আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

বেলাবতে হতাশ আনারস চাষিরা

আবহাওয়া, মাটি আর অনুকূল পরিবেশের কারণে নরসিংদির বেলাব উপজেলায় আনারসের উৎপাদন অনেক বেশি। আনারসের জন্য সারাদেশে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আলাদা খ্যাতি রয়েছে। 

দেশের বিশাল আনারসের চাহিদা মূলত এই উপজেলার উৎপাদিত আনারস দিয়ে পূরণ করা হয়। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আনারসের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশায় বুক বেঁধে ছিলেন চাষিরা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে চাষিদের সেই স্বপ্ন হতাশায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, করোনায় কারণে অঘোষিত লকডাউনের কারণে এ বছর ব্যবসায়ীরা আনারস সংগ্রহ করতে আসেনি। আর যেসব ব্যবসায়ীরা আনারস কিনেছেন তারা সবাই স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

যে কারণে আনারসের উৎপাদন খরচ উঠানোই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। লাভ প্রায় অসম্ভব। 

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলাব নাগের বাজার, চনদনপুর, হাড়িসাঙান, টঙ্গীরটেক, বাঙ্গালগাঁওসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আনারসের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদিত আনারস বর্তমানে জেলা সদর, নারায়ণগঞ্জ, রাজধানী ঢাকা, শরীতপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বেলাব উপজেলার আনারস পাইকারদের মাধ্যমে যায় বিভিন্ন জেলায়। এ বছর এ চিত্রে ভাটা পড়েছে। আনারসের জন্য সারাদেশে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আলাদা খ্যাতি রয়েছে

আনারসের জন্য সারাদেশে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আলাদা খ্যাতি রয়েছে

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আনারসের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকটাই এসব স্থানে আনারস সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে বাগানে আনারস পেকে এবং পচে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে চাষিরা। 

টঙ্গীরটেকের আনারস চাষি আসাদ মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। মনে করেছিলাম লাভ বেশি হবে। কিন্তু করোনায় আমাদের সবকিছু পাল্টে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি আনারস ৩০-৪৫ টাকা বিক্রি করার কথা। কিন্তু ভাইরাসের কারণে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩-১৫ টাকা দরে। অথচ প্রতি আনারসে খরচ প্রায় ১৫ টাকা করে। এ বছর বাগান করতে যা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও উঠবে না। স্থানীয় বাজারে বাগানমালিকরা আগের অর্ধেক দামও পাচ্ছে না।

সরেজমিনে কয়েকটি স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেলাব সদরসহ পুরো উপজেলায় আনারসের হাট বসেছে। পাকা আনারসের গন্ধ বাজারজুড়ে। স্তুপাকারে বা একটির ওপর একটি সাজিয়ে পাকা আনারসের পসরা বসেছে অনেক জায়গায়।

হাতের নাগালে দাম থাকলেও বাজারে ক্রেতা কম থাকায় হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি তেমন নেই। প্রতি হাজার আনারস পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকায়। যা গত বছর ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সময় মতো বিক্রি না হওয়ায় বর্তমানে বেশিরভাগ আনারস পচে যাচ্ছে। যে কারণে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভালো নেই।

প্রতি বছর আনারস বিক্রি করে অনেক লাভবান হলেও এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে লাভবান হওয়ার তুলনায় লোকসান হবে অনেক। কারণ আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় আনারস বিক্রি হতো এবং ন্যায্য দামও পাওয়া যেত। এখন বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে খুব কমই আনারস ক্রয় করছেন। ফলে কাঁচামাল হওয়ায় তাদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক কৃষকের মাথায় হাত কারণ ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।
 


আনারস ব্যবসায়ী আবুবকর ছিদ্দিক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেচাকেনার অবস্থা খুব খারাপ। লাভের চেয়ে লোকসান হবে বেশি। আমি অনেক টাকা ঋণ নিয়ে বাগান করেছিলাম। আমার পুঁজিই পাব না। কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো?

