আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

চীন

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’
পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

দেশে বাল্ব পেঁয়াজের যথেষ্ট ঘাটতি থাকার কারণে পুরো বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব বারি উৎপাদিত ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’ এর মাধ্যমে। এটি বসতভিটাসহ মাঠ পর্যায়ে সারাবছর চাষ করা সম্ভব। বিদেশি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’ নামক উন্নত জাতটি ২০১৪ সালে মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, বগুড়া কর্তৃক কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য উদ্ভাবন করা হয়।

গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পাতা পেঁয়াজ বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে টবেও চাষ করা যায়। আশা করা হচ্ছে এ জাতের পাতা পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে একদিকে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের পরিবর্তেও এটি ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমেও রোগমুক্ত উন্নত জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, পাতা পেঁয়াজ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলাজাতীয় ফসল। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তা খুবই জনপ্রিয় মসলা। দেশভেদে এর নামের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এটি Japanese bunching onion, Salad onion, Welsh onion, Ceboule ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

পাতা পেঁয়াজের উৎপত্তি স্থান এশিয়ায় (সাইবেরিয়া, চীন)। পাতা পেঁয়াজের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো হলো- জাপান, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, ভারত, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ, আমেরিকা ও সাইবেরিয়া। গুরুত্ব বিবেচনায় জাপানে এ ফসলটি বাল্ব পেঁয়াজের পরে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের বসতভিটায় ব্যাপকভাবে এ পেঁয়াজের চাষ করে। এ প্রজাতির গাছের মূলত দুটি অংশ-সবুজ পাতা ও সাদা মোটা সিউডোস্টেম।

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’
পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে পারে ‘বারি পাতা পেঁয়াজ-১’

এ জাতীয় পেঁয়াজে সাধারণ বাল্ব পেঁয়াজের (Allium cepa L.) মতো বাল্ব উৎপাদন হয় না। তবে সাদা সিউডোস্টেমের গোড়ায় বাল্বের মতো বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। এ প্রজাতির গাছ বহুবর্ষজীবী। বীজ সংগ্রহের পর পুনরায় কুঁশি উৎপাদনের মাধ্যমে রেটুন ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। বীজ বা কুঁশির মাধ্যমে পাতা পেঁয়াজের বংশ বিস্তার হয়। এ ফসলটির কুঁশি উৎপাদনের প্রবণতা খুবই বেশি। এ প্রজাতিটি পার্পল ব্লচসহ বিভিন্ন রোগ সহিঞ্চু/প্রতিরোধী। এর পাতা ও ফুলের দণ্ড ফাঁপা। এর স্বাদ ও গন্ধ প্রায় সাধারণ পেঁয়াজের মতো।

এ প্রজাতির পেঁয়াজে এলাইল সালফাইড নামক উদ্বায়ী পদার্থের কারণেই গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ মসলাটি রন্ধনশালায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর মূল বা হলুদ পাতা ছাড়া ফুলের দণ্ডসহ সব অংশই বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যকে রুচিকর ও সুগন্ধপূর্ণ করে। এটি সালাদ হিসেবে কাঁচা অথবা বিভিন্ন তরকারি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সিদ্ধ করে খাওয়া যায়।

চীন

বাম্পার ফলনেও চীনে খাদ্য অপচয় রোধের চেষ্টা যে কারণে

আমি চীনে আসি ২০১২ সালে, অগাস্টের মাঝামাঝিতে। বিমানবন্দরে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে রিসিভ করেছিলেন চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু কুয়াং ইয়ুয়ে আনন্দি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘মুক্তার কথা’-র মুক্তা। মুক্তার চীনা নাম ছাই ইয়ুয়ে। তাঁরা আমাদেরকে বিমানবন্দর থেকে সোজা নিয়ে এলেন আমাদের নতুন ঠিকানায়। ‘নতুন ঠিকানা’ মানে এক রুমের একটি ফ্ল্যাট। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের খুব কাছেই সেটি।

পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়েছিল, মনে আছে। চীনে সন্ধ্যা মানে ডিনার বা রাতের খাবারের সময়। ম্যাডাম আনন্দি আর মুক্তা আমাদের নিয়ে গেলেন রেস্টুরেন্টে। মেনু দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। কোন খাবারের কী স্বাদ তাও জানি না। খাবার পছন্দের দায়িত্ব তাই চাপিয়ে দিলাম আমার দুই নতুন চীনা সহকর্মীর ওপর। তারা অকৃপণভাবে খাবার অর্ডার করলেন। বেশ কয়েক পদ, পরিমাণও কম নয়। বলা বাহুল্য, চীনা জীবনের প্রথম দিনে আসল চীনা খাবার আমার ও আমার স্ত্রীর মুখে তেমন একটা রুচলো না।

