আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষ দ্বিগুণ বাড়তে পারে

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষ দ্বিগুণ বাড়তে পারে

আধপেটা খেতে পায়, ক্ষুধা পেটে রাতে ঘুমাতে যায় —গত বছর বিশ্বে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ। কোভিড-১৯–এর জেরে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সংখ্যাটা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

তীব্র খাদ্যসংকটে বা তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় থাকা মানুষদের গত বছরের খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস–২০২০’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে। এই মানুষেরা বিশ্বের ৫৫টি দেশের বাসিন্দা। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে।

বিশ্বে তীব্র ক্ষুধার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ (ডব্লিউএফপি) মোট ১৬টি সংস্থা ২০ এপ্রিল এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোভিড-১৯ দুর্যোগের আগেই প্রতিবেদনের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

তবে প্রতিবেদনে শঙ্কা জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিশ্বজোড়া সংকটের প্রভাব খাদ্য ও ক্ষুধার ওপরেও পড়বে। আর তীব্র খাদ্যসংকট বা অনাহারের সঙ্গে অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রকটতর হবে।

এদিকে ১৬ এপ্রিল ডব্লিউএফপির বার্তা প্রকাশের ওয়েবসাইট ইনসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেটা বলছে, আশু ব্যবস্থা না নিলে কোভিড–১৯–এর কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বে তীব্র ক্ষুধা বা তার চেয়েও খারাপ সংকটে থাকবে ২৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ক্ষুধা-বিপন্ন মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

ওই নিবন্ধে ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ আরিফ হোসেনকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, নতুন এই হিসাব থেকে সামনের বিপর্যয়ের একটা ধারণা পাওয়া যায়। অনাহারের ঝুঁকিতে থাকা লাখ লাখ মানুষ করোনাভাইরাস অথবা এর অর্থনৈতিক পরিণতির শিকার হতে পারে।

এই অর্থনৈতিক ঝুঁকির নাম কাজ ও উপার্জন হারানো। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ইতিমধ্যেই কমেছে। ওই সাক্ষাৎকারে আরিফ আরও বলেছেন, সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্য এবং দেশে দেশে পণ্য চলাচল বন্ধ হলে বিপত্তি বাড়বে। খাদ্যনিরাপত্তা বিরাট ঝুঁকিতে পড়বে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, বড় দুর্যোগের সময় খাদ্যসংকট হওয়া স্বাভাবিক। তবে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে বন্যা আসার আগে হাওরের ধান কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান খাবার চালের এবার উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। মজুতও যথেষ্ট পরিমাণে আছে। সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে গরিব মানুষদের চাল দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে। প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে।

গত বছরে ক্ষুধার চিত্র

বিশ্ব খাদ্যসংকটের প্রতিবেদনটি এই ধারার চতুর্থ প্রতিবেদন। সেটা বলছে, এমনিতেই ২০১৯ সালে আগের তিন বছরের চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ অনেক বেশি ছিল। দেশ ও অঞ্চলও বেড়েছিল।

গত বছর তীব্র ক্ষুধার পেছনে মূল কারণ ছিল যুদ্ধ-সংঘাত। বড় কারণ ছিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর অর্থনৈতিক সংকট। শরণার্থী বা উদ্বাস্তু থাকা দেশগুলোতে খাদ্যসংকটে ভোগা মানুষ বেশি ছিল।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষুধা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে কক্সবাজারের পরিস্থিতি আলাদা করে দেখা হয়েছে। বলা হয়েছে, সে জেলায় মোট ১৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য ও পুষ্টিসংকটে ভুগছে। তাদের দুই-তৃতীয়াংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী।

বাদবাকি প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য। শরণার্থীদের চাপে তাদের কর্মসংস্থান কমেছে, সম্পদ কমেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হওয়ায় নদীতে মাছ ধরার মতো জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তীব্র খাদ্যসংকটের আরেক নাম পুষ্টিহীনতা। তীব্র ক্ষুধাপীড়িত ৫৫টি দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৭ লাখ শিশু শীর্ণ বা কৃষকায়। অপুষ্টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে খর্বকায় হওয়ার হার। বিশ্বে সাড়ে সাত লাখ শিশু এমন।

