আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে মাংস কম খেতে হবে?

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে মাংস কম খেতে হবে?

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে হলে মাংস খাওয়াও কমাতে হবে। এমন তথ্য দিয়েছেন জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ- আইপিসিসি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর গ্রিন হাউস গ্যাসের এক চতুর্থাংশ আসে জমির ব্যবহার থেকে। যার বেশিরভাগই হয় মাংস উৎপাদনকারী গবাদি পশুর খামারের কারণে।

মাংস জাতীয় খাবারের চাহিদা বাড়ার ফলে জমি থেকে বেশি মাত্রায় কার্বন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে বায়ুমণ্ডল আরও বেশি উষ্ণ হচ্ছে।

আর এ কারণেই গবাদি পশুর খামার কমাতে খাবার হিসেবে মাংস খাওয়া কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ বেশি করে উদ্ভিদজাত খাদ্য গ্রহণ শুরু করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তারা হুঁশিয়ার করেছেন, মাংস এবং দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরির লক্ষ্যে নিবিড় চাষাবাদ বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ক্রমশই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ও আইপিসিসির একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য সালিমুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “যেখানি পারি আমাদের গ্রিন হাউস গ্যাসটাকে কমানো প্রয়োজন। তা না হলে যে পরিমাণে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে তা সহ্য করা যাবে না।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

লাইভস্টক

গরুর দুধে যদি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, তাহলে এর মাংস খাওয়া কতোটা নিরাপদ?

বহু মানুষের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে গরুর মাংসের তরকারি।
বহু মানুষের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে গরুর মাংসের তরকারি।

সম্প্রতি গরুর দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় এখন গরুর মাংসের মান নিয়েও ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

যেহেতু গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত হয়েছে, তাহলে গরুর মাংস কতোটা নিরাপদ – এমন প্রশ্ন এখন বেশিরভাগ ভোক্তার।

ঢাকার বাসিন্দা কুলসুমা বেগম সপ্তাহে অন্তত দুইবার গরুর মাংস খেয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যেন কোন কিছুতেই ভরসা পাচ্ছেন না।

বিবিসি বাংলাকে মিসেস কুলসুমা আক্ষেপ করে বলেন, “যেখানে গরুর দুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, তাহলে ওই গরুর মাংসেও তো অ্যান্টিবায়োটিক থাকবে। ওই শরীরটা থেকেই তো দুধটা আসে।”

“আমরা এই দূষিত মাংস কিভাবে খাব? মাংস তো আর নিষিদ্ধ করা যাবেনা।”

অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া গরুর মাংস কি নিরাপদ?

সম্প্রতি সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাতে গরুর দুধের পাশাপাশি, এর মাংসেও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।

এ ব্যাপারে পশু চিকিৎসকরা বলছেন, গরু যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এর শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।

কিন্তু পশুর অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মর্জিনা আক্তার।

“এখানে যেটা সমস্যা হচ্ছে যে, গরু বাছুরকে কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই না হলে হাতুড়ে ডাক্তারের মাধ্যমে একটা ওষুধ লিখিয়ে পশুগুলোকে খাইয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কোর্স কমপ্লিট করছেনা। এক কথায় নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করছে না কেউ।”

গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হলে, তাহলে সেটার রেসিডিউটা গরুর শরীরে ওষুধ ভেদে ৭ থেকে ১৫ দিন থেকে যায় বলে জানান মিজ আক্তার।

এই সময়কে গরুর রেস্টিং পিরিয়ড বা উইথড্রয়াল পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে।

এখন এই রেস্টিং পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গরুর দুধ বা মাংস খেলে কোন ঝুঁকি থাকে না।

গরুর মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।
গরুর মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে কি করছে সরকার?

