আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বাঘের সংখ্যা বাড়াতে যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন

রয়েল বেঙ্গল টাইগার
রয়েল বেঙ্গল টাইগার

ঢাকা: বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে প্রায় ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে। আবাসস্থল উজাড় ও অবৈধ চোরা শিকারের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় পশু ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এই বাঘ এখন ‘বিপদাপন্ন’ অবস্থায়।বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ বিলুপ্ত হবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দেশে ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২০ পালিত হয়েছে। বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০১৯ সালে সুন্দরবনে বাঘের ধারণ ক্ষমতা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। সুন্দরবনে সর্বশেষ চালানো জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১১৪টি বাঘ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন এবং ঘনত্ব অনুযায়ী অন্তত ২০০টি বাঘ থাকার কথা।  

পরিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং বাঘ গবেষকদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, চোরা শিকার, চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।  

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বাংলানিউজকে বলেন, সুন্দরবন এবং বাঘ একে অপরের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বাঘ বাড়ানোর জন্য যেমন সুন্দরবন সংরক্ষণ প্রয়োজন, ঠিক একইভাবে সুন্দরবন রক্ষা করতেও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বাঘ বাগানের মালীর ন্যায় ভূমিকা পালন করে। মালী যেমন বাগানের ডালপালা ছেটে, অপ্রয়োজনীয় গাছ কেটে ফেলে এবং বাগানকে রক্ষা করে, বাঘও ঠিক তেমন করে সুন্দরবনকে রক্ষা করে। বাঘের আবাসস্থল হচ্ছে সুন্দরবন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে সুন্দরবনকে সংরক্ষণ করাটাও অনেক জরুরি।

এ গবেষক আরও বলেন, সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে পশুর, শিবশাসহ আরও অনেক বড় বড় নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীগুলোর কারণে বন অনেকটা ভাগ হয়ে গেছে। যেটাকে বলে বন বিভাজন (ফরেস্ট ফ্রাগমেন্টেশন)। অপরদিকে এসব নদী দিয়েই বড় বড় বাণিজ্যিক নৌজাহাজ চলাচল করে। নদীগুলোতে রাতে জাহাজ অবস্থান করার সময় বাতি জালিয়ে রাখা, শব্দদূষণ এবং নানা রকম কার্যক্রম করতে দেখা যায়, ফলে বাঘের চলাচল অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলো বাঘের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করে। বাঘের পপুলেশন যত কম হয়, জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি তত কম হয়।  

‘জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাঘের টিকে থাকার সক্ষমতা কমে যায়, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়ানো উচিত। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সাতক্ষীরার একটি বাঘ যদি লোকালয়ে চলে আসে, আমরা যদি সেটাকে উদ্ধার করতে পারি, তাহলে সেটাকে খুলনার সুন্দরবন অংশে ছেড়ে দিতে পারি, তাহলে বাঘের জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়বে। এছাড়াও রাতের বেলা যে জাহাজগুলো চলাচল করবে, সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে শব্দ এবং আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা। যেন রাতের বেলা বাঘ নদীগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ’ 

বাঘ বাড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার যে অঙ্গীকার, সেটা করতে হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে বাঘের চোরা শিকার বন্ধ করা। গবেষণায় দেখা যায়, চোরা শিকার বন্ধ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা আপন গতিতেই বাড়বে। একই সাথে বাঘের আবাসস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের দূষণ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

দৈনন্দিন

যেভাবে বদলে গেল জিমেইলের লোগো

যেভাবে বদলে গেল জিমেইলের লোগো

ইদানীং জিমেইলে লগ–ইন করার সময় মনে হতে পারে কিছু একটা বদলেছে। বদলেছে তাদের লোগো। দেখুন, সেই চিঠির খামের মতো চিরচেনা লোগোর বদলে এখন শুধু ইংরেজিতে ‘এম’ অক্ষরটি দেখা যাবে। পূর্ণ লোগোতে জিমেইল শব্দটিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

জিমেইলের নতুন লোগোর নকশা করা হয়েছে গুগলের অন্যান্য সেবার সঙ্গে মিল রেখে। গুগলের লোগোর মূল চার রং, অর্থাৎ নীল, লাল, হলুদ ও সবুজ রঙে জিমেইলের পাশাপাশি সাজানো হয়েছে গুগল ম্যাপস, গুগল ফটোজ, ক্রোমসহ অন্যান্য সেবার লোগো।

এতে কিছুটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। অনেক অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, লোগোগুলোকে একনজরে আলাদা করা যায় না।

তা হয়তো ঠিক। তবু এটা মন্দের ভালো। কারণ, গুগলের নকশা দল ‘এম’ অক্ষরটিও বাদ দিতে চেয়েছিল। লাল রং বাদ দেওয়ার ব্যাপারটাও বিবেচনায় রেখেছিল তারা। তবে প্রাথমিক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে নেতিবাচক সাড়া পাওয়ায় নতুন লোগোর নকশা এমন করেছে তারা।

