আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

বোয়াল মাছ এখন বিপন্ন প্রায়। তবে বেশি বেশি চাষ করেই এর বংশ রক্ষা করা সম্ভব। কেননা প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম নষ্ট হওয়ায় মাছটি আগের মত পাওয়া যায় না। তবে বোয়াল একটি রাক্ষুসে স্বভাবের মাছ। কাজেই এ মাছকে প্রজননের আওতায় এনে উৎপাদন করতে কয়েকটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বোয়াল মাছ মধ্য এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রজননের সময় খুব সহজেই পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে শনাক্ত করা যায়। প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী মাছের পেটভর্তি ডিম থাকে আর পুরুষ মাছের পেট সাধারণ মাছের মত থাকে। তাছাড়া পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিলে সাদা মিল্ট বের হয়। এভাবেই বোয়ালের পুরুষ-স্ত্রী শনাক্ত করা যায়।

বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করলেই ডিম দিয়ে থাকে। প্রথম ডোজের সময় শুধু স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন দিতে হয়। ডোজের মাত্রা ২ মিগ্রা বা কেজি। ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয় ৪ মিগ্রা বা কেজি।

দুটি পদ্ধতিতে বোয়ালের ডিম সংগ্রহ করা যায়। বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে আলাদা আলাদা হাউসে রাখতে হয়। দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টা পর সাধারণত বোয়াল মাছ ডিম দিয়ে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, যখনই ২-১টি ডিম বের হবে; তখনই মাছগুলোকে একে একে হাউস থেকে তুলে আনতে হবে।

এবার স্ত্রী মাছের পেটে আস্তে করে চাপ দিলেই ডিম বের হবে। স্ত্রী মাছের ডিম বের করার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিয়ে মিল্ট বের করে ডিমের উপর পাখির পালক দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এরপর ডিমগুলোকে ২-৩ বার বিশুদ্ধ পানিতে পরিষ্কার করে ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার পানির হাউসে রাখতে হবে। চিকন প্লাস্টিক পাইপকে ছিদ্র করে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

অন্যভাবে, পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হরমোন ইঞ্জেকশন দিয়ে একসাথে একটি বড় হাউসে ছেড়ে দিতে হবে। তাতে দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে এরা ডিম পারবে। ডিম পারা শেষ হলে ব্রুডমাছগুলোকে সর্তকতার সাথে সরিয়ে নিতে হবে। তারপর হাউসের পানি কমিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি রেখে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে পানির ঝরনা দিতে হবে। এখানেও ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে।

তবে বোয়াল মাছের পোনা খুবই রাক্ষুসে। ডিম থেকে ফোটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একটি আরেকটিকে খেতে শুরু করে। অন্য মাছের রেণু পোনা ডিমের কুসুম বা ক্ষুদ্র আকৃতির প্ল্যাংকটন খেলেও বোয়ালের পোনা ডিমের কুসুম বা কোনো ধরনের প্ল্যাংকটন খায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের জীবিত অবস্থায় মাছের রেণু বা পোনাকে খেতে দিতে হয়। এভাবে ৮-১০ দিনেই ২ ইঞ্চি সাইজের পোনায় পরিণত হয়।

বোয়াল মাছ এককভাবে চাষ করা যায় না। একটি আরেকটিকে খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত আর বাকি থাকে না। তা ছাড়া কৃত্রিম খাবার না খাওয়ায় মাছগুলো খুব একটা বড়ও হয় না। তাই এদের বিভিন্ন মাছের সাথে চাষ করে ভালো ফল পাওয়া যায়। মজুদ ঘনত্ব মিশ্রচাষে প্রতি ৫ শতাংশে ১টি মাছ।

মাছ ছাড়ার সময় একটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে, বোয়ালের পোনা যেন কোনো অবস্থায়ই পুকুরের অন্যান্য মাছের আকারের সমান না হয়। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য মাছের ওজন যখন ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন হবে; সেখানে ২ ইঞ্চি সাইজের বোয়ালের পোনা ছাড়তে হবে। আর তা না হলে বোয়াল দ্রুত বড় হয়ে অন্যান্য মাছ খেয়ে ফেলতে পারে।

