আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

বিলুপ্তির পথে ‘মাদাগাস্কার কলা’

মানুষের খাওয়ার উপযোগী কলার প্রজাতি সংরক্ষণের চাবিকাঠি যার মধ্যে নিহিত আছে বলে মনে করা হয় – এমন এক ধরনের বন্য কলা বিলুপ্তির পথে থাকা ফলের তালিকায় স্থান পেয়েছে। আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারেই কেবলমাত্র এই কলার গাছ দেখা যায়। সেখানে বনের মধ্যে এ ধরনের পূর্ণবয়স্ক কলা গাছ রয়েছে মাত্র পাঁচটি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই কলাগাছগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ কলাকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ রাখার গোপন চাবিকাঠি এর মধ্যেই নিহিত আছে।

সারা পৃথিবীতে যে ধরনের কলা মানুষ বেশি খেয়ে থাকে, সেগুলো ক্যাভেন্ডিশ নামে পরিচিত। কিন্তু এগুলো উদ্ভিজ্জ কীটপতঙ্গের আক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে আছে। সেজন্যই এখন নতুন এক ধরনের কলা তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে – যা একইসঙ্গে খেতে সুস্বাদু হবে এবং পানামা ডিজিজ (কলায় এক ধরনের ফাঙ্গাস সংক্রমণ) থেকে বেঁচে থাকার মতো যথেষ্ট রোগপ্রতিরোধী হবে।

‘মাদাগাস্কান কলা’ আফ্রিকার মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে উৎপন্ন হয় এবং এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

ব্রিটেনের কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস-এর সিনিয়র বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা রিচার্ড অ্যালেন বলেন, ‘এই প্রজাতিটির মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই খরা কিংবা রোগ মোকাবেলা করার সহ্যশক্তি রয়েছে। পানামা ডিজিজ নেই, সুতরাং সম্ভবত এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জিনগত সুবিধা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কলার ওপর বিশদ গবেষণা করার আগ পর্যন্ত প্রকৃতপক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এটি সংরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা গবেষণাও করতে পারছিনা।’

বিজ্ঞানীরা মাদাগাস্কারে এই গাছের অনুসন্ধান করেন এবং দেখতে পান এগুলো ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে আইউসিএন-অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার তাদের সর্বশেষ লাল তালিকাতে এই ফলটিকে অন্তর্ভুক্ত করায় – কলার ফলনের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

কিউ মাদাগাস্কার কনজারভেশন সেন্টারের ডক্টর হেলেন রালিমানানা বলেন, ‘বন্য প্রজাতির কলা সংরক্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে বিশাল বীজ থাকে এবং যার মাধ্যমে কলা চাষের উন্নতির জন্য একটি জিন খুঁজে বের করার সম্ভব হবে পারে।’

এই কলা যদি সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে বীজ সংরক্ষণ করা যাবে এবং গাছের জিনগত বৈশিষ্ট্য বোঝা সম্ভব হবে। মাদাগাস্কান কলার ভেতরেই বীজ তৈরি হয় তার মানে এটি খাওয়ার জন্য ঠিক সুবিধার নয়। মিশ্র প্রজননের মাধ্যমে নতুন ধরনের কলা উৎপন্ন করা সম্ভব। যেটি হবে একইসঙ্গে খাবারযোগ্য এবং টেকসই।

বনের প্রান্তে যে বেড়ে উঠছে এই কলা সেখানে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা সমস্যা, আগুন কিংবা বন কেটে ফেলা ইত্যাদি কারণেও সঙ্কটে পড়ে এর চাষাবাদ। কলা সাধারণত একটি গাছে রোগ দেখা দিলে তা দ্রুত সবগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন, দোকানে তো কলা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে এখনো-তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলো বর্তমানের চিত্র এটি হলেও কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো তা থাকবে না।

