আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বাংলাদেশির তত্ত্বাবধানে কাতার সবুজায়নে বহুমুখী উদ্যোগ

এই তো সেদিন রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামল। বলা যায়, বিশ্বকাপ জ্বর এখনো রয়েই গেছে ফুটবলমোদীদের কাছে। এবারের বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ২০২২-এর বিশ্বকাপ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সবার দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের ধনী রাষ্ট্র কাতারের দিকে। মরুময় দেশটিতে ফুটবলের বিশ্ব উৎসবের মহাযজ্ঞ, তাই দেশটি সেজে উঠছে সব দিক থেকে। বিত্ত-বৈভব আর চাকচিক্যে তাদের কোনো কমতি নেই। যেটুকু সংকট আছে, তা শুধু সবুজের। আর এই সবুজের শোভা বাড়াতে সরকারি, বেসরকারি সব পক্ষ থেকেই চলছে নানামুখী তোড়জোড়। এর অংশ হিসেবেই উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ নার্সারি। ভিতরে-বাইরে সবুজের সমৃদ্ধি বাড়াতে নার্সারিগুলোর রয়েছে নানা আয়োজন। বলা যায় এই বাণিজ্য এখন রমরমা।

পারস্য উপসাগরের মরুময় দেশ কাতার। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটির দক্ষিণে সৌদি আরব এবং পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। এখানে প্রাকৃতিক কোনো জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। বেশির ভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহায় বাস করে। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে এটি আমির-শাসিত ভূখণ্ড। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে কাতার পরিপূর্ণভাবে উপনিবেশমুক্ত হয়। গত শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলক দরিদ্র দেশ ছিল। ওই সময় দেশটিতে পেট্রলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি।

কাতারের আয়তন ১১ হাজার ৪৩৭ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের প্রায় ১৪ ভাগের ১ ভাগ, ছোট্ট দেশটিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই ভিনদেশি। ১৯৬০ সালে কাতারে বাস করত মাত্র ৭০ হাজার মানুষ। ১৯৯০ সালে সে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫ লাখে। ২০০১ সালে তা পৌঁছে ৯ লাখে। আর বর্তমানের হিসাবে কাতারের লোকসংখ্যা ২৬ লাখের ওপরে। এর ৯০ ভাগই বিদেশি প্রবাসী। কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের (এমডিপিএস) হিসাবে ৮৭টি দেশের নাগরিকদের বসবাস রয়েছে কাতারে। জনসংখ্যার দিক দিয়ে কাতারে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারতীয়রা। ভারতীয়রা সংখ্যায় সাড়ে ৬ লাখ, যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ। এর পরের স্থান নেপালের। কাতারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ নেপালি। কাতারে বাংলাদেশি রয়েছেন দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর কাতারের স্থানীয় জনগণ মোট বসবাসকারীর মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ, সংখ্যায় যা ৩ লাখ ১৩ হাজার।

‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখিয়েছি কাতারের কৃষি কার্যক্রম। ধূসর মরুভূমি প্রযুক্তির কল্যাণে এবং শ্রমে হয়ে উঠছে গাছে গাছে সবুজ আর ফুলে-ফলে বর্ণিল। সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানও কম নয়। এ দেশের কৃষি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অর্গানিক ফার্মিং। কাতারে গড়ে উঠেছে বিশাল সব নার্সারি। কাতারের উম সালাল আলীর ‘প্লাজা হলান্ডি’ নামে এক নার্সারিতে দেখা পেয়েছি বাংলাদেশি এক তরুণের। তার কৃষিবিপ্লবের গল্পই আজ আপনাদের শোনাতে চাই পাঠক। বালু-কাঁকরময় মরুভূমিতে বিশাল আয়তনের ‘প্লাজা হলান্ডি’ নার্সারিতে গেলে বোঝা যায় উদ্ভিদের জন্য মাটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মাটির বিকল্প হিসেবে পিটমস থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপকরণের সমাবেশ ঘটানো হয়। বেশির ভাগ উপাদানই আসে হল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি থেকে। নার্সারির গাছগুলো দেখে অবাক হতে হয়। বিশাল আকারের একেকটি গাছ। ধরনটি বনসাইয়ের। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে গাছগুলোকে ঝাঁকড়া করা হয়েছে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ঘরের ভিতরে অথবা বাইরের উপযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়েই গাছগুলোর চাষ হয়। সেখানকার যতরকম উদ্ভিদ রয়েছে সবই বাইরে থেকে আনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ এনে সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। কী নেই? বাড়ির আঙিনার ভিতরে অথবা ঘরের ভিতরে কিংবা বাইরের প্রাঙ্গণে বাঁশবাগান গড়ে তুলতেও যদি কাতারে কেউ চায়, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন আর সৌন্দর্যময় নানা রকমের গাছ। এই বিশাল আয়োজনের মালিকানা নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তা সত্তর বছর বয়সী হ্যান্স হলেও এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশি এক তরুণের। নাম আবদুল করীম। ১৯৯৯ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার আবদুল করীম ভাগ্যের সন্ধানে কাতারে যান। শ্রম, নিষ্ঠা আর সততা অতিসাধারণ এক তরুণকে সফল ব্যবসায়ী ও ব্যবস্থাপকে পরিণত করে। আবদুল করীম প্লাজা হলান্ডিয়া নামের এই বিশাল নার্সারির ব্যবস্থাপক ও অংশীদার।

