আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে পানির দরে চামড়া বিক্রি

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গতবারের নৈরাজ্যের পরও শক্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। বিপর্যয় ঠেকাতে শেষ সময়ে হটলাইন চালু, কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি এবং তার আগে লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেই দায়িত্ব সেরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই সুযোগে আড়তদার ও ট্যানারির মালিকেরা চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকটা পানির দরেই বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া। দাম না পেয়ে চামড়া নষ্টের ঘটনাও ঘটেছে। 

ঈদের দিন পুরান ঢাকার চামড়া আড়ত পোস্তায় গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছাগলের চামড়ার দাম ২ থেকে ১০ টাকা। বিনা পয়সায়ও ছাগলের চামড়ার আড়তে রেখেও গেছেন কেউ কেউ। চট্টগ্রামে গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি হয়। অথচ চলতি বছর কোরবানির পশুর চামড়ার দাম অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বনিম্ন নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমের বিষয়ে নানা রকম অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে আড়তদারেরা বলছেন, অধিকাংশ ট্যানারির মালিক ঈদের আগে বকেয়া অর্থ দেননি। তাই অর্থাভাবে আড়তদারেরা বেশি দামে চামড়া কিনতে পারেননি। অন্যদিকে ট্যানারিমালিকদের একাংশ বলছেন, আড়তদারদের কাছে তাঁদের বকেয়া নেই। ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনায় চামড়া ও চামড়াপণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ মজুতের কারণে আড়তদার ও ট্যানারির মালিকেরা যত কম দামে কেনা যায়, সেই পরামর্শ দিয়েছেন। সে কারণে তাঁরা সরকার–নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে চামড়া কিনেছেন। অন্যথায় পুঁজি ওঠানো নিয়ে শঙ্কা থাকবে।

জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোরবানির চামড়ার কম দামের পেছনে কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক হবে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে লবণযুক্ত চামড়ার দাম ততটা কমেনি। আমাদের নির্ধারিত দামের কাছাকাছি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে চলতি বছর ৩০-৪০ শতাংশ কোরবানি কম হয়েছে। এরপরও চট্টগ্রামে ১০০০-১২০০ চামড়া নদীতে ফেলার ঘটনায় কষ্ট পেয়েছি।’

গতবার চামড়া নিয়ে নৈরাজ্যের পর ২৮ আগস্ট সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, ‘চামড়া নিয়ে এবার আমার শিক্ষা হয়েছে। এবারের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে একটি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেবল দাম নির্ধারণ করে বসে থাকায় কোরবানির চামড়ার দাম বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক  মো. আবু ইউসুফ। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোরবানির চামড়া বেচাকেনা প্রচলিত বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন। 

 দায় আছে শিল্প মন্ত্রণালয়েরও। ২০০৩ সালে সাভারের হেমায়েতপুরে আধুনিক চামড়াশিল্প নগরী প্রকল্প শুরু করে আজও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি তারা। যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা, তা আট বছরেও হয়নি। সিইটিপির কাজ শেষ না হওয়ায় ধলেশ্বরী নদী দূষিত হচ্ছে।

গত বছর কোরবানির ঈদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার অস্থায়ী বাজারে ছোট গরুর একেকটি চামড়া ৩০০–৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫০০–৬০০ এবং বড় চামড়া ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।  

কতটা কমে বিক্রি 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫–৪০ টাকা দর ধরা হয়। আর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ২৮–৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩–১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দরপতন ঠেকাতে কেস টু কেস ভিত্তিতে ২৯ জুলাই কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। 

আড়তদারেরা জানান, বড় আকারের গরুর চামড়া ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২৫-৩০ বর্গফুট এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬-২০ বর্গফুটের হয়। তাতে সরকার–নির্ধারিত দাম হিসাব করলে লবণযুক্ত বড় চামড়া কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা, মাঝারি চামড়া ১ হাজার টাকা ও ছোট চামড়ার দাম হয় কমপক্ষে ৬০০ টাকা। 

তাহলে দাম কতটা কমেছে, তা জানতে একজন ট্যানারিমালিককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, কোরবানির সময় মাঝারি আকারের চামড়াই বেশি আসে। তাতে প্রায় ২৪ বর্গফুট চামড়া থাকে। প্রতি বর্গফুটের দাম সরকারের নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা ধরলেও ২৪ বর্গফুটের দাম আসে ৮৪০ টাকা। তার থেকে লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ১৫০ টাকা ও আড়তদারের মুনাফা বাবদ ৫০ টাকা বাদ দিলে ৬৪০ টাকা দাম হওয়ার কথা। অথচ সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে ৩০০–৩৫০ টাকায়। 