ক্যাভেন্ডিশ কলায় রোগ বালাইয়ের উপদ্রব এশিয়াতে বর্তমানে সীমাবদ্ধ তবে এটি যদি আমেরিকাতে ছড়িয়ে পড়ে তবে কলা উৎপাদনে নেতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে। এটা ঘটেছিল ১৯৫০ সালে যখন গ্রস মাইকেল নামে এক ধরনের কলার ক্ষেত্রে পানামা ডিজিজ বা ফাঙ্গাস এর কারণে কলার ফলন নষ্ট হয় এবং এর অভাব দেখা দেয়। তখন এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে “ইয়েস উই হ্যাভ নো বানানাস”‘ এই গানটি লেখা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এরপর গ্রস মাইকেল কলার স্থানে আসে ক্যাভেন্ডিশ কলা। ডেভনশায়ারের ষষ্ঠ ডিউক উইলিয়াম ক্যাভেন্ডিশ এই কলার নামকরণ করেন। তিনি ডার্বিশায়ারের চ্যাটসওয়ার্থ হাউজে বাস করতেন । চ্যাটসওয়ার্থে ১৮৩০ সাল থেকে কলা উৎপাদন করা হতো যখন প্রধান সে কলাবাগানের প্রধান জোসেফ প্যাক্সটন মরিশাস থেকে যে কলা আমদানি করে তার নমুনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যেসব কলা আসছে সেগুলো এই একই প্রজাতি থেকে আসে।

মাদাগাস্কার কলা

এর বৈজ্ঞানিক নাম এনসেট বেরিএরি এবং গুরুতরভাবে ঝুঁকিতে থাকা ফল হিসেবে তালিকাভুক্ত। দেশের পশ্চিমাঞ্চলের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে এটি পাওয়া যায় যেখানে বনভূমি উজাড় হওয়ার হুমকিতে আছে। বনের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচটি গাছ রয়েছে বলে জানা যায়।

পরিবেশ

সুস্বাদু ড্রাগন ফল

রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদে ড্রাগন ফলের আবাদ বেশ বেড়েছে ।এই ফলের চাহিদাও রয়েছে বেশ। বাগানে এই ফল ৩৫০–৪০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শহরে প্রতি কেজি আরেকটু বেশি। ড্রাগন ফলের ভেতরটা যেমন রাঙা, খেতেও সুস্বাদু। কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া চম্পাতলী বাগানে ড্রাগন ফলের কিছু ছবি নিয়ে এই গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাংলাদেশে নতুন এক রঙিন আম

বারি আম-১৩ নামের নতুন একটি রঙিন আম অবমুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) ১৫ বছরের গবেষণা সাফল্যের মুখ দেখল। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে আমটি অবমুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হরিদাশ চন্দ্র মোহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বারি আমের তালিকায় একটি সংকরায়িত রঙিন আম যুক্ত হলো। অবসান হলো দীর্ঘ অপেক্ষার। দেশের আমপ্রেমী ও চাষিদের জন্য এটা একটা দারুণ সুখবর। সামনে গাছ লাগানোর মৌসুমেই এর চারা আমরা আমচাষিদের হাতে তুলে দিতে পারব।’

আমটির সংকরায়ণ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, ২০০৫ সালে বারি আম-৩, অর্থাৎ আম্রপালি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সংগ্রহ করা রঙিন আম পালমারের মধ্যে সংকরায়নের মাধ্যমে আমটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। আম্রপালিকে মা ও পালমারকে বাবা ধরে সংকরায়ণ করে Hy-059 লাইন সৃষ্টি করা হয়। আমটির ফলন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ১০ বছর ধরে।

আমটি লম্বাটে ও মাঝারি আকারের নাবি জাতের, অর্থাৎ মৌসুমের শেষ দিকের। এর সংগ্রহকাল জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। গড় ওজন ২২০ গ্রাম। পাকা অবস্থায় আমটি রসালো আঁশবিহীন ও মিষ্টি এবং শাঁস গাঢ় কমলা রঙের। ত্বকের রং মেরুন। মিষ্টতা ২১ শতাংশ। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

উদ্ভাবন হলো নতুন দু্ই জাতের তরমুজ

দুটি নতুন তরমুজের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা। নামকরণ করা হয়েছে বারি তরমুজ-১ ও বারি তরমুজ-২। দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী এসব তরমুজ সারা বছরই চাষ করা যাবে। দেশেই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা যাবে এই জাত দুটির। একটি জাতের তরমুজের ভেতর হবে হলুদ, অন্যটির টকটকে লাল।

