আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বাঘিনীকে নিয়ে ফেসবুক পেইজ!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। বাঘিনী হলেও তার রয়েছে ফেসবুক পেজ। কেন তার ফেসবুক পেজ রয়েছে তা জেনে নিন।

  • বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান, সাহসিকতা ও জনপ্রিয়তার জন্য রণথম্বোররে ইতিহাসে মছলীর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান, সাহসিকতা ও জনপ্রিয়তার জন্য রণথম্বোররে ইতিহাসে মছলীর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • তার নামে একটি ফেসবুক পেজও আছে। সেখানেও তার ভক্ত সংখ্যা কম নয়। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি ছবি। যার মধ্যে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ফেমাস টাইগার’ ছবিটি ৬৬তম জাতীয় ফিল্ম পুরস্কার জিতেছিল।

    তার নামে একটি ফেসবুক পেজও আছে। সেখানেও তার ভক্ত সংখ্যা কম নয়। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি ছবি। যার মধ্যে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ফেমাস টাইগার’ ছবিটি ৬৬তম জাতীয় ফিল্ম পুরস্কার জিতেছিল।

  • মৃত্যুর পর জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের প্রোটোকল অনুসারে তার দেহ সৎকার করা হয়।

    মৃত্যুর পর জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের প্রোটোকল অনুসারে তার দেহ সৎকার করা হয়।

  • মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর। এ ব্যাপারেও অনেক এগিয়ে মছলী। সাধারণত বাঘেদের জীবনকাল হয় ১০-১৫ বছর। কিন্তু মছলী বেঁচেছিল তার থেকে অনেকটাই বেশি।

    মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর। এ ব্যাপারেও অনেক এগিয়ে মছলী। সাধারণত বাঘেদের জীবনকাল হয় ১০-১৫ বছর। কিন্তু মছলী বেঁচেছিল তার থেকে অনেকটাই বেশি।

  • তবে ২০১৪ সালের পর থেকেই রণথম্বোরের রানি নিজের শক্তি হারাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দুর্বলও হয়ে পড়ে সে। শেষ বয়সে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল সে। নিজের এলাকার দখলও ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। অবশেষে ২০১৬ সালে ১৮ অগস্ট মৃত্যু হয় তার।

    তবে ২০১৪ সালের পর থেকেই রণথম্বোরের রানি নিজের শক্তি হারাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দুর্বলও হয়ে পড়ে সে। শেষ বয়সে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল সে। নিজের এলাকার দখলও ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। অবশেষে ২০১৬ সালে ১৮ অগস্ট মৃত্যু হয় তার।

  • বাস্ততন্ত্র অসাধারণ অবদানের জন্য মছলীর প্রতি সম্মান জানাতে ২০১৩- সালে ভারত সরকার তার ছবি সম্বলিত পোস্টাল কভার ও স্ট্যাম্প ছাপে। এ ছাড়াও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে অবদান ও পর্যটক আকর্ষণের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারও জিতেছিল সে।

    বাস্ততন্ত্র অসাধারণ অবদানের জন্য মছলীর প্রতি সম্মান জানাতে ২০১৩- সালে ভারত সরকার তার ছবি সম্বলিত পোস্টাল কভার ও স্ট্যাম্প ছাপে। এ ছাড়াও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে অবদান ও পর্যটক আকর্ষণের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারও জিতেছিল সে।

  • এর পাশাপাশি রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে মছলীর দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ক্ষিপ্রতা, শক্তি নিদর্শন নেটদুনিয়াতেও ছড়িয়ে রয়েছে। ২০০৩ সারে সে একা একটি ১৪ ফুট লম্বা কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে তাকে মেরে ফেলে। যদিও এই লড়াইয়ে মছলীর দাঁতের বেশ ক্ষতি হয়। কিন্তু অন্য প্রাণীর হাত থেকে শাবকদের রক্ষা করতে তার হিংস্র হয়ে ওঠার কথা গোটা বিশ্ব জানে।

