আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই

দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই
দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই – প্রথম আলো

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বস্তিতে পরিবারসহ বাস করেন মালা বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসার সামনের রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম ছিল ৩০ টাকা। এখন সেটা ৩৫ টাকা।

‘আমরা দুজন পাঁচ মাস ধরে ঘরে বসা’—আলাপের শুরুতেই জানালেন মালা বেগম, যিনি করোনাকালের আগে তিনটি বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করতেন। আয় ছিল মাসে ৯ হাজার টাকা। দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যেদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলো (২৬ মার্চ), সেদিন থেকে তিনি বেকার। দূরপাল্লার বাসের চালক স্বামীরও এত দিন কাজ ছিল না।

মালা বেগম বললেন, সংসারের খরচ থেকে একটু একটু বাঁচিয়ে ৭০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। করোনায় সব শেষ। কয়েক দিন আগে দুই হাজার টাকা বেতনে এক বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ পেয়েছেন। এ জন্য আগারগাঁও থেকে মণিপুরীপাড়া পর্যন্ত হেঁটে যান। বাসে যান না কেন? মালার জবাব, ‘এত ভাড়া দিয়ে বাসে চললে খাব কী?’বিজ্ঞাপন

মালা নিজেই বাজার করেন। জানালেন, তাঁর সংসারে যা নিয়মিত কিনতে হয়, সবকিছুর দামই বেশি। যা এখনকার কোনোরকমে বেঁচে থাকার সময়ে তাঁর সংসারের খরচ অনেকটাই বাড়িয়েছে।

মালা বেগমের কথা যে সত্যি, তা বাজারে গেলেই টের পাওয়া যায়। এখন চালের দাম চড়া। ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৩–৪ টাকা বাড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের অ্যাংকর ডালের দাম প্রতি কেজি ৫ টাকা বেড়েছে। বেশির ভাগের সবজির কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ডিমের দাম কোনোভাবেই কমছে না। প্রতি ডজন ১১০ টাকা। দাম কম কেবল ব্রয়লার মুরগির। কিন্তু মুরগি রান্না করতে আদা কিনতে হবে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা দরে, যা ঈদুল আজহার আগেও ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করেন, এমন দুটি বাজার (শেওড়াপাড়ার অলি মিয়ার টেক ও পশ্চিম আগারগাঁও কাঁচাবাজার) ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম প্রতি কেজি ৪৩ টাকা। এই চাল আবার অনেক পুরোনো ও একটু গন্ধযুক্ত। ভালো মানের মোটা চাল কিনতে লাগছে প্রতি কেজি ৪৬ টাকা। যা সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক বছর আগের তুলনায় দাম ২৮ শতাংশ বেশি।বিজ্ঞাপন

একদিকে বহু মানুষের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।

গোলাম রহমান, সভাপতি, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

স্বস্তি নেই মাঝারি মানের বিআর–২৮ ও সরু মিনিকেট চালের দামেও। মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল কিনতে প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা লাগছে। আর সরু মিনিকেট চালের কেজি বাজারভেদে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এখন মাঝারি মানের চালের দাম ৯ শতাংশ ও সরু চালের দাম ১৫ শতাংশ বেশি।

বাজারে দাম যখন বাড়তি, তখন মানুষের আয় পরিস্থিতি খারাপ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং ওয়াল্টার এলিজা হল ইনস্টিটিউট, অস্ট্রেলিয়ার এক যৌথ গবেষণা বলছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকার নির্দেশনার সময়কালে ৯৬ শতাংশ পরিবারের গড় আয় কমেছে।

ওই সময় আয় কমে যাওয়া মানুষদের একজন পীরেরবাগের আফসানা সুজের বিক্রয়কর্মী আলামিন হোসেন। ওই সময় দুই মাস বেতন না পেয়ে যে ঋণ হয়েছিল, এখন বাজারে ব্যয় সাশ্রয় করে তা শোধ করছেন তিনি।

আলামিনের কৌশলটি খুব সাধারণ। সেটি হলো, ইচ্ছেমতো মাছ-মাংস কেনা বন্ধ রাখা। বললেন, ‘ধরেন আগে চিংড়ি কিনতাম, এখন তেলাপিয়া কিনি। বেশির ভাগ দিনই শাকসবজি ও ভর্তা দিয়ে খেয়ে নিই।’বিজ্ঞাপন

খরচ বাড়ার আরও খাত

একটি কোম্পানির বিপণনকর্মী আসাদুজ্জামানকে প্রতিদিন মিরপুর থেকে ধানমন্ডি যেতে হয়। করোনাকালের আগে বাসভাড়া ছিল ২৫ টাকা। এখন সেটা ৪০ টাকা। দিনে তাঁর যাতায়াত খরচ বেড়েছে ৩০ টাকা, মাসে ৭৮০ টাকা। যা তাঁর বেতনের সাড়ে ৬ শতাংশ।

বাড়তি ভাড়া আসাদুজ্জামান মেনে নিতেন, যদি স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হতো। তিনি বলেন, প্রায়ই বাসে বাড়তি লোক নেয়। ফলে বেশি ভাড়া দেওয়ার কোনো সুফল নেই।

