আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা
বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা

কয়েকদিন আগে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী ডব্লিউএফপি বলেছে, বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ হতে পারে, এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাতে পারে।

এর পেছনে কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং অনেক দেশ খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার আশংকাকে কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

বাংলাদেশে এখন চলছে বোরো ধানের মৌসুম। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে ইতিমধ্যে সারাদেশে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

এর আগে হাওর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা নিয়ে এক ধরণের জটিলতা দেখা দিলেও পরে, সরকার অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসার ব্যবস্থা করলে, সে সংকটের সুরাহা হয়।

এ অবস্থায় বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন ও মজুদের কী অবস্থা?

সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

বাংলাদেশে এ বছর খাদ্যশস্যসহ অন্য ফসল উৎপাদনের জন্য সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

এখন বাংলাদেশে খাদ্য মজুদ পর্যাপ্ত আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

“বোরো আমাদের প্রধান ফসল। এ বছর আমাদের কৃষিপণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই কোটি চার লক্ষ টন। ফসলের অবস্থা এ বছর খুবই ভালো, প্রকৃতিও খুবই সহায়ক ছিল, যে কারণে আমরা আশা করছি, যদি না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, এবার বাম্পার ফলন হবে।”

এরপর আসবে আউশ ফসল, যেখানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ লক্ষ টন।

এর বাইরে অন্য দানাশস্য, সবজি ও ফলের উৎপাদনও এখন পর্যন্ত ভালো বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, হাওড় অঞ্চলে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে ধান কাটা, নতুন মৌসুমে ফসল রোপণ এবং ফসল বাজারজাতকরণ নিয়ে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।

“আমরা বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় আছি, যে কারণে প্রস্তুতিও বড় আকারে নেয়ার চেষ্টা করেছি। হাওড় এলাকায় ধান কাটার জন্য অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিকদের যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল, সেটা সমাধান করা হয়েছে।

 কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক
কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

এছাড়া চারশোর মত ধান কাটার মেশিন, চার-পাঁচশো রিপার (মাড়াই করার যন্ত্র) দেয়া হয়েছে। সব মিলে ধান কাটার পরিস্থিতি সন্তোষজনক।”

কিন্তু ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনার পরেও, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের মধ্যে ধান বাজারজাত করা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

তবে, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের ঘাটতি হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বীজ ও সার আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন ও মজুদের কী অবস্থা?

সরকার বলছে, করোনাভাইরাসের পরবর্তী সময়ে চাহিদা সামাল দেয়ার জন্য সরকার এবার বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে গত বারের চেয়ে বেশি খাদ্যশস্য কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার এবার ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য কিনবে, যেখানে গত বছর ১৬ লাখ টন কেনা হয়েছিল।

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?
করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

খাদ্য সচিব নাজমানারা বেগম বিবিসিকে বলেছেন, রোববার অর্থাৎ ২৬শে এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, চলবে ৩১শে অগাস্ট পর্যন্ত।

“গত আমন মৌসুমে এক কোটি ৫৫ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এবং বোরোতে আমরা দুই কোটি মেট্রিক টনের বেশি ফলন আশা করছি। যে কারণে খাদ্য সংকট বা দানা জাতীয় খাবারের সংকট হবে না।”

কিন্তু এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়ার ফলে একটা বিশেষ প্রেক্ষাপটে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায়, সরকার ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে।

সেজন্য সরকারী মজুদের কিছুটা কমে গেলেও, বোরো ফসল ওঠার পর তা পূরণ হয়ে যাবে বলে মনে করেন সচিব।

এ মৌসুমে আট লক্ষ মেট্রিক টন ধান, সাড়ে ১১ লক্ষ মেট্রিক টন চাল এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন গম কিনবে সরকার।

সরকারী খাদ্য গুদামে মজুত গড়ে তোলার জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহের কাজ খাদ্য অধিদফতরই করে থাকে।

খাদ্য সচিব বলেছেন, আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করবে সরকার, যাতে ৭ই মে থেকে তারা সরকারকে চাল দেয়া শুরু করতে পারে।