বারির মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলাম জানান, জাত দুটির অনুমোদনের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ডে আবেদন করা হবে। পেটেন্ট অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে সারা বছর চাষ ও বীজ সংরক্ষণ করা যায়, এমন জাত দুটি পৌঁছে দেওয়া হবে।

বারির সবজি বিভাগ এবং আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র লেবুখালী পটুয়াখালীর যৌথ উদ্যোগে এ দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়।

২০১৩ সাল থেকে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই গবেষণা দলে ছিলেন ছয়জন। নেতৃত্ব দিয়েছেন বারির সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফেরদৌসী ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মৌসুমি তরমুজের চাষ হয় নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। এর ৮০-৯০ দিনের মধ্যে তরমুজ খাবারের উপযোগী হয়। এ জাতটি যখন অবমুক্ত হবে তখন কৃষক লাভবান হবে। কারণ এটি শতভাগ নিজস্ব আবহাওয়া উপযোগী জাত।

আজ সোমবার গাজীপুরে বারিতে এ দুটি জাতের গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এবং বারির মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (গবেষণা) মো. মিয়ারুদ্দীন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) মো. কামরুল হাসান, পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) মুহাম্মদ সামসুল আলম, সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফেরদৌসী ইসলাম, জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা।

জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বারির বিজ্ঞানীরা জানান, আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে যেসব উন্নত মানের তরমুজ পাওয়া যায়, তার প্রায় সবই জাপান বা অন্যান্য দেশ, যেমন চীন, থাইল্যান্ড, ভারত থেকে আমদানি করা সংকর জাতের বীজ থেকে উৎপাদন করা হয়।

ফলে তরমুজের বীজ আমদানি বাবদ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। এ ছাড়া এসব জাতের বীজের বিশুদ্ধতা ও অঙ্কুরোদ্গমের হার সব সময় ঠিক না থাকায় কৃষকেরা প্রতারিত হয়ে থাকেন। কিন্তু বারি উদ্ভাবিত জাত দুটি থেকে কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন করতে পারবেন। এগুলোর ফলন, আকৃতি, স্বাদ ও মিষ্টতা প্রচলিত জাপানি সংকর জাতের চেয়ে উন্নততর।

পটুয়াখালীর লেবুখালীর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইফতেখার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, বহু বছর আগে বারি উৎপাদিত দেশি তরমুজচাষিরা চাষ করছেন। এখন সেটি প্রায় হারিয়ে গেছে। কৃষকেরা এখন তরমুজের হাইব্রিড জাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে এখন থেকে নতুন জাত দুটি সারা বছর চাষ করা যাবে। প্রতিটির ওজন হবে কমপক্ষে তিন-চার কেজি। কৃষক নিজেই বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে ব্ল্যাকবেরি তরমুজ

কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো মাচায় চাষ হচ্ছে বারোমাসি ফল ব্ল্যাকবেরি তরমুজ। সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক কাজী আনোয়ার হোসেন থাইল্যান্ডের এই বারোমাসি তরমুজ চাষ করছেন। ২০ শতক জমিতে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ৬৫ দিনের ব্যবধানে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন আনোয়ার। এখন তিনি আরও জমি নিয়ে ব্ল্যাকবেরি প্রজাতির তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করছেন।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগ আনোয়ার হোসেনকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। ফলন ও বিক্রি ভালো হওয়ায় আনোয়ারের মুখে এখন তরমুজের লাল টুকটুকে হাসি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়ক ধরে এগোলেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রাম। এই গ্রামের সড়কের পাশের ধানি জমির আইল ধরে কয়েক কদম হাঁটলেই চোখে পড়বে ব্ল্যাকবেরি তরমুজখেত। কৃষক আনোয়ার বলেন, ‘ইউটিউবে দেখে আমি ব্ল্যাকবেরি তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। এরপর ২০ শতক ধানি জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করি। প্রথমে ধানি জমির মধ্যে মাটি উঁচু করে সারি করা হয়েছে। এরপর মাটির মধ্যে পানি যেন আটকে থাকতে না পারে, সে জন্য পলিথিন দেওয়া হয়। এরপর পলিথিন ছিদ্র করে এর মধ্যে থাইল্যান্ডের ব্ল্যাকবেরি তরমুজের বীজ লাগানো হয়। তরমুজের চারা বড় হলে সেগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচায় ছড়ানো হয়। এরপর প্রথমে ফুল আসে। পরে একে একে কালো রঙের তরমুজ বেরিয়ে আসে। দুই মাসের মধ্যে তরমুজ পরিপক্ব হয়। কালো রঙের তরমুজের ভেতরে রক্তাক্ত লাল বর্ণ। স্বাদে মিষ্টি।’