ফলাফল: বেশকিছু খাবার বেঁচে গেল। মনে আছে, মুক্তা বেঁচে-যাওয়া কিছু চিংড়ি প্যাক করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাসায়। ম্যাডাম আমাকেও কিছু খাবার সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। আমি লজ্জায় ‘না’ করি। সেই লজ্জার কথা চিন্তা করলে আমার এখন হাসি পায়। বিগত ৮ বছরে আমি চীনাদের কাছ থেকে নতুন যাকিছু শিখেছি, তার একটি হচ্ছে রেস্টুরেন্টে খাওয়াশেষে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়া। অবশ্য, রেস্টুরেন্টে আমার খুব কমই খাওয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা চীনাদের মধ্যে আজকাল বেড়েছে। সেদিন আমার এক চীনা সহকর্মীকে দেখলাম সকালে ক্যান্টিন থেকে কেনা নাস্তার একটা অংশ বিকেলে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই একগাল হেসে বললেন: ‘খাদ্যের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছি।’ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং খাদ্যের অপচয় রোধ করতে নতুন করে আহ্বান জানানোর পর চীনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এই সচেতনতার কারণেই চীনাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সম্প্রতি চীনে একটি জরিপ চালানো হয়। জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘চায়না ইয়ুথ ডেইলি’-তে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯১.২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাড়ি নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আবার ৩০.৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কমবেশি যা-ই উদ্বৃত্ত থাকুক, বাসায় নিয়ে যান। আর ৬০.৩ শতাংশ বলেছেন, উদ্বৃত্ত খাবার যদি পর্যাপ্ত ও ভালো অবস্থায় থাকে, তবে তাঁরা তা প্যাক করে নিয়ে যান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ মনে করেন, খাদ্য সাশ্রয় করা একটা সদ্গুণ। আর ৮৫.৭ শতাংশ মনে করেন, খাদ্যের অপচয় রোধ করা জীবনমানের আধুনিক ধারণার সঙ্গে মানানসই।

চীনে ‘ফুড ব্যাংক’ কোনো নতুন ধারণা নয়। তবে, প্রেসিডেন্ট সি’র খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বানের পর ফুড ব্যাংকও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীনে প্রথম ‘ফুড ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল শাংহাইয়ে, ২০১৪ সালে। এই ব্যাংক প্রায়-মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে দান হিসেবে গ্রহণ করে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের উদ্বৃত্ত খাদ্যও তারা সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো বিলিয়ে দেয় গরিবদের মাঝে। শুধু খাদ্যের অপচয় রোধ করা বা গরিবদের সাহায্য করাই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, পরিবেশ রক্ষা করাও তাদের কাজের একটা অন্যতম লক্ষ্য।

যাত্রা শুরুর পর এই ব্যাংকের শাখা বিস্তৃত হয়েছে চীনের কমপক্ষে ১১টি প্রদেশ বা প্রদেশ পর্যায়ের অঞ্চলে। বেইজিং, সিছুয়ান, সিনচিয়াং ও লিয়াওনিংয়েও আছে এই ফুড ব্যাংকের শাখা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত এই ফুড ব্যাংক দেশব্যাপী প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের খাদ্য সংগ্রহ করে এবং প্রায় আড়াইশ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। বলা বাহুল্য, ফুড ব্যাংক সংগ্রহ না-করলে, খাবারগুলো নষ্ট হতো।

নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না, তবে ধারণা করি, এই ‘ফুড ব্যাংক’-ও যাত্রা শুরু করেছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি আহ্বানের কারণে। ২০১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানান। কিন্তু তখন সেই আহ্বান তেমন একটা প্রচার পায়নি। তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চলছিল। হতে পারে, এ কারণে খাদ্যের অপচয় রোধের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছিল। আর এ কারণে দেশে-বিদেশে সেটির খুব একটা প্রচারও হয়নি। কিন্তু এবার মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যখন তিনি খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানালেন ও এ ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশনা জারি করলেন, তখন বিষয়টি দেশের ভিতরে ব্যাপক প্রচার পায়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্যের অপচয় রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিশেষ বার্তা প্রচারিত হতে থাকে, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ খাদ্যের অপচয়ের ব্যাপারে আরও সচেতন হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতে থাকে, শুরু হয় ‘চেটেপুটে খাও’ আন্দোলন। চীনে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, আর সেটা পাশ্চাত্যের সমালোচনার দৃষ্টিতে পড়বে না, তা তো হয় না! পাশ্চাত্যের কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন যে, মহামারি ও বন্যার কারণে চীনে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে বা অচিরেই দেবে। আর সেকারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আপাত দৃষ্টিতে কারণটা সহিহ মনে হলেও, বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। চীনে বিগত কয়েক বছরে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে রেকর্ড ৬৬ কোটি ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। আগের ১৫টি বছরও দেশটিতে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে টানা। এমনকি, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়েছে রেকর্ড ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ০.৯ শতাংশ বেশি। এদিকে, চীনে হেমন্তে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় সারা বছরের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশ। যেমনটি পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে হেমন্তেও উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙবে। মোদ্দাকথা, মহামারির এই বছরেও চীনে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, বন্যায় বেশকিছু ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে। কিন্তু সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে চীনের কৃষিখাতের। তাছাড়া, এবারের বন্যা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবিলা করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

