আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বেগুনের যত্নে ভাগ্যবদলের নিরন্তর চেষ্টা

মৌলভীবাজার: নিজের জমি নেই, ভাড়া করে অন্যের জমি নিয়েছেন। তার মধ্যে দুইটি প্লটকে আলাদা করে দুই জায়গায় লাগিয়েছিলেন প্রথমে টমেটো।

উদ্দেশ্য ছিল শীতের শুরুতে আগাম ফসল তুলে বেশি লাভে বাজার ধরতে পারবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া তার সেই স্বপ্নের শুকনো দানাগুলোতে পানি ঢেলে দিল। কার্তিকের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে টমেটোর বিশাল ক্ষতি হয়ে গেলো। এখন দৃষ্টি দৈনিক যত্নআত্তি তার দ্বিতীয় ফসল বেগুনের দিকে।

কৃষিতে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ লভ্যাংশসহ তুলে আনতে দিনের পর দিন গভীর পরিচর্যা করে যাচ্ছেন বেগুন গাছগুলোকে। যদি এই ফসল দ্বারা সাময়িক ভাগ্যবদল হয় তার। প্রথম ফসলের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষকের নাম সাইফুল। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এই কৃষক বেগুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লম্বা করে বাঁশ বেঁধে গাছগুলোকে শক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরায় তার উৎপাদিত পণ্যের ছবি ধারণ চাইলে তিনি আপত্তি তুলেন।

পরে কথা বলে জানা যায়, এই আপত্তির কারণ আত্মক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ। সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি তিনি এখন পর্যন্ত।

সাইফুল তার ক্ষেতের প্রথম ফসল সম্পর্কে বাংলানিউজকে বলেন, আমার জমির মোট ২৪ শতক (শতাংশ) জায়গার ১৬ শতকে ১ হাজার চারা রোপণ করি। প্রতি পিস চারা দাম পড়ে খরচ বাবদ ১৫ টাকা করে। লাগানোর কিছুদিন পরেই গাছ প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে প্রচুর প্রচুর ফুল এসেছিল। কিন্তু বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে। এতে প্রায় আমার ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। যদি সবগুলো টমেটো ধরতো তবে বাজারে পাইকারি মূল্য ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি প্রতি পেতাম।  

বেগুন চাষ সম্পর্কে বলেন, টমেটোর কিছুদিন পরেই আষাঢ় মাসে পার্পোল কিং বেগুন রোপণ করি। এটা বারোমাসি বেগুন। প্রায় দুই বছর পর্যন্ত এই গাছের কার্যকারিতা থাকবে। এই গাছগুলোর বয়স এখন পাঁচ মাস। কিছু দিন আগে থেকে বেগুন ধরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রথম রাউন্ডে প্রায় ১২২ কেজি বেগুন পাইকারি বাজারে বিক্রি করেছি। দাম ভালোই পেয়েছি। আবারও ১০ দিন পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্ষেত থেকে বেগুনগুলো তুলবো। খরচের বিষয়ে ওই কৃষক বলেন, টমেটোতে খরচ বেশি। আমার পরিশ্রম বাদে শ্রমিকমজুরি ও ওষুধ-সার বাবদ এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

সারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমিতে বেশির ভাগই গোবর সার দিয়েছি। এছাড়াও ইউরিয়া, সালফার, জিংক, রোটন, বোরন প্রভৃতি সার দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি বিভাগ আমার কোনো খোঁজ-খবর নেইনি। কোনো ধরনের সার-বীজ কিংবা সরকারি কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা কিছুই পাইনি। তাহলে আপনাকে ছবি তুলতে দিয়ে আমার কি লাভ হবে?

