আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

মাদারীপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষাবাদের সম্ভাবনা

কৃষকদের প্রযুক্তিগত কলা-কৌশল আর উদ্বুদ্ধকরণের মধ্যে দিয়ে মাদারীপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় ড্রাগন ফল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। প্রতি বছরই ড্রাগন চাষে আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে।

পুষ্টি গুণে ভরপুর বাজারে এখানকার ড্রাগন ফল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা দরে। গত বছরের বন্যায় কৃষকদের ড্রাগন বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও ঘুরে দাঁড়াতে এ বছর আবার জমিতে আবাদ করেছেন ড্রাগন বাগান। জেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল মাত্র সাড়ে ৩ হেক্টর। পুরো জেলার মধ্যে মাদারীপুর সদরেই এ ফলের চাষ হয়েছে বেশি।

একটি ড্রাগন ফলের বাগানে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামের সজিব হোসেন সাদ্দাম থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভুটান ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে ড্রাগন ফলের চাষ দেখে বাগান করার আগ্রহ জাগে তার মধ্যে। দেশ-বিদেশ থেকে উন্নত জাতের প্রায় ৫ হাজার ড্রাগন ফলের চারা সংগ্রহ করে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। 

২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে সাড়ে ৩ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করে সফলতা আসার আগেই আকস্মিক বন্যায় তার বাগানের ড্রাগন গাছের গোড়া পচে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এ বছর জানুয়ারী মাসে আবার শুরু করেন ড্রাগন ফলের চাষ। তাদের এ বাগানে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। মাসে দুইবার ফুল আসে গাছে। একটি খুঁটিতে চারটি করে গাছ লাগানো হয়। প্রতিটি খুঁটি থেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ কেজি ফল সংগ্রহ করতে পারেন কৃষকরা।

উদ্যোক্তা সজিব হোসেন সাদ্দাম বলেন, ‘আমি বিদেশে গিয়ে যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছি, তার অর্ধেকও এখন করতে হয় না। অথচ আয় বিদেশের চেয়ে একটুও কম নয়। প্রতিদিন ড্রাগন বাগান পরিচর্যা করি। এখান থেকে আয় আসে। আশা রাখি আর বিদেশে যাওয়ার নামও নিবো না। আমার এই বাগান দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ মাদারীপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার লোকজন আসছে এবং ড্রাগনের চারা নিয়ে বাগান করছেন।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এবছর জেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করা সম্ভব হয়েছে। যা গত বার ছিল সাড়ে তিন হেক্টর। আশা করছি, এই ৫ হেক্টর জমিতে সাড়ে ১২ টন ড্রাগন ফল উৎপাদন সম্ভব হবে এই বছর। আগামীতে চাষাবাদ বাড়াতে কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নতজাতের বীজ দেয়া হবে কৃষকদের।’

মাদারীপুরের ড্রাগন চাষীদের মধ্যে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হলে জেলার চারটি উপজেলায় ড্রাগন চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এমনটাই

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ছাদকৃষি

লিটনের ছাদ বাগানে ৩০ ধরনের ফল

বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করে সফলতা পেয়েছেন সিংড়ার বই ব্যবসায়ী তারেকুজ্জামান লিটন। তার দুইতলা বাড়ির ছাদে এখন শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি গাছের ডালে প্রায় ৩০ ধরনের ফল। তার এই সফলতায় ছাদ বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকেই।

সিংড়া পৌর শহরের পেট্রোলবাংলা মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সত্ত্বাধিকারী তারেকুজ্জামান লিটন। ২০১৬ সালে নিজের বাড়ির ছাদে ফলের বাগান শুরু করেন তিনি। নাটোর, বগুড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল গাছ সংগ্রহ করে ছাদ বাগান তৈরি করেছেন। এরপর থেকে তার নিরলস প্রচেষ্টায় ৫ বছরে বাগানে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য ফল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দার্জিলিং মাল্টা, ভেরিকেডেট মাল্টা, থাই মাল্টা, বারি-১ মাল্টা, ছিডলেস লেবু, কট লেবু, বারোমাসি আমড়া, থাই পেয়ারা, জাম্বুরা, দার্জিলিং কমলা, মিষ্টি জলপাই, মারোমাসি আম, মিয়াজাকি আম, ব্যানানা ম্যাংগো, আপেলকুর বড়ই, ছবেদা, কাঁঠাল, থাই ডালিম, ড্রাগন, ত্বীন ফল, লাল পেয়ারা, কামরাঙ্গা, মালবেরিসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল রয়েছে লিটনের ছাদ বাগানে। এছাড়াও গোলাপ, মাধবীলতা, টগরসহ কয়েক ধরনের ফুল গাছও রয়েছে।