এটা ঠিক যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করেও চীনকে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। মহামারির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধে প্রেসিডেন্ট সি’র নির্দেশনার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে। মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এলেও, বাইরের দুনিয়ায় মহামারির তাণ্ডব চলছে। কবে নাগাদ এই তাণ্ডব শেষ হবে বলা মুশকিল। মহামারি যতো দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সরবরাহ চেইনের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে। এ অবস্থায়, খাদ্যের অপচয় রোধ করা, খাদ্যের সাশ্রয় করা, আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি। যথাসম্ভব ভবিষ্যতের আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়।

কিন্তু এটা একমাত্র কারণ নয়। প্রেসিডেন্ট সি ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। হতে পারে, খাদ্যের অভাবসম্পর্কিত তার নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সবসময়ই খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে তাড়িত করে। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে পার্টির কর্মী হিসেবে গরিব গ্রামাঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। তাকে তখন গ্রামের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হতো। তখন কাজের উপর নির্ভর করতো খাবারের পরিমাণ। শুরুতে তিনি নিজে বেশি কাজ করতে পারতেন না। ফলে তার ভাগ্যে কম খাবার জুটতো। তাকে প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হতো। পাশাপাশি, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন গরিব কৃষকদের অভাব-অনটন; দেখেছেন তাদের দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার করুণ দৃশ্য। বোধকরি একারণেই খাদ্যের অপচয় তাকে পীড়া দেয়। সমৃদ্ধ চীনে যখন তিনি দেখেন, চারিদিকে বেশুমার খাদ্য নষ্ট করা হচ্ছে, তখন তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক!

তবে, শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে, তা আমার মনে হয় না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও অন্যতম বড় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার চোখের সামনে আছে বৈশ্বিক চিত্রটাও। এই চিত্রটা কিন্তু মোটেই প্রীতিকর নয়! বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর হিসাব অনুসারে, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট (লস্ট) ও অপচয় হয়, যার আনুমানিক ওজন ১৩০ কোটি টন ও মূল্য এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা ৮৫ লাখ কোটি টাকা (বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি বার্ষিক বাজেটের সমান!)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যে খাদ্য অপচয় হয়, তার মূল্য ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

ইউরোপে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা দিয়ে ২০ কোটি মানুষের এক বছরের ক্ষুধা নিবারণ করা সম্ভব। আর চীনে প্রতিবছর বিভিন্ন রোস্তোরাঁয় যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয়, তার পরিমাণ দেড় থেকে দুই কোটি টন, যা দিয়ে ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষের এক বছরের খাদ্যচাহিদা মিটতে পারে। আর এর বিপরীত চিত্রটা হচ্ছে: বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়। আরেক হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতিদিন ৮ হাজার শিশু মারা যায় স্রেফ পুষ্টিহীনতায়।

এমন নয় যে, খাদ্যের অপচয় রোধ করা গেলে সেসব খাদ্যের সবটুকুই বিশ্বব্যাপী গরিব মানুষগুলোর প্লেটে চলে যাবে। পুরোটা না-হলেও, একটা অংশ তো অবশ্যই যাবে! শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হওয়া খাদ্যের একটা অংশও যদি উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটাও কম না। তা ছাড়া, খাদ্যের অপচয় মানে কিন্তু শুধু না-খেতে পেরে ফেলে দেওয়া নয়! অতিরিক্ত খেয়েও খাদ্যের অপচয় করা হয়। আর অতিরিক্ত খাদ্য মানে অতিরিক্ত ওজন, অতিরিক্ত ওজন মানে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ; আর অসুখ-বিসুখ মানে কাজের দক্ষতা হ্রাস ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি।

এক হিসাব মতে, চীনের ৩০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনদার। যুক্তরাষ্ট্রে তো ওবিসিটি আরেকটি মহামারির মতো। শুনেছি, বাংলাদেশের মতো গরিব দেশেও অতিরিক্ত ওজন সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মুসলিমঅধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যেও এই সমস্যা প্রকট। অথচ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: ‘তোমরা যখন খাবে তখন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য দিয়ে পূর্ণ করবে, এক ভাগ পানি দিয়ে পূর্ণ করবে, এবং বাকি এক ভাগ খালি রাখবে।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘পেটে খানিকটা ক্ষুধা থাকতে খাওয়া বন্ধ কর।’

