আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে

ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে
ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে

ব্রোকলি পুষ্টিকর সবজি। দেখতে ফুলকপির মতো। তবে রং ভিন্ন। আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এখনো পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাই এর চাষ বাড়ানো দরকার। চাইলে বাড়ির আঙিনায়, বারান্দায় বা ছাদে টবে করে ব্রোকলি চাষ করতে পারেন।

জাত: বিভিন্ন বীজ কোম্পানি ব্রোকলির সাধারণ ও শঙ্কর জাতের বীজ বাজারজাত করছে। বাজার থেকে ভালো জাতের বীজ নির্বাচন করতে হবে।

সময়: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস ব্রোকলি চাষের উপযুক্ত সময়। তাই আগস্ট মাসের পরই জমি প্রস্তুত করতে হয়। পরে বীজতলায় ব্রোকলির বীজ বুনতে হয়।

মাটি: নরম ও ঝুরঝুরে করতে হবে। মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে সব ধরনের সবজি ভালো ফলন দেয় ও তাড়াতাড়ি বাড়ে। সারাদিন রোদ থাকে এমন স্থান নির্বাচন করবেন।

সার: পরিমাণমতো গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার ও মাটি ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। অথবা পাতা পচা সার বা গোবর সার ১ ভাগ, বালু ১ ভাগ ও মাটি ২ ভাগ মিশিয়ে বীজতলা তৈরি করে নিতে পারেন।

চারা: ভালো ফলন পেতে হলে বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে মূল টবে লাগাতে হবে। চারা চেনার জন্য যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন, তা হলো চারার উচ্চতা ৮-১০ সেমি, ৫-৬টি সবল পাতা ও গাঢ় সবুজ বর্ণ।

ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে
ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে

রোপন: বীজ রোপণের পর চারা গজাতে ৩-৪ দিন সময় লাগে। ৮-৯ দিন বয়সে চারা মূল টবে রোপণের উপযুক্ত হয়। তবে ৩-৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার ও মাটি ভরা টবে লাগালে ভালো হয়। উপযুক্ত টব নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, যেন ছোট না হয়ে যায়। তাই ৫ লিটার পাত্রের সমান টবে লাগাবেন।

সেচ: প্রথম ৪-৫ দিন পর্যন্ত একদিন অন্তর অন্তর পানি দিতে হবে। পরবর্তীতে ৮-১০ দিন অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলেই চলবে।

পরিচর্যা: টব সব সময় আগাছা মুক্ত রাখুন। মাটি ঝুরঝুরে করে দিন। পরিমাণমতো জৈব সার ব্যবহার করুন। সার প্রয়োগের পর পানি দিন।

পোকা দমন: জাব পোকা ও শুঁয়ো বেশি হলে রিডেন, মার্শাল বা নাইট্রো স্প্রে করা যেতে পারে। তবে তা কোন কৃষি কর্মকতার পরামর্শ অনুযায়ী করলে ভালো হয়।

সংগ্রহ: চারা রোপণের ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে খাবার উপযোগী হয়। সংগ্রহের সময় ফুলের উপরের অংশটা সাবধানে কেটে নিবেন। তাহলে পাতার গোড়া থেকে আবার ফুল বের হবে, যা পরবর্তীতে সংগ্রহ করতে পারবেন।

আঙিনা কৃষি

টবে বোম্বাই মরিচ চাষ করবেন যেভাবে

বোম্বাই মরিচ মূলত প্রচণ্ড ঝালের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। সবার প্রিয়ও বলা চলে। একটু চেষ্টা করলেই ১ মাসে ফলাতে পারবেন বোম্বাই মরিচ। বাসার ছাদে, বারান্দায়, ভবনের চারপাশে টবে বোম্বাই মরিচের ফলন ভালো হয়। তাই আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখুন। চাষের নিয়ম-কানুন জেনে নিন এখনই-

বীজ বা চারা: যেকোনো বাজারে বীজ কিনতে পাওয়া যায়। তবে নতুনদের জন্য চারা কেনাই ভালো। নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার বা গ্রামের হাট-বাজার থেকেও বোম্বাই মরিচের চারা কেনা যায়। তবে জাত ও চারার মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া বীজ থেকেও চারা উৎপাদন করে রোপণ করা যায়।

