আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

বুদ্ধদেব বসুর পঞ্চপদী

বুদ্ধদেব বসুর রন্ধন প্রণালি অনুসরণে ইলিশের চারটি পদ রান্না করেছেন রান্ধনশিল্পী মাসুমা আলী রেখা

ইলিশ মানেই বাঙালির উৎসব। ইলিশ মানেই কাব্য, গল্পগাছার আসর। ইলিশ নিয়ে কাব্যকথায় ভূতপূর্ব পূর্ব বাংলার লেখকেরা যে কথার ইন্দ্রজাল তৈরি করে গেছেন, তার তুলনা নেই। আদর্শ উদাহরণ সিলেটের মানুষ সৈয়দ মুজতবা আলী। টিলা, কমলালেবু আর হাওড় এলাকার মানুষ আলী সায়েব যখন ইলিশ নিয়ে বাংলা সাহিত্য মাতিয়েছেন, তখন পদ্মার তীরের বিক্রমপুরে বড় হওয়া বুদ্ধদেব বসু বাদ যাবেন কেন?

কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া বুদ্ধদেব বসুর প্রথম জীবন কেটেছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, বিক্রমপুর ও ঢাকায়। এ ছাড়া পূর্ব বাংলার বিভিন্ন এলাকায় তিনি কাটিয়েছেন জীবনের প্রথম ভাগের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ফলে তাঁর জীবনে ইলিশের প্রভাব থাকবে, রসনাস্মৃতিতে ইলিশের গল্প থাকবে, এটা স্বাভাবিক। পূর্ববঙ্গের মানুষ বলেই বুদ্ধদেব বসুর জীবনে এ বঙ্গের প্রকৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রগাঢ় ভূমিকা আছে। আর সে জন্যই তিনি ইলিশকে বলতে পারেন ‘জলের উজ্জ্বল শস্য’ কিংবা ‘রজতবর্ণ মনোহরদর্শন মৎসকুলরাজ মহান ইলিশ’। পূর্ববঙ্গের লোক, আরও নিবিড়ভাবে বলতে গেলে বিক্রমপুরের মানুষ হিসেবে তিনি সার্থক চিত্রকল্পই এঁকেছেন ইলিশের।

ইলিশ খেতে হবে, এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের ইলিশ সংস্কৃতির গোড়ার কথা। তবে তার মধ্যেও আভিজাত্য ছিল এবং আছে। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস ‘স্ক্রিন’ ভাগাভাগি করতে রাজি হলেও, অন্য কিছুর সঙ্গে ইলিশের ‘স্ক্রিন’ ভাগাভাগি করতে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই রাজি নয়। আর সে জন্যই ইলিশকে শুধু ‘ইলিশ’ নামেই ডাকা হয়, সঙ্গে মাছ জুড়ে দিয়ে ‘ইলিশ মাছ’ বলার চল এ দেশে প্রায় নেই। পাতেও তাই। ইলিশ খাওয়া হবে তো শুধু ইলিশ, অন্য কিছু তার সঙ্গে অস্পৃশ্য। দময়ন্তী বসু সিং আমাদের জানিয়েছেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বুদ্ধদেব বসু ‘ভোজনে বাঙালি’ ছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্না চেখে দেখার পরও বুদ্ধদেব তৃপ্ত হতেন ‘চিরাচরিত বাঙালি খাদ্যে।’ খানাখাদ্যে এই বিপুল ‘বাঙালিত্বে’র কারণেই হয়ত ইলিশের ‘পঞ্চপদী’র কথা বুদ্ধদেব বসু ছাড়া কেউ বলেননি।

পঞ্চপদী মূলত বাংলাদেশের ইলিশ সংস্কৃতিরই ভিন্ন ব্যঞ্জনা। মাথা, লেজ, পেটি, তেল এবং ডিমও হতে পারে পঞ্চপদীর এক ধরন। আবার হতে পারে ইলিশের নির্দিষ্ট পাঁচ পদ। পঞ্চপদীর অর্থ দেশের একেক অঞ্চলে একেক রকম। ইলিশ রান্নায় বিক্রমপুরের বিশেষ খ্যাতি আছে। শুধু তাই নয়। বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতির জগতে ‘তারকা খ্যাতি’ পাওয়া একাধিক খাবারের উৎসভূমি বিক্রমপুর। পদ্মার তীরবর্তী এ জনপদ ইলিশ রান্নাতেও অনন্যসাধারণ। বুদ্ধদেব ছিলেন সে অঞ্চলের মানুষ। ফলে তাঁর বলে যাওয়া ইলিশ রান্নায় বিক্রমপুরের স্বাদ পাওয়া যায়।