অ্যান্টিবায়োটিকের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

সেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবেনা বলে উল্লেখ করা হয়।

তারই প্রেক্ষিতে প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জেলা উপজেলার প্রতিটি ওষুধের দোকানে তদারকি শুরু করেছে বলে জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক।

সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে গরুর মাংসের মান পরীক্ষার কথা জানান তিনি।

“আমরা আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের খামারগুলোয় নিয়মিত তদারকিতে নিয়োজিত করেছি। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পশু এবং মানুষ উভয়ের শরীরে ব্যবহৃত হয়। সেগুলোকে অ্যাভয়েড করার কথা বলছি।”

“অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করা আর ওষুধ খাওয়ানো শেষে এটি বিক্রির আগে ৭ থেকে ১৫ দিন রেস্টে থাকার বিষয়টিও প্রচার করছি। এছাড়া ফার্মেসিগুলোয় চেষ্টা করছি মনিটরিং করার।”

বাংলাদেশে যে পদ্ধতিতে গরুর মাংস রান্না হয় তাতে ব্যাকটেরিয়া বাঁচেনা।
বাংলাদেশে যে পদ্ধতিতে গরুর মাংস রান্না হয় তাতে ব্যাকটেরিয়া বাঁচেনা।

তবে জনবলের অভাব থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান মি. ভৌমিক।

“আমার একটা উপজেলাতে পশু ডাক্তার মাত্র একজন। এখন এই একজন ডাক্তার দিয়ে উপজেলার সব প্রাণীকুলের চিকিৎসা দেয়া রীতিমত অসম্ভব ব্যাপার। এই স্বল্পতার কারণেই মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে যাচ্ছে।”

তবে নতুন জনবল সৃষ্টির জন্য একটা প্রস্তাবনা এরইমধ্যে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান মি. ভৌমিক।

তাদের সেই প্রস্তাবনা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।

সেটা পাস হলে সমস্যাগুলো অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

কাঁচা গরুর মাংস কাটার সময় হাতে গ্লভস পরে নিতে হবে।
কাঁচা গরুর মাংস কাটার সময় হাতে গ্লভস পরে নিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে কিভাবে?

গরুর মাংসে যে অ্যান্টেবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সেটা যদি মানবদেহে প্রবেশ করে তাহলে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম।

তবে নিয়ম মেনে গরুর মাংস রান্না করলে বা সংরক্ষণ করলে সেই ঝুঁকি থাকেনা।

যেহেতু বাইরে থেকে গরুর মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা সেটা বোঝার উপায় নেই। এমন অবস্থায় ভোক্তাদের সচেতন হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন মিজ তাসনিম।

“আমাদের দেশে যেভাবে গরুর মাংস রান্না করা হয়, ওই তাপে অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব মাংসে আর থাকেনা। কিন্তু মাংসটাকে যখন কাটা হচ্ছে, ধোয়া হচ্ছে তখন এটা ছড়াতে পারে।”

এজন্য কাঁচা মাংস নিয়ে কাজ করার সময় হাতে গ্লাভস পরার পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়া রান্নার আগে বা ফ্রিজে সংরক্ষণের আগে মাংস খুব ভালভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, যেন রক্তের কোন চিহ্ন না থাকে।

আধা কাঁচা মাংস খেলে মিট পয়জনিংয়ের আশঙ্কা থাকে।
আধা কাঁচা মাংস খেলে মিট পয়জনিংয়ের আশঙ্কা থাকে।

সতর্কতা:

কেউ যদি আধা কাঁচা মাংস বা স্টেক, মাংসের কিমা অথবা মাংস সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন তাহলে মিট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসকের মতে, দুষিত মাংস খাওয়ার ফলে ভয়াবহ ফুড পয়জনিং এমনকি রক্তের সংক্রামক রোগ সেপ্টিসেমিয়া হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

তাই বলে আতঙ্কিত হয়ে গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়ার কোন কারণ নেই।

শুধুমাত্র সচেতন হলেই এ ধরণের ঝুঁকি শতভাগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বেড়ে ওঠার ঝুঁকি নিয়ে মন্ত্রী এবং খামারিদের ভিন্ন মত

ব্রয়লার মুরগী বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়
ব্রয়লার মুরগী বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়

সাত বছর বয়সী সন্তানের মা ঢাকার নিশিতা ইসলাম। তার সন্তানের প্রিয় খাবারের একটি মুরগীর মাংস। এজন্য নিয়মিতই ব্রয়লার মুরগী রান্না বা মুরগী ফ্রাই করে সন্তানকে খেতে দেন তিনি।

এখন ব্রয়লার মুরগীকে দ্রুত বর্ধনশীল খাবার দেয়ার খবরে উদ্বিগ্ন তিনি।

“বাচ্চার পুষ্টির জন্য মুরগি অপরিহার্য্য। কিন্তু এতেও যদি ক্ষতিকর কিছু থাকে তাহলে যাবো কোথায়?”

