আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

বাবরি মসজিদ-রামমন্দির মামলার রায়ের পর ভারতে তাজমহল বা কাশী-মথুরার মসজিদ কি অক্ষত থাকবে?

 আগ্রায় তাজমহলের মূল গম্বুজ, যার ওপরের চিহ্নটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে
আগ্রায় তাজমহলের মূল গম্বুজ, যার ওপরের চিহ্নটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার ভেঙে-ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির পক্ষে গত রায় ঘোষণার পর থেকেই কাশী-মথুরা-আগ্রাতে নতুন আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে।

কারণ ওই রায় সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের আরও নানা জায়গায় যে সব ‘বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান’ রয়েছে সেগুলোর ওপর এই রায়ের কী প্রভাব পড়বে?

কাশী ও মথুরার মতো তীর্থস্থানে মসজিদ সরিয়ে ফেলে পার্শ্ববর্তী মন্দিরকে যাতে পুরো জায়গাটা দিয়ে দেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যে ভারতের উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলোর আন্দোলন অনেক পুরনো।

এমন কী বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলও তৈরি হয়েছে প্রাচীন এক শিবমন্দিরের ওপর – এমনকি এ রকম একটি দাবিও আজকাল জোরেশোরে উঠছে।

এই পটভূমিতে কাশী-মথুরা-আগ্রাতে মুসলিম প্রার্থনার স্থান বা ইসলামী স্মারকগুলোও কি আজ হুমকির মুখে?

বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মাঝখানের দেওয়াল
বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মাঝখানের দেওয়াল

আসলে ভারতে এমন বহু তীর্থস্থান আছে, যেখানে মন্দির আর মসজিদ শত শত বছর ধরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে – কখনও বা তারা একই দেয়াল পর্যন্ত শেয়ার করে।

উত্তর প্রদেশে কাশী বা মথুরা, কিংবা মধ্যপ্রদেশে ভোজশালার মতো এমন বহু শহরের জন্যই কিন্তু অযোধ্যার রায় এক ধরনের অশনি সংকেত – যা সেই সহাবস্থানের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।

এমনকি ১৯৯১ সালে এ দেশে পাস হওয়া ‘ধর্মীয় উপাসনালয় আইন’ও সেখানে পুরোপুরি ভরসা জোগাতে পারছে না।

ভারতের নামী ইতিহাসবিদ মৃদুলা মুখার্জি ওই আইনটির প্রসঙ্গ তুলে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ওই আইনে শুধু ছাড় দেওয়া হয়েছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ককে, কারণ সেটা নিয়ে তখন আন্দোলন তুঙ্গে।”

“কিন্তু সেই সঙ্গেই পরিষ্কার বলা হয়েছিল, অযোধ্যা ছাড়া ভারতের অন্য সব ধর্মীয় স্থানে যেভাবে এখন উপাসনা চলছে সেভাবেই চলবে – সেটা কিছুতেই বদলানো যাবে না।

“কিন্তু আমরা এটাও জানি রাজনীতি অন্য জিনিষ, রাজনীতির কারবারিরা সব সময় আইনকানুনের ধার ধারেন না।”

“ফলে বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সমমনা অন্যান্য কট্টর সংগঠনগুলো এই অযোধ্যা রায়কে যে কীভাবে কাজে লাগায়, সে আশঙ্কা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে”, বলছিলেন দিল্লিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ এই অধ্যাপক।

অযোধ্যায় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেছিল এই বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের সদস্যরাই, আর এখন সেখানেই নির্মিত হতে যাচ্ছে রাজসিক রামমন্দির।

গঙ্গাবক্ষ থেকে বারাণসীর বিখ্যাত কাশী-বিশ্বনাথ মন্দির
গঙ্গাবক্ষ থেকে বারাণসীর বিখ্যাত কাশী-বিশ্বনাথ মন্দির

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসী বা কাশী – সেখানে জ্ঞানবাপী মসজিদের দেয়াল ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির।