প্লাজা হলান্ডিয়ায় কাজ চলে অনেকটা শিল্পকারখানার মতো। কর্মীদের বড় অংশটিই প্রবাসী বাংলাদেশি। যারা সবাই কৃষিতে বেশ দক্ষ। নার্সারিতে গাছের পরিচর্যার নানা নিয়ম ও কৌশল রয়েছে। নির্দিষ্ট আকারে গাছ তৈরি করার জন্য শুরু থেকেই অনেক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ঘুরে দেখলাম পুরোটা নার্সারি। ৩৫টি দেশ থেকে আনা নানা প্রজাতির ফুলের গাছ, অর্নামেন্ট গাছে ভরা এক বিশাল ক্ষেত্র। আবদুল করীম জানাল দেশটির ৩০ ভাগ চাহিদা পূরণ করছে এই নার্সারিটি। এমনকি প্রতিদিন রাজপরিবারে ফুলের চাহিদা মেটাচ্ছে তারা। আছে বিশাল আকারের কিছু গাছ। বিশাল আকারের বনসাই মূলত কাতারের বড় বড় ভবনের ভিতরে, প্রবেশ দরজায় কিংবা বিনোদন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

আমাদের দেশেও এয়ারপোর্টের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এ গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। দেশি বৃক্ষ সম্পদের বিপুল প্রাচুর্য থাকার পরও বাইরে থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের ওই বৃক্ষের সমাবেশ ঘটানোর বিষয়টি নিয়ে বেশ আপত্তি ওঠে। যা হোক, এখানে রয়েছে দুর্লভ ও আকর্ষণীয় ফুল গাছের সংগ্রহ। বিশাল উদ্ভিদরাজির পরিচর্যা ও রোগবালাই দমন কীভাবে হয় তা জানার ইচ্ছা ছিল। নার্সারির ভিতর হঠাৎই চোখে পড়ল নভোচারীর মতো পোশাকের কয়েকজন কর্মী। করীম জানাল, ওরাই নিয়োজিত গাছের কীট, আগাছা, ছত্রাক, রোগবালাই নাশক প্রয়োগের জন্য। আর নভোচারীর পোশাক তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য। যারা বড় পরিধির বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করেন তাদের জন্য এই সুরক্ষা হতে পারে অনুসরণীয়।

আবদুল করীম বলছিল, এখানে গাছপালা, নার্সারির বিশাল বাণিজ্যিক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ চাইলেই যুক্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সত্যিই অবাক হতে হয়, কাতারে এমন কিছু জিনিসপত্র বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, তা অনায়াসেই বাংলাদেশের উৎপাদকরা সরবরাহ করতে পারেন। বড় বড় প্লাস্টিক টব থেকে শুরু করে ছাদকৃষি, আঙিনা-কৃষি কিংবা ঘরবাড়িকে গাছ, লতাপাতা দিয়ে সাজানোর নানা উপাদান রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশ অনেক কম দামেই সরবরাহ করতে পারে।

