আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বিটি বেগুনে পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি


কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে বিটি বেগুনের চারটি জাত ছাড় করার সময় বলা হয়েছিল এটি ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী জিন সমৃদ্ধ। এই বেগুন চাষ করলে ওই দুইটি পোকার আক্রমণ হবে না। এতে কীটনাশকের ব্যবহারে সাশ্রয় হবে। কিন্তু খাদ্য নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি অন্য জাতের বেগুনের তুলনায় ওই দুই পোকার আক্রমণ ৯০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এখনো ১০ শতাংশ বেগুনে পোকার আক্রমণ হচ্ছে। একই ভাবে ৪৭ শতাংশ বেগুন গাছের পাতা ভক্ষণকারী পোকা, প্রায় ৫০ শতাংশে সাদা ফড়িং জাতীয় পোকা ও প্রায় ৩৬ শতাংশে পাতা পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পোকার আক্রমণ কিছুটা কমেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিটি বেগুনের ওপরে করা ওই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন ইফপ্রি, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আখতার আহমেদ। ওই কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ দেশের বিশিষ্ট কৃষি গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের উৎপাদন জরুরি। হালনাগাদ কৃষি নীতিতে জৈবপ্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার জিএমওসহ কৃষি রূপান্তর, হাইব্রিড জাত নিয়ে এসেছে।


কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে বিটি বেগুনের চারটি জাত ছাড় করার সময় বলা হয়েছিল এটি ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী জিন সমৃদ্ধ। এই বেগুন চাষ করলে ওই দুইটি পোকার আক্রমণ হবে না। এতে কীটনাশকের ব্যবহারে সাশ্রয় হবে। কিন্তু খাদ্য নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি অন্য জাতের বেগুনের তুলনায় ওই দুই পোকার আক্রমণ ৯০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এখনো ১০ শতাংশ বেগুনে পোকার আক্রমণ হচ্ছে। একই ভাবে ৪৭ শতাংশ বেগুন গাছের পাতা ভক্ষণকারী পোকা, প্রায় ৫০ শতাংশে সাদা ফড়িং জাতীয় পোকা ও প্রায় ৩৬ শতাংশে পাতা পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পোকার আক্রমণ কিছুটা কমেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিটি বেগুনের ওপরে করা ওই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন ইফপ্রি, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আখতার আহমেদ। ওই কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ দেশের বিশিষ্ট কৃষি গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের উৎপাদন জরুরি। হালনাগাদ কৃষি নীতিতে জৈবপ্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার জিএমওসহ কৃষি রূপান্তর, হাইব্রিড জাত নিয়ে এসেছে।

‘বাংলাদেশে কৃষির রূপান্তর: জৈবপ্রযুক্তি ও পুষ্টিকর কৃষি’ থেকে পাওয়া প্রমাণ শীর্ষক ওই কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে উদ্ভাবিত বিটি বেগুন কৃষক-ভোক্তা সবাই গ্রহণ করেছে। এর উৎপাদন ভালো এবং বেশ লাভজনক। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাত নিয়ে বিরোধিতা করছে। তারা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কথা বলছে। এসব ফসলে কোনো ক্ষতিকর কিছু নেই। আমাদের কৃষকেরা এসব উন্নত জাতের স্বত্ব হারাবে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তাও ঠিক নয়।’

কর্মশালায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর বলেন, ‘ভারত ও ফিলিপাইনে বিটি বেগুন চাষে সফলতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, ভোক্তারা যেন সচেতনভাবে এই বেগুন কিনতে পারে। এ জন্য এর গায়ে লেবেল থাকার কথা। এই বেগুন চাষের সময় জমির চারপাশে অন্য ফসলের গাছ থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে এটি সঠিকভাবে অনুমোদন পেল কিনা, তাও দেখা উচিত। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কার্টেহানা প্রটোকলে সাক্ষর করেছে। এই বেগুন চাষের ক্ষেত্রে ওই চুক্তির ধারাগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক জনাব ড. মো. আবুল কালাম আযাদ, ইউএসএআইডি-এর ভারপ্রাপ্ত মিশন ডিরেক্টর জিনাহ সালাহী প্রমুখ।

