আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বাণিজ্য ও শিল্পের ইতিহাসে অনন্য নেদারল্যান্ডস

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুলবাগান নেদারল্যান্ডসের কুকেনহফ। স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ভরপুর ফুলের ওই রাজ্য বছরে দু’মাস উন্মুক্ত থাকে পৃথিবীর পর্যটকদের জন্য। বাণিজ্য ও শিল্পের ইতিহাসেও ফুলের ওই উদ্যান পৃথিবীতে অনন্য। 

ওলন্দাজদের চেনা যায় সৌখিনতা আর সৌন্দর্যে। দিগন্ত জোড়া ফুটন্ত টিউলিপই বলে দেয় দেশটির নাম নেদারল্যান্ডস। সেখানে রয়েছে টিউলিপের হাজারো রঙে সাজানো এক ভূস্বর্গ ‘কুকেনহফ’। যেখানেই ফুলই যেনো কথা বলছে সারা পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে, তার পবিত্র ভাষায়। এক টিউলিপই ধারণ করে আছে প্রায় চারশো বছরের ইতিহাস। চীন থেকে অস্ট্রিয়া হয়ে সৌন্দর্যের রাজাদের মন ছুঁয়ে আসন গেঁড়েছে নেদারল্যান্ডসে। 

নেদারল্যান্ডসের ট্যুর গাইড প্যাট্রেসিয়া জানালেন, টিউলিপের যাত্রা শুরু হয়েছিলো এশিয়ার চীন থেকে। বিখ্যাত ডার্চ বোটানিস্ট কাস কুসিয়াস ১৯৫৩ সালে টিউলিপের ফ্লাওয়ার বাল্প সংগ্রহ করেছিলেন তার বন্ধু অস্ট্রিয়া রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে। অস্ট্রিয়া রাষ্ট্রদূত যা পেয়েছিলেন তৎকালীন তুর্কির সুলতান সোলেইমান’র কাছ থেকে।

এখন টিউলিপ মানেই নেদারল্যান্ডস। টিউলিপ মানে ৫’শ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য।

নেদারল্যান্ডসে কুকেহফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বার্ট সিমেরিংক জানান, পৃথিবীর যতো ফুল ব্যবহার হয় তার ৬০ ভাগ একক ভাগে সরবরাহ করে নেদারল্যান্ডস। আর কুকেহফ হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের ফুল বাণিজ্য ও ফুল কেন্দ্রিক সৌন্দর্যের কেন্দ্রভূমি।

সৌন্দর্য রাঙ্গাতে পারে মন। আর তা যদি হয় ফুলের, তা পারে জীবনের সংজ্ঞাও বদলে দিতে। এমন গভীর চিন্তাই নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও রাখছে বড় ভূমিকা।

এগ্রোবিজ

শ্রীমঙ্গলের ৯৫ হেক্টর জমিতে নাগা মরিচ চাষ

নাগামরিচ তীব্র ঝালযুক্ত হলেও এর ঘ্রাণে রয়েছে সুগন্ধী। আন্তর্জাতিকভাবেও এর ঝালের তীব্রতার কারণে এ ফসলটি তার আপন সম্মাননা অর্জন করেছে।

২০০৭ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সাধারণ মরিচের চেয়ে বহুগুণ বেশি ঝাল প্রমাণিত হওয়ায় নাগা মরিচকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিডি নিউজ২৪.কম

সিলেট অঞ্চলে এটিকে নাগামরিচ বলে। তবে অঞ্চল ভেদে নাগা মরিচের ভিন্ন নামও রয়েছে। সেই নামগুলো হলো- বোম্বাই মরিচ, ফোটকা মরিচ।

বর্তমানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এই ফসলটি অধিক পরিমাণে উৎপাদন করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের চাষিরা অন্য ফসলের পাশাপাশি ব্যস্ত রয়েছে নাগামরিচ চাষে। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় ছোট-বড় অনেক চাষি এখন নাগামরিচের চাষ করে।

এই মরিচ বাণিজ্যিকভাবে এখন চাষ করা হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলাজুড়ে। ফলে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা নাগামরিচ চাষে হয়ে উঠেছেন আগ্রহী। উপজেলার দিলবরনগর, মোহাজেরাবাদ, বিষামনি, রাধানগর এবং ডলুছড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নাগামরিচ চাষে।