ঢাকার গুলশানের একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন মো. কামরুজ্জামান। তাঁর বেতন কমেছে ১০ শতাংশ। কিন্তু খরচ বেড়েছে। কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবাণুনাশক ও মাস্ক কেনা এবং বাসের বদলে অটোরিকশায় চলতে এই বাড়তি খরচ।

আগারগাঁওয়ের গরুর খামারি মো. মানিকের খরচ বেড়েছে অন্যভাবে। তিনি বলেন, গরুর জন্য খুদ (ভাঙা চাল) কিনতে ৫০ কেজির বস্তায় দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, যা ছয় মাস আগে ৯০০ টাকা ছিল। ফলে ৯০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করে লাভ থাকছে না। তাঁর আয়ের উৎস গরুর দুধের ক্রেতাও এখন কম। করোনার ভয়ে ক্রেতারা তাঁকে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে দেন না।বিজ্ঞাপন

সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে

বাজারে দাম বেড়ে গেলে সাধারণত ট্রাকে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কর্মসূচি (ওএমএস) নেওয়া হয়। এখন তা নেই। তবে বিভাগীয় শহরের ২৮১টি দোকানে দিনে এক হাজার কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের গুদামে চালের মজুত খুব বেশি নয়। বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যের অর্ধেক। এ সময় ওএমএস চালুর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (বণ্টন) আমজাদ হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে উচ্চপর্যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

টিসিবি ৫০ টাকা কেজিতে চিনি ও ডাল এবং ৮০ টাকা লিটার দরে ভোজ্যতেল বিক্রি করত। সেই কার্যক্রম গতকাল শেষ হয়েছে। টিসিবি ভালো পণ্য বিক্রি করে সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সামান্যই। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা প্রতি মাসে ১২–১৩ দিন তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি করেন।

বাজারে তেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর কমানোর সুপারিশ করেছিল, যা আমলে নেওয়া হয়নি। করোনাকালে বাসভাড়া বাড়ানোর বদলে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে বাস মালিকদের ক্ষতি পোষানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু তাতে কান না দিয়ে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, একদিকে বহু মানুষের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এখন চালের মজুত বাড়িয়ে খোলাবাজারে বিক্রি বাড়ানো। টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য বিক্রি করা, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়।

এগ্রোটেক

যান্ত্রিকীকরণ বাড়াবে তরুণ উদ্যোক্তা

যান্ত্রিকীকরণ বাড়াবে তরুণ উদ্যোক্তা

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বদলায় নির্ভরতার ধরণও। একসময় বৃষ্টি মেঘ আর রোদের হিসেবে বীজ বপন, চারা রোপণ বা ফসল ঘরে তোলার কাজ হলেও এখন নির্ভরতা যন্ত্রে। দেশে জিডিপির প্রায় একপঞ্চমাংশ আসে কৃষি খাত থেকে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থানও ঘটে কৃষিকে অবলম্বন করেই। সময়ের সাথে সাথে সেই জলবায়ু ও প্রকৃতিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গত ২৫ বছরে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি শস্য উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে, তেমনি শস্য সংগ্রহের পর অপচয়ও কমেছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কৃষি আধুনিকায়নে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়। এখন তরুনরাও আগ্রহী হচ্ছে কৃষিতে। বর্তমানে কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ শতাংশ তরুণ, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসা কৃষকদের গড় বয়স ৩৫।

বাংলাদেশে এই প্রথম এসেছে ৭ সারির রাইডিং টাইপ রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। সম্প্রতি মধুপুর বি এ ডি সি বীজ উৎপাদন খামারে এ সি আই মটরস-এর আমদানিকৃত এই ইয়ানমার রাইডিং টাইপ ট্রান্সপ্লান্টারের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায় ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে এক ঘন্টায় চারা রোপন করা সম্ভব। যার ফলে সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে ঠিক তেমনি উৎপাদন খরচও কমে আসছে। এছাড়াও ইয়ানমার ওয়াকিং টাইপ ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে প্রায় ৪০ মিনিটে ১ বিঘা জমিতে চারা রোপন করা যায়। এটি ৪ সারির যন্ত্র যার মূল্য চার লাখ টাকা আর এতে শতকরা ৫০ ভাগ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে অন্তত ১০০ জন সরকারি ভর্তুকিতে ওয়াকিং টাইপ ট্রান্সপ্লান্টারটি সংগ্রহ করেছেন। এবং এর চাহিদা বেড়ে চলেছে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে হলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এমনটাই মনে করেন বিএডিসি’র বীজ উৎপাদন খামার এর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সঞ্জয় রায়। তিনি আরো বলেন ‘সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এর মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন খরচ কে কমিয়ে আনতে চাচ্ছে, এই ক্ষেত্রে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও ফসল কাটার জন্য হারভেস্টার একটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।’ ইয়ানমার রাইডিং টাইপ ট্রান্সপ্লান্টারে সারির সংখ্যা ৭ । প্রতি সারির মধ্যে ব্যবধান ২৫ সেন্টিমিটার আর প্রতি চারার মধ্যে ব্যবধান রাখা যায় ১০ থেকে ২২ সেন্টিমিটার।
ইয়ানমার রাইডিং টাইপ ট্রান্সপ্লান্টার কে বাংলাদেশের জন্য খুবই উপযোগী উল্লেখ করে বিএডিসি’র বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক দেবদাস সাহা বলেন ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বোরো মৌসুমে শুধুমাত্র বৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আমরা ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে অল্প সময়ে অনেক জমি ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারবো যাতে করে আমাদের চাষী উপকৃত হবে, আমাদের দেশ লাভবান হবে।’

