আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বিষাক্ত ব্যাঙের বিস্তার ঠেকিয়ে দিচ্ছে ইঁদুর

বিষাক্ত ব্যাঙের হামলা এড়িয়ে সেগুলোকে খেতে শিখেছে অস্ট্রেলিয়ার পানির ইঁদুর
বিষাক্ত ব্যাঙের হামলা এড়িয়ে সেগুলোকে খেতে শিখেছে অস্ট্রেলিয়ার পানির ইঁদুর

বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে চেষ্টার পরেও যে কাজে সফলতা পাচ্ছিলেন না, সেটাই করেছে অস্ট্রেলিয়ার পানিতে থাকা একটি ইঁদুর।

দেশটির এক প্রকার মারাত্মক ও বিষাক্ত আক্রমণাত্মক ব্যাঙ, যেটি ব্যাপক ক্ষতির কারণ হচ্ছিল, সেটির বিস্তার ঠেকিয়ে দিয়েছে ইঁদুরগুলো।

কিন্তু ‘রাকালি’ নামের ইঁদুর প্রজাতির এই প্রাণীটি যে প্রক্রিয়ায় তা করেছে, তা অবাক করার মতো।

বিষে আক্রান্ত হওয়া এড়াতে, ব্যাঙগুলোর শরীরের হৃদপিণ্ড এবং যকৃৎ আলাদা করে ফেলে খাবারের ভোজ করেছে ইঁদুরগুলো। উভচর ওই ব্যাঙটির ওই অংশগুলো বিষাক্ত নয়।

বিষাক্ত ব্যাঙের কারণে এ ধরণের অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হতে বসেছে
বিষাক্ত ব্যাঙের কারণে এ ধরণের অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হতে বসেছে

ইঁদুরের এই ”নিখুঁত অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ” কৌশলের ব্যাপারটি মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রাকালি ইঁদুর হচ্ছে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র প্রাণী যে, নিজের ক্ষতি এড়িয়ে বিষাক্ত ক্যান টোড প্রজাতির ব্যাঙগুলোকে হত্যা করতে পারে।

হুমকি

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ক্যান টোড ব্যাঙ আনা হয় ১৯৩৫ সালে, যার উদ্দেশ্য ছিল উত্তরপূর্ব উপকূলের জমিতে আখে হামলা করা গুবরে পোকাগুলোকে দমন করা। এই ব্যাঙ সেগুলোকে খেয়ে খেলবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এই উভচর প্রাণীটি যে কোনো পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে বলে পরিচিতি রয়েছে। এগুলো ব্যাপকভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে এবং বছরে ষাট কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

এভাবেই সেগুলো ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিমবার্লে অঞ্চলে চলে আসে। এরপর থেকে এসব ব্যাঙ ওই এলাকায় বেশ কিছু শিকারি প্রাণীর ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠেছে।

কুমির, কোয়ালা (ছোট ধরণের প্রাণী যেগুলোর পেটে থলি থাকে) এবং লিজার্ড বা টিকটিকি ঘরানার প্রাণী ওই এলাকা থেকে বিলুপ্ত হতে বসেছে, কারণ এরা সবাই ওই ব্যাঙ খেয়েছিল।

অনেক প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে ক্যান টোড নামের এসব ব্যাঙ
অনেক প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে ক্যান টোড নামের এসব ব্যাঙ

এসব ব্যাঙের কানের কাছাকাছি একটি গ্রন্থিতে বিষ থাকে- যার সামান্য একটুও অনেক বুনো বা গৃহপালিত প্রাণীর জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এ থেকে বাঁচতে বিজ্ঞানীরা এর আগে শিকারি প্রাণীগুলোকে খুব ক্ষুদ্র আকারের এই ব্যাঙ খাওয়াতেন। এর ফলে প্রাণীগুলোর পাকস্থলীতে গিয়ে সেগুলো অসুস্থ হয়ে পড়তো।

এভাবে এ জাতীয় ব্যাঙ না খেতে প্রাণীগুলোকে শেখাতেন বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু শত্রুর সঙ্গে লড়াই করার আরেকটি নতুন উপায় দেখিয়ে দিলো রাকালি ইঁদুরগুলো।

নিখুঁত অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ

”২০১৪ সালে আমরা দেখতে পাই, শরীরে ফোঁটা দাগযুক্ত ব্যাঙগুলোর ওপর ঘনঘন হামলা করা হচ্ছে,” বলছেন ওই ইঁদুরের আচরণ নিয়ে গবেষণাকারী জীববিজ্ঞানী মারিসা প্যারোট।

”প্রতিদিন সকালে আমরা অন্তত পাঁচটি মৃত ব্যাঙ দেখতে পাই, যাদের পেটে ক্ষুদ্র আকারের কিন্তু সনাক্ত করার মতো ব্যবচ্ছেদের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু এ ধরণের প্রাণীর শরীরে এরকম ব্যবচ্ছেদ কে করছে?”

