আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প

জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প
জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প

আমরা প্রতি দিন, প্রতি নিয়ত প্লাস্টিকের উপর যে কতটা নির্ভরশীল তা চার পাশটা ভাল ভাবে দেখলেই বুঝতে পারা যায়। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরেই প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জুড়ে গিয়েছে। যার ফল স্বরূপ, বর্তমান পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মুহূর্তে বেশ কয়েক ধরনের প্লাস্টিক বেশ জনপ্রিয়তা হয়েছে। যেমন বায়োপ্লাস্টিক বা জৈবপ্লাস্টিক, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক, কম্পোস্টেবল প্লাস্টিক ইত্যাদি। মনে করা হচ্ছে, বাজারে প্রচলিত প্লাস্টিকগুলির থেকে এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি বেশি পরিবেশবান্ধব। কোনও সমস্যা ছাড়াই নাকি এগুলি প্রাকৃতিক ভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। যদিও, বাস্তবটা ততটাও সহজ নয়।

পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই হঠকারিতার বশে মানুষ এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, এটি আসলে কী? কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর নেপথ্যে।

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক আসলে কী?

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক হল এমন ধরনের প্লাস্টিক যেটিকে জৈবিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। কিছু ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক কম্পোজটেবল (সব নয়) অর্থাৎ এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি কিছু নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে বিলীন হয়ে যায়।

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য ‘পেট’ জলের বোতল

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য ‘পেট’ জলের বোতল তৈরি করতে, প্রস্তুতকারীদের কিছু উদ্ভিদভিত্তিক অ্যাডিটিভ যৌগ ব্যবহার করেন যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অণুজীব এবং ব্যকটিরিয়ার দ্বারা প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু প্যাকেজড বা সংরক্ষিত পানীয় জল এবং খাদ্যকে ঠিক রাখতে ১-২ শতাংশ অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়। অন্য দিকে ‘পেট’-এর পলিমারে রেজিনের পরিমাণ ৯৯-৯৮ শতাংশই রাখা হয়। এই অ্যাডিটিভগুলি কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটিতে মিশে যেতে পারে এবং মাত্র ২০-৩০ শতাংশ ভাঙ্গতে সময় লাগে প্রায় ৬ মাস।

বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য:

• সাধারণ মানুষের ভাষায়, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকই আসলে কম্পোস্টেবল প্লাস্টিক।

• সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জৈব প্লাস্টিক তৈরি হয়, তার বেশির ভাগটাই ফসলের উপজাত অংশ দিয়ে তৈরি।

• যে কোনও ধরনের জৈব প্লাস্টিক কম্পোস্টিং বা বিলীন করার জন্য ৭৭ ডিগ্রি থেকে ১৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রার প্রয়োজন।

• সামগ্রিক ভাবে বিলীন বা কম্পোস্টিং-এর জন্য এখনও পৃথকীকরণ, কাটা, মিশ্রণ এবং নির্দিষ্ট একটি তাপমাত্রার প্রয়োজন (সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি সম্ভব নয়)।

• কোনও ভাবেই ঘরোয়া পরিস্থিতিতে জৈব প্লাস্টিককে ভেঙে ফেলা বা বিলীন করা সম্ভব নয়।

• ইন্ডাস্ট্রিয়াল কম্পোস্টিং পদ্ধতির সুবিধা না থাকলে এই প্লাস্টিককে ভাঙা সম্ভবপর হয় না। ভারতের বেশির ভাগ শহরেই এই সুবিধা বা ব্যবস্থা নেই। ফলত জৈব প্লাস্টিকের শেষ ঠাঁই হয় শহরের রাস্তায়। যা অন্য প্রচলিত প্লাস্টিকের মতোই পরিবেশের ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়।

• অনেক সময়েই গ্রাহকের কাছে প্রচলিত প্লাস্টিক বিক্রি করা হয় বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের লেবেল মেরে।

এই বিষয়গুলি ছাড়াও প্লাস্টিক দূষণ রোধে বেশ কিছু জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে। যেমন, বায়ো-প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং পরিবেশে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখার স্বাধীনতা আমাদের কারওরই নেই। এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি সাধারণ প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় এমনিতেই বেশ দামি। পাশাপাশি, জৈব প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পদ্ধতিও বেশ খরচসাপেক্ষ। এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করুন। কিন্তু সেই সঙ্গে এটি পরিষ্কার করা, ধোয়া, পৃথকীকরণ এবং সর্বোপরি পুনর্ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বিষয়টিকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। প্লাস্টিকগুলি প্রচুর পরিমাণে কঠিন বর্জ্য তৈরি করে যা হয় জলে কিংবা স্থলে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে।

জৈবপ্লাস্টিক কী? এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প?
জৈবপ্লাস্টিক কী? এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প?

