আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

আমাদের দেশে কাঁকড়ার চাহিদা না থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হয়। তখন কতিপয় রফতানিকারক নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খুলনা অঞ্চল থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে সেসব দেশে পাঠাতেন।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর চাহিদা ও মূল্য বাড়ায় চিংড়ি চাষীদের মাঝে কাঁকড়া চাষ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে। বিগত বছরগুলোতে এদেশ থেকে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ মেট্রিক টন কাঁকড়া তাইওয়ান, কোরিয়া, হংকং, চীন প্রভৃতি দেশে রফতানি হয়। কাঁকড়া চাষের সুবিধা হচ্ছে, এতে পরিশ্রম তেমন নেই, উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এ খাত থেকে রফতানি-আয়ের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

সম্প্রতিক উপকূলবাসীর মধ্যে কাঁকড়ার উচ্চ বাজারমূল্য নতুন আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় নদী ও সংলগ্ন খালসমূহে চিংড়ি পোনা সংগ্রহকারীদের জালে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়ার পোনা ধরা পড়ে। তাছাড়া জোয়ারের পানিতে কাঁকড়ার পোনা চিংড়ির ঘেরে প্রবেশ করে সেখানে বড় হয়। ফলে চিংড়ির সাথে বাড়তি সম্পদ হিসেবে প্রচুর কাঁকড়াও পাওয়া য়ায়। রফতানি বাণিজ্যে স্থান করে নেয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে কাঁকড়া চাষের ব্যাপকতা শুরু হয়েছে। কাঁকড়া রফতানি ক্রমান্বয়ে বাড়ায় বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়ার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের মাড ক্রাব বা শীলা কাঁকড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও বেশি মূল্য, প্রাকৃতিক উৎসে পোনার প্রাচুর্যতা, কম সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ ইত্যাদি কারণে উপকূলীয় চাষীদের কাছে কাঁকড়া চাষ ও ফ্যাটেনিং ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

চাষ ও উৎপাদন কৌশল

বাংলাদেশে কাঁকড়া চাষ ও ফ্যাটেনিং পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরণের ওপর নির্ভরশীল। চাষের ব্যাপকতা বাড়ার সাথে সাথে বেশি মুনাফা লাভের আশায় প্রাকৃতিক উৎস থেকে নির্বিচারে মা কাঁকড়া, পোনা এবং অপরিপক্ক ছোট কাঁকড়া আহরণের প্রবণতা বাড়ছে। তাই কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত প্রাকৃতিক উৎস থেকে নির্বিচারে অপরিপক্ক বা ছোট কাঁকড়া ধরার প্রবণতা রোধ করার জন্য এর পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। অপরিপক্ক ও ছোট কাঁকড়া আহরণের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ক্রমবর্ধমান কাঁকড়া শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঁকড়া চাষকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল রাখতে হলে চিংড়ির ন্যায় হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন প্রয়োজন।

বর্তমানে কাঁকড়া চাষের চেয়ে ফ্যাটেনিং করে বাজারজাতকরণ বেশি লাভজনক। সাধারণত অপরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়া (অপরিপক্ক গোনাড এবং ওজন ১৭০ গ্রামের নিচে) এবং অপুষ্ট পুরুষ কাঁকড়া (কম মাংসল এবং ওজন ৩৫০ গ্রামের নিচে) বিদেশে রফতানি হয় না। এগুলো স্থানীয় বাজারে খুব কম দামে বিক্রি হয়। এ জাতীয় কাঁকড়াসমূহ উপযুক্ত পরিবেশে ২-৪ সপ্তাহ লালন-পালন করে গোনাড পরিপক্ক বা মাংস পরিপুষ্ট করাকে ফ্যাটেনিং বলা হয়।

