আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ছাদকৃষি

বাড়ির ছাদে হরেক রকম ফুল-ফল-সবজি

তেঁতুল নামটি শুনলেই মুখে আসে পানি। কিন্তু কেউ যদি বলেন, তাঁর গাছের তেঁতুল মিষ্টি, তখন কিছুটা অবাক হতে হয়। এমন অবাক করা কথাই শোনাচ্ছিলেন দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ি এলাকার সুলতানা ফেরদৌসী। পেশায় তিনি শিক্ষক। শুধু তেঁতুলই নয়, শহরে ২ হাজার ১০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের চার তলা ছাদে ৩৯৬টি টবে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফুল, ফল ও সবজির গাছ লাগিয়ে ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন তিনি। 

সুলতানার মতো দিনাজপুর শহরে অনেকেই ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। প্রায় সারা বছরই ছাদ কৃষিতে ফুল-ফল, শাক-সবজি চাষ করছেন তাঁরা। শহরে শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি করার কথা জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দিনাজপুরে শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি আছে। প্রতিটি ছাদে ৬০ থেকে শুরু করে তিন শতাধিক ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে। তবে শহরের বালুয়াডাঙ্গা, বালুবাড়ি, সুইহারি, গোলাপবাগ, গুড়গোলা, ইদগাহ বস্তি এলাকায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তৌহিদ ইকবাল বলেন, ছাদ কৃষির একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, ছাদ সব সময়ের জন্য ঠান্ডা থাকে। এক দিকে পরিবেশ রক্ষা হয়। অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা কৃষির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে ছাদ কৃষির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা ছাদ কৃষি শুরু করেছেন, তাদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে। গাছের টবে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা ছাড়াও নিয়মিত গাছের পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে।

গত বুধবার সকালে সুলতানা ফেরদৌসীর ছাদে দেখা গিয়ে দেখা যায়, কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, তেঁতুল, আঙুর, ড্রাগন, করমচা। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, সাশা, তরই, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুস পাতা ও ধনেপাতা। ওষধি গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যালোভেরা, তুলসী, আমলকী, অর্জুন। ফুলের মধ্যে আছে ক্যাকটাস, ডালিয়া, নাইটকুইন, অর্কিড, কাটা মুকুট, অপরাজিতা ইত্যাদি। আঙুর ফলের মাচায় ঝুলছে শসা, লাউ আর তরই। বাড়ির প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলার বেলকনিতে আকাশমণি, আগড়, বট, মেহগনিকে বনসাই করে রাখা হয়েছে।

সুলতানার ছাদ বাগানে দাঁড়িয়ে চারপাশে প্রায় সব ভবনের ছাদে এই ছাদ কৃষি চোখে পড়ে এখন। সুলতানা বলেন, ‘২০১২ সালে কয়েকটি ফুলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে সবজি ও ফল গাছ লাগাই। পরিমাণে কম হলেও বছরের সব সময়ই কোনো না কোনো গাছের ফল খেতে পারি।’

তাঁর এই বাগানের পরিচর্যা দেখে আশপাশের অনেকেই এখন ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন। অনেককে তিনি চারা ও বীজ সরবরাহও করেন। এই ছাদ কৃষিতে সাফল্যের জন্য গত ২০১৭ সালে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারও লাভ করেছেন সুলতানা।

ছাদে শতাধিক টবে গাছ লাগানো আছে সর্দারপাড়া এলাকার মকবুল হোসেনের। তিনি বলেন, অন্য সময়ে তেমন যত্ন নিতে না পারলেও বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে থাকায় ছাদ বাগানের যত্ন নিতে পারছেন।

দিনাজপুর শহরে তিন তলা থেকে শুরু করে পাঁচতলা পর্যন্ত কয়েক হাজার ভবন আছে বলে জানান পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বলেন, ছাদ কৃষি যেহেতু পরিবেশে রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। গুরুত্ব দিয়ে কেউ এই ছাদ কৃষির উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেই বাড়ির পৌর করের বিষয়েও শিথিলতা আনা হবে।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, ইতিমধ্যে ছাদ কৃষির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার সব সরকারি অফিসের ছাদে এই ছাদ কৃষি গড়ে তুলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় গড়ে তোলা হয়েছে ছাদ কৃষি। ফুল ও ফল মিলিয়ে সেখানে দেড় শতাধিক টবে গাছ লাগানো হয়েছে। কয়েকটি গাছে ইতিমধ্যে ফলও ধরেছে।