খাদ্যের অপচয় ও নষ্টের পরিবেশগত মূল্যও কিন্তু কম নয়! এক হিসেব অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর যে-পরিমাণ খাদ্য অপচয় ও নষ্ট হয়, তা উৎপাদন করতে ৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করতে হয়। অন্যভাবে বললে, প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীবাসী নিঃসরণ করে থাকে, তার ৮ শতাংশ নিঃসরণ হয় অপচয় ও নষ্টকৃত খাদ্যের উৎপাদনের সময়।

২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের ডাক দিয়েছিলেন বোধকরি এই বৈশ্বিক চিত্রটাকে সামনে রেখেই। তখন বিষয়টা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। আমি তখন চীনে নতুন এসেছি। এ নিয়ে আলোচনা শুনেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এখন চীনের সর্বত্র এ নিয়ে শুধু আলোচনা চলছে, তা নয়, সমাজের সকল পর্যায়ে চলছে খাদ্য অপচয় রোধে বিভিন্ন চেষ্টা। কিন্তু এই চেষ্টা চলা উচিত বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও খাদ্যের অপচয় হয়; বাংলাদেশেও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা উদ্বৃত্ত খাদ্য সংগ্রহ করে শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতোই গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। এ ধরনের কাজ আরও হওয়া দরকার।

পাশাপাশি, একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে দেশজুড়ে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। না, খাদ্যের অপচয় রোধে শুধু চীনা প্রেসিডেন্টই ডাক দিয়েছেন, তা নয়, ডাক দিয়েছে খোদ জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-ও। সংস্থাটি চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরকে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক খাদ্য নষ্ট ও অপচয়বিরোধী প্রচারণা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেখার বিষয় এই দিবস বিশ্বব্যাপী কতোটা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

চীনের টিকা ট্রায়ালে প্রস্তুত ঢাকার সাত হাসপাতাল

লেখক

চীনের টিকা ট্রায়ালে প্রস্তুত ঢাকার সাত হাসপাতাল
চীনের টিকা ট্রায়ালে প্রস্তুত ঢাকার সাত হাসপাতাল

চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানির করোনা প্রতিরোধী টিকা বাংলাদেশে ট্রায়ালের জোরালো প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর সাতটি হাসপাতাল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে এ টিকার ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ট্রায়ালের নেতৃত্বে থাকা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও চীনের প্রতিনিধি দলের পরামর্শ মেনে সবকিছু করা হচ্ছে। টিকার ট্রায়ালের জন্য হাসপাতালের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। চীনের টিকা দেশে পৌঁছালেই ট্রায়াল শুরু হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই চীনা টিকার ট্রায়াল শুরু করা যাবে। এদিকে ভারতের বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে তাদের টিকার ট্রায়ালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে ভারতের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় সেই টিকার ট্রায়াল হবে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। টিকার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে সরকারের। রাশিয়াও টিকা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, টিকা নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দুটি দেশই বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। যেসব দেশ নিজেরা টিকা উদ্ভাবন করতে পারবে না, তাদের অন্য দেশ থেকে টিকা কিনতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এসব দেশ টিকা সংগ্রহ করতে পারবে। চীন, রাশিয়া ও ভারতের পাশাপাশি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা পাওয়ার প্রক্রিয়ায়ও বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৮ জুলাই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) চীনা টিকার ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআর,বিকে অনুমোদন দেয়। এরপর সরকারিভাবে ২৭ আগস্ট এই টিকা ট্রায়ালের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়। ওই দিনই চীনের টিকা ট্রায়ালের জন্য দেশে আনার অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। চীনের টিকা পৌঁছানোর পর চলতি মাসেই এ ট্রায়াল শুরু হতে পারে। রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে চীনা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। ট্রায়ালের নেতৃত্বে থাকা আইসিডিডিআর,বির একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সংশ্নিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। বিশেষ করে টিকা ট্রায়ালের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সাত হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলে চার হাজার ২শ’র বেশি ব্যক্তির ওপর টিকার ট্রায়াল হবে। এজন্য প্রায় আড়াইশ’ গবেষক ও মাঠকর্মী নিয়োগ করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে।

চীনের টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ও আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে ট্রায়ালের বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রায়ালে টিকা নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে সিনোভ্যাক এক লাখ ১০ হাজার ডোজ বাংলাদেশকে বিনামূল্যে দেবে। একই সঙ্গে টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তিও বাংলাদেশকে সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। যাতে চীনা টিকার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশেও এর উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

চীনা টিকা ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. কে জামান। তিনি সমকালকে বলেন, চীনা টিকা ট্রায়ালের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন টিকার জন্য অপেক্ষা করছি। চলতি মাসেই টিকা আসার কথা রয়েছে। টিকা আসার পরপরই ট্রায়াল শুরু করা যাবে।