প্লাজা হলান্ডিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মী। যারা কৃষিতে আন্তরিক ও দক্ষ। এই নার্সারির সঙ্গেই রয়েছে কর্মীদের থাকার সুব্যবস্থা। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরে থাকার একটি গ্লানি সব সময়ই থাকে। তার পরও আনন্দ তো ভুলে গেলে চলে না। কথা হলো কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের কেউ শ্রীলঙ্কার, কেউ নেপালের, কেউ ভারতের। ভিন্ন দেশের, ভিন্ন ভাষার। একই প্রতিষ্ঠানে শ্রম বিক্রি করছে এই কাতারে, দেশে স্বজনদের ভালো রাখতে। কত শত স্বপ্ন বুকে লালন করে তারা বিদেশের মাটিতে বুনছে পরদেশি গাছ, সঙ্গে বুনছে সচ্ছল জীবনের বীজ। কাতারের সবুজের অভিযানে প্রবাসী বাংলাদেশিরাই রয়েছে চালকের আসনে। এর পেছনে বড় অবদান আবদুল করীমের। সেই তার পরিচিত মানুষদের দিনে দিনে যুক্ত করেছে এর সঙ্গে। কথা হয় তাদের সঙ্গেও। তারা জানালেন, শ্রম-ঘামের দিন শেষে সবাই বেশ ভালো আছেন।

দেশে চলছে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান। এখনো বিশাল আয়োজনে আগারগাঁওয়ে চলছে বর্ণাঢ্য বৃক্ষমেলা। দিনে দিনে নগরজীবনেও কৃষি মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। ছাদকৃষি ও আঙিনা-কৃষিতে যুক্ত হচ্ছেন অনেকেই। এই হিসাবে নার্সারিশিল্পের চাহিদা, প্রসার ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে এই বাণিজ্যে যুক্ত হলে তা নাগরিক সবুজায়ন ও কৃষিতে যেমন রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু করা গেলে আসতে পারে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। এ ক্ষেত্রে যেসব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

পরিবেশ

দেশে ছাদকৃষি, প্রবাসে বাঙালির আঙিনা কৃষি

আজকাল ছাদকৃষি ছাড়া বাসভবনকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারেন না অনেকেই। একইভাবে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমিয়েও স্বপ্নের বসতবাড়িটির চারদিক সাজাতে কৃষিরই আশ্রয় নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশি। ছাদকৃষির পথ ধরেই প্রবাসে এখন রচিত হচ্ছে বাঙালির আঙিনা কৃষি।

সিরাজগঞ্জ শহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের এই বাসভবনের বয়স মাত্র এক বছর। কিন্তু তার স্ত্রী শারিতা মিল্লাতের ছাদকৃষি উদ্যোগই যেন পরিপূর্ণ করেছে এই বাড়িটিকে।

একইভাবে দেশে আশি বা নব্বই দশক থেকে ছাদকৃষিতে মজে থাকা অনেকেই, কিংবা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম বিদেশের মাটিতে সাজাচ্ছেন আঙিনা কৃষি। কানাডা প্রবাসী জাহিদ হুসাইন ও আলিয়া রহমান দম্পতির টরেন্টোর স্কার্বোরো এলাকার আঙিনা কৃষি জানান দিচ্ছে সেকথাই।

বাংলাদেশি সব রকমের শাকসবজি আর নানারকম বিদেশি ফলের স্বাদ তারা গ্রহণ করছেন এই আঙিনা কৃষি থেকেই।

তারা বলছেন, কৃষিতে মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে মূল প্রেরণা টেলিভিশন অনুষ্ঠান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঢাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গড়ে উঠেছে সুসজ্জিত ছাদকৃষি

ঢাকা মহানগর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গড়ে উঠেছে সুসজ্জিত ছাদকৃষি। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের শুশ্রূষার ক্ষেত্রে ঐ ছাদকৃষি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

পুলিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সেখানে ফলছে রকমারি ফল ফসল। এদিকে কয়েকমাসের উষ্ণতায় ইউরোপ আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন আঙিনা কৃষিতে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তাই সঠিক স্থানে সঠিক চারা রোপণের সময় এটি। বৃক্ষমেলা কিংবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা যায়। তবে ফলদ ও ওষধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দেওয়া উচিত। এতে ফল, ঔষধ এবং কাঠ সবই পাওয়া যায়। বন্যামুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং সূর্যালোক পড়ে এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত। আসুন জেনে নেই কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশেপাশে লাগাতে পারেন। এমন স্থানে দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, আম, কাঁঠাল, লিচু গাছ রোপণ করতে পারেন।

