আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

আমাদের দেশে কাঁকড়ার চাহিদা না থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হয়। তখন কতিপয় রফতানিকারক নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খুলনা অঞ্চল থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে সেসব দেশে পাঠাতেন।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর চাহিদা ও মূল্য বাড়ায় চিংড়ি চাষীদের মাঝে কাঁকড়া চাষ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে। বিগত বছরগুলোতে এদেশ থেকে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ মেট্রিক টন কাঁকড়া তাইওয়ান, কোরিয়া, হংকং, চীন প্রভৃতি দেশে রফতানি হয়। কাঁকড়া চাষের সুবিধা হচ্ছে, এতে পরিশ্রম তেমন নেই, উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এ খাত থেকে রফতানি-আয়ের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

সম্প্রতিক উপকূলবাসীর মধ্যে কাঁকড়ার উচ্চ বাজারমূল্য নতুন আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় নদী ও সংলগ্ন খালসমূহে চিংড়ি পোনা সংগ্রহকারীদের জালে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়ার পোনা ধরা পড়ে। তাছাড়া জোয়ারের পানিতে কাঁকড়ার পোনা চিংড়ির ঘেরে প্রবেশ করে সেখানে বড় হয়। ফলে চিংড়ির সাথে বাড়তি সম্পদ হিসেবে প্রচুর কাঁকড়াও পাওয়া য়ায়। রফতানি বাণিজ্যে স্থান করে নেয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে কাঁকড়া চাষের ব্যাপকতা শুরু হয়েছে। কাঁকড়া রফতানি ক্রমান্বয়ে বাড়ায় বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়ার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের মাড ক্রাব বা শীলা কাঁকড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও বেশি মূল্য, প্রাকৃতিক উৎসে পোনার প্রাচুর্যতা, কম সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ ইত্যাদি কারণে উপকূলীয় চাষীদের কাছে কাঁকড়া চাষ ও ফ্যাটেনিং ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

চাষ ও উৎপাদন কৌশল

বাংলাদেশে কাঁকড়া চাষ ও ফ্যাটেনিং পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরণের ওপর নির্ভরশীল। চাষের ব্যাপকতা বাড়ার সাথে সাথে বেশি মুনাফা লাভের আশায় প্রাকৃতিক উৎস থেকে নির্বিচারে মা কাঁকড়া, পোনা এবং অপরিপক্ক ছোট কাঁকড়া আহরণের প্রবণতা বাড়ছে। তাই কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত প্রাকৃতিক উৎস থেকে নির্বিচারে অপরিপক্ক বা ছোট কাঁকড়া ধরার প্রবণতা রোধ করার জন্য এর পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। অপরিপক্ক ও ছোট কাঁকড়া আহরণের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ক্রমবর্ধমান কাঁকড়া শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঁকড়া চাষকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল রাখতে হলে চিংড়ির ন্যায় হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন প্রয়োজন।

বর্তমানে কাঁকড়া চাষের চেয়ে ফ্যাটেনিং করে বাজারজাতকরণ বেশি লাভজনক। সাধারণত অপরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়া (অপরিপক্ক গোনাড এবং ওজন ১৭০ গ্রামের নিচে) এবং অপুষ্ট পুরুষ কাঁকড়া (কম মাংসল এবং ওজন ৩৫০ গ্রামের নিচে) বিদেশে রফতানি হয় না। এগুলো স্থানীয় বাজারে খুব কম দামে বিক্রি হয়। এ জাতীয় কাঁকড়াসমূহ উপযুক্ত পরিবেশে ২-৪ সপ্তাহ লালন-পালন করে গোনাড পরিপক্ক বা মাংস পরিপুষ্ট করাকে ফ্যাটেনিং বলা হয়।

