আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত: মিয়ানমারের সেনাদের টহল বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উদ্বেগ

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের গতিবিধি গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে এ ধরণের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গত শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি মিয়ানমারের সৈন্যদের টহল স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে বলে দেখা গেছে।

সীমান্ত এলাকার অন্তত তিনটি পয়েন্টে সৈন্যদের ”ব্যাপক সংখ্যক” উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

যদিও সেটাকে সৈন্য সমাবেশ বলতে চাননি কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানোর জন্য রোববার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ডাকা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সেলের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ কী?

সাধারণত দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় এ ধরণের সেনা টহল যদি বাড়ে, এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব’ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় সেনা টহল বেড়েছে, কিন্তু কোন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়নি, সে কারণে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়েছেন সেনা টহল দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের একেবারে কাছ ঘেঁষে হচ্ছে না।

কিন্তু তারপরেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরণের টহল বাড়ানোর ঘটনা দেখা যায়নি বলেই প্রাথমিকভাবে উদ্বেগ বা কনসার্ন বোধ করেছে বাংলাদেশ।

এছাড়া যেহেতু সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সেনা টহল লক্ষ করা গেছে, কর্মকর্তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে সেটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এজন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এখানে আরো একটি বিষয় রয়েছে, মিয়ানমারের এই সেনা টহলের একটি অংশ হয়েছে সিভিলিয়ান বাহনে করে, অর্থাৎ মাছ ধরার নৌকায় করে।

আর যে তিনটি পয়েন্টে তাদের দেখা গেছে সেগুলো হল কা নিউন ছুয়া, মিন গালারগি ও গার খুইয়া আর এই জায়গাগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

এটাকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

কারণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরণের সেনা টহল বাড়লে পরে, হয়ত সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যার ফলে আরো কিছু লোকজন হয়ত বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে চাইবে, তারও একটা ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফলে এই সব বিষয় মাথায় রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে মিয়ানমারকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

গরু-ছাগলেই খাচ্ছে ফুল

  • করোনায় বেচাবিক্রি বন্ধ। পাঁচ মাসে নষ্ট হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল। তাই প্রণোদনা ঋণ পেতে চান ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
  • করোনার কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে গদখালী ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। আর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে ফুলখেত।
  • বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি জানায় দেশে করোনার কারণে গত পাঁচ মাসে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে।

করোনাভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান যশোরের গদখালীর ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, মাঠে তেমন ফুল নেই, যাও–বা আছে, তা-ও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে গরু-ছাগলকেই খাওয়ানো হচ্ছে ফুল। এখন অবস্থা এতটাই সঙিন যে সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ওপর রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ।


করোনার কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে গদখালী ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। আর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে ফুলখেত, ধ্বংস হয়েছে ফুল ও নার্সারির শত শত শেড।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনার কারণে গত পাঁচ মাসে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে শুধু যশোর অঞ্চলেই অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে এই অঞ্চলের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন।

আবদুর রহিম বলেন, ‘দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা ফুলের চাষ ও ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। ফুলচাষিদের প্রায় ৭০ ভাগ বর্গাচাষি। করোনাভাইরাস ও আম্পানের কারণে এই খাতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা ঋণ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। তা না হলে এই খাতকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।

২৫ বছর ধরে ফুলের চাষ করা প্রতিবন্ধী ইমামুল হোসেন-সাজেদা দম্পতি জানান, সংসার ও দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে ভেঙে পড়া শেডের টিন বিক্রি করে দিয়েছেন। সাজেদা বেগম বলেন, ‘ঋণের কিস্তির জন্য ব্যাংক ও এনজিওর লোকজন নিয়মিত বাড়িতে আসছেন। কিন্তু কিস্তি পরিশোধ করতে পারছি না। কী খাব আর কী করে ঋণ শোধ করব, ভাবতেই মাথায় যেন আকাশ
ভেঙে পড়ে।’

ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে রজনীগন্ধার চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি প্রায় তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু করোনাভাইরাস ও আম্পান আমাদের পথে বসিয়েছে।’