কৃষক মো. সালাম বলেন ‘মেশিনটা আসাতে আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে, লেবারের সাশ্রয় হয়। আগে কাজ করতে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা হয়ে যেত আর এখন পরিশ্রম করতে হয় না। এটা আমাদের মতো চাষিদের জন্য খুবই কার্যকরি।’
কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন ‘আগে আমাদের দেড় একর জমি লাগাতে ষোলো জন লোক লাগতো। মেশিন আসাতে লোক লাগে দুই জন আর মেশিনে ৫- থেকে ৬ লিটার তেল লাগে। মেশিনে লাইনগুলা সোজা হয়, নিড়ানের জন্য খুব সুবিধা হয়।
ট্রান্সপ্লান্টার তরুণদের কৃষিখাতে আগ্রহী করবে বলে মন্তব্য করেন, এ সি আই মটরস লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যদি ট্রান্সপ্লান্টার একটা নিয়ে বছরে ৭৫ দিন আসেপাশের মানুষের জন্য ট্রান্সপ্লান্টিং করে দেয় তাহলে আমার ধারণা সে বছরের আড়াই লাখ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারবে। এখন তো মানুষ গ্রামে ফিরে যাচ্ছে বিশেষ করে তরুনরা জবলেস হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য এটা একটা ভাল অপশন হতে পারে।’

এ সি আই মটরসকে ধন্যবাদ দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরুণ উদ্যোক্তা দেবাশীষ কর তিনি জানালেন, ছাত্রজীবন থেকেই কৃষি যন্ত্রের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়, পড়া লেখা শেষে গ্রামে ফিরে তিনি একটি হারভেস্টর কিনেন। তিনি আরো বলেন ‘আমি এই প্রোডাক্টটা নেওয়ার পর থেকে এ সি আই মটরস এর কাছ থেকে সার্ভিসটা পেয়েছি, ছয় ঘণ্টার মাঝে অন স্পট সার্ভিস, এই সার্ভিস টা খুবই ভালো একটা সার্ভিস ছিল। এমন কখনো হয় নাই যে আমাকে সার্ভিসিং এর জন্য বসে থাকতে হয়েছে।’
দেবাশীষ করের মতো অনেকেই ভর্তুকি মূল্যে যন্ত্র কিনে উদ্যোক্তা হচ্ছেন। এক্ষেত্রে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার হতে পারে অপার সম্ভাবনার একটি যন্ত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

করোনাকালে কৃষিকে পথ দেখাল তথ্যপ্রযুক্তি

হাওরের ধানকাটা থেকে শুরু করে আম-কাঁঠাল বা কোরবানির পশু বেচাকেনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

নতুন ধরনের আধুনিক কৃষির সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কৃষি বায়োস্কোপ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন তালহা জুবায়ের মাসরুর। তিনি চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। তাঁর অনলাইন কৃষি চ্যানেলে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজার লোক গ্রাহক হয়েছেন। সেখানে দেওয়া ভিডিওগুলো দেখা হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটিবার।

কৃষি উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে কৃষিকাজ শেখাতে ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয় ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর। সারা দেশ থেকে নিজের খরচে সেখানে ৭০ জন উদ্যোক্তা হাজির হন। করোনার সংক্রমণের সময়েও এই উদ্যোগের সফলতা মাসরুরকে উৎসাহী করেছে।

মাসরুর জানান, নতুন ধরনের ফসল ও ফলের চাষাবাদ কৌশলের পাশাপাশি তিনি কৃষিপ্রযুক্তিকে তাঁর কৃষি বায়োস্কোপ চ্যানেলের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। গ্রাহকদের অনুরোধে ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উৎসাহে তিনি কর্মশালার আয়োজন করেন।

শুধু এই তরুণ কৃষিবিদের উদ্যোগই নয়, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের কৃষির প্রতিটি খাতে তথ্যপ্রযুক্তি আশীর্বাদ হয়ে হাজির হয়েছে। হাওরের ধানকাটা থেকে শুরু করে পেকে যাওয়া আম-কাঁঠাল বা কোরবানির গরু-ছাগল হাটে না নিয়ে বেচাকেনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও অনেক কাজ করতে হবে। বিশ্বজুড়ে কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির যেসব নানাবিধ ব্যবহার শুরু হয়েছে, তা বাংলাদেশেও ব্যবহার করতে হবে। এবার বাংলাদেশে মূলত কৃষি উপকরণ সংগ্রহ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রিতে প্রযুক্তি কাজে লেগেছে। কিন্তু কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো, পঙ্গপাল ও ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’–এর মতো নিত্যনতুন পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম খবর কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও এগোতে হবে।

