আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে

বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে
বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে

কখনো কখনো কোল্ড-স্টোরেজ সংকটে পড়ে অনেক আলু নষ্ট হয়ে যায়। তারপর সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষের খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে খরচ কমিয়ে চাষ করার পদ্ধতিও আছে। অনেক পতিত জমিও আসবে চাষের আওতায়।

কোন অঞ্চল
যেসব এলাকা নিচু এবং বর্ষার পানি নামতে দেরী হয়; সেখানে বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে পারেন।

কেন করবেন
এর ফলে খরচ কম হয়। কারণ কচুরিপানাকে মালচিং দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করে মাটির রস সবসময় সংরক্ষণ করা য়ায়। সেচ খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। অনেক কম রাসায়নিক সার দরকার হয়। জমিতে আগাছা কমে যায়। আলু বেশি সুস্বাদু হয়। আলুর আকারও অনেক বড় হয়।

বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে
বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে

জমি নির্বাচন
এভাবে চাষের জন্য এমন জমি নির্বাচন করতে হবে; যেখানে বৃষ্টিপাত হলে পানি জমে না। সাধারণত উচ্চ ফলনশীল এবং স্থানীয় জাতের ধান কাটার পর জমি ফাঁকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলু চাষের সুযোগ হয়। কাছাকাছি নদী বা পুকুরে কচুরীপানার উৎস থাকতে হবে।

কখন করবেন
নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত এ আলু চাষের উপযুক্ত সময়। তবে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত বিরনা পদ্ধতিতে আলু চাষ সম্ভব।

বীজ ব্যবস্থাপনা
হিমাগারে সংরক্ষিত অনুমোদিত কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ইত্যাদি জাত ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি শতকে ৬-৮ কেজি বীজের দরকার হয়। ২৫-৩০ গ্রাম ওজনের ছোট আলু বা বড় আলুর কমপক্ষে দুই চোখ বিশিষ্ট কাটা অংশই আলুর বীজের জন্য ভালো। কাটা অংশে ছাই লাগিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে
বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে

রোপণ পদ্ধতি
রোপণের আগে বীজ অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করে নেওয়া ভালো। ২০ ইঞ্চি দূরে সারি করে ১০ ইঞ্চি দূরে প্রতিটি বীজ আঙুলের চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। যদি মাটি কিছুটা শক্ত হয়, তবে হাত লাঙল টেনে ১০ সেন্টিমিটার গভীর করে নালায় বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা
বীজ রোপণের আগে শতক প্রতি ১.৩ কেজি ইউরিয়া এবং আধা কেজি টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে। আগের দিন পটাশ ও গোবর সার মিশিয়ে ছিঁটিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগের সময় বীজের গায়ে যেন কোনভাবেই রাসায়নিক সার না লাগে।

আচ্ছাদন
কচুরিপানা, খড়, নাড়া ইত্যাদি আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নদী বা খাল থেকে কচুরীপানা তুলে রেখে দিয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে শুকালে সেটি আচ্ছাদন হিসেবে ভালো। খড় বা নাড়াকে আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করলে ইঁদুরের আক্রমণ বাড়তে পারে। বীজ আলু লাগানোর পরপরই ৪-৬ ইঞ্চি পুরু করে আচ্ছাদন দিতে হবে। বীজ আলু সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত হতে হবে। না হলে আলুর গায়ে সবুজ মেলানিনের দাগ পড়ে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। আবার আচ্ছাদন বেশি হলে গাছ বের হতে সমস্যা হয়।

পরিচর্যা
পোকায় চারাগাছ কেটে দেয় এবং ছিদ্র করে ফসলের ক্ষতি করে। এই পোকা দিনের বেলা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। পোকার উপদ্রব খুব বেশি না হলে কাটা গাছের কাছাকাছি মাটি খুঁড়ে কীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। উপদ্রব বেশি হলে ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি ৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে গাছের গোড়া ও মাটি স্প্রে করে ভিজিয়ে দিতে হবে। আলু লাগানোর ৩০-৪০ দিন পর এটা করা দরকার। বাড়িতে সংরক্ষিত আলুতে সুতলি পোকা লম্বা সুড়ঙ্গ করে। পরে এটি অন্য আলুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে
বিনা চাষে আলুর ফলন পেতে

করণীয়
বাড়িতে আলু সংরক্ষণের সময় ছাই, তুষ অথবা কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আলু সংরক্ষণের আগে আক্রান্ত আলু বাছাই করে ফেলে দিতে হবে। জাবপোকা গাছের রস চুষে খায় এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়। প্রতি ৭ দিন পর ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১০ মিলিলিটার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। উড়চুঙ্গা রাতে গর্ত থেকে বের হয়ে গাছের শেকড় ও কাণ্ড খেয়ে ফেলে। বিষটোপ ব্যবহার করে অথবা গর্ত থেকে পোকা বের করে মেরে ফেলতে হবে।

