আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ছাদকৃষি

বাড়ির টবে হাসনুহানা চাষ করার সহজ উপায়

রাতের রানী হাসনুহানা! অসম্ভব সুন্দর গন্ধ বিশিষ্ট এই ফুলের আদি নিবাস ওয়েষ্ট ইন্ডিজে হলেও বর্তমানে এটি ভারত, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার,মালয়েশিয়া সহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। হাসনুহানা ফুলের ওষধি হিসাবেও মানবদেহের পক্ষে কার্যকরী। কথিত আছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাসনুহানা ফুল ফুটলে, তার তীব্র সুমিষ্ট গন্ধে নাকি সাপ আসে। হাসনুহানা গাছের পাতা থেতো করে দুধের সাথে উষ্ণ করে খেলে আমাশার মতন রোগও দূরে থাকে।

গোটা বছরই মূলত এই ফুলটি ফোটে তবে শীতকালে এটি ফুটতে দেখা যায় না। বর্ষাকালে এই ফুল গাছ ভর্তি করে হয়। বহু দূর থেকে এই ফুলের গন্ধ পাওয়া যায়। গুল্ম জাতীয় এই ফুল গাছ বহু মানুষ বাড়ির টবেও চাষ করেন। সৌখিন মানুষ যারা তাদের কাছে হাসনুহানা ফুল অত্যন্ত প্রিয়। হাসনাহেনা ফুলের পাপড়ি সাধারণত পাঁচটি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা রঙেরই পাপড়ি হয়। কোথাও কোথাও আবার আবার ঘিয়ে রংয়ের পাপড়ির হাসনুহানাও দেখতে পাওয়া যায়। নলাকার এই ফুলের পাপড়ি সাধারণত ২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। জেনে নেওয়া যাক হাসনুহান ফুল বাড়ির টবে রোপনের পদ্ধতি:

বংশবিস্তার পদ্ধতি (Breed)

হাসনুহানা ফুলকে মূলত দুই ভাবে বংশবিস্তার করানো সম্ভব। বীজ থেকেও এটির বংশবিস্তার করানো সম্ভব। গুটি কলম পদ্ধতিতেও হাসনুহানার বংশবিস্তার করানো সম্ভব।

জলবায়ু (Climate)

মোটামুটি আর্দ্র হবে এমন মাটি হাসনুহানা গাছ রোপনের জন্য আদর্শ। মাটি অতিরিক্ত ভিজে অর্থাৎ কাদাটে থাকলে চলবে না। মাটি কোনও  কারণে স্যাঁতসেঁতে থাকলে জল দেওয়ার দরকার নেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম মেনে হাসনুহানা গাছে জল দেওয়া যাবে।

মাটি প্রস্তুত (Land Preparation)

দোঁআশ মাটি হাসনুহানা চাষের জন্য আদর্শ মাটি। এছাড়াও সবধরনের মাটিতে হাসনুহানার চাষ করা যায়। টবে হাসনুহানা চাষ করতে হলে পরিমাণ মতো  দো-আঁশ বা বেলে মাটিতে মুঠো পরিমাণে হাঁড়ের গুঁড়ো, সুপার ফসফেট ও দু’মুঠো ছাই মিশিয়ে নিতে হবে।  এতে টবের মাটি ভালো থাকবে। পাতা পচা সার, গোবর, খোল ও কিছুটা  টিএসপি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করলেও বেশ ভালো ফল মেলে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

গোবর সার, চাপান সার ও তরল সার এই গাছের জন্য আদর্শ। নিম গুড়ো খোল, কাঠকয়লা, গুঁড়ো হাড়, ও গোবর সার মিশিয়েও চাপান  সার তৈরী করে নেওয়া যায়।

গাছের পরিচর্যা (Caring)

