আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বায়ু দূষণ আর ধূমপানের মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতিকর?

 বিজ্ঞানীরা বলছেন বায়ু দূষণ আমাদের গড় আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে
বিজ্ঞানীরা বলছেন বায়ু দূষণ আমাদের গড় আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে

ফুসফুসের অসুখ, ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং স্ট্রোক এইসব মারাত্মক রোগের সঙ্গে বায়ু দূষণের সংযোগ রয়েছে। যে কারণে একে ‘নতুন ধরণের ধূমপান’ বলা হচ্ছে।

কিন্তু বায়ু দূষণ আমাদের আয়ুর ঠিক কতটা কেটে ফেলতে পারে?

বিজ্ঞানীদের একটি নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ঘরের বাইরের দূষিত বাতাস আমাদের আয়ু গড়ে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে, যা আগের যেকোনো গবেষণা ফলাফলের চেয়ে বেশি এবং ধূমপানের ফলে যে পরিমাণ আয়ু কমে তার চেয়েও বেশি।

কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধসহ সব ধরণের সংঘাতে পৃথিবীতে প্রতি বছর মানুষের আয়ু যতটা কমে, তার চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি গড় আয়ু কমে বায়ু দূষণের কারণে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ু দূষণের কারণে প্রতিবছর মৃত্যুর হার ধূমপানের ফলে হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে।

এজন্য ২০১৫ সালে মানুষের গড় আয়ু ও মৃত্যুর হার গণনা করেন, এবং তারা দেখতে পেয়েছেন, বায়ু দূষণের কারণে পৃথিবীতে ৮৮ লাখ মানুষ মারা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৮২ লাখের বেশি মানুষ মারা যায় বিশ্ব জুড়ে। এর মধ্যে ৭০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায় সরাসরি সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারের কারণে।

বিশ্ব মহামারী

দূষিত বায়ুর মধ্যে থাকলে একজন মানুষের হৃদরোগ এবং ফুসফুসের অসুখ হবার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া স্বাস্থ্যের ওপর এর অন্য নেতিবাচক প্রভাব তো আছেই।

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৮২ লাখের বেশি মানুষ মারা যায় বিশ্ব জুড়ে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৮২ লাখের বেশি মানুষ মারা যায় বিশ্ব জুড়ে

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক থমাস মুনজেল মনে করেন, তাদের গবেষণা প্রমাণ করে যে এখন বায়ু দূষণের বিশ্ব-মহামারী চলছে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এখন নীতি নির্ধারক এবং চিকিৎসকদের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

“গত কয়েক দশকে ধূমপানের তুলনায় বায়ু দূষণের দিকে অনেক কম মনোযোগ দেয়া হয়েছে।”

অধ্যাপক মুনজেল বলছেন, কেবল জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমন যদি শূন্যে নামিয়ে আনা যেত তাহলে মানুষের গড় আয়ু অন্তত এক বছর বাড়ানো যেত।

আঞ্চলিক ও জাতীয় ক্ষতি

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বায়ু দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবসমূহ জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।

যেমন পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে গড় আয়ু চার বছরের মতো হ্রাস পেয়েছে, যেখানে গড় আয়ু সবচেয়ে কম হ্রাস পেয়েছে ওশেনিয়াতে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বায়ু দূষণের প্রভাব একেক দেশে একেক রকম হয়। আফ্রিকার চাঁদে বায়ু দূষণেরে কারণে গড় আয়ু কমেছে সাত বছরের বেশি, আবার কলম্বিয়াতে কমেছে চার মাসের কিছু বেশি সময়।

মনুষ্যসৃষ্ট নির্গমন

গবেষকেরা মানুষের কারণে হওয়া দূষণ এবং প্রাকৃতিক কারণে হওয়া বায়ু দূষণ – যেমন মরুর লু হাওয়া এবং দাবানলের কারণে হওয়া দূষণ- দুটোই পরীক্ষা করে দেখেছেন।

 বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বয়স্করা থাকেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে
বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বয়স্করা থাকেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে

গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ অকাল মৃত্যুর কারণ যে দূষণ তা মূলত মানুষের সৃষ্টি।

অধ্যাপক মুনজেল বলেন, “এ হার উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তার মানে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর বিশ্ব জুড়ে ৫৫ লাখের মতো মৃত্যু পুরোপুরি এড়ানো যেত যদি বায়ু দূষণ না থাকতো।”

এছাড়া বায়ু দূষণের সঙ্গে ছয় ধরণের রোগ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো রোগের সংযোগ নিরীক্ষা করে দেখেছে বিজ্ঞানীদের এই দলটি।

তারা দেখেছেন, এর মধ্যে হৃদরোগের কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়। এরপরেই রয়েছে ফুসফুসের সংক্রমণ। আর বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বয়স্ক ব্যক্তিরা।

আরেকজন গবেষক হোসে লেলিভেল্ড বলেন, “আমরা যখন বায়ু দূষণের কারণে হওয়া বিভিন্ন রোগের চিত্র দেখছিলাম, আমরা দেখেছি কার্ডিওভাসকুলার অর্থাৎ হৃদরোগের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, যা ধূমপান হৃদপিণ্ডের যে ক্ষতি করে প্রায় তার সমান।”

“বায়ু দূষণ অক্সিডেটিভ চাপ বাড়িয়ে মানুষের হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর ক্ষতি করে, যা পরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক হার্ট-অ্যাটাক এবং হার্ট-ফেলের কারণ হয়ে ওঠে।”

বয়স্ক মানুষ বেশি ঝুঁকিতে

গবেষকেরা দেখেছেন বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বিপদে পড়েন বয়স্ক ব্যক্তিরা। সারা দুনিয়ায় এ কারণে যত মৃত্যু হয় তার ৭৫ শতাংশই ঘটে যাদের বয়স ৬০ এর ওপরে।

গবেষণার ফলাফলের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রোগ-তত্ত্ববিদ স্যামুয়েল চাই বলেছেন, এই গবেষণা প্রমাণ করছে যে বায়ু দূষণ পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যই কতো বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে।

“বায়ু দূষণ যে নতুন ধূমপান এ তো আর গোপন কথা নয়, সুতরাং জনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের এখন এ নিয়ে সিরিয়াস হবার সময় এসেছে।”

এখন বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নীতি তৈরি করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পাঁচ লাখ টন মজুদ থাকার পরও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঁপুনি ধরিয়েছে ক্রেতার পকেটে। গত মাসের শেষ দিকে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা থাকা নিত্যপণ্যটি দাম বেড়ে এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না ক্রেতা। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন দেশে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী তিন মাস চাহিদা মেটানো যাবে।

পেঁয়াজই নয় শুধু, দাম বৃদ্ধির দৌড়ে আছে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ আরও কয়েকটি নিত্যপণ্য। অল্প দিনের ব্যবধানেই দফায় দফায় বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি এক প্রতিবেদনে বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একমাসে প্রায় ১৯.৬৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। একমাসের ভেতর দ্রব্যমূল্যের দাম এর আগে কখনোই এতটা বাড়তে দেখা যায়নি বলেও দাবি সংস্থাটির।

প্রশ্ন উঠেছে, তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও কেন বাড়ছে দাম? যেখানে মধ্য সেপ্টেম্বরেও সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ছিল পেঁয়াজের কেজি সেখানে গত দুই সপ্তাহ ধরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছাড়া মিলছে না নিত্যপণ্যটি। অবশ্য পেঁয়াজের দাম আপাতত আর বাড়বে না বলেই অভয় দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে পেঁয়াজের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সোমবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এক সভায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলতে পারে।’

পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যাতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে।’

যদিও পেঁয়াজের দাম কবে নাগাদ সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব বলতে পারেননি। অবশ্য আরেক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সত্যিই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তাই কথা বলার চেয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা যায় সেদিকে মন দিতে হবে দায়িত্বশীলদের।’

