আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

বিলুপ্তির পথে শিমুল ফুল গাছ

বিলুপ্তির পথে শিমুল ফুল গাছ
বিলুপ্তির পথে শিমুল ফুল গাছ

ফাগুনের চোখ ধাঁধানো ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। কিন্তু কালের বিবর্তনে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়।

বিগত ১০/১১ বছর আগেও এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আশেপাশে এবং রাস্তার ধারে প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেতো। প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো বসন্ত এসেছে দ্বারে।

অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। জোয়ার এনে দেয় কবির কল্পনার জগতে। কেবল সৌন্দর্যই নয়, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বোমবাক্স সাইবা লিন’। এটি বোমবাকাসিয়াক পরিবারের উদ্ভিদ। বীজ ও কাণ্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৬-৭ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোঁটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেয়া হয়না কোন পরিচর্যা। অযত্নে অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই এ গাছ বেড়ে ওঠে।

এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদি পশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপক হারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে।

গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি এরফান আলী জানান, আগে গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এই শিমুল ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষফোঁড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এ গাছের মূল ব্যবহার করত।

উপজেলার সোনাদীঘি গ্রামের মাইনুল ইসলাম মাষ্টার জানান, একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে আর্থিকভাবে হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি শিমুল তুলা বিক্রি হচ্ছে ৮শ থেকে ৯শ টাকা। এর পরও এই গাছ নিধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গোদাগাড়ী উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী গাছের তালিকা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন কৃষিবিদ জানান, বাণিজ্যিক ভাবে কোন স্থানে এই শিমুল গাছ চাষ করা হয় না। এটি প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠে। যার কারনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছটি। এর তুলার মান অনেক ভাল, যদি শিমুল গাছটি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ বেশী লাভবান হওয়া যাবে। শিমুল গাছ সরকারীভাবে চাষকরা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

ফুল

নানা রঙে উদ্ভাসিত প্রকৃতি

‘বরষের পরে এলো হরষের যামিনী/ আবার মিলিল যত কুসুমের কামিনী…’
করোনাকালে বিশ্বময় বিষাদের মধ্যেও প্রকৃতি বিষণ্ন নয়; বরং এই শীতে ঠিকই ফুটেছে ফুল। তাতে পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে শীতের মৃদু বাতাস। কৃষকের পরম পরিচর্যায় এসব ফুল মেলে ধরছে পাপড়ি। নানা রঙে উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে প্রকৃতি।
ফুলে ফুলে ভরা প্রকৃতির ছবিগুলো সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সাবদি এলাকা থেকে তুলেছেন শুভ্র কান্তি দাশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

লাল শাপলার রাজ্য

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা। জৈন্তাপুরের ‘ডিবির হাওর’ এখন পর্যটনকেন্দ্র। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ডিবির হাওরের অবস্থান। জৈন্তারাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওর, ইয়াম, হরফকাটা ও কেন্দ্রী বিলসহ রয়েছে চারটি বিল। বিলগুলোকে কেন্দ্র করেই নাম করা হয়েছে ডিবির হাওর। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখন ‘শাপলার রাজ্য’ নামে পরিচিত এই ডিবির হাওর। বিলে ফুটে থাকে অজস্র লাল শাপলা। সিলেট শহর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এই এই শাপলার রাজ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

করোনা ভাইরাস: জো বাইডেন আমেরিকার ক্ষমতা গ্রহণের একশো দিনের মধ্যে একশো মিলিয়ন টিকার প্রতিশ্রুতি দিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্য পূরণ করবেন তিনি।

তিনি বলেন, তার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম মাসগুলোতে হয়তো মহামারি শেষ হয়ে যাবে না, কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের গতিপথ পরিবর্তন করে দেবেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিষয়ক দলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ারপর পুরো আমেরিকা যেন “১০০ দিনের জন্য মাস্কে মোড়া থাকবে।”

মঙ্গলবারের একটি রিপোর্টের পর ফাইজার/বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন অনুমোদন এবং আমেরিকানদের জন্য সরবরাহের পথ সূচিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যে হোয়াইট হাউসে কোভিড ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচী, যেটি অপারেশন ওয়ার্প স্পিড নামে পরিচিত সেটির সদস্যদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে কোভিডের সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং ২ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ মারা গেছে। দুই ক্ষেত্রে যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।

দেশটির অনেক এলাকাই এখন সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ায় আছে, অনেক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, বিশেষজ্ঞরা অবশ্যই থ্যাঙ্কস গিভিং ডে উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের ভ্রমণকেই এর জন্য দায়ী করছেন।

বাইডেন কী বলেছেন?

