আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে খুলনায় বিপাকে কাঁকড়া চাষিরা

করোনাভাইরাসের প্রভাবে খুলনায় বিপাকে কাঁকড়া চাষিরা
করোনাভাইরাসের প্রভাবে খুলনায় বিপাকে কাঁকড়া চাষিরা

ঢাকার রপ্তানিকারকরা এই মুহূর্তে কাঁকড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একই সাথে তাদের কাছে পাওনা টাকাও দিতে চাইছেন না। এতে উভয় দিক থেকেই বিপদে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা

করোনাভাইরাসের (কভিক-১৯) প্রভাবে চীন কাঁকড়া আমদানি বন্ধ রাখায় খুলনার উপকূলীয় এলাকায় খামারে উৎপাদিত কাঁকড়া বিক্রি কমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কয়েক হাজার কাঁকড়া চাষি।

চাষিরা জানান, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া উৎপাদিত হয়। এসব কাঁকড়া ঢাকার ব্যবসায়ীরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কিনে নেন। ঢাকা থেকে এসব কাঁকড়া চীনসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। চাষিরা রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া বিক্রি করেন বেশি দামে। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় অনেক কম দামে। রপ্তানিকারকরা কাঁকড়া না কিনলে স্থানীয় বাজারে এই দাম আরও কমে যাবে।

খুলনা জেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ায় কাঁকড়ার বড় বাজার তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় নরম খোসার কাঁকড়া, অন্য দেশগুলোতে স্বাভাবিক কাঁকড়া রপ্তানি হতে থাকে। শুরুর দিকে শুধুমাত্র সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণ করা হতো।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁকড়া চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে খুলনা জেলার ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এসব এলাকা থেকে ৬ হাজার ৯৮৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার ঘরামি জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসকে এ অঞ্চলে কাঁকড়ার মৌসুম ধরা হয়। কারণ এসময় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরা বন্ধ থাকে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা এ সময় সরাসরি খামার থেকে কাঁকড়া কেনেন। কিন্তু ঢাকার রপ্তানিকারকরা এই মুহূর্তে কাঁকড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একই সাথে তাদের কাছে পাওনা টাকাও দিতে চাইছেন না। এতে উভয় দিক থেকেই বিপদে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

তিনি জানান, চীনে রপ্তানির জন্য কয়রা ও পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় টন কাঁকড়া রাজধানীর বিভিন্ন আড়তে পাঠানো হতো।

আড়তদাররা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আড়তগুলোতে ব্যবসায়ীরা এক প্রকার হাত গুঁটিয়ে বসে আছে। অন্যদিকে উৎপাদিত কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় কাঁকড়া খামারিরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অচলাবস্থা না কাটলে এ অঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার ছোট বড় খামারিকে কয়েক কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে।

মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “খুলনা অঞ্চলের কাঁকড়া ও কুঁচে সরাসরি ঢাকা থেকে রপ্তানি হয়। বর্তমানে কী পরিমাণ পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে উৎপাদনের পরিমাণ দেখে বোঝা যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক চাষি রপ্তানি বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন হোসেন জানান, “গত বছর এ উপজেলায় ৩১০ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ওই জমি থেকে ২ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন ও সুন্দরবন থেকে ১ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়। এলাকায় এবার কাঁকড়া চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রাও দ্বিগুণ ধরা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রপ্তানি বন্ধ থাকায় সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

*** দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো
*** নুরানি আপেল কুল চাষ দেশে এবারই প্রথম
*** ইউটিউব দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ
*** ১০ মাসের মাথায় দেখতে পেলেন সাফল্য
*** প্রতি গাছে ধরছে ২০ কেজি নুরানি আপেল কুল

দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল।

আপেল কুল বাংলাদেশে চাষ হলেও নতুন জাতের কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ দেশে এবারই প্রথম। প্রচলিত আপেল কুল ও বাউকুলের থেকে আকারে বড় কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল। গাছের ডালে ডালে ধরে এ কুল।

প্রথম বারের মতো দেশে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে সফল হয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের বেলজিয়ামপ্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেলজিয়ামে থাকা অবস্থায় লিয়াকত ব্যাপারী সিদ্ধান্ত নেন দেশে এসে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করবেন। দেশে ফিরে তাই করেছেন তিনি। চারা রোপণের ১০ মাসের মাথায় দেখতে শুরু করেন সাফল্যের মুখ। তার বাগানে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বেলজিয়ামপ্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে চার বিঘা জমিতে ৮০০ কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের চারা ও ৫০০ মাল্টা গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