বোরো পাকল আর করোনা এল

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর সময়টাতে মাঠে ছিল বোরো ধান। ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে রোগটিও মার্চ থেকে এপ্রিলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ধান পাকার পর তাই হাওরে দেখা দেয় শ্রমিকের সংকট। একদিকে উজান থেকে আসা আগাম বন্যার ভয় আর অন্যদিকে শ্রমিকের অভাবে মাঠের পাকা ধান কাটতে পারা নিয়ে সংশয়—এই যখন অবস্থা, তখন কৃষকের সবচেয়ে বড় সহায় ছিল ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম—সব জায়গা থেকে শ্রমিক এসে হাওরে হাজির হন। বন্যা আসার আগেই কাটা হলো সব ধান।

ধানকাটা শেষে জ্যৈষ্ঠের মিষ্টি ফল নিয়ে কৃষকের বিপদ বাড়তে থাকে। আম, কাঁঠাল, লিচু ও তরমুজের মতো দ্রুত পচনশীল ফল বাগান থেকে পেড়ে দ্রুত শহরে নিতে হবে। হাটে-বাজারে পৌঁছাতে হবে, না হলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে—এই ভয়ে দেশের চাষিরা যখন দুশ্চিন্তায়, তখনো অনলাইন দোকান ও বাজারে এসব ফল বিক্রির আয়োজন হয়। সাড়াও পাওয়া যায় ভালো। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ফ্রুটস ফর দ্য কান্ট্রি নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে ফল বিক্রি হয় ওই সময়।

এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দেশের কৃষি উৎপাদনে শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এবার এর সঙ্গে ধানকাটার ক্ষেত্রে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছি। সামনে তা আরও বাড়ানো হবে।’

অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রিতে বিপ্লব

জুলাই মাস থেকে শুরু হয় দেশের গ্রামীণ জনপদের অন্যতম অর্থকরী সম্পদ গবাদিপশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা। একদিকে বন্যায় নতুন নতুন জেলা প্লাবিত হওয়া, অন্যদিকে সারা বছর ধরে লালন-পালন করা গরু–ছাগল করোনার কারণে কোরবানির হাটে তোলা বা বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। তখনো কৃষকের সহায় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি। গত কোরবানির হাটে বিপুল পরিমাণ গরু–ছাগল বিক্রি হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। সরকার থেকে তৈরি করা ডিজিটাল হাট তো ছিলই, সেই সঙ্গে ফেসবুক, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ কাজে লাগিয়ে গ্রামপর্যায়ে কৃষক গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন। হাটের সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকার বিড়ম্বনা কাটিয়ে খামারের গবাদিপশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দেখে অনেকে পছন্দ করেছেন। পরে খামারে গিয়ে দরদাম করে গরু-ছাগল কিনেছেন।

গত ঈদে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাত্র ছয় হাজার গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছিল। এ বছর তা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে। গবাদিপশুর দাম পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিকাশ, নগদের মতো অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে গবাদিপশু বিক্রিতে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের যে অভিজ্ঞতা পেলাম, তা আগামী দিনে আরও ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগানো হবে।’

মধ্যস্বত্বভোগী কমেছে

গত ১৯ আগস্ট করোনাকালে বাংলাদেশের কৃষিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। তাতে বলা হয়, এপ্রিল থেকে আগস্ট করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ওই সময়ে কৃষক কৃষি দপ্তরগুলোতে গিয়ে তথ্যসেবা খুব বেশি নিতে পারেননি। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষক, শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশ কাটিয়ে উৎপাদন ও ভোক্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ৮ জেলায় স্থাপন করা ৫৭টি ভার্চ্যুয়াল কল সেন্টারে শুধু আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৩০ হাজার ছোট ও মাঝারি চাষি তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিয়েছেন। তাঁরা দেশের প্রতিষ্ঠিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত কোম্পানির কাছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পণ্য সরাসরি বিক্রি করেছেন। আর ওই পণ্যের মূল্য নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা ৫৯ লাখ টাকার কৃষি উপকরণও কিনেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চলমান কোভিডের অতিমারির কারণে দেশের কৃষিসহ সব খাতের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। কোভিডের এই ধাক্কা যাতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের গায়ে কম লাগে, তার জন্য শুরুতেই বিশেষ পাঁচটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্যে ক্যাশআউট চার্জ এক–তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘এর বাইরে কোরবানির সময় অনলাইনে গরু-ছাগল কেনাবেচার লেনদেনেও আমরা অংশ নেই। একই সঙ্গে এপ্রিল মাসে যখন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তখন ডাক বিভাগের সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পণ্য এনে ঢাকায় বড় বড় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করি।’

  • বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র আটটি জেলায় স্থাপন করা ৫৭টি ভার্চু্যয়াল কলসেন্টারে শুধু আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৩০ হাজার ছোট ও মাঝারি চাষি তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিয়েছেন।
  • কৃষকেরা দেশের প্রতিষ্ঠিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত কোম্পানির কাছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পণ্য সরাসরি বিক্রি করেছেন। আর ওই পণ্যের মূল্য নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা ৫৯ লাখ টাকার কৃষি উপকরণও কিনেছেন।
  • মৌসুমি ফল, কোরবানির সময় গবাদিপশু বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়েছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ওই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় এক লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে।
  • সারা দেশে স্থাপন করা ১৬০০ ডিজিটাল কৃষিসেবা কেন্দ্রে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কৃষক করোনাকালে সেবা নিয়েছেন।

