আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়

৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়
৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়
৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়

ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকেই বিলুপ্ত প্রায় শরিফা চাষে সফলতা পেয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের ব্যাংকার বাহাউদ্দীন। থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে শরিফা ফল। বাতাসে দোল খাচ্ছে সেই সাথে দোল খাচ্ছে বাগান মালিকের স্বপ্ন। সুস্বাদু ও বেহেশতি ফল হিসেবে পরিচিত শরিফা চাষে লাভবান হয়েছেন তিনি। আট বিঘা জমিতে বাগান করে প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা আয় করেন তিনি। তার এই সফলতা এলাকার তরুণ যুবকদের শরিফা বাগান করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যাংকার বাহাউদ্দীন। শখেরবশে ব্যতিক্রমি কিছু করার চিন্তা নিয়েই বছর চারেক আগে মাত্র দুই বিঘা জমিতে শরিফার বাগান করেন। স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে তা রোপণ করেন। প্রথম বছর খরচ করেন মাত্র ২০ হাজার টাকা। পরের বছর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। সে বছর শরিফা স্থানীয় ফল বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আয় করেন ৪০ হাজার টাকা। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি লাভবান হওয়ায় আরো ৬ বিঘা জমিতে শরিফা বাগান করেন। এ বছর তিনি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পেয়েছেন তিন লাখ টাকা। অনুকুল আবহাওয়া, নিজের অদম্য পরিশ্রম এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি শরিফা বাগান করে লাভবান হয়েছেন।

বাগান মালিক বাহাউদ্দীন জানান, আগে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পাওয়া যেত সুস্বাদু ফল শরিফা। এখন কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ফল। এখন কেউ এ ফলের গাছ রোপণ করেন না। বিলুপ্তপ্রায় এ ফলের গাছ ধরে রাখা ও বাণিজ্যিক প্রয়াস নিয়েই তিনি বাগান করেছেন।

স্বল্প খরচ আর অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভবান হওয়ায় স্থানীয় চাষি ও তরুণরা শরিফা বাগানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা পরামর্শ নিচ্ছেন বাগান করার জন্য।

৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়
৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়

গাংনীর ভিটাপাড়ার কলেজ শিক্ষক রফিকুল আলম জানান, তিনি শরিফা চাষে সফলতার গল্প শুনেই পরামর্শ নিচ্ছেন বাগান করার। ইতোমধ্যে দুই বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন। বীজও সংগ্রহ করছেন। রফিকুল আলমের মতো অনেকেই বাহাউদ্দীন ও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন শরিফা বাগান করার জন্য।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আ. রহমান জানান, মেওয়া বা শরিফা ফল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। নিজের হাতে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজার ও ঢাকায় পাঠানো হয়। অনলাইনেও এর বেচাকেনা হয়। বাগান থেকে ২৫০ টাকা দরে কিনে সাড়ে চারশ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে লাভ হয় বেশি। একই কথা জানান ফল ব্যবসায়ী লিটন মিয়াও।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম সাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, শরিফা একটি বিলুপ্তপ্রায় সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। বাহাউদ্দীন এর বাগান করেছেন। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই বাগান করার আগ্রহ ব্যক্ত করে পরামর্শ চাচ্ছেন। এ ফল আবাদে খরচ কম। রোগবালাই একেবারে নেই বললেই চলে। অথচ লাভ অনেক বেশি। কৃষি অফিস সব সময় চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে। এ ফল আবাদে সম্প্রসারণ ঘটলে পুষ্টির চাহিদা অনেকখানি পূর্ণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

লালমনিরহাটে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল

লালমনিরহাটে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল
লালমনিরহাটে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আমেরিকার জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল ড্রাগন। শখের বাগানে ফুল ও ফল আসায় উৎসুক জনতা ভিড়ছেন ড্রাগন বাগান দেখতে।

জেলার আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আবু তালেব। ফরিদপুরের একটি বে-সরকারি ফার্মে চাকরি করেন।ফার্মটি পরিদর্শনে আসা বিদেশি মেহমানদের জন্য ফার্মের মালিক ড্রাগন ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন। সেখানে ড্রাগনের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হয় তার। সেই থেকে এ পুষ্টিকর ফলের বাগান করার আগ্রহ দেখা দেয়। ব্যয়বহুল হলেও নিজের পরিবার ও প্রতিবেশিদের জন্য ড্রাগন কিনে নিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন যুবক আবু তালেব। এরপর পরিবারের দুই ভাইয়ের সহযোগিতায় ড্রাগন বাগান করার উদ্যোগ নেন। পুষ্টিগুণের কারণে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ড্রাগন ফল। কাণ্ড থেকে পাতাহীন ড্রাগন গাছ জন্মায়।

