আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বিষখালী-পায়রা-বলেশ্বরে ইলিশের অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব

প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশ। এরই মধ্যে পানির গুণাগুণ ও খাবার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বিষখালীতে অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ কি.মি। নদীর নিম্নাংশ মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  • প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

বরিশাল অঞ্চলের তিনটি প্রধান নদ-নদী বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বরের ইলিশের স্বাদ, পানি ও খাবারের গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যক্রমের প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে এই তিন নদ-নদীতে তিনটি পৃথক ইলিশের অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকোফিশ প্রকল্প-২–এর গবেষকেরা।

সংস্থাটির গবেষকেরা জানান, এরই মধ্যে তিনটি নদীর পানির গুণাগুণ ও কী ধরনের খাবার রয়েছে, তা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইলিশের জীবনচক্র ও স্বাদের কারণও অনুসন্ধান করবেন তাঁরা। এ জন্য এসব নদ–নদীর পানি, মাছের খাদ্যকণা প্ল্যাঙ্কটন (পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীব) ও ইলিশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের একজন এবং পানি, খাদ্যকণার গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে যুক্ত করা হচ্ছে। পুরো গবেষণাকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইকোফিশ প্রকল্পের দলনেতা ও মৎস্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল ওহাব।

সম্প্রতি প্রথম আলোতে ‘বিষখালী নদীতে ইলিশের ভান্ডার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে বলে জানায় ইকোফিশের গবেষক দল। এরপর বিষখালীসহ সংযুক্ত তিন নদ-নদীর ইলিশের স্বাদ, জীবনচক্র এবং পানির গুণাগুণ ও জীববৈচিত্র্য গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক গবেষণার পর এই তিন নদীর ইলিশ সম্প্রসারণ, বিচরণ ও বেড়ে ওঠার বিষয়টি নির্বিঘ্ন করতে আলাদা তিনটি অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব তৈরি করে দলটি। অভয়াশ্রমের মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মানচিত্র অনুযায়ী বিষখালীর নিম্ন-মধ্য অঞ্চল প্রস্থে বড় এবং স্রোত বেশি। নদীটির মধ্যাঞ্চল মাছ ও চিংড়ির বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় অভয়াশ্রম ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর নিম্নাংশ মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ কিলোমিটার। এর উত্তর-পূর্বে বরগুনার বেতাগী লঞ্চঘাট, উত্তর-পশ্চিমে ঝালকাঠির কচুয়া ফেরিঘাটের দক্ষিণ মাথার বাঁক, দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনা সদরের বড়ইতলা ফেরিঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনার বাইনচটকি ফেরিঘাট।

ইকোফিশের গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

আনিসুর রহমান, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক

পায়রা নদীর অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এর উত্তর-পূর্বে পটুয়াখালীর পায়রা কুঞ্জ ফেরিঘাট, উত্তর-পশ্চিমে মৃধা বাড়ি রোড ফেরিঘাট, দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনার আমতলী ফেরিঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা সদরের পুরাঘাটা ফেরিঘাট।

বলেশ্বর নদে জাটকার বিচরণক্ষেত্রের ভিত্তিতে উপরি অংশে অভয়াশ্রম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্বে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া মসজিদ পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে পিরোজপুর সদরের দক্ষিণ গাজীপুর মাদ্রাসা এলাকা, দক্ষিণ-পূর্বে পিরোজপুরে মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া স্টিমারঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বাগেরহাটের রায়েন্দা শিপইয়ার্ড।

আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বরের ইলিশ সম্পদ নিয়ে এত দিন ধারণা কম ছিল। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক গবেষণায় এই তিন নদ-নদীতে ইলিশের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ইকোফিশের গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

মিষ্টি রসে মন ভোলাবে বারোমাসি ‘হলুদ তরমুজ’

গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুর (রাজশাহী) থেকে ফিরে: গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। তৃষ্ণা মেটাতে এর কোনো জুড়ি নেই। আছে অনেক স্বাস্থ্য গুণও।