বাংলাদেশে এ মূহুর্তে ফার্মের মুরগী হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার মুরগিই পুষ্টি চাহিদা পূরণে বেশি ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির হিসেবে প্রায় ৭০ হাজারের মতো পোলট্রি ফার্ম রয়েছে সারাদেশে।

দেশজুড়ে ছোট বড় হ্যাচারিতে গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় কোটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে।

সরকারের প্রত্যাশা ২০২১ সাল নাগাদ সপ্তাহে একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় আড়াই কোটি।

তবে বাংলাদেশের মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু অভিযোগ করেছেন যে, বাড়তি মুনাফার আশায় খামারিরা ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা বড় করতে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির খাবার দিচ্ছেন।

এটি না করে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার দিয়ে মুরগি বড় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি ইউরোপ থেকে মুরগীর খাবার কিনে মধ্যপ্রাচ্যে রি-প্যাকেট করতো। সেখানে এমন কিছু মেশাতো যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”।

তিনি বলেন, “এনবিএম নামক একটি উপাদান আমরা রাজস্ব বোর্ডের সাথে আলাপ করে বাংলাদেশে আনা বন্ধ করেছি। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এটা ক্ষতিকর উপাদান যা ব্রয়লারের ওজন দ্রুত বাড়াতে পোলট্রি ফিডে অসাধু ব্যক্তিরা ব্যবহার করতো। আমরা এগুলো বন্ধ করতে পেরেছি। তবে একই সাথে পুষ্টির জন্য বিকল্প স্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে”।

বাংলাদেশে একটি খামারে খাবার দেয়া হচ্ছে
বাংলাদেশে একটি খামারে খাবার দেয়া হচ্ছে

খামারিরা কী বলছেন

তবে প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ মানতে রাজী নন খামার মালিক ও পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন খাবারে অতিরিক্ত কিছু খামার পর্যায়ে মেশানো হয় না।

“পোলট্রি ফিড আমরা তৈরি করিনা। আমরা কিনে এনে শুধু কোনটা কতটুকু দিবো সে অনুযায়ী দিয়ে খাবার তৈরি করি। এখানে আর কিছু মেশানোর বা দেয়ার সুযোগ নেই। খাবার ও মুরগির বাচ্চা দুটিই কিনে এনে আমরা শুধু লালন পালন করি,” বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন বিশ্বের কোথাও ব্রয়লার মুরগি ১০৫ দিন ধরে বড় করেনা।

“সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় দেয়া হয়। কিন্তু ওতো দিন রাখলে মুরগীর ওজন ৩/৪ কেজি হয়। তবে এতো ওজনের মুরগীর ক্রেতা বাংলাদেশে কম। সে কারণেই আমরা ৩০/৩২ দিন লালন পালন করে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এক বা দেড় কেজি ওজন হলে বিক্রি করে দেই”।

তিনি বলেন গ্রিলের জন্য ছোটো ব্রয়লারের চাহিদা বেশি থাকে সেজন্য উৎপাদকরা ২৮/৩০ দিনে বিক্রি করে দেন।

একই ধরণের কথা বলছেন পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড. এম এম খান।

তিনি বলছেন বলছেন দেশী মুরগিকে যত খাবারই দেয়া হোক না কেনো একটা পর্যায়ের পর তার আর ওজন বাড়বেনা।

“কিন্তু ব্রয়লার জেনেটিক পটেনশিয়াল। তাকে সঠিক পুষ্টি দিতে হয়। তার খাবারে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হয়। আর এখন প্রতিযোগিতামূলক মার্কেট। অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কিছু মিশিয়ে কেউ খামার বা পোলটি ফিড ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেনা। প্রতিনিয়ত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে। তাই এ সুযোগই নেই যে গণহারে সবাই মুরগির ওজন বাড়িয়ে ফেলবে”।

পোলট্রি ফিড আমদানিকারকের বক্তব্য

তবে মূল অভিযোগ উঠছে পোলট্রি ফিড আমদানীকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে। যদিও তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে পোলট্রি ফিড আনা হয়না।