তারেকুজ্জামান লিটন বলেন, গাছ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসা থেকেই এ ছাদ বাগানের জন্ম। এখান থেকে ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের দেয়া হয় এই বাগানের ফল। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফল গাছ সংগ্রহ করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাগানটি আরো বড় করার ইচ্ছে আছে।

লিটনের ছাদ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশের ছাদে বাগান করেছে তার ভাতিজা কলেজপড়ুয়া নোমান। তিনি জানায়, আমার চাচা ছাদ বাগানে সফলতা পেয়েছে। তার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমিও বাগান করেছি। অবসর সময় ছাদেই কাটাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সেলিম রেজা বলেন, তাঁর ছাদ বাগানের কথা শুনেছি, কখনও যাওয়া হয়নি। এছাড়াও কেউ ছাদ বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নালিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

মাগুরায় নালিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কম পরিশ্রমে লাভ বেশি হওয়ায় জেলায় কৃষকরা বর্তমানে এ চাষে ঝুঁকছেন।

গ্রীষ্ম মৌসুমে বাজারে উঠতে শুরু করেছে বাঙ্গির বিকল্প ফল নালিম।  

মাগুরা সদরের ইছাখাদা, মুছাপুর, সত্যপুর, হাজরাপুর, হাজিপুর, নালিয়ালডাঙ্গি, শিবরামপুর ও নড়িহাটি গ্রামে হচ্ছে নালিমের চাষ। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও মাগুরায় নালিমের ফলন তেমন ভালো হয়নি।  

স্থানীয় চাষিরা বাংলানিউজকে জানান, উপযুক্ত সময়ে নালিমের বীজ রোপণ করেছেন তারা। কিন্তু তীব্র খরায় ও তাপদায়ে এবার নালিমের অনেক গাছ মরে যাওয়ায় ফলন তেমন ভালো হয়নি।

মাগুরা সদরের ইছাখাদা গ্রামের রজব আলী মোল্যা বাংলানিউজকে বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে নালিমের চাষ করেছি। এরইমধ্যে জমি থেকে নালিম তুলেছি। তবে এবার প্রচণ্ড তাপদায়ে নালিমের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি। গত বছর যেখানে নালিমের বাম্পার ফলন হয়েছিল, সেখানে এবার ফলন খুবই কম। এবার জেলার বাইর থেকে অনেক ব্যাপারি নালিম কিনতে আসছেন কিন্তু উৎপাদন ভালো না হওয়ায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। তার কারণ প্রচণ্ড খরতাপে নালিমের গাছ মরে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ফলন বিপর্যয় হওয়ায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।  

রজব আলী মোল্যা আরও বলেন, আমাদের উৎপাদিত নালিম ঢাকা, মাদারীপুর, শিবচর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। ব্যাপারীরা প্রতি বছর ট্রাক ভর্তি করে নালিম নিয়ে যান। এবার প্রতি ট্রাক নালিম ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর এক লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করেছি।

মাগুরা কৃষি বিভাগ বলছে, এবার জেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে নালিম চাষ হয়েছে। নালিম একটি পুষ্টিকর ফল। বাঙ্গির বিকল্প ফল হিসাবে নালিমের কদর অনেক। বর্তমানে রমজান মাসে নালিমের চাহিদা বেড়েছে। বাজারে এখন প্রতি পিস নালিম ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জেলায় দিন দিন এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগামী দিনেও নালিম চাষ করতে জেলার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

হরেক গুণের ফল চালতা

আমি চলে যাবো বলে, চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে– নরম গন্ধের ঢেউয়ে?’ অদেখা চালতা ফুলকে ঘিরে জীবনানন্দ দাশের এমন আক্ষেপ এই বর্ণমালাকে প্রতিধ্বনিত করে রেখেছে।