জিমেইলের লোগো প্রথম বদলেছে গুগল ওয়ার্কস্পেসে

এবারই প্রথম নয়, ২০০৪ সালে চালুর পর থেকে জিমেইলের লোগোতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এসেছে। সে সময় নাম ছিল ‘গুগল মেইল’। লোগোতেও তার প্রতিফলন ছিল। লোগোটি দেখুন, ‘এম’ অক্ষরটি সেই শুরুর দিন থেকেই খামের মতো।

প্রাথমিক লোগোটি দিন কয়েক ব্যবহারের পরই ‘জিমেইল’ নাম ব্যবহার করা শুরু হয়। সে হিসেবে জিমেইলের প্রথম লোগোর নকশাকার ডেনিস হোয়াং। তিনি বোধ হয় ফাঁকিবাজ ছাত্র ছিলেন। জিমেইল চালুর ঠিক আগের রাতে লোগোর নকশা করেছিলেন তিনি।

গুগলের সাবেক নকশাকার কেভিন ফক্স প্রশ্নোত্তরভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোরায় লিখেছেন, প্রথমে তাঁরা গুগলের মূল লোগোর ফন্টেই জিমেইলের লোগো করতে চেয়েছিলেন। সে সময় গুগলের লোগোতে ‘কাতুল’ নামের ফন্ট ব্যবহার করা হতো। তবে সে ফন্টের ইংরেজি ‘এ’ অক্ষরটি দেখতে ঠিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি হোয়াংয়ের। সে কারণেই তিনি ‘জি’ অক্ষরটি কাতুল ফন্টে রেখে এ, আই ও এল অক্ষরগুলো ভিন্ন ফন্টে লিখেছিলেন। কেভিন ফক্সের ধারণা, সেটি ছিল ‘মিরিয়াড প্রো’ ফন্ট। সাদা খামের ওপর লাল এম অক্ষরটি রেখে দেওয়া হয় আগের মতোই।

আগের লোগোর নকশা ঠিক রেখে কিছুটা আধুনিক করা হয় সে বছরই। লোগোটি ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়।

২০১০ সালের নভেম্বরে জিমেইলের মূল পাতার নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় গুগলের নকশার সঙ্গে মিল রাখতে জিমেইলের লোগোতেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। গুগলের লোগোটিও বাঁ থেকে ডান প্রান্তে সরিয়ে আনা হয়।

ঘোষণা দেওয়া হয় ২০১৩ সালের ৩০ মে, তবে ২০১৪ সালে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জিমেইল অ্যাপে খামের মতো লোগোটি প্রথম দেখা যায়। এরপর গুগলের সব সেবায় পর্যায়ক্রমে তা যুক্ত করে গুগল। দিন কয়েক আগেও এ লোগোই জিমেইলের ওয়েবসাইটে দেখা যেত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘খুনে ভীমরুলের’ বাসা

এশিয়ান জায়ান্ট হরনেট হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির ভিমরুল। খুনে প্রকৃতির জন্য এদের ‘খুনে ভিমরুল’ও বলা হয়। এই প্রজাতির ছোট এক ঝাঁক ভিমরুল একটি মৌচাকে থাকা সব মৌমাছিকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এই প্রজাতির ভিমরুলের বাসা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো খুনে ভিমরুলের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। তবে সেবার এই প্রজাতির ভিমরুলের কোনো বাসা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর জানায়, তাদের কীটতত্ত্ববিদেরা খুনে ভিমরুলের বাসা খুঁজে পেয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম। কানাডার সঙ্গে সীমান্তবর্তী ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর ব্লেইনে এক ব্যক্তির সম্পত্তির ভেতর একটি গাছে রয়েছে ওই বাসা। শনিবার থেকে কীটতত্ত্ববিদদের ওই ভিমরুল অপসারণে কাজ শুরু করার কথা ছিল।


ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, তাঁদের গবেষকেরা প্রথমে রেডিও ট্র্যাকারের মাধ্যমে কয়েকটি খুনে ভিমরুল ধরেন। এরপর ওই ভিমরুলগুলোই তাঁদের পথ দেখিয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে যায়। ব্লেইন শহরের ওই ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, একটি গাছে বাসা বেঁধেছে ভিমরুলগুলো। সেখানে অনেকগুলো ভিমরুল অনবরত যাওয়া-আসা করছে।
বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা জানিয়েছেন, খুনে ভিমরুলেরা সাধারণত মাটিতেই বাসা বাঁধে। তবে কখনো কখনো এরা মৃত গাছের কোটরেও বাসা বাঁধে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, ব্লেইন শহরের ওই ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক ভিমরুলগুলো অপসারণের অনুমতি দিয়েছেন। এমনকি প্রয়োজনে গাছটিও কেটে ফেলার অনুমতি দিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে জানানো হয়, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কৃষি দপ্তর বলেছে, ভিমরুলের আক্রমণাত্মক প্রকৃতির এই প্রজাতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নয়। এরা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ শিকার করে খায়। লম্বায় এগুলো দুই ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এগুলো এতটাই আক্রমণাত্মক হয় যে এরা কয়েক দফায় হুল ফোটালে তা মানুষের জন্যও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অবশ্য কৃষি দপ্তরটি বলছে, সাধারণত এই প্রজাতির ভিমরুল মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


