আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বিজ্ঞানীদের হাত ধরে দেশি মাছ ফিরছে পাতে

মাছে–ভাতে বাঙালি—বেশ পুরোনো প্রবাদ। দেশে ধানের উৎপাদন বাড়ায় কয়েক বছর ধরে ভাতের অভাব নেই। কিন্তু দেশি মাছ কম পাওয়া যাচ্ছিল। নদীতে দূষণ ও পলি পড়ায় মাছের উৎপাদন কমে আসে। দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়। কিন্তু সেই অবস্থার বদল ঘটিয়েছেন দেশের মৎস্যচাষিরা।

পুকুরে ও উন্মুক্ত জলাশয়ে উন্নত পদ্ধতিতে মাছ চাষ সেই বদল এনে দিয়েছে। ২৩টি দেশি মাছের চাষপদ্ধতি উদ্ভাবন করে মৎস্যচাষিদের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এসব দেশি মাছের জাত সংরক্ষণ করে কীভাবে সেগুলো বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো যায়—সেই উপায় বের করেছেন।

গবেষণাকাজে সাফল্য আসায় গত ১০ বছরে দেশি ছোট মাছের উৎপাদন প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এসব মাছের জাত উন্নয়নে এবং আরও কয়েক প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা।

বিলুপ্তপ্রায় জাত পুনরুদ্ধার

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যমতে, বাংলাদেশে মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মধ্যে ১৪৩ প্রজাতি হচ্ছে ছোট মাছ।

মৎস্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাবদা, গুলশা, গুজি আইড়, রাজপুঁটি, চিতল, মেনি, ট্যাংরা, ফলি, বালাচাটা, শিং, মহাশোল, গুতুম, মাগুর, বৈড়ালি, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, কালবাউশ, কই, বাটা, গজার, সরপুঁটি ও গনিয়া—এই ২৩ প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিলুপ্তপ্রায় এসব মাছ সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই।

ইনস্টিটিউটটির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন জানান, উন্মুক্ত জলাশয় থেকে যে মাছগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে, সেই মাছগুলোর সংরক্ষণ করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করে পুকুরে কিংবা আবদ্ধ জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করাই মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় ঢেলা, শোল, বাইম, রানি, কাজলি, বাতাসি, কাকিলা, কাওন ও ভোল মাছের প্রজনন এবং চাষপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে দেশি নানা রকমের মাছ বিক্রি হচ্ছে। মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবু সাঈদ বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেও দেশি মাছগুলো বাজারে সচরাচর পাওয়া যেত না। পাওয়া গেলেও দাম ছিল নাগালের বাইরে। কিন্তু এখন প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। দামেও সাশ্রয়ী। কাওসার আহমেদ নামের আরেক ক্রেতা জানান, দেশি মাছগুলো খেতে সুস্বাদু এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় তিনি নিয়মিত এসব মাছ কেনেন।

বাণিজ্যিক মাছের পাশাপাশি দেশি মাছ চাষে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে নেত্রকোনা সদরের মাছচাষি নুরুল আমিন বলেন, দেশি মাছের বাজারে চাহিদা থাকায় এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় স্বল্প পুঁজিতে ভালো লাভ হয়। ফলে এখন অনেকেই এসব মাছ চাষে ঝুঁকছেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের দ্য এম ও অ্যাগ্রো ফিশারিজের মালিক কুদরত-ই-ইলাহী বলেন, দেশি প্রজাতির পাবদা এবং গুলশা প্রতি শতাংশে ২২০টি, পুঁটি মাছ ৩০০, ট্যাংরা ২৫০, শিং ও মাগুর ৪৫০টি করে চাষ করা সম্ভব। এসব মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে তাঁদের সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা খরচ হয় এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এইচ এম কোহিনূর প্রথম আলোকে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় জাতগুলো বাছাই করে গবেষণা করা হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সেই জাতগুলোর পোনা উৎপাদনে সাফল্য এসেছে এবং চাষাবাদের মাধ্যমেও সুফল পাওয়া গেছে। এই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহে প্রধান কার্যালয় ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে কাজ চলছে।

