আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

চীন

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’
পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

দেশে বাল্ব পেঁয়াজের যথেষ্ট ঘাটতি থাকার কারণে পুরো বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব বারি উৎপাদিত ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’ এর মাধ্যমে। এটি বসতভিটাসহ মাঠ পর্যায়ে সারাবছর চাষ করা সম্ভব। বিদেশি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’ নামক উন্নত জাতটি ২০১৪ সালে মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, বগুড়া কর্তৃক কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য উদ্ভাবন করা হয়।

গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পাতা পেঁয়াজ বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে টবেও চাষ করা যায়। আশা করা হচ্ছে এ জাতের পাতা পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে একদিকে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের পরিবর্তেও এটি ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমেও রোগমুক্ত উন্নত জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, পাতা পেঁয়াজ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলাজাতীয় ফসল। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তা খুবই জনপ্রিয় মসলা। দেশভেদে এর নামের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এটি Japanese bunching onion, Salad onion, Welsh onion, Ceboule ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

পাতা পেঁয়াজের উৎপত্তি স্থান এশিয়ায় (সাইবেরিয়া, চীন)। পাতা পেঁয়াজের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো হলো- জাপান, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, ভারত, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ, আমেরিকা ও সাইবেরিয়া। গুরুত্ব বিবেচনায় জাপানে এ ফসলটি বাল্ব পেঁয়াজের পরে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের বসতভিটায় ব্যাপকভাবে এ পেঁয়াজের চাষ করে। এ প্রজাতির গাছের মূলত দুটি অংশ-সবুজ পাতা ও সাদা মোটা সিউডোস্টেম।

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’
পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

এ জাতীয় পেঁয়াজে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের (Allium cepa L.) মতো বাল্ব উৎপাদন হয় না। তবে সাদা সিউডোস্টেমের গোড়ায় বাল্বের মতো বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। এ প্রজাতির গাছ বহুবর্ষজীবী। বীজ সংগ্রহের পর পুনরায় কুঁশি উৎপাদনের মাধ্যমে রেটুন ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। বীজ বা কুঁশির মাধ্যমে পাতা পেঁয়াজের বংশ বিস্তার হয়। এ ফসলটির কুঁশি উৎপাদনের প্রবণতা খুবই বেশি। এ প্রজাতিটি পার্পল ব্লচসহ বিভিন্ন রোগ সহিঞ্চু/প্রতিরোধী। এর পাতা ও ফুলের দণ্ড ফাঁপা। এর স্বাদ ও গন্ধ প্রায় সাধারণ পেঁয়াজের মতো।

এ প্রজাতির পেঁয়াজে এলাইল সালফাইড নামক উদ্বায়ী পদার্থের কারণেই গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ মসলাটি রন্ধনশালায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর মূল বা হলুদ পাতা ছাড়া ফুলের দণ্ডসহ সব অংশই বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যকে রুচিকর ও সুগন্ধপূর্ণ করে। এটি সালাদ হিসেবে কাঁচা অথবা বিভিন্ন তরকারি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সিদ্ধ করে খাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

চীন

চীনে আবার ‘মহামারির সম্ভাবনাযুক্ত’ নতুন এক ফ্লু ভাইরাস আবিষ্কার

নতুন এই ফ্লু ভাইরাসের সাথে ২০০৯য়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু-র সাদৃশ্য আছে
নতুন এই ফ্লু ভাইরাসের সাথে ২০০৯য়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু-র সাদৃশ্য আছে

বিজ্ঞানীরা চীনে নতুন এক ফ্লু ভাইরাস চিহ্ণিত করেছেন যেটির মহামারিতে রূপ নেবার সম্ভাবনা রয়েছে।

তারা বলছেন এটি জানা গেছে সম্প্রতি, এটি পাওয়া গেছে শূকরের দেহে, কিন্তু এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

গবেষকরা উদ্বিগ্ন এই কারণে যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এভাবে এই ভাইরাস বিশ্ব ব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তারা বলছেন, যদিও অবিলম্বে এই ভাইরাসের এভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা তারা করছেন না, কিন্তু মানুষকে আক্রমণ করার উপযোগী হয়ে ওঠার “সব রকম লক্ষণ” এই ভাইরাসের রয়েছে, যে কারণে এই ভাইরাসকে গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

এই ভাইরাসটিও যেহেতু নতুন, তাই মানুষের এই জীবাণুর বিরুদ্ধে কোন ইমিউনিটিই থাকবে না, থাকলেও তা খুবই অল্পমাত্রায় থাকবে।

