আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

বাবরি মসজিদ-রামমন্দির মামলার রায়ের পর ভারতে তাজমহল বা কাশী-মথুরার মসজিদ কি অক্ষত থাকবে?

 আগ্রায় তাজমহলের মূল গম্বুজ, যার ওপরের চিহ্নটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে
আগ্রায় তাজমহলের মূল গম্বুজ, যার ওপরের চিহ্নটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার ভেঙে-ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির পক্ষে গত রায় ঘোষণার পর থেকেই কাশী-মথুরা-আগ্রাতে নতুন আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে।

কারণ ওই রায় সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের আরও নানা জায়গায় যে সব ‘বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান’ রয়েছে সেগুলোর ওপর এই রায়ের কী প্রভাব পড়বে?

কাশী ও মথুরার মতো তীর্থস্থানে মসজিদ সরিয়ে ফেলে পার্শ্ববর্তী মন্দিরকে যাতে পুরো জায়গাটা দিয়ে দেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যে ভারতের উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলোর আন্দোলন অনেক পুরনো।

এমন কী বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলও তৈরি হয়েছে প্রাচীন এক শিবমন্দিরের ওপর – এমনকি এ রকম একটি দাবিও আজকাল জোরেশোরে উঠছে।

এই পটভূমিতে কাশী-মথুরা-আগ্রাতে মুসলিম প্রার্থনার স্থান বা ইসলামী স্মারকগুলোও কি আজ হুমকির মুখে?

বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মাঝখানের দেওয়াল
বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মাঝখানের দেওয়াল

আসলে ভারতে এমন বহু তীর্থস্থান আছে, যেখানে মন্দির আর মসজিদ শত শত বছর ধরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে – কখনও বা তারা একই দেয়াল পর্যন্ত শেয়ার করে।

উত্তর প্রদেশে কাশী বা মথুরা, কিংবা মধ্যপ্রদেশে ভোজশালার মতো এমন বহু শহরের জন্যই কিন্তু অযোধ্যার রায় এক ধরনের অশনি সংকেত – যা সেই সহাবস্থানের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।

এমনকি ১৯৯১ সালে এ দেশে পাস হওয়া ‘ধর্মীয় উপাসনালয় আইন’ও সেখানে পুরোপুরি ভরসা জোগাতে পারছে না।

ভারতের নামী ইতিহাসবিদ মৃদুলা মুখার্জি ওই আইনটির প্রসঙ্গ তুলে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ওই আইনে শুধু ছাড় দেওয়া হয়েছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ককে, কারণ সেটা নিয়ে তখন আন্দোলন তুঙ্গে।”

“কিন্তু সেই সঙ্গেই পরিষ্কার বলা হয়েছিল, অযোধ্যা ছাড়া ভারতের অন্য সব ধর্মীয় স্থানে যেভাবে এখন উপাসনা চলছে সেভাবেই চলবে – সেটা কিছুতেই বদলানো যাবে না।

“কিন্তু আমরা এটাও জানি রাজনীতি অন্য জিনিষ, রাজনীতির কারবারিরা সব সময় আইনকানুনের ধার ধারেন না।”

“ফলে বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সমমনা অন্যান্য কট্টর সংগঠনগুলো এই অযোধ্যা রায়কে যে কীভাবে কাজে লাগায়, সে আশঙ্কা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে”, বলছিলেন দিল্লিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ এই অধ্যাপক।

অযোধ্যায় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেছিল এই বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের সদস্যরাই, আর এখন সেখানেই নির্মিত হতে যাচ্ছে রাজসিক রামমন্দির।

গঙ্গাবক্ষ থেকে বারাণসীর বিখ্যাত কাশী-বিশ্বনাথ মন্দির
গঙ্গাবক্ষ থেকে বারাণসীর বিখ্যাত কাশী-বিশ্বনাথ মন্দির

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসী বা কাশী – সেখানে জ্ঞানবাপী মসজিদের দেয়াল ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির।