মাছ উৎপাদনের চিত্র

মৎস্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৯২৬টি হ্যাচারি আছে। যেখানে মাছ ও চিংড়ির রেণু উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারি হ্যাচারি ১০২টি এবং বেসরকারি ৮২৪টি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বছরে মোট রেণু উৎপাদনের পরিমাণ ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ কেজি। এর মধ্যে বেসরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯৫ কেজি এবং সরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করছে মাত্র ১২ হাজার ৫৯ কেজি রেণু। এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২০০ কোটি পাবদা ও গুলশা মাছের পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পাবদা, গুলশা, শিং, ট্যাংরা, মাগুর, কই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। ইদানীং বাটা মাছের চাষও বাড়ছে।

দেশে মোট উৎপাদনের মাত্র ১৬ শতাংশ (৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন) হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। বাকি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন অর্থাৎ ৮৪ শতাংশই মিঠা পানির মাছ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ছোট মাছ দিয়ে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের পুনরুৎপাদনের জন্য গবেষণা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ায় জিন সংরক্ষণ, প্রজননের কৌশল উদ্ভাবন এবং চাষাবাদ পদ্ধতির প্রক্রিয়া জানা সম্ভব হয়েছে। মাঠপর্যায়েও এই মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে; যা বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘খুনে ভীমরুলের’ বাসা

এশিয়ান জায়ান্ট হরনেট হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির ভিমরুল। খুনে প্রকৃতির জন্য এদের ‘খুনে ভিমরুল’ও বলা হয়। এই প্রজাতির ছোট এক ঝাঁক ভিমরুল একটি মৌচাকে থাকা সব মৌমাছিকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এই প্রজাতির ভিমরুলের বাসা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো খুনে ভিমরুলের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। তবে সেবার এই প্রজাতির ভিমরুলের কোনো বাসা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর জানায়, তাদের কীটতত্ত্ববিদেরা খুনে ভিমরুলের বাসা খুঁজে পেয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম। কানাডার সঙ্গে সীমান্তবর্তী ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর ব্লেইনে এক ব্যক্তির সম্পত্তির ভেতর একটি গাছে রয়েছে ওই বাসা। শনিবার থেকে কীটতত্ত্ববিদদের ওই ভিমরুল অপসারণে কাজ শুরু করার কথা ছিল।


ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, তাঁদের গবেষকেরা প্রথমে রেডিও ট্র্যাকারের মাধ্যমে কয়েকটি খুনে ভিমরুল ধরেন। এরপর ওই ভিমরুলগুলোই তাঁদের পথ দেখিয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে যায়। ব্লেইন শহরের ওই ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, একটি গাছে বাসা বেঁধেছে ভিমরুলগুলো। সেখানে অনেকগুলো ভিমরুল অনবরত যাওয়া-আসা করছে।
বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা জানিয়েছেন, খুনে ভিমরুলেরা সাধারণত মাটিতেই বাসা বাঁধে। তবে কখনো কখনো এরা মৃত গাছের কোটরেও বাসা বাঁধে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, ব্লেইন শহরের ওই ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক ভিমরুলগুলো অপসারণের অনুমতি দিয়েছেন। এমনকি প্রয়োজনে গাছটিও কেটে ফেলার অনুমতি দিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে জানানো হয়, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, ভিমরুলের আক্রমণাত্মক প্রকৃতির এই প্রজাতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নয়। এরা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ শিকার করে খায়। লম্বায় এগুলো দুই ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এগুলো এতটাই আক্রমণাত্মক হয় যে এরা কয়েক দফায় হুল ফোটালে তা মানুষের জন্যও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অবশ্য কৃষি দপ্তরটি বলছে, সাধারণত এই প্রজাতির ভিমরুল মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


খুনে ভিমরুলের বিষ মৌমাছির চেয়ে সাতগুণ বিষাক্ত। মৌমাছির চেয়ে এদের হুলও কয়েকগুণ শক্ত। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশেও এই খুনে ভিমরুলের দেখা পাওয়া গেছে সম্প্রতি। ওই প্রদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চালের পোকার উৎস খুঁজতে তদন্ত কমিটি!