ড. কে জামান আরও বলেন, সিনোভ্যাক কোম্পানির টিকাটি প্রথম দুই ধাপে প্রাণীদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে সফলতা পাওয়া গেছে। এরপর ফেইস-১-এ ১৪৪ জনের ওপর এবং ফেইস-২-এ ৬০০ জনের ওপর ট্রায়াল করা হয়েছে। এতে টিকাটি নিরাপদ ও মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রমাণ মিলেছে। ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের এই টিকাটির ট্রায়াল চলছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও চিলিতেও ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানান তিনি।

প্রথম ধাপে যারা পাবেন টিকা: চীনা টিকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) দ্রুততম সময়ে টিকার অনুমোদন দিতে চায়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর পর তারা ছয় মাসও অপেক্ষা করতে চাচ্ছে না। আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা টিকার অনুমোদন দিতে চায়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য নির্ধারিত চার হাজার ২০০ জনের মধ্যে দুই হাজার অংশগ্রহণকারীকে টিকা দেওয়ার পর তিন মাস পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। তাদের তথ্য নিয়ে মধ্যবর্তী ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এই ফলাফল সন্তোষজনক হলেই এফডিএ টিকার অনুমোদন দেবে। এটি জরুরি অনুমোদন। প্রথম দফায় এই টিকা করোনা মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা বিশেষ করে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী পাবে। এর পরের ধাপে অন্যদের দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ড. কে জামান বলেন, ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করে অনুমোদন দিলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সুতরাং পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়ার পর অনুমোদন দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন তিনি। প্রথম দফায় কাদের টিকা পাওয়া উচিত- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে যায় কিংবা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জনসমাগম এলাকায় কাজ করতে হয়, শুরুতে তাদের এই টিকা দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, চীনের টিকার ট্রায়াল সফল হলে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশেও টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো, ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এই টিকা উৎপাদন করতে সক্ষম। এই তিনটি কোম্পানির মধ্যে ইনসেপ্টা ও পপুলার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে টিকা তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অন্য টিকার সর্বশেষ অবস্থা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৭৯টি করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে ১৪৫টি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ৩৪টি ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। ১২ আগস্ট রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় ওই টিকাটি নেই। প্রতিবেশী দেশ ভারত নিজেদের পাশাপাশি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার চুক্তি হয়েছে। ওই টিকা পেতে বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর বাইরে ভারতের বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড তাদের উৎপাদিত টিকা বাংলাদেশে ট্রায়ালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাশিয়া, চীন ও ভারতের বাইরে বিকল্প উপায়ে টিকা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টিকার চাহিদা পূরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) ও কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই) যৌথভাবে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাকসেস বা কোভ্যাক্স নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনামূল্যে, স্বল্পমূল্যে টিকা ক্রয় করে মজুদ করবে এই কোভ্যাক্স। ওই টিকা দরিদ্র দেশগুলোকে বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা হবে। গ্যাভির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশেও ওই টিকা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।

মানসম্পন্ন, সহজলভ্য এবং সুলভ মূল্যের টিকা নিতে চায় বাংলাদেশ: করোনার টিকা পাওয়ার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, টিকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দেখভাল করছেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি চীনের একটি টিকা ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অক্সফোর্ডের টিকারও প্রতিশ্রুতি মিলেছে। চীনের মতো অন্যান্য দেশের টিকারও বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে কিনা এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতের বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত টিকার বাংলাদেশে ট্রায়াল করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের হাইকমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভারতের টিকার ট্রায়ালও শুরু হবে। বিশেষ কোনো টিকার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে জাহিদ মালেক বলেন, টিকার বিষয়ে কোনো একটি দেশের প্রতি আমাদের বিশেষ দুর্বলতা নেই। গুণগত মানসম্পন্ন, সহজলভ্য এবং সুলভ মূল্য- এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করে যে টিকাটি পাওয়া যাবে, সেটিই গ্রহণ করব। কারণ প্রতি ডোজ ৪০ ডলার করে কিনতে হলে ওই টিকা ক্রয় করা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং সার্বিক বিষয় চিন্তা করে দেশের মানুষের জন্য যে টিকাটি ভালো মনে হবে, সেটিই গ্রহণ করব।

টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থের সংকট হবে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে কেউই টিকা পাবে না। তবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর জন্য হয়তো একটু কম মূল্যে টিকা সরবরাহ করা হতে পারে। রাশিয়ার টিকা ১০ থেকে ১৫ ডলার, ফাইজারের টিকা ১৭ থেকে ৩০ ডলার, মডার্নার টিকা ৩০ থেকে ৪০ ডলার দাম পড়বে বলে শোনা যাচ্ছে। অক্সফোর্ড, ভারত ও চীনের টিকার মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের মোট জনসংখ্যা যদি ১৬ কোটি ধরা হয়, তাহলে ৩২ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন হবে। এই টিকার দাম কত পড়বে তা এখনও আমরা জানি না। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে প্রয়োজন নেই এমন সামগ্রী ক্রয় না করে ওই অর্থও টিকার জন্য রাখা হয়েছে। সুতরাং টিকা ক্রয়ের অর্থ নিয়ে সংকট হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

সবাই মঙ্গলে যেতে মরিয়া কেন?