পুকুর নির্বাচন

কাঁকড়ার জন্য দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। পুকুরের আয়তন ০.১-১.০ হেক্টর হলে ভালো। আয়তন কম হলে কাঁকড়া মজুদ করতে সুবিধা হয়। তাছাড়া ব্যবস্থাপনার দিক দিয়েও সুবিধা। নদী বা সমুদ্রের কাছে হলে খুবই ভালো হয়। এতে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে পানি ওঠানামা করা যায়। পানি ওঠানোর জন্য গেট থাকা ভালো। পলায়নপর স্বভাবের জন্য প্রায় ১.৫ মিটার উঁচু বাঁশের বানা (পাটা) দিয়ে পুকুরের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। বানা প্রায় আধা মিটার মাটির নিচে পুঁতে দিতে হয়, যাতে কাঁকড়া পুকুরের পাড় গর্ত করে পালিয়ে যেতে না পারে। মাটির পিএইচের ওপর ভিত্তি করে পাথুরে চুন গুঁড়া করে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মাটির পিএইচ ৭-৭.৫ এর মধ্যে থাকলে হেক্টরপ্রতি ১২৫ কেজি পাথুরে চুন দিতে হবে। চুন ছিটানোর পর জোয়ারের পানি তুলতে হবে এবং সাত দিন পর হেক্টরপ্রতি ৭৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) দিতে হবে। জৈব সার প্রয়োগের তিন দিন পর হেক্টরপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া এবং ১৫ কেজি টিএসপি সার প্রয়োগ করা হয়। অজৈব সার প্রয়োগের তিন-চার দিন পর পুকুরে কাঁকড়া মজুদ করা হয়।

কাঁকড়া মজুদ

মজুদ ও ফ্যাটেনিংয়ের জন্য প্রতিহেক্টর ঘেরে ১০ হাজারটি অপরিপক্ব স্ত্রী কাঁকড়া মজুদ করা যায়। কাঁকড়ার ওজন ১৮০ গ্রাম বা তার বেশি হলে ভালো হয়। কারণ এ ওজনের কাঁকড়ার দাম সবচেয়ে ভালো।

খাবার

মজুদের পর নিয়মিত খাবার দিতে হবে। খাবার হিসেবে শতকরা ২৫ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৭৫ ভাগ গরু-ছাগলের ভুঁড়ি অথবা শতকরা ৫০ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৫০ ভাগ বাগদা চিংড়ির মাথা (মাংসল অংশ) প্রতিদিন পুকুরে সরবরাহ করতে হবে। কাঁকড়ার দেহের ওজনের আট ভাগ হারে প্রথম সাত দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে পাঁচ ভাগ হারে খাবার সরবরাহ করতে হবে। ফ্যাটেনিংয়ের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি নয়, বরং গোনাডের পরিপুষ্টতাই মুখ্য। প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ মাংসল খাদ্য সরবরাহ করতে হয়, যা দ্রুত পচনশীল। তাই পুকুরের পানির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ করলেও পানি নষ্ট হতে পারে। পানির গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে এবং প্রয়োজনবোধে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সময় ৪-৭ দিন পানি পরিবর্তন করতে হবে।

আহরণ

কাঁকড়া মজুদের ১০ দিন পর থেকে দুই-তিন দিন পর পর কাঁকড়ার গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হয়। কাঁকড়াকে আলোর বিপরীতে ধরে দেখতে হবে যে, কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করে কিনা। যদি কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করতে না পারে তাহলে বুঝতে হবে গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে। বিপরীতে গোনাড পরিপুষ্ট না হলে কাঁকড়ার দুই পাশের পায়ের গোড়ার দিক দিয়ে আলো অতিক্রম করবে। সাধারণত গোনাড পরিপুষ্ট হলে পুকুরে পানি ওঠানোর সময় কাঁকড়া গেটের কাছে চলে আসে। পুষ্ট কাঁকড়া স্কুপনেট বা টোপ দিয়ে প্রলুব্ধ করে ধরতে হবে। কাঁকড়া সম্পূর্ণভাবে আহরণের জন্য পুকুরের পানি নিষ্কাশন করতে হবে। ধরার সঙ্গে সঙ্গে কাঁকড়াকে বিশেষ নিয়মে বেঁধে ফেলতে হবে। অন্যথায় কাঁকড়ার চিমটা পা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার দেবহাটায় কাঁকড়া চাষ বা ফ্যাটেনিং বহুল প্রচলিত।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

১. কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করা, যাতে কাঁকড়া মজুদের সময় জোগান স্বাভাবিক থাকে।
২. ৪০-৮০ গ্রামের জুভেনাইল কাঁকড়াগুলোকে বাজারে সরাসরি (দালালের মাধ্যমে নয়) বিক্রিযোগ্য করে তোলা।
৩. প্রতিবছর শীতকালীন অস্থায়ী বাজার তৈরী হয় বিভিন্ন খালের মুখে, সপ্তমুখীর কাছে। বাজার মানে দু-তিনটি নৌকা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। এসব নৌকার কাঠের পাটাতনের তলায় বরফ রাখা থাকে। ভয় সাথে নিয়ে সারাদিন সারারাত খাঁড়িতে বসে কাঁকড়া ধরে, তারপর অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে নৌকাশুদ্ধ কাঁকড়া বিক্রি করে দেয়। অন্যান্য মাছ ধরা নৌকাগুলোও তাদের মাছ এখানে বিক্রি করে। এখান থেকে দালালদের মাধ্যমে রুপালি ফসল পৌঁছায় বাজারে। জীবনের কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই এই মধ্যবর্তী বিক্রেতারা প্রকৃত মাছমারাদের থেকে দ্বিগুণ লাভ লুটে নেয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দিয়ে তাদের বাজার যাতে তৈরী করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৪. সদ্য খোলস ছাড়া কাঁকড়া যা ওয়াটার ক্র্যাব নামে পরিচিত এবং অপরিণত স্ত্রী কাঁকড়াগুলোকে প্রজনন অবস্থা পর্যন্ত পালন করা বা ফ্যাটনিং করার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা।
৫. রফতানিযোগ্য কাঁকড়াগুলোর সঠিক বাজারের ব্যবস্থা করা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বাজার, রাস্তা ও মিষ্টি জলের ব্যবস্থা আরও রফতানিকারকদের ডেকে নিয়ে আসবে।
৬. জীবিত অবস্থায় ও প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় কাঁকড়ার সঠিক রফতানির ব্যবস্থা করা। এর জন্য ছিদ্রছাড়া এবং ছিদ্রযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রয়োজন ছোট ছোট দ্বিচক্রযান, যা কিনা শুধু এই ফসল পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে তৈরী করা।

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

চাষের সতর্কতা

১. কাঁকড়া চাষের পুকুরের তলায় জমে থাকা বিষাক্ত ক্ষতিকর গ্যাস শুঁষে নেয়ার জন্য উপযুক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে। জিওলাইট প্লাস দিতে হবে প্রতিটি ফ্যাটিনিং চাষের পর। এরা যেহেতু জীবিত খাবার এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার খায় ফলে খামারের তলায় অভুক্ত খাবার থেকে গ্যাস তৈরী হতে পারে। উপযুক্ত রাসায়নিক দিয়ে সেই অবাঞ্ছিত গ্যাসকে শোষণ করা সম্ভব হবে। প্রতি দু’বার ফসল তোলার পর পুকুরের তলায় জমে থাকা পলি তুলে ফেলে পাথুরে চুন দিয়ে সাত দিন পুকুরে ফেলে রাখার পর আবার পানি ঢোকাতে হবে।

২. কাঁকড়া গর্ত কেটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। এই স্থানান্তর এড়াতে স্লুইস গেটসহ খামারের চারদিকে বাঁশের পাটা ও নাইলন জালের বেড়া দিতে হবে, যা মাটির নিচে অন্তত ২ ফুট এবং মাটির উপরে অন্তত ৩ ফুট থাকে। প্লাাস্টিক সীট পাড়ের ওপর দিয়ে তার ওপর মাটি দিয়ে পাড় তৈরী করলেও কাঁকড়া পাড় ফুটো করে চলে যেতে পারবে না।