রোপণের ১০ মাসের মাথায় চারাগুলো পরিপক্ব হয়। ১২ মাসের মাথায় গাছে ফুল আসে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গাছে ধরে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল। প্রতি গাছে ১৫-২০ কেজি করে ধরেছে আপেল কুল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে তার বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি না হলে প্রত্যেক গাছে ৫০ কেজি করে ধরত কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল।

এরই মধ্যে ৭০ টাকা কেজি পাইকারিতে আপেল কুল বিক্রি শুরু করেছেন লিয়াকত ব্যাপারী। বেড়েছে ক্রেতাদের চাহিদা। তার বাগানে ৭-৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারা গাছ ও বাগানের পরিচর্যা করেন।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

বাগানের মালিক লিয়াকত ব্যাপারী বলেন, বেলজিয়ামে থাকা অবস্থায় ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চার বিঘা জমিতে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের চারা ও ৫০০ মাল্টা গাছের চারা রোপণ করি। গত বছরের ডিসেম্বরে গাছে ফুল আসে। জানুয়ারি মাসে ফল ধরে। এখন পাকাপোক্ত ফল বিক্রি শুরু করেছি। একেকটি গাছে ১৫-২০ কেজি ফল ধরেছে। পাইকারি ৭০ টাকা কেজিতে আপেল কুল বিক্রি করছি। বলা যায় ভাগ্য বদলে গেছে আমার। আমি সফল। গাছগুলো আরও পরিপক্ব হলে ১০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে। গাছে ফল ধরার পরিমাণও বাড়বে।

লিয়াকত ব্যাপারী বলেন, শিবচরের মাটিতে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের বাম্পার ফলন হবে। যেমনটি হয়েছে আমার। এখানের মাটি অনেক ভালো। যে কেউ সহজে এটি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

তিনি বলেন, আমার এমন উদ্যোগের শুরুতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। তারা যদি এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করেন তাহলে অনেকেই কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে ভাগ্য বদলে ফেলতে পারবেন।

জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ রায় বলেন, শিবচরের মাটিতে নতুন জাতের কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে প্রথমবারের মতো সাফল্য দেখিয়েছেন প্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী। সামনে কেউ এ ফল রোপণ ও চাষ করতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার কৃষকের ভাগ্য

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পাখিমারা’ খাল। এই ইউনিয়নের আরও ১০টি গ্রামে প্রবেশ করেছে খালের সাতটি শাখা।

৫০-৬০ বছর আগে বন্যা থেকে রক্ষা পেতে পাখিমারা খালের দুই প্রান্তে বাঁধ দেয়া হতো। এরপর থেকে শাখা জুগীর খালের মাধ্যমে পাখিমারা খালে আন্ধারমানিক নদের পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে। জুগীর খালের একপ্রান্ত আন্ধারমানিক নদে মিলেছে। আরেক প্রান্ত মিলেছে মাখিমারা খালে। খালগুলো মিঠাপানির অন্যতম উৎস। অন্তত ২৬টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তাদের জীবিকার জন্য খালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ খালগুলো।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

তবে কুমিরমারা গ্রামে জুগীর খালের বিভিন্ন অংশে আড়াআড়ি করে বাঁশের ওপর জাল দিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবার মাছ ধরত। ফলে পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটতো। দখলদারদের কারণে গ্রামের বাসিন্দারা খালের পানি ব্যবহার করতে পারতেন না। খালের পানি ছাড়া অন্য কোনো সেচের ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে আমন ছাড়া বছরের অন্য সময় আবাদ হতো না। সেচের অভাবে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। ফলে গ্রামগুলোর অধিকাংশ পুরুষ কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যেতেন। দুই যুগের বেশি সময় এভাবে চলছিল তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

প্রায় দুই যুগ পর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে দখল মুক্ত হয় ওই খালগুলো। তখন খালের পানি ব্যবহারে আর বাধা না থাকলেও দেখা দেয় ভিন্ন সমস্যা। খালের জলকপাটগুলো জরাজীর্ণ হওয়ায় জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয় কৃষিজমি।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

