আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে?

বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে
বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে

বীজ এর পরিচর্যা করার সুবিধাসমূহঃ  

  • মাটি ও বীজজাত জীবাণু ও পোকামাকড় থেকে অঙ্কুরিত বীজ ও চারাগাছ রক্ষা
  • বীজের অঙ্কুরোদ্গম করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • দ্রুত এবং সুসংবদ্ধ বৃদ্ধি
  • শুঁটি জাতীয় শস্যের দ্রুত শুঁটি বেরোনো
  • মাটি ও পাতায় নজর দেওয়ার চেয়ে বীজে বেশি নজর দেওয়া সুবিধাজনক
  • খারাপ পরিস্থিতিতেও (অতিরিক্ত বা কম আর্দ্রতায়) শস্যের উৎপাদনে সমতা

বীজ এর পরিচর্যা করার পদ্ধতি

বীজ পরিচর্যা এমন একটা শব্দ, যা একই সঙ্গে পণ্য এবং প্রক্রিয়া দুই-ই বোঝায়। নীচে বর্ণিত যে কোনও একটি পদ্ধতিতে বীজ পরিচর্যা করা যেতে পারে।

বীজ ড্রেসিং

এটা বীজ পরিচর্যার সবচেয়ে চালু পদ্ধতি। বীজকে শুকনো বা তরল মিশ্রণে অথবা থকথকে কাদার মধ্যে রাখা হয়। বীজের সঙ্গে কীটনাশক মেশানোর জন্য সস্তা মাটির পাত্র ব্যবহার করা যায়। পলিথিন চাদরের উপর বীজ ছড়িয়ে তার উপর উপযুক্ত পরিমাণে কেমিক্যাল ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। চাষিরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও এই কাজ করতে পারেন। খামার এবং শিল্পক্ষেত্র, দু’জায়গাতেই বীজ ড্রেসিং করা হয়ে থাকে।

বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে
বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে

বীজ আচ্ছাদন

বীজের ক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশেষ দ্রব্য দিয়ে তাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়। এই আচ্ছাদনের জন্য উন্নত বীজ পরিচর্যা প্রযুক্তির প্রয়োজন। এই পদ্ধতি সাধারণত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

বীজের বড়ি দেওয়া

এটা সবচেয়ে উন্নত বীজ পরিচর্যা পদ্ধতি। এতে বীজের আকার পাল্টে যায়, স্বাদ বাড়ে এবং বীজ ব্যবহার করাও সুবিধাজনক হয়। এর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি দরকার এবং এটা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ পদ্ধতি।

বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে
বীজ পরিচর্যা করবেন কিভাবে

বীজ এর পরিচর্যা করার পরামর্শ সমূহঃ

শস্য

কীট/রোগ

বীজ পরিচর্যা

আখ

শিকড়ে পচন, ধসা রোগ

কার্বেন্ডাজিম(০.১%)
২ গ্রাম প্রতি কিলো বীজে
ট্রাইকোডার্মা এসপিপি
৪-৬ গ্রাম প্রতি কিলো বীজে

ধান

শিকড়ে পচন

ট্রাইকোডার্মা ৫-১০ গ্রাম প্রতি কিলো বীজে (রোপণের আগে)

অন্যান্য পোকামাকড়

ক্লোরোপাইরিফস ৫-১০ গ্রাম প্রতি কিলো বীজে

ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে শুকিয়ে যাওয়া

সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স ০.৫% ডবলিউ পি ১০ গ্রাম, প্রতি কিলো বীজে

শিকড়ের গ্রন্থিতে নেমাটোড

০.২% মোনোক্রোটোফসে ৬ ঘণ্টা বীজ ভিজিয়ে রাখুন

অগ্রভাগে রোগ নেমাটোড

০.২% মোনোক্রোটোফসে বীজ ভিজিয়ে রাখুন

লঙ্কা

স্যাঁতস্যাতে হয়ে যাওয়া, অ্যানথ্রাকনোস এসপিপি

প্রতি কিলো বীজে ৪ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ভিরিডে, প্রতি ১০০ গ্রাম বীজে ১ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম

মাটিবাহিত ছত্রাকজাতীয় সংক্রমণ

প্রতি কিলো বীজে ২ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ভিরিডে এবং সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স ১০ গ্রাম, প্রতি কিলো বীজে, কাপ্তান ৭৫ ডব্লিউ এস, এক লিটার জলে দেড় থেকে আড়াই গ্রাম এআই মিশিয়ে মাটি ভেজানো

জাসিদ, আফিদ, থ্রিপস

ইমিডাক্লোপ্রিড ৭০ ডব্লিউএস, প্রতি কিলো বীজে ১০-১৫ গ্রাম এআই

অড়হর

ধসা, শিকড়ে পচন, শুকিয়ে যাওয়া

প্রতি কিলো বীজে ৪ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা এসপিপি

মটর

শিকড়ে পচন

ব্যাসিলাস সাবটিলিস বা সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স দিয়ে বীজের পরিচর্যা,
১০০ গ্রাম এফওয়াইএম-এ আড়াই থেকে ৫ গ্রাম মাটিতে প্রয়োগ অথবা প্রতি কিলো বীজে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম বা কাপ্তান প্রয়োগ

সাদা পচন

প্রতি কিলো বীজে ২ গ্রাম থিরাম+কার্বেন্ডাজিম
প্রতি কিলো বীজে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম বা কাপ্তান

ঢ্যাঁড়শ

শিকড়ের গ্রন্থিতে রোগ

বীজ ড্রেসার হিসেবে প্রতি কিলো বীজে ১০ গ্রাম প্যাসিলোমিসেস লিলাসিনাস এবং সিউডোমিনাস ফ্লুরোসেন্স

টম্যাটো

মাটি বাহিত ছত্রাক জাতীয় রোগ বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাওয়া, ধসা রোগ, শুকিয়ে যাওয়া

১০০ গ্রাম বীজে ২ গ্রাম টি ভিরিডে, কাপ্তান ৭৫ ডব্লিউএস প্রতি লিটার জলে দেড় থেকে ২ গ্রাম এআই মিশিয়ে মাটি ভেজানো,
বীজ ড্রেসার হিসেবে প্রতি কিলো বীজে ১০ গ্রাম সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স এবং ভি ক্ল্যামিডোস্পোরিয়াম

ধনে

ধসা

প্রতি কিলো বীজে ৪ গ্রাম টি ভিরিডে

বেগুন

ব্যাকটেরিয়াজনিত ধসা

প্রতি কিলো বীজে ১০ গ্রাম সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স

শুঁটিজাতীয় শস্য

মাটি বাহিত সংক্রমণ

১০০ গ্রাম বীজে ২ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ভিরিডে

নেমাটোড

কাবোর্ফুরান অথবা কার্বোসালফান ৩%(ডব্লিউ/ডব্লিউ)

সূর্যমুখী

বীজের পচন

প্রতি কিলো বীজে ৬ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ভিরিডে

জাসিডস, হোয়াইট ফ্লাই

প্রতি কিলো বীজে ৫-৯ গ্রাম এআই মিডাক্লোরোপিড ৪৮ এফএস,
প্রতি কিলো বীজে ৭ গ্রাম এআই ইমিডাক্লোরোপিড ৭০ ডব্লিউএস

গম

উই

রোপণের আগে প্রতি কিলো বীজে ৪ এমএল ক্লোরোপাইরিফস বা ৭ এমএল এনডোসালফান দিয়ে পরিচর্যা করতে হবে

শিষে কালো হয়ে যাওয়া

থিরাম ৭৫ % ডব্লিউপি,
কার্বক্সিন ৭৫ % ডব্লিউপি,
টেবুকোনাজল ২ ডিএস প্রতি কিলো বীজে ১.৫ থকে ১.৮৭ গ্রাম এআই,
প্রতি কিলো বীজে ৪ গ্রাম টি ভিরিডে ১.১৫ % ডব্লিউপি

ফুলকপি,
বাঁধাকপি,
ব্রকলি,
মুলো

মাটি বা বীজ বাহিত রোগ (স্যাঁতস্যাতে হয়ে যাওয়া)

১০০ গ্রাম বীজে ২ গ্রাম টি ভিরিডে দিয়ে বীজ পরিচর্যা,
১ লিটার জলে দেড় থেকে আড়াই গ্রাম এআই কাপ্তান ৭৫% ডব্লিউএস দিয়ে মাটি ভেজানো

শিকড়ের গ্রন্থিতে রোগ(নেমাটোড)