আখ খেতের এসব ব্যাঙ এখন কুমিরের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে
আখ খেতের এসব ব্যাঙ এখন কুমিরের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে

এরপর এই বিজ্ঞানীরা অনেকটা গোয়েন্দা বনে যান। তারা রিমোট ক্যামেরা স্থাপন করেন এবং ব্যাঙের শরীরে থাকা কামড়ের চিহ্ন বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। এরপরেই তারা বুঝতে পারেন, এ জন্য দায়ী হচ্ছে ইঁদুর।

প্যারোট ব্যাখ্যা করেন, ময়না তদন্তের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ব্যাঙের আকার অনুযায়ী শরীরে ব্যবচ্ছেদের চিহ্নটি রয়েছে।

”মাঝারি আকারের একটি ব্যাঙের ক্ষেত্রে, হৃদপিণ্ড এবং যকৃৎ আলাদা করার পাশাপাশি, পেছনের একটি বা দুইটি পা তাদের বিষাক্ত চামড়া থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে এবং পেশিও খেয়ে ফেলা হয়েছে।”

সাপ, পাখি এমনকী কাকের মতো কিছু প্রজাতি এই বিষাক্ত ব্যাঙ খেয়ে থাকে, কিন্তু সেখানে এমন কোন উদাহরণ নেই যে, কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী এসব ব্যাঙ শিকার করে খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

”কিছু ইঁদুর হয়তো ছোট আকারের ব্যাঙ খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ইঁদুরগুলো বিশেষভাবে বড় ব্যাঙগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, এরকম তথ্য আগে পাওয়া যায়নি।”

অস্ট্রেলিয়ায় এখন দেড়শ কোটি ক্যান টোড রয়েছে বলে ধারণা করেন বিজ্ঞানীরা
অস্ট্রেলিয়ায় এখন দেড়শ কোটি ক্যান টোড রয়েছে বলে ধারণা করেন বিজ্ঞানীরা

কোটি কোটি ব্যাঙ

”আমাদের ক্ষেত্রে পানির ইঁদুর বড় ব্যাঙ খেতে পছন্দ করছে- আমরা যেসব মৃত ব্যাঙ পেয়েছি, তার চারভাগের তিনভাগই বড় আকারের। যদিও মধ্য এবং ছোট আকারের ব্যাঙের তুলনায় এগুলোর সংখ্যা কম।” গবেষণাপত্রে লিখেছেন প্যারোট।

গবেষকরা বলছেন, এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে ইঁদুরগুলো এসব ব্যাঙের ওপর হামলা করে নিরাপদে খেয়ে ফেলার কায়দা শিখে ফেলেছে কিনা। অথবা এসব ইঁদুর কি বিষাক্ত ব্যাঙ খাওয়ার জন্য এই কৌশল রপ্ত করে নিচ্ছে কিনা।

অস্ট্রেলিয়ার জীববিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, দেশটিতে এখন প্রায় দেড়শ কোটি ক্যান টোড নামের এই বিষাক্ত ব্যাঙ রয়েছে।

১৯৩৫ সালে আখ ক্ষেতে গুবরে পোকা দমন করার জন্য মাত্র ১০১টি ব্যাঙ ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

সেখান থেকে এসব ব্যাঙ এখন অস্ট্রেলিয়ার এমন অংশে এসে পৌঁছেছে, যা তাদের প্রথম আবাসস্থল থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খড়!