রাধানগর এলাকার নাগামরিচ চাষি নূরুল ইসলাম বলেন, একটি লেবু গাছের পাশে একটি করে নাগামরিচসহ মোট জমিতে প্রায় তিন হাজার নাগামরিচ গাছ লাগিয়েছি। তবে কিছু গাছ পুরোপুরি কখনোই টেকে না। নানা কারণে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। চারা বেশি নষ্ট হয় বৃষ্টিপাতের ফলে। আশা করছি আমার তিন হাজার গাছ থেকে অন্তত দুই হাজার গাছ টিকবে।

এ কৃষক আরো বলেন, প্রতি পিস নাগার নাম একটাকা থেকে দেড় টাকা। আর বাজার ভালো থাকলে প্রতি পিস নাগার দাম পড়ে ২ থেকে ৩ টাকা। গাছগুলো ভালোভাবে পরিচর্যাসহ প্রযোজনীয় সার ও কীটনাশক দিলে একেকটি গাছে এক মৌসুমে প্রায় ২ থেকে ৪শ মরিচ ধরে। আর সাধারণভাবে অপেক্ষাকৃত যত্ন কম হলে এক মৌসুমে গাছপ্রতি ৫০ থেকে ৬০টি মরিচ ধরে। অনেক বেশি পরিচর্যা করতে হয়।

১০ কেয়ার (বিঘা) জমিতে রোপণ করা দুই হাজার নাগামরিচের গাছ থেকে এক মৌসুমে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান কৃষক নূরুল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শিপন মিয়া বলেন, নাগামরিচ এককভাবে জমিতে চাষ করা হয় না। এটি অন্য ফসলের সঙ্গে অবশিষ্ট জায়গায় চাষ করা হয় বলে এ ফসলটির নাম ‘সাথী ফসল’। লাগানোর তিন মাসের মধ্যে ফলন ধরে। বিশেষ করে লেবু গাছের নিচে এ ফসলের চাষ বেশি করা হয়। সমগ্র উপজেলায় ৯৫ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা নাগামরিচ চাষ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দেশের মাটিতে এবার জি-নাইন কলার আবাদ

দেশের মাটিতে এবার জি-নাইন কলার আবাদ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানি করা যাবে, তবে…

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানি করা যাবে, তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত বা আমদানি করা ভোজ্যতেলে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন থাকতে হবে—এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত অথবা আমদানি করা ভোজ্যতেলে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হলে তা ভারতে রপ্তানি করতে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিএসটিআইর সনদ যেন ভারতে গ্রহণযোগ্য হয়, সেটি নিয়ে ভারত সরকার কাজ করছে। আশা করছি, শিগগিরই এই বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। আজ মঙ্গলবার ডিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও ডিসিসিআইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও ডিসিসিআইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা

সমুদ্রপথে ঢাকা থেকে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, হাইকমিশনার, ভারত

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতি টন পাটজাতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলারের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এতে করে ভারতের বাজারে আমাদের পাটের রপ্তানি কমে এসেছে। এ অবস্থা নিরসনে দ্রুততার সঙ্গে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।’

রিজওয়ান রাহমান বলেন, ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহনের খরচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। এটি উভয় দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, সমুদ্রপথে ঢাকা হতে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খরচ কমিয়ে আনতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতি টন পাটজাতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলারের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এতে করে ভারতের বাজারে আমাদের পাটের রপ্তানি কমে এসেছে।

রিজওয়ান রাহমান, সভাপতি, ডিসিসিআই

বেনাপোল, পেট্রাপোলসহ বাংলাদেশের সব স্থলবন্দর সমূহের ভৌত অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, এই ধরনের সেবার অনুপস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতার ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া পণ্য ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিরাজগঞ্জে রেলওয়ের একটি কনটেইনার ডিপো স্থাপনেরও প্রস্তাব করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর ব্যবহারে ভারত খুব আগ্রহী। এ জন্য নৌপথের বেশ কিছু জায়গা নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং করা জরুরি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাল আমদানি নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে

সরকারের কাছ থেকে চাল আমদানির অনুমতি পেলেও তা কাজে লাগাতে পারছেন না নীলফামারীর ব্যবসায়ীরা। সময়ের স্বল্পতার কারণে এলসি খুলে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে জানান তাঁরা।