আলুর মড়ক
লেট ব্লাইট বা আলুর মড়ক রোগ হলে প্রথমে পাতা, ডগা ও কাণ্ডে ছোট ছোট ভেজা দাগ পড়ে। পড়ে এটি বড় হয়ে পুরো গাছে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে ২-৩ দিনের মধ্যে পুরো ক্ষেতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ক্ষেতে পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় যেন ফসল পুড়ে গিয়েছে। এর থেকে প্রতিকারের জন্য সুষম সার এবং সময়মতো সেচ প্রয়োগ করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোভরাল অথবা ডাইথেন এম-৪৫, ২০ গ্রাম ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

সম্ভাব্য ফলন
এভাবে রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ২৫-৩০ টন আলু পাওয়া সম্ভব। স্বাভাবিকভাবে আলু চাষ করার চেয়ে বিনা চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খরচ প্রায় তিন চতুর্থাংশে নেমে আসে।

আঙিনা কৃষি

টবে বোম্বাই মরিচ চাষ করবেন যেভাবে

বোম্বাই মরিচ মূলত প্রচণ্ড ঝালের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। সবার প্রিয়ও বলা চলে। একটু চেষ্টা করলেই ১ মাসে ফলাতে পারবেন বোম্বাই মরিচ। বাসার ছাদে, বারান্দায়, ভবনের চারপাশে টবে বোম্বাই মরিচের ফলন ভালো হয়। তাই আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখুন। চাষের নিয়ম-কানুন জেনে নিন এখনই-

বীজ বা চারা: যেকোনো বাজারে বীজ কিনতে পাওয়া যায়। তবে নতুনদের জন্য চারা কেনাই ভালো। নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার বা গ্রামের হাট-বাজার থেকেও বোম্বাই মরিচের চারা কেনা যায়। তবে জাত ও চারার মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া বীজ থেকেও চারা উৎপাদন করে রোপণ করা যায়।

চাষের নিয়ম: চারা টবে লাগানোর আগে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি ১০ ইঞ্চি টবের জন্য ২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২ চিমটি টিএসপি, ১ চিমটি ইউরিয়া, ১ চিমটি পটাশ সার, অল্প সরিষার খৈল দিয়ে ৪-৫ দিন মাটি রোদে শুকাতে হবে। তারপর এ মাটিতে চারা লাগাতে হবে।

যত্ন: চারা সবল না হলে দিনে ২-৩ বার ইউরিয়া মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন মাটি আলগা করে দিতে হবে। আগাছা সরিয়ে দিতে হবে। ২০-২৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসবে। সেই ফুল থেকে ধরবে বোম্বাই বা নাগা মরিচ।

পোকা দমন: মরিচ গাছে পোকা আক্রমণ করতে পারে। তবে ২-৪টা গাছ হলে পোকা-মাকড় হাতেই মেরে দমন করা যায়। গাছ বেশি হলে কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো।

ফলন: মরিচ যত বেশি দিন গাছে থাকবে; তত বেশি ঝাল হবে। নিচের শাখাগুলো কেটে ফেলতে হবে। না হলে মরিচের আকার হবে ছোট। গাছ কড়া রোদে রাখতে হবে, ছায়ায় থাকলে মরিচ ধরবে না। ১টি গাছ অনেক দিন ফল দেবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

একটু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিতেন তারা। বয়স ১৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ভারতে যেতেন রাতের আঁধারে, চোরাই পথে। জীবনবাজি রেখে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে গরু আনতেন।

বিএসএফের গুলি উপেক্ষা করে এ কাজ করতেন তারা। শুধু সীমান্ত পার করে দেয়ার বিনিময়ে গরুপ্রতি পেতেন দুই থেকে চার হাজার টাকা। জীবনের ঝুঁকি থাকে বিধায় মজুরি এত বেশি! ১৮ বছর বয়সী এক যুবক মাসে তিনবার ভারতে গিয়ে ছয়টি গরু আনতে পারলে আয় কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষ আয়ের পরিমাণ আরও বেশি।

১৫ দিন ভারতে গিয়ে ৩০টি গরু সীমান্ত পার করতে পারলে আয় অন্তত ৬০ হাজার টাকা। স্বল্প শিক্ষিত কোনো মানুষের পক্ষে অল্প পরিশ্রমে এত বেশি টাকা আয়ের সুযোগ নেই অন্য কোনো পেশায়। টাকার লোভে যুবকরা সীমান্তের ওপারে যান, খান বিএসএফের গুলি!

