আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আঙিনা কৃষি

বস্তায় আদা চাষ করার সহজ উপায়

আদা দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু। বর্তমানে বাজারে এর দামও প্রচুর। তাই একটু চেষ্টা করলে বাড়ির ছাদে বা ঘরের আশেপাশে ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ করা যায়। আর সে জন্য সহজ পদ্ধতি হচ্ছে বস্তায় চাষ করা। আসুন তাহলে বস্তায় আদা চাষের সহজ উপায় সম্পর্কে জেনে নেই-

মিশ্রণ: প্রথমে একটি বস্তায় ৩ ঝুড়ি মাটি, ১ ঝুড়ি বালি, ১ ঝুড়ি গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক ফুরাডান ৫জি ২৫ গ্রাম নিতে হবে। মাটির সঙ্গে গোবর, বালি ও ফুরাডান ভালোভাবে মিশিয়ে সিনথেটিক বস্তায় ভরে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে ১ চা চামচ পটাশ সার মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

চারা তৈরি: এবার একটি বালিভর্তি টবে তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ২ গ্রাম বা লিটার পানিতে দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অন্য ছত্রাকনাশকও ব্যবহার করা যাবে। যা হোক, শোধনের পর কন্দগুলো আধাঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।

চারা রোপণ: ২০-২৫ দিন পর বপনকৃত আদা থেকে গাছ বের হবে। তখন আদার চারা সাবধানে তুলে বস্তার মুখে ৩ জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। দিনের বেশিরভাগ সময় রোদ পায় এমন স্থানে বস্তাটি রাখতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদা গাছ বড় হতে থাকবে।

সার প্রয়োগ: চারা লাগানোর দু’মাস পরে ৪ চা চামচ সরিষার খোল ও আধা চামচ ইউরিয়া মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। বস্তার মাটি মাঝে মাঝে খুঁড়ে একটু আলগা করে দিতে হবে।

উত্তোলন: জুন-জুলাই মাসে আদা লাগালে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে তোলা যায়। একেকটি বস্তায় ৩টি গাছ থেকে এক-দেড় কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

আঙিনা কৃষি

বাড়িতে সবজি ও ফল চাষের সহজ উপায়

 বাড়িতে সবজি ও ফল চাষের সহজ উপায়
বাড়িতে সবজি ও ফল চাষের সহজ উপায়

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ‘নিরাপদ খাদ্য’। বিশেষ করে বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য অনেকটা বাঘের দুধের মতোই দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাল-ডাল, তরি-তরকারি, ফল-মূল, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম, তেল-ঘি, লবণ-মসলাসহ বাজারের কোন খাদ্যই এখন ভেজাল বা দূষণমুক্ত নয়। বিশ্বাস করা কঠিন হয়, যদি কেউ দাবি করে তার খাদ্যে কোন ভেজাল নেই বা সম্পূর্ণ নিরাপদ। নিরুপায় মানুষ জেনেশুনে এ সমস্ত ভেজাল, দূষণযুক্ত খাদ্য চড়া দামে কিনে খাচ্ছে। পরিণামে নানা জটিল আর জীবন সংশয়ী অসুখে ভুগছে লাখ লাখ মানুষ। ঘরে ঘরে এখন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী। শিশুরা জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধী, জটিল রোগ নিয়ে। এমনকি এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে। ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি আমরা এবং আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই এবং দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের করুণ পরিণতির জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই দায়ি থাকবো।

দেশের বেশিরভাগ মানুষ বিশেষত নারী ও শিশুরা নানা ধরনের অপুষ্টিতে ভুগছেন। বর্তমানে চলমান করোনা মহামারী মোকাবিলায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপর। এ জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শাক-সবজি ও ফল-মূল খাওয়া জরুরি। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি ফসল আবাদের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বসতভিটাভিত্তিক নিবিড় সবজি ও ফল চাষের প্রযুক্তি দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য জোগানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলের প্রতিটি বসতবাড়িতে এই প্রযুক্তি বা মডেলের ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবে খুব সহজেই দেশের ৫০-৬০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি জোগান দেওয়া সম্ভব।