এগ্রোবিজ

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ জানান, সরকারি নির্দেশনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এ বছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তা ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিবেদনে কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই প্রান্তিকে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার। এখন স্থিতিশীল থাকলেও কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কৃষিপণ্যের বাজার। আট বছরের মধ্যে এখন খাদ্য মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি। ভুট্টার দাম অতি সম্প্রতি কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত মে মাসে প্রতি মেট্রিক টন ভুট্টা ৩০০ ডলার পর্যন্ত চড়েছিল। মূলত উৎপাদন কম হওয়া, পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভুট্টার দর বেড়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে ২৩০ ডলারে নেমে এসেছে ভুট্টার দর। সরবরাহ সংকটে চালের দাম এ বছরের শুরুর দিকে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গিয়েছিল। গত ত্রৈ-মাসিক হিসাবে এটি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি মেট্রিক টন চাল এখন ৪০৬ ডলারে নেমেছে।

ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার সয়াবিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া চীন সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে ব্যাপক হারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ প্রান্তিক পান চাষিরা!

বরগুনার আমতলীতে পানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই প্রান্তিক চাষিদের। ভরা মৌসুমেও পানের দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। পানের ব্যাপক আমদানি হলেও পর্যাপ্ত বিক্রি না হওয়ায় পান চালান নিয়েও বিপাকে পড়েছে চাষিরা। ফলে তারা চরমভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অথচ গ্রাম থেকে যাওয়া এ পান নগরীতে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এ জন্যই আমতলীর হাট-বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজারের বেশি পান চাষি রয়েছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত দামে খৈল ও বাঁশের শলা ক্রয়সহ প্রয়োজনীয় উপকরণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার হাট- বাজারগুলোতে পানির দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১০০০ টাকা ১ পাই (২৪ চল্লি) মূল্যের পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

প্রান্তিক কৃষকরা জানায় করোনায় পরিবহন সংকটের সুযোগে সিন্ডিকেট করে পাইকাররা পানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। আর পাইকাররা বলছেন বর্তমানে বাজারে পানের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম। এ কারনে পানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা। গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া ওই মানুষগুলো বিশ্বাস করে সরকার যদি ওই সিন্ডিকেট ভেঙে পান চাষিদের সহয়তা করে তাহলে জীবিকার তাগিতে আবারও প্রান্তিক চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবে।

কুকুয়া ও চাওড়া  ইউনিয়নের পানচাষি বাদল দফাদার ও রহিম ব্যাপারি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভরা মৌসুমেও চাষিরা পানের ন্যায্য মূল্য পায়নি। পানের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এবছর পান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, পান চাষের খরচ ওঠে কি না সন্দেহ আছে। অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়বেন। যে পান বাজারে ১০০০ টাকা ১ পাই (২৪ চল্লি) মূল্যের পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছেু। এতে দিনমজুরি দিতেও তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকে যাতে পানের ফলনে কোনো সমস্যা না হয়। পানের চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। বাম্পার ফলন হলেও গত বছরের তুলনায় এবছর পানের দাম খুবই কম। এখান থেকে যদি অন্যত্র পান রপ্তানি করা যায় তাহলে পান চাষিরা বেশি মূল্য পেতো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অস্থির পেঁয়াজের বাজার, কমেছে চাল-সবজির দাম

শাহীন খন্দকার: [২] বাজারে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বাজার। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। ভারত থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ আনা এবং চাহিদার তুলনায় কম আমদানির কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

[৩] মোহম্মদপুর কৃষিবাজারের আমদানিকারক সলিম উল্লাহ বলেন, বন্দর থেকে খুচরা পর্যায়ে চার হাত বদল ও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের চেষ্টাও দাম বাড়ার কারণ। সেই সঙ্গে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে দাবি করেন অন্যান্য আমদানিকারকদের।