অন্য দিকে, যদি প্লাস্টিককে ঠিক মতো পুনর্ব্যবহার করা যায় তা হলে এটি বেশ মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। যেমন পেট-এর পুনর্ব্যবহার করে সুতো বা ফাইবার তৈরি করা যায়, যা থেকে কাপড়, গদি, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি করা যায়। অন্য ধরনের প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করে বিভিন্ন আসবাব, স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ইত্যাদি তৈরি করা যায়। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরি হয়, যা কেরোসিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সড়ক নির্মানের সময় কিংবা পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে অ্যডিটিভ হিসেবেও প্লাস্টিক ব্যবহার করা যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

সংসদ এলাকায় গ্রামীণ শাক-সবজির ক্ষেতখামার

সংসদ এলাকায় গ্রামীণ শাক-সবজির ক্ষেতখামার
সংসদ এলাকায় গ্রামীণ শাক-সবজির ক্ষেতখামার

লুই আই কানের অনন্য স্থাপত্যকলা বাংলাদেশের গৌরব জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় গড়ে উঠেছে শীতকালীন সবজির নানা ধরনের ক্ষেত। সংসদের বিশাল এলাকার আড়ালে-আবডালে থাকা এসব ক্ষেতে ফলছে শীতকালীন সবজি ছাড়াও নানা মৌসুমের দেশীয় ফলমূল। সেখানে কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে ডেকে আনা হচ্ছে কৃষকদের। আবার কেউ কেউ বাস করছেন সংসদের আশপাশ এলাকায়।

যারা সবজি চাষ করছেন তারা যেমন এসব কীটনাশকবিহীন ফসল ও সবজি নিজেরা খাচ্ছেন তেমনি অন্যদেরও উপহার দিচ্ছেন।

সংসদ ভবনের ঠিক পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে খণ্ড খণ্ড বিভিন্ন সবজির ক্ষেত, যা দেখলে নয়ন জুড়িয়ে যায়। এলাকাটি শহরের উদ্ভট গাড়ির হর্নের শব্দ থেকে তেমন মুক্ত না হলেও পাখপাখালির কিচিরমিচির শব্দে সেখানে গ্রামীণ আবহাওয়ার পরশ পাওয়া যায়।

সংসদ ভবন এলাকার এই সবজি ক্ষেতগুলোর উত্তর পাশেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন। দক্ষিণে রয়েছে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপসহ অন্যদের বাসভবন। এ এলাকাটি আগে ফাঁকা ছিল। কিন্তু ছয়-সাত বছর ধরে শীতকালীন ফসল ফলানো হচ্ছে। লাগানো রয়েছে কলা, সজনে, লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের গাছও। সবজি ক্ষেতের মধ্যে রয়েছে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, পেঁপে, সরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, লালশাক, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ইত্যাদির ক্ষেত। সারি সারি ছোট ছোট কলা গাছে রয়েছে থোরা থোরা কলার কাঁদি।

সংসদ এলাকায় গ্রামীণ শাক-সবজির ক্ষেতখামার
সংসদ এলাকায় গ্রামীণ শাক-সবজির ক্ষেতখামার

সেখানে কর্মরত কৃষক আব্দুল আউয়াল জাগো নিউজকে জানান, তিনি দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন। দৈনিক ৬০০ টাকা ভিত্তিতে কাজ করেন তিনি। পান দু-বেলা খাবার। এছাড়া বাড়তি পাওনা হিসেবে কখনো এসব ক্ষেতের শাকসবজি নিয়ে যান।

সেই এলাকা সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে সচিব/যুগ্ম-সচিব হোস্টেলে ই-টাইপ ও ডি-টাইপের ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওই ফ্ল্যাটে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া অনেকে ‘সাবলেট’ দিয়েছেন। রয়েছে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের সুদৃশ্য বাসস্থান ছাড়াও হুইপদের জন্য ডুপ্লেক্স বাড়ি। মূলত তারাই এসব সবজির চাষ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফল উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, সংসদ এলাকায় উৎপাদিত ফলমূল কীটনাশকমুক্ত। তবে সেখানে আবাদ করা সবজিতে সিসার মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।

সেখানে নিজেরা খাওয়ার জন্য চাষাবাস শুরু হলেও গত বছর সংসদ এবং নাখালপাড়ায় অবস্থিত এমপিদের (সংসদ সদস্য) বাসস্থান ন্যাম ফ্ল্যাট ভবন এলাকায় উৎপাদিত বিভিন্ন ফল বিক্রি করে সরকারের আয় বাড়ছে। চলতি বছরসহ বিগত ৮ বছরে এসব ফল বিক্রি করে সরকারের ২১ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়েছে।