বাংলাদেশে এই বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশ খর্বকায়। এটা বাংলাদেশের সার্বিক পুষ্টি পরিস্থিতির একটা ধারণা দেয়।

এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে এদিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ৪১ শতাংশ অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী খর্বকায় শিশু নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইয়েমেন ও পাকিস্তানের (৪৭ শতাংশ)।

বাংলাদেশের মাত্র ৭ শতাংশ এই বয়সী শিশু বেড়ে ওঠা এবং সব রকম বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পায়। শিশুর পুষ্টির সঙ্গে খাদ্যশক্তি, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাল ছাড়াও আমাদের অন্য যেসব খাদ্য আছে, সেগুলোর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্ব খাদ্য মন্দা ও সংকট শুরু হলে তার প্রভাব দেশে যাতে না পড়ে, সে জন্য সরকারকে এখনই জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষি খাতে প্রণোদনা দেওয়া দরকার, সরকার সেটা দিচ্ছে। তবে তা যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, বড় বিপদে এসব উদ্যোক্তা আমাদের সবচেয়ে বড় সহায় হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

আঙিনা কৃষি

টবে লাগান মিষ্টি তেঁতুল গাছ

পৃথিবীতে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদ বৈচিত্র। চাষবাসের জমিরও সংকুলান ঘটছে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে। গগনচুম্বী বাড়ি ঘিরে ফেলছে সমস্ত ফাঁকা জমিন। শখ করে মানুষ খোলা জায়গায় যে গাছ লাগবে অথবা ফল-ফুলের চারা সেই উপায়ও আর নেই। গাছ লাগানোর জন্য সামান্য জায়গাও ফাঁকা থাকছে না আর। তবে আমাদের করণীয় কী? বৃক্ষরোপন কি তবে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। বেঁচে থাকার জন্য তো গাছ লাগাতে হবেই। বাড়ির একটুকরো বারান্দা অথবা ব্যালকনিতেও সুন্দর ভাবে ইচ্ছা করলে গাছ লাগানো যায়। বাড়ির ছাদেও বানানো যায় সুন্দর বাগিচা। শহরের মানুষদের জন্য ছাদ বাগানের কোনও বিকল্পও নেই। বাড়ির মধ্যেকার ব্যালকনি অথবা ছাদের একটুকরো জমিতেও, ইচ্ছা করলে টবে চাষ করা যায় বিভিন্ন ফুলের ও ফলের গাছ।

শাকসবজি, পেয়ারা, লেবু প্রভৃতি দেশীয় গাছ টবে বাড়তে দেওয়া থেকে শুরু করে বর্তমানে বহু বিদেশী গাছের চারাও মানুষ ব্যালকনি অথবা ছাদে চাষ করছেন। তার মধ্যে থাই মিষ্টি তেঁতুল টবের চাষ পদ্ধতি হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রথমত মিষ্টি তেঁতুলের চাষ করতে গেলে, নার্সারি থেকে এই বিশেষ তেঁতুলের সঠিক বীজ নিয়ে আনতে হবে। তবে থাই মিষ্টি তেঁতুলের কলম পাওয়া একটু দুষ্কর কাজ। বুঝে সঠিক চারা নিয়ে আসা বাগান মালিকের উপরেই বর্তায়।

থাই মিষ্টি তেঁতুলের ফুল থেকে ফল ধরতে প্রায় ৭ মাস সময় লাগে। বছরে দু’বার থাই মিষ্টি তেঁতুলের গাছে ফল ধরে। প্রথমবার বর্ষাকালে এবং দ্বিতীয়বার শীতকালে। এই গাছের পরিচর্যা আলাদা করে করার কোনও দরকার পড়ে না। গাছের যত্নআত্তি নিতে হয় ঠিকই, কিন্তু তা বলে, আলাদা করে কোনও বিশেষ যত্ন নিতে হয় না।

গাছ লাগানোর পদ্ধতি (Planting):

