আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বিদায়ের জন্য বন্ধুর মৃত্যুর তারিখকেই বেছে নিলেন ম্যারাডোনা!

বয়সের পার্থক্য যাই হোক, দু’জনের বন্ধুত্বের কথা জানা ছিল সবার। আর্জেন্টিনার দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা আর কিউবার এক নায়ক ফিদেল ক্যাস্ত্রো- দু’জন ছিলেন একে অপরের জানের দোস্ত। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর দিনটিকেই নিজের বিদায়ের জন্য বেছে নিলেন দিয়েগো ম্যারডোনা! ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর, ৯০ বছর বয়সে কিউবার রাজধানী হাভানায় মৃত্যুবরণ করেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। ঠিক একই দিন, চার বছর পর নিজের বাড়ি, বুয়েন্স আয়ার্সের তিগ্রেতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন ফুটবলের অবিসংবাধিত সম্রাট দিয়েগো ম্যারাডোনা।

দুই বিশ্ব সমাজতন্ত্র আর পুঁজিতন্ত্র। লড়াই চিরকালীন। এই লড়ইয়ের এক অধিনায়ক ফিদেল কাস্ত্রো, অপরজন ম্যারাডোনা ছিলেন তার সহযোদ্ধা। মনেপ্রাণে ফিদেল অনুরাগী- ফিদেলিস্তা। সময়ের কী আশ্চর্য সমাপতন, সেই ২৫ নভেম্বর প্রিয় ‘কমরেড’ ফিদেল মৃত্যু বরণ করেছিলেন। ম্যারাডোনাও বেছে নিলেন প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর দিনটিকে।

কিউবা পুরোপুরি কড়া কমিউনিস্ট শাসনের দেশ। যদিও সেখানে বারবার সিআইএ ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিলো ফিদেলকে পরাজিত করতে। উল্টো সিআইএ পরাজিত হয়েছে। আর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় বারবার সিআইএ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে, সমাজতন্ত্র হটিয়ে দিয়ে তারা কায়েক করেছে পুঁজিতন্ত্রের শাসন।

ম্যারডোনার ফিদেল কাস্ত্রোর অনুরাগী হওয়ার মূলত কারণ, তার স্বপ্ন পুরুষ যে তারই দেশের কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা বিশ্বজনীন বিপ্লবী বলে পরিচিত চে গুয়েভারা!

সেই চে গুয়েভারা কিন্তু ছিলেন কিউবায় বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক সরকার গড়ার অন্যতম রূপকার- ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোদ্ধা। কিশোর বয়স থেকেই ম্যারাডোনা ছিলেন গুয়েভারার খাঁটি সৈনিক। কোনো অন্ধ আবেগ নয় রীতিমতো সমাজতান্ত্রিক সমর্থন থেকেই চে’র উল্কি হাতে একে পুঁজিবাদি দুনিয়াকে কটাক্ষ করে গেছেন দশকের পর দশক। বারবার চলে যান কিউবায়। ছিলেন বন্ধুর সান্নিধ্যে।

কিংবদন্তি ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল নিবিড়। সেই নিবিড়তা ম্যারাডোনাকে ক্রমশ পুঁজিবাদি শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি করে তুলেছিল। একই সঙ্গে পায়ের জাদুতে বিশ্ব কাঁপিয়ে স্বপ্নের ফুটবল উপহার দিয়েছেন তিনি।

তবে বিতর্কও কম নেই। মাদকাসক্ত হয়েছেন। যদিও অভিযোগ রয়েছে, এই আসক্তির পেছনেও সিআইএ ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল। কিন্তু বিতর্ক সরিয়ে ম্যারাডোনা বারবার মাঠে এসেছেন। বল নিয়ে শিশুর মতো হেসেছেন।

এখন সবই অতীত। কিউবা ছিল তার দ্বিতীয় দেশ। আবার দক্ষিণ আমেরিকারই সমাজতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলার সরকারে থাকা হুগো শাভেজ বা পরবর্তীতে নিকোলাস মাদুরোর মতো নেতৃত্বের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তার।

মূলতঃ যেখানেই সমাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে, সেখানেই স্বচ্ছন্দ ম্যারাডোনা। যদিও খেলোয়াড়ি জীবন কেটেছে ইতালির মতো চরম পুঁজিতান্ত্রিক দেশের ক্লাব নেপোলি তে; কিন্তু ইতালিকে তেমন গ্রহণ করেননি তিনি। বরং ফুরসত পেলেই কমরেড ফিদেল কাস্ত্রো, কমরেড রাউল কাস্ত্রোর দেশ কিউবা ছিল তার গন্তব্য।