মথুরাতেও শাহী ঈদগাহ মসজিদ আর শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির কমপ্লেক্স ঠিক পাশাপাশি, প্রাচীন মন্দির ভেঙে এখানেও মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মসজিদ গড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এমনকি আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত তাজমহলও নাকি আসলে আগে শিবমন্দির ছিল বলে অনেকে বলছেন, আর তাতে প্রচ্ছন্ন সায় দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারও।

যদিও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট আলোক কুমারের বক্তব্য, তাদের যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান এখন থাকবে শুধু রামমন্দির নির্মাণেই – অন্য কোনও দিকে মন দেয়ার সময়ই হবে না।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “এই রায় রাম জন্মভূমিতে যে মন্দির বানানোর রাস্তা খুলে দিল, সেটা শেষ করতে আমাদের তো এখন কয়েকটা বছর লাগবেই।”

“আমরা পুরো মনোযোগ ওতেই দেব … ফলে আপনি যে কাশী-মথুরার কথা বলছেন সেদিকে আমরা এখন মন দিচ্ছি না, কোনও দাবিও জানাচ্ছি না।”

অথচ বাবরি মসজিদ ভাঙার পর এই হিন্দুত্ববাদীদেরই স্লোগান ছিল ‘ইয়ে তো সির্ফ ঝাঁকি হ্যায় – কাশী মথুরা বাকি হ্যায়’।

অর্থাৎ কিনা, “বাবরিতে তো শুধু একটা ধাক্কা দিয়েছি, এরপর ধরব কাশী-মথুরাকে – ওগুলো মেটানো বাকি আছে।”

 মথুরায় ঠিক পাশাপাশি অবস্থিত শাহী ঈদগাহ মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির
মথুরায় ঠিক পাশাপাশি অবস্থিত শাহী ঈদগাহ মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বা তার মতো আরও অনেকেই এখনও নিয়ম করে এ ধরনের হুমকি দিয়ে থাকেন।

তবে এই তথাকথিত ‘অসমাপ্ত এজেন্ডা’ নিয়ে এখন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছে আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘও।

আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবত যেমন রায় ঘোষণার দিনই বলেছেন, “দেখুন সঙ্ঘ তো ওই ধরনের আন্দোলন করে না, আমরা মানুষ গড়ার কাজ করি।”

“ঐতিহাসিক কারণে আমরা রাম জন্মভূমি আন্দোলনে জড়িয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু এছাড়া আর অন্য কোনও ইস্যুর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”

কিন্তু সঙ্ঘ পরিবারের এই মুখের কথাকে বিশ্বাস করা যায়, ইতিহাস কিন্তু তা বলে না।

ড: মৃদুলা মুখার্জি মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তাজমহলে হয়তো তারা এখনই হাত দেবে না।

তবে এলাহাবাদ বা মুঘলসরাইয়ের নাম বদলের মতো ছোট ছোট পদক্ষেপে তাদের ‘দৈনন্দিন সাম্প্রদায়িকতা’ কিন্তু থেমে নেই।

“এই যে দুম করে এলাহাবাদ শহরের নাম বদলে দিল, কিংবা মুঘলসরাই স্টেশনের নাম রাখল বিজেপি-জনসঙ্ঘের তাত্ত্বিক নেতার নামে – এই ধরনের পদক্ষেপ কিন্তু তারা নিতেই থাকবে।”

“মানে ছোট ছোট শহরে, ছোট ছোট নেতা বা ধরা যাক স্থানীয় এমপি-রা এই রকম ছোটখাটো নানা ইস্যুতে কনফ্লিক্ট বা সংঘাত তৈরি করতেই থাকবেন” – বলছিলেন ড: মৃদুলা মুখার্জি।

“যেটাকে আমরা বলতে পারি ‘এভরিডে কমিউনালিজম’ বা রোজকার সাম্প্রদায়িকতা!