গত মাসে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে পরিভ্রমণের জন্য ‘আমাল’ নামের একটি যান পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত
গত মাসে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে পরিভ্রমণের জন্য ‘আমাল’ নামের একটি যান পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত

চীন মঙ্গলে যেতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরেই মার্স মিশন নিয়ে আছে। এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিয়েছে মঙ্গলে যাওয়ার মিশন। সম্প্রতি এই তিন দেশই ‘লাল গ্রহে’ যাওয়ার টিকিট কেটেছে। কিন্তু হুট করে কেন সবাই মঙ্গলে যেতে চাইছে? শুধুই কি নিখাদ বিজ্ঞানচর্চা, নাকি এর পেছনে অন্য কিছু আছে?

ওপরের দুই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে কে, কীভাবে মঙ্গলযাত্রার সূচনা করেছে, তার বৃত্তান্ত জানা যাক। শুরুটা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত মাসে প্রথমে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে পরিভ্রমণের জন্য ‘আমাল’ নামের একটি যান পাঠায় দেশটি। জাপান থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এটি মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে।

এর ঠিক চার দিনের মাথায় চীন উৎক্ষেপণ করে ‘তিয়ানওয়েন-১’। মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে এই প্রথম যান পাঠাল সি চিন পিংয়ের দেশ। হাইনান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় যানটি। চীনের প্যাকেজে একটি অরবিটার ও মঙ্গলপৃষ্ঠে চলার মতো উপযোগী একটি রোভার (যান) আছে। অর্থাৎ কক্ষপথে ঘুরে ছবি ও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে এই যান। চীনের এটিই প্রথম মঙ্গল অভিযান।

চীনের সঙ্গে ব্যাপক টক্কর চলছে ট্রাম্পের দেশের। বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে জোর কদমে। একে অন্যের বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার চেষ্টাও করছে। চীন চলে যাচ্ছে মঙ্গলে, যুক্তরাষ্ট্র কি আর বসে থাকতে পারে? তাই নতুন মঙ্গলযান ‘পারসিভের‍্যান্স’ পাঠিয়েছে। এ জন্য দেওয়া হয়েছে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট। বলা হচ্ছে, ছয় পায়ের পারসিভের‍্যান্স মঙ্গলের পাথুরে জমিনে হাঁটতে পারবে স্বচ্ছন্দে। সংগ্রহ করবে নানা ধরনের নমুনা।

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধান শুরু করছেন গবেষকেরা
মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধান শুরু করছেন গবেষকেরা

বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল লক্ষ্যই হলো পৃথিবীর বুকে দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ৫০ বছর উদ্‌যাপন। এ জন্যই পাঠানো হয়েছে মঙ্গলযান। আমালের আকার একটি ছোট গাড়ির মতো। এটি মূলত গ্রহের জলবায়ু নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের তিয়ানওয়েন-১ দেশটির জন্য নতুন উচ্চতায় ওঠার সিঁড়ি। বাণিজ্যযুদ্ধ চলার মধ্যেই এসেছে করোনা মহামারি। এমন পরিস্থিতিতে চীন নিজের মর্যাদা আকাশে তোলার সুযোগ পেয়েছে এই মঙ্গলযান উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। আর এর মধ্য দিয়েই মঙ্গলে যাওয়ার দিক থেকে ‘সিনিয়র’ যুক্তরাষ্ট্র পড়ে গেছে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’তে। তাতে দেশটির সাড়াও দিয়েছে ভালোমতোই। কিন্তু কথা হলো করোনার দাপটে পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন সেটা না সামলে পৃথিবী ছাড়ার দরকার পড়ল কেন?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মহাকাশে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই তড়িঘড়ির পেছনে পৃথিবীতে চলা দ্বন্দ্বই কাজ করছে। আবার বর্তমান বিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে জাতীয়তাবাদের ধুয়া তুলতেও এমন কার্যক্রম ভালো কাজে দেয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতাই এমন কাজে পারদর্শী বেশ।

