুনলে প্রতি শতকে ৮-১০ গ্রাম ও হেক্টর প্রতি ১.৫-২.৫ কেজি বীজ লাগবে।


উপযুক্ত জমি তৈরি ও চারা রোপনঃ
জমির আগাছা পরিস্কারের পর ৫ থেকে ৬টি চাষ ও মই দিয়ে জমির মাটির উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। চারা উৎপাদন করে ১৫-২০ দিনের চারা লাগানো যায়। পুঁই শাকের চারা রোপণের জন্য সারি থেকে সারি ১ মিটার এবং প্রতি সারিতে ৫০ সেন্টি মিটার দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হয়।
পুঁইশাক চাষে সার প্রয়োগ/ব্যবস্থাপনাঃ


ইউরিয়া ছাড়া সব সারই জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। চারার বয়স ১০-১২ দিন হলে ইউরিয়া সার প্রথম কিস্তি ৩০-৪০ দিন পর এবং প্রথমবার ফলন তোলার পর বাকি দুই কিস্তি এই মোট তিন কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। গোবর ও টিএসপির অর্ধেক জমি তৈরীর সময় এবং বাকি অর্ধেক চারা রোপণের সময় গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। পুঁইশাক চাষে শতক প্রতি সারের মাত্রা হল গোবর ৬০ কেজি, সরিষার খৈল ৫০০ গ্রাম, ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম টিএসপি ৪০০ গ্রাম এবং এমওপি ৪০০ গ্রাম।


পুঁইশাক চাষে সেচ ও পানি নিষ্কাশনঃ
বর্ষায় সাধারনত সেচ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মাটিতে রস না থাকলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে। প্রায়ই মাটি আলগা করে দিতে হবে।
পুঁইশাক চাষে আগাছা ও নিড়ানিঃ
আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ফলন বেশি পেতে হলে বাউনি দিতে হবে। পুঁইশাক গাছের গোড়ায় কখনই পানি জমতে দেয়া যাবে না। তাহলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। আবার অনেক বৃষ্টিপাত হলে দেখা যায় যে গোড়ার মাটি ধুয়ে যায়। তাই বৃষ্টির পর গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে চেপে দিতে হবে। চারা ২৫-৩০ সেন্টিমিটার উঁচু হলে আগা কেটে দিতে হবে, এতে গাছ ঝোপালো হয়।


পোকামাকড় ও রোগদমনঃ
পুঁইশাকে পাতার বিটল বা ফ্লি বিটল ছাড়া আর কোনো পোকা তেমন ক্ষতি করে না। এই পোকা পুঁইশাকের পাতা ছোট ছোট ছিদ্র করে ফেলে। সারকোস্পোরা পাতার দাগ পুঁইশাকের একটি মারাত্মক রোগ। এছাড়াও আরও কয়েকধরনের রোগ পুঁইশাক গাছে দেখা দিতে পারে। ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রন করা যায়।
পুঁইশাক গাছের ডগা মাঝে মাঝে কেটে দিতে হবে। এতে শাক খাওয়াও হয় আবার গাছে নতুন ডগাও বের হয়।
পুঁইশাকের ফলন প্রতি শতকে ২০০ থেকে ২৮০ কেজি এবং হেক্টোর প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টন ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

১৭২ কোটি ব্যয়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নে ১০০ একর জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন কৃষকরা। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেল হিসেবে কৃষি বিভাগ এখানে ৫০০ জন কৃষককে নিয়ে প্রাথমিক যাত্রা শুরু করে। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণ ও দেশের বাইরে রফতানি করার লক্ষ্য রয়েছে কৃষি বিভাগের।

বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে। এ পদ্ধতিতে এরই মধ্যে কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন। বলছেন, কীটনাশক, রাসায়নিক সারের বদলে জৈবিক পদ্ধতিতে চাষ করায় খরচ কমেছে। ফসলের মান ও ফলন বেড়েছে।

কৃষকদের এমন কাজে উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রকল্পের নাম ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’। এর আওতায় বগুড়ায় নেয়া হয়েছে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) মডেল ইউনিয়ন গঠন কর্মসূচি। এ প্রকল্প শুধু বগুড়ায় নয়, দেশের আরো নয়টি জেলার একটি করে ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রকল্পে সারা দেশে ব্যয় হচ্ছে ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, প্রকল্পটির আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে দেউলী ইউনিয়নে ৫০০ জন কৃষককে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় (আইপিএম) প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। রবি মৌসুম থেকে শুরু হয়ে খরিপ-১ পর্যন্ত এই ইউনিয়নের কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প কার্যক্রম চলবে।

