আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ছাদকৃষি

বাড়ির ছাদে বাগান করে গৃহিণীর সাফল্য

কখনো কখনো কৃষিও কুটির শিল্প। যাদের ভেতরে থাকে শিল্পের টান, তারা একটু জায়গা পেলেই গড়ে তোলেন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্র। বাসা বা ভবনের ছাদ পরিণত হতে পারে রীতিমত আবাদি ক্ষেত।

বাসা বা যেকোনো ভবনের ছাদও হতে পারে ফল ফসলে পূর্ণ একটি মাঠ। এই আহবান বহুদিনের পুরনো হলেও এমন কাজে যুক্ত মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। এদেরই একজন রাজধানীর ইস্কাটনের সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের বসবাসকারী সুফিয়া আখতার জাহান।

সুফিয়া আখতার জাহান জানান, ‘সরকারি চাকুরির কারণে আমরা বিভিন্ন জায়গায় বদলি হয়েছি। চাঁদপুরে থেকেছি, হাজীগঞ্জ, কুমিল্লা যেখানেই থেকেছি যতটুকু জায়গা পেয়েছি স্বামী-স্ত্রী মিলে বাগান করেছি। একটা লাউগাছ লাগিয়েছি কিছুদিন পর দেখা যাচ্ছে প্রচুর লাউ আসছে।

আমরা সেখানে চাল ধোয়া পানিটা দিচ্ছি, ডাল ধোয়া পানিটা দিচ্ছি। মুলার জন্য আমি তো একবার কুমিল্লায় থার্ড প্রাইজ পেলাম।’

সাত বছর আগে শুরু করা এ বাগানে রয়েছে অর্ধশত প্রজাতির গাছ গাছালি। সবজি ও ফলের পাশাপাশি রয়েছে ঔষধী গাছও। ছোট পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে রাজহাসের খামার।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্মীপুর যখন ছিলাম ওখানে একটা পরিত্যাক্ত বাড়ি ছিলো। সেখানে আমরা মিনি পুকুর করলাম। সেখানে মাছের চাষ করলাম। সেই সঙ্গে যতো সবজি সব আমরা ওখানে করলাম। আমরা হাস পাললাম মুরগি পাললাম।’

ছাদে বাগান করেই এস এ জাহান পেয়েছেন জাতীয় স্বীকৃতি। তার বিশ্বাস, ছাদে বাগান করেই পাল্টে দেয়া যেতে পারে রাজধানী ঢাকা। বাগান বিলাস কিংবা কৃষির প্রতি টান যাই বলা হোক এ উদ্যোগগুলোই ঢাকার বসবাস যোগ্যতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ছাদকৃষি

ছাদেই জমি, ছাদেই চাষ, ছাদচাষিদের বারো মাস

শাহিনুর আক্তার বাজারের লেবু কিনে খান না। তাঁর লেবুগাছটি ফলের ভারে নুয়ে পড়ছে। এ বছর পেয়ারা কিনতে হয়নি তাঁকে। পেঁপেগাছটির প্রায় সারা শরীর আঁকড়ে ফল ধরেছে।

ঢাকায় মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শাহিনুরের ২ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ছাদটি এখন ছোটখাটো খেত অথবা বলতে পারেন নয়া জমানার শূন্যোদ্যান। মৌসুমি ফল, শাকসবজি হয়। ফোটে নানান জাতের দেশি ফুল আর বিদেশি অর্কিড।

সুজলা–সুফলা ছাদ ঘুরে দেখিয়ে কৃষক শাহিনুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে বড় হয়েছি। ছোট থেকেই গাছের প্রতি টান ছিল। আমার সঙ্গে গাছ থাকতেই হবে। গাছের সঙ্গে আমার সময় ভালো কাটে।’

শাহিনুরের খেতে ৩০ প্রজাতিরও বেশি গাছ রয়েছে। চালকুমড়া, বেগুন, পুঁইশাক, লাউ, ধুন্দল ও পেঁপে নিয়মিত হয়। আছে লেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আম, ড্রাগন ফল, সফেদা, মাল্টা, করমচা, জামরুল। বছরে পাঁচ কেজি জামরুল ধরে তাঁর গাছে।