যেহেতু কাঁকড়া একে অপরকে খেয়ে ফেলতে পারে- এ প্রবণতা এড়াতে নিয়মিত অতিরিক্ত খাদ্যের যোগান রাখা জরুরি। খোলস যত তাড়াতাড়ি শক্ত হবে ততই বিক্রয় উপযোগী হবে, সে কারণে পানির গুণাগুণ উপযুক্ত মাত্রায় রাখা জরুরি। খামারে নরম কাঁকড়াগুলোর প্রয়োজনীয় লুকানোর জায়গা রাখা জরুরি। ভাঙা পাইপ, অব্যবহৃত টায়ার ইত্যাদি ব্যবহৃত হতে পারে লুকানোর আস্তানা হিসেবে, ১৫ সেমি ব্যাসার্ধের লম্বা পাইপের টুকরাগুলো খামারের তলদেশে ছড়িয়ে রাখতে হবে। খামারের মাঝখানে উঁচু মাটির ঢিবি বানিয়ে তাতে লবণাম্বু উদ্ভিদের কিছু চারা যেমন বাণী, হেঁতাল, গেঁওয়া লাগালে কাঁকড়া যেমন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তেমনি পানির অতিরিক্ত খাদ্য শোষণ করে নিয়ে জলকে দূষণমুক্ত রাখে। কাঁকড়া বিক্রিযোগ্য হলে গোণ বা কোটালের সময় আঁটেলি বসিয়ে তা ধরা যেতে পারে অথবা দোন লাগিয়েও ধরা হয়।

কাঁকড়া পরিবহন

কাঁকড়া বাজারে নিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটিকে বাঁধা হয় সরু নাইলন বা প্লাস্টিকের দড়ি অথবা ভেজা খড় দিয়ে, তার পরে ঝুড়িতে রাখা হয়। ঝুড়িগুলো ভেজা চটে বস্তা চাপা দেয়া থাকে। যাতে জলীয়ভাব বজায় থাকে। এই ধরনের ঝুড়িতে যত বেশি বাতাস চলাচল করবে, তত বেঁচে থাকার হারও বাড়বে। পরিবহনের সময় জলীয়ভাব ঠিক রাখতে পারলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত কাঁকড়াগুলো বেঁচে থাকে। সর্বোপরি পরিবহনের সময় কখনই সরাসরি সূর্যের আলো না পড়াই ভালো। ৫০ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের একটি ঝুড়িতে প্রায় ৩০০-৫০০ গ্রাম কাঁকড়া (যার ক্যারাপেস ২.৫ সেমি চওড়া) পরিবহন সম্ভব। যেহেতু শ্যাওলা বা ঝাঁঝি পচনশীল তাই অনেকসময় দূরবর্তী স্থানে ১০০% জীবিত পরিবহনের স্বার্থে মোহনার জলে তুলা ভিজিয়ে কাঁকড়া পরিবহনের ঝুড়িতে দিলে কাঁকড়ার নড়াচড়াও বন্ধ হবে। ভিজে কাঠের ভুষি প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায়। কাঁকড়া রফতানির ক্ষেত্রে ৫০-১২০ মিমি চওড়া তার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আহরণের পর খোলামুখ পাত্রে ২০-৫৩ কিমি সড়কপথে পরিবহন করে ৫৫-১০০% বাঁচার হার লক্ষ্য করা গেছে।

কাঁকড়ার পুষ্টিগুণ

কাঁকড়ার মোট ওজনের ৩৬-৩৮% দাঁড়ি ও পা, ২২-২৪% খোলস, দেহের বাকি অংশে পাওয়া মাংস ২৯-৩৬%। আবার দাঁড়ি ও পায়ের মধ্যে মাংসের পরিমাণ ৩৩-৪২%, যা পুরোটাই মাংসজ প্রোটিন হিসেবে খাওয়ার যোগ্য। মাংসের মধ্যে ভালো মাত্রায় প্রোটিন ও মুক্ত আমিনো অ্যাসিড আছে। প্রসেসিং সেন্টারে পাওয়া কাঁকড়ার খোলস থেকে যে সমস্ত ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পাওয়া যায় সেগুলো হলো- কাইটিন, কাইটোসান এবং গ্লুকোজ আমিনো হাইড্রক্লোরাইড বিশ্বের বাজারে যার মূল্য অপরিসীম। কাইটিন একটি প্রাকৃতিক জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা বিভিন্ন প্রাণির (চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদির) বহিঃকঙ্কালে (খোলস) প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে। জাপানে কাইটিন খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা বাড়াতে, বার্ধক্য বিলম্বিত করতে, আরোগ্য লাভের পথে এবং জৈবছন্দ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

ঈদের এক মাস আগেই আড়াই হাজার টাকার এলাচ সাড়ে ৩ হাজার!