পানিসারার আরেক চাষি মো. জালাল উদ্দীনের একটি ফুলের দোকানও আছে। তিনি জানান, দিনে ১০০ টাকাও বিক্রি হয় না। অথচ আগে ২-৩ হাজার টাকা বেচাকেনা হতো।

ফুলের দোকানি তারেক রহমান বলেন, ‘আগে দিনে ১০-২০ হাজার টাকার এবং বিশেষ দিনগুলোতে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ফুল বিক্রি করেছি। এখন দিনে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকার ফুল বিক্রি হয়। এতে চলছে না।’

১৯৮২ সালে একটি নার্সারির মাধ্যমে ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা এলাকায় ফুলের চাষ শুরু করেন শের আলী সরদার। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের পথিকৃৎ বলা হয় তাঁকে। তাঁকে দেখে পানিসারা ও গদখালী এলাকায় ৭৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার চাষি ফুল চাষে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘৪১ বছরের ফুল চাষের জীবনে এমন অবস্থা আমি কখনো দেখিনি।’

পানিসারা গ্রামের আজিজুর সরদার জানান, আগে প্রতি মাসে যেখানে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকার ফুল ও চারা বিক্রি হতো, সেখানে গত পাঁচ মাসে হয়েছে মাত্র ৯৫০ টাকা। ব্যাংকে ১৩ লাখ টাকা এবং দুটি এনজিওতে ৭ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে তাঁর। ঋণের কিস্তি দিতে ব্যাংক ও এনজিও থেকে চাপ দিচ্ছে। তিনি ঝড়ে ভেঙে পড়া শেডের ৩০০ পিস টিন ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে এখন সংসার চালাচ্ছেন। আজিজুরের স্ত্রী তপুরা বেগম বলেন, খুব দুশ্চিন্তা হয়। রাতে ভালো ঘুম হয় না।
শফিকুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে জারবেরার চাষ করেছি। করোনায় বিক্রি বন্ধ ও আম্পানে জমি লন্ডভন্ড হওয়ায় ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। এভাবে জীবন চলছে না।’

জানতে চাইলে ঝিকরগাছার কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুল চাষের সঙ্গে ৭ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও প্রায় ১ লাখ শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

যশোর শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও আশপাশে গড়ে উঠেছে ফুল চাষ ও পাইকারি বিক্রির বৃহত্তম মোকাম। ফুল সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয় বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত দিবস, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও দুই ঈদ উপলক্ষে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার ফুল।

গদখালী বাজারের দোকানি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আগে অনেক ফুল বিক্রি হতো। এখন ফুল কেনার লোক নেই। এভাবে আর চলতে পারছি না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জলজ ফুলের স্বাদ

ফুল মানেই সৌন্দর্যের ডালি, মনের খোরাক, পবিত্রতার প্রতীক। ফলে যুগে যুগে কবিরা ফুল নিয়ে লিখে গেছেন বিস্তর কবিতা। কালিদাস থেকে দ্বিজ কানাই, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ সবাই সৌন্দর্যের সঙ্গে ফুলের রূপকল্প চিত্রিত করেছেন দুহাত খুলে। কিন্তু কোনো কবিই লেখেননি, পাকা রাঁধুনির হাতে পড়ে ফুলও হয়ে উঠতে পারে এক অনির্বচনীয় কবিতা, স্বাদ কোরকে তুলতে পারে স্বর্গীয় অনুরণন।

বর্ষাবিদায়ের ক্ষণ চলছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও শুরু হয়েছে শরৎকাল। সাধারণভাবে এ সময় জলমগ্ন বাংলাদেশে থাকে নিরাগ পানির জলজ সৌন্দর্য। খালে-বিলে, থরে-বিথরে ফুটে থাকে লাল, সাদা, বেগুনি রঙের শাপলা ফুল। তার ওপর ফড়িংয়ের ওড়াউড়ি। মনমাতানো এ দৃশ্যের রাজা শাপলা ফুল খাদ্য হিসেবেও মনমাতানো। খাল-বিলের এই দেশে জলজ ফুল শাপলা খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয় হবে, এটাই স্বাভাবিক। জলাভূমিতে অনায়াসে জন্মানো সাদা বা লাল রঙের শাপলার পাপড়ি থেকে কাণ্ড পুরোটাই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় খাওয়া হয়। এর জনপ্রিয় রান্না সম্ভবত চিংড়ি মাছ দিয়ে।