ব্যবসায়ীদের পুরোনো যুক্তি

চামড়ার কম দামের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান প্রথম আলোকে বলেন, কাঁচা চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা ঠিকই আছে। কারণ প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে আট টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া আড়তদারেরা নগদ অর্থের সংকটে রয়েছেন। বেশির ভাগ ট্যানারিমালিক আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধ করেননি। 

অবশ্য আড়তদারদের কাছে ৫৩ ট্যানারিমালিকের বকেয়া নেই বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ।

কোরবানির চামড়ার নৈরাজ্য বন্ধে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মো. আবু ইউসুফ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ধান–চালের মতো কোরবানির চামড়া সংগ্রহে সরকারের হস্তক্ষেপ লাগবে। সরকার বড় ট্যানারির সঙ্গে চুক্তি করে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চামড়া কিনে তাদের দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

এগ্রোবিজ

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিল ভারত

অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য শুল্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।  
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্ষুব্ধ হন ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশ থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ আসে।

এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ–সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে এখন সবজি আর সবজি। ফুল ও বাঁধাকপি, মুলা, করলা, বেগুনসহ নানা তরিতরকারি। খেত থেকে তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কৃষক-শ্রমিকেরা। সেখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারেরা। ট্রাকে করে এ সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা একটু আগেভাগে শীতের সবজির চাষ শুরু করেন। এবার অনেক কৃষক সবজি আবাদ করছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এখন সবজিতে বাজার ভরে গেছে। উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে বাইরের জেলায়, এমনকি বিদেশেও।

সবজি থেকে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন, তা নয়। এলাকার অনেক নারীও নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বড়দ্বেশ্বরী গ্রামের মাহমুদা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সবজি খেতে সারা বছরই কাজ পাওয়া যায়। এতে তাঁর সংসার খরচ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়।

গত কয়েক দিন সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, আকচা, গড়েয়া ও নারগুন এবং রানীশংকৈলের রাউতনগর, নেকমরদসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে নানা জাতের শাকসবজি। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে পাইকারেরা নগদ টাকায় তা কিনে নিচ্ছেন। পরে তাঁরা সেগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ১৪ বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে করলা, লাউ, শসা ও বেগুনের আবাদ করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা একটু বেশি। এ মৌসুমে সবজি চাষ করে তাঁর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, হংকংসহ ১০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে লাল ও নাপাশাক লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছি। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে, তা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও লাখখানেক টাকা পাওয়া যাবে।’

একই উপজেলার নারগুন এলাকার মো. সামসুদ্দিন চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিমণ বেগুন উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপর।

গত মঙ্গলবার শহরের সবজি আড়তে এক মণ বেগুন নিয়ে এসেছিলেন নারগুন গ্রামের হুরমত আলী। তিনি বলেন, কেজিপ্রতি ২০ টাকা দরে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে সব বেগুন বিক্রি করে দিয়েছেন। এ দরে বেগুন বিক্রি করে খুশি তিনি। বললেন, যে দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভালো লাভ থাকবে।

রানীশংকৈলের রাউতনগর গ্রামে সড়কের পাশে ফুলকপি ও বেগুন কিনছিলেন ঢাকা থেকে আসা পাইকার আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি ঢাকার শ্যামবাজারের সবজির দর জেনে নেন। এরপর ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেতের পাশ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে সবজি পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। শ্যামবাজারে এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতে থাকে।

এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মাইকেল টুডু লাখ দু-এক টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসল খেত থেকে বিক্রি করেই পেয়েছেন চার লাখ টাকার ওপরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন।

মহাস্থান হাটে গতকাল রোববার পাকড়ী জাতের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে। এর প্রভাব পড়েছে পুরোনো আলুর বাজারেও। পুরোনো আলুর দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ২২ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বড় আগুন লেগেছে শসার বাজারে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।

সারা দেশে পেঁয়াজের দাম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলেও এই হাটে এই পণ্যটি তেমন বিক্রি হয় না। এটি মূলত মৌসুমি সবজির পাইকারি মোকাম। হঠাৎ প্রায় সব সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম প্রসঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়েছে।

গতকাল মহাস্থান হাট ঘুরে জানা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে ফুলকপি ও মুলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম দুই দিন ধরে বেড়েছে। কৃষকেরাও সরবরাহ কম থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।

আবদুস সালাম নামে হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন পেঁয়াজের বাজারে আগুন। আলুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি শসার দাম ২০০ টাকা। এটা কল্পনা করা যায়!’