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলে চলতি বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি। পশু খাদ্যের সংকটে পড়েছে পশু মালিকরা। খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের। অনেক কৃষকের মজুদ করা শুকনো খড় বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমানে বন্যার পানি না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের খড়ের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজিতে খড় কিনছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১১৪টি। আর মোট গবাদি পশুর সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার। গেলো বোরা মৌসুমের শেষ দিকে আকস্মিক বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক জায়গায় গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আগাম ধান কাটা শুরু হলেও নভেম্বর মাসের শেষের দিকে পুরোপুরি ভাবে ধান কাটা শুরু হবে। ফলে কৃষকদের এখনো প্রায় নতুন খড়ের জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলার ধারা, নাগলা, ধুরাইল, শাকুয়াই, বিলডোরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে অস্থায়ী খড়ের বাজার। সেখানে প্রতি কেজি বোরো ধানের খড় ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পাঁচ কেজি খড়ের আটি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা দরে। বাজারে খড় আনার সাথে সাথেই সেগুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

ধারা বাজারে খড় কিনতে আসা গরুর খামারি নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার বোরোর খড় শুকানোর সুযোগ পাইনি। বৃষ্টির পানিতে সব খড় নষ্ট হয়ে গেছে। যেটুকু সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম তাও শেষ। আমন ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত খড় কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গরু নিয়ে খুব বিপদে আছি। প্রতিদিন বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে খড় কিনতে হচ্ছে।

বিলডোরা এলাকার আরেক খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, এবার ফসল ঘরে তুলে শেষ করতে পারি নাই, বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। গরুর ভুঁসি, ফিডের দাম অনেক বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খড় কিনতে হচ্ছে। গরু নিয়ে মহা সমস্যায় আছি। বিক্রি করে দিলেও ভালো দাম এখন পাবো না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষক এবার আকস্মিক বন্যার কারণে বোরোর খড় শুকাতে পারেননি। সংরক্ষণ করা খড়ও শেষ হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় খড়ের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমরা কৃষকদের খড়ের বিকল্প হিসেবে কচুড়িপানা খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বাড়ছেই

উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবকয়টি গেট খুলে দেওয়ায় ভাটি অঞ্চলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে উঠেছে পানি। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালের দিকে তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে আরো ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে তা ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ১০টার দিকে ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল পানি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পানি আরো কমে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

এদিকে, উজানের ঢল নেমে আসা অব্যাহত থাকায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আর রাত ১০টায় বেড়ে ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল পানির প্রবাহ। আজ সকাল ৯টায় তা আরো বেড়ে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এখনও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিম্নাঞ্চলে আবাদ করা ধান, আলু ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। চরে কয়েক শত হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেকের ফসল এরই মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিবদেব চরের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে পানি বেড়েই চলছে। এতে চরের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গাবুগা গ্রামের আফছার আলী বলেন, তিস্তার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা আগাম আলু রোপনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অনেকে ইতিমধ্যে আলু রোপন করেছে। আবার অনেকে জমি প্রস্তুত করেছে। এখন সব নষ্ট হয়ে গেল।

একই এলাকার কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, আর কয়েকদিন পরেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতো। এমন সময় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

পীরগাছার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঠে শীতকালীন আগাম সবজিসহ ধান রয়েছে। অসময়ের বন্যায় এসব ফসলের ক্ষতি হবে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন বলেন, তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ওই সব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে বলা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, তিস্তার পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পানি কমে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আমদানি করা মাংসের দাম কম, হুমকিতে দেশীয় গরুর খামার

নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে গরু আমদানি গত কয়েক বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখন তার পরিবর্তে আমদানি হচ্ছে মাংস। মাংস আমদানি বেড়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় গরুর খামারগুলো। খামারিদের অভিযোগ, আমদানি করা মাংসের দাম কম হওয়ায় দেশীয় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা মাংসের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এ অবস্থায় দেশীয় গরুর খামার রক্ষার স্বার্থে বিদেশ থেকে মাংস আমদানি বন্ধের দাবি উঠেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, এখন প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মাংসের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে গত কয়েক মাস ধরে মাংস আমদানি কিছুটা কমেছে বলে আমদানিকারকরা দাবি করেছেন।

দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রচুর খামার গড়ে উঠেছে। নতুন করে অনেকেই এই ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে দেশীয় উত্পাদন দিয়ে দেশের মাংসের চাহিদা মিটিয়ে আরো উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। ভারত থেকে গবাদি পশু আমদানি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে প্রচুর মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানি করা মাংস অনেক কম দামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, হোটেলে সরবরাহ দিচ্ছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। অতি মুনাফার সুযোগ থাকায় এরই মধ্যে অনেকেই নতুন করে মাংস আমদানিতে যুক্ত হচ্ছেন।

দেশে মাংস আমদানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশীয় খামারিরা। এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগে অনেকেই ঝুঁকি মনে করছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে মাংস আমদানিতে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। মাংস আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এর বাইরে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

জানতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক বলেন, ডিউটি বাড়িয়ে মাংস আমদানি নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। গত দুই মাস আমদানি কিছুটা কমেছে। বছরে ১০ শতাংশ হারে মাংসের চাহিদা বাড়ছে। অনেক শিক্ষিত লোক গরুর খামারে বিনিয়োগ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও দুই-তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, ডিউটি বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানি খরচ বেশি পড়ছে। তাই মাংস আমদানি কমে গেছে।

মাংস আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন হালাল মিট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, ‘গত পহেলা জুন থেকে ডিউটি বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা ডিউটি দিতে হচ্ছে। এতে মাংসের আমদানি খরচ পড়ছে কেজি প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা। আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। দেশের ৫০/৬০ জন মাংস আমদানি ব্যবসায় যুক্ত রয়েছে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, মাংস আমদানির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে দেশীয় খামারিরা কোনো ভর্তুকি পায় না। অথচ ভারত ডেইরি খাতে সরকারিভাবে বছরে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। ফলে তারা কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারছে। দেশীয় ডেইরি খামারি রক্ষার স্বার্থে মাংস আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় কন্টেইনার থেকে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। সেখানে তিনটি বিষয় যাচাই করা হয়। সেগুলো হচ্ছে গরুর বা মহিষের মাংস কি না, শূকরের কোনো উপকরণ আছে কি না ও জনস্বাস্থ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে কি না।

জানতে চাইলে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরির প্রধান প্রফেসর ড. হিমেল বড়ুয়া বলেন, প্রতিদিন গড়ে দুই-তিনটি মাংসের নমুনা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আমাদের কাছে মান যাচাইয়ের জন্য পাঠায়। কোন বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে হবে তারা চিঠিতে উল্লেখ করে দেয়। এই পর্যন্ত যে মাংস পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কোনো উপকরণ পাওয়া যায়নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অবহেলায় বন্ধ চিনিকল, বিপাকে চাষিরা

নিউজ ডেস্ক: পাবনা চিনিকল বন্ধের কারণে আখ মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার আখচাষিরা। বিপনন অনিশ্চয়তায় উৎপাদনে তারা আগ্রহ হারানোয় আখের উৎপাদন কমেছে। এদিকে মাড়াই কার্যক্রম না থাকায় পরিচর্যার অভাবে অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আখ মাড়াই যন্ত্রসহ মিলের শত কোটি টাকার সম্পদ।

আখচাষিরা জানান, টানা লোকসানের দায় নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ চিনিকলের সাথে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় পাবনা সুগারমিলে। হঠাৎ মাড়াই বন্ধ হওয়ায় সে সময় চুক্তিভুক্ত চাষিদের আখ সংগ্রহ করে নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগারমিলে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। চলতি মৌসুমেও মাড়াই বন্ধ থাকায় চুক্তি নবায়ন হয়নি। এরপরেও অর্থকরী ফসল হিসেবে লাভের আশায় নিজ উদ্যোগেই আখ চাষ করেছেন জেলার অনেক চাষি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, পাবনা চিনিকলের অন্তর্গত দশটি চিনি উৎপাদনের জোন আছে। মিলে মাড়াই বন্ধ থাকায় এ বছর কৃষকদের কথা ভেবে মিলের নিকটবর্তী চারটি আখ উৎপাদন জোন ঈশ্বরদী জোন, মুলাডুলি জোন, লক্ষীকুন্ডা জোন ও মিলগেট জোনকে পাবনার নিকটবর্তী গোপালপুর চিনিকলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় চালু থাকা চিনিকল গুলোতে বদলি করা হয়েছে পাবনা সুগার মিলের কর্মীদের।

