আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

ব্যবহার বেড়েছে জৈবসারের

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো জৈবসার। সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামের কৃষকরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে কেঁচো জৈবসার প্রয়োগ করে উৎপাদন করছেন শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল। জৈবসার শুধু জমিতেই ব্যবহারই নয়, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তারা। ইতিমধ্যে এটি সদর উপজেলা ছাড়িয়ে অন্য চার উপজেলায় ছড়িয়ে গেছে।

বালিয়া ইউনিয়নের কৃষকরা একসময় শুধুমাত্র রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতেন। এতে জমির অম্ল ও ক্ষারত্ব বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরডিআরএস বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তায় সুশাসন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার বালিয়া দেবিপুর ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নে ১০৫টি কেঁচোসার উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করে। পরে ওই গ্রামের দুই শতাধিক কৃষক সিমেন্টের রিং ও বিশেষায়িত কেঁচো দিয়ে প্রথম শুরু করেন কেঁচো জৈবসার তৈরির কাজ।

jagonews24

সিমেন্টের তৈরি রিংয়ে গোবর দিয়ে সেখানে ২০০-২৫০টি কোঁচো ছেড়ে দিয়ে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ৩০-৪০ দিনের মধ্যে কেঁচোগুলো বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মলত্যাগ এবং মুখের বিশেষ লালা দিয়ে তৈরি করে কেঁচো জৈবসার। ওই সার জমিতে প্রয়োগ করে আশানুরূপ উৎপাদন পেয়ে ওই সারের চাহিদা বেড়ে যায়।

পরের বার বগুলাডাঙ্গী গ্রামের তিনশ ও বানিয়াপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার নিজ বাড়িতে কেঁচোসার উৎপাদন করতে থাকে। এ সার প্রযোগ করলে জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। জমির স্বাস্থ্য ও মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে এবং উৎপাদন আগের চাইতে বৃদ্ধি পায়।

jagonews24

বড়বালিয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন (৪০) ও ফাতেমা (৪৫) জানান, তারা পেঁয়াজ-মরিচ, আলু ও লালশাক খেতে কেঁচো জৈবসার প্রয়োগে আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। কেঁচো দিয়ে উৎপাদিত জৈবসার বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তারা।

ছোটবালিয়া গ্রামের কৃষক ময়নুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে এ সার প্রয়োগ করে লাউ ও করলার চাষ করেন। তাতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ফলনকৃত লাউ-করলা বিক্রি করে পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ফলনে তিনি খুব খুশি।

সনেকা বেগম নামের এক কৃষাণি জানান, বাড়িতে রিং বসিয়ে নারীরাই এটি দেখাশুনা করতে পারেন। তিনি এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার টাকার সার বিক্রি করেছেন।

jagonews24

কৃষকরা জানান, ছোটবালিয়া গ্রামে দুই টন জৈবসার প্রস্তুত হয়। প্রস্তুতকৃত সার নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে বিক্রি করে ওই গ্রামের কৃষকেরা মাসে ২৪ হাজার টাকা আয় করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ২০০, রানীংশংকৈল উপজেলার ১৫০ ও হরিপুর উপজেলার ৫০ বাড়িতে কেঁচো জৈবসার উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, এ জেলার জমিতে ব্যাপক জৈবসারের ঘাটতি রয়েছে। জমির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের বিকল্প নেই।

jagonews24

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সদর উপজেলার বালিয়া ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে ১০৫টি জৈবসার উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণিরা বাড়িতে বসে গোবর থেকে কেঁচো জৈবসার তৈরি করে রাসায়নিক সার ছাড়াই ফসল উৎপাদন করছেন। অন্যদিকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সার বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এখানকার কৃষকদের লাভ দেখে অন্যান্য উপজেলার চাষিরাও জৈবসার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।’

jagonews24

ইতোমধ্যে কেঁচো জৈবসার সদর উপজেলা থেকে রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগির ঠাকুরগাঁও জেলা জৈবকৃষির আওতায় আসবে এবং মাটির উন্নয়ন ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