বড় কমলাবাড়ি বটতলা এলাকায় গতবছর নিজেদের ৬৫ শতাংশ জমিতে পাঁচ শতাধিক পিলারে ২০ হাজার চারা রোপণ করে তৈরি করেন ড্রাগন বাগান। নাটোর জেলা থেকে ড্রাগন ফলের চারা ক্রয় করেন তারা। দেড় বছর বয়সে ফল দেওয়ার কথা থাকলেও তা ১০-১১ মাসেই ফল দেওয়া শুরু করেছে। বিদেশি এ ফল ও বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ভিড় জমায় আবু তালেবের ড্রাগন বাগানে।

আবু তালেবের ভাই আব্দুল্লা বাংলানিউজকে জানান, প্রথম দিকে জমি ভাল করে কর্ষণ দিয়ে নির্দিষ্ট দূরুত্বে গর্ত করে জৈব ও কীটনাশক সার দিয়ে গর্ত ঢেকে রাখা হয়। এরপর প্রতিটি গর্তে পাঁচ ফিট উচু একটি করে সিমেন্টের আরসি পিলার বসানো হয়। যে পিলারে দাঁড়াবে ড্রাগন গাছ। এরপর প্রতিটি পিলারের চার দিকে একটি করে মোট চারটি ড্রাগন চারা রোপণ করা হয়। এরপর পরিচর্যা করে গাছ পাঁচ ফিট লম্বা হলে সেখানে ঝুলে থাকার জন্য প্রতিটি পিলারের মাথায় গাড়ির টায়ার বেঁধে দিতে হয়। টায়ার পর্যন্ত গাছ উঠে গেলে গাছের আগা ভেঙে দিতে হয়। তবে অনেকগুলো শাখা প্রশাখা তৈরি হবে। প্রতিটি শাখা প্রশাখার ডাটায় ফুল ও ফল আসবে। আস্তে আস্তে শাখা প্রশাখায় ঢেকে নেবে পুরো এলাকা। এভাবে একবার চারা রোপণ করে আজীবন  পাওয়া যায় ড্রাগন ফল। তাদের বাগানের বয়স মাত্র ১০-১১ মাস। এতেই ফল এসেছে। একটি গাছে অসংখ্য ফল আসে। প্রতি চারটি ড্রাগনের ওজন হবে এক কেজি।

আবু তালেবের বড় ভাই আবুল হাশেম বাংলানিউজকে বলেন, তাদের এ বাগান তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা। তবে প্রথমে খরচ হলেও পরবর্তীতে শুধুই পরিচর্যা। পরিচর্যা করলে সারা জীবন ড্রাগন ফল পাওয়া যাবে এ বাগান থেকে। প্রথম দিকে বাগান ফাঁকা থাকে। তাই ড্রাগনের সাথী ফসলের চাষ করা যায়। তারা সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের সব্জি চাষ করেন। বর্তমানে ড্রাগনের সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে কাঁচা মরিচ। সবজি চাষাদের আয়েই পরিবারের খরচ যোগানো যায়। ড্রাগন ফল হবে মুনাফা। যা সারা জীবন আয় করা যাবে। এলাকায় প্রথম হিসেবে দূর-দূরান্ত থেকে ড্রাগন ফল ও বাগান দেখতে প্রতিদিন মানুষজন ভিড় করে। যারা আসে তাদের সবাইকে বাগান করার উৎসাহ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।  

বড় কমলাবাড়ি গ্রামের রেজাউল করিম রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণ থাকায় এ ফলের দেশে চাহিদা অনেক বেড়েছে। তাই জেলার সৌখিন কৃষকেরা এ বাগান দেখতে আসছেন এবং নিজেরাও ড্রাগন বাগান করার কৌশল জেনে নিচ্ছেন। আগুন্তুকদের অনেকেই বাগান করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সে অনুযায়ী আগামীতে জেলায় ড্রাগন চাষ বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  

কমলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আলাল বাংলানিউজকে বলেন, শখের করা ড্রাগন বাগানটি এখন ওই পরিবারের একটি আয়ের মাধ্যম হতে চলেছে। এখন অনেক আগ্রহী কৃষক ড্রাগন চাষ করার কৌশল জানতে ওই বাগানে আসেন।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলীনুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ড্রাগন খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। শখের বসে হলেও আবু তালেবের ড্রাগন বাগানটি বাণিজ্যিক। সৌখিন কৃষকরা নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাড়ির পাশে দু’চারটি করে ড্রাগন গাছ লাগাতে পারেন। সেই লক্ষ্যে কৃষিবিভাগ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ জেলায় ব্যাপকভাবে ড্রাগন চাষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দেশে প্রথম আনার চাষ, সফল চুয়াডাঙ্গার মোকাররম