শিবগঞ্জের ডোমনপুকুর এলাকার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবার আগাম সবজির উৎপাদন খারাপ হয়েছে। নতুন করে কিছু সবজি এর মধ্যে বাজারে উঠবে। তখন দাম কমতে পারে। বাজারের অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বৃষ্টির কারণে তাঁদের অনেকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ উৎপাদন কমের বিষয়টি মানতে চাননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির পরেই চাষিরা সবজির চাষ বড় আকারে শুরু করেছেন। সেই সবজি বাজারে আসা শুরুও হয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম হওয়ার কথা নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক

আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক? প্রশ্নটা সরাসরি তুলে দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা। কমিউনিস্ট প্রভাবিত এই কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালের অভিযোগ, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। তাই রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ারও। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হোক। না হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিই শুধু নষ্ট হবে না, পাকিস্তানের বিপুল লাভ হবে।

দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত পেঁয়াজ উৎপাদকদের ক্ষুব্ধ করেছে। বর্ষায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতির পর সবে কৃষকেরা কিছুটা দাম পেতে শুরু করেছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে পেঁয়াজের বাড়তি দাম কমে যাবে। তাতে পেঁয়াজচাষিদের ক্ষতি মিটবে না। এ বছর বর্ষায় মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্ণাটকে পেঁয়াজ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শারদ পাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার পেঁয়াজ নিয়ে একাধিক টুইট করেন। তাতে তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। পাওয়ার বলেন, রাজ্যের পেঁয়াজচাষিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমস্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। শারদ পাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আরজি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতের অবস্থান এর ফলে নষ্ট হবে। উপকৃত হবে পাকিস্তান।

ভারতের বৃহত্তম পাইকারি পেঁয়াজের বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও। সেখানে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ২০ থেকে বেড়ে ৩৫–৪০ রুপি হয়ে যায়। এতে চাষিরা তাঁদের ক্ষতি কিছুটা মেটাতে পারছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এখন দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাবে। চাষিদের উপকার হবে না।

কমিউনিস্ট সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সভা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, সারা দেশের সব পেঁয়াজচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকেরা এখন রাস্তায় নেমে রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদ করছেন। সবাই বুঝতে পারছেন, বিহারের ভোটের দিকে তাকিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ভোটের আগে সরকার চাইছে না পেঁয়াজের দাম বাড়ুক।

রপ্তানি বন্ধের আগে দেশে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি মানভেদে ৪০–৪৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছিল। গত বছর দাম দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তখনও সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ কেনে ভারতের কাছ থেকে। গত বছর হুট করে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর অক্টোবরে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি পেঁয়াজের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক রাতেই পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০-২০ টাকা

  • রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম।
  • রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।
  • সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায়, ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা।

রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কোনো কোনো বিক্রেতা এক পাল্লা ৪৫০ টাকাও চাইছে।

সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায় একই পরিস্থিতি। ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা। জানতে চাইলে সব বিক্রেতারই একই কথা জানালেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে না তাই দাম বেড়েছে।

তবে বাজার ঘুরে দেখা গেল, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও এক রাতের মধ্যে বেড়েছে। এক পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এই দামেই অনেককে দেখা গেল পেঁয়াজ কিনতে। কারওয়ানবাজারে এক ক্রেতা জানালেন দাম আরও বাড়তে পারে তাই সকালেই পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি।

গতকাল পেঁয়াজ রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা করেছে ভারত। গতকাল সোমবার দিনভর দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। পরে রাতে ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা দেশটির আমদানিকারকদের হাতে আসে।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকেই অস্থির হয়ে পড়ে রাজধানীর পেঁয়াজের বাজার। রাজধানীর মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল বিকেলের পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আর কারওয়ান বাজারের আড়তে বেলা ৩টার দিকে যে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৬ টাকা ছিল, সন্ধ্যা ৭টায় তা ওঠে ৭০ টাকায়। আর একই বাজারে ৪২ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ রাত ১০টায় হয়ে যায় ৫৬ টাকা।

আজ সকালে সেই দাম আরও বেড়েছে। এক কেজি ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরও ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অস্তির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এতে বাজারে হুহু করে বাড়তে শুরু করে দাম। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়। বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিলেই কেবল ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে পেঁয়াজ খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় পেঁয়াজ। পরে ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল গত মার্চ মাসে। এরপর থেকে আমদানি হচ্ছিল।

এদিকে গতকাল পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমানোর আবেদন নাকচ করল এনবিআর। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের ওপর ৫% আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল তা নাকচ করে এনবিআর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com