দেউলী ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সাইফুর রহমান, মাহমুদুল হাসান ও রাকিব হাসান।

তাদের কাছে জানা যায় মডেল ইউনিয়ন গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে। প্রকল্পটির পুরো কার্যক্রম সাতটি সেশনে ভাগ করা হয়। প্রথম দুই সেশনে দল গঠন ও পরিকল্পনা করা হয়। আইপিএম মডেল ইউনিয়নে ২০টি দল তৈরি করে কৃষি অফিস। প্রতি দলে রয়েছেন ২৫ জন কৃষক। আর প্রতি দলের জন্য ৫ একরের একটি করে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়। বাকি ৫টি সেশনে কৃষকদের দেয়া হয় প্রশিক্ষণ। রবি মৌসুমে তিনটি এবং খরিপ মৌসুমে দুটি প্রশিক্ষণ। এরপর কৃষকদের সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষি কর্মকর্তারা দেন জৈব সার, বীজ, বালাই নাশক উপকরণ এবং সবজি চাষে নির্দেশনা।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কৃষক প্রতি এক হাজার টাকার বীজ ও দুই মৌসুমে ১০০ কেজি জৈব সার দেয়া হয়। ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় বালাই নাশক (ফেরোমন ফাঁদ, লিউর, পট, হলুদ আঠালো ফাঁদ, নেট) সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন সময়ে মিটিং, সেমিনারে তাদের ২০০-৪০০ টাকা করে সম্মানি ভাতা দেয়া হয়।

প্রকল্পের রবি মৌসুম শেষ হয়েছে। এখন খরিপ-১ মৌসুম চলছে। জানা যায়, এরই মধ্যে কৃষকরা অনেক উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমনে তারা অভ্যস্ত হয়েছেন।

কৃষকরা বলছেন, ২৫ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনতে খরচ হয় প্রায় ৮০০ টাকা। অথচ ২৫০ টাকার জৈব সার দিয়ে একই পরিমাণ জমিতে চাষ করা যায়। এতে ফসলের ভালো ফলনও হয়।

২০০৯ সাল থেকে কৃষি কাজে জড়িত দেউলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোলা গ্রামের শাহীন আজাদ। ১৮ বিঘা জমিতে প্রায় সব ধরনের ফসল আবাদ করেন তিনি। তিন বছর আগে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইপিএম পদ্ধতির কথা শোনেন। তখন থেকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

শাহীন বলেন, এর ফলাফলও হাতে পাই। ১০ শতক জমিতে আগে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলাম। কিন্তু মাছি পোকার আক্রমণে কুমড়া পেয়েছিলাম মাত্র ১০-১৫টি। কীটনাশক দিয়েও কাজ হতো না। এবার আইপিএম পদ্ধতিতে চাষ করে একই জমিতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়েছে কয়েকগুণ, প্রায় প্রতিটি ফুলেই কুমড়া ধরেছে।

তিনি আরো বলেন, একই পদ্ধতিতে আমি আলু চাষ করেছিলাম। ফলন দেখে অন্য চাষিরা বীজ নেয়ার জন্য বায়না দিচ্ছেন।

লক্ষ্মীকোলা গ্রামের আব্দুল বাছেদ আইপিএম মডেলের প্রদর্শনী প্লটে ১২ শতকে ঝিঙা ও ১৫ শতকে মিষ্টি কুমড়া চাষ করছেন। রবি মৌসুমে করেছেন ফুলকপি চাষ।

বাছেদ জানান, কৃষি অফিস থেকে নতুন পদ্ধতির কথা জানালে আগ্রহী হই। তাদের কথামতো সবজি চাষ করি। কোন কীটনাশক, রাসায়নিক সার দেইনি। কিন্তু ফলনে কোনো কমতি নেই। বরং সবজির মান আগের থেকে বেশি ভালো হয়েছে। আর এভাবে চাষ করায় আমরা মানুষকে বিষমুক্ত সবজি দিতে পারছি।