অভিজ্ঞতা হলো, কাজে লাগাতে হবে

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব ইউনিয়নে যে সাড়ে ৪ হাজার ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র আছে, তার মধ্যে ১ হাজার ৬০০টিতে কৃষি তথ্যসেবার ব্যবস্থা আছে। সাধারণত একেকটি কেন্দ্রে দিনে ২০০ থেকে ৫০০ কৃষক সেবা নিতেন। করোনার সময়ে কৃষকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা নেওয়ার পরিমাণ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্যবিষয়ক একটি হটলাইন নম্বর আছে। সেখানে করোনার আগের দিন পর্যন্ত দেড় থেকে দুই হাজার টেলিফোন আসত। কিন্তু মে মাসে তা বেড়ে প্রায় তিন হাজার হয়ে যায়। প্রতিদিনই কল সেন্টারে প্রশ্ন করার পরিমাণ বাড়ছে বলে সেন্টারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সরকারের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক এটুআই প্রকল্পের উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষকদের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণের বিষয়টি বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে এগোতে হতো। এখন আমরা করোনাকালে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ, যথার্থ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তার বাস্তবায়ন একই সঙ্গে করেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, আমরা সফলভাবেই করতে পেরেছি। সামনের দিনে ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে রূপান্তরের পথে এটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

দুর্যোগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে

কৃষিতে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কাজ করেন এমন গবেষকেরা বলছেন, মুঠোফোন ও তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকের হাতে হাতে দুর্যোগ–সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে। এতে ফসল উৎপাদন মার খাচ্ছে। তাই দুর্যোগ–সংক্রান্ত আগাম তথ্য দিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে। আর তা কৃষকের মুঠোফোনে পৌঁছে দিতে হবে।

বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির হিসাবে, দেশে মুঠোফোন সংযোগের সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ। গত বছর নতুন করে ৮০ লাখ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে দেশের প্রায় শতভাগ মানুষের মুঠোফোনের সংযোগ আছে। আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৮ হাজার। এর মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৩৪ লাখ। পরিবারপ্রতি হিসাব ধরলে দেশের বেশির ভাগ মানুষই ইন্টারনেটের সুবিধার আওতায় আছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও দুর্যোগবিষয়ক গবেষক এবং জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এম নাদিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বন্যার আগাম তথ্য ভারতের কাছ থেকে পাই। এটি একটি ভালো দিক। কিন্তু ওই তথ্যের ব্যবহার মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে সহজ করে পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা কৃষির উন্নয়নকে টেকসই করা যাবে না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

সম্ভাবনার ‘ডিজিটাল’ মৌ-বাক্স

লিচু চাষে প্রসিদ্ধ দিনাজপুর। লিচুর মৌসুমে মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই জেলায় ছুটে আসেন মৌচাষিরা। প্রতিবছরের মতো লিচুগাছের নিচে এবারও তাঁরা বসিয়েছেন মৌ-বাক্স। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় বলছে, লিচুবাগানে মৌ চাষের ফলে একদিকে মৌ‍চাষিরা যেমন মধু সংগ্রহ করতে পারছেন, অপর দিকে মৌমাছি লিচুর ফুলে পরাগায়ন ঘটানোর ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে লিচুর ফলন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিনাজপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, এই জেলায় এবার ৫ হাজার ২৮১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হচ্ছে। বাগানগুলোতে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩টি লিচুর গাছ। এসব লিচুর বাগান থেকে গত মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করেছেন মৌচাষিরা। চলতি মৌসুমেও ১০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪৭ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মৌসুমে দিনাজপুরে ৩ শতাধিক চাষি ১০ হাজারের বেশি মৌ–বাক্স নিয়ে মৌ চাষ করছেন। তবে এবার লিচুতে মুকুল কম ধরায় মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে দিনাজপুরের বিরল, চিরিরবন্দর ও সদর উপজেলার লিচুবাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে লিচুগাছ ঘিরে চারপাশে বসানো হয়েছে মৌ-বাক্স। বাক্স ঘিরে মৌমাছির ভোঁ-ভোঁ শব্দ। বাগানের এক পাশে তাঁবু গেড়ে অস্থায়ীভাবে বাস করছেন মৌ‍চাষিরা। এসব মৌচাষির অধিকাংশই সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাইরে থেকে আসা মৌচাষিদের মধু সংগ্রহ দেখে মৌ চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও।

বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকায় মধু সংগ্রহে এসেছেন আবদুর রশিদ (৫৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার হাটিকুমরুল থেকে এসেছেন। রশিদ জানালেন, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মৌ চাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিবছর লিচু মৌসুমে তিনি আসেন মধু সংগ্রহের জন্য। তাঁর হাত ধরে তিন শতাধিক লোক এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকায় নুরুল ইসলামের বাগানে তাঁবু গেড়েছেন আবদুর রশিদ। বাগানে বসিয়েছেন ২৫০টি মৌ-বাক্স। তার মধ্যে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া ‘ডিজিটাল’ মৌ-বাক্স রয়েছে ১৫০টি। রশিদ জানান, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন থেকে মৌ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ শেষে এবারই প্রথম ডিজিটাল এই মৌ–বাক্সগুলো তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তুরস্ক থেকে আনা এই ডিজিটাল মৌ-বাক্সগুলো কাঠের বাক্সের তুলনায় আকারে কিছুটা বড়। এর ভেতর পানি ঢোকার আশঙ্কাও নেই। কাঠের বাক্সগুলোর ফ্রেমে লোহার তার ব্যবহার করা হয়। এতে মরিচা ধরে এবং রোগজীবাণুর সৃষ্টি হয়। অপর দিকে ডিজিটাল বাক্সে মৌচাকের ফ্রেমটি ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত। কাঠের বাক্সে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার উপায় না থাকায় অনেক সময় মৌমাছি মরে যায়। অপর দিকে ডিজিটাল এই মৌ–বাক্স তাপমাত্রা–নিয়ন্ত্রিত। সর্বোপরি কাঠের বাক্স থেকে আধুনিক এই মৌ–বাক্সে দ্বিগুণ মধু পাওয়া যায় বলে জানালেন আবদুর রশিদ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি এবারই প্রথম আধুনিক এই মৌ-বাক্স থেকে পোলেন সংগ্রহ করছেন আবদুর রশিদ। তিনি জানান, ফুলের পরাগ থেকে নির্যাস সংগ্রহের সময় মৌমাছি তার পায়ে সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এই পোলেন। এই পোলেন মূলত বাচ্চা মৌমাছির খাবার। এই পোলেন জমা হয় বাক্সের পোলেন ট্রেতে। প্রতিবছর একটি বাক্স থেকে এক কেজি পর্যন্ত পোলেন সংগ্রহ করা যায়।

এ প্রসঙ্গে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মৌ চাষ নিয়ে, বিশেষত মৌ–বাক্স থেকে পোলেন সংগ্রহ নিয়ে গবেষণা চলছে। এই পোলেনের মধ্যে থাকে ভিটামিন বি। উন্নত দেশে এটি পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ক্রান্তিকালে মৌমাছির খাবার হিসেবেও ব্যবহৃত হয় পোলেন দানা। একজন মানুষ দৈনিক পাঁচ-সাতটি পোলেন দানা খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বাংলাদেশ প্রতিবছর ওষুধ তৈরির জন্য এই পোলেন বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। প্রতি কেজি পোলেনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৮ থেকে ১০ ডলার। বাংলাদেশে তাপনিয়ন্ত্রিত আধুনিক মৌ–বাক্সে ব্যাপকভাবে মৌ চাষ শুরু হলে তাতে একদিকে যেমন মধুর উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে দেশে পোলেনের চাহিদা মিটিয়ে তা রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তিতে মৌ চাষ করলে দেশে বর্তমানে ২৫ টন পোলেন সংগ্রহ করা সম্ভব।

আধুনিক এই মৌ–বাক্সের ফ্রেম বা চাক থেকে মধু সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও এসেছে পরিবর্তন। আগে বিভিন্ন রকম ময়লা–আবর্জনা, ঝুট কাপড়ে আগুন লাগিয়ে ধোঁয়া তৈরি করে চাক থেকে মৌমাছিদের সরিয়ে মধু সংগ্রহ করা হতো। বর্তমানে নতুন এই মৌ–বাক্সে একটি ছোট হাওয়া মেশিনে নারকেলের ছোবড়া ঢুকিয়ে তাতে আগুন দিয়ে ধোঁয়া তৈরি করা হয়ে থাকে। আগে টিন বা প্লেইন শিটের তৈরি মধুনিষ্কাশন যন্ত্রের মধ্যে চাক রেখে মধু সংগ্রহ করা হতো। বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত স্টিলের তৈরি মধুনিষ্কাশন যন্ত্রের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মধু সংগ্রহে আসা মৌচাষিদের সহযোগিতা করছেন লিচুচাষি ও বাগানমালিকেরা। বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকার বাগানমালিক আনোয়ারুল ইসলাম, চিরিরবন্দর উপজেলার চকমুসা বিলপাড়া এলাকার লিচুচাষি ওয়াদুদ রহমানসহ আরও কয়েকজন জানান, মৌমাছির দ্বারা ফুলের পরাগায়নের ফলে লিচুর ফলন বাড়ে। লিচু আকারে বড় হয়, রোগবালাইও কম হয়।

মৌচাষিরা জানান, দিনাজপুরে ১৫ হাজারের বেশি মৌ–বাক্সে মৌ চাষ হচ্ছে। একটি মৌ-বাক্স থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮০-১০০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা যায়। সপ্তাহে এক দিন তাঁরা বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