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজিম উর রউফ খান জানান, এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়। উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। দাম পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টা হয়তো বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। 

ফল

নেত্রকোনায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ

করোনাকালের সময়কে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেত্রকোনায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন। আর এই চাষকে ঘিরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন হাঁস মুরগী, মাছ, সবজিসহ সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন হাফিজা আক্তার নামের এক নারী। এটিকে ঘিরে অন্তত ওই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার আটপাড়া উপজেলার মদন সড়কের পাশে গত চারমাস ধরে তৈরি করা এমন একটি নান্দনিক কৃষি ফার্ম দেখে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে দেখতে যান খামারটি। অনেকেই মনে করেন শুধু আয় নয় এমন উদ্যোগে খাদ্য চাহিদার ঘাটতিও পূরণ হবে স্থানীয় ভাবে। নিজ শ্বশুর বাড়ি এলাকা আটপাড়ার তলিগাতী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামে ৩২ কাঠা জায়গায় এএসসি এগ্রো ফার্মটি প্রতিষ্ঠা করেছেন এডভোকেট হাফিজা আক্তার।গত জানুয়ারি মাস থেকে তিনি শুরু করেছেন ভিয়েতনাম জাতীয় ড্রাগনের চাষ। ১৫ শ খুঁটিতে মোট ৬ হাজার চারা লাগিয়েছেন। এর সাথে সাথে হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেরা, কবুতর পালন করছেন। সেইসাথে পুকুর খনন করে করছেন দেশীয় মাছ চাষ।

পুকুরের চারপাশ জুরে নারিকেল ৫০টি, কমলা ১০টি, লেবু ৩০টি, পেঁপে গাছসহ বিভিন্ন চারা গাছ লাগানো হয়েছে। হচ্ছে শাক সবজির চাষও। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন চাষের সহায়ক হিসেবে সমন্বিত খামারে হাঁস ৬০০, কবুতর ৮০ জোরা, দেশীয় মুরগী ১০০জোরা, ভেরা ৪ টি, ছাগল ১৬টিসহ শতাধিক ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে ফার্মে। 

এ সকল কাজে এলাকার দিন মজুর শ্রমিকরা পেয়েছেন কর্মসংস্থান। স্থায়ীভাবে ফার্মটিতে ৫ জন বেতনভুক্ত হয়ে কাজ করলেও আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক দিন হিসেবে কাজ করছেন। এতে করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির জোগান হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এফএম মোবারক আলী জানান, দামী এই ফল শুধু লাভদায়কই নয়। এটি একটি ভেষজ ঔষধও বলা চলে। একবার চাষ করতে পারলে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফলন ধরে। শুধু ধান চাষ নিয়ে পড়ে না থেকে তিনি কৃষিতে আগানোর জন্য অন্যদের ড্রাগন চাষের আহ্বান জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

লিচুর পুষ্টিগুণ

রসাল ফল লিচু। এতে রয়েছে প্রচুর মিনারেল ও ভিটামিন। ডায়েট চার্টে রাখা যেতে পারে পর্যাপ্ত পরিমান লিচু।

ষড়ঋতুর এ দেশে বিভিন্ন ঋতুতে পাওয়া যায় নানা পুষ্টিকর মৌসুমি ফল। যেগুলো মানুষের শরীরের পুষ্টিচাহিদা পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনই একটি ফল লিচু। এ রসাল ফলে রয়েছে প্রচুর মিনারেল। এর বাইরে এতে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে খুব অল্প পরিমাণে। ফ্যাট না থাকয় সবার জন্য উপকারি একটি ফল। পাশপাশি এতে ক্যালরিও কম, তাই সবার জন্যে উপযুক্ত। তবে যারা ডায়াবেটিস রোগী, তাদের জন্য এই ফল কিছুটা কম খাওয়াই ভালো।বিজ্ঞাপন

লিচুতে এপিকেচিন ও রুটিনের মতো দুটি অ্যান্টি–অক্সিজেন্ট যৌগ রয়েছে, যা এ গরমে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে। লিচুতে রয়েছে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫০, যার ফলে ধীরে ধীরে রক্তের মধ্যে সুগার প্রবেশ করে। আর গ্লাইসেমিক লোডের পরিমাণ ৭.৬, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এ ছাড়া এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা ধরে রাখে। ডায়াবেটিস ব্যক্তিদের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়েটে ৪০ গ্রাম লিচু বা বড় আকারের ৬টি লিচু খেতে পারবেন। এতে প্রায় ২৫ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যাবে। ডায়াবেটিস রোগীরা এর বেশি লিচু খেতে চাইলে, রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করে নিতে হবে। আবার খেয়াল রাখতে হবে, সেই দিন তিনি কী পরিমাণ শর্করা গ্রহণ করেছেন। পুষ্টিবিদের মতে, শুধু ডায়াবেটিস রোগীই নয়, একজন সুস্থ মানুষেরও বেশি লিচু খাওয়া উচিত নয়। আর মনে রাখতে হবে, খাওয়ার পর ও ঘুমানোর আগে ফল খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