পুকুর নির্বাচন

কাঁকড়ার জন্য দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। পুকুরের আয়তন ০.১-১.০ হেক্টর হলে ভালো। আয়তন কম হলে কাঁকড়া মজুদ করতে সুবিধা হয়। তাছাড়া ব্যবস্থাপনার দিক দিয়েও সুবিধা। নদী বা সমুদ্রের কাছে হলে খুবই ভালো হয়। এতে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে পানি ওঠানামা করা যায়। পানি ওঠানোর জন্য গেট থাকা ভালো। পলায়নপর স্বভাবের জন্য প্রায় ১.৫ মিটার উঁচু বাঁশের বানা (পাটা) দিয়ে পুকুরের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। বানা প্রায় আধা মিটার মাটির নিচে পুঁতে দিতে হয়, যাতে কাঁকড়া পুকুরের পাড় গর্ত করে পালিয়ে যেতে না পারে। মাটির পিএইচের ওপর ভিত্তি করে পাথুরে চুন গুঁড়া করে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মাটির পিএইচ ৭-৭.৫ এর মধ্যে থাকলে হেক্টরপ্রতি ১২৫ কেজি পাথুরে চুন দিতে হবে। চুন ছিটানোর পর জোয়ারের পানি তুলতে হবে এবং সাত দিন পর হেক্টরপ্রতি ৭৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) দিতে হবে। জৈব সার প্রয়োগের তিন দিন পর হেক্টরপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া এবং ১৫ কেজি টিএসপি সার প্রয়োগ করা হয়। অজৈব সার প্রয়োগের তিন-চার দিন পর পুকুরে কাঁকড়া মজুদ করা হয়।

কাঁকড়া মজুদ

মজুদ ও ফ্যাটেনিংয়ের জন্য প্রতিহেক্টর ঘেরে ১০ হাজারটি অপরিপক্ব স্ত্রী কাঁকড়া মজুদ করা যায়। কাঁকড়ার ওজন ১৮০ গ্রাম বা তার বেশি হলে ভালো হয়। কারণ এ ওজনের কাঁকড়ার দাম সবচেয়ে ভালো।

খাবার

মজুদের পর নিয়মিত খাবার দিতে হবে। খাবার হিসেবে শতকরা ২৫ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৭৫ ভাগ গরু-ছাগলের ভুঁড়ি অথবা শতকরা ৫০ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৫০ ভাগ বাগদা চিংড়ির মাথা (মাংসল অংশ) প্রতিদিন পুকুরে সরবরাহ করতে হবে। কাঁকড়ার দেহের ওজনের আট ভাগ হারে প্রথম সাত দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে পাঁচ ভাগ হারে খাবার সরবরাহ করতে হবে। ফ্যাটেনিংয়ের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি নয়, বরং গোনাডের পরিপুষ্টতাই মুখ্য। প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ মাংসল খাদ্য সরবরাহ করতে হয়, যা দ্রুত পচনশীল। তাই পুকুরের পানির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ করলেও পানি নষ্ট হতে পারে। পানির গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে এবং প্রয়োজনবোধে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সময় ৪-৭ দিন পানি পরিবর্তন করতে হবে।

আহরণ

কাঁকড়া মজুদের ১০ দিন পর থেকে দুই-তিন দিন পর পর কাঁকড়ার গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হয়। কাঁকড়াকে আলোর বিপরীতে ধরে দেখতে হবে যে, কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করে কিনা। যদি কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করতে না পারে তাহলে বুঝতে হবে গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে। বিপরীতে গোনাড পরিপুষ্ট না হলে কাঁকড়ার দুই পাশের পায়ের গোড়ার দিক দিয়ে আলো অতিক্রম করবে। সাধারণত গোনাড পরিপুষ্ট হলে পুকুরে পানি ওঠানোর সময় কাঁকড়া গেটের কাছে চলে আসে। পুষ্ট কাঁকড়া স্কুপনেট বা টোপ দিয়ে প্রলুব্ধ করে ধরতে হবে। কাঁকড়া সম্পূর্ণভাবে আহরণের জন্য পুকুরের পানি নিষ্কাশন করতে হবে। ধরার সঙ্গে সঙ্গে কাঁকড়াকে বিশেষ নিয়মে বেঁধে ফেলতে হবে। অন্যথায় কাঁকড়ার চিমটা পা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার দেবহাটায় কাঁকড়া চাষ বা ফ্যাটেনিং বহুল প্রচলিত।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

