আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

বেগুনের ঢলে পড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করবে বেসিলাস ব্যাকটেরিয়া

ব্যাকটেরিয়ার নাম শুনলেই মানুষ আগে ভয় পেত। এখন আর ভয় নয়, বন্ধু হিসেবে বেসিলাস ব্যাকটেরিয়াকে গ্রহণ করা যাবে। প্রকৃতি হতে শতকরা ৭৬ ভাগ উপকারী এ ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করে উদ্ভাবনীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বেগুনের ঢলে পড়া রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার ও প্রয়োগোত্তর ফলাফল নিয়ে এক ব্যতিক্রম ধরনের জাতীয় সেমিনারে এমনটি জানান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) প্রধান গবেষক ড. মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। কৃষিতে উপকারী নভেল বেসিলাসের ব্যবহার ও প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে বারি এ জাতীয় পর্যায়ের সেমিনারের আয়োজন করে।

বারি’র মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি আয়োজিত সেমিনারে যুক্ত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

সেমিনারের সেশন চেয়ারম্যান ড. সামসুল আলম বলেন, কৃষিতে উপকারী বেসিলাসের ব্যবহার কৃষিবান্ধব, যা একটি ভালো উদ্যোগ। উন্নত দেশের ন্যায় আমরা এখন তা শুরু করেছি। মূলত ব্যাকটেরিয়াগুলো শক্তিশালী পেপ্টাইডোগ্লাইকোনের মাধ্যমে প্রতিকুল অবস্থায় গাছকে খাদ্যরস গ্রহণে সহায়তা করে শক্তিশালী করে এবং এন্টাগনাস্টিক হিসেবে কাজ করে, যার ফলে জীবাণুরা অবস্থান করতে পারে না। ফলে গাছ আর ঢলে পড়ে না।

মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম বলেন, নভেল বেসিলাসের প্রয়োগ একটি নতুন বিষয়, যার ওপর ইতোমধ্যেই কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনেক পথ এগিয়েছে। আরও জোরালো গবেষণার মাধ্যমে নয়া এই পরিবেশবান্ধব উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী এই প্রযুক্তি কৃষকের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে হবে। উপসচিব নাসিমা খনম গবেষণাটি খরা, বন্যা এলাকায়ও ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। প্রধান গবেষক ড. হোসেন বলেন, ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে প্রাণিকুলের মধ্যে মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল, যা শতকরা ৩৭ ভাগ যেখানে বানরের সঙ্গে মাত্র ছয় ভাগ। সুতরাং বন্ধুপ্রিয় মিলের সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করে অঞ্চলভিত্তিক এই গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে বেগুনের ঢলে পড়া রোগ দমন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বড় আকারে বায়ো-সেন্টার করে এ ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর ফলেই ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

ব্যাকটেরিয়ার জীবন ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, কালচার, নামকরণ এবং কৃষিতে উপকারী বেসিলাসের ব্যবহার-প্রয়োগ এবং ঢলে পড়া রোগ দমন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়।

ফসল

অসময়ে বাঁধাকপি চাষে সফল মিজানুর!

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের কৃষকের কাছে বাঁধাকপি শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর শীতকালে কপি জাতীয় ফসলের চাষাবাদে অভ্যস্ত আমাদের দেশের কৃষক। 

তবে, বর্তমান সময়ে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের দেশের কৃষক এখন আধুনিক চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে একই জমিতে বছরজুড়েই চাষাবাদ করেন। এমনকি, আলাদা-আলাদা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে মিশ্র সার ব্যবহার করে নজিরবিহীন উৎপাদনের রেকর্ড গড়ছে কৃষক।

এমনই একজন কৃষক কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের রেজাকাঠি গ্রামের সোলাইমান সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান। কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়া মিজানুর ছোট বেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে চাষাবাদ করেন। তবে, অসময়ে যেকোনো ফসলের ভালো দাম পাওয়া চাই এমন চিন্তা থেকে গতবছর অসময়ে বাঁধাকপি চাষের উদ্যোগ নেন তিনি।

এ সময় তার চাষ দেখে ওই গ্রামের আরও দুইজন চাষ করেন। তবে, বিধিবাম! অতিবৃষ্টিতে পুরো চাষ নষ্ট হয়ে যায়। এতেও হাল ছাড়েননি মিজানুর। ঠিক, চলতি বছর আবারও একই পদ্ধতিতে অসময়ে বাঁধাকপি চাষের উদ্যোগ নেন। তবে, গতবছর বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশি সেই দুই কৃষক এবার আর বাঁধাকপি চাষে মিজানুর রহমানকে নিরুৎসায়িত করেন। তবে, থামেনি তার উদ্যোগ!