লিচুর পুষ্টিগুণ
ছবি: প্রথম আলো

লিচুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম থাকে। এ ছাড়া এতে থাকা অন্য খনিজ উপাদানগুলো হচ্ছে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম; যা লিচুতে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। এ কারণে দৈনন্দিন পুষ্টিচাহিদা মেটাতে লিচু অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। তাই মৌসুমি ফলগুলো যতটা সম্ভব, আমাদের জন্য খাওয়াটা খুবই উপকারী। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে লিচু খেলে ওজন বৃদ্ধি, সুগার লেভেল বাড়ার পাশাপাশি পেট খারাপও হতে পারে। কারও কারও লিচুতে অ্যালার্জি থাকে, এমন ব্যক্তিদের ফলটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। তাই নিয়ম মেনে পরিমাণমতো মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। কারণ, এতে আপনার ডায়েট চার্টে কতটা মৌসুমি ফল প্রয়োজন, তার সঠিক পরিমাণ জানতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত একটি দশসেরি বেল খেতে পারবেন ২০ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত একটি দশসেরি বেল খেতে পারবেন ২০ জন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ভিন দেশি ফল “পা‌র্সিমন”

পা‌র্সিমন। ইং‌রে‌জি‌তে Persimmon আর এর বৈজ্ঞা‌নিক নাম Diospyros Kaki. এ‌টি প্রধানত এ‌শিয়া মহা‌দে‌শের ফল। জাপানে এর নাম Hoshigaki, চী‌নে Shibing, কো‌রিয়ায় Gotgam কিংবা Hangul এবং ভি‌য়েতনা‌মে Hong kho না‌মে প‌রি‌চিত। ইসরাই‌লে এ ফল‌টি‌কে বলা হয় Sharon fruits. এ‌টি সুস্বাদু , সু‌মিষ্ট, সুদৃশ্য এবং লোভনীয় এক‌টি ফল। ফ্রি‌জে রে‌খে খে‌লে এর মিষ্টতা আরও বে‌ড়ে যায়।

ফল‌টি দেখ‌তে অ‌বিকল আমাদের দেশের পাকা গা‌বের ম‌তো। কোনটা আবার পাকা ট‌মে‌টোর ম‌তো হ‌য়ে থা‌কে। অত্যন্ত সুস্বাদু ও সু‌মিষ্ট এ ফল‌টি পাক‌লে সবুজাভ হলুদ রঙ ধারণ ক‌রে। প্রজা‌তি‌ভে‌দে হলুদ, কমলা, লাল, বাদামী এমন‌কি কাল‌চে র‌ঙের পা‌র্সিমনও দেখা যায়।

পা‌র্সিমন এক‌টি চির সবুজ গাছ। প্রজা‌তি‌ভে‌দে এ গা‌ছের উচ্চতা ১৫ থে‌কে ৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। আর ফ‌লের ডায়া‌মিটার হয় ০.৫৯” থে‌কে ৩.৫৪” পর্যন্ত। পুরুষ ফুল এবং স্ত্রী ফুল আলাদা গা‌ছে হয়। আবার কিছু প্রজাতির গাছ আ‌ছে যা‌তে একই সা‌থে পুরুষ ও স্ত্রীফুল ফো‌টে।

সমগ্র পৃ‌থিবী‌তে বর্তমা‌নে প্রায় ৩৬ লক্ষ মে.টন পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয় তন্ম‌ধ্যে চীন একাই ক‌রে ৫৫% বা ২০ লক্ষ মে.টন। এরপর দ.‌কো‌রিয়ায় ৩ লক্ষ মে.টন, জাপা‌নে ২লক্ষ ৬০ হাজার মে.টন, ব্রা‌জিলে ১লক্ষ ২০ হাজার‌ মে.টন পা‌র্সিমন উৎপাদিত হয়। এছাড়া USA, ইউরো‌পের দ‌ক্ষিণাঞ্চল, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, ইসরাইল, আজারবাইজান, ভি‌য়েতনাম প্রভৃ‌তি দে‌শে পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয়।