রাজধানীতে জমি নেই, কিন্তু ছাদ আছে লাখ লাখ। উদ্যানবিদ ও কৃষিবিদেরা বলছেন, এখানে ছাদকৃষির সম্ভাবনা অনেক। টাটকা শাকসবজি-ফল, শোভা আর নির্মল বাতাসের লোভে এতে মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।

করোনাকালে আগ্রহটা বেড়েছে। পরিবেশবান্ধব সংগঠন গ্রিন সেভার্স ছাদকৃষি ও বাগানের বিকাশে কাজ করে। এ সময় সংগঠনটির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় ছাদে আবাদের বিষয়ে প্রশ্ন আসা বেড়েছে। অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাগানবাড়িও চাহিদা বাড়ার হিসাব দিচ্ছে।

শাহিনুর যে ভবনে থাকেন, সেটির আরও দুটি ফ্ল্যাটের মালিক এখন ছাদে বাগান করছেন। পাশের ছাদটি সবুজ হয়েছে গত ছয় মাসে। চারদিকে তাকিয়ে আশপাশের অন্য ছাদগুলোতেও প্রচুর গাছ দেখা যায়।

রাজধানীতে অবশ্য পাঁচ-ছয় বছর ধরেই ছাদকৃষির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সরকারি হিসাবে গত বছর পর্যন্ত নগরে আবাদি ছাদের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৭৫। আর হাল নাগাদ গ্রিন সেভার্স ৬ হাজারের বেশি ছাদকৃষির সঙ্গে কাজ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘নগর কৃষি উৎপাদন সহায়ক’ একটি দিশারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হবে।

প্রকল্পের পরিচালক তাহেরুল ইসলাম বললেন, আগ্রহী নাগরিকেরা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তা নিতে পারেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পরিবেশকে ভালো রাখা দরকার এবং নগর কৃষি নিয়ে সরকার ভাবছে।’

ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ছাদকৃষিসহ গাছের বিষয়ে নানান পরামর্শ দিয়ে থাকে গ্রিন সেভার্স। সংগঠনটির গাছের ডাক্তার, ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক এবং গাছের হাসপাতালও আছে। এ সংগঠন কাজ শুরু করেছিল ২০০৯-১০ সালে।

প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৩–১৪ সাল থেকে মানুষের মধ্যে ছাদবাগানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ছাদকৃষি এখন মানুষের আড্ডারও বিষয়।’ ফেসবুকে বেশ কিছু গ্রুপ গড়ে উঠেছে। সদস্যরা নিজেদের বাগানের ছবি তুলে শেয়ার করেন। অন্যকে উৎসাহিত করেন।

কোভিডের কালে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে গত জুলাই মাসে ছাদকৃষি শুরু করেছেন ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহসিনা হক। বাড়িটি তাঁর নিজের। ছাদে লেবু, আম, মাল্টা, ডুমুর, আমড়া, পেয়ারা ও কমলা লাগিয়েছেন। চিচিঙ্গা, লাউ, পুঁইশাক, করলাসহ সবজি ফলে। আছে নানান জাতের ফুল।

মোহসিনা ও তাঁর স্বামী চিকিৎসক খন্দকার হামিদুল হক কৃষি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। মাটি, আটটি টব, আটটি ড্রাম, কিছু সার এবং গাছ বাড়িতে পৌঁছে যায়। একজন কৃষি কর্মকর্তা এসে তদারকি করে যান। মাঝেমধ্যেই ফোন করে খোঁজখবর নেন।

মোহসিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে বাসায় থাকতে থাকতে বোর হয়ে যাচ্ছিলাম। তখন মনে হলো, বাগান করলে কেমন হয়? ছাদ তো আছেই।’

ছাদে আবাদ করতে গিয়ে পরিবারটি অনেক নতুন আনন্দের খোঁজ পেয়েছে। সবাই মিলে গাছের যত্ন নেন। বিকেলে চায়ের আড্ডা জমে ওঠে ছাদে।

বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে মাটি, সার, গাছ, টবসহ ছাদে বাগান আর কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে। দুই বছর বয়সী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন প্রথম আলোকে বলছেন, করোনাকালে বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে। তিনি জানান, এযাবৎ তাঁরা ছাদে আবাদ, বারান্দায় বাগান, গাছ দিয়ে আঙিনা-ভবনের পরিবেশ সাজানোর মতো ৪৬৫টি কাজে সেবা জুগিয়েছেন। প্রায় অর্ধেকই ছিল ছাদকৃষি-সংক্রান্ত কাজ।

ছাদের সুরক্ষা?

