আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল শুরু, যাত্রীদের যা করতে হবে

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল শুরু, যাত্রীদের যা করতে হবে
করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল শুরু, যাত্রীদের যা করতে হবে

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সাত মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিমান চলাচল। আর করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিমানের যাত্রীদের বিশেষ কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই ‘এয়ার বাবল’ ব্যবস্থা আজ (বুধবার) থেকে শুরু হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে ২৮টি ফ্লাইট ভারতের তিনটি বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং ভারত থেকেও সপ্তাহে ২৮টি ফ্লাইট ঢাকায় আসবে।

এসব ফ্লাইটে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি বিশেষ কিছু নিয়মকানুনেও পালন করতে হবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

কী নিয়ম মানতে হবে?

শুরুতে কোলকাতা, দিল্লি এবং চেন্নাই – ভারতের এই তিনটি শহরে বিমান চলাচল করবে, আর বাংলাদেশের ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ভ্রমণ করা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এবং নভো এয়ার যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নেবে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা এবং গোএয়ার নামে ৫টি বিমান সংস্থা।

সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে বিমান চলাচল।
সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে বিমান চলাচল।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান জানান, ভারতের সাথে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যগত এবং পদ্ধতিগত বেশকিছু বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মি. রহমান বলেন, “ভারতে বিমান ভ্রমণ করতে হলে যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টা আগে সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে পিসিআর টেস্ট করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।”

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান জানান, বিমানবন্দরে এতদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার স্বার্থে যে ধরণের পদক্ষেপ মানা হতো, ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরণের নির্দেশনা মেনে চলা হবে।

তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, “করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমানবন্দরের নিয়মকানুনে পরিবর্তন এসেছে।”

“স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট জায়গায় স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মাস্ক বিতরণ করছে, যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাত্রীদের চলাচল বা অবস্থানের জায়গায় সারাদিনে বেশ কয়েকবার জীবাণুনাশক দেয়া হচ্ছে।”

পাশাপাশি যেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোভিড পরীক্ষা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ প্রয়োজন হয়, সেসব সনদও যাচাই করে দেখেন বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্লাইটগুলো সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে ভারতের নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে যাবে এবং কোনো ধরণের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হবে না বলে নিশ্চিত করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান।

বিমান বলছে, গত এক বছরে সংস্থাটির যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে
বিমান বলছে, গত এক বছরে সংস্থাটির যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে

বিমানে কি সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে?

করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিমানে ভ্রমণকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ‘ন্যারো বডি’ বা অপেক্ষাকৃত সরু উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ ১৪০ জন এবং ‘ওয়াইড বডি’ বা অপেক্ষাকৃত চওড়া উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ ২৬০ জন যাত্রী নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক বলে, বাংলাদেশে বোয়িং-৭৩৭ ধরণের একটি ‘ন্যারো বডি’ বিমানে সাধারণত ২০০’র মত আসন থাকে আর ‘ওয়াইড বডি’ বিমানে ৩০০ থেকে ৪০০ আসন থেকে থাকে।

তবে অন্যান্য দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই বিশেষ আসন বিন্যাস মেনে চলা হলেও ভারতের সাথে এই নিয়ম অনুসরণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন মফিদুর রহমান।

তিনি বলেন, “ভারতের সাথে চলাচলের ক্ষেত্রে বিমানগুলো তাদের সম্পূর্ণ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রত্যেক বিমানের শেষ দু’টি সারি ফাঁকা রাখা হবে।”

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৯টি বিভাগে অনলাইনে ভারতীয় ভিসা দেয়া হচ্ছে বলে এর আগে জানিয়েছিল বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন।

গত সপ্তাহে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক জানিয়েছিলেন, ভারত শর্ত দিয়েছিল কোন রোগীর ক্ষেত্রে একজনের বেশি ”অ্যাটেনডেন্ট” থাকতে পারবে না।

কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশের আলোচনার প্রেক্ষাপটে এখন দুই বা তিনজন ”অ্যাটেনডেন্ট” থাকতে পারবেন এমন নিয়ম করা হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছেন না সব যাত্রীরা। সব ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও বিমানে ভ্রমণের সময়টায় কতটুকু নিরাপত্তা থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কিত রিপা নাসিরুদ্দিন। তিনি ভারতের একজন নিয়মিত ভ্রমণকারী।

মিজ নাসিরুদ্দিন বলেন, “চিকিৎসার জন্য প্রতি তিনমাসে অন্তত একবার করে চেন্নাই যেতে হয় আমার। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত ছয় মাস যেতে পারিনি। এখন বিমান চলাচল চালু হলেও শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছি না নিরাপত্তা নিয়ে।”

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তামিমের আম চাষে সাফল্য

বিভিন্ন জাতের আম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে,রাজশাহী জেলার বাঘা থানা মনিগ্রামের, সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিভাগের ছাত্র,মোঃ তামিম হাসান রাসেল,পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকে ভালোবেসে গড়ে তুলেছে তার শখের বিশাল আমবাগান।

প্রথমত পরীক্ষামূলকভাবে,১ একর ৩ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জাতের ৫০০ বেশি গাছ রোপন করে সে দারুণ সাফল্য পায়।

তার বাগানে রয়েছে,লকনা, ফজলি, হিমসাগর, আমরুপালি, লেংরা, তুতাপুরি, আঠি, গোপালভোগ, কাচামিঠি ইত্যাদি,বিভিন্ন জাতের আম।

গতবছর ঐ আম বাগান থেকে ৬ লাখ টাকার আম বিক্রি করে। এতে সে বেশ লাভবান হয়। এ বছর ওই বাগান ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আম বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তামিম বলেন,শিক্ষা জীবন শেষে চাকরীর পেছনে না ঘুরে ব্যবসা বা কৃষি  পেশায় নিজেকে কাজে লাগালে সবচাইতে দ্রুততম উন্নয়ন করা সম্ভব। তাই তিনি পড়াশোনা পাশাপাশি এই করনাকালীন সময় কে কাজে লাগিয়েছেন। 

একটি চারা আম গাছে আম ধরা পর্যন্ত তার খরচ হয় প্রায় ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। প্রথম বছর ছোট গাছ থেকে ৪-৫ মন মাঝারি গাছ থেকে ১৫-২০ মন আার বড় গাছ থেকে ৩০-৫০ মন আম পেয়েছিল।কিন্তু এবার আগের বছরের তুলনাই ২ গুন ফলন আাসা করে।। পর্যায়ক্রমে যেমন একটি গাছের পরিচর্যা খরচ বাড়বে তেমনি আমের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে।

তামিমের আম চাষ দেখে আশেপাশের কৃষক আমের চাষ করছে। আগামী আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তামিম বলেন এই অঞ্চল আম চাষের জন্য আবহাওয়া ও জলাবায়ু উপযোগী। এ অঞ্চলে আম চাষ করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে রফতাণী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

দিনাজপুরে ধান ক্ষেতে ইঁদুর তাড়াতে পলিথিনের ব্যবহার

দিনাজপুরে সবুজে ভরে উঠেছে ইরি-বোরো ফসলের মাঠ। কোথাও এতটুকুও ফাঁকা নেই। যতদূর দৃষ্টি পড়ে সবুজ আর সবুজ। মৌসুমের ইরি-বোরো ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। তাই ক্ষেতকে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচাতে কৃষকরা ব্যবহার করছেন এক ধরনের পলিথিনের ঝান্ডা।

বাতাসে পলিথিন পতপত করে শব্দ করলে কেউ আসার ভয়ে ইঁদুুর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এমন ধারণা থেকেই অনেক কৃষক তাদের জমিতে পলিথিনের ঝান্ডা ব্যবহার করছেন।দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের গো-ঘাটার পাড় দোলার মধ্যে অনেক কৃষকদের ইরি-বোরো ক্ষেতে পলিথিনের ঝান্ডা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এ ধরনের পলিথিনের ঝান্ডা জেলার বিভিন্ন এলাকার ধান ক্ষেতে দেখা যাচ্ছে।