সংসদের সহকারী সচিব (সদস্য ভবন) আবদুর রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় দেশীয় খেজুর ছাড়া সব ফলফলাদি প্রতি বছর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

জানা যায়, সংসদ ভবনের বিশাল এলাকায় আম, কাঁঠাল ও নারিকেল মিলিয়ে ফলফলাদির গাছ রয়েছে পাঁচ শতাধিক। সাবেক স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২০১১ সালে এসব ফলফলাদি নিলামের ব্যবস্থা করেন। এর আগে একজন আরেকজনের ফল পেরে নিয়ে যেতেন।

সেই বছর কাঁচাপাকা মিলিয়ে নিলামে দাম ওঠে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ফল। প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যত আম, কাঁঠাল ও নারিকেল ধরবে সব পাবেন ক্রেতা। ফল নিলামে দেয়ার আগে কোন জায়গায় কয়টি ফলের গাছ আছে তার জরিপ করা হয়। সে হিসাব অনুযায়ী সংসদ ভবন এলাকায় ১৩৪টি আম, ১১৯টি কাঁঠাল ও ২৪৯টি নারিকেল গাছ আছে। তবে নাখালপাড়ার এমপিদের বাসস্থানের গাছগাছালির হিসাব এখনও করা হয়নি। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবনে তেমন কোনো গাছ নেই।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ১ লাখ ৫৩ হাজার, ২০১২ সালে ২ লাখ ২৫ হাজার, ২০১৩ সালে ২ লাখ, ২০১৪ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০০, ২০১৫ সালে ২ লাখ ৯৫ হাজার, ২০১৬ সালে ৪ লাখ ৩০ হাজার, ২০১৭ সালে ৩ লাখ ১৭ হাজার ও ২০১৮ সালে নিলাম উঠেছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

দ্রুত বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল হয়েছেন গাইবান্ধার কৃষি গবেষক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। এখন পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে এ কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ১টি বাঁশ থেকে কাটিং করে ৪০-৫০টি বাঁশঝাড় করার স্বপ্ন অবশেষে সফল হলো।

এখন দেশে বাঁশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব। তবে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে সরকারের শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। সচেতন মহল তার এ উদ্ভাবনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। এ সফলতার পর তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করা সম্ভব কি-না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

তিস্তা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় আছে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। এ চাহিদা কাজে লাগাতে গিয়ে সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বাপ-দাদার শেখানো আদি পদ্ধতিতে শিকড়সহ বাঁশের মোতা বা চারা থেকে বাঁশ চাষ করার চেষ্টা করেন। কয়েক মাসেও সফল হতে পারেননি। কিছুদিন পর বিভিন্ন সূত্রে জানার পর নজরুল ইসলামের পরামর্শে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ শুরু করেন।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। যখন তার দাদার দাফন-কাফনে বাঁশের প্রয়োজন হয়; তখন পাড়া-পড়শির কাছে যেতে হয়। তখন থেকে বাঁশের দ্রুত বংশ বিস্তার নিয়ে চিন্তা করেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ছাত্রজীবনে শুরু করেন বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা। কৃষিতে ডিপ্লোমা করে কর্মজীবনে সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন।

দীর্ঘ ১২ বছর গবেষণার পর উদ্ভাবন করেছেন কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ। এ পদ্ধতিতে একটি বাঁশ থেকে ৪০-৬০টির বেশি বাঁশঝাড় করা সম্ভব। ইতোমধ্যে সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত জমিতে বাঁশ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনাবাদী জমিতে বাঁশ চাষ করে ৫-৬ বছর পর থেকেই বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছে চাষিরা।

শুধু গাইবান্ধায় নয়- নওগা, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেটসহ অনেক জেলায় বাঁশ চাষের মাধ্যমে সফলতা এনেছেন। ফলে দেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিকরা এখন বাঁশ চাষে আগ্রহী হয়ে ছুটছেন তার কাছে। স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার, ইন্টারন্যাশনাল রোটারি ক্লাব পুরস্কারসহ জেলা-উপজেলার অসংখ্য পুরস্কার।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খুশরিদ জাহান স্মৃতি বলেন, ‘নজরুল ইসলামের পরামর্শে বাঁশের কাটিং দিয়ে খুব কম খরচে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ করেছি। প্রথমে অনেকটা হতাশা থাকলেও এখন বাঁশঝাড় দেখে মনে শান্তি পাই। এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করলে দ্রুত শত শত বাঁশঝাড় করা সম্ভব।

বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে লালমনির হাট থেকে আসা মিরাজ হোসাইন বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে জানতে পারি বাঁশের বংশ বিস্তারে নজরুল ইসলামের উদ্ভাবনের কথা। আমরা তার কাছ থেকে বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে এসেছি।’

সাঘাটার বাঁশহাটা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন সরকার জানান, যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পরিত্যক্ত তিন বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে এখন বছরে কয়েক লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

উদ্ভাবক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন নিয়ে এখন গবেষণা করছেন। এছাড়া সৌদি আরবের খেজুর গাছ নিয়েও চিন্তা আছে। তিনি সৌদি থেকে উন্নত বারোমাসি খেজুরের চারা সংগ্রহ করে নতুনভাবে গবেষণা করেছেন বলে জানান।

সাঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘গাইবান্ধায় এ পদ্ধতিতে ব্যাপক বাঁশ চাষ করে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা সম্ভব। তার বিভিন্ন গবেষণায় আমরা মুগ্ধ। এ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন গবেষণা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

লেখক ও সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা নয় বরং দেশকে তিনি জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। মুক্তিযুদ্ধেও নজরুল ইসলামের অবদান আছে। তার এ প্রতিভা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণে করণীয়

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে খাদ্যশস্য ও ধানের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-২ তে উল্লেখ আছে ক্ষুধা থেকে মুক্তি, খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান, পুষ্টির মানোন্নয়ন এবং কৃষি ক্ষেত্রে টেকসই কর্মপদ্ধতির বিকাশ সাধন। বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে নানাবিধ উপায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার সঙ্গে পুষ্টি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতিগত কারণে প্রতি বছর দেশে ০.৪৩ ভাগ হারে কৃষিজমি হ্রাস পেলেও দেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন।

কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চাল উৎপাদন বাড়ছে বাংলাদেশে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) উৎপাদন ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চীন ও ভারতের পরই তৃতীয় স্থানটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার। তবে এবার ইন্দোনেশিয়াকে সরিয়ে সেই অবস্থানে উঠে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৯টি লক্ষ্যের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, সুষম খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে কৃষির টেকসই উন্নয়ন সম্পৃক্ত। এই অবস্থায় টেকসই উন্নয়নের জন্য গতিশীল কৃষির অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আবার কৃষি এখনও ৪২.৭ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজনের একটি নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র। জমির স্বল্পতার কারণে প্রান্তিক ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। তারাই এখন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার একমাত্র ভরসাস্থল যারা একখণ্ড জমিকে আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে। তাদের জমিতে যথাযথ প্রযুক্তির উপস্থিতি ঘটালে এবং কর্মসংস্থান বাড়ালে তা টেকসই কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্যবান্ধব হবে। তার জন্য প্রয়োজন টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলতে কৃষিক্ষেত্রে উৎদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি সরঞ্জাম, হস্ত ও শক্তিচালিত যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিকে বুঝায়। সাম্প্রতিক সময়ে, প্রচলিত শ্রমিকের মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কৃষিকাজ শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কৃষিকাজের আধুনিকীকরণ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে যা কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ চারা রোপণ, পরিচর্যা, ফসল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে উপেক্ষিত হয়েছে।

ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইনপুটের কার্যকারিতা এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ভূমিকা অপরিসীম। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ বলতে কেবল কৃষিযন্ত্রপাতি বিকাশের অগ্রগতিকেই বুঝায় না বরং এটি কৃষির পরিবেশ, কৃষির মান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মতো অনেক বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এটি সাইট-নির্দিষ্ট এবং গতিশীল যা সময়ের সাথে সাথে কৃষি যন্ত্রপাতির বিকাশ, উদ্ভাবন এবং ব্যবহারের সাথে পরিবর্তিত হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সাথে প্রধানত ট্রাক্টর এবং মেশিনারি সম্পৃক্ত থাকলেও অন্যান্য ইনপুট যেমন উৎপাদন, নির্বাচন, বিতরণ, ব্যবহার, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃষি কার্যক্রমের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তাদের পরিচালনায় বীজ, সার, পানি, কৃষি শ্রমিক এমনকি কৃষি মওসুমও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রশক্তির অভাবে সর্বদা সময়মতো জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, শ্রমিকের কর্মদক্ষতা, শস্যব্যবস্থাপনা, ফসল কর্তন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উপযুক্ত মূল্য সংযোজনের সাথে আপস করতে হয়েছে।