বীজ ড্রেসার হিসেবে প্রতি কিলো বীজে ১০ গ্রাম সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স বা ভার্লিসিলিআম ক্ল্যামিডোস্পোরিয়াম

ছোলা

ধসা রোগ ও স্যাঁতস্যাতে হয়ে যাওয়া

প্রতি কিলো বীজে ৯ গ্রাম টি ভিরিডে ১% ডব্লিউপি দিয়ে বীজ পরিচর্যা,
কার্বেন্ডাজিম ও কাবোর্সালফিন ২% মিশিয়ে বা
কার্বেন্ডাজিম, থিরাম ও কাবোর্সালফিন ২ % মিশ্রণ প্রয়োগ,
প্রতি কিলো বীজে ১৫-৩০ এমএল এআই ক্লোরোফাইরোফস ২০ ইসি দিয়ে বীজ পরিচর্যা

আলু

মাটি ও স্ফীতমূল বাহিত রোগ

এমইএমসি ৩% ডব্লিউএস ০.২৫ % বা বোরিক অ্যাসিড ৩ % দিয়ে সংরক্ষণ করার ২০ মিনিট আগে পরিচর্যা

বার্লি

কালো হয়ে যাওয়া, উই

প্রতি কিলো বীজে ১.৫ থকে ১.৮৭ গ্রাম এআই, কার্বক্সিন ৭৫% ডব্লিউপি, থিরাম ৭৫% ডব্লিউপি প্রয়োগ,
প্রতি কিলো বীজে ৪ এমএল ক্লোরোফাইফস দিয়ে বীজ পরিচর্যা

ক্যাপসিকাম

শিকড়ের গ্রন্থিতে নেমাটোড

প্রতি কিলো বীজে ১০ গ্রাম সিউডোনোমাস ফ্লুরোসেন্স ১ %, ডব্লিউপি প্যাসিলোমিসেস লিলাকিরাস ও ভার্টিসিলাম ক্ল্যামিডেস্পোরিয়াম ১ % ডব্লিউপি বীজ ড্রেসার হিসেবে প্রয়োগ

বীজ ড্রেসিং-এর জন্য ধাতব বীজ ড্রেসার /মাটির পাত্র অথবা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হয়

এগ্রোবিজ

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ অন্যতম। দেশের চাহিদার মোট ১৪ ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় রাজবাড়ীতে। তাই জেলাসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করতে কৃষকরা পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের চাষ বাড়িয়েছেন।

পেঁয়াজের এ বীজকে ‘কালো সোনা’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। উৎপান ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বীজ চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই জেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষ বাড়ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে ৩০৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে বীজ চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক লিটন শেখ জানান, চার বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন এবং প্রতি বছর তিনি পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন। চাষ, সার-বীজ এবং কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৫-৬ মণ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

এ বীজ ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করবেন বলে তিনি মনে করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে তার। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে তিনি ভালো লাভবান হয়েছেন। আগামীতে তিনি আরও জমিতে বীজের চাষ করবেন।

জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর তিন-চার হাজার টাকা, আর মণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে ফলন পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করে থাকেন।

কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ বীজের উচ্চমূল্য এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তারা দিনদিন বীজের চাষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া বীজের চাষ করে ক্ষেত থেকে যে পেঁয়াজ পান, তা থেকে বীজ চাষের খরচ উঠে আসে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে। এ বীজ চাষ করে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই লাভ হয়ে থাকে। বীজ চাষে কৃষকদের এসএমই চাষি হিসেবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বীজের ক্ষতি না হলে উৎপাদনও ভালো হবে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা বীজের আবাদ বাড়িয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

ফুলকপি-বাঁধাকপি শীত মৌসুমের প্রধান সবজি। কিন্তু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষ শুরু হয়েছে। অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে বদলে গেছে সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের মো. আব্দুল মালেকের ভাগ্য। রমজান মাসে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় খরিপ-১ মৌসুমে ১০ একর জমিতে ফুলকপি এবং বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তাই আগামীতে এর পরিধি বাড়তে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জমিতে বীজ বপন করা হয়। এরপর মার্চের ২৫ তারিখে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করা হয়। অর্ধেক জমিতে ফুলকপি আর বাকি জমিতে বাঁধাকপির চারা রোপণ করা হয়। সাড়ে ৩ একর জমিতে প্রায় ৭৫ হাজার চারা রয়েছে।