আমন চালের সংকট মেটাতে বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনা হয়েছিল বরগুনা খাদ্যগুদামে। কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চালের বস্তা খুলতেই আবিষ্কার হয় খাবার অনুপযোগী নিম্নমানের পোকায় খাওয়া চাল।

বেতাগী খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের গুদামে এমন বাজে কোনো চাল ছিল না।পরিবহন ঠিকাদারের দাবি, খাদ্যগুদাম থেকে যেমন বস্তা দেয়া হয়েছে সেগুলোই তিনি নিয়ে এসেছেন।

বরগুনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবশ্য এসব চাল খারাপ মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, খামালের নিচের কিছু বস্তার চাল এমন, বাকিটা ভালো আছে।

গুদামের শ্রমিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য, ১৭০ মেট্রিক টনের সব চালেই এমন পোকা।

এত কথায় সমীকরণ মিলছে না জেলা খাদ্য বিভাগের কর্তাদের। পোকা এলো কোথা থেকে এমন প্রশ্নের সমাধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরগুনা সদর খাদ্যগুদামে ভিজিডি, ভিজিএফ মৎস্য, জিআর ও খাদ্যবান্ধব খাতে বিতরণের জন্য আমন চালের সংকট দেখা দেয়ায় বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা খাদ্য বিভাগ। এসব চাল পরিবহনের জন্য গত ৫ অক্টোবর মেসার্স খোকন সমাদ্দার ও মেসার্স মনিন্দ্রনাথ সরকার নামে বরগুনার দুটি নৌপরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। কার্যাদেশ মোতাবেক ওইসব চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছায়। বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের সেসব চাল খামালাত করা হয়।

কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চাল নামানোর সময় শ্রমিকরা বস্তার ভেতর নিম্নমানের পোকায় ধরা চাল দেখতে পান। পরে বস্তা খুললে খাবার অনুপযোগী চাল বের হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামের কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেতাগী থেকে আনা প্রায় সব বস্তার চালেরই একই অবস্থা। নিয়মানুসারে এসব চাল আলাদা রাখার কথা থাকলেও গুদামের খামালেই ওই বস্তা রাখা হয়।

গণমাধ্যমকে এ খবর জানানোর দায় দিয়ে পরদিনই একজন শ্রমিককে ছাঁটাই করে গুদাম কর্তৃপক্ষ।

নৌপথে চাল পরিবহনের ঠিকাদার খোকন সমাদ্দার বলেন, বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে বস্তা মেপে চাল দেয়া হয়েছে। আমরা ওই চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছে দিয়েছি। বস্তার ভেতরে চাল ভালো কি মন্দ এসব আমাদের দেখার কথা না বা দেখার বিষয়ও না।

একই বক্তব্য অন্য ঠিকাদার মনিন্দ্রনাথ সরকারেরও।

বেতাগী থেকে আনা সব চালই যে নষ্ট এমনটা মানতে নারাজ বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জলিল সিকদার।

তিনি বলেন, ‘খামালের নিচে থাকায় কয়েক বস্তা চাল নষ্ট পাওয়া গেছে। ওই বস্তাগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে।’

কিন্তু বেতাগী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের দাবি, তার গুদামে কখনোই পোকায় ধরা বাজে চাল রাখা হয়নি। গুদাম থেকে ভালো চাল সরবরাহ করা হয়েছে।