চাষের নিয়ম: চারা টবে লাগানোর আগে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি ১০ ইঞ্চি টবের জন্য ২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২ চিমটি টিএসপি, ১ চিমটি ইউরিয়া, ১ চিমটি পটাশ সার, অল্প সরিষার খৈল দিয়ে ৪-৫ দিন মাটি রোদে শুকাতে হবে। তারপর এ মাটিতে চারা লাগাতে হবে।

যত্ন: চারা সবল না হলে দিনে ২-৩ বার ইউরিয়া মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন মাটি আলগা করে দিতে হবে। আগাছা সরিয়ে দিতে হবে। ২০-২৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসবে। সেই ফুল থেকে ধরবে বোম্বাই বা নাগা মরিচ।

পোকা দমন: মরিচ গাছে পোকা আক্রমণ করতে পারে। তবে ২-৪টা গাছ হলে পোকা-মাকড় হাতেই মেরে দমন করা যায়। গাছ বেশি হলে কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো।

ফলন: মরিচ যত বেশি দিন গাছে থাকবে; তত বেশি ঝাল হবে। নিচের শাখাগুলো কেটে ফেলতে হবে। না হলে মরিচের আকার হবে ছোট। গাছ কড়া রোদে রাখতে হবে, ছায়ায় থাকলে মরিচ ধরবে না। ১টি গাছ অনেক দিন ফল দেবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

একটু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিতেন তারা। বয়স ১৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ভারতে যেতেন রাতের আঁধারে, চোরাই পথে। জীবনবাজি রেখে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে গরু আনতেন।

বিএসএফের গুলি উপেক্ষা করে এ কাজ করতেন তারা। শুধু সীমান্ত পার করে দেয়ার বিনিময়ে গরুপ্রতি পেতেন দুই থেকে চার হাজার টাকা। জীবনের ঝুঁকি থাকে বিধায় মজুরি এত বেশি! ১৮ বছর বয়সী এক যুবক মাসে তিনবার ভারতে গিয়ে ছয়টি গরু আনতে পারলে আয় কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষ আয়ের পরিমাণ আরও বেশি।

১৫ দিন ভারতে গিয়ে ৩০টি গরু সীমান্ত পার করতে পারলে আয় অন্তত ৬০ হাজার টাকা। স্বল্প শিক্ষিত কোনো মানুষের পক্ষে অল্প পরিশ্রমে এত বেশি টাকা আয়ের সুযোগ নেই অন্য কোনো পেশায়। টাকার লোভে যুবকরা সীমান্তের ওপারে যান, খান বিএসএফের গুলি!

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় যেন বইছে দিন পরিবর্তনের হাওয়া। একসময় যারা গরু চোরাকারবারি ছিলেন, তারাই এখন ঝুঁকে পড়েছেন ক্ষেতের সবুজ মাঠে। একদিকে বিএসএফের গুলি অন্যদিকে মাদক মামলা থেকে বাঁচতে যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গোগা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে চোরাচালান কারবার ছেড়ে সবজি চাষে ঝুঁকেছেন অনেকে। গ্রামটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। তারা ভারতীয় গরু আনার কাজসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন চোরাকারবারি জানান, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি, অন্যদিকে বিজিবি সদস্যদের মিথ্যা মামলা; পাচারকারীদের ধরে ধরে ফেনসিডিল দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয় বিজিবি। এই দুই কারণে গ্রামবাসীর অনেকেই এখন তাদের চোরাচালান পেশা ছেড়ে ফিরে এসেছে সোনালী মাঠের সবজি চাষে।

সবজি চাষ করে এখন তারা স্বাবলম্বী এবং সুস্থ জীবনযাপন করছেন। বদলে নিয়েছেন তাদের জীবনের পাশাপাশি পরিবারের জীবনও। সীমান্তের ২০০ গজের মধ্যে পাটসহ কোনো উঁচু গাছ বা ফসল লাগানো নিষেধ রয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। তাই গ্রামের লোকজন সীমান্তের ধারঘেঁষে এখন পটল, উচ্ছে, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের সবজির চাষ করছেন। তবে পটল চাষে মানুষের আগ্রহ বেশি।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