আইপিএম মডেল পদ্ধতি ব্যবহারকারী কৃষক বাদশা বলেন, এ পদ্ধতির সবচেয়ে ভালো দিক কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা যাচ্ছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কুফল আগে বুঝতাম না। এখন বুঝি। এজন্য অন্যান্য ফসলেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা ভাবছি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীকোলা গ্রামের দহপাড়া এলাকায় পাঁচ একর জমির একটি প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। প্লটে খরিপ-১ মৌসুমের বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা চাষ হচ্ছে। পুরো প্লটে নির্দিষ্ট দূরত্বে ফেরোমন ফাঁদের বয়াম রয়েছে। এরমধ্যে দেয়া আছে লিউর। লিউরে স্ত্রী পোকার গন্ধে পুরুষ পোকা আকর্ষিত হয়। আরো রয়েছে হলুদ আঠালো ফাঁদ (স্টিকি রাব)। এতে পোকাগুলো আঠায় আটকে যায়। এছাড়া একটি নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বেগুনের ক্ষেত। জমির পাশেই একটি বাড়ির উঠানে এই কৃষকদের নিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা আলোচনা করেন। তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

তবে কৃষকদের জৈবিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করানো একেবারে সহজ নয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, কৃষকরা সব সময় ম্যাজিক চান। তারা মনে করেন জমিতে কিছু দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ হওয়া লাগবে। ভালো বিষয় এই যে, তারা সেই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসছেন।

আরেক কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে প্রথমেই শতভাগ সফল হওয়া কষ্টকর। তবে বেশিরভাগ কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, এখন এসব একটু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব কৌশল ব্যবহার করে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির ভালো দাম পেলেই কৃষকরা নিজে থেকে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

তিনি জানান, এরই মধ্যে বিষমুক্ত ২৫০ কেজি মিষ্টি কুমড়া মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কৃষকরা জৈবিক পদ্ধতিতে চাষে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এখন বিষমুক্ত সবজি চাষ কৃষকের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা বিষমুক্ত সবজির জন্য তাদের কৃষি প্রত্যয়নপত্র দেব। এছাড়া প্রকল্প থেকে ভালো একটি মার্কেটিং চ্যানেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

লবণসহিষ্ণু শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন

গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুলের নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করে শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এটি অনুমোদন করেছে। নতুন বিইউ শিম-৭ জাতটি লবণ সহনশীল ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় বাংলাদেশের বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে শীত মৌসুমে পতিত থাকা জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে অধিক পরিমাণ সবজি উত্পাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞগণ ধারণা করছেন।

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, নতুন উদ্ভাবিত জাতটি বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে গাছ প্রতি ২ দশমিক ৪ থেকে ৩ দশমিক ৫ কেজি ভক্ষণযোগ্য শিম উত্পাদিত হয়। সেই হিসেবে হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনশীলতা ৩৫ টন। ১২ ডিএস/এম লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি উপকূলীয় জেলাসহ সমগ্র দেশে আবাদ করা সম্ভব।

বিশ্বে টাটকা সবজিতে ০.৫ থেকে ৩২.০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম অ্যান্থসায়নিন পাওয়া যায়। নতুন জাতটিতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্থসায়নিন (২৯ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম টাটকা সবজি) এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। সীমের কাঁচা ফলে প্রাপ্ত অ্যান্থসায়নিন হলো পোলিফেনোলিক রঞ্জক যা পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গ এবং বীজ বিস্তরককে আকর্ষণ করে ফসলের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেই নয় বরং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গাছকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

তিনি আরো জানান, প্রায় সব জাতের শিমই জাব পোকা এবং জ্যাসিড দ্বারা আক্রান্ত হয়। শীতের অর্থাত্ ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে শিমের প্রধান পতঙ্গ শত্রু অর্থাত্ এফিড এবং জ্যাসিড মাত্রাতিরিক্তভাবে বংশবিস্তারের কারণে ফসলটি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে ফলন কমে যায়, যা থেকে নতুন জাতটি প্রতিরোধী।

উল্লেখ্য এ শিমে রঙিন অ্যান্থসায়নিনের অস্তিত্ব পোকামাকড় ও প্যাথোজেনসমূহের সংক্রামণকে হ্রাস করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রোপণ করলে ১৩০ দিনে ভক্ষণ যোগ্য ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরো ২০ দিন সময় বেশি লাগবে। বিজ্ঞানীরা জানান বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ধারণা ছাদ কৃষির জন্য নতুন অবমুক্ত এ জাতটি একটি চমত্কার নির্বাচন হতে পারে। কেননা ফলন ও গাছের আকার বিবেচনায় একটি গাছ ছোট একক পরিবারের শিম চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদরা জানিয়েছেন।