    এর পাশাপাশি রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে মছলীর দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ক্ষিপ্রতা, শক্তি নিদর্শন নেটদুনিয়াতেও ছড়িয়ে রয়েছে। ২০০৩ সারে সে একা একটি ১৪ ফুট লম্বা কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে তাকে মেরে ফেলে। যদিও এই লড়াইয়ে মছলীর দাঁতের বেশ ক্ষতি হয়। কিন্তু অন্য প্রাণীর হাত থেকে শাবকদের রক্ষা করতে তার হিংস্র হয়ে ওঠার কথা গোটা বিশ্ব জানে।

  • তবে শুধু সন্তানের জন্ম নয়। পর্যটক ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে মছলী। সে যেমন ছিল দেখতে সুন্দর, তেমনই ক্যামেরার সামনেও ছিল সমান স্বচ্ছন্দ। সেই বোধহয় একমাত্র বাঘিনী যার ছবি সব থেকে বেশি বার তোলা হয়েছে। সরকারি হিসাবই বলছে, তার এই জনপ্রিয়তা ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে ভারত সরকারকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার রোজগার করতে সাহায্য করে। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭৫৫ কোটি টাকারও বেশি।

    তবে শুধু সন্তানের জন্ম নয়। পর্যটক ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে মছলী। সে যেমন ছিল দেখতে সুন্দর, তেমনই ক্যামেরার সামনেও ছিল সমান স্বচ্ছন্দ। সেই বোধহয় একমাত্র বাঘিনী যার ছবি সব থেকে বেশি বার তোলা হয়েছে। সরকারি হিসাবই বলছে, তার এই জনপ্রিয়তা ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে ভারত সরকারকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার রোজগার করতে সাহায্য করে। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭৫৫ কোটি টাকারও বেশি।

  • একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে রণথম্বোরে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মছলীর। ২০০৪ সালে রণথম্বোরে ছিল ১৫টি বাঘ। ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫০-এ।

    একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে রণথম্বোরে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মছলীর। ২০০৪ সালে রণথম্বোরে ছিল ১৫টি বাঘ। ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫০-এ।

  • এরপর ‘এক্স-মেল’ নামের এক বাঘের সঙ্গে মিলনের পর ২০০৫-এর মার্চে শর্মিলী (স্ত্রী) ও বাহাদুর (পুরুষ) নামের দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। এরকম করে মোট ১১টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল মছলী। সাতটি মেয়ে ও চারটে ছেলে শাবক। তার দু’টি মেয়েকে পরে রণথম্বোর থেকে সারিসকা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। কারণ ওই ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা খুব কমে গিয়েছিল।

    এরপর ‘এক্স-মেল’ নামের এক বাঘের সঙ্গে মিলনের পর ২০০৫-এর মার্চে শর্মিলী (স্ত্রী) ও বাহাদুর (পুরুষ) নামের দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। এরকম করে মোট ১১টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল মছলী। সাতটি মেয়ে ও চারটে ছেলে শাবক। তার দু’টি মেয়েকে পরে রণথম্বোর থেকে সারিসকা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। কারণ ওই ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা খুব কমে গিয়েছিল।

  • এর পর নিক ইয়ারের সঙ্গে মিলন হয় মছলীর। ২০০২ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় বারের জন্য সন্তানের জন্ম দেয় সে। সেবার দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। তাদের নাম ‘ঝুমর’ (পুরুষ) ও ‘ঝুমরি’ (স্ত্রী)।

    এর পর নিক ইয়ারের সঙ্গে মিলন হয় মছলীর। ২০০২ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় বারের জন্য সন্তানের জন্ম দেয় সে। সেবার দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। তাদের নাম ‘ঝুমর’ (পুরুষ) ও ‘ঝুমরি’ (স্ত্রী)।