চারা রোপণের ৪৫-৫০ দিন পর থেকে ক্ষেতের ফুলকপি-বাঁধাকপি বিক্রি শুরু হয়। পাইকারি প্রতিপিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১১ টাকা এবং কেজি হিসেবে ৩৫ টাকা দরে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফুলকপি এবং ৫০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে এর চাষে সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। বাজার দর ভালো থাকলে আরও ১ লাখ টাকার ফুলকপি এবং ৩ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষাবাদ বেশ কঠিন। কারণ বৈরী আবহাওয়ায় বেড়ে উঠতে হয়। তাই সঠিক সময়ে সার, বালাইনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা না করলে ক্ষতি হতে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাঝারি উঁচু জমিতে বৃষ্টি ও তাপ সহনশীল জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছে এলাকার অধিকাংশ কৃষক। তবে এ সময় চাষ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অতিবৃষ্টি হলেই ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মুরগি ৪৪ টাকা, ডিম ৫ আর বাচ্চা শূন্য

মুরগি ৪৪ টাকা, ডিম ৫ আর বাচ্চা শূন্য
মুরগি ৪৪ টাকা, ডিম ৫ আর বাচ্চা শূন্য

কিছুদিন আগেও খামারের একেকটা ডিম ৮ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। তা অর্ধেক নেমে একেকটা ৪ থেকে ৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ও নেমেছে ধস। এখন তা পানির দরে—কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৫৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। করোনার প্রভাবে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ডিম আর মুরগির ব্যবসায় এমন মন্দা লেগেছ বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরের খামারি খন্দকার মো. মহসিন বলেন, তাঁর খামারে উৎপাদিত ডিম প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে সোয়া ৪ থেকে সোয়া ৫ টাকা দরে।

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিদাস গ্রামের তরুণ খামারি সাইফুল ইসলাম এক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘মুরগি কেউ নিতেই চায় না। যার কাছ থেকে যা পাই, সেই দামে বিক্রি করি।’

দেশের করোনাভাইরাস ঠেকাতে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর যেসব অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে, এর মধ্যে পোলট্রি খামারিরা অন্যতম। খামারে মুরগি ডিম পাড়ছে, বিক্রি হচ্ছে না। আলাদা করে রাখা ব্রয়লার মুরগির ওজন বাড়ছে, কিন্তু কেনার লোক কম।

সব মিলিয়ে বড় সংকটে পড়েছেন খামার মালিকেরা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি খামারি। সাইফুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহে তার ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

খামারের মালিকদের দাবি, একটি ডিম উৎপাদনে খরচ ৬ টাকার মতো। এখন ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ৯০ টাকার কিছু বেশি। মালিকেরা বলছেন, দাম যখন বেড়ে যায়, তখন চাইলেই উৎপাদন বাড়িয়ে বাড়তি টাকা আয় করা যায় না। আবার যখন কমে যায়, তখন চাইলেও তাৎক্ষণিক উৎপাদন কমিয়ে ফেলা যায় না। ফলে লোকসান অবধারিত।

ঢাকার মানুষ কি খুব কম দামে ডিম-মুরগি কিনতে পারছে? গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির বাদামি ডিম প্রতি ডজন (১২টি) ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে দাম ডজনপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

ব্রয়লার মুরগির দাম বেশ কয়েক মাস ধরেই কম। ছুটি শুরুর আগে মানুষ যখন আতঙ্কে কেনাকাটা করছিল, তখন ডিমের ডজনপ্রতি দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় ওঠে।

বাংলাদেশ পোলট্রি খামার জাতীয় পরিষদ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুরগি ও ডিমের দাম সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। গতকালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, খামার পর্যায়ে সাদা ডিমের প্রতিটির দাম খামারিরা ৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত পেয়েছেন। আর বাদামি ডিমের দাম মিলেছে ৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত। একইভাবে ব্রয়লার মুরগি বিভিন্ন জেলায় ৬০ টাকা, ৮০ টাকা ও ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

খন্দকার মো. মহসিন পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক নেই। বাজারে চাহিদা নেই। চালকেরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছেন না। সব মিলিয়ে একেক জায়গায় একেক দাম। খামারিরা ভালো দাম পাচ্ছে না। কিন্তু বাজারে ক্রেতারাও এর সুফল ততটা পাচ্ছে না।