Borguna-2

এদিকে বস্তার চালে পোকা প্রবেশ করল কোথা থেকে তা অনুসন্ধান শুরু করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাবুদ্দিন আকন্দ জানিয়েছেন, কোথা থেকে কীভাবে বস্তাপচা চাল এলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের কর্মচারী থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিদের অনেকেই চাল নিয়ে নয়-ছয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে নাগরিকদের সংগঠন জেলা পাবলিক পলিসি ফোরাম।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান ঝন্টু বলেন, বরগুনায় চাল চালাচালি করা একটি চক্র রয়েছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গুদাম থেকে চোরাই চাল কিনে বিক্রি করা থেকে শুরু করে গুদামের ধান চাল সরবরাহের নামে নানা কারসাজি করে আসছে। এর সাথে খাদ্য বিভাগেরও জোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

নদী-নালা, খাল-বিলের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রতি বছর প্রায় ৬১৭ লাখ ঘনমিটার মাটি খননের সক্ষমতা অর্জনের জন্য ৩৫টি ড্রেজার কিনতে চায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ড্রেজারগুলো কেনার জন্য তারা খরচের প্রস্তাব করেছে চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকা। তবে ৩৫টি ড্রেজার কেনার জন্য এত খরচ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলছে পরিকল্পনা কমিশন।

কয়েক দিন আগে পরিকল্পনা কমিশনে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং বাংলাদেশের টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ৩৫টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়’ শীর্ষক প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্ষমতার ড্রেজার ক্রয় বাবদ চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব ড্রেজার ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখসহ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সহযোগী জলযান ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ৬৭২ কোটি টাকা এবং ড্রেজিং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ২০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব খাতের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে হ্রাস পূর্বক পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাপাউবো বাস্তবায়ন করবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় হাজার ১৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পরবর্তীকালে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য ইতোপূর্বে পরিকল্পনা কশিমন থেকে অনুরোধ করা হলেও আজ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন/চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি পরবর্তী পিইসি সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দেশের মোট আয়তনের প্রায় নয় হাজার ৭৩৪ বর্গকিলোমিটারজুড়ে রয়েছে নদ-নদী, বিল-ঝিল ও হাওর তথা মুক্তাঞ্চল। দেশের মোট ভূমির শতকরা ৮০ ভাগ প্লাবন ভূমি এবং ২০ ভাগ পাহাড়ি/উঁচু ভূমি। জলবায়ু বিবেচনায় বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আর্দ্রতা, নাতিশীতোষ্ণ এবং শীত ও গ্রীষ্মের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ, যা সুস্পষ্ট ঋতুগত বৈচিত্র্য। প্রকৃতির এই বিচিত্র আচরণের ফলে বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং দেশের অধিকাংশ ভূমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর পাড় ভাঙনের মুখে পড়ে। বিশেষত পাহাড়ি নদীগুলো এবং হাওর এলাকায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঢল নামে। হঠাৎ তীব্র স্রোত দেখা দেয় এবং নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হুমকির মধ্যে পড়ে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮টি মাঝারি নদী স্বল্প সময়ে (পাঁচ বছর), মধ্যম মেয়াদে (১০ বছর) এবং সব বড় নদী যথা- পদ্মা, যমুনা, মেঘনা দীর্ঘমেয়াদে (১৫ বছর) প্রায় এক হাজার কিলোমিটার ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে খাল, বিশেষত হাওর এলাকার ছোট নদী, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট নদী এবং বৃহৎ নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সময় অথবা অব্যবহিত পরে ড্রেজিং করা নদী/নালার নাব্যতা রক্ষার্থে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং করা অত্যন্ত জরুরি। ৩৫টি ড্রেজার বছরে প্রায় ৬১৭ দশমিক ৫৫ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করতে পারবে। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছোট নদী, খাল ও সাকসেসিভ মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনও আমি প্রকল্পটির মিনিটস (পিইসি সভা পরবর্তী সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী) দেখি নাই।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা থেকে বাঁচতে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকা অন্যান্যরা বাতাসের মাধ্যমেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কয়েক ঘন্টা ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এই ভাইরাস। সোমবার সিডিসির সর্বশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, কম বায়ু চলাচল করতে পারে এমন ঘরে কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি ৬ ফুট দূরের অন্য ব্যক্তিদেরকেও সংক্রমিত করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ৬ ফুট দূরত্বে থেকেও করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিসরে বায়ুর মাধ্যমেই মূলত করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের দাবি, ভাইরাসের অতি সূক্ষ কণা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যদিও লোকজনকে মাস্ক পরিধান এবং ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ এই সতর্কতা মানুষের মধ্যে নতুন করে আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্কুল, শপিংমল খোলার যে তোড়জোড় চলছে তা কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। সিডিসি সোমবার তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে।