দুদকের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আমরা বারবার বলে আসছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ নিয়ে এমন কিছু হবে এটা অনেকেই আশঙ্কা করেছিল। উচিত ছিল ভারত ছাড়া অন্য উৎসগুলো থেকে আগেভাগে পেঁয়াজ আমদানি নিশ্চিত করা।’

পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস প্রতি বছরই ওঠে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দফায় দফায় বেড়ে তখন পণ্যটির দাম কেজি প্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আমদানি করে সেবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার কারণ নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য, পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে সেই এপ্রিল মাসে, এত দিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। তাই কৃষকেরা সব বিক্রি করে দেন। পেঁয়াজ পচনশীল ও মজুদ রাখার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আর একারণে মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে দাম কমার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ও আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসার পরপরই আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে। এছাড়া বৃষ্টিজনিত কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে।’

পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে সব ধরণের চেষ্টার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত ছাড়া মিয়ানমার থেকে যদি পেঁয়াজ আনা যায়, তাহলে কিন্তু এত প্রেশার (চাপ) পড়ার কথা না। গত বছরের তুলনায় এবছর অন্তত এক লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি হয়েছে।’ শুধু পেঁয়াজ নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ১৭টি পণ্য রয়েছে সেগুলোর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মনিটর করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয় জানিয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। ভারতের বেঙ্গালুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে সেখানকার বাজারে দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, সেটার প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু ভারতের দাম বাড়ার জন্য এবং কিছু আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে ক্যাব চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, মন্ত্রী হয়তো ধারণা করে বলেছেন। যে পেঁয়াজ আছে সেটা তো কৃষকের ঘরে। এখন কৃষক কয় টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে সেটা তার বিষয়। এজন্য বিপদের আগেই স্বল্প মেয়াদে একাধিক উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

চাঁদপুরে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার জালসহ ৩১ জেলে আটক

লেখক

জেলার পদ্মা- মেঘনায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর  নৌ-পুলিশ।  শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলা নৌ-পুলিশের এ অভিযানে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৩১ জেলেকে আটক করা হয়। 
এ অভিযানে  অংশ নেয় নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান। এসময় চারটি ফাঁড়ি এবং একটি থানার পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যোগ দেন। এছাড়া নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত  ছিলেন। 


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজজ্জামান বাসসকে জানান, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ও তার আশপাশের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেশকিছু এলাকায় শনিবার সকাল থেকে  এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানকারী দলটি দেখে জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় আটক ৩১ জেলের জাল থেকে  ৭৫ কেজি মা ইলিশ, ৮টি নৌকা,  প্রায় ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল আটক করা হয়।   


এদিকে, গত ৬ দিনের অভিযানে  সবমিলিয়ে চাঁদপুর জেলায়  এ পর্যন্ত এক কোটি দশ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল, ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ১৫টি নৌকা এবং প্রায় চারশ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে ৮০ জন জেলেকে। অন্যদিকে, আটক দের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তরমুজ থেকে তৈরি হচ্ছে ‘গুড়’, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

তরমুজ থেকে তৈরি হওয়ায় গুড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘তোগুড়’

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ছোটবন্ড গ্রামে  কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ থেকে গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই উৎপাদিত গুড়ের নাম দিয়েছেন “তোগুড়”।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ২০১৯ সাল থেকে তিনি তরমুজ চাষ শুরু করে সফলতা পান। এরপর তরমুজের রস মিষ্টি এবং পাতলা বলে তা জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে সফল হন। 

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে প্রায় তিন কেজি গুড় তৈরি করে পাড়া প্রতিবেশী, উপজেলা কৃষি অফিসারসহ অনেককেই খাইয়েছেন। আবার অনেকেই সে গুড় ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনতেও চেয়েছেন।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তাল ও খেঁজুর গাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমছে। এছাড়া, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলো তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তরমুজের মৌসুমের সময়ে কৃষকরা তরমুজের জন্য ন্যয্য মূল্য পান না। তাই তরমুজের গুড় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের গুড় তৈরি করলে কৃষকরা তার ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ ধরার সময় আটক ৫৫ জেলে

মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার সময় আটক করা হয়েছে ৫৫ জন জেলেকে। আটকদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে রোববার (১৭অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত লৌহজং উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালায় উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এতে সহায়তা করে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, অভিযানে ১ লাখ ২০হাজার মিটার কারেন্টজালসহ একটি মাছ ধরার নৌকা ও ২৫০কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

jagonews24

লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জাগো নিউজকে জানান, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, দুপুরে জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। আর কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আমন, শঙ্কা পোকার

ঝলমলে সোনা রাঙা রোদ পড়েছে সবুজ ধানক্ষেতে। যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে শরতের বাতাসে দুলছে রোপা আমন ধান।কুষ্টিয়ায় এ বছর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে এই ধান। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের মাঠে বেড়েছে পোকার উপদ্রব। পোকা নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় ৮৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ৭৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল উফশী, আট হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং এক হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের রোপা আমন।

তবে চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে উফশী, ১০ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ১ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে স্থানীয় রোপা আমনের আবাদ। দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উফশী ধানের চাষ কম হলেও বেড়েছে অন্য জাতের ধানের আবাদ। এর মধ্যে ধান গবেষণা উদ্ভাবিত ও বিনা উদ্ভাবিত ৩৪ জাতের উফশী, ১২ জাতের হাইব্রিড ও ২টি স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছে কৃষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে স্বর্ণা (১১ হাজার ৯৪৭ হেক্টর), ব্রিধান-৪৯ (১০ হাজার ৪১৬ হেক্টর) ও ব্রিধান-৩৯ (১০ হাজার ১৫৩ হেক্টর) চাষ করা হয়েছে। হাইব্রিড ধানের মধ্যে রয়েছে ধানীগোল্ড (পাঁচ হাজার ৮২১ হেক্টর), এটুজেড-৭০০৬ (দুই হাজার ৫৫৪ হেক্টর) ও মাহিকো-১ (৫২০ হেক্টর)। এছাড়া কুষ্টিয়ার দুটি স্থানীয় জাত কালোজিরা ও বাদশা ভোগের চাষ হয়েছে এক হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে। আবার, মিরপুর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে এবং খাটোবাবু ও ভেড়ামারায় ৫০০ হেক্টর জমিতে শুরু হয়েছে রূপসা জাতের চাষ।

মাজরা পোকার আক্রমণে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা।  ছবি: বাংলানিউজ

মাজরা পোকার আক্রমণে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। ছবি: বাংলানিউজ

জেলা কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, এ বছর জেলায় চার লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন রোপা আমন উৎপাদিত হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে পাওয়া যাবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন চাল। আবার, রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হলেও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। এবার জেলা জুড়ে দেখা গেছে মাজরা বা কারেন্ট পোকার উপদ্রব। কৃষকরা কীটনাশক দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া মাঠের প্রায় অধিকাংশ জমিতে দেখা গেছে পোকার উপদ্রব।

ওই এলাকার কৃষক দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, ‘রোপা আমন ধান বেশ ভালো হয়েছে। তবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে খুব। কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ’

ফরিদুল ইসলাম নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও ধানের জমিতে গেলে মন ভরে যেতো। বেশ ভালো ফলন পাবো বলে আশা করেছিলাম। তবে এবার পোকার কারণে ফলন কম হতে পারে। ’

ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় এবার মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি। তবে খুব একটা ফলনের পার্থক্য হবে না। ’

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কৃষকদের ফসলের উপকারী ও অপকারী পোকা চেনা উপায়, অধিক কীটনাশক ব্যবহার না করাসহ আধুনিক চাষাবাদ ও জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে উৎসাহিত করছি। ধানের দাম বাড়ায় ও সরকারি প্রণোদনার ফলে কৃষকরা ধান চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

পোকার আক্রমণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছর জলবায়ুর কারণে পোকার আক্রমণ একটু বেশি। তবে আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছি। ফলে পোকার আক্রমণ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পোকায় ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে মনে করি। ’

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন,  ‘এ বছর রোপা আমনের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয়েছে। আশা করছি উৎপাদনও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com