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় যেন বইছে দিন পরিবর্তনের হাওয়া। একসময় যারা গরু চোরাকারবারি ছিলেন, তারাই এখন ঝুঁকে পড়েছেন ক্ষেতের সবুজ মাঠে। একদিকে বিএসএফের গুলি অন্যদিকে মাদক মামলা থেকে বাঁচতে যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গোগা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে চোরাচালান কারবার ছেড়ে সবজি চাষে ঝুঁকেছেন অনেকে। গ্রামটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। তারা ভারতীয় গরু আনার কাজসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন চোরাকারবারি জানান, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি, অন্যদিকে বিজিবি সদস্যদের মিথ্যা মামলা; পাচারকারীদের ধরে ধরে ফেনসিডিল দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয় বিজিবি। এই দুই কারণে গ্রামবাসীর অনেকেই এখন তাদের চোরাচালান পেশা ছেড়ে ফিরে এসেছে সোনালী মাঠের সবজি চাষে।

সবজি চাষ করে এখন তারা স্বাবলম্বী এবং সুস্থ জীবনযাপন করছেন। বদলে নিয়েছেন তাদের জীবনের পাশাপাশি পরিবারের জীবনও। সীমান্তের ২০০ গজের মধ্যে পাটসহ কোনো উঁচু গাছ বা ফসল লাগানো নিষেধ রয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। তাই গ্রামের লোকজন সীমান্তের ধারঘেঁষে এখন পটল, উচ্ছে, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের সবজির চাষ করছেন। তবে পটল চাষে মানুষের আগ্রহ বেশি।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

পটল চাষি রেজাউল জানান, তিনি ১২ কাঠা জমিতে পটল, নালার ধার ঘেঁষে পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করেছেন। আর জমির আইলের ধারে বাঁধাকপি লাগিয়েছেন। এই বছর প্রথম তিনি ৯০ টাকা কেজি দরে পটল বিক্রি করেছেন। পটল চাষে তার খরচ খুব একটা বেশি হয়নি। গত বছর এই জমিতে তিনি প্রায় এক লাখ টাকার পটল বিক্রি করেছিলেন।

রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বপাশ থেকে খালমুখ পর্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন সারা মাঠেই পটলের চাষ। ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের সীমান্তসংলগ্ন সব জমিতে একই কায়দায় পটলের চাষ চলছে। ফলে চোরাচালান ও গরুটানা কাজে আর কেউ যেতে চাইছেন না। তাদের জীবন কাটছে এখন সুন্দরভাবে।

স্থানীয় সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম জানান, মূলত দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে সীমান্ত এলাকার যুবকরা গরু চোরাচালানের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এ উপার্জনের দিকে তাকাতে গিয়ে প্রাণকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিতেও পিছপা হননি গরু পাচারকারীদল। এ পেশাকে তারা চোরাচালান নয় ব্যবসা হিসেবে দেখেছেন। চোরাচালান করতে গিয়ে প্রায়শই বিএসএফের হাতে তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছিল অথবা হতে হচ্ছিল অমানুষিক নির্যাতনের শিকার।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

‘এখন আর তারা গরু আনতে ভারত সীমান্তে যাচ্ছেন না। নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে পরিশ্রম করে চোরাচালানির চেয়ে বেশি টাকা আয় করছেন। পাশাপাশি পরিবারকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেছেন।’

এ বিষয়ে গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও গরু পাচার বন্ধে বিজিবির পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সীমান্তের মানুষকে সভার মাধ্যমে সচেতন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন আর কেউ গরু আনতে ভারত সীমান্তে যাচ্ছেন না। ফলে সীমান্তে গোলাগুলিও নেই। যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের অধিকাংশই এখন মাঠে কাজ করছেন। সবজিসহ বিভিন্ন চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন। তবে এদের চাষাবাদে সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার সংখ্যা অত্যন্ত বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও বিষয়টি ‘খুবই দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে বলা হয়েছে, এসব কেন হচ্ছে?

গত ২৩ জানুয়ারি নওগাঁর পোরশার হাঁপানিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। এর আগের দিন ২২ জানুয়ারি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। গত ৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন দুই বাংলাদেশি যুবক। আহত হন আরও দুজন। মূলত ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের বন্দুকের মুখে পড়েন তারা।

 চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা
চোরাচালান ছেড়ে সোনালী মাঠে সবজি চাষে তারা

গত২ জানুয়ারি বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৫ বাংলাদেশি। পরিসংখ্যান অনুসারে, গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২০১৯ সালে। ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান।

শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গোগা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের চোরাকারবারিদের সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ার খবর দেশের অপর সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

ঢেঁড়শ একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয়োডিন, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে ঢেঁড়শ চাষ করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক উপকারিতাও রয়েছে। তাই আসুন জেনে নেই ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম-

মাটি
দো-আশ ও বেলে দো-আশ মাটি ঢেঁড়শ চাষের জন্য ভালো। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়।