হাসনুহানা গাছে জল দিতেই হবে, কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় তা যেন জমতে না পারে। প্রত্যেক মাসে মাটি বার দুয়েক খুঁচিয়ে দেওয়া উচিত। বর্ষাযকালে কখনো যেন মাটির ওপর টব না থাকে। ঝড় এলে অনেকসময় গাছের গোড়া নড়ে যায়, এতে গাছ মরে যেতে পারে। তাই সবসময় ঝড় ও মাটি বাহিত ছত্রাক থেকে গাছকে রক্ষা করতে হবে। গরম কালে দিনে দুই বার করে গাছে জল দেওয়া আবশ্যক।

টবের হাসনুহানা গাছ বড় হলে ডাল বেশ কিছুটা ছেটে দেওয়া উচিত। তবে লক্ষ্য রাখা উচিত সিজনের ফুল দেওয়া শেষ হয়েছে কিনা তার ওপর। মঞ্জরীও প্রয়োজন পড়লে ছেঁটে দেওয়া যায়। নিয়ম মেনে কান্ডের পাশ থেকে শাখা বের হলে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শাখা রেখে বাকীগুলি ছিঁড়ে নিতে হবে। হাসনুহানা তবে সময় করে নতুন মাটিও দিতে হবে। এই নিয়মগুলি মেনে চললে টবের হাসনুহানার বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ছাদকৃষি

লিটনের ছাদ বাগানে ৩০ ধরনের ফল

বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করে সফলতা পেয়েছেন সিংড়ার বই ব্যবসায়ী তারেকুজ্জামান লিটন। তার দুইতলা বাড়ির ছাদে এখন শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি গাছের ডালে প্রায় ৩০ ধরনের ফল। তার এই সফলতায় ছাদ বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকেই।

সিংড়া পৌর শহরের পেট্রোলবাংলা মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সত্ত্বাধিকারী তারেকুজ্জামান লিটন। ২০১৬ সালে নিজের বাড়ির ছাদে ফলের বাগান শুরু করেন তিনি। নাটোর, বগুড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল গাছ সংগ্রহ করে ছাদ বাগান তৈরি করেছেন। এরপর থেকে তার নিরলস প্রচেষ্টায় ৫ বছরে বাগানে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য ফল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দার্জিলিং মাল্টা, ভেরিকেডেট মাল্টা, থাই মাল্টা, বারি-১ মাল্টা, ছিডলেস লেবু, কট লেবু, বারোমাসি আমড়া, থাই পেয়ারা, জাম্বুরা, দার্জিলিং কমলা, মিষ্টি জলপাই, মারোমাসি আম, মিয়াজাকি আম, ব্যানানা ম্যাংগো, আপেলকুর বড়ই, ছবেদা, কাঁঠাল, থাই ডালিম, ড্রাগন, ত্বীন ফল, লাল পেয়ারা, কামরাঙ্গা, মালবেরিসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল রয়েছে লিটনের ছাদ বাগানে। এছাড়াও গোলাপ, মাধবীলতা, টগরসহ কয়েক ধরনের ফুল গাছও রয়েছে।

তারেকুজ্জামান লিটন বলেন, গাছ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসা থেকেই এ ছাদ বাগানের জন্ম। এখান থেকে ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের দেয়া হয় এই বাগানের ফল। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফল গাছ সংগ্রহ করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাগানটি আরো বড় করার ইচ্ছে আছে।

লিটনের ছাদ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশের ছাদে বাগান করেছে তার ভাতিজা কলেজপড়ুয়া নোমান। তিনি জানায়, আমার চাচা ছাদ বাগানে সফলতা পেয়েছে। তার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমিও বাগান করেছি। অবসর সময় ছাদেই কাটাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সেলিম রেজা বলেন, তাঁর ছাদ বাগানের কথা শুনেছি, কখনও যাওয়া হয়নি। এছাড়াও কেউ ছাদ বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগান শুরু করার আগে কি কি বিষয় খেয়াল রাখবেন