এবার তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন ইউএনও। খালে বাঁধ নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে টাকাও দেন তিনি। গ্রামের মানুষ সাধ্যমতো চাঁদা দেন। সেই টাকা দিয়ে খালে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে নির্মাণ করা হয় তিনটি বাঁধ। বাঁধগুলো নির্মাণের ফলে গ্রামের কৃষিতে এসেছে পরিবর্তন। খালের আশপাশের ৫০০ একর অনাবাদি জমিতে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। গ্রামজুড়ে কর্মমুখর পরিবেশ। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন গোটা উপজেলার মধ্যে কৃষির পাশাপাশি সবজি চাষের মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র গ্রামগুলোর ৩০ হাজার মানুষ এখন সমৃদ্ধশালী।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামের সংখ্যা ৫২টি। এর মধ্যে ঘুটাবাছা, নাওভাঙ্গা, গামুরতলা, পূর্বসোনাতলা, নেয়ামতপুর, এলেমপুর, মজিদপুর, ফরিদগঞ্জসহ ১৬টি গ্রামের মধ্য দিয়ে পাখিমারা খাল বয়ে গেছে। পাখিমারার খালের শাখা রয়েছে অন্তত সাতটি। এর মধ্যে জুগীর খাল, হাজীর খাল, মজিদপুর খাল, আমিরাবাদ খাল ও জোনাব আলীর খাল ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে প্রবেশ করেছে।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ জুগীর খাল। কুমিরমারা গ্রামে এটির বিভিন্ন অংশে আড়াআড়ি করে বাঁশের ওপর জাল দিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবার মাছ ধরত। দখলদারদের কারণে গ্রামের বাসিন্দারা খালের পানি ব্যবহার করতে পারতেন না। খালের পানি ছাড়া সেচের অন্য ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে আমন ছাড়া অন্য কিছু আবাদ হতো না।

দিনে দিনে গ্রামবাসীরা খালের পানি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহারের দাবিতে সোচ্চার হন। শুরু হয় খাল দখলমুক্ত করার লড়াই। সেই লড়াইয়ে সঙ্গী হন কলাপাড়া উপজেলার ইউএনও। প্রায় দুই যুগ পর গ্রামবাসী ও ইউএনওর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রভাবশালীদের হাত থেকে দখলমুক্ত হয় জুগীর খাল।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

এরপর খালের জলকপাটগুলো জরাজীর্ণ হওয়ায় জোয়ারের লোনা পানি ঢুকে পড়ত জমিনে। জলকপাট মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে গিয়েও কাজ হয়নি। এবারও এগিয়ে আসেন ইউএনও। খালে বাঁধ নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা দেন তিনি। গ্রামের মানুষও সাধ্যমতো চাঁদা দেন। এভাবে সংগ্রহ হওয়া ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয় তিনটি বাঁধ। বাঁধ নির্মাণের ফলে গ্রামগুলোর কৃষিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রায় ৫০০ একর অব্যবহৃত জমিতে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় কৃষকেরা আবাদ করেছেন তরমুজ, লাউ, শিম, টমেটো, কপি, মুলা ও মরিচসহ নানা ধরনের সবজি। এবার প্রায় ৫০ একর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক জাকির গাজী জানান, খালের পাশেই তার বাবার দুই বিঘা জমি রয়েছে। তবে জমিতে আগে আমন ছাড়া বছরের অন্য সময়ে আবাদ করা যেত না। কারণ চাষাবাদ করতে সেচের প্রয়োজন। খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। কারণ মজিদপুরের শামসুদ্দিন, ছোটকুমিরমারার মনির হাওলাদার ও কুদ্দুস হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন জুগীর খালে মাছ চাষ করতেন। তাদের ৪০-৫০ জনের বাহিনী ছিল। খালে মাছ চাষের প্রতিবাদ করলে ওই বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হতো। এসব কারণে গ্রামবাসী মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনিসহ এলাকার কয়েকজন গ্রামে ঘুরে লোকজনকে বোঝানো শুরু করেন। ২০১৮ সালে তিন গ্রামের শত শত মানুষ বৈঠকে সমবেত হন। সেখানেই খাল উদ্ধারের জন্য গঠন করা হয় নীলগঞ্জ আদর্শ কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতি। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সুলতান গাজীকে সভাপতি, আবু বকর মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক ও জাকির গাজীকে কোষাধ্যক্ষ করে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যোগ দেয়া ইউএনও মুনিবুর রহমান এগিয়ে আসেন। আগস্ট মাসে খাল থেকে দখলদারদের জাল অপসারণে অভিযান চালান তিনি। কিন্তু দখলদাররা কয়েকদিন পর আবারও খালে জাল পেতে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ঘটায়। এরপর ইউএনওর উদ্যোগে আরও দুই দফা অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ অভিযানে দখলদারদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এরপর আর জাল পাতার সাহস পায়নি দখলদাররা। এরপরও শুরু হয় গ্রামে কৃষিকাজ।