তাজা শাপলার ভেতরের হলুদ অংশটুকু সাবধানে ফেলে দিন। ওপরের সবুজ পাপড়িগুলোও ফেলে দিতে পারেন। ফুলটি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। চালের গুঁড়া অথবা বেসনে লবণ, হালকা হলুদ, রসুনবাটা আর ডিম ভেঙে দিয়ে ঘন ব্যাটার বানিয়ে নিন। এই ব্যাটারে শাপলা চুবিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন। ঝাল খেতে চাইলে মরিচের গুঁড়া কিংবা কাঁচা মরিচ স্বাদমতো বেটে ব্যাটারে মিশিয়ে নিতে পারেন। শরতের অকালবৃষ্টি আর করোনাকালের জন্য বিস্তৃত বৈকালিক অবসরে একবার খেয়ে দেখতে পারেন। অথবা গরম ভাতের সঙ্গে গরম গরম বড়াও খেয়ে দেখতে পারেন।

আর একটি রান্নার প্রণালি বলে দিই আপনাদের। শাপলার ডাঁটা ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে ওপরের আঁশ ছাড়িয়ে নিয়ে ধুয়ে হালকা সেদ্ধ করুন, যাতে ডাঁটা গলে না যায়। এরপর মসুর ডাল সেদ্ধ করে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে শুকনো মরিচ, কালিজিরা ফোড়ন দিন। চাইলে এর মধ্যে গোটা কয়েক রসুনের কোয়া দিয়ে হালকা করে নেড়েচেড়ে সেদ্ধ শাপলাগুলো দিয়ে দিন। লবণ, হলুদগুঁড়া দিয়ে ধীরে ধীরে নাড়াচাড়া করুন যাতে শাপলা ডাঁটা গলে না যায়। শাপলা যেহেতু জলজ উদ্ভিদ তাই এটা রান্নার সময় পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবকিছু ফুটে উঠলে সেদ্ধ করা ডাল মিশিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিয়ে শুকনো শুকনো করে নিন। ঘ্রাণেই বুঝে যাবেন কখন আপনার শাপলার তরকারি হয়ে গেছে। নামিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে খাবেন। এ রান্নাটির সঙ্গে আপনি চিংড়ি মিশিয়ে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ছোট চিংড়ি ভেজে নিতে হবে আগে। তারপর মিশিয়ে দিতে হবে রান্নায়।

শুধু কি শাপলা? কচুরিপানার ফুলও সুখাদ্য, যদি আপনি রান্নাটা করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে নিতে হবে পরিষ্কার পানির খাল-বিলে ফুটে থাকা কচুরিপানার ফুল। এর চাটনি বেশ সুস্বাদু। বিভিন্নভাবেই চাটনি বানানো সম্ভব। আপনি নিজেই ভেবে বের করুন চাটনিটা তৈরি করবেন কীভাবে।

বর্ষাকালে কচুর ফুল ফোটে। তবে এই ভাদ্র মাসের ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতেও কচুর ফুল পাবেন। আঁটি হিসেবে বাজারে কিনতে পাবেন এ সময়। কচুর ফুল থেকে সবুজ রঙের ডাঁটা এবং ভেতরের পুষ্পমঞ্জরি বাদ দিন। তারপর হলুদ ফুল ছোট ছোট টুকরা করে কেটে সেদ্ধ করে নিন। এরপর পাঁচফোড়ন অথবা শুধু জিরা এবং কাঁচা মরিচ ফোড়ন দিয়ে সেদ্ধ কচুর ফুল কষিয়ে নিন। এর সঙ্গে অনেক কিছুই যোগ করতে পারেন আপনি। পারেন কাঁঠালের বিচি যোগ করতে, ছোট চিংড়ি মাছ যোগ করতে। কাঁঠাল বিচি যোগ করলে আগেই সেদ্ধ করে নেবেন। তারপর কষানোর সময় যোগ করে দেবেন। আর চিংড়ি যোগ করতে চাইলে ভেজে নেবেন।