মোহাম্মদপুরের যে বাসায় শাহিনুর আক্তার থাকেন, তাঁর মালিকানা তিনিসহ চারজনের। তিনি বাগান শুরু করেছিলেন ২০১২ সালে। দুই বছর হলো পুরোদমে তাঁর ছাদকৃষি চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তিনি নিজেই ছাদের দেখভাল করেন।

জালোওয়াশান আখতার খান বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া করা ফ্ল্যাটে থাকেন। বছরখানেক আগে ছাদে বেগুন, টমেটো, পুঁইশাক আর লাউ লাগিয়েছিলেন। কিছুদিন পর বাড়িওয়ালা বললেন, এসব করা যাবে না, ছাদ নষ্ট হবে।

জালোওয়াশান বাধ্য হয়ে সব গাছ বারান্দায় নামালেন। তারপর একবার ছাদে মাচা বেঁধে তাতে করলা, চালকুমড়া আর ধুন্দলের লতা তুলেছিলেন। বাড়িওয়ালা এসে সেগুলোও সরাতে বলেন। তৈরি গাছ বারান্দায় নিয়ে দড়িতে বাইয়েছিলেন জালোওয়াশান। বাঁচেনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলছেন, ছাদে পানি জমতে না দিলে চাষাবাদ বা বাগান ছাদের ক্ষতি করবে না। পানিনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর বৃষ্টিতে বা রোদে ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এমনিতেও সমস্যা হয় না।

এই স্থপতি বললেন, নব্বইয়ের দশকের পরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে। ছাদ নির্মাণে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। তা মানলে ছাদগুলো ছাদকৃষি বা বাগান করার উপযোগী মজবুত হয়।

গ্রিন সেভার্স যে ৬ হাজার গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করেছে, কেউ ছাদ নষ্ট হওয়ার কথা বলেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আহসান রনি বলেন, গাছ থাকলে বরং ছাদের উপকার হয়। সরাসরি সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি পড়ে না। আর টবের মাটির কারণে তেমন ভার পড়ে না।

কৃষি এবং ছাদে চাষাবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ। তিনি বলছেন, কেউ কেউ ডেঙ্গু মশা হওয়ার ভয় করেন। সেটা ভুল। অব্যবহৃত ছাদে বরং পানি জমে থাকে। খেত-বাগান থাকলে নিয়মিত নজরদারি আর পরিচ্ছন্নতার সুযোগ বাড়ে।

ছাদবাগান থেকে ছাদকৃষি

শাইখ সিরাজ বলছেন, ১৯৮০ সাল থেকে ছাদে কাজি পেয়ারার গাছ লাগানো দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তখন শহুরে মানুষ শখে ছাদে হয়তো ফুলগাছ লাগাত। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘তখন এটাকে ছাদবাগান বলতাম। এখন এটাকে ছাদকৃষি বলছি।’

মানুষ টাটকা এবং রাসায়নিকমুক্ত সবজি-ফল চায়। ছাদে লেবু-মরিচগাছ লাগানো শুরু হলো। বাগান হয়ে উঠল খেত। এখন সরকার আর সিটি করপোরেশন আগ্রহ দেখাচ্ছে। শাইখ সিরাজ বলেন, সরকার সহায়ক নীতি করে এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ছাদকৃষি-সংক্রান্ত প্রকল্পটির পরিচালক তাহেরুল ইসলাম বলছেন, ‘সবুজের সঙ্গে থাকলে মন ভালো থাকে।’ ছাদকৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিলেই হয়। ঢাকায় ১৪ লাখের মতো ছাদ আছে। এর কিছু অংশও কাজে লাগলে মানুষ ও পরিবেশ উপকৃত হবে।

নগরীর দুই সিটি করপোরেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রচারণা করছে, ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে। গত মাসে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এর একটি নীতিমালা করা হবে।

মেয়র আরও বলেছেন, পরিবেশ আর কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীদের নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। যাঁরা ছাদবাগান করবেন, তাঁদের এই কমিটি সনদ দেবে। দুই সিটি করপোরেশনে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কাজের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছাদকৃষি করবেন?