দেশে প্রথম আনার চাষ, সফল চুয়াডাঙ্গার মোকাররম
দেশে প্রথম আনার চাষ, সফল চুয়াডাঙ্গার মোকাররম

চুয়াডাঙ্গা: দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আনার চাষ শুরু হয়েছে। আমদানি নির্ভর এ ফলের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গায়। 

এর আগে, বেশ কয়েকবার এ ফলের চাষ করেও ব্যর্থ হয় অনেক চাষি। তবে এবার বিদেশি এ ফল চাষ করে সফল হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার চাষি মোকাররম হোসেন।চারা রোপণের দুই বছর পর ফল উৎপাদন এবং তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। বিদেশি এ ফলের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত দেশের এই বৃহত আনার বাগানটি।

ভিটামিন সমৃদ্ধ আমদানি নির্ভর একটি ফল আনার। প্রতিদিন চীন, ভারত, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে শতশত টন ফল বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয়। তবে এবার দেশেই প্রথমবারের মত চাষ হচ্ছে আনার। চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মোকাররম হোসেন দুই বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেন এ বিদেশি ফলের। ইতোমধ্যে ফলে ফুলে ভরিয়ে তুলেছেন গোটা আনার বাগান। চলতি মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাগান থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফল বিক্রিও শুরু হয়েছে।  

কৃষি উদ্যোক্তা ও আনার চাষি মোকাররম হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আনার মূলত ভারতের একটি জাত। বাংলাদেশে বেদেনার তুলনায় মাপ ও স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে আনারে। ইউটিউবের মাধ্যমে এ জাতের গুনাগুন দেখে আগ্রহী হই। তারপর ভারতের একটি কৃষি ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের পরামর্শ মতোই বাগান শুরু করেছি। গত দুই বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে এক হাজার পিস চারা রোপণের কাজ শুরু করি। এরমধ্যে ৮০০ গাছ বেড়ে উঠতে শুরু করে এবং চলতি বছরের মাঝামাঝিতে তা থেকে ফল উৎপাদন শুরু হয়।  

আনার বাগান তৈরিতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। বাজার ভালো থাকলে এ বছর ফল বিক্রি হবে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার। এছাড়া গাছের চারা থেকেও বৃহত অর্থ উপার্জনের ভাবনা আছে।  

দেশের প্রথম বাণিজ্যিক এই আনার বাগানটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন ভারতের একটি আধুনিক কৃষি ফার্মের একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ। ভারত মহারাষ্ট্রের কৃষি ফার্ম সয়েল চার্জার টেকনোলজির কৃষিবিদ হারসাল মুখেকরের মতে, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া আনার চাষের জন্য বেশ কঠিন ছিল। সেই কঠিন কাজটি সহজ করতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে হয়েছে। এখন বাণিজ্যকভাবে ফল বিক্রিও শুরু হয়েছে এ বাগান থেকে। যেটা তারা সফল বলে দাবি করছে।

দেশের প্রথম আনারের বাগান। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাগানটির ইতিকথা ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ কারণে আনার বাগান দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতশত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন বাগানটিতে।

বাগান দর্শনার্থী শাহ আলম আলো বাংলানিউজকে বলেন, ইউটিউব ও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এ বাগানের সফলতার গল্প শুনেছি। সেই আগ্রহ থেকেই বাগানটি দেখতে এসেছি। চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সফলতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করছে।  

স্থানীয় ও বাগানে কর্মরত আব্দুল আলীম বাংলানিউজকে বলেন, রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামটি মূলত একেবারে ভারত সীমান্তঘেষা। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আগে মাদক কারবারসহ চোরাচালানির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু আনার বাগানটি হওয়াতে অনেকেই এসব অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে বাগানটিতে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এখান থেকে উপার্জিত অর্থে জীবিকা-নির্বাহ করছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান বাংলানিউজকে বলেন, বাগানটির শুরু থেকে নানা সময় পরামর্শ দিয়ে কৃষি বিভাগ তার পাশে ছিল। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়া আনার বাগানটির উদ্যোক্তা শতভাগ সফল হলে দেশে ফলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে ক্রয়মূল্যও ভোক্তার হাতের নাগালে থাকবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সরবরাহ বাড়লেই ভাসমান বাজারে কমে আমড়ার দাম