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজ বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। আমি এই শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমি শিগগিরই এই কৃষকের উৎপন্নকৃত টমেটো এবং বেগুন প্লটটি পরিদর্শনে যাবো।

ফুল

হেমন্তের সুন্দর ফুল দেবকাঞ্চন

লেখক

আমাদের দেশে যে কয়েক ধরনের কাঞ্চন ফুল দেখা যায়, তার মধ্যে দেবকাঞ্চন অন্যতম। হেমন্তের প্রায় বিবর্ণ প্রকৃতিতে এই ফুলের সৌন্দর্য প্রশ্নাতীত। ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে এই ফুলের পরিকল্পিত বীথি থাকা প্রয়োজন। তাতে আমাদের চারপাশে হেমন্তের ফুলের দৈন্য কিছুটা হলেও কমবে। ঢাকায় রমনা পার্ক, শেরেবাংলা নগর, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ বিভিন্ন পার্ক-উদ্যান এবং পাহাড়ি এলাকায় দেবকাঞ্চন দেখা যায়। তবে বনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো দেবকাঞ্চন সংখ্যায় অনেক কম। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে এই ফুল ফোটে। 

দেবকাঞ্চন, রক্তকাঞ্চন এবং সাদাকাঞ্চনের কাণ্ড ও পাতার গড়ন প্রায় একই, পার্থক্য শুধু ফুলে। এ কারণে ফুল না ফুটলে এদের আলাদা করা কঠিন। তবে অন্যান্য কাঞ্চন ফুলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে রক্তকাঞ্চনই বেশি আকর্ষণীয়। কাঞ্চনের পাতা তার অনন্য বৈশিষ্ট্য। দুটি পাতা জোড়া দিলে দেখতে যেমন, পাতার শেষ প্রান্ত অবিকল সে রকম। এ কারণেই কাঞ্চনের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ দুই যমজ উদ্ভিদবিজ্ঞানীর নাম থেকে নেওয়া। তারা ষোড়শ শতকের বিখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী ছিলেন।

দেবকাঞ্চন (Bauhinia purpurea) মাঝারি আকারের অর্ধচিরসবুজ গাছ, ৮ থেকে ১০ মিটার উঁচু, মাথা ছড়ানো। পাতা মাথার দিকে ২-বিভক্ত, লতির আগা চোখা ও ভোঁতা। ফুল ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার চওড়া, সুগন্ধি, সাদা বা বেগুনি। কয়েকটি একত্রে একটি ডাঁটায়, ফোটে হেমন্তে, সারাগাছ ভরে। অসমান ও লম্বাটে পাঁচটি পাপড়ি, মুক্ত। শুঁটি ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, শিমের মতো। বীজ ১২ থেকে ১৬টি। ফুল অবশিষ্ট থাকতে থাকতেই শিমের মতো চ্যাপ্টা ফল ধরে। ফলগুলো একসময় শুকিয়ে গিয়ে আপনাআপনিই ফেটে যায়। তখন বীজগুলো ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের শুস্ক অঞ্চলের অরণ্যভূমিতে এদের আদি আবাস। কাঞ্চনগাছের বাকল থেকে ট্যানিং, রং ও দড়ি তৈরি করা যায়। বীজ তেল সস্তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গাছের শিকড় বিষাক্ত এবং সর্পদংশনের প্রতিষেধক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

উৎপাদনে এবার হতে পারে রেকর্ড

লেখক

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, এবার যে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল, সে সময় ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দুই শতাংশ বেশি। ফলে নতুন ইলিশ যুক্ত হতে পারে ৩৭ হাজার ৮শ কোটি। মোট উৎপাদন হতে পারে ৬ লাখ টনের বেশি ইলিশ। এর বাজারমূল্য হতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ইলিশ উৎপাদনে এবার অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে গবেষণায়।


মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ৫টি গবেষক দল ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন নদনদী ও ইলিশের অভয়াশ্রমে গবেষণা চালায়। নিষিদ্ধ সময়ের আগের ১০ দিন, নিষিদ্ধ সময়ের ২২ দিন এবং পরবর্তী ১০ দিন নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে দেড় থেকে দুই শতাংশ বেশি মা ইলিশ প্রজনন কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছে। এবার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৪৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ২০১৫ সালে প্রায় ৩৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


এ বছর ৩৭ হাজার ৮শ কোটি নতুন ইলিশ যুক্ত হতে পারে। এই জাটকা ইলিশ পাঁচ থেকে সাত মাস নদনদীতে বড় হয়ে সাগরে চলে যাবে। সেখানে বড় হয়ে ডিম ছাড়ার জন্য আবার নদনদীতে অবস্থিত অভয়াশ্রমে চলে আসবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, ইলিশ মাছ সারাবছরই ডিম ছাড়ে। তবে ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বর মাস। এটি মূলত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাভিত্তিক। এ জন্য ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময় বছর বছর পরিবর্তিত হয়। চলতি বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ মাছ ধরা, মজুদ, বেচাকেনা ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ এ সময় নির্ধারণ করা হয়।