পোলট্রি খাবার আমদানীকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ডক্টরস ফিড লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: এস এম বায়েজিদ হোসেন বলছেন তারা পোলটি ফিড আমদানি করে অবিকৃত অবস্থায় ডিলারের মাধ্যমে বাজার জাত করেন।

“ফিড আমদানীকারকরা বড় ভলিউমে আমদানি করেন এবং মেশিনের মাধ্যমে প্যাকেটজাত করে ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করেন। তাই এসব পর্যায়ে অতিরিক্ত কিছু খাবারে মেশানো অসম্ভব। তবে একেবারে খুচরো পর্যায়ে কেউ অসাধুতা করলে সেটি হতে পারে”।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গরুর চোখে ‘ভার্চ্যুয়াল চশমা’

গরুর চোখে ‘ভার্চ্যুয়াল চশমা’
গরুর চোখে ‘ভার্চ্যুয়াল চশমা’

প্রযুক্তি পণ্য ভিআর হেডসেট বা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট। এ প্রযুক্তি হলো কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মডেলিং ও অনুকরণবিদ্যা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির এ পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে।

এ প্রযুক্তি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে গরুর ক্ষেত্রে। গরুর উদ্বেগ দূর করা এবং মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে গাভির দুধ দেওয়ার পরিমাণ বাড়ে। রাশিয়ায় গরুতে এ ভিআর ব্যবহার করে গরুকে দেখা গেছে, একটি উষ্ণ চারণভূমিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরুটি। ফলে গরুর উদ্বেগ দূর হচ্ছে এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। রাজধানী মস্কোর কাছাকাছি একটি বড় ডেইরি ফার্মে এ পাইলট প্রকল্পের কাজ চলছে। গবেষকেরা বলছেন, সুখী গরু বেশি দুধ দেয়। আর মন্ত্রণালয়টি বলেছে, একটি শান্ত পরিবেশে গাভিগুলোর দুধ দেওয়ার পরিমাণ যেমন বাড়ে, তেমনি দুধের গুণগত মানও উন্নত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গবেষণা করে গরুর জন্য ভিআর তৈরি করা বিশ্বে এটাই প্রথম। রাশিয়ার রাসমোলোকো ফার্ম দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ওই গবেষণায় যুক্ত রয়েছে। তারা বিবৃতিতে বলেছে, ভিআর ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত গ্রীষ্মকালীন গোচারণভূমি তৈরি করা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, এতে লাল বর্ণচ্ছটা ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ, বর্ণচ্ছটার মধ্য থেকে সবুজ কিংবা নীল রঙের থেকে গরু লাল রং বেশি পছন্দ করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গরু ধরে রাখবে পুরসভা

গরু ধরে রাখবে পুরসভা
গরু ধরে রাখবে পুরসভা

যত্রতত্র গরু চরলেই ধরে ফেলবে পুরসভা। পরে লটারি করে সেগুলি বিলিয়ে দেওয়া হবে গো-পালকদের। সোমবার সন্ধ্যায় কালনা শহরে গোপালকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে এমনই নিদান দিলেন পুরপ্রধান দেবপ্রসাদ বাগ।

ক্রমাগত গরুর গুঁতো, বাড়িতে ঢুকে পড়া, গরুর ধাক্কায় বাইক দুর্ঘটনার মতো অভিযোগ পেয়ে কালনা শহরের গরুর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেষ্ট হয় পুরসভা। নাগরিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। শহরের বাসিন্দারা দাবি করেন, বাজারের পচা, আনাজ খেয়ে, রাস্তায় ছড়িয়ে নোংরা করে গরুরা। তাদের মল-মূত্রেও নোংরা হয় রাস্তা। খোঁজ নিয়ে পুরসভা জানতে পারে, বেশ কিছু ব্যবসায়ী রাস্তায় গরু ছেড়ে রাখেন। রাস্তাতেই বাছুর জন্মায়। তারপরে দুধের ‘লোভে’ গরুকে বাড়ি নিয়ে যান মালিকেরা। পুরপ্রধানের নির্দেশে শহরে আটটি ওয়ার্ডে কত জন গো-পালক রয়েছেন এবং তাদের কতগুলি গরু রয়েছে তার সমীক্ষা করা হয়। জানা যায়, শহরে গরু পালন করেন প্রায় ২৫০ জন। গরু রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশো।