মুরগির দাম কমে যাওয়ায় এক দিন বয়সী বাচ্চার চাহিদায় ধস নেমেছে। টাঙ্গাইলের খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, হ্যাচারির মালিকেরা প্রতিটি ২ টাকা দরে বাচ্চা দিতে চেয়েছে। তারপরও কেনার মতো খামারি পাওয়া যাচ্ছে না। খামারিরা যদি এখন খামার বন্ধ করে দেন, তাহলে কিছুদিন পরেই আবার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

‘বাচ্চা মেরে ফেলা হচ্ছে’
বাংলাদেশ পোলট্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটির (বিপিআইসিসি) সভাপতি মশিউর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলো, এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চার দাম কত? তিনি উত্তর দিলেন, ‘শূন্য টাকা।’ প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বাচ্চা এখন মেরে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। কারণ, এক টাকা দাম দিয়েও কেউ নিচ্ছে না।

দেশে ৭০ হাজার মতো ছোট-বড় খামার আছে উল্লেখ করে মশিউর রহমান আরও বলেন, খামারিরা বাচ্চা ওঠালে তাকে খাওয়াতে হবে। বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। কিন্তু মাংসের দাম নেই। আর পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিনা মূল্যে বাচ্চা নিয়েও কেউ খামার চালু রাখতে চায় না।

মশিউর রহমান উল্লেখ করেন, ‘শুধু রপ্তানি খাতকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হলো। আর কৃষি খাতকে সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে সেটা মৌখিকভাবে। খামারিরা এ ধরনের দুর্যোগে কখনোই কিছু পায়নি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা

টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা
টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা: আখ পরিচর্যায় ব্যস্ত একজন কৃষক।

কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি’

আখ চাষে লাভবান হওয়ায় টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা নিয়মিত আখ চাষ করে প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও জেলার কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগেভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন, আশানুরূপ দাম পেয়ে চলতি বছরও খুব খুশি চাষীরা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চাড়াবাড়ি এলাকার চাষী জলিল মিয়া বলেন, এ বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আর জমি তৈরি, চারা কেনা, শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় লাখ টাকার উপরে আখ বিক্রি হবে।

চাষী হাসান আলী মিয়া বলেন, এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বাজারে আখের দাম ভালো হওয়ায় আমি লাভবান হতে পারব।

নাগরপুরের চাষী রাজ্জাক মিয়া বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার নাগরপুরে দ্বিগুনেরও বেশি কৃষক আখ চাষ করছে। কারণ গতবার ভাল লাভ হইছে। এবারও বাজার ভাল, লাভই হবে।”

টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের আখ বিক্রেতা মনসুর আলী বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে নিজে চাষ করি, পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের জমি থেকেও আখ কিনে বিক্রি করি। তাতে আমি লাভ করতে পারি। কৃষকও লাভ করতে পারে।

তিনি বলেন, “কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালোই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি।”  

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে সখীপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা ছাড়া বাকি ১০টি উপজেলাতেই আখের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৯ হেক্টর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ৭৮৬ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৭ হেক্টর বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ৩০ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬ হেক্টর, নাগরপুর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১১ হেক্টর, ভুঞাপুর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর ও দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে আখের চাষা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর এ জেলায় ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে জেলায় আখ চাষের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। আখ ক্ষেতে ‘সাথী’ ফসল আবাদ করে তা থেকে আখ চাষের খরচ উঠে আসে। পরে আখ বিক্রির টাকা এককালীন লাভ হিসেবে চাষীরা পেয়ে যায়। টাঙ্গাইলে চিবিয়ে খাওয়ার জাতটি বেশি চাষ হয়।”

তিনি আরো বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকে আখচাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টাঙ্গাইলের আখ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ আখ কাটা হয়েছে। আর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক আখ চাষে জড়িত।” 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের

মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের
মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের: নিজ বাগানে মাল্টা পরিচর্যায় ব্যস্ত শাহ আলম।

বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা

ঝালকাঠিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাল্টা চাষ। এখানকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলনও হচ্ছে ভালো। কম জমিতে খুব অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় ঝালকাঠির যুবকরা ঝুঁকছেন মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। 