ফল

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করতে ছাঁটাইয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শহর-নগর-গ্রামে যেদিকেই তাকানো যায় ফলের গাছ চোখে পড়বেই। এসব গাছের অধিকাংশই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা। খুব কমসংখ্যক ফলগাছ অঙ্গ ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধির সুযোগ পায়। ফলগাছ রোপণই আসল কথা নয়।

রোপণ থেকে শুরু করে ফল ধারণ পযর্ন্ত ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ ছাঁটাই ফল গাছ ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ। মূলত দুটি উদ্দেশ্যে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। প্রথমত, অফলন্ত ফলগাছকে একটি নিদির্ষ্ট আকার আকৃতি দেয়া, দ্বিতীয়ত, অফলন্ত ও ফলন্ত ফলগাছের অপ্রয়োজনীয় দুবর্ল, চিকন, নরম, ভাঙ্গা ও মরা ডাল-পালা এবং রোগ ও পোকা আক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করে গাছের ভেতরের দিকে আলো-বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এ দুটি উদ্দেশ্য ছাড়াও আরো কিছু কারণে ফল গাছ ছাঁটাই করতে হয়। যেমন-

১. ফলগাছটি যদি মাতৃর্গাছ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ফলগাছ থেকে বেশি পরিমাণে সায়ন উৎপাদন করা।
২. ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করা।
৩. ঝড় বা প্রবল বাতাসে যেন ফলগাছ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য গাছকে সুগঠিত ও মজবুত অবকাঠামো প্রদান করা।

৪. ফল গাছের বিভিন্ন পরিচর্যার যেমন- বালাইনাশক স্প্রে করা, সায়ন সংগ্রহ করা ইত্যাদি কাজ সহজ করা।
৫. যেসব ফল গাছে ফল ধারণ সমস্যা আছে, সেসব গাছের ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নতুন শাখা-প্রশাখা গজানোর ব্যবস্থা করা।

৬. এক বছর পর পর যেসব গাছে ফল ধরে সেসব গাছের একান্তর ক্রমিক ফলনের প্রভাব কমানো বা ফল ধরার ব্যবস্থা করা।
৭. যেসব শাখা-প্রশাখা অন্য শাখা-প্রশাখার ভেতরে ঢুকে যায় বা নিন্মমুখী হয় সেগুলো ছাঁটাই করে গাছকে ঝোপালো অবস্থা থেকে মুক্ত রাখা।

ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন,- ডাল, পাতা, ছাল বা বাকল, ফুল, ফল ও শিকড় বিভিন্ন কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন ফল গাছের বিভিন্ন বয়সে জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব অনুযায়ী ছাঁটাই করতে হয়। ফল ধরার আগেই ফল গাছের কাঠামোগত আকৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছের শীর্ষ ছাঁটাই করে গাছকে খাটো রাখা।

এতে গাছে সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, স্প্রে করা এবং সহজে ফল সংগ্রহসহ অন্যান্য পরিচর্যা করা যায়। এ ছাড়া গাছে যদি ৪ থেকে ৭টি শাখা-প্রশাখা থাকে তাহলে গাছ যান্ত্রিকভাবেও দৃঢ় ও খোলা-মেলা হয়।

গাছের ভেতরের দিকে এমন কিছু শাখা-প্রশাখা গজায় যেগুলো থেকে কোন ফলন পাওয়া যায় না, সেগুলোও ছাঁটাই করা উচিত। কোন কোন ফল গাছের গোড়ার দিকে কিছু কিছু কুশি বা নতুন শাখা বের হতে দেখা যায়, সেগুলো নিয়মিতভাবে ছাঁটাই করতে হয়। যেমন- ডালিম, পেয়ারা, লেবু ও কাঁঠাল গাছের গোড়ায় দুই-তিন সপ্তাহ পর পর বের হওয়া কুশিগুলো ছাঁটাই করতে হয়।

ছাঁটাই করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়, গাছের সতেজতা কেমন, বয়স কত এবং জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব কেমন। কম বয়সী ফল গাছে যথাসম্ভব কম ছাঁটাই বা হালকা ছাঁটাই করতে হয়। তবে কম বা বেশি যে বয়সেরই হোক না কেন গাছে মরা বা ডাঙ্গা এবং রোগ-পোকা আক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাইয়ের সময় কিছুটা সুস্থ অংশসহ ছাঁটাই করতে হয়। মূল কাণ্ড এবং মোটা শাখা কখনোই ছাঁটাই করা ঠিক নয়।