প্রসিডিংস অফ দ্যা ন্যাশানাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস সাময়িকীতে এই বিজ্ঞানীরা লিখছেন যে, শূকরের শরীরে এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নেয়া পদক্ষেপ এবং শূকর পালন শিল্পের কর্মীদের নজরদারিতে রাখার প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা উচিত।

বাদুড় থেকে করোনাভাইরস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়
বাদুড় থেকে করোনাভাইরস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়

মহামারির হুমকি

বিশ্ব যখন এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসকে বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বিজ্ঞানীরা খারাপ প্রকৃতির ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, যা রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে বড়ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তার সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বে সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ফ্লু ভাইরাস- সেটি ছিল ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুর প্রার্দুভাব। তবে প্রথমে সোয়াইন ফ্লু যতটা মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ অনেক বয়স্ক মানুষের ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কিছুটা ইমিউনিটি ছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সেটার একটা কারণ সম্ভবত এর আগে অন্য যেসব ফ্লু ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করেছিল তার সাথে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের মিল ছিল।

ওই সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস-এর বৈজ্ঞানিক নাম A/H1N1pdm09 (এ/এইচ১এন১পিডিএম০৯)।

প্রতি বছর ফ্লু-র বিরুদ্ধে যে প্রতিষেধক ভ্যাকসিন মানুষকে দেয়া হয়, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ওষুধও তাতে অন্তর্ভূক্ত থাকে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এখন চীনে নতুন যে ফ্লু ভাইরাস পাওয়া গেছে তার সাথে ২০০৯-এর সোয়াইন ফ্লু-র মিল আছে। তবে এই নতুন ভাইরাস কিছুটা আলাদা।

এই গবেষণার কাজে যুক্ত অধ্যাপক কিন-চোও চ্যাং এবং তার সহকর্মীরা বলছেন, এই ভাইরাস এখনও গুরুতর কোন হুমকি হয়ে ওঠেনি, তবে অবশ্যই এই ভাইরাসকে নজরদারিতে রাখতে হবে।

আশংকার কারণ কতটা?

নতুন ভাইরাসটির নাম গবেষকরা দিয়েছেন জি৪ ইএ এইচ১এন১ (G4 EA H1N1)। মানুষের শ্বাসনালীতে যে কোষ থাকে সেখানে এই ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি করার এবং বেড়ে ওঠার ক্ষমতা আছে।

ভাইরাস ছড়ানোর জন্য যেসব প্রাণীকে সন্দেহ করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে প্যাঙ্গোলিন
ভাইরাস ছড়ানোর জন্য যেসব প্রাণীকে সন্দেহ করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে প্যাঙ্গোলিন

দুহাজার এগার থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যেসব তথ্য আছে সেগুলো পর্যালোচনা করে তারা দেখেছেন, চীনে যারা কসাইখানায় কাজ করে এবং শূকর ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংক্রমণের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে যে ফ্লু ভ্যাকসিন আছে, তা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না বলে দেখা যাচ্ছে। যদিও তারা বলছেন প্রয়োজন হলে এই ভ্যাকসিনকে উপযোগী করে নেয়া সম্ভব।

অধ্যাপক কিন-চোও চ্যাং কাজ করেন ব্রিটেনের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি বিবিসিকে বলেছেন: “এই মুহূর্তে আমাদের সবার দৃষ্টি করোনাভাইরাসের দিকে এবং সেটাই হওয়া উচিত। কিন্তু নতুন এই ভাইরাসও একটা সম্ভাব্য বিপদজনক ভাইরাস। এটার দিক থেকে দৃষ্টি সরানো আমাদের উচিত হবে না।”

নতুন ভাইরাস এই মুহূর্তে সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ালেও, তার বক্তব্য: “এটাকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না।”

তত্ত্বগতভাবে, একটা ফ্লু মহামারি যে কোন সময় আসতে পারে। কিন্তু তার পরেও এধরনের মহামারি বিরল ঘটনা। মহামারি তখনই ঘটে, যখন নতুন ধরনের একটা জীবাণু আত্মপ্রকাশ করে এবং সহজে ও দ্রুত তা একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্লু ভাইরাস যেহেতু অনবরত বদলায়, তাই ফ্লু ভ্যাকসিনও ভাইরাসের সাথে পাল্লা দিয়ে নিয়মিত বদলানো জরুরি। সেভাবেই সাধারণত একটা ভাইরাসের মহামারি হয়ে ওঠা ঠেকানো সম্ভব।

কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জেমস উড বলছেন এই গবেষণার কাজ এটাই আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে আমরা সবসময়ই নতুন জীবাণুর জন্ম নেয়ার ঝুঁকির মধ্যে বাস করছি। খামারের পশুর শরীরেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এধরনের মহামারি হয়ে ওঠার সম্ভাবনাময় ভাইরাস জন্ম নিচ্ছে। আর মানুষকে যেহেতু পশু খামারে কাজ করতে হয়, যেখানে মানুষকে পশুর খুব কাছাকাছি সংস্পর্শের মধ্যে এসে কাজ করতে হয়, তাই এই ভাইরাসগুলো পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ঢোকার আশংকা থেকেই সবসময়ে এধরনের মহামারির একটা বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

ভারত-চীনের সীমান্ত সংঘাতে রাশিয়া কি মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত?

জাপানে ভ্লাদিমির পুতিন, নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিং। জুন, ২০১৯
জাপানে ভ্লাদিমির পুতিন, নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিং। জুন, ২০১৯

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঠিক আট দিনের মাথায় আগামিকাল রাশিয়া, চীন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

তিন দেশের এই বৈঠক অনেক আগে থেকে নির্ধারিত হয়ে থাকলেও লাদাখের সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত তাতে যোগ দিতে খুব একটা রাজি ছিল না, কিন্তু রাশিয়ার অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বৈঠকে আসতে সম্মত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন, ভারত ও চীনের মধ্যেকার সংঘাতে রাশিয়া মধ্যস্থর ভূমিকা পালন করতে খুবই আগ্রহী – আর সে কারণেই এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক বাতিল করেনি।

বস্তুত রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চায়না বা আরআইসি ট্রাইল্যাটারালের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সেই ২০০২ সাল থেকে।

আর চলতি জুন মাসের ২২-২৩ তারিখ নাগাদ সেই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম বৈঠকও হবে বলে আগে থেকেই ঠিক ছিল।

কিন্তু গত সপ্তাহে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত কুড়িজন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর সেই বৈঠকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

সোমবার (২২শে জুন) লাদাখের আকাশে ভারতের ফাইটার জেট
সোমবার (২২শে জুন) লাদাখের আকাশে ভারতের ফাইটার জেট

তবে আরআইসি জোটের বর্তমান চেয়ার রাশিয়া মনে করছে, এই বৈঠক চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে সহায়ক হতে পারে – ফলে মস্কোর অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত দিল্লি এই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগদানের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “রাশিয়াই চেয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের বিজয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরআইসি-র এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হোক।”

“পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই ভার্চুয়াল কনফারেন্সে সামিল হবেন।”

“এই বৈঠকে বৈশ্বিক মহামারির বর্তমান অবস্থা, বিশ্ব নিরাপত্তার সামনে কী কী হুমকি আছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আরআইসি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।”

ভারত-চীন বিরোধে কী হবে রাশিয়ার ভূমিকা?

আরআইসি একটি ত্রিপাক্ষিক ফোরাম হলেও গালওয়ান সংঘাতের মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যু যে আগামিকালের বৈঠকে এড়ানো হবে না – তা অবশ্য পর্যবেক্ষকরা ধরেই নিচ্ছেন।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল

বস্তুত আরআইসি অ্যাক্সিস বা রুশ-চীন-ভারত অক্ষশক্তির সবচেয়ে সরব সমর্থক রাশিয়াই, যাতে এই গোটা অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব খর্ব করা যেতে পারে।

আর সে জন্য জোটের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ থাকাটাও খুব জরুরি।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া কি ভারত ও চীনের সংঘাতে নাক গলাতে চাইবে?

দিল্লিতে রুশ দূতাবাসের উপপ্রধান রোমান বাবুশকিন বলছেন, এলএসি-র পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হলেও রাশিয়া জানে যে এই ধরনের বিরোধ নিরসনের জন্য ভারত ও চীনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা মেকানিজম আছে।

“তা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নানা স্তরে ও বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনার কাঠামো আছে, এমন কী দুদেশের শীর্ষ নেতারাও নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক সামিটে মিলিত হন।”

“কাজেই রাশিয়া আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের দুই বন্ধু দেশ এই বিরোধ নিজেরাই মিটিয়ে ফেলতে পারবে – তবে সেই প্রক্রিয়ায় উৎসাহ দিতে মস্কো সব সময় প্রস্তুত থাকবে!”, বলছেন মি বাবুশকিন।