বর্তমানে শহরাঞ্চলে ছাদ বাগান টি অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য ছাদ বাগান হতে পারে অন্যতম উৎস।

কিভাবে ছাদ বাগান করবেন সেই সম্পর্কে এই লেখায় আমি বিস্তারিত উপস্থাপন করব।

ছোট বাগান করার সময় অনেকেই হতাশ হয়ে যান। দেখা যায় যে কাঙ্খিত ফলন আসে না। আবার অনেক সময় হঠাৎ গাছ মরে যায়।

আমাদের দেশে একটি কুসংস্কার আছে। অনেকে বলে থাকেন অনেকের হাতে গাছ হয় না। এটা আসলে সম্পূর্ণ ভুল কথা। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে যে কারো হাতেই সুন্দরভাবে গাছ বড় হয়ে উঠবে।

সুন্দরভাবে গাছের ফলন পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

সবার আগে ছাদ বাগানের উপযোগী মাটি তৈরি করতে হবে।
আমরা জানি যে ছাদ বাগানে গাছ খুব অল্প মাটিতেই বেড়ে উঠতে হয়। তাই মাটিকে ভালো ভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

অল্প জায়গায় গাছে উঠে এমন জাত নির্বাচন করতে হবে।

ছাদ বাগানে গাছ বড় করার জন্য নির্দিষ্ট জাত রয়েছে। যে সকল ফল ছাদে হয় সেগুলো সাধারণত কলমের চারা হয়।

নির্দিষ্ট সময়ে গাছ রোপন এবং পরিচর্যা করতে হয়। আমরা অনেক সময়ই জানিনা কোন সিজনে কি ধরনের ফসল লাগাতে হয়। আবার অনেক সমস্যা আছে যেগুলো নিয়মিত প্রুনিং করতে হয়। ক্লোনিং করা বলতে গাছের ডাল ছাঁটাই করাকে বুঝায়। একটি গাছ একেক সময়ে প্রুনিং করে দিলে ভালো ফলন আসে।

যারা ছাদ বাগান করতে আগ্রহী তাদেরকে আমি বিস্তারিত এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারব বলে আশা করি।

প্রথমেই মাটি প্রস্তুত করা সম্পর্কে জেনে নিন।

আমাদের বর্ষাকালে গাছের অনেক সমস্যা দেখা যায়। বসা অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। এছাড়াও যারা বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন বর্ষাকালে চারা উৎপাদনের হার কমে যায়। বর্ষাকালে কি কি সমস্যা হয় এবং এর যত্ন কিভাবে নিবেন সেটা নিয়ে এই লেখায় আমি লিখব।

বর্ষাকালে চাষাবাদের জন্য মাটি আমাদেরকে ঠিকমতো রেডি করে নিতে হবে।
মাটিতে 45% মিনারেল থাকে
25% বাতাস থাকে
25 শতাংশ পানি থাকে
এবং 5% বিভিন্ন অর্গানিক ম্যাটার থাকে

ছাদ বাগান করার ক্ষেত্রে এই 45% যে মাটি থাকে সেখানে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান থাকতে হয়।

টোটাল 16 টি উপাদান দ্বারা এই 45% মাটি গঠিত হতে হবে। উপাদান গুলোর নাম:

আমরা অনেকেই বলে থাকি গাছে শুধুমাত্র পানি দিলে এবং সূর্যের আলো হলেই ফল দিবে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। গাছের সুষম বিকাশের জন্য এবং প্রয়োজনীয় ফসল ফলানোর জন্য মাটিতে 16 টি উপাদানই পরিমিত আকারে থাকতে হবে। এই 16 টি উপাদান এর যেকোনো একটির অভাবে গাছের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এখন কথা হচ্ছে আপনি কিভাবে বুঝবেন এই 16 টি উপাদানের মধ্যে কোন উপাদানটি আপনার বাগানের মাটির মধ্যে নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

জেনে নিন ছাদবাগানের জন্য মাটি প্রস্তুতি, গাছ রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে

বাড়ির মধ্যে একটা ছোট্ট বাগান কে না চায়? কিন্ত শহরে থাকেন বলে জায়গার অভাবে সেই ইচ্ছা পূরণ করা থেকে বিরত থাকতেন অনেকেই। তবু বাগান করার ইচ্ছাই মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে বিকল্প পথ। শহরে বাড়ির সামনের মাটি প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে। তার উপর ফ্ল্যাটগুলোতে গাছ লাগানোর আর উপায়ও নেই। এই অবস্থায় ফ্ল্যাটের বারান্দায় কিচেন গার্ডেন (Kitchen Garden), কিংবা ছাদের বাগানই ভরসা।

আমাদের এই শহরেও কিন্তু ছাদের বাগান বাড়ছে ক্রমশ। এই শখের বাগান থেকেও মিলছে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। রান্না করতে গিয়ে নিজের কাছে দুই-চারটি মরিচ কিংবা টমেটো, কখনোবা একমুঠো ধনে পাতার ব্যবহার খাবারের স্বাদের পাশাপাশি মনের খুশিটাও বাড়িয়ে তোলে।

এই বাগান কীভাবে করবেন জেনে নেওয়া যাক –

ছাদের আকার ও অবস্থান :

ছাদের আকার ছোট, মাঝারি বা বড় হতে পারে। এ আকার বিবেচনায় ছাদের কোন অংশে, কত সংখ্যক, কি কি, বিভিন্ন ফল, সবজি, মশলা ও ঔষধি গাছ চাষ করা যাবে তা শুরুতেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নির্ধারিত ছাদ কত তলা বিশিষ্ট, আশপাশে কত তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং বা বড় আকারের গাছপালা আছে, সারা দিনে সেখানে আলো-বাতাস বা রোদ পাওয়ার সুবিধা বিবেচনায় বাগান সৃষ্টি করতে হয়। ছাদের অবস্থান অতি উঁচু হলে ঝড়-বাতাসের প্রভাব বেশি পড়ে। তাই বেশি লম্বা আকারের ফল গাছ ছাদে রোপণ করা ঠিক হবে না।

এমন অবস্থানে গাছ হেলে পড়া, ডাল ভেঙে যাওয়া, ফল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য এক্ষেত্রে গাছকে ছেঁটে রেখে বেশি ওপরের দিকে বাড়তে না দেয়া ভালো। এছাড়া যেসব গাছ কম উচ্চতা বিশিষ্ট  তা দিয়ে ছাদ বাগান সাজানো প্রাধান্য দেয়া উচিত। একই কারণে কলা, পেঁপে এ ধরনের লম্বা আকারের গাছ অতি উঁচু ছাদে রোপণ না করাই ভালো। ছাদে রোদের তাপ তুলনামূলক বেশি তাই ছাদ বাগান সৃষ্টিতে ৫০-৭০% রোদ প্রতিরোধী ঘন নেট ৭-৮ ফুট ওপরে ফিট করে ছাদের গাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

মাটির প্রস্তুতি – 

ছাদে বাগান করার শখ কম-বেশী সবারই থাকে । আর এই বাগান করতে হলে প্রথমেই যে জিনিসের প্রয়োজন তা হল মাটি । শুধু মাটি হলেই হবে না গাছের জন্য উপযোগী করে মাটিকে প্রস্তুত করতে হয় । সঠিকভাবে মাটি তৈরি করতে পারলে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এতে ফলনও ভালো হয়।

ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বেলে-দোঁআশ মাটি । প্রথমেই বেলে-দোঁআশ মাটি সংগ্রহ করতে হবে ।আপনার মাটি যদি এঁটেল (শক্ত মাটি) হয়, তাতে বালি মাটি মেশাতে হবে। মাটি যদি বালি হয়, তাতে এঁটেল মাটি মেশাতে হবে। মোট কথা যে কোনো মাটি দো-আঁশ মাটিতে রূপান্তর করতে হবে। মাটি ঝুর ঝুরে হলেই তা দো-আঁশ মাটি হয়েছে বুঝবেন।