বর্ষায় তার দেখা মেলে। দৃষ্টিনন্দন এই ফুলটি গাছের শাখায় ফুটে প্রকৃতির শুদ্ধতার জানান দেয়।

বিস্মিত করে সৌন্দর্যপিপাসু পথিকের এ হঠাৎ দেখা। ফুলের দিকে ভালো করে তাকালে দেখা যায় মৌমাছিসহ নানা কীট পরাগায়নের জন্য এক ফুল থেকে অপর ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং উদ্ভিদ গবেষক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, চালতার ইংরেজি নাম ‘Elephant Apple’; মানে হাতির আপেল। আর বৈজ্ঞানিক নামটি হলো Dillenia indica। হাতি এটি খায় এবং তার বিষ্ঠার মাধ্যমেই এই গাছটি বিস্তার লাভ করে। হাতি এই চালতা ফল খেয়ে যখন টয়লেট করে তখনই সেই বীজ উপযুক্ত স্থানে পড়ে চারা গজায়। এটা শক্ত ধরনের ফল; তাই হাতি ছাড়া অন্য প্রাণীরা এটি খেতে পারবে না। তবে বানররাও এ ফল খেয়ে থাকে।

এর ওষুধিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কফ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে চালতার রস অনেক কার্যকরী। স্টোমাকে ডিজঅর্ডার (পাকস্থলিতে পীড়া) হলে এটি খাওয়া হয়। পরিপাকতন্ত্র যখন ঠিকমতো কাজ করছে না তখন এর রস সেবন করা হলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও চালতা দিয়ে চাটনি, জ্যাম-জেলি প্রভৃতি বানানো হয়। মানুষ রান্নায় বিভিন্ন উপকরণের এটি তৈরি করে খায়। এটি যেহেতু একটু টক জাতীয় তাই রান্নায় একটি অন্য তরকারির সঙ্গে খেতে ভালোই লাগে।

সব দিকে বিবেচনায় চালতা গাছ ফরেস্টের (বনের) গুরুত্বপূর্ণ কম্পনেন্ট (উপাদান) বলে জানান ড. জসীম উদ্দিন।

ফুল সম্পর্কে অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, চালতার ফুল অনেক বড় এবং সিঙ্গেল (একক হয়ে থাকে)। এ ফুলগুলো গাছের শাখার শীর্ষে হয়। তবে এ ফুলগুলো নিম্নমুখী অর্থাৎ নিচের দিকে মুখ করে ঝুলে থাকে। এর মাঝে পাঁচটা স্থায়ী বৃতি থাকে। যেগুলো ফুলের শরীরকে চেপে ধরে রাখে। এই ফুলে পাঁচটি সাদা পাপড়ি রয়েছে। এগুলো ঝরে যায়। ফুলের চারদিকে প্রচুর পুংকেশর বা পুষ্পরেণু দুটো সারিতে বিন্যস্ত থাকে। এর গর্ভপত্র বা গর্ভকেশর রয়েছে পনেরোটি। প্রতিটা গর্ভপত্রে ৫টি করে বীজ হয়। এ বীজগুলো পাল্পের (রসালো অংশ) ভেতরে থাকে। এখন কোনো প্রাণী যখন এই ফলটি চিবিয়ে খায়, তখন বীজ আর হজম হয় না। প্রাণির বিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলো মাটিতে পড়ে অপেক্ষা করতে থাকে; অনুকূল পরিবেশ পেলেই সে বীজ থেকে কুঁড়ি উঁকি দেয়। ‘এই চালতা উদ্ভিদ আমাদের দেশে এখন বিপন্ন। এখন তো এ উদ্ভিদটি দেখাই যায় না। আমাদের ঢাকা শহরে দু-একটা গাছ আছে। আমার গার্ডেনে একটা গাছ রয়েছে। আসলে আমরা বনের মূল কম্পোনেন্ট যে টিম্বারের দিকে নজর দিতে গিয়ে প্রাকৃতিক বনের এসব উপকারী গাছগুলোর প্রতি অবহেলা করেছি।

ফলে ওরা বিপন্ন এবং কোনো কোনো গাছ তো দুস্প্রাপ্য কিংবা বিলুপ্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। যেহেতু এ গাছ ওষুধি গুণাগুণসম্পন্ন, এর ফুল দেখতে অত্যন্ত সুন্দর, ফুলে সুগন্ধ আছে, পরিবেশবান্ধব এবং বিপন্ন তাই এই উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রকৃতিতে রক্ষা করা করা উচিত। ’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আনারসের যত উপকারিতা