সাধারণত পাকা ফ‌লের পাতলা খোসা ছু‌রি দি‌য়ে ছা‌ড়ি‌য়ে নি‌য়ে ভিতরের শাঁস স্লাইস ক‌রে সরাস‌রি খাওয়া হয়। কো‌নো কো‌নো দে‌শে রান্না ক‌রে বি‌ভিন্ন ধর‌নের খাবার প্রস্তুত ক‌রেও খাওয়া হ‌য়। এছাড়া পাকা কিংবা আধা পাকা ফল শু‌কি‌য়ে টিনজাত ক‌রে রাখা হয়। জাপা‌নে এ গা‌ছের পাতার রস জ্বাল দি‌য়ে চা‌য়ের ম‌তো পান করা হয়, যার নাম kaki no ha chu. এর ফল থে‌কে ভি‌নেগারও প্রস্তুত করা হয়।

পা‌র্সিমন উচ্চ পু‌ষ্টিমান সমৃদ্ধ এক‌টি ফল। প্রজা‌তি‌ভে‌দে শর্করার প‌রিমাণ থা‌কে ১৯-৩৩%, হজম‌যোগ্য আঁশ থা‌কে ৪% এছাড়া পর্যাপ্ত প‌রিমা‌ণে বি‌ভিন্ন ধর‌নের ভিটা‌মিন এবং খ‌নিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকায় এ‌টি অ‌নেক ধর‌নের রোগ প্রতি‌রোধ এবং নিরাম‌য়ে সহায়তা ক‌রে।

কোষ্ঠকা‌ঠিন্য ও অর্শ রোগ প্র‌তি‌রো‌ধে পা‌র্সিমন ফল খাওয়া হয়। রান্না করা ফল ডায়‌রিয়া ও আমাশয় রে‌া‌গে ব্যবহার করা হয়। মাদকাসক্ত রোগীর চি‌কিৎসায় এফল ব্যবহার করা হয়। হু‌পিং কা‌শি রো‌গের প্র‌তি‌রো‌ধে এবং সা‌পের কাম‌ড়ের প্র‌তি‌ষেধক হি‌সে‌বে এ ফল ব্যবহার করা হয়। ব্যাক‌টে‌রিয়াজ‌নিত বিষাক্ততার বিরু‌দ্ধেও কার্যকর ভূ‌মিকা রা‌খে।

সমগ্র পৃ‌থিবী‌তে ৭৫০ প্রজা‌তির পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয়। অ‌ধিকাংশই বীজশূণ্য। ত‌বে কিছু প্রজা‌তি র‌য়ে‌ছে যেগু‌লো বীজযুক্ত। কিছু প্রজা‌তির শাঁস আঁশ বিহীন আবার কিছু আ‌ছে আঁশযুক্ত। পা‌র্সিমন গা‌ছের শক্ত কাঠ দ্বারা জাপান, কো‌রিয়া ও চী‌নে বি‌ভিন্ন ধর‌নের আসবাবপত্র প্রস্তুত করা হয়। পা‌র্সিম‌নের উন্নত জাতগু‌লো হ‌লো- Diospyros kaki (জাপা‌নিজ), Diospyros virginiana (আ‌মে‌রিকান), Diospyros digyna (কা‌লো রঙ- মে‌ক্সিকান),
Diospyros peregrina( ই‌ন্ডিয়ান) ইত্যা‌দি।

বাংলা‌দেশ কৃ‌ষি বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের জার্মপ্লাজম সেন্টা‌রে এ ফ‌লের পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া ব্য‌ক্তি উ‌দ্যো‌গে বড় বড় নার্সা‌রি গু‌লো‌তে চাষাবাদ শুরু হ‌য়ে‌ছে। তারা এখন এর চারাগাছ বি‌ক্রি কর‌ছেন। যে‌হেতু আমা‌দের প্র‌তি‌বেশী দেশ ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যা‌ন্ডে এ ফ‌লের চাষ হয় সেজন্য আম‌দের দে‌শেও এ ফল উৎপাদ‌নের উজ্জল সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে।

“পা‌র্সিমন ফলের উপকারিতা ও পু‌ষ্টিমান”

পা‌র্সিমন ফলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা পা‌র্সিমন ফলে ২৯৩ কিলো জুল বা ৭০ ক্যালরি খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। এর হলুদ রঙের কোষ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ। পা‌র্সিমন আমাদের দেহের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ করে। সেজন্য এই ফল অপুষ্টিজনিত সমস্যা, রাতকানা এবং রাতকানা থেকে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করার জন্য খুবই উপযোগী ফল।