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গবেষণা দলের প্রধান ডা. আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, আমাদের এবারের গবেষণা শেষ। খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করবে। অভয়াশ্রমে তদারকি বৃদ্ধির কারণে সাগর থেকে বেশি মা ইলিশ নদীতে এসে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এবার ডিম ছাড়ার হার বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অক্টোবরের শেষদিকে যদি পূর্ণিমা হয় এবং পূর্ণিমা যদি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে তাহলে ইলিশ প্রজননে ভালো ফল পাওয়া যায়। এবার অমাবস্যা ছিল ১৬ অক্টোবর। অক্টোবরের শেষদিকের পূর্ণিমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল। এ ছাড়া এবার নিষিদ্ধ সময়ে একটি নিম্নচাপ ছিল। এটিও ভালো ফল দিয়েছে। কারণ ওই সময়ে নদীতে জেলেরা ছিলেন না। তিনি বলেন, এখন যে ৩৭ হাজার ৮শ কোটি জাটকা আসবে, তা সুরক্ষিত রাখতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ধরা নিষেধ। ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে ইলিশ ধরা যাবে না। মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি বছরের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি বছর উৎপাদন ১০-১২ হাজার টন বাড়ছে। বাড়ছে স্বাদ, ওজন এবং আকৃতিও। অথচ চার বছর আগেও বিশ্বের মোট ইলিশের উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ হতো বাংলাদেশে। এই সময়ের মধ্যে এখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। সে তুলনায় প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। সাগরে অনুকূল পরিবেশ, অভয়াশ্রম তৈরি, নতুন নতুন গবেষণা ও প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে কড়াকড়ির কারণে এর সুফল মিলছে বলে মনে করেন গবেষকরা।


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সমকালকে বলেন, চলতি বছর মা ইলিশ বেশি সুরক্ষিত হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এ বছর ইলিশ উৎপাদন বাড়বে। এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমরা নানা রকম পরিকল্পনা নিয়েছি। ছোটখাটো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আমরা মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ শিকার, আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করার কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ফলে এই মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন অনেক বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিষ দিয়ে ১৮ লাখ টাকার মাছ নিধন

লেখক

নেত্রকোনার মদনে বিষ দিয়ে কয়েক টন মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার বিকালে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুঠুরীকোনা মৌজার বড়রুকশি বিলে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ইজাদাররা।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিলের ইজারাদারদের পক্ষে তাজ্জত মিয়া ৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিলের ইজারাদার তাজ্জত মিয়া জানান, বড়রুকশি বিলের জমি মাছ ধরার জন্য এক বছরের জন্য  ১৮ লাখ টাকায় তিনিসহ নয়জন ইজারা নেন। বিলে বাঁধ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছিল। তার অভিযোগ, বুধবার বিকালে পাহাড়পুর গ্রামের সেকুল ও রিপন নৌকা নিয়ে বাঁধের ভিতরে ঘুরাফেরা করেন। এতে তার লোকজনের সন্দেহ হলে তাদেরকে ধাওয়া করা হয়। এ সময় তারা পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা থেকে বিলে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। তার দাবি, সেকুল-রিপন বিলের পানিতে বিষ ট্যাবলেট ফেলায় মাছ মরে গেছে।


অভিযুক্ত সেকুল মিয়া জানান, বড়রুকশি বিলে একটা বড় অংশের ইজারা তারা নিয়েছেন। সেখানে বিষ ঢেলে দিলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তার দাবি, প্রতিহিংসায় তাদের নামে প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নিরপক্ষ তদন্ত করলেই মূল বিষয় বের হয়ে আসবে।   

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সত্য মিথ্যা যাছাই করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

দেশে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগি

লেখক

দেশে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির। তবে এসবের বাইরে যে অনেক মুরগি আছে তা সচরাচর দেখা মেলে না। এমনই এক প্রজাতির মুরগির নাম হচ্ছে কালো মুরগি। 

বাংলাদেশে এই মুরগি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। আর পোল্ট্রি মালিকেরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে খামারীদের কাছে তা ক্রমে জনপ্রিয়ও হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