তবে ফলটি যদি বারোমাসই পাওয়া যায়? আর তার ভেতরটা যদি লাল নাহয়ে হলুদ হয়? কী শুনতেই ভালো লাগছে, তাইনা? বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্য।

মন ভালো করে দেওয়ার খবর হচ্ছে- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামে বারোমাসি তরমুজ চাষ হচ্ছে।

এছাড়া প্রচলিত লাল তরমুজের পাশাপাশি এখানে শুরু হয়েছে নতুন জাতের হলুদ রঙের তরমুজের চাষ। এ তরমুজের ভেতরেও সম্পূর্ণ হলুদ। তবে রঙ বদলালেও স্বাদ বদলায়নি।

বরং এ তরমুজ আরও মিষ্টি। আরও সুস্বাদু। যারা তরমুজ পছন্দ করেন তাদের কাছে নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। বাণিজ্যিকভাবে এখানে বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী পল্লী হিসেবে পরিচিত চৈতন্যপুরের রঙিন তরমুজ এখন বছরজুড়েই মানুষদের মুখে স্বাদের ভিন্নতা ছড়াবে।

রাজশাহীর স্বপ্নবাজ তরুণ কৃষক মনিরুজ্জামান মনির তার মোট ১৭ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার ওপর ব্যতিক্রমী এ তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। থাই পেয়ারা ও স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন জাতের নতুন নতুন ফসল চাষের নেশা চেপে বসেছে এ তরুণের ওপর। যেই ফসলই নতুন মনে হয় তাই চাষ শুরু করেন মনিরুজ্জামান।

জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, সব সময় নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি থাকে। এর পরও তিনি বরাবরই নতুনের পেছনেই ছোটেন। এতে কষ্ট বেশি থাকলেও যখন সফলতা আসে, তখন ভালো লাগার মাত্রাটাও থাকে অন্যরকম। সাত বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ চেতনা থেকেই বরেন্দ্রের মাটিতে বারোমাসি এবং হলুদ রাঙা তরমুজের চাষ শুরু করেছেন।
তিনি আরও জানান, তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর মহিষাবাথান এলাকায়। তিনি একজন শৌখিন চাষি। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করে থাকেন। এর আগে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে বীজ আলু চাষ করেছেন। স্ট্রেবেরি চাষ করেছেন। অন্য জমিতে এখনও স্ট্রেবেরি, পেঁপে ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাছে পাকানো টমেটো চাষ করছেন তিনি।

আর স্পেশালভাবে চাষ করছেন বারোমাসি তরমুজ। এর মধ্যে হলুদ তরমুজটার আকর্ষণ বেশি। ক’দিন আগে এ তরমুজ কেটেছেন। বর্তমানে লাল তরমুজও পরিপক্ক হয়ে ওঠেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাও কাটবেন। এ তরমুজ ৭৫ দিনের ফসল। তাই বছরে তিন থেকে চারবার চাষ করা যায়।

বাজারে সাধারণত সবুজ কিংবা গাঢ় সবুজ বর্ণের তরমুজ দেখা যায়। কিন্তু এবার একেবারেই ভিন্ন রঙের তরমুজ চাষ হয়েছে। এটি প্রথম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। তার পর সিলেটে। সর্বশেষ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। বারোমাসি হলুদ জাতের ব্যতিক্রমী এ ফলের বীজ এসেছে তাইওয়ান থেকে। ঢাকার এগ্রি কনসার্ন কোম্পানি এ বীজ আমদানি করে। সেখান থেকে তরমুজের বীজগুলো এনেছেন। এ বীজ রোপন করে ভালো ফলনও পেয়েছেন। নতুন জাতের এ তরমুজের দামও সন্তোষজনক।

এক বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এক বিঘায় ৬৪-৬৫ মণ এ তরমুজের ফলন হয়। আর পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হয় দুই থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
তরমুজ ক্ষেত, ছবি: বাংলানিউজমাল্চিং পদ্ধতিতে এ তরমুজ চাষ করা হয়। বর্ষাকালীন সময়ে তরমুজ চাষ করতে মাচান তৈরি করতে হয়। আর শীতকাল বা অন্য সময়ে মাটিতেই তরমুজ চাষ করা যায়। প্রথমবার মাচা তৈরি করলে সেই মাচা এক বছর ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়বারের উৎপাদন খরচ কম হবে।