মথুরাতেও শাহী ঈদগাহ মসজিদ আর শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির কমপ্লেক্স ঠিক পাশাপাশি, প্রাচীন মন্দির ভেঙে এখানেও মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মসজিদ গড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এমনকি আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত তাজমহলও নাকি আসলে আগে শিবমন্দির ছিল বলে অনেকে বলছেন, আর তাতে প্রচ্ছন্ন সায় দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারও।

যদিও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট আলোক কুমারের বক্তব্য, তাদের যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান এখন থাকবে শুধু রামমন্দির নির্মাণেই – অন্য কোনও দিকে মন দেয়ার সময়ই হবে না।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “এই রায় রাম জন্মভূমিতে যে মন্দির বানানোর রাস্তা খুলে দিল, সেটা শেষ করতে আমাদের তো এখন কয়েকটা বছর লাগবেই।”

“আমরা পুরো মনোযোগ ওতেই দেব … ফলে আপনি যে কাশী-মথুরার কথা বলছেন সেদিকে আমরা এখন মন দিচ্ছি না, কোনও দাবিও জানাচ্ছি না।”

অথচ বাবরি মসজিদ ভাঙার পর এই হিন্দুত্ববাদীদেরই স্লোগান ছিল ‘ইয়ে তো সির্ফ ঝাঁকি হ্যায় – কাশী মথুরা বাকি হ্যায়’।

অর্থাৎ কিনা, “বাবরিতে তো শুধু একটা ধাক্কা দিয়েছি, এরপর ধরব কাশী-মথুরাকে – ওগুলো মেটানো বাকি আছে।”

 মথুরায় ঠিক পাশাপাশি অবস্থিত শাহী ঈদগাহ মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির
মথুরায় ঠিক পাশাপাশি অবস্থিত শাহী ঈদগাহ মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বা তার মতো আরও অনেকেই এখনও নিয়ম করে এ ধরনের হুমকি দিয়ে থাকেন।

তবে এই তথাকথিত ‘অসমাপ্ত এজেন্ডা’ নিয়ে এখন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছে আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘও।

আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবত যেমন রায় ঘোষণার দিনই বলেছেন, “দেখুন সঙ্ঘ তো ওই ধরনের আন্দোলন করে না, আমরা মানুষ গড়ার কাজ করি।”

“ঐতিহাসিক কারণে আমরা রাম জন্মভূমি আন্দোলনে জড়িয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু এছাড়া আর অন্য কোনও ইস্যুর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”

কিন্তু সঙ্ঘ পরিবারের এই মুখের কথাকে বিশ্বাস করা যায়, ইতিহাস কিন্তু তা বলে না।

ড: মৃদুলা মুখার্জি মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তাজমহলে হয়তো তারা এখনই হাত দেবে না।

তবে এলাহাবাদ বা মুঘলসরাইয়ের নাম বদলের মতো ছোট ছোট পদক্ষেপে তাদের ‘দৈনন্দিন সাম্প্রদায়িকতা’ কিন্তু থেমে নেই।

“এই যে দুম করে এলাহাবাদ শহরের নাম বদলে দিল, কিংবা মুঘলসরাই স্টেশনের নাম রাখল বিজেপি-জনসঙ্ঘের তাত্ত্বিক নেতার নামে – এই ধরনের পদক্ষেপ কিন্তু তারা নিতেই থাকবে।”

“মানে ছোট ছোট শহরে, ছোট ছোট নেতা বা ধরা যাক স্থানীয় এমপি-রা এই রকম ছোটখাটো নানা ইস্যুতে কনফ্লিক্ট বা সংঘাত তৈরি করতেই থাকবেন” – বলছিলেন ড: মৃদুলা মুখার্জি।

“যেটাকে আমরা বলতে পারি ‘এভরিডে কমিউনালিজম’ বা রোজকার সাম্প্রদায়িকতা!