খুনে ভিমরুলের বিষ মৌমাছির চেয়ে সাতগুণ বিষাক্ত। মৌমাছির চেয়ে এদের হুলও কয়েকগুণ শক্ত। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশেও এই খুনে ভিমরুলের দেখা পাওয়া গেছে সম্প্রতি। ওই প্রদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চালের পোকার উৎস খুঁজতে তদন্ত কমিটি!

আমন চালের সংকট মেটাতে বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনা হয়েছিল বরগুনা খাদ্যগুদামে। কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চালের বস্তা খুলতেই আবিষ্কার হয় খাবার অনুপযোগী নিম্নমানের পোকায় খাওয়া চাল।

বেতাগী খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের গুদামে এমন বাজে কোনো চাল ছিল না।পরিবহন ঠিকাদারের দাবি, খাদ্যগুদাম থেকে যেমন বস্তা দেয়া হয়েছে সেগুলোই তিনি নিয়ে এসেছেন।

বরগুনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবশ্য এসব চাল খারাপ মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, খামালের নিচের কিছু বস্তার চাল এমন, বাকিটা ভালো আছে।

গুদামের শ্রমিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য, ১৭০ মেট্রিক টনের সব চালেই এমন পোকা।

এত কথায় সমীকরণ মিলছে না জেলা খাদ্য বিভাগের কর্তাদের। পোকা এলো কোথা থেকে এমন প্রশ্নের সমাধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরগুনা সদর খাদ্যগুদামে ভিজিডি, ভিজিএফ মৎস্য, জিআর ও খাদ্যবান্ধব খাতে বিতরণের জন্য আমন চালের সংকট দেখা দেয়ায় বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা খাদ্য বিভাগ। এসব চাল পরিবহনের জন্য গত ৫ অক্টোবর মেসার্স খোকন সমাদ্দার ও মেসার্স মনিন্দ্রনাথ সরকার নামে বরগুনার দুটি নৌপরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। কার্যাদেশ মোতাবেক ওইসব চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছায়। বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের সেসব চাল খামালাত করা হয়।

কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চাল নামানোর সময় শ্রমিকরা বস্তার ভেতর নিম্নমানের পোকায় ধরা চাল দেখতে পান। পরে বস্তা খুললে খাবার অনুপযোগী চাল বের হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামের কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেতাগী থেকে আনা প্রায় সব বস্তার চালেরই একই অবস্থা। নিয়মানুসারে এসব চাল আলাদা রাখার কথা থাকলেও গুদামের খামালেই ওই বস্তা রাখা হয়।

গণমাধ্যমকে এ খবর জানানোর দায় দিয়ে পরদিনই একজন শ্রমিককে ছাঁটাই করে গুদাম কর্তৃপক্ষ।

নৌপথে চাল পরিবহনের ঠিকাদার খোকন সমাদ্দার বলেন, বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে বস্তা মেপে চাল দেয়া হয়েছে। আমরা ওই চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছে দিয়েছি। বস্তার ভেতরে চাল ভালো কি মন্দ এসব আমাদের দেখার কথা না বা দেখার বিষয়ও না।

একই বক্তব্য অন্য ঠিকাদার মনিন্দ্রনাথ সরকারেরও।

বেতাগী থেকে আনা সব চালই যে নষ্ট এমনটা মানতে নারাজ বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জলিল সিকদার।

তিনি বলেন, ‘খামালের নিচে থাকায় কয়েক বস্তা চাল নষ্ট পাওয়া গেছে। ওই বস্তাগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে।’

কিন্তু বেতাগী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের দাবি, তার গুদামে কখনোই পোকায় ধরা বাজে চাল রাখা হয়নি। গুদাম থেকে ভালো চাল সরবরাহ করা হয়েছে।

Borguna-2

এদিকে বস্তার চালে পোকা প্রবেশ করল কোথা থেকে তা অনুসন্ধান শুরু করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাবুদ্দিন আকন্দ জানিয়েছেন, কোথা থেকে কীভাবে বস্তাপচা চাল এলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের কর্মচারী থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিদের অনেকেই চাল নিয়ে নয়-ছয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে নাগরিকদের সংগঠন জেলা পাবলিক পলিসি ফোরাম।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান ঝন্টু বলেন, বরগুনায় চাল চালাচালি করা একটি চক্র রয়েছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গুদাম থেকে চোরাই চাল কিনে বিক্রি করা থেকে শুরু করে গুদামের ধান চাল সরবরাহের নামে নানা কারসাজি করে আসছে। এর সাথে খাদ্য বিভাগেরও জোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