“আসলে এই যে ‘হিন্দুত্ব প্রোজেক্ট’ বা হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, সেটা তো সঙ্ঘের ঘোষিত এজেন্ডার মধ্যেই পড়ে। তারা তো খোলাখুলিই বলে যে তারা হিন্দুরাষ্ট্র তৈরি করতে চায়।”

কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ। শিল্পী রবার্ট এলিয়টের স্কেচ থেকে
কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ। শিল্পী রবার্ট এলিয়টের স্কেচ থেকে

“আর সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্যে যে গভীর একটা অ্যান্টি-মুসলিম বায়াস বা প্রবল মুসলিম-বিদ্বেষ আছে সেটা তো অস্বীকার করা যায় না”, বলছিলেন অধ্যাপক মুখার্জি।

ফলে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের সেই মূল লক্ষ্যর বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে চলছেই।

আর সে কারণেই কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ বর্তমান আকারেই চিরকাল অক্ষত থাকবে, তা খুব জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

এমন কী পৃথিবীর সেরা স্থাপত্যগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য তাজমহলও তার পরিচয় নিয়ে পুরোপুরি নিরাপদ থাকতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্লাইমেট চেঞ্জ কী? কীভাবে এবং কেন ঘটছে? বিষয়টির একটি সহজ-সরল ব্যাখ্যা

ইদানিং যে দুটো শব্দ প্রচুর শোনা যায় তা হলো – জলবায়ু পরিবর্তন। বিষয়টি আসলে কী?

কোনও একটি জায়গায় বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়ার যে গড়-পড়তা ধরন, তাকেই বলা হয় জলবায়ু। আবহাওয়ার সেই চেনাজানা ধরন বদলে যাওয়াকেই বলা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন।

পৃথিবী গরম হয়ে পড়ছে এবং তার ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার বহুদিনের চেনাজানা আচরণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি কী?

মানুষ – প্রথমে মানুষ অর্থাৎ আমাদের জন্য এই পরিবর্তনের অর্থ কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ুর এই পরিবর্তনে বদলে যাবে আমাদের জীবন যাপন। পানির সঙ্কট তৈরি হবে। খাদ্য উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে।

কোনো কোনো অঞ্চল বিপজ্জনক মাত্রায় গরম হয়ে পড়বে, এবং সেই সাথে সমুদ্রের পানি বেড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হবে। ফলে সে সব জায়গা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে

চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া – অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টি এবং ঝড়ের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকবে। ফলে জীবন এবং জীবিকা হুমকিতে পড়বে। গরীব দেশগুলোতে এসব বিপদ মোকাবেলার সক্ষমতা কম বলে তাদের ওপর এই চরম আবহাওয়ার ধাক্কা পড়বে সবচেয়ে বেশি।

পরিবেশ – তাপমাত্রা বাড়ায় উত্তর মেরুর জমাট বাধা বরফ এবং হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে সাগরের উচ্চতা বেড়ে উপকুলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এছাড়া সাইবেরিয়ার মত অঞ্চলে মাটিতে জমে থাকা বরফ গলতে থাকায় বরফের নিচে আটকে থাকা মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে, মিথেনের মত আরেকটি গ্রিনহাউজ গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীর উষ্ণতা তাতে আরো বাড়বে, এবং বন-জঙ্গলে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়বে।

ভূমি ও মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে

প্রকৃতি– তাদের চির চেনা বসতির আবহাওয়া বদলের জেরে অনেক প্রাণী নতুন জায়গায় চলে যাবে বা যাওয়ার চেষ্টা করবে।

কিন্তু জলবায়ুর এই পরিবর্তন এত দ্রুত হারে এখন ঘটছে যে অনেক প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যেমন, বরফ গলতে থাকায় পোলার বিয়ার বা উত্তর মেরুর শ্বেত ভালুকের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি, আটলান্টিক মহাসাগরের স্যামন মাছ বিপন্ন হবে, কারণ যেসব নদীতে ঢুকে তারা ডিম পেড়ে বাচ্চার জন্ম দেয়, সেগুলোর পানি গরম হয়ে যাচ্ছে।

ট্রপিক্যাল অঞ্চলের কোরাল রিফ বা প্রবাল-প্রাচীর উধাও হয়ে যেতে পারে, কারণ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড সাগরের পানিতে মিশে পানির অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