রাজধানীর অনেক রাস্তার ধারে গাছ লাগানোর কেজো আর শৌখিন পাত্র পাওয়া যায়। অনলাইনেও গাছ আর নানা ধরনের সরঞ্জাম প্রচুর বিক্রি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে নার্সারি।

আগারগাঁও এলাকায় শাহ আলমের অরণ্য নার্সারি। তিনি ২২ বছর ধরে এই ব্যবসায় আছেন। বললেন, ৫ থেকে ৭ বছর ধরে মানুষ ছাদবাগানের জন্য গাছে নিচ্ছে বেশি। তিনি নিজেও মৌসুমি সবজি আর বড় ড্রাম বা পাত্রে হওয়া ফলের গাছ বেশি রাখছেন।

ছাদকৃষক হওয়ার এখনই সময়! ছাদে সবজিটা ভালো হয়, দ্রুত ফলন হয়। মানুষ তাই সবজি চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কয়েক বছরেই ফলন হয়, এমন ফলের গাছ অনেক আছে। ছাদকৃষকের জন্য তা সুখবর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে এর ওয়েবসাইটে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনে অনুষ্ঠান আর বিভিন্ন ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

ছাদকৃষির জন্য গ্রিন সেভার্সের কিছু পরামর্শ আছে। পর্যাপ্ত রোদ পায়, এমন জায়গা বাছতে হবে। পানির সরবরাহ ভালো থাকা চাই।

টব বা ড্রাম মেঝে থেকে সামান্য উঁচুতে বসাতে হবে। ঘেঁষাঘেঁষি বসাবেন না। প্লাস্টিকের ড্রামে প্রচুর গ্যাস হয়। মোটা টিনের ড্রাম ভালো করে রং করে নিন। সবজি বুনবেন টুকরো খেত বা বেড তৈরি করে।

ফলসহ গাছ কিনবেন না। নার্সারিতে ফলন দেওয়া গাছের বয়স বেশি থাকে। বাড়িতে নিয়ে এলে বেশি দিন আর ফল দেবে না।

সচরাচর তিন বছর বয়স থেকে একটি গাছের ফলন ভালো হয়। ফল দেয় সাত থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত। সুতরাং একটু ছোট গাছ কিনুন।

গাছে বেশি পানি দেবেন না। পানির পরিমাণ এমন হবে, যেন ৩০ মিনিটের মধ্যে মাটি তা শুষে নিতে পারে।

মাটির যত্নে বিশেষ মনোযোগ চাই। দরকারমতো সার দিতে হবে। নিয়মিত নিড়ানি দিতে হবে। শিকড় পর্যন্ত খাবার পৌঁছাতে মাটি আলগা করে দিতে হয়।

পোকা বা রোগে আক্রান্ত পাতা বা ফল ফেলে দিতে হবে। তাহলে সেগুলো ছড়িয়ে পড়বে না। বিষ না দেওয়া ভালো।

মোহাম্মদপুরের ছাদচাষি শাহিনুর ইউটিউব, অনলাইন ঘেঁটে পরামর্শ নেন। তিনি বাজারের সার, কীটনাশক দেন না। সবজি, ফলের খোসা ও ডিমের খোলা থেকে সার তৈরি করেন। নিম, অ্যালোভেরা দিয়ে প্রতিষেধক বানান। প্রয়োজনে গ্রিন সেভার্স থেকে গাছের ডাক্তার ডাকেন।

ইট-কংক্রিটের এই ঘনবসতি শহরে গরম বাড়ছে। করোনা–বিরতির পর বাতাসের দূষণ লাফিয়ে ফিরে আসছে। ছাদে খেত থাকলে তার নিচের তলা অনেকটা শীতল থাকে। সবুজের ছায়া আর কিছুটা নির্মল বাতাস হয়।

এ ছাড়া ছাদে আবাদ থাকলে পাখি আসে, বললেন শাইখ সিরাজ। এই শহর থেকে পাখিরা হারিয়ে যাচ্ছে। ছাদগুলো সবুজ হলে তারাও হয়তো ফিরবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