মানব শরীরের জন্য আনারস খাওয়া খুবই জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক আনারসের উপকারিতা।

ক্যানসার প্রতিরোধক: অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ আনারাস ফ্রি রেডিক্যালস ধ্বংস করে ও সেল ড্যামেজ রোধ করে। এটি অথেরোসক্লেরোসিস, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস ও বিভিন্ন প্রকার ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি করে।

প্রদাহ ও ইনফেকশন: আনারসে রয়েছে ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন। এই এনজাইমগুলো প্রোটিন ভ‍াঙে ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি করে। তাই ঠাণ্ডা-কাশিতে প্রচুর পরিমাণে আনারস খান।

পুষ্টির অভাব দূর করে: আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আনারস খেলে দেহে এসব পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকবে না।

হজমশক্তি বাড়ায়: আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

হাড় সুস্থ রাখতে: আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ওজন কমায়: শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। সকালের যে সময়ে ফলমূল খাওয়া হয় সে সময় আনারস এবং সালাদে আনারস ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান।

চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।

ব্রণ ও দাগ: আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা ডার্ক স্পট ও ব্রণ দূর করে একইসঙ্গে ত্বকের টোন উন্নত করে। স্কিন টাইটনিংয়েও আনারসের জুড়ি নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দেশের লবণাক্ত জমিতে সৌদির খেজুর, দুই বছরেই ধরেছে ফল

সমুদ্র উপকলীয় জেলা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার নদী ও খালের পানি থাকে শুরু করে জলাভূমির মাটিও লবণাক্ত। লবনাক্ততার কারণে ফসল ভালো না হলেও জলাভূমি বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের উর্বর ক্ষেত্র। সেই রামপালের সন্ন্যাসী গ্রামের হাজিপাড়ায় সৌদি আরবের খেজুর চাষ করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন বাগেরহাটের অ্যাডভোকেট দিহিদার জাকির হোসেন। ১৫ একর মাছের খামারের বেড়িবাঁধ এখন আড়াই হাজার সৌদি আরবের খেজুর গাছ লাগিয়ে মাত্র দুই বছরেই ফল হয়েছে শতাধিক গাছে। এক একটি গাছ থেকে গড়ে আধা মনের অধিক পাকা খেজুর পাওয়া গেছে। 

রামপালের মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের হাজিপাড়ায় ২০১৪ সালে নিজের ১৫ একর জমিতে নয়টি পুকুর খনন করে মাছের খামার করেন জাকির হোসেন। খননকৃত পুকুরের বেড়িবাঁধের উঁচু জমিতে পেঁপে, কুলসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণ করেন। কিন্তু লবণাক্ততার কারণে এসব গাছে ফলন ভালো না হওয়ায় রাস্তার পাশে দেশি খেজুর গাছে ফলন দেখে একপর্যায়ে সৌদির খেজুর চাষের বিষয়টি মাথায় আসে তার। ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ২০০ ও  নরসিংদী থেকে আরও ১০০ সৌদি খেজুরের চারা এনে বেড়িবাঁধের জমিতে রোপণ করেন তিনি। বর্তমানে শতাধিক খেজুর গাছের ফল কাটা শেষ করেছেন। এক বছরের মধ্যে অন্তত আরও ২০০ গাছে ফল দেওয়া শুরু হবে। বর্তমানে এই সৌদি খেজুর খামারে আজোয়া, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার ও বারহী জাতের ২৫০০ খেজুর গাছ রয়েছে। দেখভাল করার জন্য সার্বক্ষণিক ৩ জন শ্রমিক রয়েছে। 

Bangladesh Pratidin

লবনাক্ত জমিতে সৌদি খেজুর ফলিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়া খামারটির শ্রমিক শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের প্রথমে মালিক সৌদি খেজুরের চারা লাগালে এলাকার মানুষ জানার পরে তারা বিদ্রুপ করা শুরু করে। লোকজন মালিককে পাগল বলে তারা আমাদের খেপাত। কৃষি বিভাগও খেজুরের এই খামারটি দেখতে আসতো না। আমরা সার্বক্ষণিক মালিকের নির্দেশনা মেনে গাছের গোড়ায় জৈব সার, পানি ও বিভিন্ন প্রকার ওষুধ দিয়ে থাকি। সঠিক পরিচর্যায় লাগানো প্রতিটি গাছ বেঁচে রয়েছে। শতাধিক গাছে ফল এসেছে, গাছ থেকে খেজুরের ছড়া কাটা হচ্ছে। অনেকেই এখন দেখতে আসছে। 