কোরাল রিফ
ছবির ক্যাপশান,ট্রপিক্যাল অঞ্চলের কোরাল রিফ বা প্রবাল-প্রাচীর উধাও হয়ে যেতে পারে কারণ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড সাগরের পানিতে মিশে পানির অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে

কেন এই জলবায়ু পরিবর্তন

প্রাকৃতিক কারণে জলবায়ুতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন হয়। কিন্তু যে মাত্রায় এখন তাপমাত্রা বাড়ছে তার মানুষের কর্মকাণ্ডেই প্রধানত দায়ী।

মানুষ যখন থেকে কল-কারখানা এবং যানবাহন চালাতে বা শীতে ঘর গরম রাখতে তেল, গ্যাস এবং কয়লা পোড়াতে শুরু করলো সেই সময়ের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।

বায়ুমণ্ডলে অন্যতম একটি গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ উনবিংশ শতকের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।। গত দুই দশকে বেড়েছে ১২ শতাংশ।

বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণেও বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে। গাছপালা কার্বন ধরে রাখে। ফলে, সেই গাছ যখন কাটা হয় বা পোড়ানো হয়, সঞ্চিত সেই কার্বন বায়ুমণ্ডলে নিঃসরিত হয়।

কী ঘটবে ভবিষ্যতে?

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিল্প বিপ্লব শুরুর আগে বিশ্বের যে তাপমাত্রা ছিল তার থেকে বৃদ্ধির মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা গেলে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যাবে। তা না পারলে বিপজ্জনক হয়ে পড়বে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন।

অনেক বিজ্ঞানীর আশঙ্কা যে ভয়ঙ্কর এই পরিণতি ঠেকানোর আর কোনো উপায় নেই এবং চলতি শতকের শেষে গিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তা হলে এর প্রভাব বিশ্বের একেক জায়গায় একেক রকম হবে:

  • ব্রিটেনে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গিয়ে ঘনঘন বন্যা হবে।
  • সাগরের উচ্চতা বেড়ে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ছোট অনেক দ্বীপ বা দ্বীপরাষ্ট্র বিলীন হয়ে যেতে পারে।
  • আফ্রিকার অনেক দেশে খরার প্রকোপ বাড়তে পারে এবং পরিণতিতে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
  • অস্ট্রেলিয়ায় অতিরিক্ত গরম পড়তে পারে এবং খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

সরকারগুলো কী করছে?

দেশগুলোকে বলা হচ্ছে তারা যেন বর্তমান শতকের মাঝামাঝি অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। অর্থাৎ যেটুকু গ্যাস নিঃসরিত হবে তা অতিরিক্ত গাছ লাগানোর মত ব্যবস্থা নিয়ে ভারসাম্য রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশগুলো যদি তা করতে পারে তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্রুত গতি কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর পরিণতি এড়ানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা কী করছেন?

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ছে।

কোনও একটি জায়গায় আবহাওয়ার চরম আচরণ যেমন অতিবৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরমের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগাযোগ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীরা এখন সমর্থ হচ্ছেন। ফলে, এধরনের চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভবিষ্যতে সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানুষ কী করতে পারে?

  • গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাইকেল বা জনপরিবহনের ব্যবহার বাড়াতে পারে।
  • বাড়িতে যাতে গরম বা ঠাণ্ডা কম ঢোকে তার ব্যবস্থা নিতে পারে।
  • মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার কমাতে পারে।
  • বিমান ভ্রমণ কমাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্যের উচ্চ মূল্যের সাথেই সবাই খাপ খাইয়ে নিতে হবে?