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করবেন যেভাবে

ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করবেন যেভাবে
ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করবেন যেভাবে

কৃষিবিদ জিয়াউল হক

কল্পকাহিনির ড্রাগন নয়, সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল ড্রাগন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলটি মূলত ভিনদেশি হলেও এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফলের সুখ্যাতি এখন সব জায়গায়। খুব সহজেই বাড়ির আঙিনা বা ছাদে ফলটি চাষ করা যায়। ড্রাগন ফলের গাছ লতানো, মাংসল ও খাঁজকাটা। লোহা, কাঠ বা সিমেন্টের খুঁটি বেয়ে এটি বড় হতে পারে। আসুন জেনে নেই কিভাবে খুব সহজে বাড়ির ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করা যায়-

উৎপত্তি ও বিস্তার: ড্রাগন মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমাদের দেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত গোলাপি বর্ণের এ ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। তার সাথে ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস। ড্রাগন ফল গাছ ক্যাকটাস সদৃশ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। চাইলে বাড়ির ছাদে বড় টবে বা ড্রামে ড্রাগন চাষ করতে পারেন।

যেভাবে চাষ করবেন: সারা বছরই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপণ করাই উত্তম। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। ড্রাগন সাধারণত গাছের কাটিং লাগানো হয়। টবে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। কারণ এ আকারের ড্রামে চারা ভালোভাবে শিকড় ছড়াতে পারবে আর তাতে ফলনও অনেক ভালো হবে। টবে বা ড্রামে যাতে পানি না জমে সে জন্য ড্রামের তলায় ৪-৫টি ছোট ছিদ্র করে নিতে হবে এবং ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।

ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি

মাটি তৈরি: ড্রাম বা টবের ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার মিশিয়ে টব বা ড্রাম এমনভাবে ভর্তি করতে হবে, যেন উপরে পানি দেওয়ার জন্য একটু (৩-৫ সেমি) খালি থাকে। এরপর মাটির সাথে অন্যান্য উপাদান ভালোভাবে মেশানোর জন্য পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। এরপর মাটি কিছুটা আলগা করে দিয়ে পুনরায় ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরে করে ড্রামে ভরতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরে হয়ে গেলে ড্রাগনের কাটিংয়ের চারা ওই টবে ৮-১০ সেমি গভীর করে রোপণ করতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে।

কাটিং বা চারা পাওয়ার স্থান: ড্রাগন ফলের সুস্থ ও রোগমুক্ত কাটিং বা চারা বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে অবস্থিত বৃহৎ জার্মপ্লাজম সেন্টার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন নার্সারিতেও পাওয়া যায়।

গাছের পরিচর্যা: ড্রাগন ফল গাছের সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন ভালো হবে না। ড্রাগনের গাছের কাণ্ড লতানো প্রকৃতির। তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে গাছকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে পিলারের মাথায় গোলাকার কোন কিছু যেমন টায়ার বেঁধে দিতে হবে, এতে গাছ সহজেই ঢলে পড়বে না। গাছে অতিরিক্ত বা রোগাক্রান্ত শাখা বের হলে তা কেটে ফেলে দিতে হবে। গাছের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যদিও ড্রাগন ফল গাছে তেমন একটা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয় না। তবে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য যত্ন নিয়মিত নিতে হবে। ড্রাগন ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ। তাই পানি খুব কম দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে। কাটিং লাগানোর পরে টব বা ড্রামটিকে মাটিতে বা ছাদে রৌদ্রোজ্জ্বল জায়গায় রাখতে হবে।

ফল সংগ্রহ: ড্রাগন ফলের কাটিং বা চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছর বয়সেই এর ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল ফোটার ৩৫-৪০ দিনের মধ্যেই ফল পরিপক্ক হয়। তখন ফল সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। প্রতিকেজি ফল বাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে বিক্রি হয়। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায়।