জৈব

সারের জন্য কৃষককে কোনো কষ্ট করতে হয় না: কৃষিমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের আমলে সারের জন্য কৃষককে কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।  

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকবান্ধব ও কৃষকদরদী।তার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে সার ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। সরকার একদিকে যেমন সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে তেমনি চার দফায় সারের দামও অনেক কমিয়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে ‘সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির’ সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের জন্য কৃষককে এখন কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না। অথচ এ সার ব্যবস্থাপনায় বিএনপি ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে দু’বারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তখন সারের জন্য কৃষককে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছিল, সারের দাবিতে কৃষককে আন্দোলন করতে হয়েছিল, প্রাণ দিতে হয়েছিল।  

সভায় জানানো হয়, নিবিড় ও সম্প্রসারিত চাষাবাদের প্রয়োজনে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ টন, টিএসপি ৭ লাখ টন, ডিএপি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন ও এমওপি ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সারের চাহিদা ছিল ইউরিয়া ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন, টিএসপি ৫ লাখ, ডিএপি ১৫ লাখ টন ও এমওপি ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

কমিটির আহ্বায়ক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হাই, সংসদ সদস্য মো. জোয়াহেরুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে কেঁচো কম্পোস্ট সারের ব্যবহার বাড়ছে

লেখক

জেলার দেলদুয়ারে কৃষি জমিতে দিনদিন বাড়ছে জৈব বা ভার্মি (কেঁচো) কম্পোস্ট সারের ব্যবহার। ফলে রাসায়নিকমুক্ত যেমন ফসল ও খাবার পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি জমির উর্বরতাও ঠিক থাকে। ফলে স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষক।


বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য যাতে নিরাপদ হয় সেই দাবি সবার। রাসায়নিক সার ও বিষ প্রয়োগ করে উৎপাদিত ফসল ও ভেজাল খাবারের কারণে রোগব্যাধি মহামারি আকার ধারণ করেছে। সেদিক থেকে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ভাল হয়। তাছাড়া অর্থেরও সাশ্রয় হয়। সে কারণে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কৃষি জমিতে জৈব বা কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। তাই পর্যায়ক্রমে রাসায়নিক সার ও বিষের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার যাতে বাড়ানো যায় সেই উদ্যোগ কৃষি বিভাগ।


এর আগে উপজেলা কৃষি বিভাগ রাসায়নিক সারের পরির্বতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেলক্ষ্যে উপজেলার ২০ জন কৃষককে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্র্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জমিতে কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে তারা সাফল্য পেয়েছেন। এদের একজন রিনা বেগম। সে প্রায় দেড় বছর আগে থেকে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার শুরু করে। কম্পোস্ট ব্যবহারে সুফল পাওয়ায় তার আশে পাশের এলাকার মানুষ তাকে অনুসরণ করছে। সরেজমিনে রিনা বেগমের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বারি আলু-৮, বারি টমেটো-১৪, বারি বেগুন-৮, বারি পেয়াজ-১, বারি শিম-৬, শাহি পেপে, বারি লাউ-৪, লিচু, আম, বারি আমড়া-২, কাঠাল, আখ, বারি আম-৩, হলুদ, আদা, বারি লেবু-১, আখ (রং বিলাস, চায়না, অমৃত), চাষাবাদ করছে। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের ফলে প্রতিটি ফসলই তার ভাল চাষাবাদ হয়েছে। ফলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আর্দশ কৃষাণী রিনা বেগম জানান, তার ৬টা স্তুপ থেকে দুই মাস পর পর ৬ মণ করে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি সার ২৫ টাকা করে বিক্রিও করেন তিনি। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করেন। এতে তার জমিতে ফলন ভালো হয়। বর্তমানে তার সবজির চাহিদা বাজারে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনাম অর্জনের পাশাপাশি তিনি এখন ভালো মুনাফা অর্জন করেছেন। রিনা বেগমের সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য কৃষকরাও তাদের জমিতে জৈব সার ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। এতে উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে। ফলে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে বাড়ছে জৈব সার বা কেঁচো কম্পোস্ট সারের ব্যবহার। রিনা বেগমের স্বামী মাইন উদ্দিন বলেন, রিনা বেগমের সাথে আমি প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করে থাকি। এখন আশে পাশের এলাকার মানুষ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ, ফসল বুননের নিয়ম জেনে যায়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে আমাদের বাড়ির প্রতিটি ফসলের ফলন ভাল হয়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করলে জমি (ভূমি) তার প্রাণ ফিরে পায়। পাশাপাশি খরচও কম হওয়ায় লাভ বেশি হয়।


এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার ব্যবহার করলে ফলন ভাল হয় ও বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। তাছাড়া মাটির গুণাগুন ভালো থাকে এবং মাটির উর্বরতাশক্তিও বৃদ্ধি পায়। এ উপজেলায় জমিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সর্বত্র কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার ব্যবহার ছড়িয়ে দেয়া গেলে মানুষ থাকবে নিরাপদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

পঞ্চগড়ে কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত জৈবসার জনপ্রিয় হচ্ছে

লেখক

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চরতিস্তাপাড়া গ্রামে কেঁচো দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভার্মিং কম্পোস্ট সার। কেঁচো দ্বারা উৎপাদিত সার ওই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।


এ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ এখন কেঁচো চাষের মাধ্যমে কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন এবং তাদের আয়ের পথ সুগম হয়েছে। নিজেদের ফসলে ব্যবহারের পাশাপাশি কম্পোস্ট সার বিক্রি করে তারা জীবন-জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।
ফসল ও মাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৮টি গুণবিশিষ্ট পরিবেশবান্ধব কেঁচো সার ব্যবহারে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে,অন্যদিকে তেমনি জমির উর্বরা শক্তি বাড়ছে।


দেবীগঞ্জ উপজেলার চরতিস্তাপাড়া গ্রামের কৃষিবিদ জিকরুল হক বছর দুয়েক আগে তার নিজ বাড়িতে ১০টি চাড়িতে ১ হাজার কেঁচো দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। জিকরুল হক জানান, গরুর গোবর সংগ্রহ করে ছায়াযুক্ত স্থানে গর্তে পলিথিন বিছিয়ে ১০-১২ দিন রাখতে হয়। পরে তা তুলে ছাঁকুনিতে চেলে মাটির তৈরি চাড়িতে কেঁচো দিয়ে আরো ১৫-২০ দিন চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখলেই ব্যবহার উপযোগী সার হয়ে যায়। এরপর ছাঁকুনিতে চালার মাধ্যমে কেঁচো আলাদা করলেই পুরোপুরি ভার্মিং কম্পোস্ট তৈরি হয়। এ সার তিনি নিজের ফসলের ক্ষেতে ব্যবহার করেন। পাশাপশি এ পদ্ধতিতে জৈব সার উৎপাদন বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে তার ৭৫টি চারিতে ৫ লাখ কেঁচো রয়েছে। প্রতি কেজি ভার্মিং কম্পোস্ট সার বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ।
তিনি আরো জানান, সার বিক্রির পাশাপাশি তার ফার্ম থেকে কেঁচো বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি কেঁচো ১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একদিকে সার উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে কেঁচোর বংশ বৃদ্ধিও বাড়ছে। এতে বাড়তি আয়ের পথও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।


বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ বাণিজ্যিকভাবে এই প্রক্রিয়ায় জৈব সার উৎপাদন করার জন্য জিকরুলের ফার্ম থেকে কেঁচো কিনেছে।
উপজেলার চিলাহাটী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জাকির আলী জানান, রাসায়নিক সারের অতি ব্যবহারে জমির উর্বরা শক্তি যখন হুমকির মুখে তখন এই সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সারের ৮ গুণাগুন মাটির উর্বরা শক্তি ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি ঘটায়। কেঁচো সার দিয়ে শুধু মরিচ ক্ষেত চাষ করেছি। এতে অন্যদের চেয়ে আমার জমিতে মরিচের উৎপাদন কয়েক গুণ বেশি হয়েছে।


দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষিঅফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, ভার্মি সার প্রয়োগের ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এতে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি এ সার পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।কৃষিবিদ জিকরুলের কেঁচো চাষের মাধ্যমে জৈবসার তৈরিতে যে অবদান রাখছেন তা অবশ্যই মূল্যায়নযোগ্য। জৈব সারের মাধ্যমে কৃষকরা একদিকে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। অন্যদিকে মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন বলে কৃষি অফিসার মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন হালিম

পরিশ্রম আর আগ্রহের সমন্বয় ঘটাতে পারলে যেকোনো কাজেই মিলে প্রত্যাশিত সাফল্য। নার্সারি ব্যবসা দিয়ে শুরু করে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনেও সফলতার পথে হাঁটছেন। নিজের নার্সারিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারজাত শুরু করেছেন এমনই এক উদ্যোক্তা। বলছিলাম পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির স্বপ্নবাজ তরুণ আব্দুল হালিমের কথা।

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির উপজেলা শহর ঘেঁষা টিএন্ডটি ভবন। টিএন্ডটি ভবনের পাশেই সরকারি পরিত্যাক্ত টিলাভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে গাউছিয়া নার্সারি। গাউছিয়া নার্সারিতেই একটি ছোট্ট টিনের ঘরে বিশেষভাবে তৈরি ট্যাঙ্কে ও দশটি রিংয়ে চালার ঘরে চলছে স্বপ্নবাজ আব্দুল হালিমের কেঁচো সার বা বার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন প্রক্রিয়া।

jagonews24

সেখানেই জাগো নিউজকে নিজের বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের গল্প শোনালেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল হালিম। বললেন মাস ছয়েক আগে বান্দরবানে নার্সারির উপর প্রশিক্ষণে গিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির ধারণা লাভ করেন তিনি।

শুরুতেই কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বান্দরবান থেকে সংগ্রহ করেন এপিজিক নামক তিন কেজি কেঁচো। এর পরপরই শুরু করেন কঁচো থেকে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার তৈরির মতো কর্মযজ্ঞ। মা-বাবা আর ডিগ্রি পড়ুয়া ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে গেল নভেম্বর মাসে পানছড়ির টিএন্ডটি ভবন লাগোয়া গাউছিয়া নার্সারিতে শুরু করেন বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন প্রক্রিয়া।

jagonews24

বললেন পরিবারের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে স্বল্প পরিসরে প্রতিষ্ঠা করেন গাউছিয়া নার্সারি। নিজের আন্তরিকতা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় গত ১৬ বছরে ডালপালা মেলেছে গাউছিয়া নার্সারি। ২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিলেও পাশ করতে পারেননি এ তরুণ।

পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে আর পরীক্ষাও দেয়া হয়নি। ফলে সেখানেই থেমে গেছে তার শিক্ষাজীবন। আর্থিক অস্বচ্ছলতায় লেখাপড়া করতে না পারলেও আক্ষেপ নেই তার।

নার্সারি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরের মাথায় তার স্বপ্নে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদান। বান্দরবান থেকে সংগ্রহ করা তিন কেজি এপিজিক কেঁচো আর চারটি ট্যাঙ্কে ও দশটি রিংয়ে দিয়েই তার পদযাত্রা।