ভারতের মাটিতে চীন-ভারত সর্বশেষ যৌথ সামরিক মহড়া।
ভারতের মাটিতে চীন-ভারত সর্বশেষ যৌথ সামরিক মহড়া।

তবে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে খুব একটা সরব হতে রাজি নয় সঙ্গত কারণেই।

‘বৈঠক হচ্ছে রাশিয়ার আগ্রহেই’

তবে আরআইসি ফোরামের জন্মলগ্নে যিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন, সেই কানওয়াল সিবাল মনে করেন রাশিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।

মি সিবাল বিবিসিকে বলছিলেন, “রাশিয়া ভীষণভাবে চেয়েছিল এই বৈঠক যাতে ভেস্তে না-যায়।”

“সীমান্ত ইস্যুতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী আর সমর্থন যদিও দুটো আলাদা ব্যাপার, আমি বলব তারা কীভাবে এই সমস্যাকে দেখছে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

“ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে নাকচ করাটা একেবারেই ঠিক নয় – এবং আমি যতটুকু জানতে পারছি, আরআইসির এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে ভারত চীনের সামনে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন রাখতে চাইবে, তবে সেটা কূটনৈতিক শিষ্টাটার মেনেই।”

“এবং রাশিয়া ও চীনের নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা যেরকম, তাতে আপনি রাশিয়াকে অবশ্যই এখানে একটা সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাইবেন”, বলছিলেন কানওয়াল সিবাল।

এই পটভূমিতেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও আজ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে মস্কোর পথে রওনা হয়েছেন – যা কোভিড মহামারির মধ্যে গত তিন মাসে ভারতের কোনও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।

তিনি বুধবার মস্কোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিক্ট্রি প্যারেডের অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন – যে ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে বর্তমান সঙ্কটে ভারতও রাশিয়ার ভূমিকাকে কিছুতেই খাটো করে দেখছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক: প্রয়োজনে ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে’ সীমান্ত নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার মোদীর

এসপ্তাহেই হিমালয় পর্বতমালায় চীন-ভারতের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে দু'দেশের সৈন্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা।
এসপ্তাহেই হিমালয় পর্বতমালায় চীন-ভারতের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে দু’দেশের সৈন্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা।

লাদাখ সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সাথে সংঘাতের জেরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন সদস্য মারা যাওয়ার পর প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে ভারত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন ভারতের সীমান্তের ভেতরে কোনো বিদেশি সৈন্য নেই এবং ভারতের সীমানার ভেতরের কোন অংশের দখলও তারা হারায়নি।

তবে হিমালয়ে বিরোধপূর্ণ সীমান্তে সংঘর্ষের পর কতজন সৈন্য হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি চীন।

দুই দেশের মধ্যে সীমান্তের এই এলাকা ভালভাবে চিহ্ণিত নয়। এই গালওয়ান উপত্যকার আবহাওয়া অত্যন্ত বৈরি, সেই সাথে এর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে।

এলাকাটি যে কোনরকম ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকে, যা স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ আরও কঠিন করে তোলে।

পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দুই দেশ একে অপরের সেনাদের বিরুদ্ধে সীমান্তরেখা অতিক্রম করে সংঘর্ষে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তুলেছে।

ভারত – চীন সেনা সংঘর্ষ: গালওয়ান উপত্যকা বিরোধের কারণ কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ভারত দাবি করেছে লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে হওয়া ঐ সংঘাতে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচার হওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পূর্ণ ইঙ্গিত’ দেয়া হয়েছে, যেন তারা ভারতের সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি বলেন, “পুরো দেশ চীনের পদক্ষেপের ফলে আহত ও ক্ষুদ্ধ হয়েছে। ভারত শান্তি ও বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ধরে রাখা সর্বাগ্রে।”

মি মোদী দাবি করেন যে সোমবারের সংঘর্ষের পর ভারতের সীমানার ভেতরে ‘কেউ অবস্থান করছে না, আর ভারতের কোনো অংশ দখলও করা হয়নি।’

ভারতীয় সেনা বাহিনী বিবিসির কাছে একটি ছবি পাঠিয়ে দাবি করেছে গালওয়ান ভ্যালির সংঘর্ষে চীন এই হাতে তৈরি লোহার রড অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে
ভারতীয় সেনা বাহিনী বিবিসির কাছে একটি ছবি পাঠিয়ে দাবি করেছে গালওয়ান ভ্যালির সংঘর্ষে চীন এই হাতে তৈরি লোহার রড অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে

ওদিকে চীনও জানিয়েছে যে তাদের হেফাজতে কোনো ভারতীয় সৈন্য নেই।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, “আমি যতদূর জানি, চীনের হেফাজতে এই মুহূর্তে কোনো ভারতীয় সেনা নেই।”

তবে ভারতীয় সৈন্যদের আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করনেনি তিনি।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৬ জুনের সংঘাতের পর ভারত সেনাবাহিনীর ৬ জন জাওয়ান ও ৪ জন সেনা কর্মকর্তাকে আটক করে চীন, যাদেরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয়।

ঝাও রিজিয়ান বলেন সোমবার দুই দেশের মধ্যে হওয়া সংঘাতের দায় ভারতের। তিনি যোগ করেন, “চীন ভারতের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং আশা করে যে ভারত দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ নেবে।”

ঐ অঞ্চলে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার না করার শর্তে দুই দেশের মধ্যে ১৯৬৬ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল।

সেই চুক্তির শর্ত মেনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যেখানে ৭৬ জন ভারতীয় সৈন্য আহত হয় বলে খবরে বলা হচ্ছে।

ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক: প্রয়োজনে 'সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে' সীমান্ত নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার মোদীর
ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক: প্রয়োজনে ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে’ সীমান্ত নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার মোদীর

বৃহ্পতিবার একটি পেরেক লাগানো রডের ছবি প্রকাশিত হয়, যেই ধরণের অস্ত্র ঐ সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে বলা হচ্ছে।

ভারতীয় সেনা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসির কাছে এই ছবিটি দিয়ে জানিয়েছে চীন গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে এই অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।

ছবিটি ভারতে টুইটারে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে চীনা বা ভারতীয় কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ছোটখাট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও ৪৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

লাদাখ সীমান্তে হঠাৎ কেন ভারত – চীন সেনা সংঘর্ষ?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

ছবিতে বিশ্বের নানা জায়গায় সূর্যগ্রহণের বিরল দৃশ্য

পশ্চিমা আফ্রিকা, আরব উপত্যকা কিংবা দক্ষিণ এশিয়া- বিশ্বের নানা জায়গার মানুষ উপভোগের সুযোগে পেয়েছে এবারের সূর্যগ্রহণের দৃশ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

চীন-ভারত সামরিক সংঘাত: কার শক্তি কতটা, কোন্‌ দেশ কার পক্ষ নেবে

চীন আর ভারতের সীমান্ত বিরোধ অনেক পুরোনো
চীন আর ভারতের সীমান্ত বিরোধ অনেক পুরোনো

চীন এবং ভারতের মধ্যে বড় ধরণের কনভেনশনাল বা প্রথাগত সম্মুখ লড়াই হয়েছিল একবারই, ১৯৬২ সালে।

কিন্তু ঐ যুদ্ধের পর বিগত দশকগুলোতে এশিয়ার এই দুটি দেশ বিপুল সমরাস্ত্র সম্ভার গড়ে তুলেছে, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে বৈরিতাও বেড়ে চলেছে।

লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে সোমবার রাতে দু‌’পক্ষেই বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যেন হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশংকা কতটা? বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? ভারত বা চীন- কেউই কি আসলে এরকম একটা যুদ্ধ চায়? আর এরকম সংঘাতে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলো কেন উভয় সংকটে পড়বে?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ মাহমুদ আলির সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খান। চীন-ভারত সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ নয়টি প্রশ্ন নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ:

চীন-ভারত সংঘাত কতটা উদ্বেগজনক?

শ্রীনগর-লে জাতীয় মহাসড়াকের পাশে বাংকার নির্মাণ করছে ভারতীয় বাহিনী।
শ্রীনগর-লে জাতীয় মহাসড়াকের পাশে বাংকার নির্মাণ করছে ভারতীয় বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তের তিনটি এলাকাতে চীনা এবং ভারতীয় সৈন্যরা নিজেদের শক্তি জোরদার করেছে। ভারত এবং চীনের মধ্যে যদিও সীমান্ত চিহ্নিতকরণ হয়নি, দু‌’পক্ষের মধ্যে কয়েকবার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছিল যে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, সেটা লংঘন করা হবে না। কেউই বিদ্যমান পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করবেন না। এখন সোমবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে চীনা এবং ভারতীয়, দুপক্ষের বক্তব্য একেবারে পরস্পরবিরোধী। দু’পক্ষই বলছেন যে অন্য পক্ষের সেনাবাহিনী তাদের আগের অবস্থান থেকে সামনে এগিয়ে এসে ভূমি দখল করেছেন এবং এবং সেকারণেই হাতাহাতি-মারামারি হয়েছে। কাজেই পরিস্থিতি একটু ঘোলাটে। দুপক্ষই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছে। কারা যে কোন এলাকায় ঢুকেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে দুপক্ষই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ছেড়ে দিতে একেবারেই রাজি নয় এবং প্রয়োজনবোধে তারা হাতাহাতি করবেন। এবং সেটা তারা করেছেন। তবে গোলাগুলি হয়েছে এমনটা শোনা যায়নি।