নজর কেড়েছে খাইরুল-দিলরুবা দম্পতির ছাদকৃষি

ছোট বেলা থেকেই তার গাছ লাগানোর প্রতি ঝোঁক। বৃক্ষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। ভালো লাগা থেকেই সাতক্ষীরা সদরের নিজ বাড়ির ছাদে ফুল, ফল ও সবজির সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ছাদ কৃষি। স্বামীর সংসারে গিয়েও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বদলীজনিত চাকরি হওয়ায় টবে করেই ছাদ কৃষিতে বিপ্লব করেছেন সাতক্ষীরার মেয়ে দিলরুবা আলম।  যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই টবের উপর ছাদ কৃষি করে সবার নজর কাড়ছেন তিনি। তার স্বামী মো. খাইরুল আলম বরিশাল মেটোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর)। সেই সূত্রে বরিশালের ভাড়া বাসার ছাদে ড্রাগন, আম গাছ, জাম গাছ, পেয়ারা গাছ, আনারস, আঙ্গুর, আঁখ, লেবু,

বেগুন, চাল কুমরা, লাল শাক, পুদিনা পাতা, ধনেপাতা, বনসাই, বাঁশ, ওষুধী গাছ এলবেরা ও তুলসী পাতা সহ নানা ফল, সবজী ও ঔষধী বাগান গড়ে তুলেছেন দিলরুবা আলম। তার বাগানে রয়েছে বাহারী নাইট কুইন, ক্যাকটাসসহ প্রায় ৬২ প্রজাতির ফুল গাছের সমারোহ। পুলিশ কর্তা স্বামী যখন ডিউটিতে থাকেন সেই সময় ছাদকৃষির পরিচর্যা করেই সময় কাটে দিলরুবার। তার এই কাজে রয়েছে স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। তার অনুপেরনায় যেখানেই বদলী হয়ে যান সেখানেই গড়ে তোলেন ছাদ কৃষি।   খাইরুল আলম জানান, লকডাউনের সময় ছাদ বাগান থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশীরভাগ শাক-সবজির যোগান দিয়েছেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যদেরও তাদের বাগানের শাক সবজি দিয়েছেন। দিলরুবা আলম জানান, শৈশব থেকেই বাবার বাড়িতে সখের বসে গাছ লাগাতেন তিনি। গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করে তিনি আনন্দ পান। স্বামী তার এই কাজে উৎসাহ দেন এবং তার সাথে গাছের পরিচর্যা করে তাকে সহযোগীতা করায় তারা যৌথভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, ঔষধী ও সবজির বাগান গড়ে

তুলতে পেরেছেন।  দিলরুবার মতে ছাদে ড্রাগন চাষ করা খুব সহজ। তিনি ছাদে ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন। প্রায়ই ফল ঘরে তুলছেন। সোনার মাটি কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকের যেখানে সম্ভব সেখানেই কৃষি গড়ে তোলা উচিত বলে পরামর্শ দেন ছাদ কৃষিতে সফল দিলরুবা।  খাইরুল-দিলরুবা দম্পত্তি ভাড়া থাকেন নগরীর আলেকান্দা পলিটেকনিক সড়কের বাসিন্দা সাবেক পৌর কমিশনার আলমগীর হোসেন আলোর ৪ তলা ভবনের চতুর্থ তলায়। মালিকের অনুমতি নিয়েই তিনি চতুর্থ চলার ছাদে কৃষি গড়ে তুলেছেন।  বাড়ির মালিক বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, তার স্ত্রী সন্তান কেউ দেশে থাকে না। তার বাড়ি এক প্রকার খালী ছিলো। সেখানে ডিসি খাইরুল দম্পতি নিজেদের মতো করে তার বাড়িতে থাকছেন। তিনি তাদের ভাড়াটিয়া মনে করেন না। তিনি নিজে যেখানে ছাদে কৃষি করতে পারেননি, সেখানে তারা কয়েক বছরের জন্য এসে তার ছাদে কৃষি করায় তিনি বরং গর্বিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

বাড়ির ছাদে কৃষি অনুরাগী দম্পতির স্বপ্নপূরণ

বাসভবনের ছাদকে আবাদি ক্ষেতে পরিণত করার ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে রাজধানীর আদাবর এলাকার এবিএম ছিদ্দিক ও আনোয়ার শারমীন দম্পতির।