এদিকে রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই দুই লাখ মেট্রিক টন গম কেনার সমঝোতা হয়েছে, এবং জুলাই মাসের মধ্যে সে গম এসে পৌঁছাবে দেশে।

এর আগে রাশিয়া গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

খাদ্য সচিব নাজমানারা বেগম বলছেন, রাশিয়ার ঘোষণার আগেই জি-টু-জি অর্থাৎ দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, ফলে গম যথাসময়ে আসবে।

চ্যালেঞ্জিং হবে বাজার ব্যবস্থাপনা

এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোন দেশের খাদ্য পরিস্থিতি কেবলমাত্র উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর সঙ্গে কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দক্ষতাও আবশ্যক বিষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বলেন, এখন যেহেতু বিশ্বব্যাপী একটি বিশেষ পরিস্থিতি, সে কারণে বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারকে দক্ষতা দেখাতে হবে।

“এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্য উৎপাদন এবং মজুদে হয়ত সমস্যা নেই, কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থাপনাটাই বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলার সাফল্য নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা ক্রুটিমুক্ত থাকার ওপর।”

“এক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের মূল্য ও মজুদ নিয়ে কারসাজি, অন্যায়ভাবে বাজারকে প্রভাবিত করা, কৃত্রিম সংকট তৈরি—এ ধরণের কোন অব্যবস্থাপনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক হতে হবে।”

অধ্যাপক হক বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যেহেতু দেশে এবং বিদেশে প্রচুর মানুষ চাকরি হারাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সাধারণ প্রাক্কলনের বাইরে সরকারকে প্রস্তুতি রাখতে হবে।

  • করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

    করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

  • কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

    কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

  • বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা

  • করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা?
  • কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক
  • বাংলাদেশে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

লাক্ষা চাষ: অর্থকরী এই ফসলের বহুল ব্যবহার থাকলেও লাক্ষার চাষ বাংলাদেশে কমছে কেন

বাংলাদেশে লাক্ষা সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হলেও দাম না পাওয়াসহ নানা কারণে দিন দিন কমছে লাক্ষা চাষির সংখ্যা এবং সংকুচিত হয়ে আসছে চাষের আওতায় থাকা এলাকার সংখ্যা।

লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান বলছেন লাক্ষা চাষ কমতে কমতে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

“লাক্ষা আসলে সেভাবে আর নাই। কিছু কৃষক ধরে রেখেছেন কিন্তু দাম ঠিক মত পান না বলে তারাও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি দাম কিছুটা বাড়ায় কেউ কেউ আবার আগ্রহী হয়ে উঠছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেকগুলো জায়গায় এক সময় অনেক লাক্ষা চাষ হতো কিন্তু এখন এটি নাচোল উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

নাচোলের একজন লাক্ষা চাষি সাদিকুল ইসলাম বলছেন তিনিসহ কিছু চাষি এখনো চেষ্টা করছেন এবং তিনি নিজে বগুড়ায় চাঁচ তৈরির কারখানা এবং বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিতে লাক্ষা সরবরাহ করছেন।

“মাঝে একেবারেই দাম ছিল না কিন্তু এখন আবার একটু বেড়েছে। তাই সামনে চাষের আওতা বাড়ানোর চিন্তা করছি।”

তবে বাস্তবতা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জসহ বিরাট এলাকা জুড়ে একসময় যে লাক্ষা চাষ দেখা যেত, সেটি এখন আর দেখা যায় না।

গাছের ডালে কয়েক সপ্তাহের লাক্ষা
ছবির ক্যাপশান,গাছের ডালে কয়েক সপ্তাহের লাক্ষা

লাক্ষা আসলে কী

লাক্ষা এক ধরণের ক্ষুদ্র পোকা। এ পোকার ত্বকের নিচে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এক প্রকার গ্রন্থি থেকে আঠালো রস নিঃসৃত হয়, যা ক্রমশ শক্ত ও পুরু হয়ে পোষক গাছের ডালকে আচ্ছাদিত করে ফেলে।