থাই মিষ্টি তেঁতুল চাষের জন্য আদর্শ মাটি হল, দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি। এই দু’টি মৃত্তিকার মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিন। তারপর বেছে নেওয়া মাটির দুই ভাগ অংশের সাথে গোবর, ১০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০ গ্রাম, পটাশ, ২৫০ গ্রাম, হাড়ের গুঁড়ো এবং ৫০ গ্রাম সরিষার খোল একসঙ্গে মিশিয়ে ২০ ইঞ্চি মাপের বড় টবে জল মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। ১০ থেকে ১২ দিন পর টবের মাটি ভালো করে খুঁচিয়ে দিয়ে আরও ৪-৫ দিন রেখে দিতে হবে। ৪ থেকে ৫ দিন বাদে মিষ্টি তেঁতুলের একটি ভালো চারা ওই টবে লাগান।

পরিচর্যা(Caring):

চারা লাগানোর প্রথম কয়েক মাস তেমন যত্নের দরকার পড়বে না। অবশ্যই গাছে এই সময়টুকু পর্যাপ্ত জলের যোগান, এবং আগাছা পরিষ্কারের কাজ করতে হবে।  ছয় মাস চারা লাগানোর সময়সীমা ফুরোলেই ১ মাস বাদে বাদে গাছে সরষের খোল মিশ্রিত পচা জল দিতে হবে। মনে রাখতে  হবে খোল দেওয়ার আগে গাছের মাটি খুঁচিয়ে নিতে হবে।

রোগ দমন (Disease management):

সাধারণত থাই মিষ্টি তেঁতুল গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায় না। কিন্তু বর্ষাকালে অনেক সময় তেঁতুল গাছে ছত্রাক হানা দেয়। এর ফলে তেঁতুল ফেটে যায়। এই অসুবিধার থেকে গাছকে বাঁচাতে হলে, বর্ষাকাল আসার আগেই ভালো ছত্রাকনাশক ওষুধ ১০ দিন অন্তর গাছে স্প্রে করে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বাংলার বেজায় টক তেঁতুলের সঙ্গে থাই মিষ্টি তেঁতুলের কোনও তুলনাই চলে না। অত্যন্ত মিষ্টি খেতে এই তেঁতুল থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় চাষ প্রভূত পরিমাণে হলেও, আমাদের রাজ্য এই ফলের চাষ এখনও ততটা গতি পায়নি। কিন্তু আপনি আপনার ব্যালকনি অথবা ছাদে সহজেই এই থাই তেঁতুলের গাছ লাগাতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বাঁশ চাষে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি, জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

বাঁশ একটি সপুষ্পক, স্থায়ী এবং চিরসবুজ উদ্ভিদ, যা Poaceae এর ঘাস পরিবারের অন্তর্গত। এটি একটি বহুমুখী, শক্তিশালী, পুনর্নবীকরণযোগ্য | সেইসাথে পরিবেশ বান্ধব উপাদান যা সহজেই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাষ করা যায়। বাঁশকে পৃথিবীতে দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কাঠের উদ্ভিদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ফসলের মধ্যে বাঁশ অন্যতম এবং এটি ‘দরিদ্র মানুষের কাঠ’ হিসেবেও পরিচিত | চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁশ উৎপাদনকারী দেশ। দেশে বার্ষিক বাঁশের উৎপাদন আনুমানিক ৩.২৩ মিলিয়ন টন |

এশিয়ায়, বাঁশ সংস্কৃতির সবচেয়ে সংহত অংশ এবং এটি কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র, সজ্জা এবং পাতলা কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভারত নিতান্তই খুব ভাগ্যবান যে এখানে বাঁশের উৎপাদন সবচেয়ে ভালো । সর্বোপরি, বাঁশের কান্ডগুলি খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় এবং পুষ্টির ভাল উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। দেশের উত্তর -পূর্ব রাজ্যগুলি প্রধান বাঁশ উৎপাদনকারী রাজ্য। যদিও দেশে প্রায় ১৩৬ প্রজাতির বাঁশের অস্তিত্ব রয়েছে, তবুও তাদের মধ্যে কয়েকটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব।

জলবায়ু(Climate):

বাঁশ বাগান গরম থেকে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়। তবে এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে গ্রীষ্মে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না | যেহেতু বাঁশের পাতলা শিকড় এবং যথেষ্ট বৃদ্ধি আছে, তাই এটিকে সবসময় শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বা ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও, যে অঞ্চলে ঠান্ডা বাতাস আসে সেখানে বাঁশ চাষের জন্য উপযুক্ত নয় |কারণ শৈত্যপ্রবাহে বাঁশের পাতা শুকিয়ে মরে যেতে পারে |