পটল চাষি রেজাউল জানান, তিনি ১২ কাঠা জমিতে পটল, নালার ধার ঘেঁষে পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করেছেন। আর জমির আইলের ধারে বাঁধাকপি লাগিয়েছেন। এই বছর প্রথম তিনি ৯০ টাকা কেজি দরে পটল বিক্রি করেছেন। পটল চাষে তার খরচ খুব একটা বেশি হয়নি। গত বছর এই জমিতে তিনি প্রায় এক লাখ টাকার পটল বিক্রি করেছিলেন।

রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বপাশ থেকে খালমুখ পর্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন সারা মাঠেই পটলের চাষ। ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের সীমান্তসংলগ্ন সব জমিতে একই কায়দায় পটলের চাষ চলছে। ফলে চোরাচালান ও গরুটানা কাজে আর কেউ যেতে চাইছেন না। তাদের জীবন কাটছে এখন সুন্দরভাবে।

স্থানীয় সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম জানান, মূলত দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে সীমান্ত এলাকার যুবকরা গরু চোরাচালানের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এ উপার্জনের দিকে তাকাতে গিয়ে প্রাণকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিতেও পিছপা হননি গরু পাচারকারীদল। এ পেশাকে তারা চোরাচালান নয় ব্যবসা হিসেবে দেখেছেন। চোরাচালান করতে গিয়ে প্রায়শই বিএসএফের হাতে তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছিল অথবা হতে হচ্ছিল অমানুষিক নির্যাতনের শিকার।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

‘এখন আর তারা গরু আনতে ভারত সীমান্তে যাচ্ছেন না। নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে পরিশ্রম করে চোরাচালানির চেয়ে বেশি টাকা আয় করছেন। পাশাপাশি পরিবারকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেছেন।’

এ বিষয়ে গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও গরু পাচার বন্ধে বিজিবির পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সীমান্তের মানুষকে সভার মাধ্যমে সচেতন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন আর কেউ গরু আনতে ভারত সীমান্তে যাচ্ছেন না। ফলে সীমান্তে গোলাগুলিও নেই। যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের অধিকাংশই এখন মাঠে কাজ করছেন। সবজিসহ বিভিন্ন চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন। তবে এদের চাষাবাদে সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার সংখ্যা অত্যন্ত বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও বিষয়টি ‘খুবই দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে বলা হয়েছে, এসব কেন হচ্ছে?

গত ২৩ জানুয়ারি নওগাঁর পোরশার হাঁপানিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। এর আগের দিন ২২ জানুয়ারি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। গত ৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন দুই বাংলাদেশি যুবক। আহত হন আরও দুজন। মূলত ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের বন্দুকের মুখে পড়েন তারা।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

গত২ জানুয়ারি বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৫ বাংলাদেশি। পরিসংখ্যান অনুসারে, গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২০১৯ সালে। ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান।

শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গোগা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের চোরাকারবারিদের সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ার খবর দেশের অপর সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

ঢেঁড়শ একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয়োডিন, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে ঢেঁড়শ চাষ করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক উপকারিতাও রয়েছে। তাই আসুন জেনে নেই ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম-

মাটি
দো-আশ ও বেলে দো-আশ মাটি ঢেঁড়শ চাষের জন্য ভালো। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়।

জাত
শাউনি, পারবনি কানি, বারি ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানি, পেন্টা গ্রিন, কাবুলি ডোয়ার্ফ, জাপানি প্যাসিফিক গ্রিন চাষ উপযোগী জাত।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সময়
ঢেঁড়শ সারা বছর চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্মকাল চাষের উপযুক্ত সময়। ফাল্গুন-চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজ
প্রতি শতকে ২০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ৪-৫ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বপণ
বীজ বপণের আগে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৭৫ সেন্টিমিটার। বীজ সারিতে ৪৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে ২-৩টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার কমানো-বাড়ানো যায়। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ চারা রেখে বাকি চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হয়।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সার
প্রতি শতকে গোবর ৭৫ কেজি, সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি, ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম, এমওপি ২৩০ গ্রাম।