পোষক গাছের ডালের এই আবরণই লাক্ষা বা লাহা নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ডালের ঐ শক্ত আবরণ ছাড়িয়ে ও শোধিত করে তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

দু ধরনের লাক্ষা পোকা থেকে লাক্ষা উৎপাদন করা যায়। মূলত বড়ই, পলাশ, বাবলা এ ধরনের পোষক গাছ থেকে লাক্ষা উৎপাদন করা হয়।

সাধারণত বছরে দু বার ফসল পরিপক্ব হয় বা কৃষকরা উৎপাদন করতে পারে।

কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলছেন বৈশাখ ও কার্তিক মাসে তারা চাষের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

ডঃ মোখলেসুর রহমান ও কৃষক সাদিকুল ইসলামের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পোকার জন্য নির্ধারিত সময়ে গাছ ছাঁটাই করেন কৃষকরা।

এর নির্ধারিত সময় পর গাছের ডালে লাক্ষা পোকাসহ খণ্ড খণ্ড পোষক গাছের ডাল, ছাঁটাই হওয়া গাছের সাথে আটকে দেয়া হয়।

রোদ পেলে কয়েকদিনের মধ্যেই পোকা ডালে বসে যেতে পারে এবং এর প্রায় চার সপ্তাহ পর ডালগুলো সাদা তুলার মতো আবরণে ঢেকে যায়।

পরে ঝাঁক বেধে পোকা বের হতে দেখা যায়।

মি. রহমান বলছেন পোকা ওখানেই থাকে। রস খায় আর শরীর থেকে রস বের করে। তার পুরো শরীর রসে আবৃত হয়। এরপর বাতাসের সংস্পর্শ পেলে শক্ত আবরণ তৈরি হয় এবং ওই প্রাকৃতিক আবরণের মধ্যেই পোকাটা থাকে।

তিনি বলেন পোকার আকৃতি অনেকটা উকুনের মতো এবং এগুলা খুব ঘন ঘন হয়ে বসে।

“এক বর্গ সেমিতে অন্তত একশ পোকা থাকে। আবার একটা পোকা গড়ে চারশো ডিম দেয়। এক ফুট দৈর্ঘ্যের ডালে লাখ লাখ পোকা বের হবে। এখান থেকেই লক্ষ পোকা বা লাক্ষা নামকরণ হয়েছে। পরে আবরণ শক্ত হলে ডাল কেটে বা বাকল উঠিয়ে প্রসেস করে চাঁচ ও গালা তৈরি করা হয়,” তিনি বলেন।

লাক্ষা চাষ
ছবির ক্যাপশান,লাক্ষা চাষ

কিভাবে প্রসেস করেন কৃষকরা, দাম কেমন?

নাচোলের লাক্ষা চাষি সাদিকুল ইসলাম বলছেন গাছের ডালে লাক্ষা নি:সৃত রস শক্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর সেই বাকল অর্থাৎ কাঁচা লাক্ষা তুলে নেয়া হয়।

“পরে ভালো করে ধুয়ে এগুলো রোদে শুকাই। শুকিয়ে যাওয়ার পর এক ধরণের আঠা মিশিয়ে আগুনে তাপ দিতে হয় থান কাপড়ে মুড়িয়ে। তাপের কারণে ময়লা মাটিসহ অপ্রয়োজনীয় যা থাকে তা কাপড়ের সাথে থেকে যায় আর রয়ে যায় মূল ছাড়ানো লাক্ষা । কখনো দানা আকারে বা কখনো ছাড়ানো লাক্ষা টুকরো করে আমরা বাজারে বিক্রি করি।”

মোখলেসুর রহমান বলছেন এই ছাড়ানো লাক্ষা প্রক্রিয়াজাত করে চাঁচ, টিকিয়া ও গালা তৈরি করা হয় এবং প্রায় একশ কেজি ছাড়ানো লাক্ষা থেকে ৫০/৬০ কেজি চাঁচ বা গালা পাওয়া সম্ভব।

সাদিকুল ইসলাম বলছেন তিনি বগুড়ায় একটি চাঁচ কারখানায় লাক্ষা সরবরাহ করেন।

“প্রসেস করার আগে দিলে ৪/৫শ টাকা কেজি আর প্রসেস করে দিলে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত এখন কেজি দাম পাওয়া যাচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।

চাহিদা বাড়ছে কিন্তু উৎপাদন কমছে- কারণ কী?