নীলফামারীর ব্যবসায়ীরা জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় গত ১৩ জানুয়ারি বেসরকারি পর্যায়ে দেশের ৪৪ জন আমদানিকারককে ১ লাখ ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। সে অনুযায়ী তাঁরা উদ্যোগী হন। কিন্তু স্থলবন্দরে যানজট থাকায় এবং এলসি খোলার সময়সীমা কম হওয়ায় তাঁরা চাল আমদানিতে এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সে জন্য আমদানিকারকেরা ব্যাংকে এলসি খোলার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।বিজ্ঞাপন

নীলফামারী শহরের অরুণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অরুণ সিংহ রায় প্রথম আলোকে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে এক হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি পায়। এর বিপরীতে ২২০ মেট্রিক টন চালের জন্য ২৮ জানুয়ারি এলসি খোলেন। প্রথম দফায় ১৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানির পর দ্বিতীয় দফায় ২ ফেব্রুয়ারি ৬০ টন চাল ছাড় করতে গেলে তা দিতে বাংলাবান্ধা কাস্টমস অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি কাস্টমস বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র চায়। এই অবস্থায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের অনুরোধে কাস্টমস চালের ছাড়পত্র দিলেও বিল অব এন্ট্রির ছাড়পত্র দেয়নি। ১১ ফেব্রুয়ারি অরুণ এন্টারপ্রাইজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়ার পর কাস্টমস বিল অব এন্ট্রি দেয়।

অরুণ সিংহ রায় বলেন, ‘বাকি চাল আমদানির জন্য আমি ১৬ ফেব্রুয়ারি এলসি খুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সময়সীমা অতিক্রমের কথা বলে নতুন করে এলসি খুলতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই আমি আর বাকি ৭৮০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে পারছি না। এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়ালে বাকি চাল আমদানিতে কোনো বাধা থাকবে না।’

নীলফামারীর আরেক আমদানিকারক আশুতোষ রায় বলেন, ‘আমার রায় এন্টারপ্রাইজের নামে এক হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। আমি ১১ ফেব্রুয়ারি ১০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির এলসি খুলি। কিন্তু ভারতের ফুলবাড়ীতে যানজটের কারণে অদ্যাবধি ওই চাল আনতে পারছি না। সময়ের স্বল্পতার কারণে নতুন করে এলসিও খোলা যাচ্ছে না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

আশুতোষ রায় আরও বলেন, এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলসি খোলার সময়সীমা বৃদ্ধি করলে চাল আমদানিতে বাধা থাকবে না। এর ফলে চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘যাঁরা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এলসি খুলে চাল এনেছেন, তাঁদের ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আর যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে কোনো এলসি খোলেননি, তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। তাঁদের নামে দেওয়া বরাদ্দের চাল আমরা অন্য ব্যবসায়ীর মাধ্যমে আমদানি করব।’

তবে নাজমুল হক ভূঁইয়া এ–ও বলেন, ‘যাঁদের আমদানি অনুমতির সমস্যা হচ্ছে তাঁদের বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজি রপ্তানি বেড়ে এক দশকে ৪ গুণ

উৎপাদনের পাশাপাশি সবজি রপ্তানি বাড়ছে প্রতিবছর। গত অর্থবছরে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল চার কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এক দশকের ব্যবধানে রপ্তানি আয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। করোনার কারণে সাময়িক গতি কমলেও সবজি রপ্তানিতে ব্যাপক সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, নেপাল, ব্রুনাই, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে আলু ও সবজি রপ্তানি হয়। করোনার কারণে গত বছরের কয়েক মাস সবজি রপ্তানি কমলেও সম্প্রতি আবার রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালায়েড প্রডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সবজি রপ্তানির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবছরই রপ্তানি বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সবজির চাহিদা বাড়ছে। তবে করোনার কারণে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে বিমান যোগাযোগে হেরফের হওয়ায় রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রাজধানীর পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায় থেকেও এখন রপ্তানি হচ্ছে। বাঁধাকপি উৎপাদনের জন্য উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সুনাম রয়েছে। একসময় ভরা মৌসুমে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হতেন কৃষকরা। কখনও কখনও চাষের খরচও তুলতে পারতেন না তারা। তবে দিন বদলাতে শুরু করেছে। বগুড়ার বাঁধাকপি এখন রপ্তানি হচ্ছে ছয়টি দেশে। এই রপ্তানিতে ভূমিকা রাখছে দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাসওয়া এগ্রো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি আলু, মিষ্টিকুমড়া, বাঁধাকপি প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করে।