ইলিশের মুড়ো ও লেজের সঙ্গে লাউ

উপকরণ

ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ ছোট করে কাটা, মাথার দুপাশের অংশ হালকা ভেজে রাখা দুই টুকরা, অর্ধেকটা কচি ছোট লাউ তিনকোনা করে কাটা, গরম পানি ১ কাপ, হলুদ পরিমাণমতো, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচবাটা এক চিমটি, জিরাবাটা আধা চামচ, শর্ষের তেল ১ টেবিল চামচ, কালিজিরা ১ চিমটি, কাঁচা মরিচ দুই ফালি করা।

প্রণালি

কড়াইয়ে শর্ষের তেল দিয়ে কালিজিরা ফোঁড়ন দিয়ে জিরাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, লবণ ও হলুদ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। এরপর ভেজে রাখা মাথা ও লেজের অংশ ছেড়ে নাড়তে হবে। লাউ দিয়ে দুই মিনিট কষিয়ে এক কাপ গরম পানি দিতে হবে। হালকা আঁচে রেখে লাউ সেদ্ধ হয়ে এলে একটু সবুজাভ রং থাকতে থাকতেই কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

ঝরতি পড়তি কাঁটার মুগডাল

উপকরণ

ইলিশ মাছের মাথা, গলার অংশ, লেজের টুকরা ছোট করে হলুদ–লবণ দিয়ে ভেজে রাখা, মুগডাল ২৫০ গ্রাম (হালকা ভেজে সেদ্ধ করে রাখা, হলুদ আধা চা–চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা–চামচ, তেজপাতা ২-৩টি, জিরাবাটা ১ চা–চামচ, গরম পানি ৩ কাপ পরিমাণ, দারুচিনিগুঁড়া আধা চা–চামচ, শুকনা লালমরিচ তিন–চারটি ফালি করে রাখা, ঘি ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি

কড়াইয়ে ঘি দিয়ে তেজপাতা ও লাল শুকনা মরিচ ফোঁড়ন দিতে হবে। একে একে মরিচের গুঁড়া, লবণ, ধনেগুঁড়া ও জিরাবাটা দিয়ে কষাতে হবে। মাছ ও সেদ্ধ ডাল ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে গরম পানি দিয়ে ফুটতে দিতে হবে। হয়ে এলে ঘন করে নামাতে হবে। নামানোর আগে ঘি ও দারুচিনিগুঁড়া ছড়িয়ে নামাতে হবে। সবশেষে মরিচ ছড়িয়ে দিতে হবে।

কাঁচা কুমড়াযোগে কালিজিরা ছিটানো পাতলা ঝোল

উপকরণ

ইলিশ মাছের গাদা, পেটি, কাঁচা কুমড়া, কাঁচা মরিচ, কালিজিরা, মরিচ-হলুদবাটা, শর্ষেবাটা, শর্ষের তেল ও লবণ।

প্রণালি

ইলিশ মাছের গাদা-পেটিতে লবণ ও হলুদ মেখে হালকা করে সাঁতলে রাখতে হবে। কাঁচা মরিচ ও লবণ দিয়ে শর্ষে বেটে রাখতে হবে। এরপর তেল গরম করে তাতে কাঁচা মরিচ ও কালিজিরা ফোঁড়ন দিতে হবে। ভাজা গন্ধ বেরোলে মরিচ ও হলুদবাটা সামান্য পানিতে গুলে ঢেলে নিতে হবে। অল্প কষিয়ে লবণ ও পরিমাণমতো পানি দিতে হবে। পানি ফুটতে শুরু করলে শর্ষেবাটা ও টুকরা করে কাটা কাঁচা কুমড়া দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে। কুমড়া সেদ্ধ হয়ে এলে ইলিশ মাছ ও কাঁচা শর্ষে তেল দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ চুলোয় রেখে নামিয়ে নিতে হবে।

কলাপাতায় মোড়া পাতুরি

উপকরণ

বড় ইলিশের টুকরা (গাদা-পেটি একসঙ্গে) চারটি, শর্ষেবাটা (প্রতিটি পাতুরির জন্য) ১ চা–চামচ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা–চামচ, শর্ষে তেল ১ চা–চামচ করে, লবণ পরিমাণমতো, কলাপাতা চারটি বড় টুকরা, মোড়ানোর জন্য সুতা, স্টিমার (না থাকলে স্টিলের টিফিন বক্স)।