দেশের জনগণের বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং তাদের পুষ্টি নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনেক আগে থেকেই গবেষণা চালিয়ে আসছে এবং বেশ কিছু কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বিজ্ঞানীরা ৮০’র দশকে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার কালিকাপুরস্থ ফার্মিং সিস্টেম গবেষণা এলাকায় প্রথম উদ্ভাবন করেন বসতবাড়ির আঙিনায় নিবিড় সবজি চাষের প্রযুক্তি ‘কালিকাপুর মডেল’। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বসতভিটায় সারা বছরব্যাপী সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং উৎপাদিত সবজি দিয়ে পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশিদের উপহার দেওয়া ও বিক্রি করে বেশ কিছু বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়। বসতবাড়ির বাগানে জৈব সার (যেমন গোবর, খামারজাত আবর্জনা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্টাংশ ইত্যাদি) বেশি ব্যবহার করা হয় বিধায় রাসায়নিক সার কম লাগে। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বসতবাড়ির বাগানে রাসায়নিক কীট বা জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হয় না, তাই উৎপাদিত সবজি বিষমুক্ত এবং নিরাপদ। আর নিয়মিত বাগানের টাটকা সবজি খাওয়ার ফলে পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি চাহিদা সহজেই পূরণ হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

প্রযুক্তিটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) প্রযুক্তিটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রসারণ করে। তবে কৃষি পরিবেশ, বসতবাড়ির আকার-আকৃতি ও ব্যবহারের ভিন্নতা এবং এলাকাভেদে কৃষকের পছন্দের তারতম্যের কারণে কালিকাপুর মডেলটি সর্বত্র ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তাই পরবর্তীতে বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে অবস্থিত ফার্মিং সিস্টেম গবেষণা এলাকায় নির্বাচিত কৃষকের বসতবাড়িতে গবেষণা চালিয়ে নিবিড় সবজি ও ফল চাষের আরও আধুনিক এবং অধিক উৎপাদনশীল কিছু মডেল উদ্ভাবন করেছেন। যেমন: পাবনা এলাকার জন্য ‘গয়েশপুর মডেল’, রংপুর এলাকার জন্য ‘রংপুর মডেল’, বরেন্দ্র এলাকার জন্য ‘বরেন্দ্র মডেল’, টাঙ্গাইল এলাকার জন্য ‘পালিমা মডেল’, সিলেট এলাকার জন্য ‘গোলাপগঞ্জ মডেল’, শেরপুর অঞ্চলের জন্য ‘কুসুমহাটি মডেল’, ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য ‘ঈশানগোপালপুর মডেল’, বৃহত্তর পটুয়াখালী ও বরিশাল এলাকার জন্য ‘লেবুখালী মডেল (অলবণাক্ত এলাকা) এবং কলাপাড়া মডেল (লবণাক্ত এলাকা)’, এবং নোয়াখালী এলাকার জন্য ‘আটকাপালিয়া মডেল’।

এ ক্ষেত্রে বসতবাড়ির সম্ভাব্য সব স্থানের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে যতটা বেশি সম্ভব সবজি (লালশাক, ডাঁটা শাক, পুঁই শাক, গীমা কলমি, পালং শাক, ধনিয়া শাক, কচু শাক ও কচু, টমেটো, বেগুন, মূলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শিম, বরবটি, লাউ, করলা, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, আলু ইত্যাদি), মসলা (বিলাতি ধনিয়া, পিঁয়াজ, মরিচ, আদা ও হলুদ ইত্যাদি) এবং ফল (আম, পেয়ারা, লেবু, কুল, লিচু, পেঁপে, আনারস ইত্যাদি) উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়েছে এবং চমৎকার ফলাফল পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ সবজি, মসলা ও ফলের ক্ষেত্রে বারি উদ্ভাবিত জাত ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি মডেলের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো-