বাড়ির ছাদে
পাকা বাড়ির ছাদে টবে করে গাছের চারা রোপণ করা যায়। যেমন- কমলালেবু, পেয়ারা, কুল, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী, লিচু প্রভৃতি গাছ লাগাতে পারেন।

বাড়ির দক্ষিণ পাশে
রোদ ও আলোর জন্য ছোট এবং কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী গাছ লাগানো যেতে পারে।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

বাড়ির পূর্ব-পশ্চিমে
মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল-সন্ধ্যা বাড়ির আঙ্গিনায় আলো থাকবে। বাউকুল, আপেলকুল, সফেদা, আম্রপালি, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছ এখানে রোপণ করতে পারেন।

বাড়ির উত্তর পাশে
বড় ও উঁচু গাছপালা থাকলে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হয়। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।

পতিত জমি
আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।

হাট-বাজার
ছায়দানকারী গাছ রোপণ করা উচিত। আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ রোপণ করা উচিত।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

রাস্তার পাশে
উঁচু ও ডালপালা ছাঁটাই করা যায় এমন গাছ রোপণ করা দরকার। মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, ইপিল ইপিল, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়। গ্রামের পথের দু’ধারে বা ফিডার রোডের পাশে শিশু, নিম, দেবদারু, চম্পা, ইপিল ইপিল, পাইন্যাগোলা বা লুকলুকি, মান্দার, পালিত মাদার, পানিয়া মাদার, বাবলা, খয়ের, বকফুল, তাল, খেজুর ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে। বড় রাস্তা বা মহাসড়কের পাশে কৃষচূড়া, কনকচূড়া, রেইনট্রি, গগন শিরীষ, রাজকড়ই, শিলকড়ই, শিশু, মেহগনি, অর্জুন, দেবদারু, সোনালু, নিম, নাগেশ্বর, আকাশমণি, বকুল, পলাশ, তেলসুর, ঝাউ, বটল পাম প্রভৃতি গাছ লাগানো যায়।

রেল লাইনের পাশে
মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।

বাঁধের ধারে
শেকড় শক্ত এবং বিস্তৃত এমন গাছ যেমন- বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর ইত্যাদি গাছ রোপণ করা দরকার।

জমির আইল
যেসব গাছের শেকড় কম বিস্তৃত, কম ছায়াদানকারী, ডালপালা ছাঁটাই করা যায় যেমন- মেহগনি, দেবদারু ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে হবে। জমির ভেতরেও গাছ লাগানো যায়। এ ক্ষেত্রে ইউক্যালিপটাসকে বেছে নিতে পারেন। ফসলের ক্ষেতে দূরে দূরে অল্প কিছু এরূপ গাছ লাগানো যেতে পারে। বরেন্দ্র এলাকায় এখন ধানের জমিতে মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে ব্যাপক হারে আমগাছ লাগানো হচ্ছে। এমনকী জমির আইলেও অনেক গাছ লাগানো হয়। অনেক জায়গায় আইলে তালগাছ লাগিয়ে বাড়তি লাভ পাওয়া গেছে। তাল ছাড়া খেজুর, সুপারি, বাবলা, বকাইন, জিগা, কড়ই, ইউক্যালিপটাস, পালিত মাদার ইত্যাদি গাছ লাগানো যেতে পারে।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

নিচু জমি
জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা দরকার। পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ নিচু জমিতে রোপণ করা যেতে পারে।

পুকুর পাড়
মাটি ভাঙে না এবং শোভাবর্ধন করে যেমন সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, ডালিম ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়।

নদীর তীর
পানি সহিষ্ণু, শক্ত মজবুত ও বড় হয় এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন- শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, বাঁশ, মূর্তা, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।

বিল
বিল এলাকা যেখানে বছরে দু-তিন মাস পানি জমে থাকে সেখানে হিজল, করচ, বিয়াস, পিটালী, জারুল, মান্দার, বরুণ, পলাশ, কদম, চালতা, পুতিজাম, ঢেপাজাম, রয়না বা পিতরাজ, অর্জুন ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

চর
উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন জেগে ওঠা চরে কেওড়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, গোলপাতা গাছ লাগানো যায়। তবে উপকূলে যেসব চর একটু উঁচু ও স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি ওঠে না। সেসব চরে বাবলা, ঝাউ, সনবলই, সাদা কড়ই, কালো কড়ই, জারুল, রেইনট্রি ইত্যাদি লাগানো যায়। উপকূল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ঝাউ, লোনাঝাউ, পিটালী, করচ, পানিবিয়াস লাগানো যেতে পারে।