  • ২০০১-এ ব্রোকেন টেল ও স্লান্ট ইয়ার মছলীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। বয়সের কারণে এর আগেই মারা গিয়েছিল বাম্বু রাম। তখন বাম্বু রামের এলাকার দখল নেয় ‘নিক ইয়ার’ নামে একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ ও মছলী।

    ২০০১-এ ব্রোকেন টেল ও স্লান্ট ইয়ার মছলীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। বয়সের কারণে এর আগেই মারা গিয়েছিল বাম্বু রাম। তখন বাম্বু রামের এলাকার দখল নেয় ‘নিক ইয়ার’ নামে একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ ও মছলী।

  • তার কিছু দিন পরই ‘বাম্বু রাম’ নামের এক শক্তিশালী বাঘের সঙ্গে মিলন হয় তার। জন্ম হয় তিনটি শাবকের। একটি স্ত্রী ও দু’টি পুরুষ শাবকের জন্ম দেয় সে। তার মেয়ের নাম ছিল ‘সুন্দরী’(টি-১৭)। ছেলেদের নাম ‘ব্রোকেন টেল’ ও ‘স্লান্ট ইয়ার’।

    তার কিছু দিন পরই ‘বাম্বু রাম’ নামের এক শক্তিশালী বাঘের সঙ্গে মিলন হয় তার। জন্ম হয় তিনটি শাবকের। একটি স্ত্রী ও দু’টি পুরুষ শাবকের জন্ম দেয় সে। তার মেয়ের নাম ছিল ‘সুন্দরী’(টি-১৭)। ছেলেদের নাম ‘ব্রোকেন টেল’ ও ‘স্লান্ট ইয়ার’।

  • ছোট থেকেই সে ছিল ডাকাবুকো। মাত্র দু’বছর বয়স থেকেই একা শিকার করতে বেরিয়ে পড়ে মছলী। আস্তে আন্তে আলাদা হয় নিজের মায়ের থেকে। ১৯৯৯ এই নিজের এলাকা গড়ে নেয় সে। মায়ের এলাকাতেও ভাগ বসায় মছলী।

    ছোট থেকেই সে ছিল ডাকাবুকো। মাত্র দু’বছর বয়স থেকেই একা শিকার করতে বেরিয়ে পড়ে মছলী। আস্তে আন্তে আলাদা হয় নিজের মায়ের থেকে। ১৯৯৯ এই নিজের এলাকা গড়ে নেয় সে। মায়ের এলাকাতেও ভাগ বসায় মছলী।

  • ১৯৯৭ সালে বর্ষার মরসুমে জন্ম হয় মছলীর। তার মুখ ও কানের কাছে মাছের আকৃতির দাগ ছিল। সেখান থেকেই তার এই নাম। এই অদ্ভুত ডোরাকাটা দাগ তার সৌন্দর্যকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

    ১৯৯৭ সালে বর্ষার মরসুমে জন্ম হয় মছলীর। তার মুখ ও কানের কাছে মাছের আকৃতির দাগ ছিল। সেখান থেকেই তার এই নাম। এই অদ্ভুত ডোরাকাটা দাগ তার সৌন্দর্যকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

  • মছলী একটি বাঘিনী। ভারতের রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান ছিল তার বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানকার প্রায় ৩৫০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ছিল তার রাজত্ব। রণথম্বোরের জঙ্গলে মছলীর প্রভাব সর্বজনবিদিত।

    মছলী একটি বাঘিনী। ভারতের রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান ছিল তার বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানকার প্রায় ৩৫০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ছিল তার রাজত্ব। রণথম্বোরের জঙ্গলে মছলীর প্রভাব সর্বজনবিদিত।

  • তার নাম মছলী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পশুপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখ সে। জীবনকালে নিজের কীর্তির জন্য ‘লেডি অব দ্য লেকস’, ‘ক্রোকোডাইল কিলার’, ‘টাইগার কুইন অব রণথম্বোর’-এই সব নামও উপাধি হিসাবে পেয়েছে সে।