রাসায়নিক সার মেশানো : 

ছাদের জন্য হাফ ড্রাম এবং মাটির জন্য ২ ফুট বাই ২ ফুট ১.৫ ফুট আকারের গর্তে হাফ ড্রামে প্রায় ১২০-১৫০ কেজি (৩-৪ বস্তা প্রায়) মাটি ধরে। উভয়ক্ষেত্রে মাটির সঙ্গে ৩০-৫০ কেজি জৈব সার, ১২০-১৫০ গ্রাম টিএসপি, ৮০-১০০ গ্রাম (২-৩ মুঠ প্রায়) পটাশ, ৪০-৫০ গ্রাম (১.০-১.৫ মুঠ প্রায়) জিপসাম, ১০-১৫ গ্রাম (১.৫-২.০ চা চামচ প্রায়) করে বোরণ ও দস্তা সার ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন ঢেকে রাখবেন। পনের দিন পর পুনরায় মাটি ভালোভাবে মিশিয়ে কয়েকঘণ্টা খোলা রেখে চারা রোপণ করবেন।

মাটি শোধন করা :

মাটি তৈরির সময় শোধনের কাজটি সেরে নেয়া যেতে পারে। এ জন্য উপরোক্ত পরিমাণ মাটির সঙ্গে ১০ গ্রাম (১.০-১.৫ চা চামচ) হারে দানাদার কীটনাশক এবং কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে করে নিমাটোড বা কৃমি এবং ছত্রাক দমন করা সম্ভব হবে। দানাদার কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব কীটনাশক বায়োডার্মা সলিড প্রয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে ১-২ গ্রাম হারে বায়োডার্মা মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। ১৫ দিন পর সার মিশ্রিত মাটির সঙ্গে বায়োডার্মা মিশ্রিত ভার্মিকম্পোস্ট মেশাতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

কীভাবে করবেন ছাদ বাগানের পরিচর্যা, জেনে নিন ছাদবাগানের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

যেহেতু শহরে দূষণ এমনিতেই বেশি, তাই ছোট্ট এক চিলতে বাগান এনে দিতে পারে সজীবতা।’ কিন্তু ছাদবাগান করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন জমে থাকা জল দ্রুত ছাদ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। কোনভাবেই ছাদ যেন ড্যাম্প বা স্যাঁতস্যাঁতে হতে না পারে। শখের বাগান (Terrace Farming) করার সাথে সাথে বাড়িও রাখতে হবে সুরক্ষিত।

ছাদবাগান করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, গাছের পাত্র থেকে বের হওয়া জল যেন কোনভাবেই ছাদে জমতে না পারে। এজন্য, ড্রাম (Drum Farming) বা টবগুলোকে রিং বা ইটের উপর রাখা যেতে পারে। এতে পাত্রের নিচে দিয়ে আলো বাতাস চলাচল করবে এবং ছাদও স্যাতসেঁতে হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। গাছ লাগানোর জন্য ছাদে স্থায়ী বেড় বানাতে চাইলে তা ছাদ থাকে অন্তত আট ইঞ্চি উপর থেকে শুরু করতে হবে। ওয়াটার প্রুফিং, নেট ফিনিসিং বা চিপস ঢালাইয়ের মাধ্যমেও ছাদকে ড্যাম্প প্রতিরোধী করা যায়।

গাছের ডাল-পালা ছাঁটাইঃ 

ছাদ বাগান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তাই রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে এবং গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হবে। কুল গাছের ক্ষেত্রে কুল খাওয়ার পর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি গাছের সমস্ত ডাল কেঁটে দিতে হবে। তাছাড়াও মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল গুলো কেটে বোর্দ পেষ্ট লাগাতে হবে।