ছাঁটাই: ড্রাগন ফলগাছ খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। তাই ফল আহরণ শেষে গাছের শাখা-প্রশাখা ভালোভাবে ছেঁটে দিতে হয়। শাখা-প্রশাখা ছেঁটে দেওয়ার পর ভালো ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে গাছের রোগবালাই হয় না। আর ছাদ বাগানের প্রতিটি ফল গাছই ছাঁটাই করা জরুরি। এতে রোগাক্রান্ত ডালপালা কমে যায়। আর গাছটির গঠন মজবুত ও সুন্দর হয়। পরবর্তী বছর আরও বেশি ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেখক: উদ্যোক্তা ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

রাজশাহীতে স্বপ্নের মতো করে সাজানো এক দম্পতির ছাদকৃষি

রাজশাহী মহানগরীর মহিষ বাধান এলাকায় সমৃদ্ধ এক ছাদকৃষি গড়ে তুলেছেন শামীম আরা ও শিহাবউদ্দিন দম্পতি। স্বপ্নের মতো করে তারা সাজিয়েছেন নিজেদের প্রিয় ওই অঙ্গনকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

যাত্রাবাড়িতে জহিরুল কবির ও ডালিয়া কবির দম্পতির ছাদকৃষি

যাত্রাবাড়িতে জহিরুল কবির ও ডালিয়া কবির দম্পতির ছাদকৃষি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
এক পলকে পুরো ছাদ গ্রামটি

ঢাকা: গ্রামের কথা মনে পড়লেই স্মৃতির ক্যানভাসে ভেসে উঠে সবুজ-শ্যামল, শান্ত, ছায়াঘেরা, মনোরম পরিবেশ। খাল, বিল, আর পুকুরে পদ্ম ফুল। গাছে গাছে পাখিদের কোলাহল। 

বন্দে আলী মিয়া কবিতায় যেমনটা বলছিলেন ‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান, আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

ফুল-ফলসহ বিভিন্ন গাছপালায় নিবিড় ছায়াঘেরা একেকটি গ্রাম। শহুরে জীবনে এমন চিত্র দেখা দুষ্কর। 

সেই চিত্রটিই বাড়ির ছাদে ফুটিয়ে তুলেছেন রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর কাফরুল থানার বাসিন্দা মিরাজ মিজু ও কাজল দম্পতি। 

মিরাজ মিজু পেশায় সাংবাদিক, কাজল ব্যাংকার। আপাদমস্তক ব্যস্ত এ দুই মানুষ তাদের বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো গ্রাম।

কী নেই তাদের বাড়ির ছাদে। ফুল-ফলের নানা প্রজাতির গাছ, বিভিন্ন রকমের পাখি এবং ছাদ পুকুরে নানা রংয়ের মাছ। বাড়ির ছাদটি যেন গ্রামীণ ক্যানভাস। আর সে কারণেই আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা তাদের ছাদে আসেন ছবি তুলতে এবং সময় কাটাতে। 

গৃহকর্তী কাজল জানালেন, তাদের বাড়ির আসলে ওভাবে কোনো নাম নেই। তবে তার দেওয়া একটি নামটা হলো ‘গ্রিন স্টেশন’। বাড়িটা মূলত টিনশেড। একটা অংশে দোতলা। ওই অংশেই তাদের বসবাস। বাগানের সম্পূর্ণ রূপ তৈরি হতে মোটামুটি দুই বছরের মতো সময় লেগেছে। আর ছাদপুকুর হতে লেগেছে ছয় মাসের মতো।

ফুল-ফল গাছের সমাহার

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’

ছাদটা দুইটা অংশ নিয়ে। একটা নিচে আরেকটা ওপরে। নিচের ছাদে আছে গাছ আর পাখি। এই অংশে এলেই যে কারোর মন জুড়িয়ে যাবে। সবুজ শ্যামল আবহ যেকোনো মানুষের মনকে আকৃষ্ট করবে। গ্রামের কথা মনে পড়লে এখানে এলে গ্রামের আবহ পুরোটাই মিলবে। 