১. কৃত্রিমভাবে কাঁকড়ার ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করা, যাতে কাঁকড়া মজুদের সময় জোগান স্বাভাবিক থাকে।
২. ৪০-৮০ গ্রামের জুভেনাইল কাঁকড়াগুলোকে বাজারে সরাসরি (দালালের মাধ্যমে নয়) বিক্রিযোগ্য করে তোলা।
৩. প্রতিবছর শীতকালীন অস্থায়ী বাজার তৈরী হয় বিভিন্ন খালের মুখে, সপ্তমুখীর কাছে। বাজার মানে দু-তিনটি নৌকা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। এসব নৌকার কাঠের পাটাতনের তলায় বরফ রাখা থাকে। ভয় সাথে নিয়ে সারাদিন সারারাত খাঁড়িতে বসে কাঁকড়া ধরে, তারপর অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে নৌকাশুদ্ধ কাঁকড়া বিক্রি করে দেয়। অন্যান্য মাছ ধরা নৌকাগুলোও তাদের মাছ এখানে বিক্রি করে। এখান থেকে দালালদের মাধ্যমে রুপালি ফসল পৌঁছায় বাজারে। জীবনের কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই এই মধ্যবর্তী বিক্রেতারা প্রকৃত মাছমারাদের থেকে দ্বিগুণ লাভ লুটে নেয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দিয়ে তাদের বাজার যাতে তৈরী করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৪. সদ্য খোলস ছাড়া কাঁকড়া যা ওয়াটার ক্র্যাব নামে পরিচিত এবং অপরিণত স্ত্রী কাঁকড়াগুলোকে প্রজনন অবস্থা পর্যন্ত পালন করা বা ফ্যাটনিং করার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা।
৫. রফতানিযোগ্য কাঁকড়াগুলোর সঠিক বাজারের ব্যবস্থা করা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বাজার, রাস্তা ও মিষ্টি জলের ব্যবস্থা আরও রফতানিকারকদের ডেকে নিয়ে আসবে।
৬. জীবিত অবস্থায় ও প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় কাঁকড়ার সঠিক রফতানির ব্যবস্থা করা। এর জন্য ছিদ্রছাড়া এবং ছিদ্রযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রয়োজন ছোট ছোট দ্বিচক্রযান, যা কিনা শুধু এই ফসল পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে তৈরী করা।

বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ
বেকারত্ব দূর করবে কাঁকড়া চাষ

চাষের সতর্কতা

১. কাঁকড়া চাষের পুকুরের তলায় জমে থাকা বিষাক্ত ক্ষতিকর গ্যাস শুঁষে নেয়ার জন্য উপযুক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে। জিওলাইট প্লাস দিতে হবে প্রতিটি ফ্যাটিনিং চাষের পর। এরা যেহেতু জীবিত খাবার এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার খায় ফলে খামারের তলায় অভুক্ত খাবার থেকে গ্যাস তৈরী হতে পারে। উপযুক্ত রাসায়নিক দিয়ে সেই অবাঞ্ছিত গ্যাসকে শোষণ করা সম্ভব হবে। প্রতি দু’বার ফসল তোলার পর পুকুরের তলায় জমে থাকা পলি তুলে ফেলে পাথুরে চুন দিয়ে সাত দিন পুকুরে ফেলে রাখার পর আবার পানি ঢোকাতে হবে।

২. কাঁকড়া গর্ত কেটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। এই স্থানান্তর এড়াতে স্লুইস গেটসহ খামারের চারদিকে বাঁশের পাটা ও নাইলন জালের বেড়া দিতে হবে, যা মাটির নিচে অন্তত ২ ফুট এবং মাটির উপরে অন্তত ৩ ফুট থাকে। প্লাাস্টিক সীট পাড়ের ওপর দিয়ে তার ওপর মাটি দিয়ে পাড় তৈরী করলেও কাঁকড়া পাড় ফুটো করে চলে যেতে পারবে না।