    তার নাম মছলী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পশুপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখ সে। জীবনকালে নিজের কীর্তির জন্য ‘লেডি অব দ্য লেকস’, ‘ক্রোকোডাইল কিলার’, ‘টাইগার কুইন অব রণথম্বোর’-এই সব নামও উপাধি হিসাবে পেয়েছে সে।

  • বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান, সাহসিকতা ও জনপ্রিয়তার জন্য রণথম্বোররে ইতিহাসে মছলীর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
  • তার নামে একটি ফেসবুক পেজও আছে। সেখানেও তার ভক্ত সংখ্যা কম নয়। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি ছবি। যার মধ্যে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ফেমাস টাইগার’ ছবিটি ৬৬তম জাতীয় ফিল্ম পুরস্কার জিতেছিল।
  • মৃত্যুর পর জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের প্রোটোকল অনুসারে তার দেহ সৎকার করা হয়।
  • মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর। এ ব্যাপারেও অনেক এগিয়ে মছলী। সাধারণত বাঘেদের জীবনকাল হয় ১০-১৫ বছর। কিন্তু মছলী বেঁচেছিল তার থেকে অনেকটাই বেশি।
  • তবে ২০১৪ সালের পর থেকেই রণথম্বোরের রানি নিজের শক্তি হারাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দুর্বলও হয়ে পড়ে সে। শেষ বয়সে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল সে। নিজের এলাকার দখলও ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। অবশেষে ২০১৬ সালে ১৮ অগস্ট মৃত্যু হয় তার।
  • বাস্ততন্ত্র অসাধারণ অবদানের জন্য মছলীর প্রতি সম্মান জানাতে ২০১৩- সালে ভারত সরকার তার ছবি সম্বলিত পোস্টাল কভার ও স্ট্যাম্প ছাপে। এ ছাড়াও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে অবদান ও পর্যটক আকর্ষণের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারও জিতেছিল সে।
  • এর পাশাপাশি রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে মছলীর দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ক্ষিপ্রতা, শক্তি নিদর্শন নেটদুনিয়াতেও ছড়িয়ে রয়েছে। ২০০৩ সারে সে একা একটি ১৪ ফুট লম্বা কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে তাকে মেরে ফেলে। যদিও এই লড়াইয়ে মছলীর দাঁতের বেশ ক্ষতি হয়। কিন্তু অন্য প্রাণীর হাত থেকে শাবকদের রক্ষা করতে তার হিংস্র হয়ে ওঠার কথা গোটা বিশ্ব জানে।
  • তবে শুধু সন্তানের জন্ম নয়। পর্যটক ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে মছলী। সে যেমন ছিল দেখতে সুন্দর, তেমনই ক্যামেরার সামনেও ছিল সমান স্বচ্ছন্দ। সেই বোধহয় একমাত্র বাঘিনী যার ছবি সব থেকে বেশি বার তোলা হয়েছে। সরকারি হিসাবই বলছে, তার এই জনপ্রিয়তা ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে ভারত সরকারকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার রোজগার করতে সাহায্য করে। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭৫৫ কোটি টাকারও বেশি।
  • একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে রণথম্বোরে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মছলীর। ২০০৪ সালে রণথম্বোরে ছিল ১৫টি বাঘ। ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫০-এ।
  • এরপর ‘এক্স-মেল’ নামের এক বাঘের সঙ্গে মিলনের পর ২০০৫-এর মার্চে শর্মিলী (স্ত্রী) ও বাহাদুর (পুরুষ) নামের দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। এরকম করে মোট ১১টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল মছলী। সাতটি মেয়ে ও চারটে ছেলে শাবক। তার দু’টি মেয়েকে পরে রণথম্বোর থেকে সারিসকা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। কারণ ওই ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা খুব কমে গিয়েছিল।
  • এর পর নিক ইয়ারের সঙ্গে মিলন হয় মছলীর। ২০০২ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় বারের জন্য সন্তানের জন্ম দেয় সে। সেবার দু’টি শাবকের জন্ম দেয় সে। তাদের নাম ‘ঝুমর’ (পুরুষ) ও ‘ঝুমরি’ (স্ত্রী)।
  • ২০০১-এ ব্রোকেন টেল ও স্লান্ট ইয়ার মছলীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। বয়সের কারণে এর আগেই মারা গিয়েছিল বাম্বু রাম। তখন বাম্বু রামের এলাকার দখল নেয় ‘নিক ইয়ার’ নামে একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ ও মছলী।
  • তার কিছু দিন পরই ‘বাম্বু রাম’ নামের এক শক্তিশালী বাঘের সঙ্গে মিলন হয় তার। জন্ম হয় তিনটি শাবকের। একটি স্ত্রী ও দু’টি পুরুষ শাবকের জন্ম দেয় সে। তার মেয়ের নাম ছিল ‘সুন্দরী’(টি-১৭)। ছেলেদের নাম ‘ব্রোকেন টেল’ ও ‘স্লান্ট ইয়ার’।
  • ছোট থেকেই সে ছিল ডাকাবুকো। মাত্র দু’বছর বয়স থেকেই একা শিকার করতে বেরিয়ে পড়ে মছলী। আস্তে আন্তে আলাদা হয় নিজের মায়ের থেকে। ১৯৯৯ এই নিজের এলাকা গড়ে নেয় সে। মায়ের এলাকাতেও ভাগ বসায় মছলী।
  • ১৯৯৭ সালে বর্ষার মরসুমে জন্ম হয় মছলীর। তার মুখ ও কানের কাছে মাছের আকৃতির দাগ ছিল। সেখান থেকেই তার এই নাম। এই অদ্ভুত ডোরাকাটা দাগ তার সৌন্দর্যকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
  • মছলী একটি বাঘিনী। ভারতের রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান ছিল তার বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানকার প্রায় ৩৫০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ছিল তার রাজত্ব। রণথম্বোরের জঙ্গলে মছলীর প্রভাব সর্বজনবিদিত।
  • তার নাম মছলী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পশুপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখ সে। জীবনকালে নিজের কীর্তির জন্য ‘লেডি অব দ্য লেকস’, ‘ক্রোকোডাইল কিলার’, ‘টাইগার কুইন অব রণথম্বোর’-এই সব নামও উপাধি হিসাবে পেয়েছে সে।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর
চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