কালো মুরগির বৈশিষ্ট্য হলো- মাথার ঝুঁটি থেকে পা পর্যন্ত সব অঙ্গের রং কালো। এমনকি পালক, চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, জিভ, মাংস, হাড়ও কালো। 

এই মুরগির আসল নাম আয়্যাম কেমানি, ইন্দোনেশীয় ভাষায় আয়্যাম মানে মুরগি এবং কেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো। ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এই মুরগির নাম কাদাকনাথ বা কালোমাসি। ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে কালো মুরগি।

কালো মুরগি বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা কালো মুরগিকে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি নামে চেনেন। এটি প্রথম দেশে আসে ২০১৬ সালে। 

বাংলাদেশে নরসিংদী জেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ এটির উৎপাদন শুরু করেন। কাজের সূত্রে ভারতে গিয়ে কালো মুরগি খেয়ে তিনি অবাক হন। এরপর তিনি দেশে নিয়ে এসে উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, এর গুনাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে উৎপাদনের কথা ভাবি। শুরুতে ৩০০ মোরগ ও মুরগি নিয়ে আসি। এখন  খামারে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার কালো মুরগির বাচ্চা ফোটে। এই মুরগি বা মোরগের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে। একটি মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হতে ছয় মাসের মত সময় লাগে। 

একজোড়া কালো মুরগি ও মোরগের দাম চার হাজার টাকা। ২০১৬ সালে একজোড়া মুরগি ও মোরগের দাম ছিল দশ হাজার টাকা।

কালো মুরগির পুষ্টিগুণ

অনেকে মনে করেন কালো মুরগি নানা ধরনের রোগ সারায়। ঔষধি গুনাগুণের জন্য দেশে এই মুরগির অনেক কদর।

এ বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে এই মুরগির মাংসের স্বাদ বেশি। খাদ্যগুণের বিচারে কালো মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রন রয়েছে। সাধারণ মুরগির তুলনায় এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেলের মাত্রাও অনেক কম থাকে। এই মুরগি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এই মুরগির মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রোটিনের মাত্রা অন্য সব মুরগির মাংস থেকে কয়েক গুণ বেশি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মধ্যপ্রদেশে গরু মন্ত্রণালয়

লেখক

বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডারের জন্য অভয়ারণ্য আছে। কুমির প্রকল্প আছে। কিন্তু গরুর জন্য অভয়ারণ্য? হ্যাঁ! চমকে উঠবেন না। ভারতই এ ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। আর ভারতকে পথ দেখাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ। 

তাদের উদ্যোগে সে রাজ্যে গরুদের জন্য হতে চলেছে অভয়ারণ্য, কাউ ক্যাবিনেটও! গৌ ক্যাবিনেট দেশে কেন, দেখতে গেলে বিশ্বে প্রথম। মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই আশ্চর্য পদক্ষেপে রীতিমতো সাড়া পড়ে গেছে। 

এই ক্যাবিনেটের প্রথম মিটিংও হয়ে গেছে রোববার। প্রথম বৈঠকে রাজ্য জুড়ে গোশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানই এই ক্যাবিনেটের নেতৃত্বে। গো-রক্ষাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। দেশ জুড়ে এখন যে গরু-রাজনীতি চলছে তাতে যাতে পিছিয়ে পড়তে না হয় সেজন্য মধ্যপ্রদেশের এমন পরিকল্পনা।

গরু ক্যাবিনেটে মোট ছ’টি মন্ত্রণালয় রাখা হয়েছে। পশুপালন, বন, পঞ্চায়েত, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, গরুর রক্ষণাবেক্ষণ ও কল্যাণের বিষয়টি দেখবে গরু মন্ত্রিসভা। 

কিন্তু গো-কল্যাণের জন্য টাকা কোথায়? গোশালা তৈরি, গরুদের খাবার দেওয়া, গরু অভয়ারণ্যের কাজ করতে কম টাকা তো লাগবে না! সমাধান বের করেছেন শিবরাজই। তিনি জানান, গোমাতার কল্যাণ ও গোশালা তৈরির জন্য সামান্য কর বসানো হতে পারে রাজ্যে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রদেশের মানুষকে গরু-করও দিতে হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com