নদী-নালা, খাল-বিলের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রতি বছর প্রায় ৬১৭ লাখ ঘনমিটার মাটি খননের সক্ষমতা অর্জনের জন্য ৩৫টি ড্রেজার কিনতে চায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ড্রেজারগুলো কেনার জন্য তারা খরচের প্রস্তাব করেছে চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকা। তবে ৩৫টি ড্রেজার কেনার জন্য এত খরচ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলছে পরিকল্পনা কমিশন।

কয়েক দিন আগে পরিকল্পনা কমিশনে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং বাংলাদেশের টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ৩৫টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়’ শীর্ষক প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্ষমতার ড্রেজার ক্রয় বাবদ চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব ড্রেজার ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখসহ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সহযোগী জলযান ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ৬৭২ কোটি টাকা এবং ড্রেজিং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ২০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব খাতের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে হ্রাস পূর্বক পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাপাউবো বাস্তবায়ন করবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় হাজার ১৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পরবর্তীকালে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য ইতোপূর্বে পরিকল্পনা কশিমন থেকে অনুরোধ করা হলেও আজ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন/চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি পরবর্তী পিইসি সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দেশের মোট আয়তনের প্রায় নয় হাজার ৭৩৪ বর্গকিলোমিটারজুড়ে রয়েছে নদ-নদী, বিল-ঝিল ও হাওর তথা মুক্তাঞ্চল। দেশের মোট ভূমির শতকরা ৮০ ভাগ প্লাবন ভূমি এবং ২০ ভাগ পাহাড়ি/উঁচু ভূমি। জলবায়ু বিবেচনায় বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আর্দ্রতা, নাতিশীতোষ্ণ এবং শীত ও গ্রীষ্মের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ, যা সুস্পষ্ট ঋতুগত বৈচিত্র্য। প্রকৃতির এই বিচিত্র আচরণের ফলে বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং দেশের অধিকাংশ ভূমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর পাড় ভাঙনের মুখে পড়ে। বিশেষত পাহাড়ি নদীগুলো এবং হাওর এলাকায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঢল নামে। হঠাৎ তীব্র স্রোত দেখা দেয় এবং নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হুমকির মধ্যে পড়ে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮টি মাঝারি নদী স্বল্প সময়ে (পাঁচ বছর), মধ্যম মেয়াদে (১০ বছর) এবং সব বড় নদী যথা- পদ্মা, যমুনা, মেঘনা দীর্ঘমেয়াদে (১৫ বছর) প্রায় এক হাজার কিলোমিটার ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে খাল, বিশেষত হাওর এলাকার ছোট নদী, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট নদী এবং বৃহৎ নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সময় অথবা অব্যবহিত পরে ড্রেজিং করা নদী/নালার নাব্যতা রক্ষার্থে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং করা অত্যন্ত জরুরি। ৩৫টি ড্রেজার বছরে প্রায় ৬১৭ দশমিক ৫৫ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করতে পারবে। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছোট নদী, খাল ও সাকসেসিভ মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনও আমি প্রকল্পটির মিনিটস (পিইসি সভা পরবর্তী সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী) দেখি নাই।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা থেকে বাঁচতে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকা অন্যান্যরা বাতাসের মাধ্যমেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কয়েক ঘন্টা ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এই ভাইরাস। সোমবার সিডিসির সর্বশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, কম বায়ু চলাচল করতে পারে এমন ঘরে কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি ৬ ফুট দূরের অন্য ব্যক্তিদেরকেও সংক্রমিত করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ৬ ফুট দূরত্বে থেকেও করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিসরে বায়ুর মাধ্যমেই মূলত করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের দাবি, ভাইরাসের অতি সূক্ষ কণা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যদিও লোকজনকে মাস্ক পরিধান এবং ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ এই সতর্কতা মানুষের মধ্যে নতুন করে আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্কুল, শপিংমল খোলার যে তোড়জোড় চলছে তা কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। সিডিসি সোমবার তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে।

সেখানে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ৬ ফুট সামাজিক দূরত্বের কথা মেনে চলতে বলা হলেও সিডিসি বলছে এই দূরত্বেও সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় মৃত্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। সম্প্রতি দেশটির ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সিডিসি।

গত এক মাসের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ছাড়াও হোয়াইট হাউসের ডজন খানেক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল চালু হয়ে গেছে। এদিকে, ফ্লোরিডায় রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com