বাড়ির ছাদের বাগানই পূর্ণ করেছে তাদের কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকার স্বপ্ন। কৃষিতেই সমৃদ্ধি এই শিক্ষা তারা পেয়েছেন জীবন থেকেই। বাল্যকালের আবেগমাখা কৃষি অনুরাগ পেশাজীবনে দাঁড়িয়েছে বাস্তবমুখী আর মহৎ কাজ হিসেবে। তাই রাজধানীর জীবন যন্ত্রিকতার ভেতরও কৃষিকে তারা বেঁধে রেখেছেন জীবনের সঙ্গে।

ছাদ কৃষি উদ্যোক্তা আনোয়ারা শারমীন বলেন, ‘আমার ফলের গাছ আছে, পাতা বাহার আছে, পেয়ারার গাছ আছে। ২০০৩ সাল থেকে আমি ছয় হাজার গাছ লাগাইছি।’

সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যুক্ত থেকে অবসর নিয়েছেন এবিএম সিদ্দিক। আনোয়ার শারমীন এখনও যুক্ত রয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানেই।

তাদের স্বপ্নের বাসভবন আদাবর পিসি কালচার এলাকার ১৪ নম্বর বাড়ি। ১৯৯৭ সালে নির্মাণের সময়ই ভাবা হয় ছয় তালা ভবনের ছাদটি হবে পরিপূর্ণ কৃষিক্ষেত। তার কয়েক বছর পর থেকেই ৬০ রকমের ফুল, ফল আর সবজিতে ভরপুর ছাদটি প্রতিদিন এই পরিবারে পৌঁছে দেয় বিষমুক্ত খাদ্য উপকরণ আর নিশ্চিয়তা দেয় বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসের।

আনোয়ারা শারমীন আরো বলেন, ‘যদি আপনার ছাদে গাছ থাকে যা আমি বললাম আমার সোসাইটি এখানে বারোশ বাড়ীঘর। সেই বারোশ বাড়ী ঘরে যদি ২০টি করে টব হয় ঐ গাছগুলো কতোগুলো অক্সিজেন ছাড়বে। এখনতো আমরা অক্সিজেন স্বল্পটায় ভুগছি।’

সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কী দায়িত্ব থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারা বলেন, ‘সরকার যদি নিয়ম করে দেয় যে আপনার বাড়িতে আপনি ৫০টি টব রাখবেন নিয়মানুযায়ী।’

এবিএম সিদ্দিক বলেন, বাগান করাতে একেবারে ৬ তালাতে মানুষ থাকার জন্য ভিড় পড়ে যায়। কারণ এখানে সে বাতাসটাও পায় আবার একেবারে ঠাণ্ডাও থাকে। এই ছাদ এখন হয়ে উঠছে আশপাশের অধিবাসীদের স্বপ্ন ক্ষেত্র।

এখান থেকে ছাদ বাগানের ধারণা পৌঁছে যাচ্ছে অনেক প্রতিবেশির ছাদেও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

পনের বছর ছাদ-কৃষি সাজাচ্ছেন শামসুল

ছাদে বাগান শুধু সৌখিনতা নয় থাকতে হয় কৃষির প্রতি গভীর মমত্ববোধ। এই মমতাই ফল, ফুল, সবজি বা ঔষধি যাই বলি, সব গাছকেই দিতে পারে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার নিশ্চয়তা। ২ হাজার ২’শ বর্গফুটের এই ছাদটি চট্টগ্রামের ছাদকৃষি উদ্যোক্তা শামসুল আলমের। আয়তনে খুব বড় না হলেও সঠিক পরিকল্পনার কারণে কৃষির এই আয়োজনটি বেশ সমৃদ্ধ।

সারাটি বছর এখানে আকর্ষণ সৃষ্টি করে থাকে বড় বাহারি ডালিয়া ফুল। এর বাইরে মৌসুমী ফল ও সবজির সমারোহ তো রয়েছেই। বাগানের তরতাজা মরিচ, থোকা থোকা টমেটো ছাড়াও আকৃষ্ট হতে হয় সবুজের অপরূপ হাতছানিতে।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ হিলভিউ’র ছাদকৃষি উদ্যোক্তা শামসুল আলম বলেন, নিজের বাগান থেকে তরতাজা সবজি খাচ্ছি মনে হচ্ছে, মনের তৃপ্তি মিশিয়ে পরিবারের সবাই খায়। তাই বলি যাদের সার্মথ্য আছে তারা অবশ্যই ছাদ কৃষি করতে পারে। যে করবে তারই সুবিধা বেশি। ফরমালিন মুক্ত সবজি, ফলমূল পরিবারের সবাইকে খাওয়াতে পারবে। কারণ বাজার থেকে যা আনছি সেবতো ফরমালিনে ভরা।