সফল হবেনই এ প্রত্যয় নিয়ে চলতি বছরের চৈত্র মাসে আবারও বাঁধাকপির বীজতলা তৈরি করে বীজ লাগান। ওই বীজতলায় চারা গজালে বৈশাখের শুরুতে ওই চারা ২৮ শতক জমিতে লাগান।[১]টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হামলায় স্থানীয় তিন যুবক গুলিবিদ্ধ  [১] কোভিড সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি খুবই উদ্বেগজনক: ডা. শহীদুল্লাহ [২]আবারো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ  [১] করোনাকালে সরকারের শতর্কতা অমান্য করায় জরিমানা গুনতে হচ্ছে জুভেন্টাসের তিন ফুটবলারকে

এরপর পরিচর্চা-সার-বীজ ও শ্রমিক বাবদ প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করে আড়াই মাসের ব্যাবধানে প্রতিটি বাঁধাকপি ৫০০-৬০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। এখন পাইকারা মিজানুর রহমানের ক্ষেতের বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে কিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে সরবরাহ করছেন। তবে, এ বছর টানা বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও লাখপতি হতে চলেছেন কৃষক মিজানুর রহমান।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদে আলাদা আলাদা রাসায়নিক সার কিনে প্রয়োগের প্রথা থেকে বেরিয়ে ‘বেঙ্গল মিশ্র’ সার ব্যবহার করে অভাবনীয় ফলন পাচ্ছে। এতে চাষাবাদে খরচ কমানোর পাশাপাশি তুলনামূলক ফসলের পোকা-ভাইরাসজনিত সমস্যা কম হচ্ছে। ফসলের চেহারা সুন্দর হওয়ায় ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আসলে অসময়ে যেকোনো ফসল উৎপাদন করা গেলে ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। আগামীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসময়ে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সবমিলিয়ে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও প্রায় এক লাখ টাকার বাঁধাকপি বেচাকেনা হবে বলে ধারণা করছেন ওই কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দেশীয় সবজির পুষ্টিগুণ

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই সেই হিসাব মেনে খাদ্য গ্রহণ করে না বা বেশি করে। আবার আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। তারা যেকোনো ধরনের বিদেশি খাবারকেই বেশি পুষ্টিকর মনে করে। কিন্তু দেশীয় শাক–সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ। আর এসব রয়েছে একেবারে আমাদের হাতের নাগালেই এবং সারা বছর পাওয়া যায়। এমনই কিছু দেশীয় সবজি হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির এক অনন্য উৎস। পুষ্টিবিদেরাও পরামর্শ দেন, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এগুলো যেন নিয়মিত স্থান পায়।বিজ্ঞাপন

কাঁচকলা

ছবি: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো

প্রায় সারা বছর বাজারে পাওয়া যায়, এমন পরিচিত সবজির মধ্যে অন্যতম কাঁচকলা। আনাজি কলা নামে পরিচিত এই সবজি রোগীর পথ্য হিসেবে বেশ কার্যকর। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচকলায় রয়েছে ৮৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ১৭.৩ গ্রাম শর্করা, ২.৬ গ্রাম আমিষ, খনিজ লবণ ১ গ্রাম, ০.১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি রয়েছে ৪ মিলিগ্রাম। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রমতে, অন্যান্য কলার মতো এর শিকড়, কন্দ, পাতা, ফুল, ফল, থোড় ও বীজ নানা ঔষধি গুণে ভরপুর। আমাশয়ের সমস্যায় কাঁচকলা আর থানকুনির পাতা বেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কলার থোড় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া কাঁচকলা ডায়রিয়া রোগীর তৃষ্ণা নিবারণ এবং রক্তবমি বন্ধে সহায়তা করে। পেটে কৃমি হলে কলাগাছের শিকড়ের রস বয়স ভেদে তিন থেকে চার চা-চামচ সকালে খালি পেটে কয়েক দিন খেলে কৃমির উপদ্রব কমে যায়।