মাটি(Soil):

সাধারনত, বাঁশগুলি কলম কাটিং বা রাইজোমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। কিন্তু এগুলি বীজের মাধ্যমেও বংশ বিস্তার করা যায়, যা খুব কমই পাওয়া যায় | বাঁশের চারাগুলি মূলত নার্সারিতে বেড়ে ওঠে  এবং ১ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সেগুলিকে  মাটি ভর্তি পাত্রগুলিতে বাড়তে দেওয়া হয়। পরে চারা মূল জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। রাইজোম রোপণ পদ্ধতিতে একটু যত্নের প্রয়োজন হয়। এখানে, শিকড় সহ ১ বছরের কলম খনন করে ১ মিটার আকারে কাটা উচিত এবং বর্ষায় রোপণ করা উচিত।

রোপণ পদ্ধতি(Plantation):

সাধারণত বর্ষায় বাঁশের চারা রোপণ করা হয়। ৬০*৬০ আকারের মাটিতে গর্ত খুঁড়তে হবে | ৫*৪  মিটারের জায়গায় নার্সারি থেকে নিয়ে আসা চারা রোপণ করতে হবে। ১ একর জমিতে প্রায় ২০০ টি বাঁশের চারা একসাথে লাগানো যেতে পারে | বাঁশ রোপণে বেড়ে ওঠার সময়কাল ৫ বছর। অতএব আদা, মরিচ বা হলুদের মতো সাথী ফসস্ল অনায়াসে চাষ করে কিছু অতিরিক্ত আয় করা যায় | তাই, প্রথম ৩ বছরের মধ্যে বাঁশের সাথে এই সাথী ফসলগুলি সহজেই চাষ করা যেতে পারে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

উচ্চ মানের এবং সর্বোত্তম ফলনের জন্য, সার ব্যবহার করা হয়। যখন মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় তখন সার এবং কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ | যেহেতু বাঁশ গাছগুলি ভারী খাদক, এমনকি খুব উচ্চ মানের মাটিও হার মেনে যাবে যদি এই চাষে সার প্রয়োগ করা না হয় | কিন্তু সবসময় ফসল তোলার পর সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং গাছে সেচ প্রদান করার আগে | পটাসিয়াম এবং নাইট্রোজেন সার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান | এই ২ সারের প্রয়োগে যার কারণে বাঁশ গাছ বেড়ে ওঠে। এছাড়াও অবশ্যই সবুজ সার, জৈব কম্পোস্ট, কাঠের ছাই এবং রাসায়নিক সার পরিমাণমতো ও প্রয়োজনমতো প্রয়োগ করতে হবে। পাতা কামড়ানো এবং পাতার রস চুষে খেয়ে নেওয়া পোকামাকড় দেখা যায় | তাই এই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ(Irrigation):

নার্সারিতে  বাঁশ জন্মানোর সময় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। নার্সারি থেকে মূল জমিতে চারা রোপণের সময় অবিলম্বে জল সরবরাহ করতে হবে। এটি অবশ্যই লক্ষ করা উচিত যে বাঁশের গাছ জলাবদ্ধতার জন্য সংবেদনশীল তাই বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার সময় মাটি বের করতে হবে। জলের ভাল ব্যবহারের জন্য  ড্রিপ সেচ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে |

ফসল সংগ্রহ(Harvesting):

পঞ্চম বছর থেকে ফসল কাটা শুরু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে, ৬ বছর থেকে ফসল তোলা আবশ্যক।  প্রথমবার  ষষ্ঠ বছরে ৬  টি কলম এবং এরপর ৭ বছরে ৭ টি কলম কত হয় এবং পরবর্তীতে এভাবে চলতে থাকে | ১  একর বাঁশ রোপণের জন্য ৫ বছরে  খরচ  প্রায় ৯৪০০  টাকা। বাঁশ চাষ থেকে ফলন এবং আয়, প্রতি ৬ বছর থেকে বৃদ্ধি পায়। অতএব আমরা বলতে পারি যে বাঁশ হল একটি লাভজনক ফসল যার দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম অর্থনৈতিক পুনরাবৃত্তি লাভ দেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের ভালো ফলনের জন্য বীজ শোধনের পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গ আউশ, আমন ও বোরো এই তিন মৌসুমে প্রতি বছর ১৫-১৬ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন করে। খরিফ ধান (আউশ ও আমন) মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ। বোরো ধান সাধারণত খাল বা সেচ সুবিধার উপর নির্ভরশীল জমিতে চাষ করা হয়। ধান চাষে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কৃষকের লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বৈজ্ঞানিক প্রথায় ও আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু খুটিনাটি বিষয়েও কৃষককে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে মিলবে শতভাগ সফলতা। 

