আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

জনপ্রিয় খাবার না হলেও কেন বাংলাদেশে হাঙ্গর ধরা হয়?

একসময় বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২৭ প্রজাতির হাঙ্গর থাকলেও এখন তা সংখ্যায় অনেক কমে গেছে।

এর কারণ হিসাবে অতিরিক্ত হাঙ্গর শিকার আর বাচ্চা হাঙ্গর ধরাকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।

শুক্রবারও পটুয়াখালীর রাবনাবাদ নদীর মোহনা থেকে ২০ টন হাঙ্গর আটক করেছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড।

কিন্তু স্থানীয়ভাবে হাঙ্গর জনপ্রিয় কোন মাছ বা খাবার না হলেও কেন হাঙ্গর শিকার করা হচ্ছে?

বঙ্গোপসাগরে হাঙ্গর

‘বঙ্গোপসাগরে হাঙ্গরের বর্তমান অবস্থা এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব’ শিরোনামে ২০১১ সালে একটি গবেষণা নিবন্ধ লিখেছেন বর্তমানে চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক বিক্রম জীৎ রায়। তখন তিনি সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন।

মি. রায় বলছেন, বাংলাদেশে ১০ বছর আগেও যে সংখ্যায় হাঙ্গর ছিল, এখন তা অনেক কমে এসেছে।

”একসময় ১৫০-২০০টি যান্ত্রিক যানে বাণিজ্যিকভাবে হাঙ্গর আহরণ করা হতো। জাল ও বড়শির সাহায্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলার সাগর উপকূলে বাণিজ্যিকভাবে হাঙ্গর ধরা হতো। তখন বাণিজ্যিকভাবে হাঙ্গরের মাংস, চামড়া, পাখনা রপ্তানি হতো। সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে বেশ চাহিদা ছিল,” তিনি বলছেন।

২০০৮-২০০৯ সালে বাংলাদেশে ৩,৯৩৩ মেট্রিকটন হাঙ্গর ধরা হয়েছিল।

ব্যাপকভাবে শিকারের কারণে বাংলাদেশে বড় আকারের হাঙ্গর প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে তিনি বলছেন।

মারহেড হাঙ্গর (হাতুড়ী হাঙ্গর)
ছবির ক্যাপশান,মারহেড হাঙ্গর (হাতুড়ী হাঙ্গর)

বাংলাদেশে হাঙ্গরের প্রজাতি

গবেষকদের হিসাবে, বাংলাদেশে হাঙ্গর এবং হাউস (শাপলাপাতা মাছ) মিলিয়ে প্রায় ২৭টি প্রজাতি রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রজাতিগুলোর মধ্যে ইয়েলো ডগ শার্ক (টুইট্যা হাঙ্গর), মিল্ক শার্ক (কামোট হাঙ্গর), হ্যামারহেড হাঙ্গর (হাতুড়ী হাঙ্গর), বুল শার্ক (বলি হাঙ্গর) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বুল শার্ক ছাড়া এসব হাঙ্গর ততোটা হিংস্র নয়।

হাঙ্গর কেন শিকার করা হয়?

বিক্রম জীৎ রায় জানান, বাংলাদেশে স্থানীয় কিছু কিছু এলাকার মানুষ হাঙ্গরের মাংস ও শুটকি খেতে পছন্দ করে। এছাড়া হাঙ্গরের মাংস, পাখনা, চামড়া এবং হাড়ের বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে।

পাখনা দিয়ে তৈরি সুপ হংকং, তাইওয়ান ও চীনের অভিজাত হোটেলে বেশ জনপ্রিয়। হাঙ্গরের পাখনায় মার্কারি নামক উপাদান থাকায় এসব দেশে নব দম্পতিকে হাঙ্গরের সুপ খাওয়ানো হয়।

হাঙ্গরের লিভার ও নাড়িভুঁড়ি থেকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ তৈল সংগ্রহ করে তা পোল্ট্রি শিল্পে, রং কারখানায়, বার্নিশ ও কসমেটিক্স ও ঔষধ শিল্পে, ট্যানারিতে চামড়া নরম করতে ব্যবহৃত হয়।

কামোট, বলি হাঙ্গর এর চামড়া দিয়ে দামি শিরিষ কাগজ তৈরি করা হয়।

হাঙ্গরের পিঠের চামড়া বাদ্যযন্ত্র ও বিদেশে হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। হাড় কসমেটিক্স ও শোপিজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বঙ্গোপসাগরে হাঙ্গরের বিলুপ্তির ঝুঁকি

বিক্রম জীৎ রায় বলছেন, শিল্প আকারে বড় হাঙ্গর শিকার আর এখন চিংড়ি জালে ছোট বাচ্চা হাঙ্গর উঠে মারা যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে হাঙ্গর প্রজাতিগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

”এক সময় শিল্প আকারে হাঙ্গর শিকার করা হতো। কিন্তু এখন হাঙ্গর শিকার বেআইনি বা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আগের সেই বাজার বা চাহিদা আর নেই। ফলে শিল্প আকারে শিকার বন্ধ হলেও বড় প্রজাতিগুলো আগেই বে অব বেঙ্গল থেকে আউট হয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে হাঙ্গর, তিমি, ডলফিন জাতীয় প্রাণী শিকার নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও হাঙ্গরের শুটকির স্থানীয় চাহিদা থাকায় অনেকে গোপনে হাঙ্গর শিকার করেও বিক্রি করছে।

বিক্রম জীৎ রায় বলছেন, ”হাঙ্গর ধরা নিষিদ্ধ হওয়ার একটি কারণ এরা অনেক বেশি বয়সে ম্যাচিউরড হয়, আবার বাচ্চা দেয় কম।”