প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডেলাওয়ারে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন যেখানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বেসেরাকে তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং রোশেল ওয়ালেনস্কিকে জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকাতেই সংক্রমণের পিক চলছে

মি. বাইডেন বলেন, “আমার প্রথম ১০০ দিনে কোভিড-১৯ ভাইরাস শেষ হয়ে যাবে না। সেটা আমি ওয়াদা করতে পারবো না। আমরা হঠাৎ করেই এই বিপদে জড়াইনি আর তাই হঠাৎ করেই উঠেও আসা যাবে না।”

তিনি বলেন, প্রথম ১০০ দিনে আমরা রোগের গতিপথ বদলে দিতে পারি এবং আরো ভাল কিছুর জন্য আমেরিকার জীবন পাল্টে দিতে পারি।

তিনি সতর্ক করে বলেন যে,কংগ্রেস যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সমাপ্তি টেনে জরুরি ভিত্তিতে তহবিলের ব্যবস্থা না করে তাহলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সব প্রচেষ্টা “মন্থর আর আটকে” যেতে পারে।

তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে নেয়াটাও অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই ভ্যাকসিন কর্মসূচী কেমন হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত তেমন কিছু জানাননি মি. বাইডেন।

গত সপ্তাহে তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে তার কাছে কোন পরিকল্পনা তুলে ধরেননি ট্রাম্প প্রশাসন। অপারেশন ওয়ার্প স্পিড নামে ভ্যাকসিন কর্মসূচীর প্রধান বিজ্ঞানী মনসেফ স্লাউই এখনও বাইডেন টিমের সাথে দেখা করেননি। তবে এ সপ্তাহে সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মি. বাইডেনের অন্যান্য উপদেষ্টাদের মধ্যে ডা. অ্যান্থনি ফাউচি হচ্ছে প্রধান কোভিড মেডিকেল উপদেষ্টা।

হোয়াইট হাউসে কী ঘটেছে?

আমেরিকার জনগণের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করার কারণে অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের একটি উদযাপন অনুষ্ঠান ছিল এটি। যদি এই কর্মসূচীর মূল কাজ চলবে জো বাইডেনের শাসনামলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

টিকার অনুমোদন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন: “তারা বলছে যে এটা অলৌকিক ঘটনা আর আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “প্রতিটি আমেরিকান ভ্যাকসিন পেতে চায় এবং আমরা মনে করি বসন্ত নাগাদ আমরা এমন একটি অবস্থানে থাকবো যেটা হয়তো কিছুদিন আগ পর্যন্ত কেউ বিশ্বাসও করতে পারেনি।”

জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ২৪ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার যাবে বলে আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন যা আমেরিকানরাই যাতে প্রথমে ভ্যাকসিন পায় সেটা নিশ্চিত করবে। একে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলিয়ন ডোজ টিকা কিনতে ফাইজার/বায়োএনটেকের সাথে চুক্তি করেছে মি. ট্রাম্পের প্রশাসন। কিন্তু ফাইজার বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন এর চেয়ে বেশি ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব কয়েকবার নাকচ করে দেয়া হয়েছে এবং জুনের আগ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নের বেশি ডোজও সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচী শুরু করে।

ভ্যাকসিন নিয়ে কোন অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র?

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, ফাইজার/বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন ৯৫% পর্যন্ত কার্যকর। তার মানে এটি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন ভ্যাকসিনটির অনুমোদন রুখে দেয়ার মতো কোন স্বাস্থ্য-ঝুঁকি পায়নি এবং এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

যদিও পূর্ণ সুরক্ষা পেতে দুটি ডোজ দরকার হবে তবুও একটি ডোজ নিলেও ঝুঁকির ক্ষেত্রে অন্তত ৮৯% সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাল দানা বা র‍্যাশ, ইনজেকশন দেয়ার জায়গায় জ্বালাপোড়া, সাময়িক ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, এবং পেশী ব্যথা হতে পারে। তবে এগুলো গুরুতর নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ফার্ম মডার্নাও বলেছে যে তাদের ভ্যাকসিনও একই রকম সুরক্ষা দেবে এবং বড়দিনের আগেই এফডিএ এর অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