যেহেতু কাঁকড়া একে অপরকে খেয়ে ফেলতে পারে- এ প্রবণতা এড়াতে নিয়মিত অতিরিক্ত খাদ্যের যোগান রাখা জরুরি। খোলস যত তাড়াতাড়ি শক্ত হবে ততই বিক্রয় উপযোগী হবে, সে কারণে পানির গুণাগুণ উপযুক্ত মাত্রায় রাখা জরুরি। খামারে নরম কাঁকড়াগুলোর প্রয়োজনীয় লুকানোর জায়গা রাখা জরুরি। ভাঙা পাইপ, অব্যবহৃত টায়ার ইত্যাদি ব্যবহৃত হতে পারে লুকানোর আস্তানা হিসেবে, ১৫ সেমি ব্যাসার্ধের লম্বা পাইপের টুকরাগুলো খামারের তলদেশে ছড়িয়ে রাখতে হবে। খামারের মাঝখানে উঁচু মাটির ঢিবি বানিয়ে তাতে লবণাম্বু উদ্ভিদের কিছু চারা যেমন বাণী, হেঁতাল, গেঁওয়া লাগালে কাঁকড়া যেমন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তেমনি পানির অতিরিক্ত খাদ্য শোষণ করে নিয়ে জলকে দূষণমুক্ত রাখে। কাঁকড়া বিক্রিযোগ্য হলে গোণ বা কোটালের সময় আঁটেলি বসিয়ে তা ধরা যেতে পারে অথবা দোন লাগিয়েও ধরা হয়।

কাঁকড়া পরিবহন

কাঁকড়া বাজারে নিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটিকে বাঁধা হয় সরু নাইলন বা প্লাস্টিকের দড়ি অথবা ভেজা খড় দিয়ে, তার পরে ঝুড়িতে রাখা হয়। ঝুড়িগুলো ভেজা চটে বস্তা চাপা দেয়া থাকে। যাতে জলীয়ভাব বজায় থাকে। এই ধরনের ঝুড়িতে যত বেশি বাতাস চলাচল করবে, তত বেঁচে থাকার হারও বাড়বে। পরিবহনের সময় জলীয়ভাব ঠিক রাখতে পারলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত কাঁকড়াগুলো বেঁচে থাকে। সর্বোপরি পরিবহনের সময় কখনই সরাসরি সূর্যের আলো না পড়াই ভালো। ৫০ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের একটি ঝুড়িতে প্রায় ৩০০-৫০০ গ্রাম কাঁকড়া (যার ক্যারাপেস ২.৫ সেমি চওড়া) পরিবহন সম্ভব। যেহেতু শ্যাওলা বা ঝাঁঝি পচনশীল তাই অনেকসময় দূরবর্তী স্থানে ১০০% জীবিত পরিবহনের স্বার্থে মোহনার জলে তুলা ভিজিয়ে কাঁকড়া পরিবহনের ঝুড়িতে দিলে কাঁকড়ার নড়াচড়াও বন্ধ হবে। ভিজে কাঠের ভুষি প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায়। কাঁকড়া রফতানির ক্ষেত্রে ৫০-১২০ মিমি চওড়া তার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আহরণের পর খোলামুখ পাত্রে ২০-৫৩ কিমি সড়কপথে পরিবহন করে ৫৫-১০০% বাঁচার হার লক্ষ্য করা গেছে।

কাঁকড়ার পুষ্টিগুণ

কাঁকড়ার মোট ওজনের ৩৬-৩৮% দাঁড়ি ও পা, ২২-২৪% খোলস, দেহের বাকি অংশে পাওয়া মাংস ২৯-৩৬%। আবার দাঁড়ি ও পায়ের মধ্যে মাংসের পরিমাণ ৩৩-৪২%, যা পুরোটাই মাংসজ প্রোটিন হিসেবে খাওয়ার যোগ্য। মাংসের মধ্যে ভালো মাত্রায় প্রোটিন ও মুক্ত আমিনো অ্যাসিড আছে। প্রসেসিং সেন্টারে পাওয়া কাঁকড়ার খোলস থেকে যে সমস্ত ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পাওয়া যায় সেগুলো হলো- কাইটিন, কাইটোসান এবং গ্লুকোজ আমিনো হাইড্রক্লোরাইড বিশ্বের বাজারে যার মূল্য অপরিসীম। কাইটিন একটি প্রাকৃতিক জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা বিভিন্ন প্রাণির (চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদির) বহিঃকঙ্কালে (খোলস) প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে। জাপানে কাইটিন খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা বাড়াতে, বার্ধক্য বিলম্বিত করতে, আরোগ্য লাভের পথে এবং জৈবছন্দ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

এগ্রোবিজ

ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

এ বছর ভোলায় গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি আবাদ হয়েছে তরমুজ। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া এলাকার ক্ষেতগুলোতে তরমুজের ব্যাপক সমারোহ। আকার বড় ও ফলন ভালো হওয়ায় ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অন্যদিকে ভোলার বাজারগুলোতে তরমুজ বেচাকেনা জমে উঠেছে।