ডঃ মোখলেসুর রহমান বলেন গত কয়েক বছরে আম চাষ অনেক বেড়ে গেছে আর তাল মিলিয়ে কমছে লাক্ষা চাষ এবং এর জন্য দায়ী আম চাষিদের অবৈজ্ঞানিক আচরণ।

“এখন আমবাগান অনেক বেশি। তারা সকাল বিকাল কীটনাশক স্প্রে করে। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডোজ দেয়। এগুলো এভাবে স্প্রে করার কারণে আশে পাশের গাছেও লাক্ষা পোকা টিকতে পারে না।”

তিনি বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচোলে আম চাষ কম হওয়ায় সেখানে লাক্ষা চাষ করছেন অনেকে।

এই বিজ্ঞানীর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর প্রায় দশ হাজার টন লাক্ষার দরকার হয় কিন্তু উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ দুশো টন।

তিনি বলেন দেশে যে পরিমাণ বড়ই গাছ আছে তা পরিকল্পনা করে লাক্ষা চাষের আওতায় আনতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষে স্বনির্ভর হয়ে বিদেশে রপ্তানিও করা সম্ভব।

কত কাজে ব্যবহার হয় লাক্ষা?

ডঃ মোখলেসুর রহমান বলছেন আসবাব পত্রের বার্নিশ ও স্বর্ণের ফাঁপা অংশ পূরণ সহ অন্তত একশ ধরনের কাজে লাক্ষা দরকার হয়।

কৃষি প্রযুক্তি বিষয় একাধিক বইয়ে দেয়া তথ্য অনুযায়ী যেসব কাজে লাক্ষার চাহিদা বেশি তার মধ্যে রয়েছে:

১. কাঠের আসবাবপত্র ও পিতল বার্নিশ করা

২. স্বর্ণালংকারের ফাঁপা অংশ পূরণ

৩. ঔষধের ক্যাপসুলের কোটিং

৪. চকলেট ও চুইংগামের কোটিং

৫. ডাকঘরের চিঠি বা পার্সেল সিলমোহরের কাজ

৬. লবণাক্ত পানি থেকে জাহাজের তলদেশ রক্ষা বা লবণাক্ততায় নষ্ট হওয়া লৌহ ঠিক করার কাজে

৭. অস্ত্র ও রেল কারখানার কাজে

৮. পুতুল, খেলনা ও টিস্যু পেপার তৈরির কাজে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

রাণীশংকৈলে আগাম জাতের ধান কাটায় ব্যস্ততা, ফলনও ভাল

আনোয়ার হোসেন: [২] চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আগাম জাতের ধান চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।

[৩] শনিবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার হোসেনগাঁও ধর্মগড় কাশিপুর নেকমরদ এলাকার পথ দিয়ে যেতে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ আমন খেত। কোনো কোনো খেতের ধান পাকতে শুরু করেছে। খেত থেকে সেসব ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। পথে থামলে এসব এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন হচ্ছে একরপ্রতি (১০০ শতক) ৫৪ থেকে ৬০ মণ। খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি একরে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ হাজার টাকার বেশি। এই ধান কাটার পর জমিতে আগাম আলু চাষের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।

[৪] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বছরের এই সময়ে আশ্বিন-কার্তিক মাস এলেই আগে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বা আধা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতো। বেশির ভাগ মানুষের ঘরে খাবার থাকতো না। আমন ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত খাবার জুটতো না।

[৫] আমনের ফসল আসতে যেখানে ১-২ মাস সময় লাগবে, সেখানে এই মুহূর্তে আমন ধান পেকেছে। বিনার উদ্ভাবিত এ জাতগুলোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে উৎপাদন ভালো অন্যদিকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকে। এ ধান কেটে আলু, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল করা যাবে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এই অঞ্চলে একসময় কাজের সংকট ছিল। কৃষক-দিনমজুরসহ সবাই প্রায় বেকার হয়ে যেতেন। তা দূর করতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ শুরু করা হয়।