এ দিনের বৈঠকে পুরপ্রধান জানান, গরু পালন ভাল। প্রয়োজনে গো-পালকদের দুধের ক্যান-সহ নানা জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করবে পুরসভা। কিন্তু যাঁরা রাস্তায় গরু ছেড়ে রেখে ব্যবসা করছেন, তাদের এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে পুরসভার পাশের চরে গরু নিয়ে বেঁধে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। দেবপ্রসাদবাবু বলেন, ‘‘পুরসভা দিন সাতেক পরিস্থিতির উপরে নজর রাখবে। এর পরেও যদি গরু যত্রতত্র চরে বেড়ায়, সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে তাহলে পুরসভা গরু ধরে রেখে দেবে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘এ ক্ষেত্রে পুরসভা মনে করবে গরুর মালিকানা নেই। পরে ওই গরু লটারির মাধ্যমে বিলি করা হবে।’’

বৈঠকে গরুর মালিকদের তরফে শহরের পশু হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে গরুর চিকিৎসার ওষুধ মেলে না। পুরপ্রধানের আশ্বাস, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পশু চিকিৎসককে নিয়ে বৈঠক ডাকা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

মহাকাশে কৃত্রিম মাংস তৈরির পরীক্ষায় সাফল্য

মহাকাশে কৃত্রিম মাংস তৈরির পরীক্ষায় সাফল্য
মহাকাশে কৃত্রিম মাংস তৈরির পরীক্ষায় সাফল্য

কোষ থেকে তৈরি এই মাংস সুপার মার্কেটে চলে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র

প্রাণীর কোষ থেকে মাংস তৈরির বিষয়টি এখন আর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কোষ থেকে কৃত্রিম মাংস তৈরির পরীক্ষায় সফল হয়েছেন এক রুশ বিজ্ঞানী। 

কোষ থেকে তৈরি এই মাংস সুপার মার্কেটে চলে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে থ্রি-ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে মহাকাশ স্টেশনে গরু ও খরগোশের মাংস এবং মাছের টিস্যু উৎপাদন করেছেন মহাকাশচারী বিজ্ঞানীরা।

দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ ও মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানো বিশেষ মঙ্গল অভিযানের মতো দীর্ঘ সময়ের যাত্রার জন্য এই উদ্ভাবনা জরুরি। ইসরাইলের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আলেফ ফার্মস মহাকাশ স্টেশনে এই প্রাণী কোষ সরবরাহ করে।

আলেফ ফার্মের সিইও দিদিয়ার তৌবিয়া এএফপিকে বলেন, ‘‘তবে আমাদের লক্ষ্য পৃথিবীতে এই মাংস বিক্রি করা।’’ এই ধারণা প্রচলিত কৃষি খামারের বিকল্প হবে না, তবে ডেইরি ফার্মের ভালো বিকল্প হবে।

মহাকাশে প্রথম হলেও এর আগে ডাচ বিজ্ঞানী মার্ক পোস্ট ২০১৩ সালে গরুর মাংসের বার্গার আকৃতির স্টেমসেল তৈরি করেন।

বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আরো সাশ্রয়ীমূল্যে বিক্রির জন্য প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার জাস্ট কোম্পানির সিইও জোস টিটরিক সানফ্রান্সিসকোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কৃত্রিম মাংস বাজারে সরবরাহে এই বছরটা লাগতে পারে। এই মাংস শুধু চার হাজার ওয়ালমার্ট অথবা সব ম্যাকডোনাল্ডেই নয় বরং বিপুল রেস্তোরায় সরবরাহ করা হবে।

ফর্ক এন্ড গুডডি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও নিয়া গুপ্তা বলেন, এই ধরনের শিল্প আমরা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফল হিসেবে নিয়েছি তবে পরবর্তী উন্নয়নের জন্য কারিগরি বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের কৃত্রিম মাংস সুপার মার্কেটে আসতে পাঁচ থেকে বিশ বছর সময় লাগবে। এখাতে আরো বিনিয়োগ দরকার। ২০১৮ সালে মোট বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com