ভেলুমিয়া এলাকার তরমুজ চাষি হারুন ব্যাপারী বলেন, ‘আমি গত ১৫ বছর ধরে এ গ্রামে তরমুজ চাষ করছি। এ বছর চার একর জমিতে চাষ করি। এতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতে ফসল ভালো হয়েছে। আশা করি অনেক লাভবান হবো।’

ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মনির রাঢ়ি বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকার তরমুজ পাইকারি বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমাণ ফসল আছে, তাতে ২ লাখ টাকার মতো তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

বোরহানউদ্দিন উপজেলার চর লতিফ এলাকার তরমুজ চাষি ইসমাইন মিয়া বলেন, ‘এ বছর প্রথম দিকে তরমুজের পাইকারি বাজার অনেক চড়া ছিল। দামটা যদি আরও কিছুদিন থাকে, তাহলে এবার তরমুজ চাষিরা তিন-চারগুণ লাভবান হবে।’

ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত বছর জেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমি। বৃষ্টির কারণে আবাদ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর। তরমুজ উৎপাদন হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন। এ বছর তরমুজের আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৪৯১ হেক্টর। যা গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি। উৎপাদনও তিনগুণ হবে বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের আবাদ তিনগুণ হয়েছে। বর্তমানে বাজারও অনেক ভালো রয়েছে। কৃষকরা গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার দ্বিগুণ লাভবান হবে। আগামীতে অনেক কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।’

ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ভোলায় তরমুজের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ভোলার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্তকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক সময়ে কৃষকরা আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ক্ষেতে সঠিক ওষুধ ব্যবহারের ফলে ক্ষেতে কোন প্রকার পোঁকা-মাকরের আক্রমণ হয়নি। এছাড়া তরমুজের আকার বড় করে বেশি লাভবান হওয়ার জন্য কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ঘাসেই মিললো কোটি টাকা!

ঘাসেই মিললো কোটি টাকা
ঘাসেই মিললো কোটি টাকা

ঘাসেই মিললো কোটি টাকা! শুনলে কেমন অবাক লাগে, তাই না? ভেবে থাকতে পারেন, মাঠ বা পথের ঘাসে হয়তো কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আসলে কিন্তু তা নয়। আসল কথা হচ্ছে- ঘাস চাষ করেই কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এক কৃষক।

তার সন্ধান পাওয়া গেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রামে। তার নাম আ. গফুর শেখ। অক্লান্ত পরিশ্রম করে নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষে সফল হয়েছেন তিনি। তিনি জাতীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন।

media

আ. গফুর জানান, ২০০৪ সালে পলাশবাড়ীর দুলু মিয়ার কাছে নেপিয়ার জাতের ঘাসের কথা শুনে চারা সংগ্রহ করে পাঁচ শতক জায়গায় লাগান। পাশাপাশি স্থানীয় সমিতি থেকে ৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি গাভী কেনেন। এরপর গাভীটি একটি বাছুর দেয়। সেই ঘাস বড় হলে গাভীকে খাওয়ান। ফলে গাভীর দুধও বাড়তে থাকে। আবার ঘাস বিক্রি করেও টাকা পান।

এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি। ২০ বিঘা জমিতে এই ঘাস চাষ করেন। এরমধ্যে ৮ বিঘা নিজের কেনা এবং ১২ বিঘা ইজারা নেওয়া। ঘাস চাষে একবিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে খরচ বাদে বিক্রি করে আয় হয় ১ লাখ টাকা!