বানরের বুদ্ধিমত্তা মন্দ নয়। মাঝে মাঝেই তাই সংবাদে উঠে আসে বানরের নানাবিধ কর্মকাণ্ড। এই তো কিছুদিন আগেও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে ফল খেতে দেখা যায় বানরের দলকে। ইতোমধ্যেই এমন ঘটনার বহু প্রমাণ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। তবে এবার ঘটলো আরেকটি অবাক করা কাণ্ড।

জানা যায়, মানুষের মতো না হলেও বানরের মস্তিষ্ক বেশ উন্নত। তাই কোন সময় কী করা উচিত, তা এরা জানে। এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটলো ভারতের কর্ণাটকের ডান্ডেলিতে। সেখানকার আহত হওয়া একটি বানর নিজে নিজেই চলে গেল একটি হাসপাতালে।

সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের দরজায় বসে আছে একটি বানর। বাইরে রোগীদের লম্বা লাইন। বানরটিও অন্যদের মতো লাইন দিয়েছে হাসপাতালের আউটডোরে। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের এক কর্মী এসে বানরটির গায়ে হাত দেন।

হাসপাতালের কর্মী দেখেন, বানরটি আহত। চিকিৎসার জন্যই হাসপাতালে এসেছে। তাই দেরী না করে তিনি বানরটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে ক্ষতগুলো পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো ওষুধ দেন। এরপর হাসপাতাল থেকে চলে যায় বানরটি। কারো কোনো ক্ষতি করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অসংখ্য বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। লাইক এবং শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। নেটিজেনরা আহত বানরের চিকিৎসা করার জন্য হাসপাতালের কর্মীদের প্রশংসা করেছেন।