মাল্চিং সেটে একটি বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর এক দিকে কালো এক দিকে সিলভার রঙ রয়েছে। সিলভার রঙটা ওপরে থাকবে এবং কালোটা নিচে। এ সেটের গায়ে সূর্য কিরণ এসে তার ওপরে পড়ার পর আবার ফেরত পাঠাবে। এটি মাটি ভেতরে ঢুকে উত্তপ্ত করতে পারবে না। এটির কাজ হচ্ছে আমরা জমিতে যেই সার দেই তা নষ্ট হবে না, আগাছা তৈরি হবে না।

মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকও পেয়েছেন। নতুন ফসল চাষ করা তার নেশা৷ ঝুঁকি থাকলেও সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বাংলানিউজকে বলেন, বাইরে থেকে এ তরমুজ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এর ভেতরে হলুদ। তবে কাটলে তার রঙ বেরিয়ে আসবে।

খেতেও দারুণ মিষ্টি। মনিরুজ্জামানের জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। সারা বছরই বিশেষ এ জাতের তরমুজ চাষ করা যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপকতা সৃষ্টি হলে বারোমাসি তরমুজ কৃষকের জন্য লাভজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন উপ-সহকারী এ কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সারা বছর আম ফলবে দেশের সব গাছে

শেকৃবি: মৌসুম ছাড়াই দেশীয় আবহাওয়ায় কৃত্রিম পদ্ধতিতে আম ফলাতে সক্ষম হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। এজন্য তারা প্রয়োগ করেছেন ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো জাতের আম গাছে আম ফলানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এ সফলতা শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মারজিনা আক্তার রিমার।

গবেষক মারজিনা আক্তার রিমা বাংলানিউজকে বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ‘ন্যামডকমাই’ জাতের ২৪টি আম গাছে ফোর্সিং পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি হরমোন বিভিন্ন মাত্রায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

পরীক্ষায় কয়েকটি হরমোন নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। স্বাভাবিক মৌসুমে আম গাছে যেমন মুকুল আসে মৌসুম ছাড়াই সেরকম মুকুল আনতে সক্ষম হই।

ড. জামাল জানান, দেশে বারোমাসি ‘বারি১১’ জাতের আম অনেক আগে থেকে দেশে চাষ করা হয়। কিন্তু তা বছরে শুধু একবারই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফল দেয়। তার স্বাদ মৌসুমী আমের তুলনায় ভিন্ন এবং ফলন অনেক কম। কিন্তু ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরের যেকোনো সময় ফল ধরানো যাবে। এর স্বাদ হবে মৌসুমী আমের মতোই। ফলনও সমান।  

ড. জামাল আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক নাগাড়ে সারা বছর না ফলিয়ে মৌসুম ছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আম ফলাবো। ফলে আম চাষিরা বাড়তি দাম পাবেন। আমরাও তুলনামূলক কম দামে আম খেতে পারবো। ‘অফ সিজনাল’ আমের বেশিরভাগ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এর দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। চারশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে ‘অফ সিজনাল’ আম কিনতে হয়।

এ পদ্ধতিতে আম ফলানোর জন্য গাছের বাড়তি কোনো পরিচর্যা করতে হবে না। তবে হরমোন প্রয়োগের আগে গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে দিতে হয়। গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় মেরে পানি স্প্রে করে পাতা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর হরমোন প্রয়োগ করতে হয় গাছের পাতা ও গোড়ার মাটিতে। হরমোন প্রয়োগের তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে।  

ড. জামালের তত্ত্বাবধানে সাভারের কাশিমপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম গাছে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। আগামী বছরের মধ্যে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে লাগানো হবে ৫ লাখ ফলদ বৃক্ষ

ঢাকা: উত্তরবঙ্গে ১০ শতাংশ দরিদ্র পরিবারের আয় বাড়াতে পাঁচ লাখ ফলদ বৃক্ষ রোপণ ও কৃষি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