চিরিরবন্দরের নশরতপুর গ্রামের নজরুল পাড়ার কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে ক্ষেতে পলিথিনের নিশানা উড়িয়ে উপকার পেয়েছেন। ধানের ক্ষেতে কিছু দূরত্ব বজায় রেখে একটি লাঠির সাথে পলিথিন বেঁধে রেখে দেওয়া হয়। বাতাসে পলিথিন ওড়ার শব্দে কেউ আসছে ভেবে ইঁদুর পালিয়ে যায়।

এছাড়াও একই এলাকার ফারুক হোসেন, গুড়িয়াপাড়ার সুদের রায়, বালাপাড়ার সুশিল চন্দ্র দাস, তেঁতুলিয়া গ্রামের শাহ্পাড়ার আব্দুল খালেক তাদের জমিতেও এই পলিথিনের ঝান্ডা ব্যবহার করেছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ক্ষেতের পোকা-মাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কৃষকরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। ইদুঁর তাড়াতে কৃষক ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও কাজ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

এসপির বাড়িতে ২৭ মৌচাক

এসপির বাড়িতে ২৭ মৌচাক

গ্রামের মধ্যে অবস্থিত বাড়িটি এখন যেন মৌবাড়িতে পরিণত হয়েছে। বাড়িটি এখন মৌমাছিদেরই দখলে বলা যায়! দোতলা ভবনের কার্নিশজুড়ে, দরজা-জানালার সঙ্গে, আঙিনায় কাঁঠাল গাছসহ বিভিন্ন গাছে ঝুলছে ২৭টি মৌচাক। এসব মৌচাকের লাখো মৌমাছির সঙ্গেই বসবাস করছেন বাড়ির লোকজন।

পাবনার সুজানগর উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মানিকদির কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে পুলিশ সুপার আব্দুল লতিফের বাড়িতে এ দৃশ্য এখন শোভা পাচ্ছে। তিনি বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। গ্রামের বাড়িতে তার স্কুলশিক্ষক ভাই নজরুল ইসলাম ও মা বসবাস করেন।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) মানিকদির কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে এসপির বাড়ির চারদিক ঘিরে দেখা গেল, কেবল মৌচাক আর মৌচাক। বাড়ির লোকজনের কোনো ক্ষতি করছে না তারা। যদিও একটু সতর্ক থাকতে হয় বলে বাড়ির লোকজন জানান।

স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, এর আগে বাড়িটিতে প্রতি বছর দু-একটা মৌচাক বসতো। তবে এবার এত মৌচাক বসবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।

তিনি বলেন, গ্রামের বাড়ি বলে সবার কাজকর্ম একটু বেশিই। মৌমাছিরও তো ছোটাছুটির অন্ত নেই। কাজ করতে গেলেই মৌমাছির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতেও মাছিগুলো ক্ষিপ্ত হচ্ছে না। মৌমাছিগুলো যেন তাদের পরিবারেরই সদস্য হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, পুরো বাড়ি ঘিরে বিপুল পরিমাণ মৌচাক দেখার জন্য প্রতিদিনই এ গ্রাম সে গ্রাম থেকে মানুষ আসছে। মৌয়ালদের তাগিদ তো রয়েছেই। কবে কাটা যাবে মৌচাক।

গ্রামীণ পাকা সড়কের পাশে বাড়িটি। এজন্য সেই পথে যাতায়াত করা লোকজনও দৃশ্যটি উপভোগ করছেন।

এ গ্রামে কখনো এক বাড়িতে একসঙ্গে এত মৌচাক লাগেনি বলে জানান প্রতিবেশী ও সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুল মতিন। তিনি বলেন, এসপি হলেও লতিফ সাহেবের বাড়ি সাধারণ বাড়ির মতোই। মৌচাকগুলো এবার তাদের বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।

মানিকদির কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের অদূরে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক আব্দুল খালেক খান এক বাড়িতে এতগুলো মৌচাকের খবর পেয়ে দেখতে এসেছেন। বলেন, ‘আমি এত মৌচাক একসঙ্গে এই প্রথম দেখলাম, মুগ্ধ হয়েছি, আনন্দিত।’ তিনি জানান, বাজারের মধু ভেজালে ভরা; তাই তিনি খাঁটি মধু সংগ্রহ করবেন এখানে থেকে।

তারাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন মৌচাক দেখতে এসে জানান, দোতলা বাড়িটির চারদিকে মৌচাকে ঘেরা। বাড়ির চারপাশ দিয়ে মৌমাছিদের নাচন। তিনি বলেন, একজন আদর্শ মানুষ এসপি আব্দুল লতিফ তাদের এলাকার গর্ব। তার কাজকর্ম ও আচরণ সুন্দর বলেই বুঝি মৌমাছিরা দল বেঁধে তার বাড়িতে জড়ো হয়েছে।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সামাদ (৭০) জানান, এলাকায় অনেক কাঁচা-পাকা বাড়ি, গাছপালা রয়েছে, যেখানে তেমন কোনো মৌচাক নেই। অথচ এসপি লতিফ সাহেবেরে বাড়ির চারদিকে প্রচুর মৌচাক। তিনি বলেন, গ্রামে সেই আগের মতো আর মৌমাছির চাক বসে না। তাই খাঁটি মধুও পাওয়া যায় না। বহু বছর পর এত মৌচাক এক বাড়িতে দেখলাম।

পুলিশ সুপার আব্দুল লতিফ মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, বাড়িতে অনেকগুলো মৌচাক বসেছে বলে তিনি খবর শুনেছেন। বিষয়টি বেশ আনন্দদায়ক বলে জানান। তিনি বলেন, ছুটি পেলে বাড়ি গিয়ে এ রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য একটু উপভোগ করতে পারব।

সেই ছোটবেলা থেকে মধু সংগ্রহ করা আজকের বৃদ্ধ মৌয়াল নূরে আলম বলেন, সেই কিশোরকালে বড় বটগাছে এত মৌচাক চোখে পড়ত। সে সময় মৌচাক বেশি ছিল তাই মধুও বেশি পেতাম। আগে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গৃহস্থের বাগান কিংবা বাড়ি থেকে মজুরি অথবা ভাগের বিনিময়ে যা মধু মিলত, তাতেই ৭-৮ মাস সংসার চলে যেত।

তিনি আরও বলেন, এখন সেই চাক আর নেই। থাকলেও চাকে আগের মতো মধু নেই। এখন মধু সংগ্রহ করে মাসখানেকও সংসার চলে না। এবার এসপি সাহেবের বাড়িতে এত মৌচাক দেখে তিনিও আনন্দিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শামছুল আলম জানান, চাষিরা গতানুগতিক চাষে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় তিল, সরিষা, তিসির মতো মধুযুক্ত ফুলসমৃদ্ধ চাষ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মধুর সন্ধানে মৌমাছিরাও তাই বনে বাদারে গিয়ে মৌচাক তৈরি করছে। পাশাপাশি অত্যধিক রাসায়নিক এবং কীটনাশক ব্যবহারের জন্য ফুলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌমাছিও মারা পড়ছে। ফলে ক্ষেতে পরাগায়নও কমে যাচ্ছে। এতে মধুযুক্ত অনেক ফুলের গাছও কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অবশ্য সরিষা চাষ প্রধান এলাকায় মৌমাছিরা এখনো ভিড় করে। যেমনটি মানিকদির কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে এসপি আব্দুল লতিফের বাড়িতে একসঙ্গে এত মৌমাছি ভিড় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

জাস্ট বিট ইট

বিট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সবজি। এমন সুন্দর লাল টুকটুকে সবজি গোটা পৃথিবীতে কম আছে। আমাদের দেশে আগে খুব একটা খাওয়া না হলেও, নানাবিধ পুষ্টিগুণের জন্য স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর কদর বেড়েছে।

শরীর ফিট রাখতে চাইলে খেতে পারেন বিট। এতে রয়েছে অনেক ফাইবার, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন আর ভিটামিন সি। এ ছাড়া আছে প্রোটিন, ভিটামিন বি৬ ও সামান্য ফ্যাট। বিট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক ও হজম স্বাস্থ্যের দেখভাল করে থাকে। সেই সঙ্গে ইনফ্ল্যামেশন ও ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে অসাধারণ সবজিটি।