এগ্রোবিজ

উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব চালের কল বন্ধ

উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব চালের কল বন্ধ। ধানের যে দাম তাতে চাল করে পোষায় না। বেশি দামে ধান কিনে চাল করে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান দিতে হয়েছে। এছাড়া বছর শেষে অনেকে চালকলগুলো মেরামত করছেন। বিশেষ করে অটোরাইস মিল এবং সেমি অটোরাইস মিলগুলোতে এখন মেরামতের কাজ চলছে। সারাবছর একবারই মেরামতের কাজ হয়। এ সময় যেহেতু ধানের সংকট হয় তা ছাড়া মৌসুমও শেষ সে কারণে অনেকে মিল বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ করছেন।

চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর, নওগাঁ, কুস্টিয়া ও দিনাজপুরে চার হাজার ১৫০টি মিলের মধ্যে দুই-চারটা বাদে প্রায় সব চাল কলই এখন বন্ধ।

চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আমনের মৌসুম শেষ। আর ক’দিন পরই আসবে বোরোধানের মৌসুম। এখন গৃহস্থের ঘরে বিক্রি করার মতো কোনো ধান নেই। যা ধান আছে তা মজুতদারদের হাতে। আমনের সিজনের সময় যে ধান ৬০০ টাকা মণ ছিল সেটা এখন ৯০০ থেকে হাজার টাকা হয়েছে। আর চিকন ধান সিজনের সময় যেটা ৮০০ ছিল সেটা এখন ১২০০ টাকা। এই দামে ধান কিনে মোকামে চালের যে মার্কেট প্রাইজ তাতে তাদের পোষায় না। তা ছাড়া অনেক মিলমালিকের ঘরে হাজার হাজার বস্তা চাল আছে। ১৫-২০ দিন চাল না ভাঙালেও তাদের তেমন সমস্যা হবে না।

দিনাজপুরের চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, দিনাজপুর জেলায় প্রায় এক হাজার ৬৫০টি চালের মিল আছে। এর মধ্যে ২০০টি অটোরাইস মিল। বর্তমানে অধিকাংশ মিল বন্ধ। অনেকে চালকল মেরামত করছে। তাছাড়া দিনাজপুরে প্রায় এক হাজার ২০০টি হাসকিং চালকল আছে, এগুলো প্রায় সারাবছর বসেই থাকে। কারণ মানুষ এখন অটোরাইস মিলের চাল ছাড়া কেউ চাল খেতে চায় না। তিনি বলেন, নতুন সিজন শুরু হতে প্রায় এক মাস লাগবে।

কথা হয় শেরপুরের (বগুড়া) যমুনা সেমি অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব আলীর সঙ্গে। এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, শেরপুরে এক হাজার চালের কল আছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই এখন বন্ধ। পাঁচটি অটোরাইস মিল আছে সেগুলো সারাবছরই চলে। এ সময় যেহেতু ধান কম সে কারণে সেগুলো মেরামতের কাজ করছে।

তিনি বলেন, ধানের মোকামে এখন ধানের সংকট। ধান যা আছে তা আবার অতিরিক্ত দাম। এই দামে ধান কিনে মিল মালিকরা চাল বিক্রি করে পোষাতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, চাতালগুলো চালু হতে এখনও এক মাস সময় লাগবে। সে কারণে সহসাই চালের দাম কমার কোনো সুখবর নেই। তবে নতুন ধানের সিজন শুরু হলে তখন চালের দাম কমে আসবে। তখন ধানের দামও কমবে।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সেখানকার চালের কলগুলো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, কুষ্টিয়ায় প্রায় ৩০০ মিল আছে যার সবগুলো চালকলই এখন বন্ধ।

তিনি বলেন, এক মৌসুমের শেষ এবং আরেক মৌসুমের শুরুতে এমন অবস্থাই হয়। এ সময় পুরাতন ধানের দাম অতিরিক্ত হওয়ার কারণে ধানও পাওয়া যায় না।

নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জাগো নিউজকে বলেন, নওগাঁয় ১২০০ চালকল আছে। এর মধ্যে ৫৫টি আছে অটোরাইস মিল। এগুলোর মধ্যে এখন প্রায় অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। এটা অন্য কোনো কারণে নয়। সিজন শেষে এমন অবস্থা হয়। বোরো সিজন শুরু হলে আবার চালকলগুলো রাতদিন চালু থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিশ্ববাজারে আমাদের কৃষিপণ্য যুক্ত করার সময় এসেছে

কৃষির বিবর্তন ঘটেছে বহু আগেই। বাংলাদেশের পণ্য যাচ্ছে বাইরেও। করোনার মহামারিময় এই পরিস্থিতিতে এই বিবর্তন যেন আরও দ্রুত ঘটছে। এমন অবস্থায় আমাদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন ছিল। গার্মেন্ট শিল্প যদি বিশ্ববাজার হারায় সেখানে কৃষি হতে পারে বিকল্প ব্যবস্থা।