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিপর্যয় আসতে পারে জাতিসংঘের এমন সতর্কতা আর বৈশ্বিক ক্ষেত্রে খাদ্য পণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্য দিয়েই চলতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস (১৬ই অক্টোবর) পালিত হচ্ছে।

“ইথিওপিয়া, মাদাগাস্কার, দক্ষিণ সুদান এবং ইয়েমেনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে আছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বুরকিনা ফাসো এবং নাইজেরিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীও প্রায় একই পরিস্থিতিতে পড়েছে,” এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন দুর্ভিক্ষময় পরিস্থিতিতে থাকা অন্তত ৪ কোটি মানুষকে সহায়তার জন্য দ্রুত তহবিল গঠনের আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা দা হাঙ্গার প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ দরিদ্রতার সাথে বাস করছে, আর ৮৫ কোটি মানুষ দরিদ্রতার ঝুঁকিতে আছে কোভিডের কারণে। আবার এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।

এখানে আমরা দেখছি যে খাবারের উচ্চমূল্য বিশ্বব্যাপী এসব মানুষের জন্য কী অর্থ বহন করে এবং খাদ্য দরিদ্রতা কমাতে বিকল্প আর কী আছে। কিন্তু শুরুতেই আমরা দেখবো – খাদ্য মূল্য বাড়ছে কেন।

খাদ্য মূল্য
ছবির ক্যাপশান,মহামারির কারণে দাম বাড়ছে

কেন দাম বাড়ছে

খাদ্যের আন্তর্জাতিক বড় প্রতিষ্ঠান ক্রাফট হেইনজ সতর্ক করে বলেছে যে মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতি আর মুদ্রাস্ফীতির কারণে “খাদ্যের উচ্চমূল্যের সাথেই খাপ খাইয়ে নিতে হবে”।

ভারতের মুম্বাইয়ের রাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. সারিকা কুলকার্নি ক্রাফট হেইনজের প্রধান মিগুয়েল প্যাট্রিসিওর সাথে একমত যে খাদ্যমূল্য বেশিই থাকবে।

ড. কুলকার্নি ও রাহ ফাউন্ডেশন ভারতের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করছে।

মহামারির কারণে অনেকে দেশেই শস্য থেকে আরম্ভ করে ভোজ্যতেলসহ কাঁচামালের উৎপাদন কমেছে। মূলত করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি অসুস্থতা, স্বল্প উৎপাদন ও বিতরণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যেহেতু অর্থনীতিতে এমন পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে, অনেকেই হয়তো ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী তা করতে পারছে না, যা দাম বাড়াতে অবদান রাখছে।

পাশাপাশি উচ্চ বেতন আর জ্বালানি মূল্যও উৎপাদনকারীদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

“দামের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে চাহিদা ও সরবরাহের। যেখানে জনসংখ্যা আর খাদ্য চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে আবার পানির স্বল্পতা, মাটির গুনাগুণ কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের কৃষিকাজে অনিহাসহ নানা কারণে চাষের জমি কমে যাচ্ছে,” বলছিলেন দারিদ্র দূরীকরণ বিশেষজ্ঞ ড. কুলকার্নি।

দাম বাড়ছে
ছবির ক্যাপশান,জাতিসংঘ বলছে দাম বাড়ার কারণে ঝুঁকিতে আছে নারী ও কন্যা শিশুরা

খাদ্যের জন্য যৌনতা

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন গ্রিফিতের মতে, “যখন দুর্ভীক্ষ দরজায় আসে, তখন এটি ভাইরাল হয়ে ওঠে”।

আর ক্রমবর্ধমান দরিদ্রতা আর খাদ্যের উচ্চ মূল্যে ঝুঁকিতে পড়ে মূলত নারী ও কন্যা শিশুরাই বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে।

“পরিবারের সদস্যদের খাদ্যের যোগান দিতে নারীদের মরিয়া চেষ্টা চালাতে হয়। এর মধ্যে খাদ্যের জন্য যৌনতা যেমন আছে, তেমনি অনেককে বাল্যবিবাহের শিকার হতে হচ্ছে-যা আমি সম্প্রতি সিরিয়ায় থাকার সময় শুনেছি,” বলছিলেন তিনি।

ফার্ম রেডিও ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার কারেন হ্যাম্পসন বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছে ছোট মাপের কৃষকরাও।