ভালো চারা তৈরীর একটি বিশেষ উপাদান হল ভালো বীজ। আমরা বীজ কিনে ভালো মন্দ বীজ পরখ না করে, বাছাই না করে সব বীজ বুনে দিই। বীজতলাতে আর চিটে বা স্বল্প পুষ্ট বীজ থেকে যে দুর্বল চারা বার হয় তাও মূল জমিতে রোপন করে দিই, কারণ একটা সময় পর সেই চারা তো আর আলাদা করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না । তাই সামান্য একটু সময় ব্যয় করে বীজ বাছাই করে নিয়ে তার সাথে সাথে যৎসামান্য খরচ করে বীজবাহিত রোগ থেকে বীজ কে মুক্ত করার লক্ষ্যে বীজ শোধন করে নিতে হবে ।

বীজ ধান বাছাই (Paddy seed sorting) – 

১.৩ কেজি খাদ্য লবন ৮ লিটার জলে দ্রবীভূত করে, তার মধ্যে বীজ ধান ঢেলে দিতে হবে। দ্রবণে ভেসে ওঠা অপুষ্ট ধান ফেলে দিতে হবে ও ডুবে যাওয়া পুষ্ট ধান বীজ হিসাবে উপযুক্ত বলে তা তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধোয়ার পর শুকিয়ে নিতে হবে ।

এইভাবে ৮ লিটার দ্রবণে ২০-৩০ কেজি বীজ ধান বাছাই করা যায় । এরপর প্রতি কেজি বীজ শোধনের জন্য ৪-৫ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি বা ২ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন বা ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম -৪৫ (ম্যানকোজেব), ঝলসা প্রবন এলাকায় ১.৫ গ্রাম ট্রাইসাইক্লাজোল অথবা ব্যাক্টেরিয়া ধ্বসা প্রবণ অঞ্চলে ১ গ্রাম স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন প্রতি ১০ লিটার জলে মিশিয়ে শোধন করতে হবে । যদি বীজ শোধন না করেই বীজ ফেলা হয় সেক্ষেত্রে চারা তোলার পর লাগানোর পূর্বে গামলা বা বালতিতে ওষুধ গুলে তাতে ১০ মিনিট শিকড় ডুবিয়ে রোয়া করা যেতে পারে।

বেশ কিছু অঞ্চলে আগাছা একটা বিরাট সমস্যা । ভালো চারা তৈরী করতে গেলে বীজতলা আগাছামুক্ত রাখতে হবে । তার জন্য কয়েকটা বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন –

বীজতলা আগাছামুক্ত (Weed management) –

১) বীজতলার জন্য এমন জমি নিতে হবে যেখানে সাধারনভাবেই আগাছা কম হয় ।

২) অনেক সময় বীজতলায় জৈবসারের মাধ্যমে আগাছা বীজ চলে আসে, সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে, প্রয়োজনে নিজের জন্য জৈবসার নিজেই তৈরী করুন ।

৩) যে জমিতে বীজতলা তৈরী করবেন, বপনের ১৫ দিন আগে সেই জমি ভিজিয়ে ৭ দিন রেখে দিন, দেখা যাবে বেশ কিছু আগাছা বেড়িয়েছে তখন চাষ দিয়ে দিন এবং এর পর আরো ৭ দিন রেখে দিন । দেখা যাবে আরও কিছু আগাছা দেখা যাচ্ছে তখন মই ও লাঙল দিয়ে বীজতলার জমি তৈরী করুন ।

৪ ) নমিনিগোল্ড / অ্যাডোরা / মংআচো / তারাক এই আগাছানাশকটি ১ কাঠা বীজতলার জন্য মোট ৩ লিটার জলে ২ মিলি প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ ১ বিঘা জমির জন্য ৬০ লিটার জল ব্যবহার করতে হবে আর ৪০ মিলি ঔষধ।