উপরের ভিডিওটি দেখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

এখন ঘরে ঘরে ফসল তোলার মৌসুম। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। তাছাড়া জমিতে চাষ হচ্ছে আঁখ, পাট প্রভৃতি। তবে এ মৌসুমে ঝড়-তুফানের আশঙ্কাও প্রচুর। তাই আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেই উপায়গুলো-

১. বিভিন্ন জাতের ধানবীজ সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।
২. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চারা উৎপাদন করে উঁচু বা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৩. ঝড়ের আগে তোলা যায় এমন দ্রুতবর্ধনশীল ফসল চাষ করা।

৪. আমন ধান নষ্ট হলে এবং পর্যাপ্ত সময় থাকলে পুনরায় চারা উৎপাদন করা।

৫. বিভিন্ন স্থানীয় উন্নত জাত এবং ব্রি ধান-৪৫, নাজিরশাইল ইত্যাদি রোপণ করা যেতে পারে।
৬. দ্রুত বর্ধনশীল শাকসবজি চাষ করে খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করা।
৭. উচ্চ মূল্যের শীতকালীন শাকসবজি আগাম চাষ করা যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৮. ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ডাঁটা, লালশাক, গিমাকলমি, ঢেড়শ, পুঁইশাক ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে।
৯. কৃষি জমিতে বাতাসের বেগ প্রতিরোধী গাছ যেমন- তাল, নারিকেল রোপণ করতে হবে।

১০. ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলকে পুনরায় স্থাপন করা।
১১. বনজ ও ফলদ গাছের ছোট চারা প্রধান মূলসহ রোপণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আফ্রিকার বতসোয়ানায় শত শত হাতির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য অজানা

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে
বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে

সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো কারো কারো কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে!

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি।

আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে ডক্টর নিয়াল ম্যাককান জানান, মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সেসম্পর্কে কেউ কোন ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে, যেই রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান বিবিসিকে জানায় যে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানায়।

তিনি বলেন, “তারা ঐ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখে। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঐ পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।”

মৃত হাতি
মৃত হাতি

“ঐ ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তারা আরো অনেকগুলো মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০এর ওপর।”

মি. ম্যাককান বলেন, “যেই বিপুল সংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোন একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।”

বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ফিস’এর খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, “সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোন প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেতো, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেতো।”

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০’র বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

মৃত হাতি
মৃত হাতি

তবে বিষক্রিয়া বা কোন রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তারা।

ড. ম্যাককানের মতে যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে – অনেকগুলো হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে – এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোন ধরণের আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোন রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কিনা, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না – বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে পানির উৎস বা মাটি থেকে কোন ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে – এই বিষয়টিরও উল্লেখ করেন ড. ম্যাককান।

তিনি বলেন, “এটি পরিবেশগত বিপর্যয় – তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গাছের রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি

আমাদের দেশে তাল, খেজুর, গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। যে রস থেকে আমরা চিনি বা গুড়ের অভাব পূরণ করতে পারি। এছাড়া পাম গাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখন আমাদের জানতে হবে কীভাবে সংগ্রহ করা যায় এগুলো। আসুন জেনে নেই রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি।

তাল গাছের রস

তাল এবং খেজুর রসের গুরুত্ব একই। কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ খেজুরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষ তাল গাছ থেকে মার্চ-মে মাস রস সংগ্রহ করা যায়। পুরুষ তাল গাছের লম্বা জটা বের হওয়ার পর অর্ধেক জটার গোড়া কেটে অবশিষ্ট জটাগুলো চট বা শক্ত কাপড় দিয়ে ৬-৭ দিন ভালো করে ঘঁষে নরম করতে হয়। তারপর জটার আবরণ তুলে মাথা কেটে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। স্ত্রী তাল গাছ থেকে এপ্রিল-জুন মাস রস সংগ্রহ করা যায়। স্ত্রী তাল গাছের পুষ্পমঞ্জুরি বের হওয়ার ১০-১২ দিন পর কাঠের দণ্ড দ্বারা কয়েক দিন পুষ্পমঞ্জুরিকে পিটিয়ে হালকাভাবে থেতলে দিতে হয়। এরপর পুষ্পমঞ্জুরির মাথা কেটে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি তাল গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৬০-৫০০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে ৬০-৭০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