ঈদুল আজহার এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি। কিন্তু পবিত্র কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েই চলছে সব ধরনের মসলার দাম। এ কারণে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তদারকি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নগরের খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে প্রথম দিনের অভিযানেই চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে আজকের অভিযানে বেশ কয়েকটি মসলার আড়তে লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যেখানে দেখা যায়, কয়েকজন আড়তদারের টাঙিয়ে রাখা বিক্রয় মূল্যের তালিকার সঙ্গে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ও ক্রয়মূল্যে অনেক পার্থক্য। তালিকায় লাভসহ বিক্রয় মূল্য ২ হাজার ৪১০ টাকা দেখানো হলেও পাইকারিতে ব্যবসায়ীদের কাছে এলাচ বিক্রি করা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকার বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযান চলাকালীন অনেক ব্যবসায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাঁটানো মূল্যতালিকায় রাখা মূল্য কাটাছেঁড়া করে কমিয়ে রাখেন, যা তাৎক্ষণিক নজরে আসে। দেখা যায় ২ হাজার ৪১০ টাকার এলাচ বিক্রয় মূল্য তালিকায় লেখা ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ২৪০ টাকার দারুচিনি ৩৭০-৪০০ টাকা, ৪২০ টাকার গোলমরিচ ৬২০ টাকা, ৬৮০ টাকার লবঙ্গ ৯০০ টাকা, ২৭৫ টাকার জিরা ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করতে দেখা যায়। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট দেখে তারা দাম অনেক কমিয়ে লিখে রাখে যে বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মূল্যতালিকায় হেরফের ও ঘষামাজা করার কারণে খাতুনগঞ্জের চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে মেসার্স নারায়ণ ভাণ্ডারকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স চিটাগং ফ্রেন্ডস ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, আল্লাহর দান স্টোরকে ১০ হাজার, মেসার্স অনিল দেব স্টোরকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলাজাতীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তাই বাজার মনিটরিংয়ের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঈদ সামনে রেখে যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অস্থিতিশীল না করতে পারে সেজন্য এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক দম্পতি শামসুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে এলাকায় বেশ নাম করেছেন তারা। তাদের সফলতা এখন জেলার সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে বলরামপুর গ্রামে তারা এখন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

জানা যায়, এ দম্পতি নিজ বাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার ও বালাইনাশক তৈরি করছেন। তাদের রয়েছে ৩ শতাধিক মাটির তৈরি চাড়ি যার মধ্যে গোবর, পচা লতাপাতায় ভরা। এছাড়া কেঁচোর মলই শুকিয়ে তৈরি করছেন অধিক উর্বরাক্ষম কম্পোস্ট সার। অপরদিকে, ঘরের এক কোণে রয়েছে মাটির তৈরি বড় বড় পাত্রে ভেজানো বিভিন্ন গাছের পাতা, বাকল, কাণ্ড ও বীজ চূর্ণ। কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি এই দম্পতি উৎপাদন করছেন বিষমুক্ত সবজি ও পুদিনা পাতা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কৃষক শামছুল ইসলাম জানান, তারা ভূমিহীন। প্রথমে অন্যের ২৫ শতাংশ জমি বর্গা নেন। ১২ শতাংশ জমিতে কম্পোস্ট সার তৈরির কারখানা আর বাকি ১৩ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। পরে সফলতা পেলে আরও ২ বিঘা জমি বর্গা নেন। আর এখন নতুন করে প্রায় ৪ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তিনি পুদিনা পাতা চাষ করছেন।