অবশ্য এর আরেকটি দিকও আছে। এবিসি নিউজের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছেন—এটা ভালো দিক। এতে করে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানই উপকৃত হবে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্পেস পলিসি ইনস্টিটিউটের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন লগসডন বলছেন, সব বিজ্ঞানী একে অন্যের প্রতিযোগী হয়ে উঠছেন—এটি ভালো লক্ষণ। মঙ্গলে একাধিক মিশন চালানো হলে মানুষ লাভবানই হবে।

চীন উৎক্ষেপণ করে ‘তিয়ানওয়েন-১’। মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে এই প্রথম যান পাঠাল সি চিন পিংয়ের দেশ। চীনের পাঠানো অরবিটারের একটি মডেল
চীন উৎক্ষেপণ করে ‘তিয়ানওয়েন-১’। মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে এই প্রথম যান পাঠাল সি চিন পিংয়ের দেশ। চীনের পাঠানো অরবিটারের একটি মডেল

মঙ্গল গ্রহ ও চাঁদের প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক দিনের। পৃথিবীর বিকল্প খোঁজার চেষ্টা তো এক দিনের নয়। মঙ্গল ও চাঁদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাসস্থান নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এ নিয়ে ঢের সায়েন্স ফিকশন গল্পগাথাও রচিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া ও জলবায়ু অনেক আগে পৃথিবীর মতোই ছিল। এ কারণেই অন্য গ্রহে বাসস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে মঙ্গল এগিয়ে আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টেসলার এলন মাস্কের মতো শতকোটিপতিদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ফলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোও মঙ্গল জয়ের প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে।

চীনের চন্দ্র অভিযানের প্রধান বিজ্ঞানী ওউইয়াং জিউয়ান। সম্প্রতি চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই মানুষ স্থানান্তরের জন্য দ্বিতীয় গ্রহ খুঁজছেন। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত পৃথিবীর মনুষ্য প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিকল্প আবাসস্থল গড়ে তোলা। বর্তমানে সম্ভাবনা হিসেবে হাতে আছে কেবল মঙ্গল গ্রহ।

তবে এলন মাস্কের মতো উদ্যোক্তা ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর অন্য গ্রহে মানুষের ‘কলোনি’ তৈরির ক্ষেত্রে সবাই আশাবাদী হচ্ছে না। যারা মঙ্গলে কলোনি স্থাপনের বিষয়ে বেশি আগ্রহী, তারা বলছে, মনুষ্য প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখতেই এটি প্রয়োজন। কিন্তু নিন্দুকেরা বলছে, এভাবে অন্য গ্রহে কলোনি তৈরির দিকে না ঝুঁকে বরং পৃথিবীর বর্তমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় অর্থ খরচ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সমালোচকদের অভিযোগ, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য সমস্যা না রুখে অবিবেচকের মতো অন্য গ্রহে কলোনি তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালার কোনো মানে নেই।

মঙ্গলযান পারসিভের‍্যান্স
মঙ্গলযান পারসিভের‍্যান্স

‘জ্যাকোবিন’ ম্যাগাজিনে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মঙ্গল বা অন্য কোনো গ্রহে মানুষের কলোনি নির্মিত হলে তাতে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হবে না। এটি তৈরিই হবে শুধু ধনী মানুষের জন্য। কারণ, এসব প্রকল্পে অর্থ ঢালছে ধনী ও প্রভাবশালীরা। হয়তো শুরুতে কিছু সাধারণ মানুষকে নেওয়া হবে, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তারা পরিণত হবে প্রজায়। সেটি হবে শুধুই রাজাদের স্বর্গ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মহাকাশে কলোনি নির্মিত হলে সেখানে ব্যক্তির স্বাধীনতাও খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘ডার্ক স্কাইজ: স্পেস এক্সপানশনিসম, প্ল্যানেটারি জিওপলিটিকস অ্যান্ড দ্য এন্ডস অব হিউম্যানিটি’ নামক বইয়ের রচয়িতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ডিউডনি বলছেন, মহাকাশে বসতি স্থাপন ও ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়। নতুন গ্রহে তৈরি কলোনিতে সমষ্টিতে বিলীন হয়ে যাবে ব্যক্তি। সুতরাং ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলে মঙ্গলে ঘরবাড়ি বানানোয় সমর্থন না দেওয়াই ভালো হবে।

শিল্পীর দৃষ্টিতে মঙ্গল গ্রহে রোভার যানের নামার দৃশ্য
শিল্পীর দৃষ্টিতে মঙ্গল গ্রহে রোভার যানের নামার দৃশ্য

মঙ্গলে আদৌ মানুষ বসতি স্থাপন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ভবিষ্যৎই জানাবে মানুষ দ্বিতীয় পৃথিবীর সন্ধান পাবে কি না। তবে এ নিয়ে এখনই যেসব প্রশ্নের তির উঠতে শুরু করেছে, সেগুলোর যৌক্তিক সমাধান করে একটি সম্মিলিত প্রয়াস সৃষ্টি করাও প্রয়োজন। তবেই হয়তো মানুষের মহাকাশ অভিযাত্রা সত্যিকারের সফলতা পাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনা ভাইরাস: চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিলো বাংলাদেশ

চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিলো বাংলাদেশ
চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিলো বাংলাদেশ

চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালাতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঢাকায় ব্রিফিং করে বলেছেন, “আমরা ট্রায়াল করতে দিবো। তবে যারা স্বেচ্ছায় আসবে তাদেরকেই ট্রায়াল করতে দেয়া হবে। আর অগ্রাধিকার পাবে ডাক্তার, নার্সসহ যারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত তারা”।

তিনি বলেন, “আমরা ট্রায়াল চালাতে দিবো। কিন্তু ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেসব দেশ পাবে তার ওপরের দিকেই বাংলাদেশের নাম থাকতে হবে। আর এ সংক্রান্ত খরচও তারা বহন করবেন”।

এর আগে গত ২০শে অগাস্ট করোনাভাইরাসের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাংলাদেশে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিবৃতি দিয়েছিলো বাংলাদেশের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটি তখন বলেছিলো বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই ট্রায়াল বাংলাদেশে চালানো উচিৎ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

আজ ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন ভ্যাকসিন যারাই করুক ট্রায়াল এখানে করতে তো দিতেই হবে এবং ভ্যাকসিনের বিষয়ে সব প্রস্তাব বা অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে চীনের, ভারতের এমনকি অক্সফোর্ডের টিকার বিষয়েও অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন বাংলাদেশে মন্ত্রণালয় ও আইসিডিডিআরবির সহায়তা ট্রায়াল কার্যক্রম চালাবে চীনা কোম্পানি।

“আমরা চীনা কোম্পানি ও রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশে থাকা চীনের নাগরিক ও দূতাবাসের লোকদের ওপরও ট্রায়াল করবে কোম্পানিটি। আমরা তাদের বলেছি যে আপনার ট্রায়ালের ব্যবস্থা করুন,” বলছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চীনা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে আলোচনা করে তারা (বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস) দ্রুত ট্রায়ালের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান তিনি।

ট্রায়াল চালাতে দেয়া উচিত বলে দেয়া বিবৃতিতে যা বলেছিলো জাতীয় পরামর্শক কমিটি

২০শে অগাস্ট দেয়া ওই বিবৃতিতে যেসব প্রতিষ্ঠান বা দেশ টিকার ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে, টিকা বাজারে আসার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়া নিশ্চিত করতে তাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করার সুপারিশ করেছিলো কমিটি।

পাশাপাশি টিকা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ উৎপাদন বা কেনার প্রস্তুতি রাখা, টিকা পাওয়ার পর তা সংরক্ষণ, বিতরণের পরিকল্পনা ঠিক করে রাখা এবং টিকা পাওয়ার পর জনসংখ্যার কারা অগ্রাধিকার পাবে তা এখনই ঠিক করে রাখার আহ্বান জানানো হয় কমিটির সুপারিশে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকটি সংস্থার টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি বাংলাদেশে হলে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি টিকা সফল হিসেবে প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ভ্যাকসিন খুবই দরকার বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ভ্যাকসিন খুবই দরকার বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশের জন্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কতটা জরুরি

সারা বিশ্বের প্রায় দুইশটির মতো কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে।

যার মধ্যে মানবদেহে ট্রায়ালে এগিয়ে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড, চীনের সিনোভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, অস্ট্রেলিয়ার মারডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইন্সটিটিউট। ছয়টি ভ্যাকসিন ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “বাংলাদেশের জন্য একটি ভ্যাকসিন খুবই দরকার কারণ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সবকিছু বন্ধ রেখে মানুষকে ঘরে রাখা খুবই সমস্যার একটি বিষয়। কারণ জীবন টিকিয়ে রাখতে হলে জীবিকাও লাগবে।”

“পৃথিবীর কোন দেশ থেকে কবে এই ভাইরাস চলে যাবে সেটাতো বলা মুশকিল। সংক্রমণ যদি দীর্ঘ দিনের জন্য থাকে তাহলে ভ্যাকসিন দিয়ে যদি এর সংক্রমণে একটা হস্তক্ষেপ করতে পারা যায় তাহলে কিছু জনগোষ্ঠী অন্তত নিরাপদে থাকতে পারলো।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

চীনের দৃষ্টিনন্দন ৫ মসজি‌দ

বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার দেশ চীন। বিশ্ব সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে এ দেশটিতে। রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাও। মুসলমানদের উপাসনালয় মসজিদ আছে এ দেশে। দেখুন চীনের প্রাচীন নজরকাড়া ৫টি মসজিদ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com