শামসুল আলম একদিকে প্রকৃতিপ্রেমী, অন্যদিকে কৃষি অনুরাগীও। পারিবারিক উপযোগিতা, সৌন্দর্য্য আর প্রয়োজনকে মাথায় রেখেই তিনি ছাদের গাছ নির্বাচন করেছেন। রোপন থেকে শুরু করে ছাদকৃষির প্রতিটি বিষয়েই তার রয়েছে সরাসরি তত্বাবধান। বলা যায়, এটি তার কৃষিচর্চার এক দারুণ ক্ষেত্র।

শামসুল আলম বলেন, সকাল বেলায় পরিচর্যা শুরু করি। অফিসে গেলে ছেলেকে বলে যাই দেখাশুনা করতে।আবার অফিস থেকেই ফিরে এখানে চলে আসি।

পরিবারের সবার মধ্যেই কৃষির প্রতি অনুরাগ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন শামসুল আলম। নাতি সামি অনেক সময় নানার সঙ্গে ছাদে এসে মজার সময় কাটায়। সেও ইতোমধ্যে এই ছাদকৃষি থেকে অনেক কিছু শিখেছে।

শামসুল আলমের নাতি সামি বলেন, খুব আনন্দ লাগে একেক ধরণের ফুল-সবজি কিভাবে রোপন করতে হয় কিভাবে সংরক্ষণ করতে তা দেখতে।

টাকা দিয়ে জীবনের সব চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হলেও ছাদ-কৃষির এই আয়োজন যেন ভিন্ন কিছুর যোগান দেয়। এ পর্যন্ত যারা ছাদে ফল ফুল সবজির এমন সমারোহ গড়েছেন তাদের সবারই উদ্দেশ্য একই রকম বলেও মনে করেন ছাদকৃষি উদ্যোক্তা শামসুল আলম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

গোলাপ চারার প্রেম থেকে সফল ছাদ কৃষি

ছোটবেলা থেকেই সবুজের প্রতি টান অবসরপ্রাপ্ত বিমা কর্মকর্তা আবুল আজহার কামরুজ্জামানের। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে সুযোগ হয়নি সবুজের সঙ্গে মিশে থাকার। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০০৩ সালে ঢাকার গুলশান ১ এর ১১৬ নম্বর রোডের ৪৪বি ছ’তলা ভবনটি গড়ে তোলেন তিনি।

বাড়িটি নির্মাণের সময়ই তার মনে জেগে ওঠে সবুজের সঙ্গে থাকার স্বপ্ন-সাধ। বাড়ির ছাদে দুটি গোলাপ গাছ লাগাতেই ফিরে পান কৃষির প্রতি টান।

‘আমি যখন ২০০৩-এ এই বাড়িটা করি, তখন দু’টো গোলাপ ফুলের গাছ লাগাই। সেই গোলাপ ফুলের আকর্ষণটাই আমাকে এই বাগান পর্যন্ত এনেছে,’ বলেন এ এ কামরুজ্জামান, ‘প্রতিদিনই এখান থেকে ২ কেজির মতো ফুলফল পাই।’

এখন ২ হাজার ৪’শ স্কয়ার ফিটের এই ছাদ দু’স্তরে প্রায় শতাধিক প্রজাতির গাছপালা শাক সবজিতে শোভিত হয়ে আছে। ইজিপশিয়ান ডুমুর থেকে দেশীয় কলা – সবই উৎপাদন হচ্ছে এখানে। বেদানা, সজনে, লাউ, লেবু, সরিষা, পালং, বারোমাসি আমড়া, ড্রাগন, বেগুন, নিম, লেটুসপাতা, আনারসসহ অসংখ্য ফল-ফসলে ছেয়ে আছে ছাদটি। যা দেখে বোঝাই যায় না এটি নগরের কোনো অভিজাত পল্লী। যেনো এক টুকরো উর্বর কৃষিক্ষেত্র।