টব বা ড্রামের মাটি পরিবর্তনঃ

এ বিষয়টিও ছাদ বাগানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাধারণত বর্ষার শেষে কাজটি করতে পারলে ভাল । পূর্বেই কিছু বেলে দো-আঁশ অথবা দো-আঁশ মাটির দুই ভাগের সাথে একভাগ গোবর মিশাতে হবে । যে কয়টি টবের মাটি পরিবর্তন করতে হবে প্রতিটি টবের জন্য আনুমানিক ৪০ গ্রাম টিএসপি, ৪০ গ্রাম পটাশ , ১০০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া ১০ গ্রাম হারে সরিষার খৈল একত্রে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। অতঃপর যে টবের মাটি পরিবর্তন করতে হবে সেই গাছের টবের গাঁ ঘেঁষে ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬-৮ ইঞ্চি গভীর করে মাটি ফেলে দিতে হবে । এটি ১৬-২০ ইঞ্চি টবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পুরনো মাটি সরানোর পর ঐ স্থানটি পূর্বেই প্রস্তুতকৃত মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে ।

সার প্রয়োগ (Fertilizer Application) –

ফল গাছে বছরে অন্তত ২ বার সার দিতে হবে, যেমন- বর্ষার আগে ও বর্ষার পরে। মাছ, মাংস ও তরকারি ধোয়া জল গাছে ব্যবহার করলে গাছের খাবারের অভাব কিছুটা পূরণ হয়। এছাড়াও মিশ্র সার, হাড়ের গুড়া এবং অনুখাদ্য (দস্তা, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ) বছরে একবার প্রয়োগ করা ভালো। মাছের কাঁটা, হাড়ের টুকরা, ডিমের খোসা, তরিতরকারির পরিত্যক্ত অংশ, পাতা, একটা ড্রামে পঁচিয়ে নিয়ে ছাদ বাগানে ব্যবহার করা ভালো। এছাড়াও ট্রাইকোডারমা, কেঁচো সার, কুইক কম্পোস্ট, ও বাজারে প্রাপ্ত অন্যান্য জৈব সার ছাদ বাগানে ব্যবহার করা যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত ছোট টব থেকে বড় টবে গাছ অপসারণ করার মাধ্যমে গাছকে স্বাস্থ্যবান করা যায়। ফুল-ফল ঝরা রোধে ও ফল ধরা বাড়াতে নানা প্রকার অনুখাদ্য/হরমোন (সিলভামিক্স, লিটোসেন, ফ্লোরা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পোকা ও মাকড় দমন (Disease Management) : 

নিয়মিত ছাদ বাগান পরীক্ষা করে দেখা মাত্র পোকা বা পোকার ডিমগুলো সংগ্রহ করে মেরে ফেলা ভালো। পাতার নিচে ভাগে পোকামাকড় অবস্থান করে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক পাতায় পোকামাকড় বেশি দিন আশ্রয় নেয়। তাই পাতা হলুদ হওয়া মাত্র পাতার বোটা রেখে তা ছেঁটে দিতে হয়। অতি ঝাল ২-৩ গ্রাম মরিচের গুড়া এক লিটার জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেঁকে নিয়ে তাতে ২ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার ও এক চা চামচ পিয়াজের রস একত্রে মিশিয়ে ৮-১০ দিনের ব্যবধানে স্প্রে করলে জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে গাছকে পোকার হাত থেকে নিরাপদ রাখা যায়। মাইট বা ক্ষুদ্র মাকড় খালি চোখে দেখা যায় না। লিচু, মরিচ, বেগুন, গাঁদা ফুলে মাইটের উপদ্রব বেশি দেখা যায়। মরিচের গুড়া পদ্ধতিতেও এ মাকড় দমন করা যায়। যেহেতু পোকামাকড়ের অবস্থান পাতার নিচে এ জন্য এ অংশ ভালোভাবে স্প্রে করে পোকা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে কি কি গাছ করতে পারেন আপনি? জেনে নিন ছাদ বাগানের জন্য উপযোগী ফসল সম্পর্কে