ঘাসেই মিললো কোটি টাকা
ঘাসেই মিললো কোটি টাকা

এভাবেই ২০ শতক জমিতে আধাপাঁকা ঘর তৈরি করেন। খামারে আনেন উন্নত জাতের ২২টি গাভী। এরমধ্যে কয়েকটি গাভী দুধও দিচ্ছে। সেই দুধ বিক্রি করে আয় হচ্ছে। ঘাসের জমিতে পানি সেচের মেশিনও রয়েছে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করেন।

তার এ কাজের জন্য কর্মচারি রয়েছে ৩ জন। তাদের প্রতিজনের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা। তারা প্রতিদিন জমি থেকে ঘাস কেটে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। এছাড়াও নিজস্ব সৌর বিদ্যুৎ, ২টি মোটরসাইকেল এবং ৫টি ভ্যান রয়েছে গফুরের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে

 গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে
গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে

প্রাণিজ আমিষের বড় একটা অংশ আসে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। প্রায় অর্ধকোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এ শিল্পের সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। গরমকাল এ পোল্ট্রি খামারের বিশেষ যত্ন না নিলে কমে যেতে পারে ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি এবং লেয়ার খামারের ডিম সংখ্যা। সে কারণেই নিচের টিপসসমূহ জেনে নিন-

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব
ঘর্মগ্রন্থি না থাকার কারণে মোরগ-মুরগির অতিরিক্ত গরম অসহ্য লাগে। এতে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত তাপে এদের পানি গ্রহণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার, রক্তচাপ, নাড়ির স্পন্দন, রক্তে ক্যালসিয়ামের সমতা, খাদ্য গ্রহণ, শরীরের ওজন ও ডিমের উৎপাদন হ্রাস পায়। ১৫ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এদের উৎপাদন সর্বোচ্চ। ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শতকরা ৪ ভাগ হারে পানি গ্রহণ বৃদ্ধি পায়। ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পর থেকে ডিমের সংখ্যা না কমলেও প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ডিমের ওজন শতকরা এক ভাগ হারে কমে যায়। ২৬.৫ সেলসিয়াস ডিগ্রি তাপমাত্রার পর থেকে মোরগ-মুরগির খাদ্যের রূপান্তর ক্ষমতা হ্রাস পায়। ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্রতি ডিগ্রি তাপ বৃদ্ধিতে ২ থেকে ৪ শতাংশ খাবার গ্রহণ কমে যায়। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মোরগ-মুরগির জন্য অসহনীয় এবং ৩৮ ডিগ্রির পর মৃত্যু হার খুব বৃদ্ধি পায়।

তাপজনিত ধকল প্রতিরোধ
খামারের আশেপাশে ছায়াযুক্ত বৃক্ষ রোপণ এবং ঘর পূর্ব-পশ্চিমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় বায়োসিকিউরিটির কথা চিন্তা করে গাছপালা রোপণের প্রতি অনুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। গরমে পোল্ট্রি শেডে প্রত্যক্ষ সূর্যালোক পরা যাবে না। অত্যধিক গরম প্রতিরোধে প্রয়োজনে শেডের ছাদে বা টিনের চালায় দিনে দু’তিন বার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টিনের নিচে চাটাই বা হার্ডবোর্ড দিয়ে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক সময় মুরগি যখন হাঁ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় তখন ঘরে সেপ্র মেশিন দিয়ে কুয়াশার মত করে পানি ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। পানির ড্রিংকার ও ফিডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ঘন ঘন ড্রিংকারের পানি পাল্টাতে হবে। গরমে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শেডের মেঝে অনেক সময় স্যাঁতসেঁতে হয়ে লিটার দ্রুত ভিজে যায়। ফলে রোগের আক্রমণও বাড়ে। সেজন্য প্রতিদিন সকালে ব্রয়লার শেডের লিটার উলোট-পালোট করা প্রয়োজন। লিটারে গুঁড়ো চুন ব্যবহার করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। শেড থেকে শেডের দূরত্ব ৩০ ফুটের বেশি হলে ভালো হয়। শেডে মোরগ-মুরগির ঘনত্ব বেশি হলে তা কমিয়ে দিতে হবে। বাতাসের অবাধ চলাচল শেডের ভেতরের তাপমাত্রা শীতল রাখতে সাহায্য করবে এবং পোল্ট্রির জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাসমুক্ত রাখবে। শেডে স্টেন্ড ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।

খাবার ব্যবস্থাপনা
ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। যেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এদের খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, সেহেতু প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ৮ থেকে ১০ ভাগ শক্তি কমিয়ে প্রোটিন, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১০-১২ গ্রাম গ্লুকোজ ও মুরগি প্রতি ১০ গ্রাম ভিটামিন সি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক বিটেইনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আছে যা কোষের মধ্যে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হিট স্ট্রোকের হাত থেকে এরা রক্ষা পায়। গরমে পোল্ট্রির অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা বেড়ে যায়। বিটেইনে মিথাইল মূলক বিদ্যমান, যা মিথিওনিন ও কলিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। গরমে প্রয়োজনে একদিনের বাচ্চার জন্য পানিতে আখের গুড়, ভিটামিন-সি অথবা ইলেকট্রোলাইট যুক্ত স্যালাইন পানি দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

 সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প
সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

আসাদুজ্জামান সোহাগ একজন সফল উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম করে আজ তিনি গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাকে দেখে অনেক যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে উৎসাহ পাচ্ছেন।

জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছেলে আসাদুজ্জামান সোহাগ। ২০০১ সালে তিনি কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসনে কলেজ থেকে বি.কম পাস করে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্সি ও দালালের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেন। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরে দেশেই চাকুরির চেষ্টা করেন। তাতেও বিফল হয়ে হতাশায় ভুগতে থাকেন।

সবশেষে কোন উপায় না দেখে বড় ভাই ও বাবা-মায়ের পরামর্শে ৪ বিঘা জমিতে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু লাভ আশানুরূপ না হওয়ায় তাতে আরও হতাশ হয়ে পরেন। পরবর্তীতে এক বন্ধুর পরামর্শে মাদারীপুর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদীপশু, হাস-মুরগি পালন, মৎস চাষ এবং কৃষি বিষয়ে ২ মাস ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নেন।

প্রশিক্ষণ শেষে বাবার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে আরও একটি পুকুর খনন করেন। ২টি পুকুরে মাছ চাষ ও পুকুর পাড়ে শাক-সবজির চাষ শুরু করেন। এবার ভালো লাভ হওয়ায় ওই লাভের টাকা দিয়ে আরেকটি পুকুর খনন করেন। পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ফলের গাছ রোপণ এবং পরবর্তীতে ১ হাজার ১০০ মুরগির একটি লেয়ার পোল্ট্রি খামার স্থাপন করেন। এতেও ভালো লাভ হওয়ায় আরো ২টি পুকুর লিজ নিয়ে ১ হাজার ৩০০ লেয়ার মুরগির শেডের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

 সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প
সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুরুতে আমি তিন লাখ টাকা দিয়ে কাজ আরম্ভ করি। বর্তমানে আমার ৮৫ লাখ টাকা মূলধন আছে। আমার প্রকল্পে ১০ জন বেতনভুক্ত কর্মচারী আছে। এরমধ্যে ২ জন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রকল্প দেখে আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকার ১১ বেকার যুবক আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।’

মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুব উন্নয়ন থেকে গবাদীপশু, হাস-মুরগি পালন, মৎস চাষ এবং কৃষি বিষয়ে ২ মাস ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসাদুজ্জামান সোহাগ কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে সে খুব অল্প সময়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পান।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ অন্যতম। দেশের চাহিদার মোট ১৪ ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় রাজবাড়ীতে। তাই জেলাসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করতে কৃষকরা পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের চাষ বাড়িয়েছেন।

পেঁয়াজের এ বীজকে ‘কালো সোনা’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। উৎপান ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বীজ চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই জেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষ বাড়ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে ৩০৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে বীজ চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক লিটন শেখ জানান, চার বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন এবং প্রতি বছর তিনি পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন। চাষ, সার-বীজ এবং কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৫-৬ মণ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

এ বীজ ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করবেন বলে তিনি মনে করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে তার। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে তিনি ভালো লাভবান হয়েছেন। আগামীতে তিনি আরও জমিতে বীজের চাষ করবেন।

জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর তিন-চার হাজার টাকা, আর মণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে ফলন পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করে থাকেন।

কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ বীজের উচ্চমূল্য এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তারা দিনদিন বীজের চাষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া বীজের চাষ করে ক্ষেত থেকে যে পেঁয়াজ পান, তা থেকে বীজ চাষের খরচ উঠে আসে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে। এ বীজ চাষ করে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই লাভ হয়ে থাকে। বীজ চাষে কৃষকদের এসএমই চাষি হিসেবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বীজের ক্ষতি না হলে উৎপাদনও ভালো হবে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা বীজের আবাদ বাড়িয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com