রফতানি আয় জোরদারে আমাদের কৃষিজাত পণ্য বিশ্ববাজারে যুক্ত করার সময় এসেছে। এই সাধারণ উপলব্দি কাজে লাগাতে না পারলে অন্য দেশ সে জায়গা দখল করে নেবে— বলছিলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র ডিস্টিংগুইশ ফেলো ও প্রথম নির্বাহী পরিচালক। ২০০৭ সালে জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং ইউএন কার্যালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কৃষির চ্যালেঞ্জ ও করণীয় প্রসঙ্গে জাগো নিউজের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ড. দেবপ্রিয়। বলেন, গত দুই বছর ধরে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি কৃষকের দুর্বল অবস্থানের ওপর আরেকটি বড় আঘাত। প্রথমত, এমন পরিস্থিতিতে কৃষি উপকরণ পেতে কৃষককে বেগ পেতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কৃষি শ্রমিকের অভাব। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা এবার তেমন শ্রমবিক্রি করতে পারল না।

আমাদের কৃষির জন্য আরও একটি সমস্যা হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে ফসল সংগ্রহ নিয়ে নানা অনিয়ম। অন্য বছরের ন্যায় এবারও সরকার বোরো ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, কোনোদিনই সরকার কৃষকের পণ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে পারেনি। এবারও যে অনিয়ম হবে না, তা বলা যাবে না। সংগ্রহ অভিযান, দালাল, ফড়িয়া, মিলের মালিকরা কুক্ষিগত করে রাখেন। সামনে আমনের মৌসুম। আর কৃষির জন্য এগুলোই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, কৃষির আধুনিক উপকরণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ঋণের সুদ মওকুফ করতে না পারলেও ঋণ ও সুদ আদায় স্থগিত করতে হবে। সরকার ত্রাণ হিসেবে চাল বেছে নিয়েছে। চালের বাইরে আরও কৃষিপণ্য আছে। ত্রাণ হিসেবে এগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কৃষক তার পণ্য বিক্রির সুযোগ পেল, অন্যদিকে পুষ্টির সমতাও মিলল। উত্তরবঙ্গে প্রচুর শাকসবজি হয়েছে। সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় এগুলো শহরে এনে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। চাইলে সেনাবাহিনীকেও কাজে লাগাতে পারে।

এই বিশ্লেষক বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বাজার ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। নতুন কাঠামো দাঁড়িয়ে যেতে পারে। আমাদের সেই কাঠামোতে যুক্ত হতে হবে। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণে অধিক মনোযোগী হতে হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, প্রকৃত কৃষককে সুবিধার আওতায় আনতে হবে। প্রকৃত কৃষক সুবিধা না পেলে, খাদ্য নিরাপত্তা ভেঙে পড়বে। দুর্যোগ সময়কে কাজে লাগিয়ে আমাদের কৃষির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এগুলো শুধু বাজেটের বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উন্নয়নের রূপান্তর ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে প্রবেশ করতে হবে। পরিশেষে কৃষককে সামাজিক সম্মান দিতে হবে।’

প্রাণঘাতী এ করোনা সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে তিন লাখ দুই হাজার ৩৭৬ জনের প্রাণ। আক্রান্ত ৪৪ লাখের অধিক। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬৫ জন। মারা গেছেন মোট ২৯৮ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ৮৮২ জন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জাতীয় সুদিনে ফিরেছে বাংলার পাট