রংপুর,কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার ৩৮ উপজেলায় ফলদ বৃক্ষ রোপণে বিপ্লব ঘটাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।  

এসব অঞ্চলের হাটবাজার, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, সেচ নালাও উন্নয়ন করা হবে।

অরবরই প্রকল্প এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম, আমলকি, আনারসম লেবু, কদবেল, নারিকেল, জামির, কাঁঠাল, লিচু, আঁশফল, কলা, আতা, কাকজাম, বাদাম, কামরাঙা, কুল, খেজুর, খুদিজাম, গাব, জামরুল, জলপাই, চেরি, চালতা, বরই, তাল, তেঁতুল, ডুমুর, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, বেল ও সফেদা চাষ করা হবে। বীজ থেকে শুরু করে সব ধরণের কৃষি উপকরণ বিতরণ করবে সরকার।
 


‘রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী তিন হাজার ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রকল্প এলাকায় ১৫ হাজার মাঠ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ৫০০ হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ৫০০ পাওয়ার স্প্রেয়ার ও ৫০০ ফুট পাম্প বিতরণ করবে সরকার।
 


দুই হাজার ১২০টি পাওয়ার থ্রেসার, ৪০০টি ট্রান্সপ্লান্টার ও ৫০০টি রিপার দেবে সরকার। দেয়া হবে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
 
ডিএই সূত্র জানায়, ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৮ উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে ফলদ বৃক্ষের পাশাপাশি ধান, গম ও ভুট্টা চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
 


উন্নত কৃষি বীজের অভাব, মাটির উর্বরতা রক্ষার অভাব এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি না থাকায় উত্তরবঙ্গ কৃষিতে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে জানায় ডিএই।
 
উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে নেয়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫০টি সেচ সাব প্রকল্প, ১৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ১১৫ কিলোমিটার গ্রাম সড়কে ১০টি ব্রিজ-কালভার্ট, ৩০টি কৃষি মার্কেট, ১২টি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ডিএই ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ বাংলানিউজকে বলেন, উত্তরবঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই ‘রংপুর বিভাগে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। আশা করছি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফলদ বৃক্ষ ও কৃষি উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্য আসবে উত্তরবঙ্গে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা চাষে লাভবান হবেন চাষীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সারিবদ্ধ গাছে গাছে ঝুলছে মাল্টা। প্রতিটি গাছে এতোবেশি মাল্টা ধরেছে যে ফলের ভারে গাছের ডালগুলো মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি নির্ভর উপজেলা বিজয়নগরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি কাজের ওপর নিভর্রশীল।

অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বছর দুই ধরে এখানে চাষ হচ্ছে মাল্টা। অল্প টাকা আর শ্রমে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে উপজেলার বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, পাহাড়পুর, হরষপুর, পত্তনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর জমিতে ৬২টি বাগানে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। সাইট্রাস ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট থেকে এখানকার কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা, সার, কীটনাশক এবং ওষুধ। চাষ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে মাল্টা চাষের ওপরের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। কথা হয় মাল্টা চাষি নিয়াজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি ৩০ শতাংশ জায়গায় ২৫০টি মাল্টা গাছ রোপণ করেছি। আগে মূলত এখানে আনারস, কাঁঠাল গাছ এবং বাঁশ বাগান ছিল। এগুলোতে বেশি লাভ না হওয়ায় দুই বছর ধরে মাল্টা চাষ করছি। প্রথমবার গাছে ভালো ফলন হয়েছে। এর আগে কোনো গাছে এতো ভালো ফলন হয়নি। আশা করছি, এবারও ভালো ফলন হবে আর মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হবো।

আলম হোসেন নামে আরেক মাল্টা চাষি বাংলানিউজকে বলেন, আগে ধান চাষ করতাম। আমার জমির পাশের জমিতে একজনকে দেখলাম মাল্টা বাগান করেছেন। সেটা দেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমার জমিতেও মাল্টা চাষ শুরু করেছি। ফলের দিক দিয়ে মাল্টা লাভজনক ফল।