প্রণালি

প্রতিটি মাছ শর্ষের তেল, শর্ষেবাটা, কাঁচা মরিচবাটা ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মেখে কলাপাতা দিয়ে মুড়ে সুতা দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ভাপে দেওয়ার আগে আরও একটু তেল ছড়িয়ে দিতে হবে। স্টিমার অথবা স্টিলের টিফিন বক্সে দিয়ে, হাঁড়িতে পানি চড়িয়ে ৩০ মিনিট ভাপাতে হবে। এরপর গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।

দৈনন্দিন

যে ৫ সবজি খেলে ওজন কমবে

ওজন কমানোর প্রচেষ্টা করলে সবার আগে জানা জরুরি, কোন খাবারগুলো আপনার জন্য উপকারী, কোনগুলো নয়। ওজন বৃদ্ধির ভয়ে খাবারের তালিকা থেকে উপকারী খাবারগুলো বাদ দিয়ে দিলে মুশকিল। আবার এমন কিছু খাওয়া চলবে না, যেগুলো ওজন কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে তুলবে। অনেকে আবার ভুলভাল ডায়েট করে অসুস্থতা ডেকে আনেন। শরীরে সঠিক পুষ্টি পৌঁছানো সবার আগে জরুরি। তারপর আসে ওজন নিয়ন্ত্রণের পালা।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নজর দিন খাবারের থালায়। একগাদা ভাজাভুজি এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কমিয়ে ডিশ ভরাতে হবে শাক-সবজি ও ফলমূল দিয়ে। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে শাক-সবজির কথা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রকাশ করেছে এমন কিছু শাক-সবজির কথা যা খেলে ওজন কমবে দ্রুত-

পালংশাক
গাঢ় সবুজ রঙের এই শাক বিভিন্ন পুষ্টিগুলে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার। পালংশাকে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। পালং শাক শুধু যে ওজন কমাতে সাহায্য করে তাই নয়, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ এবং যেকোনো ধরনের ক্যা্সার প্রতিরোধেও এটি বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ব্রকলি
দেখতে অনেকটা ফুলকপির মতোই। স্বাদও প্রায় কাছাকাছি। তবে সবুজ রঙের এই সবজি নিজ গুণেই পরিচিত। ব্রকলি আমাদের খাবারের তালিকায় যোগ হতে শুরু করেছে। ব্রকলিকে নিউট্রিয়েন্ট পাওয়ারহাউস বলা যেতে পারে। এর ভেতরে প্রচুর ক্যাসলিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং আয়রন রয়েছে। ব্রকলিতে আছে প্রচুর ফাইবার এবং ক্যালোরি বেশ কম। তাইতো এই সবজি ওজন কমাতে ভীষণ উপকারী।

ক্যাপসিকাম
সালাদ কিংবা অন্যান্য খাবারে ক্যাপসিকাম ব্যবহার করা হয়। এই সবজি বেশ পুষ্টিকর। এতে আছে ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন ই, বি৬ এবং ফোলেট। রঙিন এই সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি। ক্যাপসিকাম মেটাবলিজমের হার বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

টমেটো
টমেটো যে কতকিছু তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, তার হিসাব রাখা মুশকিল! টমেটোতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন। ওজন কমাতে এটি ভীষন কার্যকরী। নিয়মিত টমেটো খেলে অনেক অসুখ থেকেও দূরে থাকা যায়। এটি আপনি সালাদে কিংবা সবজিতে ব্যবহার করতে পারেন।

মিষ্টি আলু
মিষ্টি স্বাদের এই আলু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। মিষ্টি আলু পুড়িয়ে নিয়ে তার উপরে সামান্য লবণ ও লেবুর রস ছড়িয়ে নিন। খেতে বেশ লাগবে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্ব আছে। এটি ত্বকের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। আলুর বদলে আপনি মিষ্টি আলু খেতে পারেন। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দুধে মৌরি মিশিয়ে পান করলে কী হয়?

খাওয়ার পরে কয়েকটি মৌরির দানা মুখে দেয়ার অভ্যাস অনেকের। এটি মুখের ভেতরকে সতেজ করতে সাহায্য করে। মৌরি যে শুধু এই কাজে লাগে, তা কিন্তু নয়। শরীরের নানা উপকারেও এটি কাজে লাগে। দূরে রাখে নানা জটিল অসুখ। রূপচর্চায়ও কাজে লাগে মৌরি। এটি ত্বকে ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রণ, স্কিন ড্যামেজ, দাগ এবং রিঙ্কেলস কম করা যায়।