আবার সুদিনে ফিরে এসেছে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ খ্যাত পাট। যদিও একসময় এ সোনালী আঁশ কৃষকের গলার ‘ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন অনেক কৃষকই পাট চাষ বন্ধ করে ‘দিয়েছিলেন’। গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় আবার চাষ শুরু করেছেন কৃষক। বিশেষ করে গত দুই বছরে পাটের দাম অন্য ফসলের তুলনায় খুব ভালো। তাছাড়া রফতানি আয়ে দেশে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে এই পাট খাত। এ খবরটি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে দেশের পাট চাষিদের মাঝে। ফলে এবার পাট চাষের দিকে আরও ঝোঁক বাড়ছে কৃষকের।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক, চামড়াসহ অন্যান্য খাত নিয়ে যখন দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তখন আশার আলো দেখাচ্ছে পাট ও পাটজাত পণ্য।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। এছাড়া এই অর্থবছরে পাট খাত থেকে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির যে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা বাকি চার মাস (মার্চ-জুন) অব্যাহত থাকলে এবার পাট খাতের রফতানি আয় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর কারণে পাট নিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ, এবার ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। বিগত সময়ে এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি করেছেন তিনি। সেই আগ্রহ থেকে এবারও তিনি পাট আবাদ করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে পাটের ভালো দাম পাচ্ছি। ধানের তুলনায় পাট ও ভুট্টা আবাদে বর্তমানে লাভ বেশি হচ্ছে। এ কারণে পাট আবাদ করছি। পাটের চাষের ট্রেনিংয়ে স্যারেরা আমাদের বলেছেন, এই পাট দিয়ে ২০০-এর অধিক পণ্য তৈরি হয়। যে পণ্যগুলো বিদেশে যায়। তাছাড়া সরকার পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় পাটের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণেও আমরা চাষিরা পাটের ভালো দাম পাচ্ছি।’

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকার চাষি মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও পাটের দাম ভালো না পাওয়ায় অনেক চাষি পাট চাষ ছেড়েই দিয়েছিল। গত দুই/তিন বছর ধরে পাটের দাম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতবছর ভালো দাম পেয়েছি। ১৭০০ থেকে দুই হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি করেছিলাম। দাম ভালো পাওয়ার কারণে এবং লাভবান হওয়ায় এ বছর আমি চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাটের রোগবালাই তেমন একটা নেই। পাটও বেশ ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলে লাভ হবে ভালোই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুনেছি দেশে ও বিদেশে আমাদের পাটের চাহিদা বাড়ছে। সে কারণে কৃষক দামও ভালো পাচ্ছে। এভাবে দাম থাকলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করব।’

কুষ্টিয়া পাট অধিদফতরের মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, কৃষক পর্যায়ে পাটের দাম বেশ ভালো। গত বছর কৃষকরা সর্বশেষ ২৪০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত মণ হিসেবে পাট বিক্রি করেছেন। যখন পাট ওঠে তখনও ১৭০০-২২০০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন। এছাড়া জেলার প্রায় এক হাজার ৮০০ পাট চাষিদের প্রণোদনা প্রকল্পের মাধ্যমে পাট বীজ, রাসায়নিক সার দেয়া হয়েছে। মূলত পাটের দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা পাট চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

পাট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাটজাত পণ্য রফতানিকারকদের প্রণোদনার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পাট মন্ত্রণালয়। বহির্বিশ্বের বাজারে বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটজাত পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে এ খাতে রফতানিও বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় পাটের তৈরি বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করছে বাংলাদেশ। দেশে এখন ২৮২টি বহুমুখী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে মোট ২২টি পাটকল চালু রয়েছে এবং বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০ পাটকল আছে। তুরস্ক, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বেনিন, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কঙ্গো, কোস্টারিকা, মিসর, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, জার্মানি, গুয়েতেমালা, হাইতি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইরান, জাপান, জর্ডান, কোরিয়া, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকোসহ বিশ্বের ৫০টি দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়- পাট বিষয়ে গবেষণা, পাটের উৎপাদন, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন, ব্যবহার ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে পাট সংশ্লিষ্ট খাতগুলো। এছাড়া পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ ও এ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করেছে মন্ত্রণালয়। এর ফলে ধান, চাল, গম, সার, চিনিসহ মোট ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ায় দেশের বাজারে পাটের ব্যাগের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পাট চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি সম্প্রসারণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি পদক্ষেপ হলো- পাটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও পাট ক্রয়-বিক্রয়ে সহজীকরণ।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আ শ ম আনোয়ারুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে তোষা-৮ নামে যে জাতটা কৃষককে দেয়া হয়েছে এর ফলন ভারতীয় পাটের চেয়ে ১০ থেকে ২০ ভাগ বেশি। কৃষকরা পাটের বীজ করতে চায় না। আমরা বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে বাইরের দেশের বীজ আমাদের আর প্রয়োজন হবে না। আমারা নিজস্ব জাত উৎপাদনের দিক দিয়ে অন্য দেশের চেয়ে এগিয়ে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কৃষককে প্রদর্শনী ফিল্ড, বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক দেয়ার কারণে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।’