স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান, ৪ বছর আগে একমাত্র ছেলে পান্নু মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় যখন পঙ্গু প্রায় তখন নতুন করে আবারও অভাবের সংসারের হাল ধরেন। ২০১১ সাল থেকে বাড়িতে শুরু করেন কয়েকটি মাটির চাড়ি নিয়ে। আর এখন তারা ৩শ চাড়িতে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। একটি চাড়ি থেকে ১০ কেজি করে একবারে মোট ৩০০ কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হচ্ছে। তাদের ৩শ মাটির চাড়িতে ৫শ গ্রাম করে কেঁচো আছে। সেই হিসাবে প্রায় ১৫০ কেজি কেঁচো আছে তাদের কাছে।

তিনি বলেন, এক কেজি কেঁচোর বাজার দর ১ হাজার ৫শ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার কেঁচো আছে। প্রতি কেজি সার বিক্রি করেন ১০ টাকা দরে। আর ৫০ কেজির এক বস্তা কম্পোস্ট সার বিক্রি করেন ৫০০ টাকায়। চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে কম্পোস্ট সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গেল ডিসেম্বরে প্রায় ১০০ বস্তা সার বিক্রি করেছেন তারা। প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্রকৃতপক্ষে জমির উর্বরাশক্তি কমে যায়। তাই তারা অল্প রাসায়নিক সারের সঙ্গে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষি জমিতে এই কেঁচো কম্পোস্ট সার পরপর ৩ থেকে ৪ বছর ব্যবহার করলে আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে মধু সংগ্রহের সময় একটি রানী মৌমাছি বাড়ি নিয়ে এসে বাক্সে রেখে দেন। পরে সেই বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হতে থাকে। সেখান থেকেই প্রথম মধু আহরণ। এভাবে একটি রানী মৌমাছি থেকেই আশপাশের ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক মুধু চাষি বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ ছোট ছোট বনে নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই এলাকায় প্রায় চার শতাধিক চাষি বাড়িতে মধু চাষ করে সফল হয়েছেন। পাঁচ-ছয় বছর আগেও মধু চাষের বিষয়ে এ উপজেলার কেউ কল্পনা করেনি। অথচ আজ সেখানকার মধু চাষিরাই তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত করে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আয় করছেন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই তারা নিজেদের স্বল্পপুঁজি খাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এ উপজেলা হয়ে উঠতে পারে মধুচাষের অন্যতম একটি ক্ষেত্র।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি একটি মৌচাক দিয়ে প্রথম মধু চাষের সূচনা করলেও বর্তমানে আদমপুর ও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাঁও, কানাইদাশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরানবাড়ি, নয়াপত্তনসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক লোক মধু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানকার চাষিদের উৎপাদিত মধু মৌলবীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন কি প্রবাসীরাও মধু কিনে বিদেশ নিয়ে যাচ্ছেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজ মধু, দাশকুলি মধু, মাছি মধু, ঘামি মধু ও মধু মালতি এই পাঁচ জাতের মধুর উৎপাদন হলেও এ উপজেলায় দাশকুলি মধুর বাক্স (অ্যাপিস সেরেনা) স্থাপনের মাধ্যমে মধু চাষ হয়। প্রতিটি বাড়িতে ২-৩টি করে মধু উৎপাদনকারী কাঠের বাক্স স্থাপন করা আছে। এসব বাক্স থেকে বছরে তিন থেকে চারবার মধু সংগ্রহ করেন চাষিরা। স্বল্প খরচে এক একটি বাক্স থেকে ২৫-৩০ কেজি মধু আহরণ করা হয়। বছরে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে চাষিরা জনপ্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। সে হিসাবে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করছেন তারা। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। আর এই মধু চাষের কারণে তাদের ঘরে এখন আর অভাব-অনটন নেই। প্রতিটি পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম মধুচাষি কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তিনি রাজকান্দি পাহাড় থেকে পাহাড়ি মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ একটি রানি মৌমাছি ধরা পড়ে। তিনি রানী মৌমাছিকে তার বাড়ি নিয়ে এসে একটি বাক্সে রেখে দেন। পরে বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হয়। কয়েক দিন তিনি দেখেন মৌমাছিরা সেখানে মধু আহরণ করেছে। তখন থেকেই তিনি মধু সংগ্রহ শুরু করেন এবং ক্রমশ তা নেশায় ও পেশায় পরিণত হয়ে ওঠে। বর্তমানে ২০টি বাক্সে মধু সংগ্রহ করছেন তিনি। এই ২০টি বাক্স ছাড়াও পাহাড় থেকে মৌমাছি ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করেন। তার এই মধু চাষের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্যরা মধু চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