মৌরিতে ভিটামিন সি বেশ ভালো পরিমাণে রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং পটাসিয়ামও রয়েছে। এসব উপাদান আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দুধের সাথে মৌরি দিয়ে ফুটিয়েও পান করতে পারেন। আপনি যদি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দুধ পান করেন তবে উপকার পাবেন। বোল্ডস্কাই প্রকাশ করেছে দুধের সঙ্গে মৌরি মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সুস্থ থাকতে হলে এর বিকল্প নেই। দুধে মৌরি মিশিয়ে পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। মৌরিতে অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়ায়। দুধের সঙ্গে মৌরি মিশিয়ে খেলে তা আমাদের শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।\

যৌন সমস্যা থেকে মুক্তি
যৌন জীবনে নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকে। সেসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুরুষ এবং নারীর উচিত মৌরি খাওয়া। লো সেক্স ড্রাইভ, অকাল বীর্যপাত এবং দুর্বলতার মতো সমস্যার সমাধান করতে পারে মৌরি। তাই, যৌন জীবন উন্নত করতে দুধে মৌরি মিশিয়ে পান করুন।

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি
নানা কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানির মতো রোগের ক্ষেত্রে মৌরির দুধ পান করা বেশ উপকারী। প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মৌরি দিয়ে দুধ পান করুন। এতে হাঁপানির সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

পিরিয়ডের অস্বস্তি দূর করে
পিরিয়ডের সময়টা অনেক মেয়ের জন্য প্রচণ্ড অস্বস্তিকর। এসময় অস্বস্তি কাটাতে সাহায্য করতে পারে মৌরি। এক্ষেত্রে দুধের সাথে মৌরি মিশিয়ে পান করলে পিরিয়ড সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এজন্য এক গ্লাস দুধে এক চামচ মৌরি মেশান। এটি ভালো করে ফুটিয়ে তারপর পান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শ্বাসকষ্ট দূর করার ৫টি ঘরোয়া উপায়

ডিস্পেনিয়া বা শ্বাসকষ্ট অস্বস্তিকর এবং বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। আমরা সবাই এটি বিভিন্ন সময়ে এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। যেমন সিঁড়ির কিছু ধাপ ওঠার পরে বা ফুসফুসে শ্লেষ্মার উপস্থিতির কারণে এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। একাধিক কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এটি সাময়িক হতে পারে। কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে হতে পারে। মাঝেমধ্যে শ্বাসকষ্ট খুব সহজেই ঘরে বসে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে যদি আপনার সাথে প্রায় দিনই এমনটা ঘটে থাকে তবে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা ভালো। শ্বাসকষ্ট কমিয়ে আনতে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া-

ব্ল্যাক কফি
কফিতে রয়েছে ক্যাফেইন, যা শ্বাসনালীতে উপস্থিত পেশীগুলোকে শিথিল করতে পারে। হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই প্রতিকার বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ব্ল্যাক কফি ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। তবে এটি আপনার উপযুক্ত না হলে এড়িয়ে চলুন।

আদা
টাটকা আদা বা আদা চা পান করলে তা আপনাকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে এই আদা। সাধারণ ভেষজটিতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ফুসফুসে প্রদাহ হ্রাস করতে পারে।

মুখে শ্বাস নেয়া
শ্বাসকষ্টের এই সহজ কৌশলটি আপনাকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করতে পারে। এটি আপনার শ্বাসের গতি ধীর করতে পারে, প্রতিটি শ্বাসকে আরও গভীর করে তোলে এবং আপনাকে আরাম দেয়। এটি কীভাবে করতে পারেন তা জেনে নিন-

পদক্ষেপ ১: পিঠ সোজা রেখে আরামদায়ক স্থানে বসুন। চেয়ারে কিংবা মেঝেতে বসতে পারেন

পদক্ষেপ ২: নাক দিয়ে আস্তে আস্তে ৪ থেকে ৫ সেকেন্ডের জন্য নিঃশ্বাস নিন। ফুসফুসের পরিবর্তে আপনার পেটটি বাতাসের সাথে পূর্ণ করুন।

পদক্ষেপ ৩: মুখ দিয়ে ৪ থেকে ৬ সেকেন্ডের জন্য নিঃশ্বাস ফেলুন।

পদক্ষেপ ৪: এভাবে ১০ থেকে ২০ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

ভাপ নেয়া
ঠান্ডায় ভুগলে যদি শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় তবে এটি ফুসফুসে শ্লেষ্মার কারণে হতে পারে। শ্লেষ্মা দূর করতে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। এতে উপকার মিলবে।

ফ্যানের কাছাকাছি বসুন
একটি সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শীতল বাতাস শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করতে পারে। অস্বস্তি বোধ করলে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে কোনো ফ্যানের কাছে বসুন। শ্বাস নেয়ার সময় বাতাসের শক্তি অনুভব করলে তা আপনার শ্বাসকষ্ট দূর করতে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রান্নায় ঝাল-লবণ বেশি হলে যা করবেন

