আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বিশে ক্ষয় একুশে জয়

মহাকালের অমোঘ নিয়মে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরও একটি বছর। শুরু হয়েছে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। নানা দিক থেকেই ২০২০ সালটি ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। এর মধ্যে বছরজুড়ে আলোচিত ছিল করোনা মহামারির তাণ্ডব।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ভাইরাসটি গত ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত হাজার ৫৯৯ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। শুধু প্রাণহানিই নয় ভাইরাসকেন্দ্রিক নানা দুর্ভোগ বছরজুড়েই ভুগিয়েছে। যা এখনো চলমান। নানা সংকটের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের মতো সুসংবাদও শুনেছে দেশবাসী। এটি আমাদেরকে আশান্বিত করে।

 সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে একদিকে পাহাড়সম বেকারত্ব বাড়ছে অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে হাজার হাজার শূন্য পদ থেকে যাচ্ছে। এগুলোতে নিয়োগের যেন কোনো তাগিদ নেই। এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দিনের পর দিন বন্ধ থাকছে শূন্যপদে নিয়োগ। এতে বেকারত্বের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাস। সময়মত চাকরি-বাকরি না পেয়ে অনেকেই গ্লানিময় জীবন যাপন করছে যা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে কোটি কোটি হাত বসিয়ে রেখে সেটা সম্ভব নয়। 

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হচ্ছে। যদিও করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবুও ভার্চুয়ালি এবার বই বিতরণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই মহামারির ঘোর অমানিশাকাল কাটিয়ে শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর হোক শিক্ষাঙ্গন- এমনটিই প্রত্যাশা করছেন সকলে।

সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক অনৈক্য, সংঘাত, সহিংসতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এক প্রধান সমস্যা হিসেবেই এখানে রয়ে গেছে। রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির সহাবস্থান সম্ভব নয় বলেই এই সংকট দূর হচ্ছে না- এমনটিই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া জঙ্গিবাদও মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে বার বার। হুমকি আসছে প্রগতিশীল চিন্তার মানুষদের ওপর। সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ভাবিয়ে তুলছে। এসব সমস্যা উজিয়ে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের পৌঁছাতেই হবে। তবেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নতুন বছরে নতুন সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করুক এবং ২০২১ সাল সবার জন্য মঙ্গলময় হোক এটাই কাম্য।

দুই.
চলছে করোনা মহামারিকাল। দেখা দিচ্ছে নানামুখী সংকট। বিশেষ করে চাকরির বাজারে বইছে মন্দাবস্থা। যেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন সেখানে লোকজন চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চাকরির প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিবছর যে হারে শিক্ষিত চাকরি প্রার্থী তৈরি হচ্ছে সে হারে চাকরির ক্ষেত্র ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমন্বয় থাকতে হবে। নইলে এক পাহাড়সম সমস্যা তৈরি হবে। আদতে হয়েছেও তাই। চাকরি প্রার্থীর তুলনায় সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে চাকরির সংখ্যা খুবই কম। যা রয়েছে সেগুলোতেও যদি নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখা না হয় এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে।

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, একদিকে পাহাড়সম বেকারত্ব বাড়ছে অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে হাজার হাজার শূন্য পদ থেকে যাচ্ছে। এগুলোতে নিয়োগের যেন কোনো তাগিদ নেই। এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দিনের পর দিন বন্ধ থাকছে শূন্যপদে নিয়োগ। এতে বেকারত্বের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাস। সময়মত চাকরি-বাকরি না পেয়ে অনেকেই গ্লানিময় জীবন যাপন করছে যা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে কোটি কোটি হাত বসিয়ে রেখে সেটা সম্ভব নয়।

যেখানে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে সেখানে অনেক পদ দীর্ঘদিন খালি থাকা সে অনুযায়ী নিয়োগ না দেয়া রীতিমত অন্যায়। যে কোনো ক্ষেত্রে শূন্যপদের নিয়োগ দ্রুততর করতে হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান হবে বেকারদের অন্যদিকে শূন্য পদ থাকার কারণে কাজের যে ক্ষতি হচ্ছে সেটিরও সমাধান হবে। ঠিক থাকবে চাকরির প্রবাহও। এ ব্যাপারে নতুন বছরে নতুন কিছু দেখতে চায় চাকরিপ্রত্যাশীরা।

তিন.
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য ও বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। সত্যি বলতে কি দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন মাদককারবারের সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন কলাকৌশলের আশ্রয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। সত্যি বলতে কি দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ।