অ্যামাজনের শুরুটা ঠিক যেভাবে হয়েছিল

অ্যামাজনের শুরুটা ঠিক যেভাবে হয়েছিল

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন ব্যবসা এখন জমজমাট। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও। অনুন্নত দেশগুলোও হয়তো একদিন অনলাইন ব্যবসায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নেবে। তা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তারই হাত ধরে অনলাইন শপিং প্লাটফর্ম ‘অ্যামাজন’ বিশ্বে একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। যেখান থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে পছন্দমতো কেনাকাটা করা যায়। বিশ্বের অন্য সব অনলাইন শপিং প্লাটফর্মের মধ্যে অ্যামাজন বহুল আলোচিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

তবে একদিনেই পরিচিত বা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি অ্যামাজন। এর পেছনে রয়েছে ২৬ বছরের ইতিহাস। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের বাবা-মায়ের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। অ্যামাজনের কর্মীরাও পিছিয়ে নেই ১৯৩.৫ বিলিয়ন ডলার অর্জনের অবদান থেকে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই অ্যামাজনের অনলাইন ক্রেতা রয়েছে। যদিও অ্যামাজন মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এর সদর দফতর ওয়াশিংটন রাজ্যের সিয়াটলে। জেফ বেজোস ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন অ্যামাজন অনলাইনে বই বিক্রি করতো।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যাবতীয় পোশাক, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে। অ্যামাজন আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে; ২৬ বছর আগে কিন্তু তা ছিল না। অনেক প্রতিবন্ধকতা পার হয়েই প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে

দেশটির গণমাধ্যম সিএনবিসিকে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজোস জানান, ১৯৯৪ সালে অনলাইন বইয়ের দোকান চালু করার জন্য তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২৭৫,৫৭৩ ডলার নিয়েছিলেন। যদিও এতে কতটা সাফল্য আসবে তা তিনি প্রথমেই অনুমান করতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল, একশ শতাংশের মধ্যে ত্রিশ শতাংশ সফলতা আসতে পারে।

তিনি জানান, বাবা-মায়ের টাকাগুলো নষ্ট হতে পারে ভেবে মাঝেমাঝে মন খারাপ হতো। তবে হাল ছেড়ে দেননি। এ ব্যবসায় তাকে সব সময় সাহস জুগিয়েছেন তার মা। ফলে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। তার সেই কষ্টের ফলে আজ তিনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৯৩.৫ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, কানাডা, ভারত, ব্রাজিল, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ সারা বিশ্বেই তাদের ব্যবসা রয়েছে। জেফ বেজোসের এ সফলতায় তার কর্মীদের অবদানও কম নয়। তাই তো অ্যামাজনের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৭ লাখ কর্মী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্র কেনায় কৃষকদের ব্যাংকঋণ দেওয়া দরকার

দেশের কৃষির যান্ত্রিকীকরণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। জমি চাষ প্রায় পুরোপুরি যন্ত্রের মাধ্যমে হচ্ছে। এখন বাড়ছে ফসল কাটা ও রোপণে যন্ত্রের চাহিদা। কৃষিযন্ত্রের বাজার নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মেটাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব আহমেদ

প্রথম আলো: গত বোরো মৌসুমে ধান কাটার ক্ষেত্রে শ্রমিকসংকট কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে বলে অনেকে মনে করছেন। আপনাদের কী মত?

সাদিদ জামিল: দেখেন, দেশের কৃষকের গড় বয়স এখন ৪৮ বছর। তরুণেরা কৃষিকাজে যাচ্ছেন না। ধান কাটার মৌসুমে তাই শ্রমিক মিলছে না। বোরোতে আবার ধান খুব দ্রুত কেটে ফেলতে হয়। সব মিলিয়ে এবার ধান কাটা নিয়ে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা বিনা মূল্যে অনেক জায়গায় ধান কেটে দিয়েছি। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, কৃষিতে যদি যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ে, তাহলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমে। এক একর জমিতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে এখন একজন কৃষকের ১২ হাজার টাকা লাগে। যন্ত্রের ক্ষেত্রে লাগে ৭-৮ হাজার টাকা।

প্রথম আলো: এখন বাংলাদেশের কৃষিযন্ত্রের বাজার কী রকম?

সাদিদ জামিল: জমি তৈরি বা চাষাবাদের ক্ষেত্রে এখন ৯৫ শতাংশ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে হচ্ছে। সে কারণে বছরে ৮-৯ হাজার ট্রাক্টর দেশে আমদানি হচ্ছে। পাওয়ার টিলার আসছে ৫০-৬০ হাজার। সব মিলিয়ে চাষাবাদে আমরা যান্ত্রিকীকরণে এগিয়ে গেছি। এখন ধান কাটা ও মাড়াই এবং রোপণে ব্যবহার বাড়ানোর সময়। ধান কাটায় যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার কিন্তু মাত্র ১ শতাংশ বা তার কম। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আমরা কম্বাইন্ড হারভেস্টরের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এখানে অফুরন্ত সুযোগ আছে। এর পাশাপাশি রোপণযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