বাড়িতে সবজি ও ফল চাষের সহজ উপায়
বাড়িতে সবজি ও ফল চাষের সহজ উপায়

মডেল অনুযায়ী বসতভিটার রৌদ্রযুক্ত স্থানে ৪-৫টি বেড তৈরি করে, বাগানের ও বাড়ির চারপাশের বেড়ায়, মাচায়, আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান, ভেজা বা স্যাঁতস্যাতে স্থানে, ঘরের পেছনের পরিত্যাক্ত স্থানে, অফলা বা বনজ বৃক্ষে এবং ঘরের চালে নির্দিষ্ট ফসল বিন্যাস অনুসরণ করে বছরে ১২ থেকে ২৪ ধরনের সবজি ক্রমান্বয়ে উৎপাদন করা যায়। ফলে একটি কৃষক পরিবার সারা বছর ধরে সবজি কম-বেশি সংগ্রহ করে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এ ছাড়া উৎপাদিত মসলা ও ফল দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন অনেকাংশে পূরণ করা যায়। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী কৃষক পরিবারের সদস্যরা গবেষণা শুরুর আগে এলাকাভেদে প্রতিদিন মাথাপিছু ৬৮-১১০ গ্রাম সবজি গ্রহণ করতো (বয়সভেদে একজন ব্যক্তির দৈনিক ৮৮-২২০ গ্রাম সবজি গ্রহণ করা দরকার)। মডেল অনুযায়ী সবজি আবাদ করার পর তাদের সবজি গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়ায় মডেল ও এলাকাভেদে প্রতিদিন মাথাপিছু গড়ে ৮৮-২৩৬ গ্রাম।

উল্লেখ্য, যে সমস্ত কৃষকের বসতবাড়িতে এই গবেষণা কাজ পরিচালনা করা হয়েছিল দু’তিন বছর পর তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, তারা কিছু শাক-সবজি আবাদ করলেও মডেলগুলো আর হুবহু অনুসরণ করছেন না। কারণ হিসেবে তারা জানান, গবেষণার মাধ্যমে বসতবাড়িতে সারা বছরব্যাপী সবজি চাষের যে মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তা খুবই কার্যকর এবং উত্তম কিন্তু যথাসময়ে বীজ ও সারের জোগান না থাকায় তারা মডেলগুলো অনুসরণ করতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার সময় এবং জনবলের অভাবের কথাও বলেছেন। এখানে উল্লেখ্য, বসতবাড়িতে এসব ফসল চাষে নারী ও শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই যথাসময়ে প্রয়োজনীয় বীজ বা চারা ও সার তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া গেলে বসতবাড়িতে সবজি, মসলা ও ফল উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ বসতভিটাগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি, ফল-মূল ও মসলা উৎপাদন উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন অথবা প্রতি বছর সরকার কৃষি খাতে যে ভর্তুকি প্রদান করেন, তার কিছু অংশ দিয়ে যথাসময়ে কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্পন্ন বীজ ও সারের জোগান নিশ্চিত করা যেতে পারে (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং এর তত্ত্বাবধানে সুপ্রতিষ্ঠিত এনজিও সমূহের মাধ্যমে)। বসতবাড়িতে শাক-সবজি, ফল-মূল ও মসলা ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বা কোন বেসরকারি সংস্থার প্রকল্প চলমান থাকলে সেখানে বারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি (এলাকা উপযোগী মডেল) অন্তর্ভুক্ত ও যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। আর কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে সাহায্য করতে পারেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, মাঠকর্মী এবং বারির বিজ্ঞানীরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

কাতারে বদরুল ইসলাম ও আফরোজা বেগম দম্পতির আঙিনা কৃষি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

২১ গ্রামে বিষমুক্ত সবজি

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসারের আশপাশের অন্তত ২১টি গ্রামে বিষমুক্ত ও কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ সবজি উত্পাদিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রেখে ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাইমুক্ত এই সবজি এখন বিক্রি চলছে।

কুমিল্লার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পিকেএসএফের সহযোগিতায় এই সবজি উত্পাদন করছে।

উপজেলার সৈয়দপুর, জাঙ্গালিয়া, নিমসার, কেদারপুর, শাহদ্বীপের বাগ, মনশাসন, হালগাঁও, পাঁচকিত্তা, কেমতলী, কালীরবাজার, কাকিয়ারচর, চারগাঁও, চানগাছা, চিকুটিয়া, কৃষ্ণপুর, কোরপাই, হরিহলপাড়া, লোহারচর, মিথনমা, কাবিলা ও গোবিন্দপুর এলাকায় নিরাপদ এই সবজি উত্পাদন করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার সকালে এই এলাকার আটটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে সবুজের মধ্যে নানা প্রজাতির সবজি। কোনোটি হলুদ, কোনটি সবুজ। প্রান্তিক কৃষক কেউ চিংড়া (দেখতে চালকুমড়ার মতো, কিন্তু হলুদ রং, এটি সালাদ ও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়) কাটছেন। কেউ বরবটি তুলছেন। কেউ পুঁইশাক, ডাঁটা লালশাক, লাউ কিংবা ঝিঙা তুলছেন।

পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের কৃষি কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৫ শতক জমিতে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০ কেজি সবজি উত্পাদিত হয়। এর বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ১৪৫ শতক জমিতে ব্রকলি, রেড ক্যাবেজ, শালগম, গাজর, বেবি তরমুজ ও ক্যাপসিকাম উত্পাদন করা হয়। এতে ১২ হাজার ৪৬০ কেজি সবজি উত্পাদিত হয়। ৪ লাখ ৫ হাজার ৭০০ টাকায় এই সবজি বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলো মোকাম কৃষিপণ্য বিপণনকেন্দ্রে তোলা হয়। সেখান থেকে পাইকারেরা এসে নিয়ে যান।

কোরপাই গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার এখানে গাজর ভালো হয়েছে।’ গোবিন্দপুর গ্রামের আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমার এখানে চিংড়ার ভালো ফলন হয়েছে।’

পেইজের নির্বাহী পরিচালক লোকমান হাকিম বলেন, সবজি চাষে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার, ভার্মি কম্পোস্ট উত্পাদন ও ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি চাষ করা হয়। ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।

পেইজের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সালের জুলাই মাসে আমরা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ও বাগমারা এলাকায় সবজি চাষ শুরু করি। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এরপর ২৩২টি প্রদর্শনী করেছি। ৪৫ দিনের মধ্যে সবজি চলে আসে। লাভ বেশি।’

জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি কুমিল্লা নগরবাসীও খেতে পারবেন। পেইজের উত্পাদিত সবজি কুমিল্লা নগরে কৃষি বিপণন কেন্দ্র করে বিক্রির জন্য বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

টবে বোম্বাই মরিচ চাষ করবেন যেভাবে

বোম্বাই মরিচ মূলত প্রচণ্ড ঝালের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। সবার প্রিয়ও বলা চলে। একটু চেষ্টা করলেই ১ মাসে ফলাতে পারবেন বোম্বাই মরিচ। বাসার ছাদে, বারান্দায়, ভবনের চারপাশে টবে বোম্বাই মরিচের ফলন ভালো হয়। তাই আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখুন। চাষের নিয়ম-কানুন জেনে নিন এখনই-

বীজ বা চারা: যেকোনো বাজারে বীজ কিনতে পাওয়া যায়। তবে নতুনদের জন্য চারা কেনাই ভালো। নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার বা গ্রামের হাট-বাজার থেকেও বোম্বাই মরিচের চারা কেনা যায়। তবে জাত ও চারার মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া বীজ থেকেও চারা উৎপাদন করে রোপণ করা যায়।

চাষের নিয়ম: চারা টবে লাগানোর আগে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি ১০ ইঞ্চি টবের জন্য ২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২ চিমটি টিএসপি, ১ চিমটি ইউরিয়া, ১ চিমটি পটাশ সার, অল্প সরিষার খৈল দিয়ে ৪-৫ দিন মাটি রোদে শুকাতে হবে। তারপর এ মাটিতে চারা লাগাতে হবে।

যত্ন: চারা সবল না হলে দিনে ২-৩ বার ইউরিয়া মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন মাটি আলগা করে দিতে হবে। আগাছা সরিয়ে দিতে হবে। ২০-২৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসবে। সেই ফুল থেকে ধরবে বোম্বাই বা নাগা মরিচ।

পোকা দমন: মরিচ গাছে পোকা আক্রমণ করতে পারে। তবে ২-৪টা গাছ হলে পোকা-মাকড় হাতেই মেরে দমন করা যায়। গাছ বেশি হলে কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো।

ফলন: মরিচ যত বেশি দিন গাছে থাকবে; তত বেশি ঝাল হবে। নিচের শাখাগুলো কেটে ফেলতে হবে। না হলে মরিচের আকার হবে ছোট। গাছ কড়া রোদে রাখতে হবে, ছায়ায় থাকলে মরিচ ধরবে না। ১টি গাছ অনেক দিন ফল দেবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

যুক্তরাষ্ট্রে বদরুননাহারের আঙিনা কৃষি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com