এখানে রয়েছে ডালিম, করমচা, কামরাঙা, আমড়া, জাহটিকাবা (ব্রাজিলের একটা ফল), লেবু, কমলা, জাম্বুরা, রামভুটান, তুলসী, পুদিনা, পেয়ারা, সাজনা, নয়নতারা, বাগানবিলাশ, বেলি, হাজারি গোলাপ, ক্যাকটাস, হাসনাহেনা, ট্যাঙ্গ ফল, কাঠগোলাপ, ইউফোরবিয়া, ম্যান্টেভিলা, আলমান্ডাসহ নানা প্রজাতির ফুল-ফলের গাছ।

কাজল বলেন, মিজুর গাছ-পাখি ও মাছ এগুলোর প্রতি অনেক দুর্বলতা। ও চায় ওর চারপাশটা থাকবে সবুজ, যতটুকু সম্ভব গ্রামের ফ্লেভার থাকবে। তাই দিনরাত পরিশ্রম করে এগুলো করেছে।

ছাদ পুকুর

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’

ছাদ পুকুরে এ ধারণাটা বলতে গেলে অভিনব। এখনো ঠিক এভাবে প্রচলন হয়ে উঠেনি। যেভাব ছোট্ট ছোট্ট পুকুরগুলো তৈরি করা হয়েছে দেখলে মনে হবে যেন গ্রামের পুকুরই। পুকুরে রয়েছে কচুরিপানাসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদও। শখের এ উদ্যোগটা এখন আয়ও দিচ্ছে। ছোট্ট পুকুরগুলোতে চাষ হচ্ছে অ্যাকুরিয়ামের নানা জাতের দামী মাছ। 

কাজল জানালেন, বাড়তি পাওনা হিসেবে এখন ছাদপুকুরের মাছ বাইরে বিক্রি হচ্ছে। স্বামী মিজুর সময়টা সারাদিন ভালোই কেটে যায় এগুলো নিয়ে। সারাক্ষণ কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকেই।
কাজল আরও জানালেন, পুকুরের যে অংশটা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সেটার খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। যে অংশটা প্লাস্টিকের ড্রামে সেটার খরচ পড়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মাছ কেনার খরচ আলাদা। মাছে ইনভেস্ট হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে ২/৩ মাস ধরে। মাসে এভারেজে প্রায় ১০ হাজার টাকা মাছ বিক্রি হয় এখন। পরিস্থিতি ভালো হলে বিক্রি বাড়বে আসা করি।

ছাদপুকুর নামে একটি ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ খুলেছেন এই দম্পতি।

পাখিদের কোলাহল

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’

শহুরে জীবনে বাড়ির ছাদে তৈরি করা ছোট্ট এই গ্রামে শুধু ফুল-ফল আর পুকুরে মাছ নয় আছে নানা প্রজাতির পাখিও। দিনভর তাদের কোলাহল আর কিচিরমিচির শুনলে মনে হয়ে যেন গ্রামেই আছেন আপনি। এখানে রয়েছে বাজরিগার, লাভবার্ড, ফিঞ্চ, ককাটিয়েল, কবুতসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখ-পাখালি। 

অনুভূতি

ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’
ছাদটি যেন এক টুকরো ‘গ্রাম’

ছোট্ট এই গ্রামের কারিগর মিরাজ মিজু ও কাজল দম্পতি জানান, অনুভূতি তো চরম ভালো। বিশেষ করে করোনার লকডাউনের এ সময়টাতেও বাসায় থাকতে বোরিং লাগে না মোটেও। বৃষ্টি হলে চারদিক আরও সুন্দর লাগে।

সকাল থেকেই পাখির কিচিরমিচির শুরু হয়ে যায়। আমাদের একটা মোরগ আছে। ওর নাম লালী। ফজরের আজানের পর লালীও ডাকাডাকি শুরু করে। আর যখন কোনো মানুষ বাসায় এসে আমাদের বাগান আর পুকুরের প্রশংসা করে তখন তো আরও ভালো লাগে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদকৃষি পর্ব ৪

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com