রান্নার হাত যতই ভালো হোক, কখনো কখনো স্বাদে এদিক-ওদিক হবেই। কখনো লবণ, কখনো ঝাল বেশি হয়ে যেতে পারে। তাতে করে আপনার সাধের রান্নার স্বাদ নষ্ট হবে। ঝাল বা লবণ বেশি হলে সেই খাবার মুখে তোলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে! ফলে কষ্ট করে বানানো খাবারটি নষ্ট হয়। নষ্ট না করে একটু এদিক-ওদিক করলেই খাবারটি খাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নেয়া যাক তেমনই কিছু উপায়-

লবণ বেশি হয়ে গেলে
রান্নায় লবণ বেশি হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। প্রায়ই খাবারে লবণ বেশি পড়ে যায়। এক্ষেত্রে, যে খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেছে তাতে আলু ছাড়িয়ে দিয়ে দিন এবং পরিবেশন করার আগে সেটি তুলে নিন। আলু, ডাল-সবজি বা স্যুপের অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে এবং খাবারের স্বাদও নষ্ট করবে না।

ঝাল এবং লবণ বেশি হলে
গ্রেভি জাতীয় সবজি বা ডালে বেশি ঝাল-লবণের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে, তাতে আটার লেচি তৈরি করে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পরে এটি তুলে নিয়ে পরিবেশন করুন। দেখবেন খাবারের স্বাদ একদমই ঠিক আছে।

মশলা বেশি হলে
খাবারে যদি মশলা বেশি পড়ে যায়, তবে যে খাবারটি আপনি তৈরি করছেন সেই খাবারের মূল উপাদানগুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি চিকেন বা সবজির কিছু তৈরি করেন, তবে এতে আপনি আরও বেশি চিকেন বা সবজি দিয়ে দিন। এতে করে খাবারে মশলার পরিমাণ ঠিক হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা খাবেন

আজ মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। প্রতিবছর অক্টোবরের দশ তারিখে এই দিবস পালন করা হয়। সব মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতার দিন হলো আজ। এর মূল লক্ষ্য হলো, মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন এবং শিক্ষিত করা। এবছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-এর থিম হল ‘Mental Health for All : Greater Investment – Greater Access’। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস প্রথমবারের মতো পালিত হয় ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকটাই প্রভাব রাখে আমাদের খাবার। কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে, যেগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার চিকিৎসা করতে পারে। ক্লিনিকাল সহায়তা ছাড়াও, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা এই প্রাকৃতিক উপায় মেনেও মুক্তি পেতে পারেন। সেরকমই কিছু খাবারের কথা প্রকাশ করেছে বোল্ডস্কাই-

চিয়া সীড
স্বাস্থ্য সচেতনদের খাবারের তালিকায় থাকে এই চিয়া সিড। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা ডিপ্রেশন এবং ADHD থেকে স্বস্তি দিতে সহায়তা করে। তাই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চিয়া সিড খেতে পারেন।

ডিম
ডিম উপকারী খাবার এ বিষয়ে সবারই কম-বেশি জানা। ডিমে কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি থাকে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এতে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড, বায়োটিন এবং কোলিন মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুর বিকাশের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়। প্রতিদিন পাতে রাখুন ডিম।

দই
দই খেতে ভালোবাসেন? আপনার জন্য সুখবর। দই আপনার মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দই আমাদের পাচনতন্ত্রকে স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য পরিচিত। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, দই খেলে স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কম হয়। এটি সরাসরি ব্যক্তির মুড-কে প্রভাবিত করে।

ব্রকলি
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবুজ এই সবজি রাখুন পাতে। এতে এমন কয়েকটি যৌগ রয়েছে, যা মস্তিষ্ক স্বাস্থ্যকর রাখতে পারে। এতে প্রচুর পটাসিয়াম রয়েছে, যা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বাড়ায় এবং মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।

বাদাম
প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন। তবে একসঙ্গে অনেক বাদাম খেয়ে ফেলবেন না। পরিমিত খান। বাদামে উচ্চ পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম এবং তামা রয়েছে। এগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং মানসিক অসুস্থতা উপশম করতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চাকোলেট নানাভাবে আমাদের শরীরের উপকারে লাগে। ডার্ক চকোলেটে কোকো থাকার কারণে, এটি ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করতে পরিচিত। এর ফলে স্মৃতি শক্তির বৃদ্ধি হয়। ফ্ল্যাভোনয়েডস মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com