আজ থেকে হাজার বছর আগে থেকেই বিট খাওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, খ্রিষ্টের জন্মের কয়েক শ বছর আগে ভূমধ্যসাগরীয় কিছু অঞ্চল, যেমন গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্য, মিসর, সিরিয়াতে বিটের চাষ হতো। এ অঞ্চলের বাইরে সেই সময়ে কেবল ওলন্দাজদের দেশে, অর্থাৎ হল্যান্ডে বিট চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়। রোমানরা অবশ্য বিট চাষ শুরু করে এর শাক খাওয়ার জন্য। বিটের শাক কিন্তু কোনো অংশে বিটের থেকে কম যায় না! এতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ। মূলত ইউরোপীয়দের মাধ্যমে বিট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে পূর্ব ইউরোপের দেশ, যেমন রাশিয়া, ইউক্রেন, লিথুনিয়া, চেক, স্লোভাকিয়া বেলারুশ, মলদোভা ইত্যাদি দেশের নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি বিট খেয়ে থাকে। এটি দিয়ে বানানো বোস্ট (একধরনের সবজির স্যুপ) এসব দেশের অতি প্রচলিত একটি খাবার। এই বোস্ট পূর্ব ইউরোপবাসীরা যেখানেই অভিবাসী হয়েছে, সেখানেই নিয়ে গেছে। উপাদেয় পদটি বিভিন্ন উৎসবে তারা খেয়ে থাকে।

রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী উত্তর এশিয়ার কিছু দেশেও বোস্ট খাওয়া হয়। বিট দিয়ে পোল্যান্ড এবং ইউক্রেনে চিক্লা নামের একধরনের সালাদ বানানো হয়, যা কোল্ড কাট বিফ আর স্যান্ডউইচের সঙ্গে সাইড ডিশ হিসেবে খাওয়া হয়। সুইডেন ও নরডিক কিছু দেশে বিফ আ লা লিন্ডস্ট্রোম (মিটবল) বানাতে বিটকুচি মেশানো হয়। ওই দিকে অস্ট্রেলিয়াতে ঠান্ডা ও গরম মাংসের পদ এবং হ্যামবার্গারের সঙ্গে বিটরুট রেলিশ খেতে দেখা যায়, যা বিট দিয়ে বানানো একধরনের টক মিষ্টি আচার। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও কিন্তু অনেকভাবে বিট খাওয়া হয়।

এ তো গেল বিট দিয়ে বানানো ঐতিহ্যবাহী, বিখ্যাত খাবারের কাহিনি। এবার জানা যাক বিট আর কী কী উপায়ে খাওয়া যায়। সবজিটি কাঁচা এবং নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়; আর সেটা আমরা মোটামুটি সবাই জানি। কাঁচা খেতে চাইলে বানানো যায় বিটের সালাদ, স্মুদি, জুস। বিটের স্মুদি বা জুস কিন্তু শরীরের জন্য অত্যন্ত উপাদেয় একটি খাদ্য। যাঁরা লিভার আর ত্বকের সুস্থতা চান এবং শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে চান, তাঁরা নিয়মিত বিটের জুস বা স্মুদি খেতে পারেন।

বিট সেদ্ধ বা বেক করে অনেক সুস্বাদু খাবার বানানো যায়। শুধু বিট তেল, নুন আর গোলমরিচ দিয়ে রোস্ট করে খেতে বেশ মজার। চাইলে নিরামিষে মেশাতে পারেন। বিট দিয়ে বানাতে পারেন স্যুপ, কাবাব, হাম্মুস, পাস্তা, নুডলস, ফ্রাইড রাইস। এতে এসব সাধারণ খাবারের রং আর স্বাদ—দুটিই হবে খাসা। ইদানীং বিট দিয়ে অনেক ধরনের ডেজার্ট, যেমন রেড ভেলভেট কেক, ব্রাউনি, পুডিং, কুকি, আইসক্রিমও বানানো হচ্ছে। অন্তর্জাল ঘেঁটে রেসিপি দেখে চাইলে ঘরেও বানাতে পারেন এসব সুস্বাদু খাবার। আপনাদের সুবিধার জন্যই নিচে বিট দিয়ে বানানো একটি খাবারের সহজ রেসিপি দেওয়া হলো।