সেখানে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ৬ ফুট সামাজিক দূরত্বের কথা মেনে চলতে বলা হলেও সিডিসি বলছে এই দূরত্বেও সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় মৃত্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। সম্প্রতি দেশটির ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সিডিসি।

গত এক মাসের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ছাড়াও হোয়াইট হাউসের ডজন খানেক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল চালু হয়ে গেছে। এদিকে, ফ্লোরিডায় রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শ্বশুরবাড়িতে যেসব কথা সরাসরি বলবেন না

শ্বশুরবাড়ি মানেই নতুন একটি পরিবেশ। যদিও মেয়েরা সেই নতুন পরিবেশে দ্রুতই মানিয়ে নেয়। কারণ সে তখন সেই পরিবারের একজন হয়ে যায়। তেমনই জামাই হলো স্ত্রীর বাবার বাড়িতে নতুন একজন সদস্য। যদিও জামাই তার শ্বশুর বাড়িতে কম থাকে। তবে মাঝে মাঝে গেলেও যেন আপনার কোনো কথায় কোনোরকম অশান্তির সৃষ্টি না হয় বা কারো খারাপ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে জামাইদের উচিত কিছু কথা না বলা। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো কী-

শ্বশুর হয়তো তার সাধ্য অনুযায়ী একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরি করেছেন। আপনি গিয়েই তার খুঁত ধরা শুরু করবেন না। যেমন বাড়ির প্ল্যান ঠিক হয়নি, রং সুন্দর হয়নি- এমন নেতিবাচক কিছু না বলাই ভালো। কারণ সেই বাড়ির পেছনে আপনার শ্বশুরের পরিশ্রম এবং অর্থ ব্যয় হয়েছে। তাই যেটুকু সময় থাকবেন, আনন্দ নিয়ে থাকুন। অযথা সমালোচনা এড়িয়ে যান।

আপনার স্ত্রী আপনার শ্বশুরের কন্যা। তার সাথে সম্পর্ক জন্ম থেকেই। তাই আপনার কাছ থেকে নিজের মেয়ের সম্পর্কে কোনো নিন্দা সে শুনতে চাইবে না। তাই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরের কাছে কোনোরকম অভিযোগ জানাতে যাবেন না ৷ কারণ বাবাদের কাছে মেয়েরা এমনিতেই প্রিয় ৷ সেখানে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নিজের স্ত্রী-র সমালোচনা করা একেবারেই ভালো নয়।

জামাই মানে অল্পদিনের অতিথি। তাই তারা যখন শ্বশুরবাড়ি যায় তখন এমনিতেই তাদের জন্য সেরা খাবারেরই আয়োজন করা হয়ে থাকে ৷ শ্বশুরমশাই বা শাশুড়ি চেষ্টা করেন সেরা মাছ, মাংস বা মিষ্টিটা জামাইকে খাওয়াতে ৷ তাই খাবার নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে যাবেন না ৷

মেয়ের বাবা-মায়েরা নিজের মেয়েকে নিয়ে সব সময় একটু দুশ্চিন্তাই করেন। এমনিতেই তাদের মেয়ে সবাইকে ছেড়ে আপনার সঙ্গে থাকছে। আপনাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শ্বশুর-শাশুড়ি কিছু পরামর্শ দিতে পারেন। আপনি যতোই উপার্জন করুন না কেন তা শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের কাছে একটু কম লাগতেই পারে ৷ তাই শ্বশুর বা শাশুড়ি আপনাকে এ নিয়ে কোনো পরামর্শ দিলে শুনবেন ৷ মাথা গরম করবেন না ৷

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com