আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল রাবির গবেষকরা

প্রকৃতির মুক্তা’খ্যাত গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা দাবি করছেন, তারাই বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজনন করতে সক্ষম হলেন। এতে বিলুপ্তির পথে থাকা এ শামুক সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এ বছরের মার্চে শামুকটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার শোভনের হাত ধরে।

গবেষক ও গবেষণা সহকারী মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল কাফি ও রুপময় তংচঙ্গা নামের দুই শিক্ষার্থী রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি জায়গা থেকে দুটি গেছো শামুক সংগ্রহ করেন। গবেষণা শুরুর ৯ মাসের পরিশ্রমে এ সফলতা অর্জন হলো বলে জানান অধ্যাপক শোভন।

শামুকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর শামুকটি দিয়ে প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। পাঁচটি বাচ্চা পেয়েছি আমরা। শামুকটির আদি নিবাস আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। এটি লিগ্যাস প্রজাতির হতে পারে বলে ধারণা করছি।’

অধ্যাপক শোভন বলেন, ‘এর আগে দেশি শামুকের বিষয়ে একটি সার্ভে করেছি। সেখানে দেখতে পেয়েছি, এই গেছো শামুক খুবই দুর্লভ প্রকৃতির। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গায় আছে। দু’বছর ধরে খুঁজছিলাম; তবে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে অবশেষে পেয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই শামুকগুলো।’

দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০১৮ থেকে কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এরই অংশ হিসেবে এই শামুক সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক শোভন ও তার গবেষক দল। এ গবেষণা কাজে সহযোগিতা করেন কয়েকজন জাপানি গবেষক।

এই শামুক সংরক্ষণে কী প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে কী উপকার পাওয়া যাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষক শোভন বলেন, ‘উদ্ভিদের গায়ে কিছু ক্ষতিকর অণুজীব লেগে থাকে। সেগুলো খেয়ে উদ্ভিদকে রক্ষা করে এই শামুক।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেভিসসিসকো নামের একজন গবেষক সাধারণ শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পান।

পরিবেশ

এক বাড়িতে ৪০ মৌচাক

লেখক

একটি দুটি নয়, এক বাড়িতে মৌমাছিরা বেঁধেছে ৪০টি মৌচাক। এমন বিরল দৃশ্যের দেখা মিলেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে। ওই বাড়ির পাশে একটি দোকানের চারপাশজুড়েও বাসা বেঁধেছে মৌমাছি।

জানা গেছে, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী সেকেন্দার আলী বছর পাঁচেক আগে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই বাড়িতে গত তিন বছর ধরে মৌমাছিরা বাসা বাঁধতে শুরু করে। প্রতি বছরই বাড়ছে মৌচাকের সংখ্যা। বাড়িটির চারপাশজুড়ে রয়েছে সরিষা ক্ষেত। কর্মী মৌমাছিরা সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ঘুরে মৌ-রস সংগ্রহ করে। এই মৌ-রসকে বলা হয় নেকটার। নেকটার সংগ্রহ করে মৌমাছিরা তা মৌচাকে নিয়ে গিয়ে মধুতে রূপান্তরিত করে। এসব মৌমাছি কারও কোনো ক্ষতি করে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়িটির দোতলার কার্নিশের চারপাশজুড়ে মৌচাক। বাড়ির সামনে ছোট আমগাছেও মৌচাক রয়েছে চারটি।

সেকেন্দার আলীর স্ত্রী লতিফা বেগম জানান, প্রতি বছর সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে মৌমাছিরা এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। এ সময় বাড়ির পাশে প্রচুর সরিষা ক্ষেত থাকে। সরিষা মৌসুম শেষ হলে মেহগনি, আম, লিচুতে ফুল ধরতে শুরু করে। সেসব ফুল থেকেও মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে। ছয় মাসের মতো এ বাড়িতে থেকে চৈত্র মাসের দিকে চলে যায় ওরা। ওরা কাউকে কামড়ায় না।

তিনি আরও জানান, খাঁটি মধু সহজে মেলে না। এ কারণে তিনি মৌচাক থেকে সংগৃহীত মধু আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিয়ে থাকেন। প্রথম বছর ১৬টি মৌচাক বসেছিল। গত বছর বসেছিল ২৭টি। এ বছর ৪০টির মতো বসেছে। আরও সময় আছে। মৌচাক এ বছর আরও বাড়বে বলে ধারণা তার।

বাড়ির পাশেই একটি বাজার। নাম ‘কানাডা বাজার’। এ বাজারের একটি ছোট দোতলা ভবনের চারপাশজুড়ে বাসা বেঁধেছে মৌমাছি। বাজারের ব্যবসায়ী মজিদ শেখ, আবজাল হোসেন, সুজনসহ অনেকেই জানান, মৌমাছিরা কাউকে কামড়ায় না। বাজারে উড়ে বেড়ায়। মাঝেমধ্যে রাতে লাইটের আশপাশে ভনভন করে।

এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. নুরুজ্জামান জানান, মৌমাছি ফুলে ফুলে নেকটার সংগ্রহ করে। সেই নেকটারই তারা পরে মধুতে পরিণত করে। মৌমাছির চাক তৈরির কিছু উদ্দেশ্য থাকে। যে অঞ্চলে ফুলের সমারোহ বেশি থাকে, যেখানে থাকলে ফুলের নেকটার সংগ্রহ করা সহজ- এমন জায়গা পছন্দ করে তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

স্বাদে-ঘ্রাণে অনন্য কাপাসিয়ার গুড়

সুলতান উদ্দিনের বয়স এখন ৫২ বছর। ২২ বছর বয়স থেকেই তিনি আখের গুড়ের ব্যবসা করেন। এই ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় তাঁর ভাষ্য, কাপাসিয়ার আখের গুড়ের স্বাদই আলাদা। তিনি বলেন, ‘এই গুড়ের নিজস্ব একটা ঘ্রাণ আছে। অন্য গুড়ের মইদ্যে পাইতেন না।’

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জনপদ। এখানকার বেশির ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষির একটি বড় অংশজুড়ে আছে আখ চাষ। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে গত বছর ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এখানে পাঁচটি জাতের আখ চাষ হচ্ছে। কাপাসিয়া অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। আখের মিষ্টতা অনেক বেশি। ঈশ্বরদী ১৬, ঈশ্বরদী ২১, ঈশ্বরদী ২/৫৪, টেনাই, অমিত জাতের আখ চাষ হয় এখানে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী ১৬ জনপ্রিয়। এখানে বিস্তীর্ণ মাঠে আখ চাষ করতে দেখা যায়। কাপাসিয়ার তরগাঁও, রায়েদ, সিংহশ্রী, বারিষাব, টোক, কড়িহাতা, সনমানিয়া, ঘাগটিয়া, দুর্গাপুর, চাঁদপুরজুড়ে আখ চাষ হয়।

সম্প্রতি পথে যেতে যেতে দেখা হয় সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে। কাপাসিয়ার রায়েদ ইউনিয়নে সড়কের পাশে কয়েকজনকে নিয়ে আখ খেতে গুড় তৈরির কাজ করছিলেন তিনি। দুটি বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়ার কাজ করছিলেন তাঁরা। এসব কাজ দেখভাল করছিলেন আজিজুল হক। পাশে আখের ছোবড়াগুলো রোদে শুকানো হচ্ছিল। আখের রস জ্বাল দেওয়ার জন্য আখগাছের ছোবড়া ব্যবহৃত হয়।

আখ থেকে গুড় তৈরির বিষয়ে আজিজুল হক বলেন, আখ জ্বাল দেওয়ার পর তা ঘন হয়ে উঠলে টিনের তৈরি ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। উত্তাপ কমে এলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে গুড় জমাট বাঁধে। এ ছাড়া তরল গুড়ের রশিও বাজারে বিক্রি হয়। তরল গুড় বাজারজাতের উদ্দেশ্যে আলাদা বোতলে সংরক্ষণ করা হয়।বিজ্ঞাপন

কয়েক দশক ধরে সুলতান উদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন জায়গার আখ কিনে তা থেকে গুড় তৈরি করেন। এ বছর তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকার আখ কিনেছেন। সেগুলো থেকে উৎপাদিত গুড় যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সুলতান উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের গুড়ের সঙ্গে কাপাসিয়ার গুড়ের একটা পার্থক্য আছে। এই এলাকার আখ যেমন মিষ্টি, তেমনি মিষ্টি গুড়। ঘ্রাণটাও মিষ্টি।

এসব গুড় পাইকারি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বলে জানালেন সুলতান। তিনি বলেন, অনেকেই গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে মিষ্টতা বাড়ান। কিন্তু কাপাসিয়ার গুড়ে চিনি না মিশালেও চলে। তিনি কখনোই চিনি মেশান না। আখের মান ভালো হলে প্রতি খোলা (গুড় জ্বাল দেওয়ার কড়াই) থেকে ৪০-৫০ কেজির মতো গুড় পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার-পাঁচটি গুড়ের খোলা ওঠানো সম্ভব। তার এসব কাজে সারা বছর অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সব সময় যুক্ত থাকেন।

বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। ছবিগুলো সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকা থেকে তোলা
বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। ছবিগুলো সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকা থেকে তোলা

এই এলাকায় আখ চাষ হয় বহু বছর ধরে বলে জানালেন রায়েদ গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া। বলেন, শুধু গুড় না, চিবিয়ে খেতেও কাপাসিয়ার আখ খুব ভালো। এক একটা আখ আকারভেদে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। একই গ্রামের মো. মোজাম্মেল হক বলেন, কাপাসিয়া এলাকার মাটির একটা বিশেষ গুণ আছে। বিশেষ করে লাল মাটির আখ অনন্য স্বাদের হয়।

কাপাসিয়ায় প্রতিবছর আখ উৎপাদন বাড়ছে। ফলে আখচাষির সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান কাপাসিয়া উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে। তবে এ বছর উৎপাদন অনেক বেশি বাড়বে। গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় এই খাতে উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে অনেক কৃষক আখ চাষে নামছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com