আজাদ মিয়া বলেন, মধু চাষের চেয়ে উন্নতমানের আর কোনো চাষাবাদ নেই। অল্প খরচেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। মধু চাষে শুরুতে শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। এক একটি বাক্সে বছরে চারবারে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ৮শ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

মধুচাষি মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুল মিয়া, মাওলানা মছব্বির, জমসেদ মিয়াসহ অনেকে বলেন, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের চেষ্টায় তারা মধু চাষ করছেন। সরকারি উদ্যোগে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা হলে আরও অধিক মধু উৎপাদন সম্ভব হতো। চাষিরা দামও বেশি পেতেন।

কমলগঞ্জ মধুচাষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শিক্ষক আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এলাকায় মধু চাষের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এই এলাকায় মধু চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে পুঁজির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হলে মধু চাষে আরও বিপ্লব হবে।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা মধু চাষের চিহ্নিত জোন হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষত আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মধু চাষে একটা ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে। এখানে একটি স্থায়ী মধু চাষ উন্নয়নে বিসিক বা সরকারের উদ্যোগে স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, মধুচাষিদের বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা মধু চাষ করতে পারছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো কাটা-মাড়াই। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ধানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে অর্ধেক ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন কৃষকরা। অপরদিকে কৃষি অফিস থেকে কোন পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, লোকসান ঠেকাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই। ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ বছর ইবি-বোরো রোপণের সময় থেকে কয়েক দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। গাছ থেকে ধান বের হওয়ার সময় শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দেখা দেয় পোকার আক্রমণ। কোনভাবেই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার চকচাপাই গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিবিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর প্রতিবিঘায় ফলন হয়েছে ১৫-১৭ মণ। যেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ২৫-৩০ মণ। বর্তমানে বাজার দর ৬০০-৬৫০ টাকা। ফলে ধান উৎপাদনের খরচই উঠবে না।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

শৈলগাছী গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ ও চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক হাসান মোল্লা বলেন, ‘পরামর্শ নেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কোন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বছর আমাদের লোকসানে পড়তে হবে।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় চার শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে কোন সময় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ
চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ (ফাইল ছবি)

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য দেয়া ঋণের জামানত গ্রহণে নমনীয় হতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ/বিনিয়োগ পুনঃতফসিল প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে বর্ণিত ‘চামড়া ব্যবসায়ী’ বলতে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকে বোঝাবে।

আসন্ন কোরবানিতে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে কাঁচা চামড়া ক্রয় করতে সক্ষম হয় সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ৫ জুলাই (রোববার) কোরবা‌নির কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ী‌দের ব্যাংক ঋণে বিশেষ সু‌বিধা প্রদানের বিষয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সু‌বিধার কথা বলা হয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ২ শতাংশের বেশি হলেও এর কমে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে না। তবে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে নতুন করে ঋণ আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক।

বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলা‌রে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২০ তারিখ ভিত্তিক ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদে আদায় সাপেক্ষে পুনঃতফসিলের বিষয়ে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবে আদায়কৃত কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না।

>> ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদান করা যাবে।

>> কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।

>> কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট গ্রহণের শর্ত শিথিল করা যাবে।

৩০ জুলাই, ২০২০ তারিখের মধ্যে স্ব-স্ব ব্যাংকের কাছে এ সার্কুলারের আওতায় ঋণ গ্রহীতাদের তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com