কুমিরমারা গ্রামের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, চাকরির চিন্তা না করে কৃষিকাজে নেমেছি। বাবার দেয়া জমিতে সবজি ও ফসলের আবাদ করেছি। ১০ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে বোম্বাই মরিচের আবাদ করেছি। চাষ বাবদ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বোম্বাই মরিচ থেকে দুই লাখ টাকা আয় হবে আশা করছি।

মজিদপুর গ্রামের লিটন হাওলাদার বলেন, একসময় ঢাকা ও বরিশালে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করছি। সবজি চাষাবাদ করে অভাব দূর হয়েছে আমার।

নীলগঞ্জ আদর্শ কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি সুলতান গাজী জানান, জমিতে সেচ দেয়ার জন্য আগে খালের পানি ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। ফসলাদি ভালো হতো না বলে কুমিরমারা গ্রামে অভাব লেগেই ছিল। এক ফসলি জমি ছিল গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা। এখন কুমিরমারাসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। কৃষকরা এখন সবজির আবাদ করেছেন।

কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান বলেন, সেচের সুবিধা পেয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তত ২৬টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক একর জমিতে নতুন করে এবার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ একর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। বাকি জমিতে হয়েছে সবজির চাষ। আগে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বছরে ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় হতো। এবার সবজি চাষ করে গড়ে প্রতি বিঘা থেকে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করার আশা কৃষকদের। সবজির আবাদ এখানকার কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এতে তাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সেচ সুবিধা পেয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ২৫-৩০ গ্রামের মানুষ কৃষিতে যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা অবিশ্বাস্য। পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনযাত্রায়। জমি আবাদ করে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেছেন তারা। আগে জমিগুলো পড়ে থাকত। এখন তারা আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সবচেয়ে ভালো খবর হলো লেখাপড়া ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনসেবা করা। আমি শুধু আমার ওপর রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। গ্রামবাসীরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরম প্রতিকূলতা জয় করেছেন। সহায়তা পেলে গ্রামের মানুষ তার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার : কৃষিমন্ত্রী

সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার কৃষিমন্ত্রী
সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার কৃষিমন্ত্রী

সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীদের জন্য সিআইপির মতো এআইপি (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন) পুরস্কার আসছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীকে সিআইপির মতো এআইপি পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে। এআইপি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা সিআইপির মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। অ্যাওয়ার্ডের জন্য খুব শিগগিরই সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কিছু দেশ থেকে খাদ্য পণ্য আমদানি বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশে খাদ্যে কোনো ঘাটতি হবে না। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে ভোজ্যতেল। যার সিংহভাগ আসে মালয়েশিয়া থেকে, এক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।’

কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দুই দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং ডেইরি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় কসোভোর রাষ্ট্রদূত কৃষির ওপর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশ থেকে শীতকালীন শাকসবজি আমদানির আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া তিনি যুদ্ধের সময় কসোভোর ধ্বংসপ্রাপ্ত পোল্ট্রি এবং ডেইরি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা চান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এক সময় কৃষি খাত কম উৎপাদনশীল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ এবং কৃষি খাতে প্রণোদনার ফলে কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশের এসব অভিজ্ঞতাকে কসোভো কাজে লাগাতে পারে। সেক্ষেত্রে দুদেশের একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষ করে সফল হওয়া যায়। আর সেটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইনিয়নের মূলগ্রামের আব্দুল হাই শেখ। বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে আমলকি চাষ করে সফল হওয়া যায় বলে জানালেন তিনি। সুযোগ পেলে এ চাষ এলাকায় বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হতে পারে।

জানা যায়, দক্ষিণ বঙ্গের সমতল ভূমিতে আমলকি চাষ অবাক হওয়ার মতোই। রসালো এই ফল ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্লভ। এ অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন আব্দুল হাই। আমলকি চাষ করে সফল চাষিদের মধ্যে তিনি একজন।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