উপকূল
লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, হালকা পাতাবিশিষ্ট গাছ যেমন- সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়াই, বাবলা, নারিকেল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।

উঁচু পাহাড়
অনেক পাহাড়ি জমিতে কমলালেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতির লেবু, লিচু, আম, পেয়ারা, গোল মরিচ, আদা, আনারসের সফল বিস্তার ঘটেছে। এছাড়াও তেলসুর, চাপালিশ, চিকরাশি, শিলকড়াই, গর্জন, গামার, সেগুন, ইপিল-ইপিল, বাঁশ, কাজুবাদাম প্রভৃতি কাঠের চাহিদা মেটাতে সহায়ক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন

যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন
যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন

অনেকেই শুধু চারা রোপণ করে চুপচাপ বসে থাকেন। পরে দেখা যায়, চারা আর চারার মতো নেই। আগাছার মতো হয়ে আছে। তাই বলতে চাই- চারা লাগিয়ে ফলের আশায় বসে থাকলে হবে না। সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। কেননা বাগানে পরিচর্যার ফলে ২০ থেকে ৪০ ভাগ ফল বেশি উৎপাদন সম্ভব।

আসুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিচর্যার কথা জেনে নিন-
১. চারা রোপণের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত কাঠি দিয়ে চারা সোজা করে বেঁধে দিতে হবে।
২. গরু-ছাগলের নাগাল থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা করতে হবে।
৩. চারার গোড়ায় জন্মানো অবাঞ্চিত আগাছা দমন জরুরি।
৪. মাটির আর্দ্রতার জন্য শুকনো লতাপাতা, খড়, কচুরিপানা দিয়ে চারার গোড়ায় মালচিং করতে হবে।
৫. কোনো চারা দুর্বল, রোগাক্রান্ত বা মারা গেলে ওই জায়গায় একটি নতুন সবল চারা লাগাতে হবে।
৬. চারা সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক রাখতে অবাঞ্চিত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে।
৭. বৃষ্টি না হলে রোপণের পর ঝরনা দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. দ্রুত বৃদ্ধিতে রোপণের একমাস পর গোড়ার একফুট দূর দিয়ে নালা করে ১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া দিতে হবে।
৯. ফলগাছে বর্ষার আগে ও পরে বয়স এবং জাতভেদে একবার পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হবে।
১০. প্রতিবছর ফল পাড়ার পর পুরনো, রোগাক্রান্ত, মরা ডালপালা ছেটে দিতে হবে।
১১. রোদ ও আলো বাতাস চলাচল বাড়িয়ে দিতে পারলে পরের বছর নতুন ডালপালায় ফুল-ফল বেশি হবে।
১২. রোগবালাই পোকামাকড় দমনে নিকটস্থ কৃষি বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টার বা বন বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা

ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা
ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা

পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সম্প্রতি অঞ্চলটির একেবারে উত্তর প্রান্তে সেমোর দ্বীপে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার ব্রাজিলিয়ান গবেষক কার্লোস শায়েফার বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মহাদেশটিতে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর রেকর্ড করা হয়েছে। ওই দিন সেখানে তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল ২০ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, আমরা আগে কখনোই অ্যান্টার্কটিকায় এত বেশি তাপমাত্রা দেখিনি। এর আগে সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে এটিকে এখনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বলতে রাজি নন এ গবেষক। কারণ, এটি খুবই স্বল্প সময়ের তাপমাত্রা ছিল, স্থায়ী নয়। কার্লোসের মতে, ওই এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু ঘটছিল, এটা তার সংকেত মাত্র।

এর মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই আর্জেন্টিনার জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছিল, তারা আর্জেন্টাইন অ্যান্টার্কটিকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এর আগে ওই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাওয়া গিয়েছিল ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ।

গত মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত এক দশক ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম সময়। এরমধ্যে ২০১৬ সালের তাপমাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি, এরপরেই উষ্ণতম বছর ছিল ২০১৯। ২০২০ সালেও সেই ধারা চলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, গত মাস এযাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণতম জানুয়ারি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর দুই প্রান্তের বরফ গলে যাচ্ছে। এতে উপকূলীয় দেশগুলোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যাবে, বিপন্ন হবে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঘরছাড়া হবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com