[৬] উপজেলায় চলতি মৌসুমে এবার আমনের ২১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকেরা ৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে আগাম হাইব্রিড জাতের আমনের চাষ করেছেন। হাইব্রিড ছাড়াও উচ্চ ফলনশীল বিনা-১৭, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭ জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।

[৭] উপজেলার ভাংবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল হোসেন (৩৭) দুই একর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করেছিলেন। এখন জমির সেই ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আবুল হোসেন বলেন, এবার ফলনের পাশাপাশি ধানের দামও ভালো। আর এতেই কৃষকেরা খুশি।

[৮] ধর্মগড় মন্ডলপাড়া গ্রামের আরেক কৃষক মুন্জর হোসেন (৫৫) দুই বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খরচ আর ধানের দাম মিলিয়ে এবার মোটামুটি লাভ হবে। ধান উঠলে যে টাকা হাতে আসবে, তা আবার আলুর আবাদে খরচ করবেন।

[৯] কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, আগাম জাতের ধান কৃষকেরা ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারছেন। আমনের জাতগুলোর তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ দিন আগে এ ধান পেকে যায়। ফলে বাকি সময়ে কৃষক অন্য ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ জাতের ধানচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এখন ধানি জমিতে কৃষকেরা বছরে তিনবার ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। আগাম জাতের ধান চাষ, কাটা ও মাড়াইয়ের পরে বর্তমানে জমিতে আলু ও সরিষা চাষ করছেন। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা ১৭ ধান

আশরাফুল নয়ন: [২] স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুনাগুন সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে

[৪] বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীণ সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০ টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়।

[৫] শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপন করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ঔষধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপন করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে মনে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ হচ্ছে।

৬] ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুনাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমি একসাথে লাগিয়ে তার টা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভাল। আর আমার টা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপন করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বৃদ্ধ করব।

৭] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

[৮] আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আদমদীঘিতে বেড়েছে আমন ধান চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আমিনুল জুয়েল: [২] উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে আমন ধানচাষ। উৎপাদন খরচ কম ও রোগ-বালাই এবং পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়াই এ অঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকছেন আমন ধানচাষে। সময় মতো বৃষ্টি, রোগবালাই ও পোকা মাকড়েরর আক্রমণ কম এবং আবহাওয়া ধানচাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রায় ৮’শ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে-স্বর্ণা-৫, রনজিত, পাইজাম, হাইব্রিড, ব্রি-ধান ১১,৩৪, ৪৯ এবং ৬২সহ বেশ কিছু জাতের আমন ধান রোপণ করেছে কৃষক। ধানক্ষেতে এসময় তেমন বৃষ্টির পানি প্রয়োজন নেই। তবে এক নাগাড়ে এক সপ্তাহ ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতি বৃষ্টি আমন ফসলের ক্ষতির কারন হতে পারে।

[৪] কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফসল রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে নিয়মিত আলোক ফাঁদ, দলীয় সভা ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এজন্য আমনক্ষেতে তেমন কোনো রোগ-বালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়াও আবহাওয়া ধানচাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা কাঙ্খিত ফসলের চেয়ে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

[৫] সদর ইউনিয়নের ছোট জিনইর গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, আমন ধানে খরচ কম। এছাড়াও দু-একবার সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিতেই আমন ধান হয়ে যায়। আর পোকা মাকড়ের উপদ্রুপ বাড়লে কীটনাশক স্প্রে করলেই ফসল ঘরে উঠানো যায় নিশ্চিন্তে।

[৬] গত বছরের তুলনায় এবার আরও ৫ বিঘা বেশি জমিতে ধান রোপণ করেছি উল্লেখ করে তিনি ‘দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’কে আরও বলেন, আশা করছি ফসল ঘরে তুলতে পারলে লাভবান হব। এজন্য সবসময় কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত ফসলের কোন ক্ষতি হয় নি। আগাম আলু চাষের জন্য এই জমিতে আমন ধান রোপণ করি। আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফসল কাটতে পারবো।