মাত্র ছয় মাসে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদান করে সাফল্য পেয়েছেন পানছড়ির আব্দুল হালিম। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদানের স্বপ্ন দেখছেন এ যুবক। এজন্য তিনি সরকারি ঋণ সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান।

jagonews24

পানছড়ির মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা গাউছিয়া নার্সারির মালিক মো. আব্দুল হালিম বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন ও বিপণনে নিজের সংসারে সমৃদ্ধি এনেছেন। নিজের নার্সারিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রতি মাসে এক টনেরও বেশি জৈব সার বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি পানছড়ি বাজারে সার বিক্রেতারাও নেন কেঁচো সার। বার্মি কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি সার উৎপাদনকারি বিশেষ কেঁচোও বিক্রি করছেন তিনি। নিজের পাশাপাশি বাবা-মা আর ডিগ্রি পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের ঘামঝরা পরিশ্রমে স্বপ্নের পথে হাঁটছেন আবদুল হালিম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার একটি ফসল বা গাছের সুষম খাদ্যের যোগান দেয়। যেখানে রাসায়নিক সারে কেবল এক বা দুইটি খাদ্য উপাদান থাকে সেখানে বার্মি কম্পোস্টে রয়েছে সুষম খাদ্য উপাদান।

কেঁচো সার উৎপাদনে এপিজিক ও এন্ডিজিক নামক কেঁচো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে মাটিতে অণুজীবের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটিতে বাতাসের চলাচলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সাধারণত রিং পদ্ধতিতে বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হয়।

কলার বাকলসহ বিভিন্ন ঘাস, লতার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দিতে হয়। পরে রিংয়ের মধ্যে ২০০ গ্রাম এপিজিক ও এন্ডিজিক কেঁচো মিশিয়ে রাখতে হয়। এভাবেই তৈরি হয় বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। এ সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ও পরিবেশ বান্ধব।

কেঁচো সার উৎপাদনে তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল হালিমের সাফল্যে অনেকেই বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে পানছড়ির উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণাঙ্কর চাকমা জানান, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকরা বার্মি কম্পোস্ট সার বেছে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, গিনেস কর্তৃপক্ষের সন্তোষ

‘আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে গিনেস কর্তৃপক্ষের ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে’

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস বুকে স্থান পাচ্ছে। আগের রেকর্ড ভঙ্গ ও প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ হওয়ায় আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে এ ব্যাপারে ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুই প্রতিনিধি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য দিয়েছেন। 

জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুঁটে তুলতে গত ২৯ জানুয়ারি শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে (১২শ’ বর্গমিটার) চীন থেকে আনা গাড় বেগুনি রঙের হাইব্রিড ও দেশের গাঢ় সবুক ধানের চারা রোপণ করা হয়। এখন সেই চারাগুলো বড় হয়ে তাতে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি দেখা যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিকৃতির তৈরির কাজ শুরু করে। এটি তৈরি করতে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেছেন। তাদের সাথে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন পুরুষ শ্রমিক ছিলেন। এ শস্যচিত্রের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছে সাত মাসের জন্য ১০০ বিঘা জমি ইজারা নেওয়া হয়েছে। 

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পরিদর্শনে মঙ্গলবার গিনেস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী বালেন্দা গ্রামের প্রকল্প এলাকায় যান। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ম. আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ জানান, তারা সাক্ষী হিসেবে পরিদর্শনে এসেছেন। কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে কামাল উদ্দিন বলেন, “গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেতে সকল শর্ত পূরণ হয়েছে। চীনে শস্যচিত্র ছিল ৭৫ বিঘা জমিতে আর এখানে ১০০ বিঘা জমিতে।” 

তিনি বলেন, “আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দাখিল করা হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আগেই শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাবে।”

প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক ও ন্যাশনাল এগ্রোকেয়ারের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র

হিসেবে রেকর্ড গড়ার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।” 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান জাগ্রত থাকবে। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা জাতিকে উদ্ধুব্ধ করতে চাই। আগামী দিনে এ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অনুপ্রেরণা জাগাবে।”

এ সময় বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুর রহমান দুলু, শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী শেখ, সহকারি কমিশনার (ভুমি) সাবরিনা শারমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com