“আসলে এই যে ‘হিন্দুত্ব প্রোজেক্ট’ বা হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, সেটা তো সঙ্ঘের ঘোষিত এজেন্ডার মধ্যেই পড়ে। তারা তো খোলাখুলিই বলে যে তারা হিন্দুরাষ্ট্র তৈরি করতে চায়।”

কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ। শিল্পী রবার্ট এলিয়টের স্কেচ থেকে
কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ। শিল্পী রবার্ট এলিয়টের স্কেচ থেকে

“আর সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্যে যে গভীর একটা অ্যান্টি-মুসলিম বায়াস বা প্রবল মুসলিম-বিদ্বেষ আছে সেটা তো অস্বীকার করা যায় না”, বলছিলেন অধ্যাপক মুখার্জি।

ফলে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের সেই মূল লক্ষ্যর বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে চলছেই।

আর সে কারণেই কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ বর্তমান আকারেই চিরকাল অক্ষত থাকবে, তা খুব জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

এমন কী পৃথিবীর সেরা স্থাপত্যগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য তাজমহলও তার পরিচয় নিয়ে পুরোপুরি নিরাপদ থাকতে পারছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ
হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত মধ্যরাতে হালদা নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত বিভিন্ন নৌকার ডিম সংগ্রহকারীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন, তাদের ভাষ্যমতে এগুলো নমুনা ডিম।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, বুধবার (২০ মে) রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এরপরও এদিন মা মাছ ডিম ছাড়েনি। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।

স্থানীয়রা জানান, এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহ গতবারের চেয়ে বেশি হতে পারে।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকার বাসিন্দা জানে আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিতে হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা রাত ৯টা থেকে ডিম সংগ্রহ করার জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। কিন্তু এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে আজ সামান্য কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাধারণত মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নমুনা ডিম মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস।

মাছ আগে নমুনা ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই মা মাছ ডিম ছাড়বে। পাহাড়ি ঢল, ব্রজসহ বৃষ্টি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, পূর্ণিমা, অমবশ্যার তিথিতে মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে, এখন সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ আছে।

হালদা থেকে গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছর অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধি এবং ‘কুম’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতি ‘সদয়’ থাকলে আরও বেশি ডিম ও রেণু মিলত বলে ধারণা তাদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

 খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ হতে পারে এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাতে পারে। তাই আগামীতে যাতে খাদ্যের কোনো সংকট না হয়, সেজন্য সরকারি গুদামেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত করছে সরকার। পাশাপশি আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও খাদ্য ও কৃষিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বাবদ রাখা হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছ।

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

এদিকে নতুন বাজেটে মোট ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দও বাড়াচ্ছে সরকার। এ খাতে এবারই প্রথমবার ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের থেকে পাঁচ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। একইসঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ছয় অর্থবছর ধরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। তবে এবার পরিমাণ অন্যবারের তুলনা অনেক বেশি বাড়ছে। মূলত খাদ্য ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্যই বরাদ্দটা একটু বেশি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪৭ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এটা চলতি বাজেটের সংশোধনীতে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা করা হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশে করোনার যে আচমকা আঘাত সেটার রেশ টানতে হবে অনেক বছর। অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে থাকবে। এ বিরূপ প্রভাব কটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে ভর্তুকি, প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণায় সূত্রে জানা গেছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত ভর্তুকি বেশি দেয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেয়া হয় কৃষি, পোশাক রফতানি ও পাট খাতে। এ ছাড়া নগদ ঋণ দেয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে। তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেয়া হয় সেগুলোকে একধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ, এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

আগামী বাজেটে ভর্তুকি

অন্যবারের মতো আগামী অর্থবছরেও ভর্তুকিতেই বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৭৬১ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৪ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ২৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে ভর্তুকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছর থেকে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৫ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। খাদ্যে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সেটা কমিয়ে ৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা করা হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে যা ছিল ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সেটি কমিয়ে রাখা হয় ৯ হাজার কোটি টাকা।

প্রণোদনা

আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকা চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বাড়ছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ হচ্ছে ২২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা, যা চলতি সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। অবশ্য চলতি মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৯ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমানো হয়।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে যা রাখা হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে রাখা হয় ৮ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বাজেটের সমান পরিমাণ ৬ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে রফতানি নগদ প্রণোদনার জন্য। এ ছাড়া পাট খাতের জন্য রাখা হচ্ছে চলতি বাজেটের ন্যায় ৫০০ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনার জন্য রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