স্থানীয়রা জানান, প্রথম আমরা জাকির ভাইয়ের কাজ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি টাকার গরমে যা ইচ্ছে তাই করছেন। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, তিনি অনেক দূরদর্শী মানুষ। আমরা চিন্তা করছি নিজেদের চিংড়ি ঘেরের পাড়েও লাগাবো সৌদির খেজুর।

সৌদির খেজুর খামারী জাকির হোসেন জানান, ২০১৯ সালে ‘রামপাল সৌদি খেজুর বাগান’ নাম দিয়ে এই খামার শুরু করি। ময়মনসিংহ ও নরসিংদী থেকে আনা ৩০০ খেজুর গাছ লাগাই। লবনাক্ত জলাভূমিতে সৌদি খেজুর বাগান করা যায়, তা খোদ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কল্পনারও বাইরে ছিলো। এলাকার লোকজন আমাকে পাগল বলতেও ছাড়েনি। মাত্র দু বছরের মধ্যেই আমি সফল হয়েছি। বর্তমানে শতাধিক খেজুর গাছের ভালো ফলন হয়েছে। এক বছরের মধ্যে অন্তত আরও ২০০ গাছে ফল দেওয়া শুরু হবে। বর্তমানে এই সৌদি খেজুর খামারে আজোয়া, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার ও বারহী জাতের ২৫০০ খেজুর গাছ রয়েছে। পাশাপাশি আরও দুই হাজারের ওপরে চারা রয়েছে। এছাড়া বিচির তৈরি আরও আড়াই হাজার চারা প্রস্তুত রয়েছে আমার নার্সারিতে। এ বছরই অনেক গাছে ২৫ কেজি থেকে ৩৩ কেজি পর্যন্ত খেজুর হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরের মধ্যে বাগান থেকে লাভে যেতে পারবেন বলে জানান এই খামারী। 

লবনাক্ত জলাভূমিতে সৌদি খেজুরের বাগান করতে ইচ্ছুক নতুন খামরীদের উদ্যেশ্যে জাকির হোসেন জানান, এই খেজুর গাছটি মরু অঞ্চলের গাছ, যার ফলে আমাদের এই অঞ্চলে খাপ খাওয়াতে একটু বেগ পেতে হয়। গাছের গোড়ায় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দিতে হয়, পানি কম হলেও বাঁচবে না, আবার বেশি হলে পচে যাবে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব। নারকেল ও শুপারি গাছের নতুন রোগ হোয়াইট ফ্লাই ও শুতিমূলের আক্রমণটা বড় ভয় এ খেজুর গাছের। এ জন্য সব সময় খেয়াল রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে ইঁদুরের জ্বালাতন। খেজুর গাছের শিকড় কেটে দেয়, আবার ফলও কাটে। ইঁদুরের জন্যও আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। শীত ও বর্ষা মৌসুমে পানি দিতে না হলেও গরম অর্থ্যাৎ মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে সেচ দিতে হয়। আমার চারপাশে যেহেতু লবনাক্ত পানি তাই গভীর নলকূপের মাধ্যমে এ পানি দিয়েছি।

তিনি বলেন, কলম এবং বিচি দুইভাবেই সৌদির খেজুরের চারা তৈরি হয়। তবে, বিচির চারার বেশিরভাগ পুরুষ হয়ে যায়। যার ফলে ফল আসে না। তাই নতুন যারা শুরু করবেন, তাদের কলমের (অপশুট) চারা কিনতে হবে। 

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সৌদির খেজুর মরুভূমির ফসল। তবে, লবনাক্ত জলাভূমিতে এ খেজুর চাষে জাকির হোসেন সফলতা পেয়েছেন। এ খেজুরের স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উৎপাদনের পরিমাণ অনেক ভালো। লবণাক্ত এলাকার জন্য এটি একটি দৃষ্টান্ত। তার এ উদ্যোগ সফল হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে সব ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com