সরবরাহ বাড়লেই ভাসমান বাজারে কমে আমড়ার দাম
সরবরাহ বাড়লেই ভাসমান বাজারে কমে আমড়ার দাম

ঝালকাঠি: নদী আর খালে বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ছোঁয়া লেগেছে বহু বছর আগে। একই জমিতে নানা ধরনের ফসল ফলানো, নালা কেটে মাছ চাষ ও ফসল ফলানো এবং ভাসমান ধাপে সবজির চাষ এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।

এসব কারণে এরইমধ্যে গোটা দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বরিশালের পেয়ারা, আমড়া, লেবু, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা কলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলের।

এবারেও বরিশাল বিভাগের মধ্যে ঝালকাঠি জেলায়, বিশেষ করে সদর উপজেলায় আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাতেও আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তাই পেয়ারার পাশাপাশি প্রতিদিন ঝালকাঠির সদর উপজেলার ভিমরুলি ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানার খালের ভাসমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে আমড়া।

যেখান থেকে নৌ ও সড়ক পথে সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে আমড়া।  

ঝালকাঠির ভিমরুলি গ্রামের পেয়ারা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ার কারণে দিন-দিন ঝালকাঠিতে বেড়ে চলেছে পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাষাবাদ। ঝালকাঠি সদরের ভিমরুলি-নবগ্রাম এলাকার সীমান্তবর্তী বরিশাল সদর, বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাতেও আমড়ার চাষ হচ্ছে। তাই আমড়ার মৌসুমে ঝালকাঠির বিভিন্ন হাটে রমরমা বেচাকেনা চলে।  যারমধ্যে ঝালকাঠির ভিমরুলির ভাসমান হাটটি সবথেকে বড়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো বছর আমড়ার দাম বেশি থাকলে কোনো বছর কমেও যায়। আর এভাবেই মণপ্রতি আমড়া কখনো ১২শ টাকায় আবার কখনো ১৫শ বা তার অধিক টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে ভিমরুলির ভাসমান হাটে। তবে ভরা মৌসুমে আমড়ার দর কিছুটা কমই পাওয়া যায়।

যদিও বাগান মালিকরা বলছেন, পিরোজুপরের নেছারাবাদ, ঝালকাঠি সদর, বরিশাল সদর ও বানারীপাড়া উপজেলাগুলতে বাগানে পেয়ারা, আমড়া, লেবুসহ বহু ধরনের দেশিয় ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। সর্জান পদ্ধতিতে এসব ফলের চাষ করার সুবিধা অনেক। এই ফলের কান্দিতে নানা ধরনের সবজি উৎপন্ন করা হয় বলে চাষিরা কম জায়গায় নানা ধরনের ফল ও শাক সবজির বাগান একত্রে করতে পারে। এতে কম খরচ ও কম জমিতে অধিক লাভবান হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা আমড়া, পেয়ার, পেপে, লেবু, মাল্টাসহ নানা ধরনের সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ফলন ভালো হলে সেবছর দর কিছুটা কমে যায়।

মাটি কেটে কান্দি বানিয়ে সর্জান পদ্ধতিতে চাষ এ অঞ্চলে বহু আগে থেকে হয়ে আসছে জানিয়ে কৃষিবিদ ড. চিত্ত রঞ্জন সরকার জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলে পেয়ারা চাষ খুব লাভজনক হয়ে উঠছে। হালকা বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে পেয়ারা-আমড়া ভালো হয়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পেঁপে চাষে আসাদুরের ভাগ্যবদল

নিজের বাগানে পেঁপেচাষি আসাদুর
নিজের বাগানে পেঁপেচাষি আসাদুর

মৌলভীবাজার: লেবু দিয়ে নিজের কৃষিকাজ শুরু নয়-দশ বছর আগে। ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে অবশেষে সফলতা এসেছে পেঁপেতে। এখন শত-সহস্র ফলবতী পেঁপের সৌন্দর্য হাসিতে হাসছেন শ্রীমঙ্গলের বাণিজ্যিকভাবে সফল পেঁপেচাষি আসাদুর।

রোববার (২৮ জুন) সকালে মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ-ফুট উচ্চতার প্রতিটি গাছেই গুচ্ছাকারে ধরে আছে পেঁপে। হাজার হাজার পেঁপে গাছ।যেদিকে চোখ যায় শুধু পেঁপে আর পেঁপে। ১৫ জন শ্রমিক নিয়মিতভাবে দৈনিক শ্রমসেবা দিয়ে যাচ্ছেন এখানে।