অনেকসময় বীজতলায় রোগ বা পোকার উপদ্রব দেখা যায় সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে পাদান ১ গ্রাম বা অ্যাসিফেট ০.৭৫ গ্রাম বা ট্রয়োজোফস ১ মিলি প্রতি লিটার জলে স্প্রে করা যেতে পারে। ঝলসা, বাদামী দাগ, গোড়াপচা ইত্যাদি রোগ লাগলে আইসোপ্রোথিওলেন ১ মিলি, বা ট্রাইসাইক্লাজোল (বীম বা টুপার) ০.৫ গ্রাম অথবা সাফ বা কমপ্যানিয়ান ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে স্প্রে করুন ।

চারা তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা – 

চারা তোলার সময় মোটামুটি যত মাসের ধান তত সপ্তাহের চারা তুলতে হবে। তার আগে হলে আরো ভালো কারণ সুস্থ সবল কম বয়সী চারাই আমাদের উদ্দেশ্য । চারা তোলার ৬-৮ ঘন্টা আগে বীজতলায় ১০ সেমি জল রাখতে হবে। চারা তোলার ২ দিনের মধ্যে অবশ্যই রোয়া করা উচিৎ ।

অনেক সময় পোকার ডিম বা রোগ থেকে চারাকে মুক্ত করার জন্য চারার ডগার দিকে কিছুটা ছিঁড়ে ফেলা হয়। যেভাবে চার তোলা হয় অনেকসময়ই প্রচুর চারার শিকড় ছিঁড়ে যায় এবং এই অবস্থাতেই আমরা মূল জমিতে রোয়া করি । বীজতলা তো সামনা একটু জায়গা । তাই বীজতলাতে ভালো করে বেশী বেশী করে জৈবসার দিয়ে ভালো করে মাটি তৈরী করতে হবে যাতে মাটি আলগা থাকে, চারার বৃদ্ধি ভালো হয় আবার চারার শিকড় অটুট থাকে। ভালো ফলনের জন্য ভালো চারা সবচেয়ে জরুরী । সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী নজর দিতে হবে।

সবশেষে কৃষক বন্ধুদের জন্য বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ হল –

সুস্থ সবল মোটা চারা তৈরী করুন, শিকড় সমেত কম বয়সী চারা ফাঁকা ফাঁকা রোয়া করুন আর গুছিতে কম চারা দিন যাতে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগীতা কম হয় এবং ভালো ফলন নিশ্চিত করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা চাষে সফল হতে চান মোস্তফা

কুড়িগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বোর্ডের হাট গ্রামের তালতলা এলাকায় মাল্টার চাষ করেছেন মোস্তফা কামাল।

এই গ্রামের পাকা রাস্তা সংলগ্ন এক বিঘা জমিতে দুই বছর আগে ৫০টি পেয়ারের চারা রোপণের পাশাপাশি ৪০টি মাল্টার চারাও রোপণ করেছেন মোস্তফা। গাছ লাগানোর প্রথম মৌসুমে মাল্টার ফলন ভালো না হলেও দ্বিতীয়বার মাল্টার ভালো ফলন হওয়ায় ওই বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে আসছেন।

সম্প্রতি ওই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, এক একটি গাছে ২০-৪০টি করে মাল্টা ঝুলছে। মাল্টার ওজনে নুইয়ে পড়েছে বেশির ভাগ গাছ। এসময় বাগানের পরিচর্যাকারী স্থানীয় বাসিন্দা খতিযবর রহমানের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়। বাগানের পরিচর্যাকারী খতিযবর রহমান বলেন, ‘মোস্তফা ভাইয়ের এই মাল্টা বাগানের পাশেই আমার নার্সারি। নার্সারি দেখাশোনার পাশাপাশি আমি মাল্টা বাগানেরও পরিচর্যা করি।

মাল্টার গাছ লাগানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি এক মণ মাল্টা বিক্রি করেছেন। আশা করি আরও ৫-৭ মণ মাল্টা বিক্রি করবেন। তবে নাগেশ্বরী উপজেলায় এটিই প্রথম মাল্টা বাগান। অনেক লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন এই মাল্টা বাগান দেখতে।