মিষ্টি আলু

ছবি: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো

‘গরিবের খাবার’ হিসেবে পরিচিত মিষ্টি আলুও পুষ্টির আধার। পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যমতে, মূলজাতীয় শস্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদন করে মিষ্টি আলু। সাদা ও লাল—এই দুই বর্ণের আলু কাঁচা অবস্থায়, সিদ্ধ করে, ভর্তা বানিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে কিংবা রান্না করেও খাওয়া যায়। মিষ্টি আলুতে রয়েছে শর্করা, আমিষ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি এবং প্রচুর খাদ্যশক্তি। গ্লুকোজ, চিনি, সিরাপ, স্টার্চ, পেপটিন এবং অ্যালকোহলের গুরুত্বপূর্ণ উৎস মিষ্টি আলু। মিষ্টি আলু দিয়ে বানানো যায় হরেক পদের খাবার যেমন হালুয়া, চিপস, পায়েস ও আটা এবং এর গুঁড়া দিয়ে তৈরি করা যায় বিস্কুট, রুটি, পাউরুটি, পেস্ট্রি, কেকসহ হরেক রকম পিঠা। মিষ্টি আলু প্রক্রিয়াজাত করে বিশেষ উপায়ে শিশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এর কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এটা পুষ্টিকরও বটে। বিজ্ঞাপন

করলা

ছবি: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো

তিতা স্বাদের সবজি করলা, যা সবার কাছে বেশ সমাদৃত। পুষ্টিগুণেও করলার জুড়ি নেই। করলায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি। এ ছাড়া রয়েছে আমিষ, শর্করা, চর্বি, আয়রন, ভিটামিন বি৬, ক্যারোটিনসহ প্রচুর খাদ্যশক্তি। করলায় ‘কিউকার বিটাসিন’ নামক একপ্রকার পদার্থ থাকায় এর স্বাদ তিতা হয়ে থাকে। তিতা হলেও করলার রয়েছে অনেক ঔষধি গুণও। শিশুদের বুকের দুধ পান করান যেসব মা, তাঁদের দুধের স্বল্পতায় করলা বেশ কার্যকর। কৃমির সমস্যায় করলাপাতার রস ছেঁচে এর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে বয়স ভেদে আধা চা–চামচ থেকে দুই চা–চামচ পরিমাণে খেলে কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া করলা মুখে রুচি বাড়ায় এবং বাত, অ্যালার্জি, পেটের পীড়াসহ অন্যান্য রোগের জন্য উপকারী।

বেগুন

ছবি: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো

প্রায় সারা বছর পাওয়া যায়, এমন পরিচিত ও পছন্দের সবজির তালিকায় বেগুন থাকবে তালিকার প্রথমদিকেই। নানান আকৃতি ও বর্ণের বেগুনের গুণের যেন শেষ নেই। এর প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন এ রয়েছে ৮৫০ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়া অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আমিষ রয়েছে ১.৮ গ্রাম, শর্করা ২.২ গ্রাম, চর্বি ২.৯ গ্রাম, ২৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, আয়রন ০.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম এবং ৪২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। যকৃতের জন্য বেশ উপকারী এবং ডায়াবেটিক রোগীর ভালো পথ্য হিসেবে বেগুনের কার্যকরিতা লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া কফ নিরাময়ে এবং শরীরে জমে যাওয়া চর্বি কমাতেও সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

এখন বর্ষাকাল। বাজারে গেলে নানান রকম শাক আর সবজির ভিড়ে ঢ্যাঁড়স আপনার চোখে পড়বেই। আমাদের অতিপরিচিত সবজিটির ইংরেজি নাম ওকরা হলেও একে অনেকেই লেডিস ফিঙ্গারও বলে থাকেন। মেয়েদের হাতের আঙুলের মতো গঠন বলেই হয়তো এই নাম। ধারণা করা হয়, ঢ্যাঁড়সের আদি উৎস সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ায়। পরে ধীরে ধীরে তা আরব হয়ে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোসহ ইউরোপ এবং অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

বাংলাদেশসহ অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশে ঢ্যাঁড়সকে অনেকে ভেন্ডি বা ভিন্ডি বলেও চেনেন। ঢ্যাঁড়স বা ভেন্ডি যে নামেই ডাকা হোক না কেন, অতি সাধারণ সবজিটি যে অসাধারণ পুষ্টিগুণের আধার, সে কথা আমরা কজন জানি?