মাদকের রয়েছে বিভিন্ন রুট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়ে। বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে। রাজধানীতেও মাদকব্যবসা রমরমা। মাদকের জগতে এক সময় ‘হেরোইন’ নামক মরণ নেশা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এ পদার্থটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এটি খুব দামি বলে পরবর্তী সময়ে এর স্থান দখল করে নেয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা। বর্তমান নেশাসক্ত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ দুটি নেশাদ্রব্য বেশি জনপ্রিয়। একে ঘিরে দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে বিশাল নেটওয়ার্ক। ফেনসিডিলের চেয়ে ইয়াবাই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ সমাজের প্রতি। বেকারত্বও মাদকের বিস্তারে সহায়ক-এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি সমাজের অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি সহজলভ্য যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে ছোটখাট মাদক কারবারী ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিবর্গ এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। সেজন্য আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

মাদকের সর্বনাশা দিক নিয়ে অনেকবারই লিখেছি। কিন্তু অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতারও কোনো বিকল্প নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার উন্মেষ ঘটাতে হবে। যারা ইতোমধ্যেই মাদকাসক্ত হয়েছে তাদেরও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুস্থধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বাড়াতে হবে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যাও। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। নতুন বছরে নতুন করে শপথ নিতে হবে।

চার.
এখন পৌষের মাঝামাঝি। রোদমাখা দিন থাকার কথা। কিন্তু শীতের হিমেল হাওয়া আর কুয়াশায় সূর্য যেন অনেকটাই কাবু। তাই সূর্যের দেখা মেলা ভার। শীতে কাঁছে দেশ। উত্তরাঞ্চলে হিমালয় ঘেঁষা জেলাগুলোতে শীতের প্রভাব বেশি। সামনে মাঘ মাস। কথায় আসে এক মাঘে শীত যায় না। কিন্তু পৌষেই তো জড়োসড়ো অবস্থা। মাঘ এলে যে কী হবে সেটি লেখাই বাহুল্য।

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতুর পরিবর্তন হবে। এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য প্রতিটি ঋতুই যেন উপভোগ করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। শীতজনিত রোগব্যাধি থেকে মানুষজনকে রক্ষার করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। তীব্র শীতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য গরম কাপড় সরবরাহ করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু সরকার নয় সমাজের বিত্তবানরা এ জন্য এগিয়ে আসতে পারেন। কবি সুকান্ত যেমন করে সূর্যের কাছে উত্তাপ চেয়েছিলেন ‘রাস্তার ধারের উলঙ্গ ছেলেটির জন্য’ তেমনিভাবে আমাদের মধ্যে এই শীতে মানবিকতার উন্মেষ ঘটাতে হবে। আর তখনই শীত কষ্টের ঋতু না হয়ে উৎসবের ঋতু হয়ে উঠবে।

পরিবেশ

দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

জেরিন আহমেদ: [২] পঞ্চগড় অঞ্চলসহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

[৩] এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

[৪] আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পঞ্চগড় অঞ্চলসহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

[৫] শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১২ ও রাঙ্গামাটি ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ঢাকায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। বৃহস্পতিবার সীতাকুন্ডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

[৬] পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। লঘুচাপের বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তাড়াশে ড্রামের ভেলায় চড়ে মাছ চাষ

তাড়াশে প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে পুকুরের মাছের খাবার দেওয়ার কাজে লাগাচ্ছেন চাষিরা। ডিঙ্গি নৌকার পরিবর্তে ড্রামের ভেলার প্রচলন দিনকে দিন বেড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, আরঙ্গাইল গ্রামীণ সড়কের সঙ্গের একটি পুকুরে ড্রামের ভেলায় বসে মাছের খাবার দিচ্ছেন একজন মাছচাষি। নাসির উদ্দিন নামের ঐ মাছচাষি বলেন, ডিঙ্গি নৌকার কাঠ এক থেকে দুই বছরে নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে মাছ চাষের জন্য ড্রামের ভেলার ব্যবহার অতি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী একটি মাধ্যম। এ ভেলা টিকেও বহুদিন। বর্তমানে আমার মতো অধিকাংশ মাছচাষি পুকুরে ড্রামের ভেলা ব্যবহার করে মাছ চাষ করছেন।

জানা গেছে, চারটি প্লাস্টিকের ফাঁকা ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা দিয়ে ড্রামের ভেলা বানানো হয়। এর পর সেই ভেলা পুকুরে ভাসিয়ে লাইলন সুতা ধরে মাছের খাবার দেওয়া হয়। যেমন করে গুণ টেনে নৌকা চালানো হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, ডিঙ্গি নৌকার তুলনায় ড্রামের ভেলার ব্যবহার মাছচাষিদের জন্য সাশ্রয়ী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ফেরেশতারা কি দিন-রাত আল্লাহর হুকুম পালন করেন?

মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত ফেরেশতারা। তারা অবিরাম মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-

‘বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করেযাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬২৮)

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতারা অনেক কাজ করে থাকেন। সব কাজই মহান আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ভরপুর। কোরআন-সুন্নায় ফেরেশতাদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে; তাহলো-

১. আল্লাহর ইবাদত  তাসবিহ পড়া

ক্লান্তিহীনভাবে মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত হয়ে ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

> ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)

> ‘নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

২. নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত থাকা

আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শপথ সে ফেরেশতাদেরযারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত )

তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

৩. মানুষের প্রহরী হিসেবে কাজ করা

ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৪. কল্যাণের কাজে উৎসাহ প্রদান

শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা  বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন আল্লাহ প্রাচুর্যময়সুবিজ্ঞ’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

৫. মাগফেরাতের দোয়া করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও ক্ষমা প্রার্থনায় দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা দেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

৬. আমলনামা লেখার কাজ

কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

> ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)

> ‘অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

৭. মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা

মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

> ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)

> ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

৮. আরশ বহন করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করি

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ মাছ যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ আমিষ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ইলিশ রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন হতে ০৯ কার্ত্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় মা ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় হতে নিষিদ্ধকালীন এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপনন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ করা। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া। আর এ প্রচারের কাজটি সর্বাধিক করে থাকে মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর। দেশে ইলিরে অভয়াশ্রম রয়েছে (৫টিতে মার্চ-এপ্রিল মাছ ধরা বন্ধ) ৬টি যার মোট আয়তন-৪৩২ কি.মি. । আর ৬ টি অভয়াশ্রম হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও শরিয়তপুর । বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের চারটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা জুড়ে রয়েছে। চারটি পয়েন্ট হলো- মীরসরাই, চট্টগ্রামের মায়ানি, তজুমুদ্দিন ও ভোলার পশ্চিমে সৈয়দ আওলিয়া, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের উত্তর কুতুবদিয়া এবং পটুয়াখালির কলাপাড়া ও লতাচাপালী পয়েন্ট।

তাছাড়া সকল নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ২০২১ সালে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের ৩৮ টি জেলা ও ১৭৪ টি উপজেলাকে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বর্তমানে ইলিশ ধরায় সরাসরি দেশের প্রায় ৬ লক্ষ জেলে নিয়োজিত । প্রধান প্রজনন মৌসুমে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে ভিজিএফ দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৪৪ টি জেলে পরিবারে ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মে.টন চাল বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

ইলিশ মাছ প্রজননের ক্ষেত্রে চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্নিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ দিন, ২০১৫ সালে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ইলিশ মূলত সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়েই প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

মা ইলিশ বলতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী ইলিশ মাছ বুঝায়। ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় শতকরা ৮৬ ভাগ আহরণ করা হয় এই দেশে। ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

বৈচিত্র্যময় জীবন ইলিশের। ইলিশ প্রধানত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজনন কালীন সময়ে এ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় স্বাদু পানির উজানকে। এ সময়ে ইলিশ দৈনিক প্রায় ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। প্রজননের উদ্দেশ্যে ইলিশ প্রায় এক হাজার দুইশত কিলোমিটার উজানে পাড়ি দিতে সক্ষম। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে ।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে । এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। এর চলতি বাজার মূল্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইলিশের যোগান যেখানে ৫৬ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জাটকা আজ মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রা²ণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি ছাড়াও ইলিশের নডুলস, স্যুপ ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ইতোমধ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ই নয়।অর্থনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান শতকরা ১ ভাগ। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩, শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। বাড়বে চলছে কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন হচ্ছে জলের পাখি ডাহুক

মাঝারি আকৃতির জলের পাখি ডাহুক। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু বলেই কি এত সুন্দর?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ের গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান। তবে দ্রুত নগর বিস্তৃতির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

দুই দশক আগেও মৌলভীবাজার জেলার হাওর-বাওর, খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা-দীঘির পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি।

jagonews24

গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।

একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

jagonews24

ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।

মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

ডাহুকের প্রিয় খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।

jagonews24

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তবে বর্তমানে তাদের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো।

সম্প্রতি আই.ইউ.সি.এন এই প্রজাতিটিকে নুন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

jagonews24

কাওয়াদীঘি হাওর পারের পৈতুরা গ্রামের সানা মিয়া বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।’

রাজনগর উপজেলার বলদার সাগর দীঘির পারের সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওই দীঘিতে এক শিকারি এসে ডাহুক ধরার ফাঁদ পেতে ছিল। বিষয়টি রাজনগর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাঁচার পাখিটি নিয়ে পালিয়ে যায় শিকারি।’

বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ডাহুক পাখি শিকারির হাত থেকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোনে অবমুক্ত করেছি। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com