খেজুর গাছের রস

খেজুর ফলের চেয়ে রস সংগ্রহের গুরুত্ব বেশি। নভেম্বর মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। ৫-৬ বছর বয়সের গাছের উপরে বা মাথার দিকে ধারালো দা দিয়ে এক পাশে ২৪-২৫ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা স্থান ঠ আকৃতি করে সুন্দরভাবে কাটতে হয়। তারপর ৪-৫ দিন শুকানোর পর কর্তিত স্থানে আবার ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে চেঁচে দিয়ে নিচের দিকে বাঁশের চুঙ্গি লাগিয়ে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ২২০-২৫০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

গোলপাতার রস

তাল ও খেজুর গাছের মতোই গোলপাতা গাছ থেকেও বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রস সংগ্রহ করা যায়। মাত্র ৩০টি গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ কেজি গুড় উৎপাদন করা যায়। গুড় প্রতি কেজি একশ’ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। 

পাম তেল

বাংলাদেশে পামওয়েলের চাষ প্রাথমিক পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে। পাম গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হয়। সেদ্ধ পাম ফলগুলো পরিষ্কার পাত্রের মধ্যে রেখে দুই হাতে চাপ প্রয়োগ করলে তেল বের হয়ে পাত্রের মধ্যে জমা হবে। এরপর ছোবলা ও বীজ আলাদা করে ছাঁকনি দ্বারা তেলগুলো ছেঁকে নিতে হবে। তেলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ পানি মিশ্রিত থাকে। তাই চুলায় জ্বাল দিলে পানি বাষ্পাকারে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিষ্কার পাম তেল পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা
নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে গাছের সারির সৌন্দর্য পথচারী ও যাত্রীদের নজর কাড়ছে। মেজর এমএ জলিল সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে জয়শ্রী (আটিপাড়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত) ৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় ১১ হাজার গাছ রোপণ করে বনবিভাগ।

দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কে গাছের সারি ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জনপদটি এক অনন্য দৃশ্য ধারণ করে। নান্দনিক এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ক্ষণিকের জন্য হলেও গাড়ি থামান। এছাড়া গাছের সারির কারণে প্রখর রোদে পথচারী ও কৃষকদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ২৬ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে মেহেগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি, শিশু, চাম্বুল, ইপিল-ইপিল, পিকরাশি, তেলসুর, পাহাড়ি নিম, বট, পাপড়ি, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জলপাই, আমলকি, বিলাতি গাব, অর্জুন, উলটকম্বল, লটবিপল, দেশি নিম, শিমুল, ডেউয়া, বকুল, কাঞ্চন, তেুঁতলসহ ৫৫০টি তালগাছ রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে ১১০ জন উপকারভোগী সদস্য রয়েছে।

বৃক্ষরোপণকালে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় আড়াই বছর প্রতি ১ হাজার চারার পরিচর্যা ও পাহারার জন্য ১ জন করে মোট ১১ জন পাহারাদারকে ৬ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫৫ জন উপকারভোগীকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকল্প এলাকার আশপাশের ৬টি গ্রামের ১১০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরণ নামক এনজিও’র মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের জন্য সবজি চাষ, ফলের চারা রোপণ, হাঁস-মুরগি পালন, সঞ্চয় জমা করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় উপকারভোগী সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বনবিভাগের সচিব, প্রধান বনরক্ষক, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক বনায়নের গাছ কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত অর্থ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com