ঢ্যাঁড়সে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত ঢ্যাঁড়স খেলে তা নানাভাবে আমাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।বিজ্ঞাপন

রক্তে চিনির মাত্রা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

ঢ্যাঁড়সে উপস্থিত ফাইবার বা আঁশ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ ওয়ান, টাইপ টু এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঢ্যাঁড়স কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

অ্যান্টি–অক্সিড্যান্টে ভরপুর

ঢ্যাঁড়সে রয়েছে পলিফেনলের মতো অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, রয়েছে ভিটামিন সি। এগুলো আমাদের কোষের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালকে প্রতিহত করে। এ ছাড়া এতে রয়েছে লেকটিন নামের প্রোটিন, যা মানবদেহে ক্যানসার সেল বেড়ে উঠতে বাধা দেয়।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়

ঢ্যাঁড়সের ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি–অক্সিড্যান্ট মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে উপস্থিত বিভিন্ন খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি ও দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

ওজন কমাতে সাহায্য করে

ঢ্যাঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা ভাব বজায় থাকে এবং ক্ষুধা লাগে না। এটি হজমেও দারুণ সহায়ক। তা ছাড়া এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঢ্যাঁড়স রাখতে পারেন।বিজ্ঞাপন

হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ঢ্যাঁড়সে উপস্থিত পলিফেনল রক্ত জমাট বাঁধা এবং ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিহত করে হৃৎপিণ্ডের জটিলতা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া ঢ্যাঁড়সের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমিয়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের বড় শত্রু কোলেস্টেরল। ঢ্যাঁড়সের মিউসিলেজ নামের উপাদানটি হজমের সময় কোলেস্টেরলের সঙ্গে মিশে গিয়ে একে দেহ থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

গর্ভাবস্থায় উপকারী

ঢ্যাঁড়সে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড, যা গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। গর্ভাবস্থায় খাদ্যতালিকায় ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্টস (এনটিডি) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। নিউরাল টিউব ডিফেক্টসের ফলে জন্মের সময়ে শিশুর মেরুদণ্ডের সমস্যা বা মস্তিষ্কের জটিলতা দেখা দেয়।

হজমে সাহায্য করে

ঢ্যাঁড়স আঁশ এবং পেকটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমে দারুণভাবে সাহায্য করে। হজম ভালো হওয়ায় বিপাকও হয় নির্বিঘ্ন। নিয়মিত ঢ্যাঁড়স খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

ঢ্যাঁড়সের যত গুণ

কীভাবে খাবেন?

ঢ্যাঁড়স নানাভাবে খাওয়া যেতে পারে। ভর্তা, ভাজি, ঝোলের তরকারি ইত্যাদি। তবে অল্প তেল এবং অল্প মসলায় রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় কম। ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে ঢ্যাঁড়স অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও যাঁদের ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে, তাঁদের নিয়মিত ঢ্যাঁড়স খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে পরিমাণ কতটুকু হবে, তা জেনে নেওয়া ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

প্রথমবারের মতো খুলনার সবজি যাচ্ছে ইউরোপে

প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে খুলনা থেকে ইতালি ও ইংল্যান্ডে সবজি রফতানি শুরু হয়েছে। শুক্রবার জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ভিলেজ সুপার মার্কেট থেকে পেঁপে, পটোল, কচুর লতি ও কাঁচকলা পাঠানো হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, খুলনা থেকে প্রথমবারের মতো সবজি যাচ্ছে ইউরোপে। শস্যভান্ডার খ্যাত ডুমুরিয়ার সবজি রফতানিকারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত করার পর রফতানি করা হয়েছে। ভিলেজ সুপার মার্কেট থেকে ট্রাক যোগে এক মেট্রিক টন সবজি প্রথমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্লেনে সরাসরি ইতালিতে যাবে। প্রথম চালানটি ইতালিতে যাচ্ছে। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাবে।