প্রতি মৌসুমেই এখানে উৎপাদন হচ্ছে নানারকম বিষমুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি। যা দিয়ে মিটে যাচ্ছে পরিবারের দরকারি কৃষিপণ্য চাহিদা।

ছাদের ঠিক নিচের তলায়ই পরিবারসহ থাকেন এ এ কামরুজ্জামান। জানান, ছাদে এই বাগানের কারণে নিচে তার বাসা আগের চেয়ে অনেক ঠাণ্ডা থাকে। অনেক অক্সিজেন পান এই ছাদ কৃষির কারণে।

(ডানদিক থেকে: এ এ কামরুজ্জামান, শাইখ সিরাজ, কামরুজ্জামানের ভাগ্নী কানিজ রসুল ফারুকি)

জনাব কামরুজ্জামান সারাটি জীবন ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতার ভেতর কাটিয়ে এখন অবসর জীবনে এসে খোঁজেন শান্ত শীতল পরিবেশ। সেক্ষেত্রে এই ছাদ কৃষিই এখন তার মূল ঠিকানা। এই সবুজ প্রকৃতি প্রতিদিন তাকে দেয় নতুন প্রাণশক্তি।

কৃষির টানে নিয়মিত ছাদে ছুটে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের কাছেও ছাদটি প্রিয় এক ক্ষেত্র। তারাও এখন বুঝে গেছে যে, নগর জীবনে পরিবেশ রক্ষা ও বাসার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছাদকৃষি এখন সময়োপোযোগী উদ্যোগ।

কামরুজ্জামান এখন আর আগের মত ছাদ-কৃষির সব কাজে অংশ নিতে পারেন না। তার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন দুজন কর্মী। তারাও কৃষির বিভিন্ন কৌশলের সঙ্গে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পেরেছে।

ছাদ কৃষি কৌশল গতানুগতিক চাষ কৌশল থেকে একটু আলাদা। এখানে মাটি, পানিসহ সবকিছু একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় হতে হবে। অর্থাৎ সীমিত পরিসরে সীমিত উপকরণ দিয়েই সবকিছু উৎপাদন করতে হয়। এর জন্য দরকার হয় বিজ্ঞানসম্মত জানা-বোঝা।

বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে ও সম্প্রসারণ করতে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু বেসরকারি সংগঠন। যারা আগ্রহীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকে। কামরুজ্জামানের ছাদ কৃষিতে সহযোগিতা করেছিলেন এমন একজন সংগঠক গোলাম হায়দার।

বাংলাদেশ গ্রীন রূফ মুভমেন্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার জানান, এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো অনুপ্রেরণা দেয়া, মানুষকে বোঝানো যেনো ছাদটাকে খালি ফেলে না রেখে যে কোনো ধরণের বাগান করেন। ‘আমরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেই সবজি ও ফলের বাগান করায়।’ কী ধরণের টবে, কেমন আয়োজনে করবে বা ছাদটি কেমন বাগানের জন্য বেশি উপযোগী – এসব পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন তারা।

ছাদকৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান এখন মনেপ্রাণে কৃষিকে লালন করেন। তার ভাষায় গাছও তাকে ভালবাসার ছোয়ায় সব কথা বলে দেয়। অবসর জীবনে এ এক অদ্ভুত সঙ্গ। যা জীবনকে সজিব ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

বর্তমানে অনেকেই নিকটতম নার্সারিতে যোগাযোগ করে চারা, টব ইত্যাদি কিনে স্থাপন করছেন বাসার ছাদ ও বারান্দায়। নার্সারি বাণিজ্যেরও কিছুটা প্রসার ঘটছে। এক্ষেত্রে নার্সারি মালিকসহ ছাদ কৃষির উপকরণ বিক্রেতাদেরকে অবশ্যই ফল, সবজি ও ফুলের চারার সুস্থতার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

একইভাবে প্রতিটি ফল, ফুল ও সবজির জাত, গুণাগুণ এবং পরিচর্যা কৌশল সম্পর্কে নিজে ভালোভাবে জেনে অন্যকে ধারণা দিতে হবে। কারণ, সঠিক তথ্যের অভাবে ছোট পরিসরে ছাদকৃষির উদ্যোগ নিয়ে বিফল হওয়ার আশংকা থেকে যায়। তাই ছাদ কৃষি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা অনেক বেশি জরুরি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com