ছাদ বাগানের (Terrace Farming) শখ তো অনেকেরই রয়েছে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কী ফলাতে চান? খুব নরম প্রকৃতির গাছ না লাগানোই ভাল। কারণ, ছাদের প্রখর রোদ নরম প্রকৃতির গাছ গুলো অনেক সময়ই সহ্য করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বড় গাছের বনসাই, কলমের ফল কিংবা ফুলের গাছ লাগানোই ভাল।

নানা ধরনের ফলের গাছ ছাদে লাগানো যায়, এমনকি, কলা গাছ, আম গাছ, নারকেল গাছও ছাদের টবে লাগাতে পারেন। সুতরাং ছাদে ঠিকঠাক গাছ লাগানোর জায়গাটা প্রস্তুত করতে পারলেই পছন্দ মতো সব ধরনের গাছই লাগিয়ে দিতে পারেন ছাদে।

যাঁরা ফুলের ভক্ত, তাঁদের জানানো যাক, সামান্য পরিশ্রমেই জবা, গাঁদা, গোলাপ, রঙ্গন, বোগেনভিলিয়া ফোটে। বীজ কিনুন স্থানীয় নার্সারি থেকে। গরমকালে সাধারণত দিনে দু’বার জল দিতে হয়। শীতের দিনে দু’দিনে একবার দিলেও চলে।

ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, কারিপাতা, পালংশাক, পুঁইশাকও বাড়িতে সহজেই ফলানো সম্ভব। বাজার থেকে গোড়াসমেত পুদিনা কিনে এনে মাটিতে লাগালেই গাছ হয়।

গোটা ধনে আগের রাতে সামান্য উষ্ণ জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পুঁতলেই তাজা ধনেপাতা ফলবে। খুব ভালো লঙ্কা আর লেবুও ধরে সামান্য পরিচর্যাতেই। করতে পারেন লাউ, ঢ্যাঁড়শ, উচ্ছে, পেঁয়াজও। বিশেষ করে বাড়িতে ফ্যান্সি রান্নাবান্না করার অভ্যেস যাঁদের আছে, তাঁরা গাছপেঁয়াজ বা লেমনগ্রাস করে রাখলে হাতের কাছেই তাজা কাঁচামাল পেয়ে যাবেন।

ফলের গাছ (Fruits) : 

আম, পেয়ারা, বারোমাসী লেবু (কাগজি, সিডলেস, এলাচি), মাল্টা, কমলা, থাই বাতাবি, কুল (টক ও মিষ্টি), ডালিম, শরিফা, সফেদা, আমলকী, বারোমাসী আমড়া, জামরুল, অরবরই, বিলিম্বি, করমচা, ড্রাগন ফ্রুট অন্যতম।

শাকসবজি জাতীয় (Vegetables) :

লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক, ডাটাশাক, কলমীশাক, পুইঁশাক, লেটুস, বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়স, চুকুর, ক্যাপসিকাম, শিম, বরবটি, শসা, করলা, পটোল, লাউ, ধুন্দল, বারোমাসি সজিনা, ব্রোকলি, মুলা ইত্যাদি।

লা জাতীয় (Spices) :

মরিচ, ধনেপাতা, বিলাতি ধনিয়া, পুদিনা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গোলমরিচ  ইত্যাদি।

ঔষধিগুণ বিশিষ্ট (Medicinal Plants) :

অ্যালোভেরা, তুলসী, থানকুনি, চিরতা, স্টিভিয়া, গাইনোরা ইত্যাদি।

ফুল জাতীয় : 

গোলাপ, বেলী, টগর, জুঁই, গন্ধরাজ, জবা, টিকোমা, জারবেরা, বাগান বিলাস ও বিভিন্ন মৌসুমি ফুল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com