এটা কি শুধুই সীমান্ত বিরোধ, নাকি এর পেছনে আরো বড় কিছু আছে?

গত বছর মেঘালয় রাজ্যে ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনী এক যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়।
গত বছর মেঘালয় রাজ্যে ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনী এক যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়।

সেনবাহিনী বা সশস্ত্রবাহিনী যা কিছু করে, তার পেছনে একটা রাজনৈতিক-কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে। বর্তমানে ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বিশ্বজনীন প্রেক্ষাপটে সেটা বেশ বৈরি। বিশ্ব রাজনীতিতে এই দু্‌ই দেশের অবস্থান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। আন্তর্জাতিকভাবে চীনের সেই অর্থে কোন মিত্র নেই। তাদের একটি মিত্রদেশ হচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ধরে বলা যায় ভারতের মিত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সাল হতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ব্যাপারটিও রয়েছে। এই সহযোগিতা গত দুই দশকে অনেক দৃঢ় হয়েছে। ভারত বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সামরিক জোটের অংশগ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বেশ বৈরি হয়ে গেছে, ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতাকে তাই তারা মোটেই পছন্দ করছে না। চীন এবং ভারতের মধ্যে বৈরিতার এরকম একটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত সম্পর্ক ক্রমশ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আলোকে দেখতে গেলে এই সীমান্ত বিরোধ তাদের মধ্যকার শত্রুতার একটি প্রকাশ মাত্র।

চীন-ভারতের এই উত্তেজনা কি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে?

পূর্ব ভারতে স্বতন্ত্র গোর্খা রাজ্যের দাবির পেছনে চীনের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ।
পূর্ব ভারতে স্বতন্ত্র গোর্খা রাজ্যের দাবির পেছনে চীনের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ।

চীন এবং ভারত, দুটি দেশই গত বছর দশেক ধরে তাদের সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে। চীন এটা করেছে তিব্বতে। আর ভারত করেছে দক্ষিণের অরুণাচল প্রদেশে এবং লাদাখ অঞ্চলে। দুটি দেশই এসব জায়গায় রাস্তাঘাট করেছে, বিমান ঘাঁটি বানিয়েছে। রেডার স্টেশন বসিয়েছে। সৈন্য সমাবেশ বৃদ্ধি করেছে। দু’পক্ষই বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। সেখানে সামরিক মহড়াও দিয়েছে দুই দেশ। কাজেই একটা যুদ্ধংদেহী মনোভাব সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেখা যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি চীন এবং ভারত, দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী একটি মনোভাব জোরালো হয়ে উঠেছে। দুটি দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো দেখলে, বিশেষ করে ভারতে, এটা বেশ চোখে পড়বে। সেখানে চীনকে একটি বৈরি দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে অনেক কথা বলা হচ্ছে। চীনের সংবাদমাধ্যমগুলোতে অবশ্য ভারত অতটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও যখনই ভারত সম্পর্কে কথা উঠছে, সেখানে জাতীয়তাবাদী একটা মনোভাব বেশ স্পষ্ট। সুতরাং এটা বলা যায়, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে যে বৈশ্বিক মেরুকরণ, সেখানে ভারত এবং চিনের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব রয়েছে।

দ্বিতীয়ত‍: দুই দেশেই একটা জাতীয়তাবাদী আকাঙ্খা বা চিন্তাধারা বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে।

তৃতীয়ত: যেসব সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী সামনাসামনি মোতায়েন আছে, সেখানে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল।

দিল্লিতে কট্টর ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের চীন-বিরোধী বিক্ষোভ।
দিল্লিতে কট্টর ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের চীন-বিরোধী বিক্ষোভ।

তার মানে কী দুই দেশ সম্মুখ যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে?