বড় মোটা শাখা কাটার সময় নিদির্ষ্ট জায়গা থেকে প্রায় ১ ফুট বা ৩০ সেন্টিমিটার দূরে নিচের দিক থেকে কাটা শুরু করতে হয়। কাটার গভীরতা নিভর্র করে কাটা শাখার অংশ নিচের দিকে বেঁকে আসা পযর্ন্ত। এর পর শাখার উপরের দিকে প্রথম কাটার স্থান থেকে ১ ইঞ্চি বা আড়াই সেন্টিমিটার দূরে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এতে কাটা শাখা বাকল বা ছালের সাথে ঝুলে থাকে না।

কাটা জায়গায় আলকাতরা বা ছত্রাকনাশক লাগাতে হয়। চিকন শাখাও নিচের দিক থেকে কাটলে অকতির্ত অংশের ছাল বা বাকল উঠে আসে না। কাটার সময় সুস্থ-সবল কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির ঠিক উপরেই শাখা কাটা উচিত। তবে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য শাখার কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির নিচেই কাটতে হয়।

ফল গাছ ছাঁইয়ের জন্য নিদির্ষ্ট সময় ও মৌসুমের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। কারণ অসময়ে ছাঁটাই করলে সুফল পাওয়ার বদলে গাছে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলন নাও পাওয়া যেতে পারে। বষার্র শেষে এবং শীতের আগে ফল গাছে ছাঁটাই করা উচিত। তবে ফল সংগ্রহের পরই ছাঁটাই করা সবচেয়ে ভালো।

গাছে ফুল আসার আগে আগে বা ফল ধরা অবস্থায় শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা ঠিক নয়। তবে নিদির্ষ্টসংখ্যক ফলধারণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ফুল ও ফল ছাঁটাই করা যেতে পারে। এ ছাড়া খরা, দীর্ঘ শুকনো মৌসুম বা শীতের সময় কখনোই ছাঁটাই করা উচিত নয়। বষার্র সময় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ছাঁটাই না করাই ভালো।

আমাদের দেশে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর অথবা শীতের আগেই অথবা যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে সুস্থ-সবল ফল গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কয়েকটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত ফলগাছের অঙ্গ ছাঁটাই সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টাক মাথায় চুল গজাতে পেয়ারা পাতার ব্যবহার!

অকালে চুল পড়ে যাওয়া ঠেকাতে অনেকেই এটা-সেটা ব্যবহার করেন। এসব করেও মাথায় নতুন চুল গজাচ্ছে না। এমন অবস্থায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। মাথায় যাদের চুল কম বা টাক পড়ে গেছে; এমন মানুষেরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন।

চুল পড়ার রয়েছে অনেক কারণ। অনিয়মিত জীবন-যাপন, বংশগতভাবে টাক, কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার ইত্যাদি কারণে চুল পড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের কারণেও চুল পড়ার সমস্যাটি বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগে অতিরিক্ত চুল পড়ায় মাথায় টাক পড়তে পারে। তবে চিন্তিত না হয়ে কার্যকরী উপায়ে চুল গজানোর জন্য প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানে ভরসা রাখুন।

তেমনই একটি উপাদান হলো পেয়ারা পাতা। নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন! পেয়ারা পাতায় আবার কীভাবে চুল গজাবে? প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় পেয়ারা পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলোয় ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স রয়েছে। যা চুল পড়া ঠেকাতে পারে। একই সঙ্গে এটি চুল গজাতেও সাহায্য করে।

তাই জেনে নিন পেয়ারা পাতা দিয়ে চুল গজানোর সহজ উপায়-

প্রথমে কিছু পেয়ারা পাতা একটি পাত্রে নিয়ে পানিতে সেদ্ধ করে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে পানি ঠান্ডা হতে দিন। এবার আপনার মাথার ত্বকে পেয়ারা পাতা সেদ্ধ পানীয় ম্যাসাজ করে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এ উপায় অনুসরণ করলে ফলাফল কিছুদিনের মধ্যে টের পাবেন।

যদিও অনেক কারণে চুল পড়ে মাথা টাক হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে যদি চুল পড়তে থাকে আর মাথা টাক হওয়া শুরু হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি এ টোটকা মেনে চুলের যত্নে পেয়ারা পাতা ব্যবহার করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com