একটি বিষয় স্মরণ রাখবেন, সেটি মসলার ব্যবহার। ফুলের মতো নাজুক জিনিসে ভারী মসলা, যেমন, রসুন, গরমমসলা ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। জিরা, গোলমরিচের মতো হালকা মসলা ব্যবহার করুন। পাঁচফোড়নের ব্যবহারে খাবারের স্বাদ হবে একেবারে ভিন্ন রকম।

ফুল সুন্দর, খাদ্যও সুন্দর। সৌন্দর্যের উপাসনা করতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবেন না। কবি কিংবা রাঁধুনি উভয়েই সৌন্দর্যের পূজারি। ন্দর্যে থাকুন। সুন্দর থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফুলের রাজ্যে

পাহাড়ে এখন নানা প্রজাতির ফুল ফুটছে। খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফুলের ছবি সংগ্রহ করেছেন প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক নীরব চৌধুরী। খাগড়াছড়ি সদরের খেজুরবাগান হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন এই ফুলগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম জানিয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবজি চাষে কৃষক

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বগুড়ার শেরপুরের কৃষকেরা নতুন করে সবজি চাষে নেমেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে সবজি চাষের জমি তৈরি, বীজ, চারা রোপণসহ পরিচর্যা। আগাম রবি মৌসুমে সবজি চাষে নেমেছেন উপজেলার ৯ হাজার ৭৫০ জন কৃষক। তাঁরা ১ হাজার ৬২৫ একর জমিতে সবজি চাষ করছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর।

সরেজমিনে অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর জুলাই মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি চাষের নিচু জমিগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়। এরপর বন্যাতেও তলিয়ে থাকে সবজিখেত। চলতি বছরে জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিচু জমির অন্তত ১৭ একর সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জি এম মাসুদ।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর, মির্জাপুর ও সুঘাট গেলে দেখা যায়, গ্রামের কৃষকেরা সবজি চাষে এখন সময় দিচ্ছেন। কৃষকের মধ্যে অনেকেই সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। আবার কেউ চারা রোপণ করছেন। সবজি চাষের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শাকসহ সবজি।
উপজেলার মহিপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, সবজি চাষের জন্য তিনি এক বিঘা জমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন। চাষ করেছিলেন মুলা চাষ। এতে ব্যয় হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে তাঁর সবজিখেত নষ্ট হয়ে যায়। এখন এই জমিতে নতুন করে মুলা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।

উপজেলার বড়ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে তাঁর ১১ শতক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি নতুন করে এই জমিতে শিম চাষে নেমেছেন। ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৩ শতক জমিতে নতুন করে মুলা চাষে নেমেছেন। সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের কৃষক সাগর আলী বলেন, বন্যার আগেই দেখা দেয় অতিবৃষ্টি। এতে এলাকার অন্তত ৫০ বিঘা সবজি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর দেখা দেয় বন্যা। এই বন্যাতেও ওই সব সবজিখেতগুলো তলিয়ে ছিল।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, শেরপুরে উপজেলায় গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর ও সুঘাট ইউনিয়ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করেন কৃষকেরা। এ জন্য শেরপুরে ফুলবাড়ি নামে সবজি বাজার গড়ে উঠেছে। এই বাজার থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যান। বন্যা–পরবর্তী সময়েও এই বাজারে সবজি কেনাবেচা চলছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সারমিন আক্তার বলেন, এ সময় সবজির দাম ভালো। অতিবৃষ্টি ও বন্যা–পরবর্তী এই সময়ে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষে নেমে তাঁদের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সোনালি ধানে সবুজ টিয়া

সোনালি ধানে সবুজ টিয়া

বুজ পাহাড়ে এখন সোনালি ধানের মেলা। আর এই পাকা ধানখেতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে টিয়া পাখি। চাষিরা একদিকে টিয়া তাড়াচ্ছেন, আবার ঘুরে এসে খেতে নামছে টিয়াগুলো। এ দৃশ্য দেখতে খাগড়াছড়ি শহরের নিউজিল্যান্ড এলাকায় পাখিপ্রেমীরা দলবেঁধে ভিড় করছেন। ১৯ নভেম্বর ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন নীরব চৌধুরী

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com