দুটি দেশেরই স্বার্থ হচ্ছে যুদ্ধে না জড়ানো। কারণ যুদ্ধ হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশ ব্যাপক হবে। দুটি দেশেরই ক্ষতি হবে। কাজেই দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইছে।

চীন এবং ভারত উভয়েরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দুই দেশের সংঘাতে যদি ক্রমবর্ধমান হারে ভয়ংকর সমরাস্ত্রের ব্যবহার হতে থাকে, দুই দেশই আসলে পরস্পরকে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

কাজেই আমার ধারণা কোন দেশই সেরকম ব্যাপকতর কোন সংঘাতে জড়াতে চায় না। কারণ শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের ফল কী দাঁড়াবে সেটা কেউই এখন পর্যন্ত বলতে পারে না।

দ্বিতীয়ত ভারত এবং চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন ব্যাপক আকার নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী একটা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে কোন দেশই এরকম একটা সম্পর্ক ক্ষুন্ন করতে চাইবে না।

তৃতীয়ত, যুদ্ধ যদি খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ে, সেটা যে ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে সেটা দুপক্ষই বোঝেন। কারণ দুটি দেশই পারমানবিক শক্তিধর। কাজেই তাদের চেষ্টা থাকবে উত্তেজনা কমিয়ে আনার।

কিন্তু ১৯৬২ সালে এরকম সীমান্ত বিরোধ থেকেই তো দুই দেশ প্রথাগত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল?

চীনা সেনা সদস্যদের কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ।
চীনা সেনা সদস্যদের কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ।

১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই অন্যরকম।

১৯৪৭ সালে ভারত সরকার মার্কিন বিমানবাহিনীকে ৬টি বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছিল। এই ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন বাহিনী চীনের ভেতর কমিউনিস্ট বাহিনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এর পাশাপাশি ১৯৫০ সালে যখন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন তিব্বত পুর্নদখল করে, তখন সেখানে একটি গেরিলা গোষ্ঠী চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়। এই গেরিলা গোষ্ঠীকে গোপনে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র মদত যুগিয়েছিল। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই কিন্তু ১৯৬২ সালের যুদ্ধ হয়েছিল।

কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো দুটি দেশের কোনটিই সীমান্তরেখা মেনে নেয়নি। চীনের হিসেব অনুযায়ী অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে সীমান্তরেখা ছিল, তাতে অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের কিছু অংশ তৎকালীন চীন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ব্রিটিশরা যখন ১৯১৩ সালে সিমলা চুক্তি করে একটি সীমান্তরেখা একেঁছিল, ম্যাকমোহন লাইন এবং অন্যান্য লাইন, সেটা চীন কখনো মানেনি। কিন্তু ব্রিটিশদের চিহ্নিত সেই সীমারেখাই ভারত বরাবার দাবি করেছে।

কাজেই দুপক্ষের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু মতবিরোধ মানেই যে যুদ্ধ, তা নয়। যুদ্ধ তখনই হয়, যখন দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের পক্ষে অন্যপক্ষের অবস্থান আর মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তখন যুদ্ধ বাধে।

কিন্তু দুই দেশ যদি সত্যিই যুদ্ধে জড়িয়ে যায়, তখন সামরিক শক্তির দিক থেকে কে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে?

দুটি দেশেরই বিপুল অস্ত্রসম্ভার রয়েছে এবং এসব অস্ত্রশস্ত্র বেশ আধুনিক। গত ২০ বছর ধরে দুটি দেশ শুধু নিজেরাই সমরাস্ত্র তৈরি করেনি, একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানিও করেছে। বিশেষ করে ভারত পরপর পাঁচ বছর বিশ্বের সবচাইতে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশের স্থান দখল করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরায়েল থেকে তারা অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র এনেছে। তারা নিজেরাও বিদেশি প্রযুক্তি এনে নিজেরা অস্ত্র তৈরি করেছে। একইভাবে চীন রাশিয়া থেকে কিছু অস্ত্র কিনেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অস্ত্র তারা এখন নিজেরা উৎপাদন করে ।

কাজেই অত্যাধুনিক অস্ত্র দুপক্ষেরই আছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো গিরিসংকুল পার্বত্য এলাকায় তারা সেইসব অস্ত্র কতটা ব্যবহার করতে পারবে ।

বিমান বহর এবং ক্ষেপণাস্ত্র হয়তো তারা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যাকে আমরা সেনাবাহিনী বলি, যারা মাটিতে যুদ্ধ করে, তারা তাদের গোলন্দাজ, সাঁজোয়া বা ট্যাংক বহর খুব একটা ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে হয়না।