”বাংলাদেশে চিংড়ি ও ছোট মাছ শিকারের জালে বাচ্চা হাঙ্গর ধরা পড়ে মারা যাচ্ছে। কিন্তু একটা হাঙ্গর বড় হতে অনেক সময়, ১৫/২০ বছর লেগে যায়। বাচ্চাও ততোটা দেয় না। ফলে হাঙ্গরের সংখ্যাটা রিকভারি হচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই অঞ্চলের হাঙ্গর অনেক কমে গেছে,” বলছেন মি. রায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

মৎস্য

কুশিয়ারায় ধরা পড়ল ১৫০ কেজির বাঘাইড়

সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়েছে প্রায় ১৫০ কেজি ওজনের বাঘাইড়। গতকাল শুক্রবার রাতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা নদী থেকে জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি শনিবার ভোরে সিলেটের কাজীরবাজার আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়।

কাজীরবাজার থেকে আজ শনিবার সকালে মাছটি লালবাজারে নিয়ে যান ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ। মাছটি দেখতে শনিবার সকাল থেকে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক মানুষ। এ সময় অনেককে মুঠোফোনে মাছটির ছবি তুলতে দেখা যায়।বিজ্ঞাপন

লালবাজারের ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ জানান, ‘শুক্রবার রাতে ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের কুশিয়ারা নদী থেকে জেলেরা মাছটি ধরেন। পরে সেটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে এলে আমি তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করে লালবাজারে নিয়ে আসি। আস্ত মাছটি সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রির জন্য দাম হাঁকানো হয়েছিল। তবে আস্ত মাছ কেনার ক্রেতা না থাকায় কেজি দরে বিক্রি করতে বেলা দুইটার দিকে মাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এর আগে অনেকেই কেজি দরে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে নাম ও মুঠোফোন নম্বর দিয়ে গিয়েছিলেন। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ লালবাজারে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের এবং ১১ এপ্রিল ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে আস্ত মাছ কেনার কেউ না থাকায় সেগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পদ্মায় ধরা পড়েছে ১৩ কেজির পাঙাশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুশাহাটা এলাকায় পদ্মা নদীতে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে খালেক সরদার ও তাঁর সহযোগীদের জালে ১৩ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেন। মাছটি বর্তমানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে একটি বড় পাঙাশ মাছ বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় মাছের ক্রেতা শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আজ সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের দুলাল সরদারের আড়তে তিনি ও সম্রাট শাহজাহান শেখ মাছটি দেখে নিলামে অংশ নেন। এ সময় পাঙাশ মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন ১৩ কেজি ১০০ গ্রামের মতো হয়েছে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে মোট ১৬ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে তাঁরা কিনে নেন।বিজ্ঞাপন

শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মাছটি দেখতে ঢাকাফেরত অনেক উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। মাছটি বিক্রি করতে ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে তিনি মাছটি বিক্রি করতে চান।

গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, পদ্মা নদীর মাছ এমনিতেই সুস্বাদু। বড় কোনো মাছ হলে তো কথাই নেই। পদ্মার বড় মাছের চাহিদা সব সময়ই বেশি। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কাতলা–জাতীয় বড় মাছ ধরা পড়ছে বেশি। পাঙাশ মাছ মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

চট্টগ্রামের হালদাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই। তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি। তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে।


সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।


হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।


হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই।

তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

দাম কমলো ভোজ্য তেলের

লেখক

ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা কমানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন দাম হ্রাস করেছে। সে অনুযায়ী বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারের ৩ টাকা কমে হবে ১৪১ টাকা।
সোমবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রোজা এবং করোনার এই সংকটে ভোক্তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধে ঈদ পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন গত ২৫ এপ্রিল লিটারে ৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আজ দাম লিটারে ৩ টাকা কমানো হলো। ফলে ১৪৪ টাকার তেল এখন ১৪১ টাকায় পাওয়া যাবে।


সংগঠনটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এর প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে। তবে বাজার যেন কোনভাবে অস্থিতিশীল না হয়, এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে এর সমন্বয় করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সৈয়দপুরে অর্গানিক কৈ মাছ বাজারজাত শুরু

লেখক

জেলার সৈয়দপুরে বাজারজাত শুরু হয়েছে অর্গানিকভাবে চাষকরা কৈ মাছ। রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার (রাস) পদ্ধতিতে বানিজ্যিক চাষ করে ওই মাছ বাজারজাত করছে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়া গ্রামের জামান অ্যাকুয়া ফিশ ফার্ম। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক ওই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ফার্মটি।


ওই ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান কনক জানান, রাস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ট্যাঙ্কে চাষ করা হয়। এ মাছ চাষে কোন রকম রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় না। এর ফলে উৎপাদিত মাছ খেতে খুব সুস্বাদু ও দুর্গন্ধমুক্ত হয়।
তিনি বলেন, “চলতি বছরে আমরা বানিজ্যিক আকারে রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছি। গতকাল বুধবার থেকে উৎপাদিত ভিয়েতনামী জাতের কৈ মাছ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এখন প্রতিদিন ফার্মে ও হোম ডেলিভারীর মাধ্যমে কৈ মাছের বিক্রি কার্যক্রম চলছে।


সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বলেন, “বর্তমানে দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে রাস পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ পদ্ধতিতে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। পানি বার বার পরিশোধিত হয়ে মাছের জন্য উপযোগী করা হয়। এর ফলে পানি অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com