আব্দুল হাই জানান, এ জেলার আমলকি গাছ ৮-১৮ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে এরকমই দেখা যায়। আমলকি গাছে প্রায় ৪ বছর ফল দেয়। আগস্ট-নভেম্বর পর্যন্ত এ ফল পাওয়া যায়। বীজ দিয়ে আমলকির বংশবিস্তার করে বাগান গড়ে তোলা যায়। বর্ষাকালে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়।

তিনি জানান, চাষিরা ফলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি চাষ করছেন। প্রতিবছর এ সময়ে জেলায় আমলকি বেচাকেনা বেশি হয়ে থাকে। এ জেলার আমলকি ঢাকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে। এছাড়া জেলায় বাম্পার ফলনে সবাই আগ্রহী হয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগ থেকে শুরু করে কৃষক ও বৃক্ষপ্রেমী লোকজন তার বাগান দেখে মুগ্ধ।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

আমলকি চাষ সম্পর্কে আব্দুল হাই শেখ জানান, প্রথমে ১০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। সাড়ে ৪ বছর পর তার বাগান থেকে ২৫ মণ আমলকি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য ছিল ২৬ হাজার টাকা। এ বছরও অনেক বেশি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এ ফল বিভিন্ন দেশে রফতানি করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি সুসংবাদ হতে পারে। যদিও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফল চাষে উদ্যোগী হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, ‘জেলায় কম করে হলেও প্রতিটি বাড়িতে ২-৩টি করে আমলকি গাছ দেখা যায়। এখন অনেক পরিবার বাণিজ্যিকভাবে আমলকি চাষ করায় এ বছর আবাদ হয়েছে ৪৪ হেক্টর এবং উৎপাদন হয়েছে ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছর থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যা হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৮.৪৭ মেট্রিক টন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ

বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ
বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ

ভোলায় বর্ষাকালে বেবি তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন সৌরভ চন্দ্র হাওলাদার। কোন প্রকার পোকার আক্রমণ না থাকায় সফল হয়েছেন তিনি। বাজারে বিক্রি করেও পাচ্ছেন অর্থ। বিভিন্ন রঙের এ তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর; তেমনই খেতেও সুস্বাদু। তাই এ তরমুজের চাহিদা অনেক। এদিকে তার সফলতায় অন্যদের মাঝে চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

জানা গেছে, ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামের সৌরভ চন্দ্র হাওলাদার পরিত্যক্ত ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করেন সফন বেবি তরমুজ। কম খরচে ৭০ দিনে জমিতে ফল বড় হতে শুরু করে। প্রথমে ভয় থাকলেও ফলন আসার পর মুখে হাসি ফুটেছে। ইতোমধ্যে একেকটি তরমুজের ওজন ২ থেকে আড়াই কেজি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার তরমুজ। তরমুজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায়।

বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ
বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ

কৃষক সৌরভ চন্দ্র হাওলাদার জাগো নিউজকে জানান, একসময় তিনি বেকার ছিলেন। ধান চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় অন্য কিছু করার চিন্তা করেন। প্রায় বছরখানেক আগে একটি এনজিওর কর্মীরা তাকে তরমুজ চাষে উৎসাহিত করেন। পরে ওই সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে বীজ পেয়ে নিজের জমিতে চাষ শুরু করেন। চাষ করতে তার খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা।

বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ
বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ

তিনি জানান, প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। কিন্তু তিনি কোন বাধা না মেনে চাষ করেন। ফলে মাত্র ৭০ দিনের মাথায় সফলতা পান। এপর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। এপর্যন্ত আরও ১ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

স্থানীয় কৃষক আলী মিয়া ও ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘এত কম খরচে ও কম পরিশ্রমে এত লাভ হয়, আগে জানতাম না। আগামীতে আমরা ব্যাপকভাবে এ তরমুজ চাষ করবো।’

বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ
বেবি তরমুজ চাষ করে সফল সৌরভ

ভোলা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে জানান, এ বছর তিন জন কৃষককে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও বীজ দেওয়া হয়। তারা পরীক্ষামূলক চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। আগামীতে ব্যাপক হারে আবাদ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করবো।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জাগো নিউজকে জানান, জেলায় এ তরমুজের আবাদ প্রথম। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় নতুন জাতের এ তরমুজ চাষ করে কৃষকরা সফল হয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com