বাগান দেখাশোনা করতে আসা চাষি মোস্তফার ছেলে স্কুল পড়ুয়া মিরাজ (১২) বলেন, এটি আমার বাবার তৈরি মাল্টা বাগান। আমি পড়ালেখার নিয়মিত বাগানে এসে মাল্টা গাছের পরিচর্যা করি। মাল্টা বাগানে এলে আমার খুবই আনন্দ লাগে। বাগান থেকে আমার বাবা কিছু মাল্টা বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের সবাই আমরা এই বাগানের মাল্টা খাই। আশা রাখি বাবা এই বাগানের মাল্টা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হবে।

jagonews24

মাল্টা বাগানে ঘুরতে আসা স্থানীয় দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি জানান, আমি সুযোগ পেলেই এই বাগানে ঘুরতে আসি। এই প্রথম এলাকায় এতো সুন্দর একটি মাল্টা বাগান হয়েছে। বাগানে ঢুকলেই গাছ ভর্তি মাল্টা দেখে খুবই ভালো লাগে। তবে চাষি মোস্তফা চাচাকে অনুসরণ করে পাশের গ্রামেও একজন মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।

মাল্টা চাষি মোস্তফা কামাল (৪৫) জানান, ২০১৯ সালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম মাসুদ রানা স্যারের পরামর্শে মাল্টা চাষ শুরু করি। এক বিঘা জমিতে ৫০টি পেয়ারের চারা রোপণের পাশাপাশি ৪০টি মাল্টার চারাও রোপণ করি।

jagonews24

ওই বছর মাল্টার ফলন ভালো না হওয়ায় মাল্টা ছিড়ে ফেলে দিতে বাধ্য হই। তবে এ মৌসুমে প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মাল্টা ধরেছে। এটা মুলত গ্রিন মাল্টা। ইতিমধ্যে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বাগানের ৬০ কেজি মাল্টা বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছি।

তিনি আরও বলেন, যদি হলুদ মাল্টার আমদানি কমিয়ে ক্রেতাদের গ্রিন মাল্টার চাহিদা বাড়ানো যায় তাহলে আমারমতো অনেক কৃষকই গ্রিন মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের উন্নতি করতে পারবে।

jagonews24

জানা যায়, দুই বছর আগে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কৃষক মোস্তফা কামাল বারি-১ মাল্টা প্রদর্শনী প্লট তৈরি করেন। মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া যায় কৃষি কর্মকর্তার দেয়া এমন ধারণা থেকে তিনি উদ্যোগ নেন মাল্টা চাষের। তিনি নিজের ১ বিঘা জমিতে বারি -১ জাতের ৪০টি চারা গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান শুরু করেন। তার কাজে উৎসাহ দিতে কৃষি অফিস থেকে এসব মাল্টার চারা ও সার বিনা মুল্যে সরবরাহ করা হয়।

jagonews24

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে গ্রিন মাল্টা চাষ করেছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে জেলায় ৯ মেট্রিক টন মাল্টা চাষ হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারণ হওয়ায় জেলাজুড়ে ৯ হেক্টর জমিতে গ্রিন মাল্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। যদিও মাল্টা চাষের কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদে বেদানা চাষের সহজতম পদ্ধতি

বেদানা খেতে কার না ভালো লাগে। ছোট থেকে বড় বেদনার প্রতি আকর্ষণ সব্বার। দানাদার এই ফলের বীজ মুখের মধ্যে দিলেই, সুমিষ্ট রোষে মন উতলা হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে অত্যন্ত বলবর্ধক এই ফল, রুগীদের পথ্য হিসাবে আদর্শ। বাজারেও এর চাহিদা থাকায়, এই ফলের চাষ বহুল পরিমাণে আমাদের রাজ্যে হয়। তবে বাড়ির ছাদে এই ফলের চাষ নিয়ে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। সহজে, বুদ্ধিমত্ততার প্রয়োগে এই ফলের চাষ বাড়িতেও করা যায়। অনেকেই বাড়ির ছাদে ইদানিং এই ফলের চাষ নিয়ে মেতে উঠেছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাড়ির ছাদে বেদনা চাষের সহজতম পদ্ধতি। যা শিখে আপনি আপনার পাড়া-পড়শীকেও তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ছাদে বেদানার চারা লাগানোর জন্য প্রথমে ভালো মানের টব সংগ্রহ করতে হবে। গাছের গোড়ায় যাতে জল না জমতে পারে, তারজন্য টবের তলায় তিন থেকে চারটি ফুটো করে নিয়ে সেগুলি স্টোন চিপস দিয়ে ভালোভাবে বুজিয়ে দিতে হবে। ছাদে রোদ পড়ে এমন জায়গায় ডালিমের টবটিকে রাখতে হবে।