“দাম বাড়ার এখনকার পরিস্থিতি তাদের দু মুখো তলোয়ারের মতো- একদিকে কৃষক পরিবারগুলোকে তারা যা উৎপাদন করে না, সেসব খাবার কিনতে হয় এবং সে কারণে তাদের ব্যয় অনেক বেড়েছে যাচ্ছে। এটি তাদের ক্ষুধা ও অপুষ্টির দিকে ঠেলে দিচ্ছে,” হ্যাম্পসন বলছিলেন বিবিসিকে।

“অন্যদিকে তাত্ত্বিকভাবেই খাদ্যমূল্যবৃদ্ধির অর্থ হলো তারা যা বিক্রি করে, সেখান থেকে তারা ভালো আয় করবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি মানেই কৃষকদের হাতে বেশি অর্থ আসছে- এমনটি হচ্ছে না। বিশেষ করে আফ্রিকার ক্ষুদ্র মাপের কৃষকদের ক্ষেত্রে।”

ড. কুলকার্নি বলছেন, দরিদ্রতা সরাসরি দামের সাথে জড়িত- যেমন দরিদ্রতা বাড়ছে এবং একই সাথে দামও বাড়ছে।

তানজানিয়ার কৃষক
ছবির ক্যাপশান,কৃষকদের সহায়তা এগয়ে আসতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কী করা যেতে পারে

উন্নত বিশ্বের মানুষ হয়তো বিলাসদ্রব্য কমাতে পারে বা বিদেশে ছুটিতে যাওয়া কমাতে পারে বা তাদের বাজেটও কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু এর সুফল সরাসরি অনুন্নত বিশ্বের মানুষ পায় না, বিশেষ করে যারা খাদ্যের জন্য যৌনতাকেও বেছে নিতে বাধ্য হয়।

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা ও সরকারগুলো মানুষকে দরিদ্রতা থেকে বের করে আনতে প্রচলিত উপায়গুলো দেখতে পারে। আর বহু সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী জোর দিয়েছে সৃষ্টিশীল ধারণার ওপর।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মহাপরিচালক বলছেন, কৃষি খাদ্য পদ্ধতিতে সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং নষ্ট করার মতো কোন সময়ই এখন নেই।

ড. কুলকার্নি বলছেন, জলবায়ু সহনশীল কৃষির ব্যবস্থা করা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানির স্বল্পতা দূর করা, বীজ ও অন্য দরকারি কাঁচামালের দাম কমানো এবং নিজের জন্য শস্য রাখতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা এজন্য তরুণদের সার্বক্ষণিক কৃষিকাজে জড়িত হতেও উদ্বুদ্ধ করছেন বলে জানান।

হ্যাম্পসনের মতে, গ্রামীণ জনপদে খাদ্য দরিদ্রতার আরেকটি বড় কারণ হলো – দরকারি তথ্য না জানা- বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দাম বা আবহাওয়া বিষয়ে।

এর ফলে তারা দরকষাকষি করতে পারে না যা পরিবর্তন করতে পারে ফার্ম-রেডিও।

কৃষক
ছবির ক্যাপশান,তথ্য নিশ্চিত করাও কৃষকদের জন্য সহায়তা হতে পারে

এখন কী হবে

বিশ্বব্যাপী সবাই হয়তো চিন্তা করছে যে কীভাবে পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য তারা সামলাবে, তখন অধিকারকর্মীরা আশা করছে একটি সংকট হয়তো বিশ্ব এড়াতে পারবে যদি বিশ্ব নেতারা দ্রুত কোন পদক্ষেপ নেয়।

“আমি আশাবাদী,” বলছেন হ্যাম্পসন কিন্তু সেটি করা সম্ভব হবে যদি “আমরা নারী, পুরুষ ও তরুণ কৃষকদের কথা শুনি। আমরা যদি তাদের সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করি এবং সমবায়ের মতো পদক্ষেপ বা সৃষ্টিশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাড়াই । জলবায়ু পরিস্থিতিতে ফোকাস করে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার মাধ্যমে বাজারে সবার জন্য সমতা তৈরি ও তথ্য নিশ্চিত” করতে পারি।