কৃষির যেকোনো ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা দ্বারা বোঝা যায়। কোনো দেশের বা অঞ্চলের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা উক্ত দেশের বা অঞ্চলের হেক্টর প্রতি শক্তির (কিলোওয়াট) ব্যবহার, প্রতি এক হাজার হেক্টরের জন্য ট্রাক্টরের সংখ্যা এবং ট্রাক্টর প্রতি জমির (হেক্টর) পরিমাণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা প্রত্যাশিত মাত্রায় ত্বরান্বিত হয়েছে। এমনকি গত আড়াই দশকে দেশে কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ৫৮ বছরে কৃষিক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৬০ সালে হেক্টর প্রতি ০.২৪ কিলোওয়াট হতে ২০১৮ সালে হেক্টর প্রতি ১.৮২ কিলোওয়াট হলেও জাপান, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো বড় বড় শিল্পায়িত দেশের তুলনায় এখনও অনেক কম।

যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে অনেক কারণ এবং প্রতিবন্ধকতা জড়িত। কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনের সকল পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের অভাব, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নিম্নমান, ডিজাইন, রিভার্স প্রকৌশল ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনশক্তির অভাব, প্রস্তুতকারক পর্যায়ে অত্যাধুনিক মানের যন্ত্রপাতি না থাকা এবং মানসম্পন্ন ও শ্রেণিবদ্ধ উপকরণের অভাব কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন এবং প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক। কোনো একটি অঞ্চলে কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা উক্ত এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, পরিবেশগত কারণ, কৃষি শ্রমিকের প্রাপ্যতা এবং প্রযুক্তিগত উপকরণের ওপর নির্ভর করে।

যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম (প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি প্রদর্শন, প্রয়োজনীয় এবং গুণগত মানসম্পন্ন মেশিনে ভর্তুকি); কার্যকর সংক্ষিপ্ত, মাঝারি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন; গবেষণা ও উন্নয়নে সক্ষমতা জোরদারকরণ; বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্রস্থাপন; বাছাইকৃত কার্যকরী কিছু প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্প চালুকরণ; বাংলাদেশের ৩০টি কৃষি অঞ্চলের আওতায় ৮৮টি কৃষি উপ-অঞ্চলের মাটি, ফসল এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি নির্বাচন, শনাক্তকরণ এবং প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতীয়মান হয়।

টেকসই ও কার্যকরী কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে প্রতিটি উপ-অঞ্চলে মাটির প্রকার, ভূমির টপোগ্রাফি, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, ফসলের ধরন, গড় ফলন, ফলন সম্ভাবনা এবং সীমাবদ্ধতা; কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য চাহিদা, ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে ফসল উৎপাদন ব্যয়, ফসলের তীব্রতা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থানে অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব এবং খামার যান্ত্রিকীকরণে বর্তমান অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষৎ চাহিদা, বিপণন, বিক্রয়োত্তর পরিসেবা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা, খুচরা যন্ত্রপাতি স্থানীয়বাজারে সহজলভ্যকরণ ইত্যাদি সঠিকভাবে অধ্যয়নের মাধ্যমে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

টেকসই যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি টেকসই ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকরণে সরকারি কৌশল, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন জিও এবং এনজিওর মধ্যে কার্যকর সংযোগ, অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার র্যাংকিং এবং উন্নত ও গুণগতমান সম্পন্ন কৃষিযন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি, পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রপাতি উৎপাদন সক্ষমতাবৃদ্ধি, কৃষকদল গঠন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং সকল পর্যায়ে মানসম্পন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিতকরণ আবশ্যক। বর্ণিত বহুবিদ পন্থা সঠিকভাবে বিবেচনার মাধ্যমেই কৃষির আধুনিকায়ণ তথা টেকসই যান্ত্রিকীকরণ প্রতিষ্ঠা পাবে বলে বিশ্বাস করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক

অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক
অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক

প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারে এজন্য তৈরি করা হয়েছে অ্যাপস। প্রান্তিক কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ধান ও চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রধানমন্ত্রী এ নতুন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এখন থেকে কৃষকরা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘ডিজিটাল খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও কৃষকের অ্যাপ’ সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে বরিশাল খাদ্য বিভাগ। কর্মশালায় বরিশাল সদর উপজেলা ও ভোলা সদর উজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ধান, চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনোভাবেই রাজনৈতিক কিংবা অনৈতিক চাপের মুখে কৃষকের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয় করার ক্ষেত্রে কারও কাছে নতি স্বীকার করতে না হয়।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রিতে যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হয় এজন্য প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে কৃষকরা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে ধান ও চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন না কৃষকরা। তাই এখন থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে ধান-চাল বিক্রি করার আহ্বান জানান কৃষকদের।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন, বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাশ শিকারী ও ভোলা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

সময় বাঁচাবে আর উৎপাদন ব্যয় কমাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com