প্রস্তুতি কালে বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের চূর্ণ ভালো করে মিশিয়ে টবে জল দিয়ে প্রায় ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। পনেরটা দিন কাটলে টবের মাটি খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। এরপর ৫ থেকে ৬ এরকম আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপরেই লক্ষ্য করা যাবে টবের মাটি ঝুরঝুরে হয়ে আসবে। ঠিক সেইসময় বেদানার কলমের চারা টবে পুঁততে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সোজা করে বসিয়ে যেন বেদানার চারা রোপণ করা হয়। সরু লাঠি দিয়ে চারাটিকে এরপর বেঁধে দেওয়া উচিত। চারা রোপণের শুরুর দিকে জল অল্প দিলেই চলবে। পরবর্তী কালে জল দেওয়ার পরিমাণ চারাতে বাড়াতে হবে। গাছের গোড়ায় কখনোই যাতে জল না জমে তাতে নজর রাখা উচিত।

বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪-৫ মাস হয়ে গেলে, এক মাস অন্তর সরিষার খোল পচা জল গাছে দেওয়া উচিত। সরিষার খোল ১০ দিন ভালো রূপে জলে ভিজিয়ে নিয়ে সেই পচা খোলের জল হালকা ভাবে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করে নিতে হবে। টবের কিছুটা মাটি ১ বছর হয়ে গেলে বদলে দিতে হবে। মাটি যখন বদলাতে হবে সেই সময়কাল বর্ষার শেষ ও শীতের আগে যাতে হয় তাতে খেয়াল রাখা উচিত। মাঝে মধ্যেই টবের মাটি খুঁচিয়ে উল্টে পাল্টে দেওয়া উচিত।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

সার প্রয়োগ (Fertilizer)


বেদানার চারা বসানোর আগেই টবে দেওয়া মাটির গর্তে সার দিয়ে নিতে হবে। প্রত্যেক বছর নিয়ম করে এই । গর্ত করার ৮-১০ র প্রয়োগ করা উচিত, এতে গাছের ফলনের মান উন্নত হবে। নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করলে বেদনা গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হবে।

সারের নাম সারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম
টিএসপি ১০০ গ্রাম
এমওপি ১০০ গ্রাম
জিপসাম ৭০ গ্রাম
১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। ওই পরিমাণ সার ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে মে- জুন মাসে এবং দ্বিতীয় বারে সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে গাছের গোড়ায় সারগুলি প্রয়োগ করতে হবে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ফল সংগ্রহ: (Harvest)

৩-৪ বছর বয়স থেকেই বেদনা গাছে ফল আসতে শুরু করে। ফল পাকতে প্রায় ৬ মাসের মতো সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি বর্ণ নিলেই ফল পেড়ে নিতে হবে। ফল গাছে বেশিদিন থাকলেই তা ফেটে যেতে পারে। বেদনার খোসা অত্যন্ত শক্ত হওয়ার জন্য এই ফল অনেকদিন জমিয়ে রাখা যায়।

ফলন:(Yield)


চার-পাঁচ বছর বয়স হয়ে গেলেই ডালিম গাছ ফল দিতে শুরু করে। তবে জেনে রাখা ভালো প্রথম দিকে এই গাছ ভালো ফলন দেয় না। গাছের বয়স ৮ থেকে১০ বছর হয়ে গেলেই পরিপুষ্ট ডালিম গাছে আসতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডালিম গাছের ফলনও বেড়ে যায়। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একটা বেদনা গাছ কম করে ২০০ টির মতন ফল দিতে পারে। কম করে ৩০ বছর বেদনা গাছ অত্যন্ত ভালো মানের ফলন দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com