[৪] রাজধানীর মোহম্মদপুর কৃষিবাজার, টাউনহল বাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি শীতের পাতা কপি ও ফুল কপি ছোট সাইজের প্রতি পিস ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও কাকরোল ৬০ টাকা। সবজি বিক্রেতা কৈলাস ও শেখর বলেন, বাজারে সবজি বিশেষে দাম কেজিতে ৭-৫ টাকা কমলেও বেড়েছে ৫-১০টাকা। তবে শীতের মৌসুম শুরু হলেই বাজারে কমতে শুরু করবে শাক-সবজির দাম।

[৫] এসব বাজারে দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। চায়না আদার কেজি ১৬০ টাকা। হলুদের কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দেশি ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। চিনি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল।

[৬] মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, আটাশ চালের কেজি ৫০ টাকা, নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। সোনালী (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। বাজারে আবারও ব্রয়লার কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। সোনালি মুরগি (কক) কেজিতে ৩০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগির কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৯০ টাকা। লেয়ার মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কেজি ২৩০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কফির অস্থিতিশীল বাজারে উত্তাপ বাড়াচ্ছে কলম্বিয়া

কফি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে তীব্র সংকট আন্তর্জাতিক বাজারকে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় জনপ্রিয় পানীয় পণ্যটির দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই বাজারকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে কলম্বিয়া। চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিচ্ছেন দেশটির কৃষকরা। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তারা রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী কফি সরবরাহ করেননি। ফলে শীর্ষ ক্রেতাদের পড়তে হয়েছে বড় ধরনের লোকসানে। আন্তর্জাতিক বাজারে আরো এক ধাপ দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ কফি উৎপাদক কলম্বিয়া। অ্যারাবিকা উৎপাদনে দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জীবিকা কফির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কৃষকরা চলতি বছর স্থানীয় উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ বা ১০ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রফতানিকারক, ব্যবসায়ী ও রোস্টাররা। কফি শিল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে কফির মূল্য ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রধানত শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনে ধস নামে। দেখা দেয় সরবরাহ সংকট। দেশটিতে সৃষ্ট সংকটের সুযোগ নিয়েছেন কলম্বিয়ার কৃষকরা। তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যখন সরবরাহ চুক্তি করেছেন তখন দাম ছিল অনেক কম। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকরা সরবরাহ আটকে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য বেশি দামে পুনরায় বিক্রি করা।

গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল কমোডিটিস ট্রেড হাউজের এক ডিলার জানান, ব্যবসায়ীরা চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ পাননি। বিষয়টি বাজারকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। যদি ব্রাজিলে খরা অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি পাউন্ড কফির দাম ৩০০ সেন্টের গণ্ডি ছাড়াতে পারে। বর্তমানে বাজার চরম অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কফি রোস্টাররা ‘সিঙ্গেল অরিজিন কলম্বিয়া’ শীর্ষক প্রচারণায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন। মূলত সরবরাহ উৎসসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এমন চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

কলম্বিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক দেশের সরবরাহ চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা। বিষয়টি কফির ঊর্ধ্বমুখী দামকে আরো উত্তেজিত করে তুলতে পারে। যদিও এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

কলম্বিয়ান কৃষকরা জানান, তারা এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছর কফি সরবরাহ করবেন। কিন্তু ক্রেতারা এতে সন্তুষ্ট নয়। অন্য একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, অনেক ক্রেতাই লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তারা বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজছেন। যদি কৃষকরা আগামী বছরও সরবরাহ না করেন এবং দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বেশ কয়েকটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের প্রত্যেকটি ৮০ থেকে ১ কোটি ডলার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদন ফেডারেশন এফএনসি সবচেয়ে বড় লোকসানে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ান কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশীয় রফতানির ২০ শতাংশই আসে এফএনসি থেকে।

এফএনসির প্রধান রবার্টো ভ্যালেজ বলেন, কলম্বিয়ার খুব কম রফতানিকারকই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। শীর্ষ রফতানিকারক এফএনসিসহ সব শীর্ষ ট্রেড হাউজই লোকসানে রয়েছে। যদি একজন চাষীও সরবরাহ থেকে বিরত থাকে, তবে পুরো চক্রকেই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com