মহেশপুরে প্রযুক্তির উৎকর্ষে বাড়ছে ফুল চাষ

মহেশপুরে প্রযুক্তির উৎকর্ষে বাড়ছে ফুল চাষ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

পরিচয় পেল কুমিল্লার হলুদ পদ্ম

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পাওয়া হলুদ পদ্মের রহস্যের জট অবশেষে খুলেছে। বাংলাদেশ তো বটেই, এশিয়া–অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের কোথাও হলুদ পদ্মের কোনো প্রজাতি নেই। প্রশান্ত মহাসাগরের এক পাশে দেখা যাওয়া সাদা ও গোলাপি রঙের পদ্মটিকে এশীয় পদ্ম বলা হয়। আর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যাওয়া হলুদ রঙের পদ্মটিকে আমেরিকান পদ্ম নামে ডাকা হয়। তাই তো কুমিল্লায় বুড়িচংয়ে পাওয়া হলুদ পদ্ম নিয়ে দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তাহলে কি আমেরিকান পদ্ম কোনোভাবে বাংলাদেশে বংশবিস্তার করল?

গত সেপ্টেম্বরে ওই হলুদ পদ্ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের একদল শিক্ষক তাতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। তাঁরা কুমিল্লার গোমতী নদীতে জন্মানো ওই পদ্ম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। এর নমুনা সংগ্রহ করে তা নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি আমেরিকান পদ্ম নয়। বিজ্ঞানীদের দলটি বলছেন, এটি আসলে এশীয় পদ্মেরই একটি নতুন প্রকরণ বা ধরন, যা বাংলাদেশেই প্রথম দেখা গেল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল হাসানের নেতৃত্বে একই বিভাগের অধ্যাপক আল মুজাদ্দেদ আলফাসানী ও অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ওই পদ্ম চিহ্নিত করার গবেষণাটি করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব প্ল্যান্ট টেক্সোনমির বিজ্ঞান সাময়িকী প্ল্যান্ট টেক্সন–এর ডিসেম্বর–২০২০ সংখ্যায় এ ব্যাপারে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলটি ওই হলুদ পদ্মের নাম দিয়েছেন ‘গোমতী’। গোমতী নদীর প্লাবনভূমিতে এটি জন্মানোর কারণে এই নাম। এশীয় পদ্মের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Nelumbo nucifera। এই হলুদ পদ্মের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে gomoti, Bangladesh শব্দ দুটি যোগ হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পদ্মের এই নতুন কাল্টিভার বা প্রকরণটি তৈরি হয়েছে। এটি এশীয় পদ্মের মতোই, তবে গঠনগত কিছু পার্থক্য আছে। তবে আমেরিকান হলুদ পদ্মের সঙ্গে এর অমিল অনেক বেশি। ফলে এটি আমেরিকান হলুদ পদ্ম নয়, এটা তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে এটিকে তাঁরা এশীয় পদ্মের একটি প্রকরণ বলছেন।

গবেষক দলটি বলছেন, কোনো একটি উদ্ভিদের একটি থেকে আরেকটি প্রজাতির ফুল, কাণ্ড, পাতা, পুংকেশর, স্ত্রীকেশর, পরাগরেণুসহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকে। একটির সঙ্গে আরেকটি মিল–অমিলের ধরনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, সেটি কি কোন প্রজাতি, নাকি একটি প্রকরণ?বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা ধানের উদাহরণ দিয়ে বলছেন, যেমন ধান নিজে একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে এবং মানুষের গবেষণার মাধ্যমে ধানের হাজার হাজার প্রকরণ তৈরি হয়েছে। একটি প্রকরণ থেকে আরেকটি প্রকরণের পার্থক্য সামান্য; কিছু গাছ, ফল, দানাসহ অন্য সবকিছুই প্রায় একই রকমের। যেমন বাংলাদেশে যে এশীয় পদ্মটি দেখা যায়, তা একটি প্রকরণ, কিন্তু দুটি রঙের হয়ে থাকে। পদ্মের দুটো প্রজাতি ও দুই হাজারের মতো প্রকরণ রয়েছে।

তবে দেশের উদ্ভিদ শ্রেণিবিদ্যার জনক হিসেবে চিহ্নিত অধ্যাপক সালার খান তাঁর এক প্রবন্ধে বাংলাদেশে হলদু রঙের পদ্ম আছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি কোথায় আছে, তা তিনি উল্লেখ করে যাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com