সরেজমিনে গত রোববার দুপুরে কাজী আনোয়ার হোসেনের খেতে দেখা গেছে, সবুজ লতাপাতার মধ্যে মাচায় ঝুলে আছে তরমুজ। আনোয়ার একে একে তরমুজ কাটছেন। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আশপাশের ও কুমিল্লা শহরের মানুষ তরমুজ কিনতে তাঁর খেতেই আসেন। কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার কাউছার আহমেদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘লোক মারফত খবর পেলাম, কাজী আনোয়ার হোসেনের খেতে থাইল্যান্ডের ব্ল্যাকবেরি তরমুজ চাষ হচ্ছে। এরপর তিনটি তরমুজ ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছি।’

সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে কাজী আনোয়ার হোসেন প্রথম ব্ল্যাকবেরি প্রজাতির তরমুজ চাষ করছেন। প্রথমে তিনি ২০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেন। এখন তিনি আরও জমি নিয়ে তরমুজ চাষ করবেন। সে জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ৬০ থেকে ৬৫ দিনে তাঁর এ লাভ। অন্যরাও এ ধরনের তরমুজ চাষ করতে পারেন। এতে খরচ কম। ফলন ও লাভ বেশি।

কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘করোনাকালে তরমুজ বিক্রি করে লাভ হওয়ায় মনে আনন্দ লাগছে। আরও বেশি জমিতে এবার তরমুজ চাষ করব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফলের রসের চেয়ে ফল বেশি স্বাস্থ্যকর

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পৃথিবীতে অনেক রকমের ফল পাওয়া যায়। তবে দেশভেদে ভিন্ন রকম ও স্বাদের ফল দেখা যায়। ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস এই ফল থেকে আরও অনেক রকম পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ফলে শর্করা অনেক। তাই ক্যালরিও পাওয়া যায় ফল থেকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও আরও অনেক কাজ করে থাকে ফল। রান্না করে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই ফল থেকে এর পুরো পুষ্টি পাওয়া যায়।

ফল দুভাবে আমরা খেয়ে থাকি—তাজা আস্ত ফল আর ফলের জুস। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে ফলের জুস দুই রকম—বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি ফলের জুস ও ঘরে হাতে বানানো ফলের জুস। ফলের রসের চেয়ে ফল অনেক স্বাস্থ্যকর। সুস্থতা রক্ষায় সবাইকে ফলের জুস না খেয়ে ফল খেতে বলা হয়। এর মূল কারণ হলো, ফলের ফাইবার বা খাদ্য আঁশ। মূলত ফল আস্ত খেলে অনেক ফাইবার বা খাদ্য আঁশ পাওয়া যায়। কিন্তু ফল থেকে জুস করা হলে তার আঁশ অনেক নষ্ট হয়। এ ছাড়া ফলে ন্যাচারাল সুগার থাকে কিন্তু বেশির ভাগ জুস বানাতে পানি দেওয়া হয়, ফলে এর স্বাদ বজায় রাখার জন্য চিনি যুক্ত করায় এর পুষ্টিগুণ অনেক নষ্ট হয়।

ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে ফলের জুসের তুলনায়। অর্থাৎ, ফল খেলে ফলের ভেতরকার শর্করা ধীরে ধীরে ভাঙে, এতে রক্তে দ্রুত সুগার বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু ফলের জুসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায়, জুস খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত এর সুগার শরীরে যায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ফলের জুস স্বাস্থ্যকর নয়।