বাংলানিউজকে কৃষক আসাদুর বলেন, ২০১১ সালে প্রথমে আমি লেবু দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। মোটামুটি ভালো লাভ হচ্ছিলো। ২০১৬ সালের দিকে একদিন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমাল পাল আমার বাগান দেখে বলেছিলেন, ‘লেবুতে তো লাভের মুখ দেখতে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে; তার চেয়ে তুমি যদি উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে পেঁপে চাষ করতে পারো তবে সবদিক থেকে তুমি লাভবান হতে পারবে। ’ তার পরামর্শক্রমে এবং অনুপ্রেরণায় নিজের ২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষাবাদ শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, তারপর কিছুদিন পরে আমার পেঁপে গাছগুলোতে যখন ফলন আসা শুরু করে তখন হঠাৎ করে মোজাহিক রোগ আক্রমণ করে। পেঁপে গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। পরে তৎকালীন উপজেলা কৃষি অফিসার সুকল্প দাসের পরামর্শে আক্রান্ত গাছগুলো কেটে ফেলি। এভাবে কেটে ফেলা ২০টি রোগাক্রান্ত পেঁপে গাছে প্রতিটিতে ৪০/৪৫ কেজি করে পেঁপে ছিল। রোগাক্রান্ত গাছগুলো কাটার খবর পেয়ে তখন অজিত কুমার পাল আমার বাগানে ছুটে এসে গাছ না কেটে রোগনির্মূল করার পরামর্শ দেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে পেঁপে ভাইরাস দূর হয়ে গাছগুলো প্রাণে বাঁচে।
নিজের আবাদ প্রসঙ্গে এ কৃষক বলেন, পেঁপেতে লাভের মুখ দেখার পর ২০১৮ সালে ২ বিঘা জমি থেকে ১০ বিঘা জমিতে পেঁপের বাগান করি। তখন প্রায় ২ হাজার ৪শ চারা লাগাই। সে বছর ১২ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করি। খরচ ছিল ৮ লাখ টাকা এবং লাভ হয় ৪ লাখ টাকা।  

২০১৯ সালে লেবু বাগানের ফাঁকে ফাঁকে আরও ১০ বিঘা জমিতে ১ হাজার চারা দিয়ে পেঁপে আবাদ করি। বছর শেষে ৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করি। খরচ ছিল ৩ লাখ টাকা এবং লাভ হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা।  

চলতি বছরের শুরুতে লেবু বাগানের গ্যাপে গ্যাপে নিজের ১০ বিঘা জমিতে ১ হাজার ২ শত চারা রোপণ করেছি। গাছগুলোতে ফল আসা শুরু হয়েছে। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারে বিক্রি করবো।    

পেঁপের ভ্যারাইটি সম্পর্কে কৃষক আসাদুর বলেন, আমি আমার বাগানে সবচেয়ে বেশি লাগিয়েছি ‘রেডলেডি’ পেঁপে। এটি হাইব্রিজ জাতীয়। এটি গোল গোল পেঁপে। তারপর লাগিয়েছি শাহী ইন্ডিয়ান। এই পেঁপে উন্নত, আকারে বড় এবং খেতে সুস্বাদু। আর লাউয়ের মতো লম্বা আকারের পেঁপে হলো ‘শাহীওয়াল’। এটি থাইল্যান্ডের একটি ভ্যারাইটি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমাল পাল বাংলানিউজকে বলেন, পেঁপে চাষাবাদ অন্য সবজি থেকে অধিকতর কঠিন। এটি উৎপাদন স্পর্শকাতর সবজি। তবে আসাদুর প্রবল আগ্রহ আর কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে পেঁপেতে সফলতা লাভ করে নিজে ভাগ্যবদল করেছেন। এলাকায় এখন তিনি অনুকরণীয় কৃষক।

পেঁপে চাষে আগ্রহীদের করণীয় সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমত পেঁপে চাষে উঁচু জমি নির্বাচন; কারণ নিচে পানি জমে গেলে পেঁপে কখনোই হবে না। দ্বিতীয়ত, কৃষকের অধিক আগ্রহ ও কঠিন পরিশ্রম করার ইচ্ছাশক্তি। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে আধুনিক কলাকৌশল ও পরিচর্যা সম্পর্কে আগ্রহ থাকতে হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ যদি তিনি বে-খেয়ালী হন তাহলেই বাগান শেষ। আর কঠিন পরিশ্রম করার ইচ্ছাশক্তি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো আগ্রহী কৃষক স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে পেঁপে চাষ অধিকতর লাভজনক করা সম্ভব বলেও জানান উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমাল পাল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com