প্রয়োগ
জমি তৈরির সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপণ করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু’ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা
মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকারভেদ অনুযায়ী ১০-১২ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড়
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

রোগ
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

সংগ্রহ
বীজ বপণের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাতভেদে ফল ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

উপকারিতা
ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটি মানুষের হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস
বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত গড়লেন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের কৃষক গিয়াস উদ্দিন। তিনি উপজেলার জগতপুর গ্রামের মোছলেম উদ্দিনের ছেলে। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তিনি একবার লিবিয়া ও একবার দুবাই গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসে সুবিধা করতে পারেননি। তাই দেশে ফিরে সবজি চাষ শুরু করেন। এক মৌসুমেই তিনি লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন।

জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। আর এতেই সফল হন। কৃষি কাজ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে পাকা ঘর করেছেন। তার এ অভাবনীয় সাফল্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেক কৃষক। তার দেখানো পথে অন্যরাও সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

গিয়াস উদ্দিনের খামারের টমেটো, লাউ, বেগুন, করল্লা, শসা, বরবটি এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি তার সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানেও যাচ্ছে। তিনি একই জমিতে বেশি ফলন ও সারা বছর ফসল পেতে সাথী ফসল চাষ করেন। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

নিজের পর্যাপ্ত জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে ৪০ শতক জায়গায় বরবটি চাষ করেন। এর আগে একই জায়গায় টমেটো চাষেও লাভবান হয়েছেন। এখন প্রতিদিন ৪-৫ মণ বরবটি বিক্রি করেন। প্রতিকেজি বরবটি পাইকারি বিক্রি করেন ১৮-২০ টাকা। পুরো জমিতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। তবে এবার বরবটি বিক্রি হবে লাখ টাকার মতো।

কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দুই বার বিদেশ গিয়েও কিছু করতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফল হয়েছি। আমাকে সব সময় বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন কৃষি অফিসের লোকজন। আমার কাজ দেখে অনেকেই বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। কেউ আমার কাছে পরামর্শ চাইলে সহযোগিতা করি।’

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস
বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চাষি গিয়াস উদ্দিন কৃষকদের আইডল। আমাদের কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি বরবটি চাষ করেছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সুকান্ত ধর বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন একজন সফল চাষি। তিনি কৃষি কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করি। তাকে স্থানীয় বীজ উৎপাদন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে বাছাই করা হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’

দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’
দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’

দিনাজপুর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার অনেক কৃষক প্রতিবছরই টমেটো চাষ করে থাকেন। তবে এবার লকডাউনের কারণে সেসব টমেটো উৎপাদনের পর বিক্রি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়। কারণ হাট-বাজার বন্ধ থাকায় কেউ ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনতে ইচ্ছুক ছিল না। তবে এমন অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সুপারশপ ‘স্বপ্ন’।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাধবপুরে এমন অনেক কৃষকের টমেটো ন্যায্যমূল্যে এরই মধ্যে কিনেছে ‘স্বপ্ন’। সেখানকার বেশিরভাগ কৃষক জানান, স্বপ্নের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে টমেটো নিয়ে তাদের দুর্দশার চিত্র দেখে এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে ট্রাকবোঝাই করে ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনেছেন।

এ প্রসঙ্গে ‘স্বপ্ন’র হেড অব পার্চেজ সাজ্জাদুল হক বলেন, এবারের সংকটটা ছিল ভিন্ন রকম। করোনার প্রাদুর্ভাবে তাদের পণ্যগুলো কেউ বাজারে কিনতে পারছিল না। তাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই, এসব কৃষকের পাশে আমরা দাঁড়াব। যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনেছি আমরা।

তিনি বলেন, এর আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনার এই দুঃসময়ে কষ্টে থাকা অনেক কৃষকের পাশে ‘স্বপ্ন’ দাঁড়িয়েছে।

‘স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, কৃষকদের এই সংকটে তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে ‘স্বপ্ন’। যেখানেই সংকট আর বিপর্যয় কৃষকের জন্য কাল, সেখানেই পৌঁছে যাবে ‘স্বপ্ন’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com