মাল্টার পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মাল্টা গাছের চারপাশের আগাছা পরিষ্কার করলে এবং পোকার আক্রমণ দেখলে কীটনাশক স্প্রে করলেই গাছ সতেজ থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমে গাছে সেচ দিতে হয়।

মাল্টা চাষি মোহাম্মদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, দুই বছর আগে কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে মাল্টা চাষ শুরু করেছি। দুই বছর পর এবার প্রথম ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১০০/১৫০টি মাল্টা ধরেছে। আশা রাখি, একেকটি গাছ থেকে ১৫০০ হাজার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো।

তিনি বলেন, মাল্টা চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর বিক্রি করতে পারবো ৩০/৩৫ হাজার টাকার মতো। মাল্টা বাগানে সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘণ্টা শ্রম দিলেই চলে। মাঝে মধ্যে লাল সার, গুটি সার এবং কিছু কীটনাশক দিতে হয়। মাল্টা চাষের ব্যাপারে কথা হয় বিজয়নগর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থেকে ২০১৫ সাল থেকে সাইট্রাস জাতীয় ফল লেবু,  কমলা ও মাল্টা চাষ শুরু হয়। আমাদের উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে এসব চারা, সার, কীটনাশক, স্প্রে মেশিন বিনামূল্যে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। আমরা এর আগে কৃষকদের ট্রেনিংও দিয়েছি। এ বছর মাল্টার ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রতিটি বাগান থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মাল্টা বিক্রি করা যাবে। তাতে লাভবানও হবেন চাষিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নারিকেলে চাঙ্গা লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা উপকূলে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানকার ভূমিতে সয়াবিন, ধান ও সুপারির পাশাপাশি প্রচুর নারিকেল উৎপাদন হয়। এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে নারিকলের চাষ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় জীবনযাত্রার মানে গতি এনেছে। কর্মসংস্থানসহ জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখছে এ নারিকেল।

উন্নয়ন হয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এতে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

লক্ষ্মীপুরের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অর্থকারী ফসলের গাছ নেই। বাগানে সারি সারি গাছ ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা বসতঘরের আশেপাশে-পুকুরপাড়ে দেশীয় জাতের নারিকেল গাছ দেখা যায়। সারা বছর ধরে ওইসব গাছ থেকে নারিকেল সংগ্রহ করা হয়।

উৎপাদিত নারিকেল পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরিতে নারিকেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া তেল উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নারিকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষি নির্ভর জনপদে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জমির ফসল ও বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত নারিকেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন অসংখ্য পরিবার আছে যাদের বাড়ির ১৫/২০টি নারিকেল গাছ তাদের সংসার খরচ চালাতে সহায়তা করছে। অপরদিকে, যাদের নারিকেলের বাগান তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

চলতি বছরও এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নারিকেল কেনা-বেচায় এখন সরগরম লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজার। রাস্তার মোড়ে বসেও নারিকেল কেনা-বেচা করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারিকেল কিনেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে লক্ষ্মীপুর থেকে নারিকেল কিনছেন। ওইসব নারিকেল নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে লাখ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলার হাট-বাজারে সাপ্তাহিক দুইদিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রির জন্য নারিকেল উঠানো হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন নারিকেল বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদাই কিনে বাড়ি ফিরেন।

নারিকেলের প্রধান মোকামগুলা হলো- সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জ শহর, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার উল্লাহ বলেন, তার বাড়িতে ১৫টি নারিকেল গাছ আছে। প্রতিহাটে তিনি নারিকেল বিক্রি করতে পারেন। এভাবে সারা বছর নারিকেল বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

কমলনগর উপজেলার নারিকেল ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় নারিকেল ব্যবসা লাভজনক। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন। এতে তিনি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক কল কারখানা গড়ে না উঠায় ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০, রায়পুরে ৩৭০, রামগঞ্জে ৫২০, রামগতিতে ১৬০ ও কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। জেলায় এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার দাম প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নারিকেল উৎপাদের জন্য লক্ষ্মীপুরের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়। ভালা ফলন পেতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com