জাত
শাউনি, পারবনি কানি, বারি ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানি, পেন্টা গ্রিন, কাবুলি ডোয়ার্ফ, জাপানি প্যাসিফিক গ্রিন চাষ উপযোগী জাত।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সময়
ঢেঁড়শ সারা বছর চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্মকাল চাষের উপযুক্ত সময়। ফাল্গুন-চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজ
প্রতি শতকে ২০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ৪-৫ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বপণ
বীজ বপণের আগে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৭৫ সেন্টিমিটার। বীজ সারিতে ৪৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে ২-৩টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার কমানো-বাড়ানো যায়। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ চারা রেখে বাকি চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হয়।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সার
প্রতি শতকে গোবর ৭৫ কেজি, সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি, ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম, এমওপি ২৩০ গ্রাম।

প্রয়োগ
জমি তৈরির সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপণ করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু’ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা
মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকারভেদ অনুযায়ী ১০-১২ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড়
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

রোগ
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

সংগ্রহ
বীজ বপণের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাতভেদে ফল ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

উপকারিতা
ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটি মানুষের হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস
বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত গড়লেন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের কৃষক গিয়াস উদ্দিন। তিনি উপজেলার জগতপুর গ্রামের মোছলেম উদ্দিনের ছেলে। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তিনি একবার লিবিয়া ও একবার দুবাই গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসে সুবিধা করতে পারেননি। তাই দেশে ফিরে সবজি চাষ শুরু করেন। এক মৌসুমেই তিনি লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন।

জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। আর এতেই সফল হন। কৃষি কাজ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে পাকা ঘর করেছেন। তার এ অভাবনীয় সাফল্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেক কৃষক। তার দেখানো পথে অন্যরাও সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

গিয়াস উদ্দিনের খামারের টমেটো, লাউ, বেগুন, করল্লা, শসা, বরবটি এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি তার সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানেও যাচ্ছে। তিনি একই জমিতে বেশি ফলন ও সারা বছর ফসল পেতে সাথী ফসল চাষ করেন। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

নিজের পর্যাপ্ত জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে ৪০ শতক জায়গায় বরবটি চাষ করেন। এর আগে একই জায়গায় টমেটো চাষেও লাভবান হয়েছেন। এখন প্রতিদিন ৪-৫ মণ বরবটি বিক্রি করেন। প্রতিকেজি বরবটি পাইকারি বিক্রি করেন ১৮-২০ টাকা। পুরো জমিতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। তবে এবার বরবটি বিক্রি হবে লাখ টাকার মতো।

কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দুই বার বিদেশ গিয়েও কিছু করতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফল হয়েছি। আমাকে সব সময় বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন কৃষি অফিসের লোকজন। আমার কাজ দেখে অনেকেই বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। কেউ আমার কাছে পরামর্শ চাইলে সহযোগিতা করি।’

বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস
বরবটি চাষ করে লাখপতি কৃষক গিয়াস

শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চাষি গিয়াস উদ্দিন কৃষকদের আইডল। আমাদের কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি বরবটি চাষ করেছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সুকান্ত ধর বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন একজন সফল চাষি। তিনি কৃষি কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করি। তাকে স্থানীয় বীজ উৎপাদন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে বাছাই করা হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’

দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’
দিনাজপুরের টমেটো চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’

দিনাজপুর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার অনেক কৃষক প্রতিবছরই টমেটো চাষ করে থাকেন। তবে এবার লকডাউনের কারণে সেসব টমেটো উৎপাদনের পর বিক্রি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়। কারণ হাট-বাজার বন্ধ থাকায় কেউ ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনতে ইচ্ছুক ছিল না। তবে এমন অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সুপারশপ ‘স্বপ্ন’।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাধবপুরে এমন অনেক কৃষকের টমেটো ন্যায্যমূল্যে এরই মধ্যে কিনেছে ‘স্বপ্ন’। সেখানকার বেশিরভাগ কৃষক জানান, স্বপ্নের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে টমেটো নিয়ে তাদের দুর্দশার চিত্র দেখে এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে ট্রাকবোঝাই করে ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনেছেন।

এ প্রসঙ্গে ‘স্বপ্ন’র হেড অব পার্চেজ সাজ্জাদুল হক বলেন, এবারের সংকটটা ছিল ভিন্ন রকম। করোনার প্রাদুর্ভাবে তাদের পণ্যগুলো কেউ বাজারে কিনতে পারছিল না। তাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই, এসব কৃষকের পাশে আমরা দাঁড়াব। যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে টমেটো কিনেছি আমরা।

তিনি বলেন, এর আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনার এই দুঃসময়ে কষ্টে থাকা অনেক কৃষকের পাশে ‘স্বপ্ন’ দাঁড়িয়েছে।

‘স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, কৃষকদের এই সংকটে তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে ‘স্বপ্ন’। যেখানেই সংকট আর বিপর্যয় কৃষকের জন্য কাল, সেখানেই পৌঁছে যাবে ‘স্বপ্ন’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com