প্রথম আলো: সরকার তো কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে।

সাদিদ জামিল: হ্যাঁ। সরকার এ ক্ষেত্রে খুব সহায়তা করছে কৃষকদের। রোপণযন্ত্রে গত অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা ও হাওর এলাকায় ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। কর্তনযন্ত্রে দামের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি ছিল (মনোনীতদের)। এবার আমরা শুনছি, কম্বাইন্ড হারভেস্টরে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। এক হিসাব অনুযায়ী, দেশের সব ধান কাটতে ১ লাখ কম্বাইন্ড হারভেস্টর প্রয়োজন। সরকারি হিসাবে আছে মাত্র ২ হাজার। সুতরাং বাজার অনেক বড়।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে অনেক এলাকায় ফসলের মাঠ কর্দমাক্ত থাকে। অনেক এলাকায় ধানের জমি পানিতে ডুবে থাকে। অনেক সময় ধানগাছ বাতাস অথবা ঝড়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে কি যন্ত্রের মাধ্যমে ফসল কাটা সম্ভব?

সাদিদ জামিল: কম্বাইন্ড হারভেস্টর কাদার মধ্যে ধান কাটতে পারে। আবার মাটিতে নুয়ে পড়া ধানগাছও এটা দিয়ে কাটা যায়। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। এর পাশাপাশি আরেকটি সুবিধা হলো, কম্বাইন্ড হারভেস্টরে কাটা ও মাড়াইয়ে ফসল নষ্ট হয় কম। এ ক্ষেত্রে হার ৩ শতাংশ। সনাতন পদ্ধতিতে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হয়।

প্রথম আলো: এসব যন্ত্রের দাম কী রকম? কৃষকের কেনার সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে কি?

সাদিদ জামিল: একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টরের দাম ২০ লাখ টাকা। নগদ টাকায় এটা কেনা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আমরা চাই, কৃষককে ঋণ দেওয়া হোক। এখন কৃষি খাতে যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কৃষিযন্ত্রে ঋণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করলে কৃষকের জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হবে না। কারণ, ব্যাংকঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ওই যন্ত্রটাই রাখতে পারবে। আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই এ ক্ষেত্রে দরকার সরকারি উদ্যোগ। কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে যেমন ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা থাকে, কৃষিযন্ত্রের ক্ষেত্রেও তা করা যেতে পারে।

প্রথম আলো: এখন কারা কৃষিযন্ত্র কিনছে?

সাদিদ জামিল: এ ক্ষেত্রে একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে উঠছে। কিছু কিছু এলাকায় ছোট ছোট কোম্পানি গড়ে উঠছে, যারা এসব যন্ত্র কিনে অর্থের বিনিময়ে চাষাবাদ ও মাড়াই করে দেয়। গ্রামের শিক্ষিত তরুণ ও বিদেশফেরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বড় উৎস হতে পারে কৃষিযন্ত্রের ব্যবসা।

প্রথম আলো: এসব যন্ত্র কেনা কতটা লাভজনক?

সাদিদ জামিল: একটি যন্ত্র কিনলে কয়েক বছরেই তার টাকা উঠে যায়। কিন্তু যন্ত্রটি ব্যবহার করা যায় ১০ বছরের বেশি সময়। তাই যাঁরা কেনেন, তাঁদের জন্য এটা অনেক লাভজনক।

প্রথম আলো: এবার বাজেটে কৃষিযন্ত্র খাতে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?

সাদিদ জামিল: আমরা দেখছি, কৃষিযন্ত্র আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। পরে আয়কর দেওয়ার সময় এটা সমন্বয়যোগ্য। কিন্তু সমস্যা হলো, কৃষিযন্ত্রে মুনাফার হার খুব কম। ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করের সমপরিমাণ মুনাফা কখনোই হয় না। ফলে এটা ক্রেতার ওপর চাপার আশঙ্কা আছে। ফলে দাম বেড়ে যেতে পারে। এটা কিন্তু সরকারি নীতির বিপরীত। একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি করারোপের কারণে দাম বাড়ছে।

প্রথম আলো: কৃষক যদি ফসলের ভালো দাম না পান, তাহলে কি যন্ত্র বিক্রির ওপর প্রভাব পড়ে?

সাদিদ জামিল: হ্যাঁ। দাম না পেলে যন্ত্র বিক্রি কমে যায়।

প্রথম আলো: আপনাদের ব্যবসা নিয়ে বলেন, কবে শুরু হলো? এখন কোন কোন খাতে ব্যবসা রয়েছে?

সাদিদ জামিল: আমরা ব্যবসা শুরু করি ১৯৮৭ সালে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে আমাদের

কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। তখন অবশ্য কৃষি যন্ত্রপাতির বাজারে ছিলাম না। আমরা কিছু ট্রাক-বাসের চেসিস আমদানি করে বডি তৈরি করতাম। ১৯৯৩ সালে আমরা কৃষিযন্ত্রের বাজারে প্রবেশ করি। ভারতের টাফে ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর আমদানি করে আমাদের কৃষিযন্ত্রের ব্যবসা শুরু হয়। কৃষক পর্যায়ে ট্রাক্টর কিন্তু আমরাই প্রথম এনেছি। এখনো টাফে ট্রাক্টর আমদানি করছি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইশার ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর। এ ছাড়া আমাদের বীজ উৎপাদনের ব্যবসা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com