একসময় মৌসুম বা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাজারে সবজির সরবরাহেও পরিবর্তন হতো। টমেটো, শিম, কিংবা কপির মতো সবজি পেতে শীতকালের অপেক্ষা করতে হতো। গ্রীষ্ফ্মকালে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকত। সেদিন আর নেই। এখন বছরজুড়ে ২০ থেকে ২৫ জাতের সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন কৃষকরা। দেখা যাচ্ছে নতুন ধরনের সবজি। কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ১৫ বছরে দেশে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে সবজির চাষ বেড়েছে। উৎপাদনও বাড়ছে প্রতিবছর। দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাজারের জন্য সবজি উৎপাদন করছেন চাষিরা। ভালো লাভও পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষিত তরুণরাও ঝুঁকছেন সবজি চাষে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সবজি উৎপাদনের হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানান, একসময় দেশের বিশেষ কয়েকটি জেলাতে বড় পরিসরে সবজির চাষ হতো। বর্তমানে সব জেলাতেই সারাবছর সবজির চাষ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০টি জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। এসব সবজির ৯০ শতাংশ বীজই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উন্নত জাত এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়তার সঙ্গে কৃষকের শ্রম যুক্ত হয়েই এসেছে আজকের সফলতা। তবে আগামী দিনে পুষ্টি নিশ্চিত করতে সবজির উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। আরও উন্নত জাত উদ্ভাবনের দিকে যেতে হবে।

ডিএই মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, সবজি চাষে দেশে বিপ্লব হয়েছে। একসময় সবজি ছিল অতিরিক্ত চাষ। বর্তমানে শুধু সবজিই চাষ করেন এমন কৃষক অনেক। নানা পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। নতুন নতুন জাত এসেছে। যে কারণে সারাবছর সবজি পাওয়া যাচ্ছে। রপ্তানিও বেড়েছে। আগামীতে সবজি চাষ আরও বাড়বে। এ খাতে অনেক সম্ভাবনা।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সারাদেশে ৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে শীত ও গ্রীষ্ফ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয় ডিএই। ডিএই আশা করছে, এবার এক কোটি ৯৭ লাখ টন উৎপাদন হবে। গত অর্থবছরে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। তা থেকে এক কোটি ৮৪ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল এক কোটি ৩০ লাখ টন। এদিকে আলুকে ডিএই সবজি হিসেবে ধরে না। কিন্তু দেশের মানুষের খাদ্য তালিকায় আলু অন্যতম সবজি। চলতি অর্থবছরে চার লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ থেকে এক কোটি ১৪ লাখ টন আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়।

আলু, টমেটোর মতো সবজি প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত হচ্ছে। আলু থেকে চিপস, টমেটো থেকে সস বা কেচাপ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানি চুক্তিভিত্তিক চাষ করাচ্ছে। রপ্তানি বাড়াতে সরকারও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। রপ্তানিযোগ্য সবজি ও ফলমূল রাজধানীর শ্যামপুরের বিসিক শিল্পনগরীতে সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউসে বাছাই করে প্যাকেটজাত করা হয়। প্যাকেট করা সজীবতা ধরে রাখতে ঢাকার পূর্বাচলে কুলিং চেম্বার হচ্ছে। আমদানিকারক দেশের চাহিদা অনুযায়ী সবজি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উন্নত বীজ, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে পৌনে দুই কোটি কৃষক পরিবার রয়েছে। এসব পরিবার কমবেশি সবজি চাষ করে। বাড়ির উঠান বা খালি জায়গা, জমির পাশের উঁচু স্থান, আইল, টিনের চাল এবং পুকুরে মাচা দিয়ে কৃষকেরা সবজির চাষ করছেন। ফলে মোট কৃষিজমির পরিমাণ কমলেও সবজি চাষ বেড়েছে।

জাপানি সংস্থা ফিনেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পরামর্শক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ গড়ে মাথাপিছু ১৩৮ গ্রাম সবজি খান, যা ১০ বছর আগে ছিল ১০০ গ্রামের কম। আগামীতে এই পরিমাণ আরও বাড়বে। কারণ, একজন মানুষের দৈনিক ২৫০ গ্রাম সবজি খাওয়া উচিত। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন যত হবে, সবজি ও ফল খাওয়ার প্রবণতা ততটা বাড়বে। ফলে সবজির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com