শিমের জাতটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল-এর নেতৃত্বে উদ্ভাবিত বিইউ শিম-৭ ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত পতিত জমি উত্পাদনের মূলধারায় আনয়ন করে সার্বিক কৃষি তথা সবজি উত্পাদনে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে বলে আশা করি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

লবণসহিষ্ণু সিমের নতুন জাত উদ্ভাবন

সিমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) একদল গবেষক। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল। সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এটি অনুমোদন করেছে।

নতুন বিইউ সিম-৭ জাতটি লবণসহনশীল ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় বাংলাদেশের বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে শীত মৌসুমে পতিত থাকা জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও অধিক পরিমাণ সবজি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।


প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, নতুন উদ্ভাবিত এ জাতে গাছপ্রতি ২ দশমিক ৪ থেকে ৩ দশমিক ৫ কেজি সিম উৎপাদিত হয়। সেই হিসেবে হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনশীলতা ৩৫ টন।

Sim

তিনি বলছেন, ১২ ডিএস/এম লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি উপকূলীয় জেলাসহ সারাদেশে আবাদ করা সম্ভব এই জাতের সিম। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে টাটকা সবজিতে ০.৫ থেকে ৩২.০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম অ্যান্থসায়নিন পাওয়া যায়। তবে নতুন এই জাতটিতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্থসায়ানিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে।

অ্যান্থসায়নিন হলো পোলিফেনোলিক রঞ্জক যা পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গ এবং বীজ বিস্তারককে আকর্ষণ করে ফসলের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গাছকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শাকসবজিতে প্রাপ্ত অ্যান্থসায়নিন মানবদেহের ভাস্কুলার প্রদাহ হ্রাস এবং থ্রম্বোসিস (রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকরী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।

Sim

প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, প্রায় সব জাতের সিমই জাব পোকা এবং জ্যাসিড দ্বারা আক্রান্ত হয়। শীতের অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সিমের প্রধান পতঙ্গ শত্রু। অর্থাৎ এফিড এবং জ্যাসিড মাত্রাতিরিক্তভাবে বংশবিস্তারের কারণে ফসলটি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে ফলন কমে যায়, যা থেকে নতুন জাতটি প্রতিরোধী।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রোপণ করলে ১৩০ দিনে ভক্ষণযোগ্য ফল সংগ্রহ করা যায় নতুন জাতের এই সিম থেকে। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০ দিন সময় বেশি লাগবে।

সিমের জাতটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া বলেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন জাতের এই সিম উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে সম্ভব হবে বলে আশা করি।

Sim

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪৪ হাাজর ৫০ টন সিম উৎপাদিত হচ্ছে (বিবিএস, ২০২০)। দেশের প্রায় সব জাতগুলো মৌসুমের একই সময়ে ফলন দেয় এবং বেশিরভাগ চাষি একই সময়ে তাদের সিম বাজারে নিয়ে আসেন। এতে করে সিমের বাজারমূল্য হ্রাস পায়। তাছাড়া খরা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড় (এফিড) বা রোগবালাইয়ের আক্রমণে উৎপাদন কমে যায়।

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৩৭% উপকূলীয় এলাকা। ওই এলাকাতে চাষ উপযোগী সবজি তথা সিমের অনুমোদিত উফশি তেমন জাত নেই। এমতাবস্থায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখা এবং খরা, অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততার প্রভাব প্রতিরোধসহ বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় চাষযোগ্য নতুন জাত উদ্ভাবনই সর্বোত্তম ও বিকল্প উপায় বলে মনে করা হচ্ছে।

Sim

উৎপাদন পদ্ধতি

দেশের সব জেলাতে শীত মৌসুমে এই জাতের বীজ রোপণ করা যেতে পারে। গোবর-মাটির মিশ্রণে ভরা (অর্ধেক-অর্ধেক) ছোট পলিথিন ব্যাগে চারা গজিয়ে পরবর্তীতে মাঠে গর্তে লাগানোই ভালো। প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া (দুইবারে), ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।

বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা শতকরা ৯০ ভাগ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি হেক্টরে ৪.০ থেকে ৫.০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ লাগানোর ১৩০ দিনের মধ্যে সবজি ফসল হিসাবে সিম সংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০ দিন সময় বেশি লাগবে। এক কঞ্চি বিশিষ্ট বাউনি বা মাচা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সিম উৎপাদন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com