সরেজমিনে পাবনা চিনিকলে গিয়ে দেখা যায়, মরিচা পড়েছে মাড়াই যন্ত্রের বিভিন্ন অংশে। আগাছা আর জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে বাইরে ইয়ার্ডে থাকা যন্ত্রপাতি আর দুইশতাধিক ট্রলি। দ্রুত মিল চালু না হলে আচিরেই এসব শতাধিক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়বে বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, মাড়াই শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে যন্ত্রপাতির পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু গত দুবছর মাড়াই না হওয়ায় কর্মীদের অন্যান্য মিলে সংস্থাপন করায় যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে পুনরায় পাবনা সুগার মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ। এটা বাস্তবায়ন হলে এসব অঞ্চলের আওতাধীন কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে চিনিকলে আখ সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

রাণীশংকৈলে ইঁদুর তাড়াতে ফসলের ক্ষেতে পলিথিন ব্যবহার

আনোয়ার হোসেন: [২] আমন ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসেলের ক্ষেতে উড়ানো হয়েছে ঝাণ্ডা। দেখে অবাক হলেও সত্যিটা হলো ক্ষেতের ইঁদুর তাড়াতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাঠির মাথায় পলিথিন বেঁধে বানানো এই ঝাণ্ডা উড়িয়ে উপকৃত উপজেলার কৃষকেরা। কৃষকেরা জানান, কীটনাশকের চেয়েও বেশি কার্যকরী এই ঝাণ্ডা উড়ানো।

[৩] রাণীশংকৈল উপজেলার সর্বত্র বেড়ে উঠছে আমন ক্ষেত। কোথাও ধানের গাছে থোড় এসেছে, কোথাও শীষ বের হচ্ছে। ফলে কৃষি বিভাগ এবারে বাম্পার ফলনের আশা করছে। তবে আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইঁদুর আমন ধানের গাছ কেটে সাবাড় করছে। ফলে কৃষকেরা এর উপদ্রব থেকে ফসলের ক্ষেত বাঁচাতে পলিথিনের ঝাণ্ডা উড়িয়েছেন।

উপজেলার হোসেনগাঁও ইউপির হাটগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ধান খেতে পলিথিন টাঙানো হয়েছে। কৌতুহলবশত খেতে পলিথিনের এমন ব্যবহার কেন জানতে চাইলে কৃষক হালিম বলেন, ‘এক বিঘা ধান লাগিয়েছি ধান ভালোই হবে আশা রাখি। কিন্তু হঠাৎ ধান খেতে ইঁদুরের আক্রমণে অনেক ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে। খেতে অনেক বড় বড় গর্ত তৈরি করছে। দিনের বেলা মানুষের উপস্থিতির কারণে তারা কম আক্রমণ করে। তবে রাত হলে উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই এই পলিথিনের ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো শব্দ পেলে ইঁদুর স্থান পরিবর্তন করে। রাতে পলিথিন বাতাসে নড়ে উঠে আর এই বাজনায় ইঁদুর পালিয়ে যায়।’

[৫] উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় গত বছরে ২১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। গতবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার উপজেলায় ২১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।

[৬] তথ্য মতে, ইঁদুরের বংশ বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। সুষ্ঠু পরিবেশে একজোড়া ইঁদুর থেকে বছরে প্রায় তিন হাজার ইঁদুর জন্মলাভ করতে পারে। জন্মদানের দুইদিনের মধ্যেই এরা পুনরায় গর্ভধারণে সক্ষম হয়। জন্মদানের তিন মাসের মধ্যে বাচ্চা দিতে সক্ষম হয়। ইঁদুরের জীবনকাল ২-৩ বছর। ইঁদুর ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, ফলমূল বিশেষ করে শাকসবজি, নারিকেল, পেয়ারা, সফেদা, লিচু, আম, লাউ, মিষ্টি আলু ইত্যাদি কৃষিজ ফসল খেয়ে ক্ষতি করে। ধান ও গমের শীষ আসার সময় ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে কেটে গর্তের ভেতর নিয়ে বাসা তৈরি করে এবং খায়। ইঁদুর যতটা না খায় তার চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি নষ্ট করে। ইঁদুর প্রায় ৩০ ধরনের রোগ ছড়ায়।

] কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে আমনক্ষেতে। কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি পলিথিন ঝাণ্ডা উড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। এই ঝাণ্ডা উড়ানোর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com