শিশু, কিশোর, কিশোরী এবং পূর্ণ বয়সী নারী-পুরুষ সব শ্রেণীর জন্যই পা‌র্সিমন খুবই উপকারী ফল। গর্ভবতী এবং যে মা বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য পা‌র্সিমন দরকারি ফল। শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব দেখা দিলে ত্বক খসখসে হয়ে যায় এবং শরীরের লাবণ্যতা হারিয়ে ফেলে। পা‌র্সিমন এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এ ছাড়া পা‌র্সিমনে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।

১০০গ্রাম পা‌র্সিমনে ০.৫৮ গ্রাম আমিষ ও ১৮.৫৯ গ্রাম শর্করা আছে। চিনির পরিমাণ ১২.৫৩ গ্রাম। পা‌র্সিমনে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম মাত্র ০.১৯ গ্রাম। এজন্য এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশংকা কম। পা‌র্সিমন পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে পা‌র্সিমন খেলে উচ্চ রক্ত চাপের উপশম হয়।

পা‌র্সিমন অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন ‘সি’। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন “সি”। পা‌র্সিমনে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

পা‌র্সিমনে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে পা‌র্সিমন ভালো কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ কার্যকরী। পা‌র্সিমনে থাকে খাদ্য আঁশ ৩.৬০ গ্রাম, এই ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। পা‌র্সিমনে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন যা দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

গোলাপজাম

গোলাপের সুগন্ধযুক্ত, সুদৃশ্য, সুমিষ্ট, রসালো এবং সুস্বাদু একটি ফল গোলাপজাম। যদিও আমাদের দেশে এখন এটি অপ্রচলিত এবং বিলুপ্তপ্রায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ফলটির নামে ভিন্নতা রয়েছে। আজ অল্প কিছু ফল আমার নিজ বাড়ির বাগানের একটা গাছ থেকে সংগ্রহ করেছি। আমার বাগানে এ গাছটি ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে লাগানো হয়েছে। লাগানোর ৪-৫ বছর পর থেকেই প্রতি বছরই গাছটিতে বেশ কিছু ফল ধরে কিন্তু ইঁদুর, বাদুড় এবং পাখির কবল থেকে এই ফল রক্ষা করা সম্ভব হয় না। ওরা পাকার আগেই অর্থাৎ কাঁচা অবস্থাতেই ওগুলো সাবার করে দেয় অথবা কামড়ে নষ্ট করে ফেলে দেয়। অল্প কিছু ফল এবছর ফ্রুট ব্যাগে ভরে রাখা হয়েছিল । যা থেকে আজকের এই ফলগু‌লো সংগ্রহ করা হয়েছে।

গোলাপজাম এর ইংরেজি নাম Malabar plum, Rose apple ,Gulab Jamun ইত্যাদি। আর এর বৈজ্ঞা‌নিক নাম Syzygium jambos. এটি একটি উৎকৃষ্ট মানের ফল। ফল হিসাবে গোলাপজাম আমাদের দেশে খুব বেশি সুপরিচিত না হলেও এই ফল খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। দেখতে সুন্দর অবয়ব, পাকলে ফিকে হলুদ কিংবা হালকা গোলাপী রঙ ধারণ করে। আর এর গোলাপ ফুলের ন্যায় ঘ্রাণ যে কোন মানুষের মনকে বিমোহিত করে তোলে। কাঁচা ফলের রং সবুজ এবং স্বাদে কষ্টা। প্রতি ফলে সাধারণত দুইটি বীজ থাকে। তবে কিছু কিছু ফলে এক কিংবা তিনটি বীজও থাকতে পারে।

এই ফলে প্রায় সব ধরণের পুষ্টি উপাদানই বিদ্যমান। মাঝারি আকারের এই ফলগাছ প্রায় ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। ফলটির আদি নিবাস দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপিন, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে এ ফল উৎপাদিত হয়। গোলাপজাম গাছ দীর্ঘদিন বাঁচে। একটা গাছ প্রায় ৪০/৫০ বছর পর্যন্ত ফল দান করে। গাছ মাঝারী আকৃতির। পাতা সবুজ। গাছ লাগানোর ৪/৫ বছর পর থেকেই ফল সংগ্রহ করা যায়। গোলাপজাম গাছে মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে। এর ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন।

গোলাপজাম দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে। পাকতে শুরু করলে ধবধবে সাদা অথবা হলদে-সাদা হয়। কাঁচা ফল খেতে কষ্টা হলেও পাকা ফল হালকা মিষ্টি, নরম ও কচকচে। গোলাপজাম ফলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com