তিনি জানান, সবজি রফতানিতে সার্বিক সহযোগিতা করছে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। আর আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সফল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, এনএইচবি করপোরেশন ও আরআর এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব সবজি রফতানি করছে। এনআইচবি কর্পোরেশন ইতালি এবং আরআর এন্টারপ্রাইজ ইংল্যান্ডে সবজি রফতানি করবে। সফল প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও যশোরে প্রায় দেড় লাখ কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। সেই সবজি প্রক্রিয়াকরণের জন্য ডাচ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ডুমুরিয়ায় ভিলেজ সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় খুলনার ডুমুরিয়ায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে চালু করা হয় অত্যাধুনিক ভিলেজ মার্কেট। এলাকার তৃণমূল কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষিপণ্য ক্রয় করা হয় এখানে। সেখান থেকে এ বছর ১২০ মেট্রিক টন সবজি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবে শস্যভাণ্ডার খ্যাত ডুমুরিয়ার উৎপাদিত তরতাজা শাক-সবজির প্রথম চালান শুক্রবার পাঠানো হলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডুমুরিয়ার বিষমুক্ত সবজি এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির সুযোগ পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন। খুলনা অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। কৃষি অর্থনীতির ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার টিপনা ভিলেজ সুপার মার্কেটে বিদেশে প্রথম সবজি রফতানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়।

সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফুড সিকিউরিটি এ্যান্ড লিংকেজেস (সফল-২) নিরাপদ ও বালাই মুক্ত সবজি রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল ওয়াদুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানি কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন ও খুলনার কৃষি বিপনন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এস এম মাহাবুব আলম । বক্তব্য রাখেন, এহসান উদ্দীন, টিপনা ভিলেজ সুপার মার্কেটের সভাপতি শেখ হেফজুর রহমান, কৃষি বিপনন অধিদফতরের কডিনেটর সুমাইয়া খাতুন প্রমুখ।ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সবজির ভরা মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ও সফল প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার কেজি পটল, লাউ, কচুরমুখি, কচুর লতি, চাল কুমড়া, পেঁপে, ঝিঙে ও ধুন্দল রফতানি করা হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা বিএফভিএপিইএ, উত্তরণ ও সলিডারিডাড এর মাধ্যমে এলাকার ১১হাজার ৩৩৮ জন কৃষকদের জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাই নাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়েছে। বিষমুক্ত এসব সবজি পাঠানো হচ্ছে বিদেশে। নিজেদের কষ্টার্জিত সবজি বিদেশে রফতানি হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরাও। তারা বলছেন, এভাবে বিদেশে সবজি রফতানি করা গেলে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবেন তারা।

সবজি বিদেশে রফতানিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সবজি রফতানি করলে একদিকে যেমন সরকারের আয় বাড়বে অন্যদিকে কৃষি হবে সমৃদ্ধ। দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজির যোগান দেয় ডুমুরিয়া উপজেলা।

এ কারণে দেশের সীমানা পেরিয়ে এই প্রথম উৎপাদিত সবজি রফতানি করা হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে কৃষি বিপণন অধিদফতর, বিএফভি এপিইএ, উত্তরণ ও সলিডারিডাড এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠান সার্বিক সঞ্চালনা করেন মিতা রহমান ও তৈয়েবুর রহমান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

হজমে সহায়ক ফুলকপি

লেখক

শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম ফুলকপি। স্বাদ ও গুণে এই সবজির তুলনা নেই। সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে, ভেজে এবং নানা ধরনের স্যুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। শীতকালীন এ সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এ সময় নিয়মিত ফুলকপি খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

ক্যান্সার প্রতিরোধে : ফুলকপিতে এমন কিছু উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন উপাদান ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে : হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে ফুলকপি বেশ সহায়ক। এর সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভিতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি।

ভিটামিন এবং খনিজ : শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। ফুলকপিতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। এছাড়াও এতে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে : ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা কলিন মস্তিষ্কের কগনিটিভ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও দ্রুত শিখতে সাহায্য করে।

হজমে সহায়ক : ফুলকপিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান থাকায় এটি খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তাছাড়া ফুলকপিতে থাকা ফাইবার খাবার হজম করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com