গত কয়েক বছর পাট অধিদফতরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন মো. শামসুল আলম (অতিরিক্ত সচিব)। বর্তমানে তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোতে বদলি হয়েছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকাকালীন ৩৭৩ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট দেয়া হয়েছিল। এ প্রজেক্টের আওতায় সারা দেশের কৃষকদের ট্রেনিং দেয়া, বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দেয়া হয়েছিল। এছাড়া মাঠ প্রদর্শনী বাবদ খরচ করা হয়েছে। বর্তমানে তার একটা ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) পড়েছে পাট চাষিদের মধ্যে। তাছাড়া দাম ভালো পাওয়ায় পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে : শিল্পমন্ত্রী

চামড়া শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আসন্ন ঈদুল আযহায় চামড়া ব্যবস্থাপনায় জড়িত ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় চামড়া শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ীদের লাভের কথা বিবেচনা করে কাঁচা ও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এতে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে চামড়া ক্রয় ও সংরক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবেন।

সোমবার (২২জুন) চামড়া শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব কে এম আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহেদ আলী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রমেশ বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আসন্ন ঈদুল আযহায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী, চামড়া ছড়ানোয় জড়িতদের চামড়া ছড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সভায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও লেদার বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে ঈদুল আযহার কয়েকদিন পূর্ব হতে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ট্যানারি শিল্পের জন্য বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, হাজারিবাগে ট্যানারি মালিকদের জমি হতে রাজউকের ‘রেড জোন’ প্রত্যাহার হলে মালিকদের ঋণ পেতে সুবিধা হবে। ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চিত সম্ভব না হলে আসন্ন ঈদে চামড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে আশংকা করেন তিনি।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী চামড়া সংরক্ষণে দেশের কওমি মাদরাসাগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো বহুদিন ধরে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত এবং এ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। কোরবানি উপলক্ষে কওমি মাদরাসাগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিলে তারা আসন্ন ঈদে চামড়া ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া কাঁচা চামড়া ও লবণযুক্ত চামড়ার সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ট্যানারি মালিক ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি এ লক্ষ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।

শিল্প সচিব কে এম আলী আজম বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার পূর্বেই ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সাহায্য নিশ্চিত করা হবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ, তফসিলভুক্ত ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, চামড়া শিল্প সম্পর্কিত ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ এনডিসি বলেন, ঈদের পরের তিনমাস চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এ সময় ট্যানারিগুলোতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার হলে সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে ট্যানারিগুলো লেদারের ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেট অর্জনে ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে এবং কোরবানির সময় লবণের কোথাও কোনো ঘাটতি হবে না। সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সিটিপির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিল্পনগরীতে অন্যান্য অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহেদ আলী বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের দিন ও পরদিন চামড়া নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ সময় যাতে কোনো গুজব না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারিসমূহে বর্তমানে প্রায় ৪০০-৫০০ কোটি টাকার চামড়া জমা আছে। ট্যানারি মালিকদের জন্য আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ঋণ সহায়তার নিশ্চিত ছাড়া অধিকাংশ ট্যানারি মালিকদের পক্ষে চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। তিনি বিষয়টি সুরাহার জন্য টাস্কফোর্স সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

চিনা সভ্যতায় বাঁশ শুভশক্তির প্রতীক। বাড়ির আশেপাশে বা ভেতরে বাঁশ রোপণ তাদের ঐতিহ্য। তবে বাঙালি বাঁশ নিয়ে খুব সংবেদনশীল। সহজে বাঁশের ধারেকাছে যান না। আসুন তবে দেখে নেই বাঁশ রোপণের উপকারিতা।

১. বাড়িতে বাঁশ রোপণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
২. কচি বাঁশের সবুজ রং দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে স্নিগ্ধতা দেয়।
৩. সেরিব্রাল কর্টেক্স ও রেটিনার পক্ষে এ রং অতি উপকারী।
৪. বাঁশও এক ধরনের গাছ। বাঁশও অক্সিজেন ত্যাগ করে বাতাস শুদ্ধ করে।
৫. ভেতরে ফাঁপা ও বাইরে শক্ত এ গাছ নেগেটিভ এনার্জিকে প্রতিহত করে।
৬. ৩৫-১২০ বছরে বাঁশগাছে ফুল আসে। এ ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক।
৭. ঋতু অনুযায়ী বাঁশের রং বদল ঘরের একঘেয়েমি দূর করে। মনকে সতেজ রাখে।
৮. বাড়ির ভেতরে বাঁশ রোপণ করলে তা অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com