৭] ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমালকুড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এবছর আমন ধান খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি, কাঙ্খিত ফলন পাব। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হলেও এ পর্যন্ত তিনবার কীটনাশক ছিঁটানো হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু কিছু উঁচু জমিতে দু’বার সেচ দিতে হয়েছে। এবার আমনের বীজ ও সার পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি। এবছর ফসলের চেহারা পোক্ত ও সুন্দর হয়েছে। সবল ও সতেজ ধানের আধা-পাকা শীষ দেখে মনে হয় এ বছর ধানের ব্যাপক ফলন হবে।

[৮] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, এই উপজেলায় গত আমন মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমেও আমনের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এই উপজেলায় ধানচাষে প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ লোকজনের আগ্রহ বাড়ছে। মূলত, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দেন। এজন্য আমন ক্ষেতে এবার রোগবালাই নেই বললেই চলে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকার জন্য এবং ধানগাছে রোগবালাই না থাকায় এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বিনাধান-১৬ চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি

প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ৬ টন ফলেছে। প্রচলিত আমনের তুলনায় এ  ধান দেড় মাস আগে পাকে

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উচ্চফলনশীল আগাম আমনের জাত “বিনাধান-১৬” চাষ করে আয় বেড়েছে গোপালগঞ্জের কৃষকদের। বছরে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদের সুযোগ থাকায় লাভজনক এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। 

বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার গোপীনাথপুর, সুকতাইল, জালাবাদ ও কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর, বেথুড়ি, ফুকরা ইউনিয়নে অন্তত ৫ বছর ধরে এ ধানের আবাদ হয়ে আসছে। এ বছর জেলার ৩শ’ কৃষক ১৫০ হেক্টর জমিতে বিনাধান-১৬ আবাদ করেছেন। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ৬ টন ফলন দিয়েছে। প্রচলিত আমনের তুলনায় এ  ধান দেড় মাস আগে পাকে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকেরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সুমন খান বলেন, “প্রচলিত আমন ধান চাষ করে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ টন ফলন পাওয়া যায়। বিনাধান-১৬ জুলাই মাসে রোপন করেছি। ১০০ দিনে এই ধান পেকেছে। আমরা এখন পাকা ধান কাটছি। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ৬ টন ফলন দিয়েছে। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি আমরা বেশি দামে খড় বিক্রি করতে পারছি। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এ ধানের আবাদ করে আমরা একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল ফলিয়ে লাভবান হচ্ছি।”

একই গ্রামের কৃষক মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “বিনাধান-১৬ এর ফলন ভালো হয়। ধান উৎপাদনে সময় কম লাগে। চাল সরু। বাজারে একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই আগামীতে লাভজনক এ ধানের চাষ অব্যাহত রাখব।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবদাস মল্লিক বলেন, “বিনাধান-১৬ স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন ও উচ্চ ফলনশীল। এ জাত গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র থেকে নিয়ে কৃষকরা ৫ বছর আগে আবাদ শুরু করেন। তারা এর বীজ সংরক্ষণ করে প্রতিবছর ধানের আবাদ বৃদ্ধি করছেন। এতে তাদের আয় বাড়ছে। তাই কৃষকের মধ্যে ধানের এ জাত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।” 

বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের পরিদর্শক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে আমরা মাঠ গবেষণার কাজ করে যাচ্ছি। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণে আমাদের চেষ্টা আব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কৃষকেরও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। তাই কৃষকরা আমাদের বীজ, প্রযুক্তি, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় বৃদ্ধি করছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে ফসলের নিবিড়তা বাড়িয়ে কৃষকের আয় আমরা দ্বিগুণ করে দিতে চাই। কৃষকরা যাতে বছরব্যাপী ফসল আবাদের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করে আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। তাই কৃষককে বিনাধান-১৬ আবাদে উদ্বুদ্ধ করণের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ঠিক রেখে ২ ফসলের জমিতে ৩ ফসল ও ৩ ফসলের জমিতে ৪ ফসল ফলানোর কলাকৌশল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com