বিটরুট ডিলাইট

উপকরণ

বিটরুট ৫০০ গ্রাম, পানি ২ কাপ, চিনি পৌনে এক কাপ, বিটরুটের সেদ্ধ করা পানি আধা কাপ, কর্নফ্লাওয়ার ৪ টেবিল চামচ, কমলার রস ৩ টেবিল চামচ, ঘি পরিবেশন ট্রেতে ব্রাশ করার জন্য লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, শুকনা নারকেল পাউডার পরিমাণমতো, ঘি ১ টেবিল চামচ, পেস্তাকুচি সাজাবার জন্য।

প্রণালি

বিটরুট পাতলা গোল করে কেটে নিন। প্যান গরম করে তাতে বিটরুট স্লাইস ২ কাপ পানি দিয়ে জ্বাল দিন। পানি কমে বিটরুট সেদ্ধ হলে নামিয়ে রাখুন। পানি ছেঁকে বিটরুট উঠিয়ে রাখুন। পানিটুকু আলাদা রাখুন। হাত ব্লেন্ডারের সাহায্যে সেদ্ধ করা বিটরুট মসৃণ করে ব্লেন্ড করে নিন। বিটরুটের পানির সঙ্গে কমলার রস মিশিয়ে তাতে কর্নফ্লাওয়ার গুলে নিন। প্যান ধুয়ে ব্লেন্ড করা বিটরুট ও চিনি মিশিয়ে নাড়ুন।

কর্নফ্লাওয়ার ও বিটরুট কমলার রসের মিশ্রণে ঢেলে অনবরত নাড়ুন। ঘন হয়ে জমাট বাঁধা শুরু করলে লেবুর রস ও ঘি দিয়ে ভালো করে নেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ট্রেতে ঘি ব্রাশ করে নিন। ঢেলে স্প্যাচুলা দিয়ে উপরিভাগ সমান করুন। ক্লিন পেপার দিয়ে ঢেকে ৬ ঘণ্টা রেফ্রিজারেটরে রাখুন। এবারে রেফ্রিজারেটর থেকে বের করে চার পাশে ছুড়ি দিয়ে বিটরুট কর্নফ্লাওয়ারের মিশ্রণটাকে সামান্যভাবে ঘুরিয়ে নিন। চারকোনা করে কাটুন। স্প্যাচুলা দিয়ে উঠিয়ে হাতের তালুতে নিয়ে চ্যাপ্টা করুন। এবারে এই ডিলাইট শুকনা নারকেল পাউডারে গড়িয়ে নিন। প্রতিটি ডিলাইটের মাঝখানে আঙুল দিয়ে গর্ত করে সেখানে পেস্তাকুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চালকুমড়ার মিঠাই

চালকুমড়া দিয়ে তরকারি রান্নার পাশাপাশি সুস্বাদু অনেক পিঠাও তৈরি করা হয়ে থাকে। শীতের এই সময়ে প্রিয়জনদের জন্য ঘরেই তৈরি করতে পারেন চালকুমড়ার মিঠাই।

আসুন জেনে নিই কীভাবে তৈরি করবেন চালকুমড়ার মিঠাই-

উপকরণ

চালকুমড়া ১টা, খেজুর রস ১ লিটার, দুধ ১ লিটার, কিশমিশ ১০-১৫টা, তেজপাতা ২টা, দারুচিনি ২-৩ টুকরা, নারিকেল বাটা আধাকাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি

খেজুর রস ১ লিটার জ্বাল দিয়ে ১ কাপ করতে হবে। চুলায় কড়াইয়ে ঘি দিয়ে তাতে তেজপাতা, দারুচিনি ভেঙে দিয়ে বড় করে টুকরা করা চালকুমড়া দিয়ে ভাজতে হবে। 

দুধের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে এতে ঢেলে দিতে হবে। অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। কুমড়া ভালোভাবে সিদ্ধ হলে বাকি উপকরণ দিয়ে পাঁচ মিনিট পর নামাতে হবে। খাবার শেষে মিষ্টান্ন হিসেবে ভাত ও অথবা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com