জেলায় সবচেয়ে বড় মাল্টা বাগান হচ্ছে নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের শাহ আলম হাওলাদারের শারিনা মাল্টা বাগান। তিনি প্রথমে কৌতুহলবশত নিজ বাড়ির উঠানে পরীক্ষামূলক ১০০ মাল্টা চারা রোপণ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। অল্প জমিতে কম টাকা খরচ করে অধিক মুনাফা হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি চার একর জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আরও একটি মাল্টার বাগান করেছেন। তার বাগান দেখে এ উপজেলার অনেকেই এখন মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় বাজারে এ ফলের বেশ চাহিদাও রয়েছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে।

নলছিটির শারিনা মাল্টা গার্ডেনের মালিক শাহ আলম হাওলাদার জানান, টেলিভিশনে পিরোজপুর জেলার মাল্টা চাষের উপর একটি প্রতিবেদন দেখে তিনি মাল্টা চাষে আগহী হন। ২০১৬ সালে বাবার দেওয়া মাত্র ১০ শতক জমিতে ১০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টা চাষী। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হয়। বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা।

শাহ আলমের বাগানে মাল্টার পাশাপাশি রঙিন আমসহ ৮০ জাতের দেশি-বিদেশি আম, সৌদি আরবের খেজুর, মিষ্টি কমলা ও দিনাজপুরের লিচু আবাদ করা হয়। তবে মাল্টার উপর তিনি বিশেষ নজর দিয়েছেন। তার বাগানে বারিমাল্টা-১ (পয়সা মাল্টা), থাইল্যান্ডের বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা এই তিন জাতের মাল্টা চাষ করে থাকেন। চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছের ফলন শুরু হলেও মূলত তিন বছরে একটি গাছে পূর্নাঙ্গভাবে ফল ধরা শুরু করে। তিন বছর একটি বয়স্ক গাছে প্রতি মৌসুমে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪৫০টি মাল্টা ধরে। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য ৫ জন লোক কাজ করেন। শাহ আলমের মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জও বরিশাল শহরের ফলের বাজারে বিক্রি হয়। দূর-দুরন্তের ফল ব্যবসায়ীরা তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। অনেকে আগাম বুকিং দিয়ে তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে যান। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ পেলে তিনি মাল্টা বাগানকে আরও বৃহত্তর পরিসরে উৎপাদন করে সারা দেশে তার নার্সারীর ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। পাশাপাশি একটি গরুর খামার গড়ারও ইচ্ছাও রয়েছে তার।

শাহ আলম আরও বলেন, আমার বাগানে শুধু বিষমুক্ত মাল্টাই নয় কিছু দিন পর সৌদির খেজুরসহ বিদেশি জাতের আমের ফলন শুরু হবে। আমি চাই আমার দৃষ্টান্ত দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও এ ধরনের বাগান তৈরি করে সাবলম্বী হোক। এ বিষয়ে যে কেউ আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারে। 

সরেজমিনে শাহ আলমের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শাহ আলম তার মাল্টা বাগানে পাইকারদের কাছে মাল্টা বিক্রি করতে ব্যস্ত। বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকাররা তার বাগানের মাল্টা ওজন বরে মেপে প্যাকেটজাত করছেন। 

এছাড়াও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিকনা গ্রামের খন্দকার ইকবাল মাহামুদের বাগানে গিয়ে দেখো যায় তিনি বাগানে মাল্টা গাছের পরিচর্ষা করছেন। ২০১৭ সালে তিন একর জমিতে ৮০০ মাল্টা চারা রোপণ করেন। গত বছর থেকেই প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। তিনি জানান গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তিনি এ বছর পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বাগানের পরিধি আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন, “নলছিটি কৃষি বিভাগ এ উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ মাল্টা চাষি শাহ আলমের বাগান থেকে চারা কিনে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে থাকে। শাহ আলমের বাগানে উৎপাদিত মাল্টা জাতে বড় ও মিষ্টি । সে আমাদের কৃষি অফিসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখে। আমরাও সব সময় তাকে আধুনিক কৌশল প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরউপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, “অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টা চাষে ঝুকছে এলাকার যুবসমাজ। মাল্টা চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগীতাও করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে।” 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com