নগদ ঋণ

আসছে বাজেটে নগদ ঋণ খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে এই ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। আগামী বাজেটেও অন্যান্য খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

আগামী বাজেটে ভর্তুকি-প্রণোদনার বিষয়ে জানাতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগামী বাজেটে কৃষি ও খাদ্য খাতে যে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে, এটা যুক্তিযুক্ত। করোনা প্রভাব মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই এ খাতে বরাদ্দ বেশি দিতেই হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি বাড়ানোটা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করি।

এদিকে আগামীতেও যাতে খাদ্যের কোনো সংকট না হয় তাই সরকারি গুদামেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত করছে সরকার। ইতোমধ্যে পূর্বনির্ধারীত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত দুই লাখ টন চাল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস হতে সংগ্রহ করেছে সরকার। পাশাপশি দুই লাখ টন গম দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস ‘হয়তো কখনোই নির্মূল হবে না’- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মায়ামি অঙ্গরাজ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে পৃথিবী থেকে নভেল করোনাভাইরাস ‘হয়তো কখনোই নির্মূল হবে না।’

এই ভাইরাস কবে নির্মূল হবে, বুধবার সেবিষয়ে ধারণা প্রকাশ করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি বিষয়ের পরিচালক ডা. মাইক রায়ান।

তিনি বলেছেন যে প্রতিষেধক যদি পাওয়াও যায়, তবুও এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘ব্যাপক প্রচেষ্টা’ চালাতে হবে।

এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে ৪৩ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ মারা গেছে।

জেনেভার ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে ডা. রায়ান বলেন, “এই ভাইরাসটি আমাদের জাতিগত রোগ হিসেবে আমাদের সাথেই থাকতে পারে এবং হয়তো কখনোই শতভাগ নির্মূল হবে না।”

“এইচআইভি’ও নির্মূল হয়নি। কিন্তু আমরা ঐ ভাইরাসের সাথে সহাবস্থান অজর্ন করতে পেরেছি।”

ডা রায়ান আরো বলেন যে ‘এই ভাইরাস কবে নির্মূল হবে’ সেই ধারণা যে কেউ করতে পারে – তাও বিশ্বাস করতে চান না তিনি।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধক তৈরির অন্তত ১০০ টি প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে প্রতিষেধক আবিষ্কারই যে ভাইরাসের বিলুপ্তি নিশ্চিত করে না, তা মনে করিয়ে দেন ডা রায়ান।

লকডাউনের কড়াকড়ি কমিয়ে আনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ডা রায়ান ও ডা টেড্রোস

তিনি উল্লেখ করেন যে হামের টিকা বহুদিন আগে আবিষ্কার হলেও হাম এখনও বিলুপ্ত হয়নি পৃথিবী থেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস অবশ্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

“এর গতিপথ আমাদের হাতে এবং এটি আমাদের সবার মাথাব্যাথা। এই মহামারি থামাতে আমাদের সবার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ববিদ মারিয়া ভ্যান কারখোভ ব্রিফিংয়ে বলেন: “এই মহামারি পরিস্থিতি থেকে বের হতে আমাদের সময় লাগবে, আমাদের মানসিকভাবে এর জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারার এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন বিভিন্ন দেশ পর্যায়ক্রমে তাদের লকডাউনের কড়াকড়িতে শৈথিল্য আনছে এবং আরো অনেক দেশের নেতাই তাদের নিজ নজি অর্থনীতি উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তা করছে।

ডা. টেড্রোস সতর্ক করেছেন যে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিলে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।

“অনেক দেশই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শিথিল করতে চাইবে। কিন্তু আমাদের সুপারিশ, এখনও যে কোনো দেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকা উচিত।”

ডা. রায়ান সতর্ক করেছেন: “অনেকেই চিন্তা করছেন লকডাউন শতভাগ কার্যকর ছিল এবং লকডাউন উঠিয়ে নিলে পরিস্থিতি ভাল হবে। এই দুইটি ধারণাই ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

রানী এলিজাবেথ হাজারি গুড় খেয়ে কি বলেছিলেন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তৌফিকুজ্জামান আজমান প্রাণিসম্পদ ঘাস উত্পাদন করেন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com