গত কদিন ধরে গণমাধ্যমে, বিশেষ করে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে দুই দেশের সামরিক শক্তির অনেক তুলনামূলক হিসেব দেয়া হচ্ছে। তিব্বত আর শিনজিয়াং অঞ্চলে চীনের কত যুদ্ধবিমান, কত সৈন্য আর ট্যাংক আছে, তার পাশাপাশি ভারতের

সীমান্তবর্তী এলাকায় যে কমান্ডগুলো রয়েছে, সেখানে কত সৈনিক আর সরঞ্জাম আছে।

কিন্তু এ ধরণের অংকের হিসেব আসলে একেবারেই সঠিক নয়। কেননা যার যত সৈন্যই থাকুক, নানা কারণে সব সৈন্য কোন দেশই মোতায়েন করতে পারে না। কারণ যেখানে এই যুদ্ধ হবে, সেখানকার ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেটা কোন দেশের কাছে কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটির জন্য তারা কতটুকু পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে প্রস্তুত, সেটাই আসল প্রশ্ন।

কাজেই কোন সামরিক সংঘাতে এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সামরিক শক্তির চেয়ে।

যদি দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধেই যায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা অন্য ক্ষমতাধর দেশগুলো কে কী ভূমিকা নেবে?

সাম্প্রতিক কালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেমন জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল এবং ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে। ভারতের এসব দেশের সামরিক সহযোগিতা বেশ ঘনিষ্ঠ। কাজেই এসব দেশ হয়তো রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিকভাবে ভারতকে সমর্থন দেবে। অন্যদিকে চীনের সেরকম আন্তর্জাতিক মিত্র নেই। রাশিয়া চীনের বন্ধুরাষ্ট্র, কিন্তু মনে রাখতে হবে অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতেরও ঘনিষ্ঠ মৈত্রী ছিল। ১৯৬২ সালে রাশিয়া কিন্তু চীনের বদলে ভারতকেই সমর্থন করেছিল। কাজেই প্রত্যেকটি দেশ হয়তো এখানে তার নিজের স্বার্থটাকে আগে দেখবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে চীন এবং ভারত, উভয় দেশেরই সুসম্পর্ক আছে। দুই দেশের মধ্যে যদি যুদ্ধ হয়, তখন সরাসরি কোনো পক্ষ নেওয়ার জন্য কি চাপ বাড়বে বাংলাদেশের উপর?

এধরণের একটা চাপ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের ওপর আছে। যেমন ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চীনের সাহায্যে তারা চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করবেন। কিন্তু এই প্রস্তাব যখন বাংলাদেশ চীনের কাছে দেয়, তখন চীন সেটি গ্রহণ করেছিল। এই বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানের চাপের মুখে বাংলাদেশকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে হয়। পরে বাংলাদেশ জাপানের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামে সামুদ্রিক বন্দর নির্মাণ করছে।

এধরণের চাপ কিন্তু বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই অনুভব করছে। এটার মোকাবেলায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে তাদের সাধ্যমত কাজ করে চলেছে। তবে যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি যে বেশ জটিল হয়ে পড়বে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশের অনেক সমরাস্ত্র চীন থেকে এসেছে। বাংলাদেশি সেনা অফিসাররা চীন থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক সম্পর্ক, সামরিক নয়। এখনো পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশ সে পরিমাণ সমরাস্ত্র কেনেনি। কাজেই এটা একটা জটিল সম্পর্ক। অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি- সব দিক দিয়ে।

কাজেই বাংলাদেশের মতো দেশগুলো, চীন এবং ভারত- দুই দেশের সঙ্গেই যাদের এরকম সম্পর্ক, তাদের জন্য বেশ জটিল একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যেমন হটলাইনে দুই দেশের নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। চীন এবং ভারতের বেলায় কি সেরকম কোন মেকানিজম আছে?

এরকম ব্যবস্থা দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আঞ্চলিক অধিনায়ক পর্যায়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এরকম যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে যারা আসলে সিদ্ধান্তগুলো নেবেন, তাদের মধ্যে যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা এখনো আছে বলে মনে হয়না। চীনের নেতা শি জিনপিং যখন সম্প্রতি ভারত সফরে যান, তখন এরকম একটা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব উঠেছিল। তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়েছিল কীনা জানা যায়নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com