কমার্শিয়াল ফলের জুসের সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে ঘরে বানানো ফলের জুসে এই প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই ঘরে বানানো ফলের জুস কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত জুসের তুলনায় ভালো। যদিও আজকাল বড় কোম্পানিগুলো মানুষের স্বাস্থ্য বিবেচনায় অরগানিক ফলের জুস তৈরি করছে, কিন্তু তা ব্যয়বহুল।

ফল অবশ্যই সঠিক মাত্রায় খেতে হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগ ভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত ফল সঠিক সময়ে খেতে হয়। মনের রাখবেন, অতিরিক্ত ফল খেলে তা থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারে। আবার ফল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায় অনেকের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই ফল পরিমিত বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো খেতে হয়। যেমন কিডনি রোগীরা সব ফল খেতে পারে না। ডায়াবেটিসের রোগীদের অতিরিক্ত মিষ্টি ফল মেপে খেতে হবে। যারা মোটা, তাদেরও ফল বুঝে পরিমিত পরিমাণে খেতে হয়। হার্টের রোগীর জন্য টক ও টক-মিষ্টি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাতলা পায়খানা হলে পাকা কলা, আপেল ও নাশপাতি খুব ভালো।

আবার যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, তাদের জন্য পেঁপে, আম, বেল ভালো। রক্তের পটাশিয়াম কমে গেলে ডাবের পানি ও কলা ওষুধের কাজ করে। রক্তস্বল্পতায় বেদানা, কমলা, লাল আঙুর ভালো। ফলও প্রয়োজনে ওষুধের মতো কাজ করে। ফলের চেয়ে ফলের জুসের হেলথ বেনিফিট কম হলেও কিছু শারীরিক কন্ডিশনে ফলের চেয়ে ফলের জুস উপকারী, যেমন সার্জারির পর, গলায় অস্ত্রোপচার হলে বা গলানালিজনিত যেকোনো সমস্যায়। আবার ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি চলাকালীন অনেকের নিউট্রোফিল কাউন্ট কমে গেলে তাদের জন্য কাঁচা ফল বা ফলের জুস মানা করা হয়। তাদের বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত ফলের রস বা অরগানিক ফলের রস দিয়ে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করা হয়। বাচ্চারা নিতান্তই ফল খেতে না চাইলে তাদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ফলের জুস দেওয়া হয়।

সুস্থ থাকার জন্য ফলের পুষ্টি খুব জরুরি। তাই নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখা জরুরি।

১. ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ছোটবেলায় জুস দিলে বাচ্চা বড় হলে আর ফল খেতে চায় না।

২. একান্তই ফলের জুস খেতে হলে বাড়িতে বানানো ফলের জুসে প্রাধান্য দিন। ব্লেন্ডারে না করে হাতে কচলে বা ম্যানুয়ালি জুস বানানো হলে তাও কিছুটা উপকারী।

৩. ঘরে জুস বানালে কম পানি দিন, তাতে ফলের ন্যাচারাল স্বাদ বজায় থাকবে। আর পাল্পসহ জুস করুন অর্থাৎ না ছেঁকে, তাতে কিছুটা ফাইবার পাওয়া যাবে।

৪. ফলের জুস বানাতে চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো। তাতে ফলের ন্যাচারাল মিষ্টি বজায় থাকে। বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হবে না।

৫. দেশি ও মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ও নিরাপদ। মৌসুমি ফল খেলে পুষ্টি শরীরে কাজে লাগে।

৬. ডেসার্ট হিসেবে ফলের জুড়ি নেই। ফলের কাস্টার্ড, সালাদ, স্মুদি ও ফল নিজেই মিষ্টান্ন হিসেবে কাজ করে।

৭. ফল বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হয়। ফলের খোসাসহ খেলে অনেক ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যাবে; যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

নানা রঙের ফল আমাদের নানা রকম পুষ্টির জোগান দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ফলের কোনো জুড়ি নেই। রোজ ফল খান ও সুস্থ থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com