ড. কুলকার্নি বলছেন যে এখন সমস্যা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেয়ার সময় আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

চীনে কোরআন মজিদ অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে অ্যাপল

চীনে কর্মকর্তাদের অনুরোধের পর অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কোরআন অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে।

সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ‘কোরআন মজিদ’ অ্যাপ। অ্যাপ স্টোরে এটি পাওয়া যায় এবং এর রিভিউর সংখ্যা দেড় লাখের মতো। সারা বিশ্বে লাখ লাখ মুসলিম এই অ্যাপটি ব্যবহার করে।

বিবিসি জানতে পেরেছে অবৈধ ধর্মীয় টেক্সট থাকার কারণে এই অ্যাপটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে চীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এখনও কোন মন্তব্য করেনি।

সারা বিশ্বে অ্যাপ স্টোরের অ্যাপগুলোর ওপর নজর রাখে এরকম একটি ওয়েবসাইট ‘অ্যাপল সেন্সরশিপে’ এই খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

অ্যাপটির নির্মাতা পিডিএমএস কোম্পানি এক বিবৃতিতে বলেছে, “অ্যাপলের মতে, আমাদের অ্যাপ ‘কোরআন মজিদ’ চীনা অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কারণ তাতে কিছু বিষয় ছিল যা অবৈধ।”

“বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”

কোম্পানিটি বলছে, চীনে তাদের প্রায় ১০ লাখের মতো ব্যবহারকারী রয়েছে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ইসলামকে একটি ধর্ম বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে থাকে।

তবে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, এমনকি গণহত্যার জন্যেও চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

কোরআন অ্যাপটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিবিসির কাছে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অ্যাপল। তবে তারা মানবাধিকার বিষয়ে তাদের নীতির কথা উল্লেখ করেছে।

অ্যাপলের ওই নীতিতে বলা হয়েছে: “আমাদেরকে স্থানীয় আইন মেনে চলতে হয়, জটিল কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রেও, যে ব্যাপারে আমরা সরকারের সাথে দ্বিমতও পোষণ করে থাকতে পারি।”

তবে চীনা এই অ্যাপটি কোন আইন ভঙ্গ করেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

সারা বিশ্বে লাখ লাখ মুসলিম কোরআন মজিদ অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে।
ছবির ক্যাপশান,সারা বিশ্বে লাখ লাখ মুসলিম কোরআন মজিদ অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে।

‘কোরআন মজিদ’ অ্যাপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মুসলিমের এই অ্যাপটির ওপর আস্থা রয়েছে।

গত মাসে অ্যাপল ও গুগল রাশিয়ার কারারুদ্ধ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির পরিকল্পিত একটি ট্যাকটিক্যাল ভোটিং অ্যাপ সরিয়ে নেয়।

এই অ্যাপটি সরিয়ে না নিলে রুশ কর্তৃপক্ষ এই দুটো কোম্পানিকে জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছিল।

চীন অ্যাপলের জন্য অন্যতম বৃহৎ একটি বাজার। এমনকি এই কোম্পানির বিভিন্ন সামগ্রীর সরবরাহ চীনা কল-কারখানার ওপর নির্ভরশীল।

এসপ্তাহে চীনে আরো একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় অ্যাপ, অলিভ ট্রি’র ‘বাইবেল অ্যাপ’ নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বিবিসি জানতে পেরেছে কোম্পানিটি নিজেই অ্যাপটি সরিয়ে নিয়েছে।

এবিষয়ে অলিভ ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কোন মন্তব্য করেনি।

অ্যাপল সেন্সরশিপের প্রকল্প পরিচালক বেঞ্জামিন ইসমাইল বলেছেন, “সম্প্রতি অ্যাপল বেইজিং-এর সেন্সরশিপ ব্যুরোতে পরিণত হয়েছে।”

“তাদেরকে সঠিক কাজটাই করতে হবে, এবং তার পর চীন সরকারের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফট বলেছে তারা চীনে তাদের লিঙ্কডিন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, চীনের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ফেরেশতারা কি দিন-রাত আল্লাহর হুকুম পালন করেন?

মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত ফেরেশতারা। তারা অবিরাম মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-

‘বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করেযাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬২৮)

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতারা অনেক কাজ করে থাকেন। সব কাজই মহান আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ভরপুর। কোরআন-সুন্নায় ফেরেশতাদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে; তাহলো-

১. আল্লাহর ইবাদত  তাসবিহ পড়া

ক্লান্তিহীনভাবে মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত হয়ে ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

> ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)

> ‘নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

২. নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত থাকা

আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শপথ সে ফেরেশতাদেরযারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত )

তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

৩. মানুষের প্রহরী হিসেবে কাজ করা

ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৪. কল্যাণের কাজে উৎসাহ প্রদান

শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা  বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন আল্লাহ প্রাচুর্যময়সুবিজ্ঞ’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

৫. মাগফেরাতের দোয়া করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও ক্ষমা প্রার্থনায় দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা দেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

৬. আমলনামা লেখার কাজ

কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

> ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)

> ‘অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

৭. মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা

মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

> ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)

> ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

৮. আরশ বহন করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ঝাঁজালো গন্ধ খুঁজতে গিয়ে

পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ঝাঁজালো গন্ধ। গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সঙ্গে আতঙ্কিতও। তাঁদের ধারণা, আশপাশে কোথাও গ্যাসের সরবরাহ লাইনে ছিদ্র হয়েছে। সেখান থেকেই ছড়াচ্ছে তীব্র গন্ধ। এর ফলে হুলুস্থুল পড়ে যায় সেখানে। বিপদ এড়াতে ডাকা হয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীকে। তাদের কর্মীরা এসে চালান অনুসন্ধান। অবশেষে জানা যায়, গ্যাসের লাইনে ছিদ্র হয়নি, বরং ওই এলাকাজুড়ে তীব্র গন্ধের উৎস ডুরিয়ান ফল।

বিচিত্র এ ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার দুপুরে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের পাশের ডিকসন এলাকায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের পাশেই ওই এলাকায় অনেকগুলো এশিয়ান রেস্তোরাঁ ও জেনারেল স্টোর রয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী ফোন দিয়ে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ডেকে আনেন। এক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তাঁরা পুরো এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ লাইনে কোনো ছিদ্র খুঁজে পাননি।

কিন্তু ঝাঁজালো গন্ধের তীব্রতা কমছিল না। পরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে লাগাম টানেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এশিয়ান জেনারেল স্টোরে থাকা ডুরিয়ান ফল থেকে গন্ধ ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় লোকজন এ গন্ধকে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র থেকে বের হওয়া গন্ধ মনে করে অযথাই আতঙ্কিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পুরো ঘটনাটি মজা করে লিখেছেন ফুওং ট্রান নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা। তিনি লেখেন, কেউ একজন হয়তো ডুরিয়ান খেয়েছিল। আর তাতেই পুরো এলাকা গন্ধে ভরে গেছে।

ডুরিয়ান আমাদের দেশের কাঁঠালের সমগোত্রীয় একটি ফল। স্বাদ ও আকার কাঁঠালের মতোই। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডুরিয়ান বেশি জন্মায়। ডুরিয়ান ফলের তীব্র গন্ধ অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। তীব্র গন্ধের কারণে অনেকে এটি খেতে পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই ডুরিয়ান ভীষণ ভালোবাসেন। এটিকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষের বসবাস। মালয়েশিয়া থেকে আসা অনেক মানুষ দেশটিতে বসবাস করেন। মালয়েশিয়া ডুরিয়ানের অন্যতম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় মৌসুমি ফল ঘিরে এমন বিচিত্র ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গন্ধের কারণে ২০১৮ সালে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লাইব্রেরি থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষক–শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল রাসায়নিক ছড়িয়ে পরার সতর্কবার্তা। পরে জানা যায়, গন্ধ ছড়ানোর ওই ঘটনার পেছনেও ছিল ডুরিয়ান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com